সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে নিরন্তর অভিযাত্রা

১৯৭৭ সালের ৬ ফেব্রুয়ারী শহীদী কাফেলা বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের পথ পরিক্রমা শুরু হয়। স্বাধীনতা পরবর্তীতে ছাত্রসমাজ হতাশার তিমিরে যখন নিমজ্জিত ঠিক তখন দিকভ্রান্ত যুব সমাজকে হেরার আলোয় আলোকিত করে আগামীর প্রত্যাশিত সোনালী সমাজ বিনির্মানের প্রত্যয়ে ছাত্রশিবির তার প্রত্যয়দীপ্ত যাত্রা শুরু করে। মিথ্যা, কপটতা, মাদক, সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও অনাচার আমাদের সমাজ ব্যবস্থাকে খামছে ধরছে। এই ঘুনে ধরা সমাজকে পরিশুদ্ধ করতে আগামীর সৎ দক্ষ ও দেশপ্রেমিক নাগরিক তৈরীর কোন বিকল্প নেই। এ চ্যালেঞ্জিং কর্মযজ্ঞকে সাধন করে মাঞ্জিলে পৌঁছতে হলে ছাত্রশিবিরের প্রতিটি নেতা কর্মীকে প্রথমে নিজেকেই সমাজের কাছে উদাহরণ হিসেবে পেশ করতে হবে। রাসূল (স:) এর অনুপম আদর্শই আমাদের পথ চলায় অনুকরণীয়। দুনিয়ার গোলামীর কাছে শির পদানত করে সাময়িক আরাম আয়েশের পেছনে ছুটা নি:সন্দেহে মুমিন জীবনে বোকামী ছাড়া আর কিছু নয়। তাই দুনিয়া ও আখেরাতে সফল একদল মানুষ তৈরীর নিমিত্তে ছাত্রশিবির নিরন্তর কাজ করে চলছে। যারা সর্বতভাবে আল্লাহর সন্তুষ্টিকে পুঁজি করে নিজেদের ধণ্য করতে বদ্ধ পরিকর। তাই এ কাফেলার প্রতিটি জনশক্তিকে যেমন একজন দা’য়ী হতে হবে তেমনি নিজেকেও দা’ওয়াতের বাস্তব নমুনা হিসেবে পেশ করতে হবে। জ্ঞান ও যোগ্যতা অর্জন করে সকল চ্যালেঞ্জ মোকবেলা করে দৃঢ় পদভারে মাঞ্জিলের দিকে এগিয়ে যাওয়ার মত নেতৃত্ব ও কর্মী বাহিনী গঠন আজ সময়ের অনিবার্য বাস্তবতা। কাঙ্খিত গন্তব্যে উপনীত হওয়ার জন্য আন্দোলনের কর্মীদের প্রতি আহবান……
আমাদের সবার পরিচয় দা’য়ী ইলাল্লাহ-
আমরা যে সমাজ ব্যবস্থা কায়েম করতে চাই সে সমাজের কাছে আমাদের দাওয়াত বা আহবান পৌছাতে হবে। দ্বীনের প্রচার প্রসারের ক্ষেত্রে আন্দোলনের কর্মীরা ভুমিকা রাখায় ইসলাম বিদ্বেষীরা তাদের নানামূখী বিষাক্ত থাবায় নি:শেষ করে দিতে চায় এর অগ্রযাত্রাকে। আন্দোলনের কর্মীদের গুম, হত্যা, জুলুমÑনির্যাতন ও অপপ্রচারকে শাণিত করে বিরোধীরা আন্দোলনের কর্মীদের মধ্যে ভয় ও হতাশা ছড়িয়ে দিতে চায়। কিন্তু সত্যের বাহকদের শতবাঁধা পেরিয়ে যে কোন মূল্যে দাওয়াতকে ছড়িয়ে দিতে বদ্ধ পরিকর থাকতে হয়, আর এটিই ঈমানের অন্যতম দাবী। এ কারণে আন্দোলনের সকল