হাদীছের তত্ত্ব ও ইতিহাস

(খ) মাওলানা ইয়াকুব নানুতবী

[১২৪৯-১৩০২ হিঃ মোঃ ১৮৩৩-১৮৮৪ ইং]

মাওলানা ইয়াকুব নানুতবী দিল্লী কলেজের সুপ্রসিদ্ধ অধ্যাপক মাওলানা মামলুক আলী নানুতবীর পুত্র। সমস্ত ফনুনাত তিনি মাওলানা কাছেম নানুতবী সহকারে আপন পিতার নিকট এবং হাদীছ মাওলানা শাহ আবদুল গনী মুজাদ্দেদীর নিকট শিক্ষা করেন। ‘তাছাওফ’ তিনি হজরত হাজী ইমদাদুল্লাহ মুহাজির মক্কী হইতে লাভ করেন। তিনি একজন জবরদস্ত ওলী ছিলেন। শিক্ষা সমাপ্তির পর তিনি ১৫০ টাকা বেতনে আজমীরের ডেপুটি ইন্সপেক্টর নিযুক্ত হন। দারুল উলুম প্রতিষ্ঠার পর মাওলানা কাছেম নানুতবীর আহবানে তিনি উহা ত্যাগ করিয়া মাত্র ২৫ টাকা বেতনে দারুল উলুমের ‘ছদরুল মোদাররেছীনের’ পদ এখতেয়ার করেন। তিনিই দারুল উলুমের প্রথম ‘ছদরুল মোদাররেছীন’ (প্রধান শিক্ষক) ও শায়খুল হাদীছ। মৃত্যু পর্যন্ত ১৯ বৎসরকাল তিনি এই পদে সমাসীন থাকেন।

তাঁহার শাগরিদগণঃ

তাঁহার সময় দারল উলুম হইতে ১৫১ ব্যক্তি হাদীছ শিক্ষার ছনদ লইয়া বাহির হন। ইহাদের কেহ কেহ মাওলানা কাছেম নানুতবীর নিকটও হাদীছ শিক্ষা করিয়াছিলেন। নীচে ইহাদের কতিপয় বিশিষ্ট ব্যক্তির নাম দেওয়া গেলঃ

১। মাওলানা আবদুল হক পুরকাজবী।

২। মাওলানা আবদুল্লাহ আনছারী আম্বোঠবী।

৩। মাওলানা ফতহে মোহাম্মদ থানবী।

৪। মাওলানা মাহমুদুল হাছান দেওবন্দী (শায়খুল হিন্দ)।

৫। মাওলানা আহমদ হাছান আমরুহী।

৬। মাওলানা ফখরুল হাছান গঙ্গুহী।

৭। মাওলানা হাকীম মানছুর আলী খাঁ মুরাদাবাদী।

৮। মাওলানা মুফতী আজীজুর রহমান ওছমানী দেওবন্দী। (দেওবন্দের প্রধান ও প্রথম মুফতী)

৯। মাওলানা আশরাফ আলী থানবী (হাকীমুল উম্মত)।

১০। মাওলানা হাফেজ আহমদ (কাছেম নানুতবীর পুত্র ও দারুল উলুমের ৫ম মোহতামেম)।

১১। মাওলানা হাবীবুর রহমান ওছমানী। (দেওবন্দের ৬ষ্ঠ মোহতামেম)।

১২। মাওলানা নাজের হাছান দেওবন্দী।

১৩। মাওলানা কাজী জামালুদ্দীন ফতিয়াবাদী।

১৪। মাওলানা মোহাম্মদ ফাজেল ফুলতী।

১৫। মাওলানা হাফেজ মোহাম্মদ ইছহাক ফোররখাবাদী।

১৬। মাওলানা মোহাম্মদ ছিদ্দীক দেওবন্দী।

১৭। মাওলানা ইয়াহইয়া দেওবন্দী।

-ফতওয়ায়ে দারুল উলুমের ভূমিকা ও তারিখে দেওবন্দ-১৪৪ পৃঃ

(গ) মাওলানা মাজহার নানুতবী

[মৃঃ ১৩০২ হিঃ মোঃ ১৮৮৪ ইং]

