ইসলামের সহজ পরিচয়

সম্পুর্ণ সূচীপত্র

পরিপূর্ণ জীবনবিধান হিসেবে

ইসলামের সহজ পরিচয়

অধ্যাপক গোলাম আযম


স্ক্যান কপি ডাউনলোড

চলমান পেজের সূচীপত্র

উৎসর্গ

অনেক লেখক তাদের লেখা বই কারো না কারো নামে উৎসর্গ করেন। কেউ পিতা-মাতার নামে, কেউ কোনো বিখ্যাত লোকের নামে, কেউ প্রিয়জনের নামে, কেউ আদরের সন্তানদের নামে উৎসর্গ করেন।

আমার লেখা প্রিয় বইগুলোর মধ্যে একটি বিশেষ প্রিয় বই হলো ‘পরিপূর্ণ জীবনবিধান হিসেবে ইসলামের সহজ পরিচয়’। বইটি যাদের জন্য লিখেছি, তাদের উদ্দেশ্যেই অত্যন্ত আনন্দ ও আবেগের সাথে উৎসর্গ করলাম।

তারা কারা? তারা ঐসব মানুষ, যারা অল্পশিক্ষিত। তারা মাতৃভাষা কোনো রকমে পড়তে পারেন। তাদের পক্ষে অনেক বই পড়া সম্ভব নয়। বড় বই পড়তে তারা সাহস পান না; কঠিন ভাষা বুঝতে পারেন না। সহজ বাংলায় ছোট বা মাঝারি সাইজের বই পেলে তারা পড়েন। পড়ে মজা পেলে অন্যদেরকে পড়ে শোনান।

তারা দেশের কোটি কোটি জনগণের সাথেই গ্রামে-গঞ্জে বসবাস করেন। জনগণের মধ্যে খুব কম লোকই বই পড়তে পারেন। যে কয়েকজন বই পড়তে পারেন, তারাই জনগণের নেতার দায়িত্ব পালন করেন। তারাই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতা। ইউনিয়ন কাউন্সিলের নির্বাচনে তারাই প্রার্থী হন। সকল নির্বাচনেই তারা জনগণকে নিজ নিজ দলের পক্ষে ভোট দেওয়ার জন্য বোঝানোর চেষ্টা করেন।

জনগণের এ নেতাদের উদ্দেশ্যেই আমার অতি প্রিয় বইটি উৎসর্গ করলাম। তারা যে দলের লোকই হোন, ইসলাম সম্পর্কে তাদের জানার অধিকার আছে। তারা আল্লাহকে বিশ্বাস করেন, রাসূল সা. কে ভালোবাসেন এবং কুরআন মাজীদ কে ভক্তি-শ্রদ্ধা করেন। তারা যদি ইসলামের জ্ঞান লাভ করেন, তাহলে তাদের মাধ্যমেই জনগণের মধ্যে ইসলামের আলো পৌঁছবে। যারা বই পড়তে পারেন না তাদেরকে তারাই বইটি পড়ে শোনাবেন ও বোঝাবেন।

আল্লাহর দরবারে দোআ করি, যেন আমার এ আশা পূরণ হয়। আমীন!

গোলাম আযম

জুলাই, ২০০৬

বইটির ইতিকথা

আমি অনেকদিন থেকে চিন্তা-ভাবনা করছিলাম যে, সাধারণ মানুষের বোঝার মতো সহজ-সরল ভাষায় দীন ইসলামের পরিপূর্ণ ধারণা একটিমাত্র মাঝারি আকারের বইয়ে পরিবেশন করা খুবই জরুরি। কোনো রকমে মাতৃভাষা পড়তে পারে এমন লোকও যাতে বইটি পড়লে ইসলাম সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সন্তোষজনক ধারণা লাভ করতে পারে। এমনটি যারা বই পড়তে পারে না, তাদেরকে বইটি পড়ে শোনালে তারাও যেন তৃপ্তির সাথে দীনের আলো উপভোগ করতে পারে।

শুধু বাংলাদেশেই বর্তমানে কমপক্ষে তেরো কোটি জন্মগত মুসলমান রয়েছে। তাদের মধ্যে বেশির ভাগই মাতৃভাষা পর্যন্ত পড়তে জানে না। উচ্চশিক্ষিত লোকের সংখ্যাও খুবই কম। যারা কোনো রকমে বাংলাভাষা পড়তে পারে তাদের জন্য অতি সহজ ভাষায় ইসলাম সম্পর্কে এমন জ্ঞান পরিবেশন করতে চাই, যা তারা তৃপ্তির সাথে বুঝতে পারবে এবং যারা পড়তে জানে না তাদেরকেও পড়ে শোনানো দরকার মনে করবে।