জনশক্তির পরিচয় হচ্ছে তারা এক এক জন দা’য়ী ইলাল্লাহ । প্রত্যেক নবী ও রাসূল (স:) ও তাঁর অনুসারীরা তাদের কাওমের কাছে দাওয়াত দেন। কুরআনে আল্লাহ তা’য়ালা বলেছেন, “(হে নবী) আপনি তাদেরকে সাফ সাফ বলে দিন, আমার পথ তো এটাই, আমি আল্লাহর দিকে ডাকি। আমি আমার সাহাবীরা (স্পষ্ঠ আলোতে) আমাদের পথ দেখতে পাচ্ছি। আল্লাহ পবিত্র এবং যারা শিরক করে আমি তাদের মধ্যে শামিল নই।” – সুরা ইউসুফ-১০৮।
দাওয়াতের পদ্ধতি সর্বকালে দু’ধরনের। প্রকাশ্যে ও অপ্রকাশ্যে। রাসূল (স:) এর জীবনে তাঁর বাস্তব নমুনা আমরা দেখতে পাই। যদি প্রকাশ্যে দাওয়াতী কাজ করতে গিয়ে আন্দোলনের কর্মকান্ড অঙ্কুরে বিনষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে তাহলে গোপনে জনে জনে টার্গেটকৃত ব্যক্তিকে দাওয়াত দিতে হবে। যদি প্রকাশ্যে দাওয়াতী কাজ করার মত অনুকুল পরিবেশ থাকে তাহলে সভা সমাবেশ তথা ব্যাপক ভিত্তিক দাওয়াতী তৎপরতার মাধ্যমে দ্বীন পালন ও কায়েম করার জরুরত নিয়ে যৌক্তিক এবং সহজভাবে উপস্থাপন করতে হবে। তবে আন্দোলনের ব্যাপকভিত্তিক দাওয়াত দেয়ার পাশাপাশি ব্যক্তিগত দাওয়াতী কাজকে অধিক পরিমান গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ ব্যক্তিগত যোগাযোগের মাধ্যমেই শুধুমাত্র সমাজের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদেরকে আন্দোলনের সহযোগী-কর্মীÑনেতা হিসাবে তৈরী করা সম্ভব। এছাড়াও যারা আন্দোলনের নেতাÑকর্মী হিসাবে নিজেদের পরিচয় বহন করবে তাদের কাছে আন্দোলনের লক্ষ্য উদ্দশ্যে ও সামগ্রীক কর্মকান্ড সম্পর্কে যদি জানা না থাকে তাহলে আন্দোলনের ব্যক্তিবর্গের মাঝে চিন্তার গরমিল দেখা দিতে পারে।
ইসলামী আন্দোলনের দাওয়াত বা আহবান জনগনের মাঝে যে কোন মূল্যে পৌঁছানো অতীব জরুরী। মুলতঃ দাওয়াতের মূল উদ্দেশ্যই হল ইসলামের সৌন্দর্য্য তুলে ধরার মাধ্যমে আল্লাহর দাসত্বের দিকে আহবান করা। ষড়যন্ত্রকারীদের অব্যাহত অপপ্রচারের কারণে ইসলামী আন্দোলন জঙ্গি, হিংস্্র ও দানব হিসাবে উপস্থাপিত হওয়ায় সমাজের একটি জনগোষ্ঠী বিভ্রান্ত হয়েছে এবং অপর একটি অংশ অপপ্রচারের আসল রহস্য বা ঘটনা জানতে তীব্র উৎসুক । তাদের সামনে অপপ্রচারের যৌক্তিক জবাব এবং প্রচলিত সমাজ ব্যবস্থার আসল পরিনতি ও প্রত্যাশিত সোনালী সমাজব্যবস্থার চিত্র তুলে ধরার জন্য দাওয়াতের কোন বিকল্প থাকতে পারেনা। রাষ্ট্রের প্রচারযন্ত্র অব্যাহতভাবে ইসলামী সংগঠনের