মাওলানা মাজহার ইবনে শায়খ লুতফে আলী নানুতবী সাহারনপুরী ‘ফনুনাত’ ও হাদীছ মাওলানা রশীদুদ্দীন খাঁ দেহলবীর শাগরিদ ও দিল্লী কলেজের প্রসিদ্ধ অধ্যাপক মাওলানা মামলুক আলী নানুতবীর নিকট শিক্ষা করেন। মাওলানা আহমদ আলী সাহারনপুরীর পর তিনি মাজাহেরে উলুম –এর প্রধান অধ্যাপক নিযুক্ত হন এবং আজীবন তথায় হাদীছ-তফছীর শিক্ষা দেন। তিনিই মাওলানা আহমদ আলী কর্তৃক স্থাপিত আরবী মাদ্রাছাকে কাজী মহল্লা হইতে বর্তমানে অবস্থিত মুফতী মহল্লায় স্থানান্তরিত করেন এবং ‘মাজাহেরে উলুম’ নামে নাম করেন।

-মাওলানা জাফর আহমদ ওছমানী প্রমুখাৎ বর্ণিত

তাঁহার শাগরিদগণঃ

তাঁহার শাগরিদ অনেক। তাঁহাদের মধ্যে ইহারা হইলেন বিখ্যাতঃ

১।মাওলানা খলীল আহমদ সাহারনপুরী ( মৃঃ ১৩৪৬ হিঃ) তিনি সমস্ত ‘ফনুনাত’ মাজাহেরে উলুম’ মাদ্রাছার শিক্ষাকদের নিকট এবং হাদীছ তথায় মাওলানা আহমদ আলী সাহারনপুরী ও মাওলানা মাজহার শিক্ষা করেন। তিনি প্রথমে ‘মাজাহেরে উলুম’মাদ্রাছার অধ্যাপক এবং পরে উহার প্রধান অধ্যক্ষ নিযুক্ত হন।

(ঘ) মাওলানা রশীদ আহমদ গঙ্গুহী

[১২৪৪-১৩২৩ হিঃ মোঃ ১৮২৮-১৯০৫ ইং]

মাওলানা রশীদ আহমদ ইবনে হেদায়েদতুল্লাহ আনছারী গঙ্গুহী ১২৪৪ হিঃ সাহারনপুর জিলার গঙ্গুহতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি আরবী, ফারছী, ফেকাহ ও মান্তেক-হিকমত প্রভৃতি ‘ফনুনাত’ অধুনালুপ্ত ‘দিল্লী কলেজে’র অধ্যাপক মাওলানা মামলুক আলী নানুতবীর ( মৃঃ ১২৬০ হিঃ মোঃ ১৮৪৪ খৃঃ) নিকট এবং হাদীছ শাহ আবদুল গনী মুজদ্দাদী ও তাঁহার ভ্রাতা শাহ আহমদ ছাঈদ মুজাদ্দেদী নিকট হইতে লাভ করেন। তিনি প্রায় অর্ধ শতাব্দী যাবৎ তাঁহার গঙ্গুহস্তিত খানকায় হাদীছ ও তাছাওফ শিক্ষা দেন। মাওলানা কাছেম নানুতবীর এন্তেকাল পর ১২৯৭ হিঃ তিনি দেওবন্দের ‘দারুল’উলুম’ মাদ্রাছার পৃষ্ঠপোষকতার ভার গ্রহণ করেন। ৮০ বৎসর বয়সে তিনি গঙ্গুহতে এন্তেকাল করেন। তিনি এ স্তরের শ্রেষ্ঠ ব্যাক্তি।

হাদীছে তাঁহার কিতাবঃ

(ক) ‘লামেউদ দারারী’ ( আরবী***********)। ইহা তাঁহার বোখারী শরীফ পড়াইবার কালের (তাকরীর) বা বক্তৃতার সমষ্টি।তাঁহার শাগরিদ মাওলানা ইয়াহইয়া কান্দলবী ইহা লিপিবদ্ধ করিয়াছেন এবং তাঁহার (কান্দলবীর) পুত্র মাওলানা জাকারিয়া কান্দলবী ইহার সম্পাদনা করিয়াছেন। হালে ইহার দুই খণ্ড সাহারনপুর  হইতে প্রকাশিত হইয়াছে।

(খ) ‘আল কাওদাবুদ দুরবী’ (আরবী**************)।ইহার তাঁহার তিরমিজী সম্পর্কীয় ‘তাকবীর’। ইহতেও মাওলানা কান্দলবী লিপিদ্ধ করিয়াছেন। দুই খণ্ড প্রকাশিত হইয়াছে।

তাঁহার হাদীছের শাগরিদগণঃ

তাঁহার নিকট হাদীছ শিক্ষা করিয়াছেন এমন লোকের সংখ্যা শতরও অধিক বলিয়া তাঁহার জীবনীগ্রন্হ ‘তাজকিরাতুর রশীদে’ উল্লেখ রহিয়াছে। এখানে কেবল কতক প্রসিদ্ধ লোকের নাম দেওয়া গেলঃ