আমি অবশ্য স্বল্পশিক্ষিতদের বোধগম্য ভাষায়ই লিখি; কিন্তু আমার লেখা উচ্চশিক্ষিতগণও অপছন্দ করেন না। তারা অল্পশিক্ষিত লোকদের নিকট দীনের দাওয়াত দেন। হয়তো আমার লেখা এ দিক দিয়ে তাদের জন্য সহায়ক হতে পারে। আমি এমন একটি বই রচনা করতে চেয়েছি, যা থেকে জনগণ ইসলামের এ পরিমাণ জ্ঞান হাসিল করতে পারবে- যা তাদেরকে খাঁটি মুসলিম হিসেবে নিজেদেরকে গড়ে তোলার জন্য উৎসাহ যোগাবে এবং অন্যদের নিকটও দীন ইসলামের আলো বিতরণ করার জন্য তাদের মধ্যে জযবা পয়দা করবে।

২০০৫ সালের এপ্রিলে শুরু হয়ে সেপ্টেম্বরে লেখা সমাপ্ত হয়েছে। আলহামদুলিল্লাহ! আমার দীর্ঘদিনের স্বপ্নসাধ পূরণ হলো। যাদের উদ্দেশে লিখলাম তাদের পক্ষে অনেক বই পড়া অসম্ভব মনে করেই এক বইয়ে গোটা ইসলামকে তুলে ধরার চেষ্টা করলাম।

ইসলামী গবেষণামূলক মাসিক পত্রিকা ‘পৃথিবী’র সম্পাদক অধ্যাপক এ.কে.এম. নাজির আহমদ অত্যন্ত আগ্রহের সাথে এ লেখাগুলোকে ২০০৫ সালের জুন থেকে ২০০৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট ৯ কিস্তিতে প্রকাশ করে আমাকে বাধিত করেছেন।

পরিপূর্ণ জীবনবিধান হিসেবে ইসলামের ব্যক্তিগত, পারিবারিক, ধর্মীয়, সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও আন্তর্জাতিক জীবন সম্পর্কে বইটিতে আলোচনা করেছি। অর্থনীতির মতো কঠিন, সংস্কৃতির মতো সূক্ষ্ণ ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মতো জটিল বিষয়ে স্বল্পশিক্ষিত সাধারণ পাঠক-পাঠিকাকে বোঝানো যে কত কঠিন, তা লিখতে গিয়ে টের পেলাম।

যাদের জন্য লিখলাম তাদের বোঝার মতো সহজ হয়েছে কি না, এ বিষয়ে বেশ কয়েকজন উচ্চশিক্ষিত সুধীজনের সার্টিফিকেট পেয়ে আল্লাহ তাআলার প্রতি শুকরিয়া জানালাম। মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী তাঁর মাহফিলসমূহে ‘এক বই থেকে ইসলামকে শিখুন’ বলে বইটির ঘোষণা দিয়ে থাকেন।

হাইস্পিড গ্রুপ অব কোম্পানিজ-এর চেয়ারম্যান একান্ত স্নেহভাজন কে. এম. মাহমুদুর রহমান বইটিতে ALL IN ONE আখ্যা দিয়ে ৫০০০ কপি বিনামূল্যে বিতরণের ব্যবস্থা করেছেন।

এ বই লেখার উদ্দেশ্যে যেন সফল হয়, আল্লাহর দরবারে এ দোআই করছি। বইটিকে আরো উন্নত করার জন্য যারা পরামর্শ দিয়েছেন তাদের প্রতি শুকরিয়া জানাই।

বইটি ২০০৫ সালের নভেম্বরে প্রথম প্রকাশিত হয়েছে। ইতোমধ্যে ৮ম মুদ্রণ শেষ হয়েছে। আল্লাহর রহমতে বইটির প্রচার আশাব্যঞ্জক। আল্লাহর দরবারে যেন বইটি কবুল হয়, এ দোআই চাই।

গোলাম আযম

জুন, ২০০৮

Top