ব্যপারে নেতিবাচক প্রচার-প্রপাগান্ডা পরিচালনা করছে, অপরদিকে কিছু সংখ্যক বেসরকারী প্রচার মাধ্যম সরকারের ইসলাম বিদ্বেষী মনোভাবের আনুগত্য করেই র্নিলজ্জ অপপ্রচার অব্যাহত রেখেছে। নি:সন্দেহে এমন বৈরী পরিবেশ আন্দোলনের কর্মীদেরকে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়। যারা দা’য়ী হিসেবে ময়দানে কাজ করে তাদের যেমন হিকমত অবলম্বন করে কাজ করতে হয় তেমনি হিম্মতের অধিকারীও হতে হয়। কারণ সকল সময়েই ইসলাম বিদ্বেষীরা আন্দোলনের কর্মকান্ডকে সমূলে নিঃশেষ করার জন্য দা’য়ীদের হত্যা ও নির্যাতনের পথ বেঁেছ নেয়। সুতরাং এ পথে কোন ভীতু প্রকৃতির মু’মিন সফলকাম হতে পারেনা । তাই দা’য়ীদেরকে সকল পরিস্থিতি সামনে রেখেই শাহাদাতের তামান্না নিয়ে আন্দোলনের কাজে অংশ গ্রহন করতে হবে। আর যারা দা’য়ী হিসেবে কাজ করেন তারা নিজেদের জীবনকে পরিশুদ্ধ করার চেতনা ও প্রেরণা প্রতিটি মুহুর্ত লালন করেন। আল্লাহ দা’য়ীদের সবচেয়ে বেশী পছন্দ করেন। এ কারণেই আল্লাহ তা’য়ালা বলেন-“তার কথার চেয়ে কার কথা উত্তম হতে পারে যে মানুষকে ডাকে আল্লাহর পথে, নিজে সৎ কাজ করে এবং ঘোষনা করে আমি আত্মসমর্পন কারীদের অর্ন্তভূক্ত।” (হা-মীম সাজদাহ-৩৩)।
ইলম ও আমলের মাধ্যমে নিজেকে সৎ দক্ষ গড়ে তোলা-
একজন আন্দোলনের কর্মীর জাগতিক জ্ঞান অর্জনের সাথে সাথে দ্বীনের মৌলিক জ্ঞানার্জন অত্যন্ত জরুরী। যাতে হক ও বাতিল, সত্য ও মিথ্যার মাঝে পার্থক্য করতে কোন বেগ পেতে না হয়। যারা শুধু জাগতিক জ্ঞান অর্জন করে অথচ দ্বীনী জ্ঞানার্জন থেকে দূরে থাকে তারা যেমন নিজেকে ক্ষতিগ্রস্থ করে ঠিক যারা দ্বীনী জ্ঞানার্জনের পাশাপাশি জাগতিক জ্ঞান অর্জন থেকে বিরত থাকে তারাও মূলতঃ ইসলামী সমাজ বিনির্মানের কাজের ক্ষতি সাধন করে। তাই উভয় জ্ঞানের সমন্বয়ে নিজেকে সকল চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করার উপযোগী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। সজেন্যই প্রয়োজন ইসলামী শিক্ষাব্যবস্থা। যেহেতু আমাদের সামনে উভয় শিক্ষাব্যবস্থার সমন্বয়ে ইসলামী শিক্ষাব্যবস্থা এখনো গড়ে উঠেনি সেহেতু এ আন্দোলনের কর্মীদেরকে বিকল্পভাবে জাগতিক শিক্ষার সাথে সাথে ইসলামী শিক্ষার্জন করতে হবে এবং ইসলামী শিক্ষাব্যবস্থা বাস্তবায়নের বাস্তব পরিকল্পনা সামনে রেখে কাজ করে যেতে হবে। বর্তমান সাধারণ শিক্ষাব্যবস্থায় কিছু নীতি-নৈতিকতাহীন ইসলাম বিদ্বেষী লোক