১। মাওলান মোহাম্মদ হাছান মোরাদাবাদী। গঙ্গুহীর খলীফা ও ভুপালের আরাবীয়াহ মাদ্রাছার অধ্যক্ষ

২। মাওলানা কাদের আলী। তাঁহার খলীফা ও দিল্লী মাদ্রাছার অধ্যাপক।

৩। মাওলানা ছা’দুল্লাহ। কাশ্মীরের কাজী ।

৪। মাওলানা মাজেদ আলী জৌনপরী (মৃঃ ১৩৫৫-হিঃ মোঃ ১৯৩৬ ইং) তিনি “মা’কুলাত” মাওলানা আবদুল হক খায়রাবাদী এবং হাদীছ মাওলানা গঙ্গুহীর নিকট শিক্ষা করেন। তিনি যথাক্রমে আলীগড়ে মিণ্ডু মাদ্রাছার প্রধান শিক্ষাকরূপে কাজ করেন। হিন্দুস্তান-পাকিস্তানে তাঁহার বহু শাগরিদ রহিয়াছে।

৫। মাওলানা ছায়দুদ্দীন রামপুরী। তিনি ভুপালের শিক্ষা বিভাগের ডাইরেকটর ছিলেন।

৬। মোল্লা আবদুর রাজ্জাক। তিনি আফগানিস্তানের প্রধান বিচারপতির ছিলেন।

৭। মাওলানা হাফেজ আহমদ দেওবন্দী। কাছেম নানুতবীর পুত্র। তিনি দেওবন্দ মাদ্রাছার অধ্যক্ষ ছিলেন।বর্তমান অধ্যাক্ষ মাওলানা কারী তৈয়ব দেওবন্দী তাঁহারই পুত্র। তিনি মাওলানা ইয়াকুব নানুতবীরও ছাত্র

৮। মাওলান হাবীবুর রহমান দেওবন্দী।তিনি দেওবন্দ মাদ্রাছার অধ্যক্ষ ছিলেন। তিনি ইয়াকুব নানুতবীর ছাত্র

৯। মাওলানা ইয়াহইয়া কান্দলবী মুজাফফরনগরী (১২৮৭-১৩৩৪ হিঃ)। তিনিই মাওলানা গঙ্গুহীর সর্বশেষ হাদীছের ছাত্র। তিনি সাহারনপুর ‘মাজাহেরে উলুম’ মাদ্রাছার অধ্যপক ছিলেন। মাজাহেরে উলুমের বর্তমান শায়খুল হাদীছ মাওলানা জাকারিয়া কান্দলবী তাঁহার ছোট ভাই ও ছাত্র। জামাআতের বর্তমান পরিচালক মাওলানা ইউছুফ কান্দলবী মাওলানা ইলায়াছ ছাহেবেরই পুত্র।

ষষ্ঠ স্তর

(ক) শায়খুল হিন্দ মাওলানা মাহমুদুল হাছান দেওবন্দী

[১২৬৮-১৩৩৯ হিঃ মোঃ ১৮৫১-১৯২০ ইং]

শায়খল হিন্দ মাওলানা মাহমুদুল হাছান দেওবন্দী ১২৬৮ হিজরীতে দেওবন্দে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁহার পিতা মাওলানা জুলফিকার আলী দেওবন্দী ‘দারুল উলুম’ প্রতিষ্ঠাতাদের অন্যতম ছিলেন। তিনি সমস্ত ‘ফনুনাত’ দেওবন্দে মোল্লা মাহমুদ দেওবন্দী ও মাওলানা ইয়াকুব নানুতবী (মৃঃ ১৩০২ হিঃ) প্রমুখ মনীষীগণের নিকট এবং প্রায় হাদীছ মাওলানা মোহাম্মদ কাছেম নানুতবীর নিকট শিক্ষা করেন। অতঃপর মাওলানা আবদুল গনী মুজাদ্দেদী (মক্কায়), কারী আবদুর রহমান পানিপাত্তী (পানিপথী), মাওলানা রশীদ আমদ গঙ্গুহী, মাওলানা আহমদ আলী সাহারনপুরী ও মাওলানা মাজহার নানুতবীর নিকট হইতে উহার ‘এজাজত’ লাভ করেন। মাজহার নানুবীর নিকট তিনি কিছু হাদীছ পড়িয়াছেন বলিয়াও কেহ বলেন। মাওলানা কাছেম নানুতবীর পর তিনি ‘দারুল’ উলুম’ দেওবান্দের ‘শায়খুল হাদীছ’ নিযুক্ত হন এবং জীবনের শেষ অবধি এই পদে বহাল থাকেন। তাঁহার দ্বারাই দারুল উলুমের নাম দেশ- দেশান্তর ছড়াইয়া পড়ে। বৃটিশ বিরোধী সংগ্রামে বৃটিমি কতৃক বন্দী হইয়া তিনি দীর্ঘ ছয় বৎসরকাল মালটায় নির্যাতন ভোগ করেন। মুক্তি লাভের পর তিনি ১৯২০ ইং দেওবন্দে এন্তেকাল করেন।

বিভিন্ন বিষয়ে তাঁহার কতিপয় মূল্যবান কিতাব রহিয়াছে।তাঁহার কোরআন পাকের তরজমা একটি সুচিন্তত ওপ্রামাণ্য তরজমা

তাঁহার শাগরিদগণঃ

তাঁহার নিকট যাঁহার হাদীছ শিক্ষা করিয়াছেন তাঁহারদের পূর্ণ তলিকা দেওয়া সম্ভপর নহে। এখানে কেবল কতিপয় প্রসিদ্ধ ব্যক্তির নাম দেওয়া গেলঃ

১। ছৈয়দ আছগর হোছাইন দেওবন্দী এরফে ‘মিঞা ছাহেব’ (মৃঃ ১৩৭৭ হিঃ) তিনি আজীবন দেওবন্দে হাদীছ শিক্ষা দিয়াছেন।

২। মাওলানা হাবীবুর রহমান ওছমানী ( মৃঃ ১৩৪৯ হিঃ মোঃ ১৯৩০ ইং)। তিনি দেওবন্দের প্রধান অধ্যক্ষ ( মোহাতমেম) ছিলেন। মাওলানা শিব্বীর আহমদ ওছমানী তাঁহার ছোট ভাই। তিনি গঙ্গুহীর নিকট শিক্ষা করন। তিনি ইয়াকুব নামতবীর ছাত্র।

৩। মাওলানা আনওয়ার শাহ কাশ্মীরী (মৃঃ ১৩২৫ হিঃ মোঃ ১৯৩৩ ইং)।

৪। মাওলানা শিব্বীর আহমদ ওছমানী (মৃঃ ১৩৬৯ হিঃ মোঃ ১৯৪৯ ইং)।

৫। মাওলানা ওবাইদুল্লাহ সিন্ধী (মৃঃ ১৩৬৮ হিঃ মোঃ ১৯৪৮ ইং)।

স্বাধীন চিন্তানায়ক, ওলীউল্লাহী দর্শনের বিশেষজ্ঞ  এবং আজাদী আন্দোলনের অন্যতম নেতা।

(আরবী………………………………..) একটি মূল্যবান কিতাব।

৬। মাওলানা মূফতী কিফায়েতুল্লাহ শাজাহানপুরী দেহলবী (মৃঃ ১৩৭৪ হিঃ মোঃ ১৯৫৪ ইং)। (পূর্ণ পরিচয় পরে আসিবে।)

৭। মাওলানা মোহাম্মদ মিঞা ওরফে মানছুল আনছারী। বৃটিশ কর্তৃক তিনি আফগানিস্তানে নির্বাসিত হন এবং তথায় শায়খুল  হিন্দের প্রতিনিধিত্ব করেন।

৮। মাওলানা মোহাম্মদ ছিদ্দীক ফয়েজআবদী, মুহাজিরে মদনী। মাওলানা হোছাইন আহমদ মদনীর জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা। তিনি মাওলানা গঙ্গুহীর খলীফা ছিলেন।

৯। মাওলানা ছৈয়দ আহমদ ফয়েজআবাদী মুহাজিরে মদনী। মাওলানা মদনীর অপর ভ্রাতা। তিনি মদীনা শরীফে ‘মাদ্রাছাতুশ শারীয়াহ’ নামে এক বিরাট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কায়েম করেন। মাওলানা মদনীর সর্বকনিষ্ঠ ভ্রাতা ছৈয়দ হাবীবুর রহমান বর্তমানে উহার পরিচালক।

১০। মাওলানা হোছাইন  আহমদ মদনী (মৃঃ ১৩৭৭ হিঃ মোঃ ১৯৫৭ ইং)।

১১। মাওলানা এ’জাজ আলী মুরাদাবাদী দেওবন্দী (১৩০১-১৩৭৪ হিঃ)।

শাহাজাহানপুর, মীরাঠ ও দেওবন্দে শিক্ষালাভ করেন। ভাগলপুর ও শাহজাহানপুরে শিক্ষকতা করার পর তিনি দেওবন্দ মাদ্রাছার শিক্ষকতার পদ লাভ করেন।