তৈরী হচ্ছে যদিওবা তারা নামে মুসলমান, তাদের হাতেই দেশের নেতৃত্ব। আবার ইসলামী শিক্ষার নামে যারা শিক্ষা গ্রহন করছে অনকে ক্ষত্রেইে সেখানে কিছু মসজিদ মাদ্রাসার ইমাম বা শিক্ষক তৈরী হচ্ছে যাদের হাতে নেই কোন নেতৃত্ব। তাই প্রয়োজন উভয় শিক্ষার মাঝে সমন্বয়। প্রকৃত মানুষ গড়ার যে শিক্ষা তাই ইসলামী শিক্ষা যা মানুষকে দুনিয়া ও পর দুনিয়ায় সফলকাম করে। কুরআনে সে শিক্ষার কথা বলা হয়েছে-“পড় তোমার প্রভুর নামে যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন”। (সূরা আলাক-১)। সে মহান রবের শ্রেষ্টত্ব তাবৎ দুনিয়ায় প্রতিষ্টা করার জন্যই এ আন্দোলনের সকল জনশক্তিকে সকল চ্যলেঞ্জ মোকাবেলা করার উপযোগতিা করায়ত্ব করতে হবে। তার জন্য প্রয়োজন এ আন্দোলনের কর্মীদের ইলম ও আমলের সমন্বয় সাধন। যারা এমন যোগ্য হবে যে যাদের কাছে দুনিয়া টলতে পারে তারা টলবে না। জীবনবাজিরেখে হকের পথে জীবনের জয়গান গেয়ে যাবে; প্রয়োজনে অলিঙ্গন করে নিবে মৃত্যুকে।
হীনমণ্যতা পরিহার-
রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস, নির্বিচারে আন্দোলনের কর্মীদের হত্যা-গুম, জুলুম-নির্যাতন ও স্বাভাবিক কর্মকান্ডে বাঁধা আসায় জনশক্তিদের মধ্যে আন্দোলনের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এ ধরণের স্থায়ী হীনমণ্যতা আন্দোলনের অগ্রযাত্রাকে মারাতœকভাবে ব্যহত করতে পারে। যারা জেনে বুঝে দ্বীনি আন্দোলনে অংশ গ্রহন করে তারা কখনো তাগুতের কাছে শরিকে পদানত করতে পারেনা। শ্রোতের বিপরীতে চলা কষ্টসাধ্য কর্মযজ্ঞ । কিন্তু যখন মাঞ্জিলে পৌঁছার কোন বিকল্প পথ খোলা না থাকে তখন সেই সুকঠিন রাস্তা দিয়ে গন্তব্য পানে ছুটে চলা ছাড়া আর কোন উপায় কি থাকে? সে পথে চলতে চলতে যুলুম-নির্যাতন, পঙ্গুতবরন এমন কি জীবনহানীও ঘটতে পারে যকেোন মুহুর্র্তে; আবার বিজয়ের রাজমুকুটও সুনিশ্চত হয়ে যেতে পারে। যে সকল কাঠিণ্যতা বর্তমানে আন্দোলনের কর্মীদের উপর জেঁকে বসেছে এটি নতুন কোন ঘটনা নয় বরং কালের পুনরাবৃত্তি মাত্র। এটি বাংলাদেশের ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের কাছে নতুন হলেও রাসূল (সঃ) এর সময় থেকে দেশে দেশে এর ইতিহাস বুনিত হয়েছে। সুতরাং নিশ্চিত করে বলা চলে বিরুদ্ধবাদীদের নৃশংসতা আগওে ছিল এখনো চলছে ভবিষ্যতে চলতে থাকবে। এতে আন্দোলনের কর্মীরা যদি ভীত-সন্ত্রস্ত্র হয়ে যায় তাহলে ষড়যন্ত্রকারীদের ষড়যন্ত্র সফল হয়ে যাবে। আল্লাহ তা’য়ালা বলেন- “হে ঐসব লোক, যারা ঈমান এনেছ! সবর কর, বাতিলপন্থিদের বিরুদ্ধে মজবুতি দেখাও, হকের খেদমতের জন্য তৈরী থাক এবং আল্লাহকে ভয় করতে থাক। আশা করা যায়, তোমরা সফল হবে।”-সূরা আলে ইমরান-২০০।
আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উপযোগী হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলা-
সাধারনত অধিকাংশ মানুষ দুনিয়ার সফলতাকে প্রকৃত সফলতা ধরে নিয়েই এর পিছনে নিজের জীবন-যৌবন সবকিছুকে বিনিয়োগ করে। আল্লাহ তায়ালা মানুষের প্রকৃত সফলতার নির্দেশ করেছেন- “সময়ের কসম। সকল মানুষ ক্ষতির মাঝে নিমজ্জিত। তারা ছাড়া যারা ঈমান এনেছে, সৎকাজ করেছে, হকের নসিহত করেছে ও ধৈর্যধারনের নসিহত করেছে।”(সূরা আল-আসর)। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সফল মানুষ হল তারা, যারা আল্লাহর উপর ঈমান এনেছে এবং তার নির্দেশিত পথে নিজেকে পরিচালিত করতে পেরেছে। আমরা সমাজ জীবনে বর্তমানে মানুষকে সম্পত্তি, নারী, যশ-খ্যাতি, পদ-পদবী ও ক্ষমতার তীব্র লড়াইয়ে অবতীর্ন হতে দেখি। তাদের এ লড়াইয়ের তীব্রতার কারনে কারা ঈমানদার বা মুসলমান তা ফারাক করা বড়ই মুশকিল। আমরা যাদেরকে মুসলমান হিসেবে চিনি অথবা যারা নামে মুসলমান তাদের কার্যক্রম অধিকাংশ সময় প্রতিয়মান হয় যে- তাদের সাথে ইসলামের দূরতম সম্পর্কও নেই। একজন অবিভাবক তার সন্তানকে তার পড়াশুনা বা দুনিয়ার ক্যারিয়ার গঠনের জন্য যত বেশী তাগাদা দেন তার সিকি পরিমাণও সন্তানকে দ্বীনি গুনাবলী বা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উপযোগী হিসেবে গড়ার ব্যাপারে তাগাদা দেন না। অধিকাংশ মানুষ আল্লাহর উপর অবিচল আস্থা বিশ্বাস স্থাপন না করতে পারায় তারা সব সময় নগদ নগদ সব বিছু লাভ করতে চায়। তাই সময়ের ব্যবধানে তারা আখেরাতকে ভুলে যায়। সামান্য উদাহরন বলা যায় যে যখন আমাদের সমাজে পাত্র-পাত্রী ঠিক করা হয় তখন দ্বীনের প্রতি কতটুকু আস্থাশীল বা সৎ চরিত্রবান সে বিষয়ে যতবেশী যতœবান না তার চেয়ে হাজার গুন বেশী তাদের অর্থবিত্তের ও যশখ্যাতির বিষয়ে তদারকি করা হয়। এ ধরনের ব্যাধী সর্বপর্যায়ে মহামারী আকার ধারন করেছে। যারা দ্বীনি আন্দোলনের কর্মী নিজের জীবনের প্রতিটি পরতে পরতে আল্লাহর গোলামীর সাথে পরিচালিত হচ্ছে না তাগুতের পথে পরিচালিত হচ্ছে তা নিখুঁতভাবে খতিয়ে দেখা অতীব জরুরী। আল্লাহর প্রতি ভালবাসাই দ্বীনী আন্দোলনের কর্মীদেরকে জান্নত উপযোগী হিসেবে গড়ে তুলতে পারে।
জনকল্যাণমূক কাজে আতœ নিয়োগ-
মানুষ মানুষের জন্য। ইসলামী আন্দোলনের কর্মীরা যেহেতু একটি সুখীÑসমৃদ্ধ ও প্রত্যাশিত সোনালী সমাজ কায়েম করতে চায়, সেহেতু প্রয়োজন প্রত্যেকেই প্রত্যেকের দু:খে-বিপদেÑদারিদ্রতায় পাশে দাঁড়ানো। যে সমাজে একদল মানুষ আয়েসী জিন্দেগীতে হাবুডুবু খাবে, আরেক দল কষ্টেÑক্লিষ্টে দুনিয়াকে বসবাসের অনুপুযুক্ত মনে করে জীবন অতিবাহিত করবে, এটা পুঁজিবাদী সমাজ হতে পারে, কন্তিু সবার প্রত্যাশিত সমাজ হতে পারেনা। ছাত্র আন্দোলনের কর্মীদরে পক্ষে সমাজের অনেক দায়িত্ব নেয়া সম্ভব না হলেও তারা ছাত্রকল্যাণমূলক কাজের পাশাপাশি নিজেদের ব্যক্তিগত ও সাংগঠনিকভাবে সাধ্যনুযায়ী পাড়া প্রতিবেশী ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারে । যে দেশে অন্নÑবস্ত্রÑবাসস্থানের অভাবে ধুঁকে ধুঁকে মানুষ মৃত্যু বরণ করে, সে দেশে কাঙ্খিত সোনালী সমাজ প্রতিষ্ঠা করা শুধু আষাঢ়ে বুলি ছাড়া আর কী হতে পারে? রাসূল (স:) প্রতিবেশীর সুখে সুখী ও দু:খে দু:খী হওয়ার জন্য আমাদের শিক্ষা দিয়েছেন। রাসূল (স:) তাঁর সাহাবীদেরকে ঘরে ভাল খাবারের আয়োজন হলে তা প্রতিবেশীদেরকে দেয়ার জন্য বলেছেন। ফলমূল খাওয়ার পর খোসা বাহিরে ফেলতে নিষেধ করেছেন, যদি তাদের দেয়ার সামর্থ্য না থাকে। আর যদি গোস্ত রান্না করা হয় তাহলে একটু বেশী পরিমানে ঝোল দেয়ার জন্য বলেছেন যাতে প্রতিবেশীকে দেয়া যায়। আমাদের আশে পাশে অসংখ্য মানুষ ভুখানাঙ্গাঁ অবস্থায় রয়েছে, যাদের পাশে আমাদের অকৃত্রিম ভাবে দাঁড়াতে হবে। ভোগের পরিবর্তে ত্যাগের মানসিকতায় উজ্জিবীত কর্মীরাই আন্দোলনের লক্ষ্য অর্জনে ব্যাপক ভুমিকা রাখতে পারে।
“সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সৎ, দক্ষ ও দেশপ্রেমিক নাগরিক তৈরী” রাজনৈতিক মুখরোচক শ্লোগান হিসেবে নয় বরং এর বাস্তবায়নের জন্য ছাত্রশিবিরের প্রতিটি নেতা-কর্মীর নিরলস প্রচেষ্টা বাঞ্জনীয়। প্রয়োজন নির্মোহ, নির্ঘুম পথচলা। শিবিরের সে জাগানিয়ার শ্লোগানে উজ্জিবিত হোক আমাদের প্রতিটি মুহুর্ত-
“জেগেছে শিবির ভেঙ্গেছে তিমির, ছুটেছে সিংহদল
আগুনের ফুলকি উঠিছে দুলকি রুখবে কে আর বল।”

 

লেখক:

মুহাম্মদ আবদুল জব্বার

কেন্দ্রীয় সভাপতি,

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির

About শিবির অনলাইন লাইব্রেরী