তিনি তথাকার ‘শায়খূল আদব’ (আরবী সাহিত্য বিভাগের প্রধান) ও মুফতী ছিলেন। হাদীছে তাহার নিন্মলিখিত কিতাব রহিয়াছেঃ

(ক) ‘হাশিয়ায়ে ইবনে মাজাহ’—ইবনে মাজাহর ব্যাখ্যা।

(খ) ‘তালীকে তিরমিজী’ —তিরমিজী শরীফের ব্যাখ্যা্

(গ) ‘তরজমায়ে জাওয়াজির’—ইবনে হাজার হাইছমী মক্কীর জাওয়াজির কিতাবের অনুবাদ।

এতদ্ব্যতীত আরবী সাহিত্য ও ফেকাহ সম্পর্কে তাহার বহু মূল্যবান রচনা রহিয়াছে।                                                                                                        –হায়াতে এ’জাজ

১২। মাওলানা ছাঈদ সন্দীপী ইছলামাবাদী (মৃঃ ১৩৭৫ হিঃ)।

১৩। মাওলানা জিয়াউল হক ছাহেব (রাঃ)। তিনি দিল্লীর ‘মাদ্রাছায়ে আবদুর রবে’র প্রধান অধ্যাপক ছিলেন।–হায়াতে আনওয়ার-২৭ পৃঃ

১৪। মাওলানা আবদুল আজীজ পাঞ্জাবী। হাদীছে তিনি ‘নিবরা ছুছছারী’ নামে বোখারীর ‘আতরাফ’ সম্পর্কে এক কিতাব লিখেন।

১৫। মাওলানা মোরতাজা হাছান চাঁদপুরী। দেওবন্দের অধ্যাপক।

১৬। মাওলানা মোহাম্মদ জরগামুদ্দীন ছাহেব (রাঃ)। ফয়েজআবাদ ‘হানাফিয়াহ’ মাদ্রাছার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান অধ্যাপক।–হায়াতে আনওয়ার-২৭৪ পৃঃ

১৭। মাওলানা ইব্রাহীম বৈলয়াবী। তিনি কিছুদিন হাটহাজারী মাদ্রাছার শায়খুল হাদীছরূপে কাজ করিয়াছেন। বর্তমানে তিনি দেওবন্দ মাদ্রাছার প্রধান অধ্যাপক।

১৮। মাওলানা ছৈয়দ ফখরুদ্দীন মোরাদাবাদী। তিনি প্রথমে মোরাদাবাদের ‘জামেয়ায়ে-কাছেমিয়া’র ‘শায়খুল হাদীছ’ ছিলেন। বর্তমান দেওবন্দ মাদ্রাছার ‘শায়খুল হাদীছ’।

১৯। মাওলানা মোহাম্মদ ছমীর ছাহেব। দেওবন্দ মাদ্রাছার অধ্যাপক।

২০। আহমদ আলী ছাহেব। লাহোর আঞ্জুমানে খোদ্দামুদ্দীনের পরিচালক।

২১। মাওলানা ওজাইরে গোল ছাহেব। তিনি বহু দিন দেওবন্দ মাদ্রাছার এবং কিছুদিন নোয়াখালি ইছলামিয়া মাদ্রাছার অধ্যাপক ছিলেন। তিনি শায়খুল হিন্দের খেদমতের জন্য তাঁহার সহিত স্বেচ্ছায় মালটায় কারাবরণ করিয়াছিলেন।

২২। মাওলানা মোহাম্মদ ছাদেক ছাহেব। (করাচি) থাড্ডা ‘মাদ্রাছায়ে আরাবিয়ার’ প্রতিষ্ঠাতা।

–তাজাল্লিয়াতে ওছমানী, ওলামায়ে হক

২৩। মাওলানা আয়নুদ্দীন ছাহেব।তিনি দিল্লী ‘আমীনিয়া’ মাদ্রাছার প্রতিষ্ঠাতা।

হায়াতে আনওয়ার

২৪। মাওলানা মোহাম্মদ ইয়াহইয়া ছাহছারামী (মৃঃ১৩৫০ হিঃ)।তিনি কালিকাতা আলিয়া মাদ্রাছার হেড মাওলানা ছিলেন। বাংলা ও হিবারে তাঁহার বহু শাগরিদ রহিয়াছে।

২৫। মাওলানা ছহল ভাগলপুরী (মৃঃ১৩৬৮ হিঃ)।তিনি কলিকাতা আলিয়া ও সিলেট আমিয়া মাদ্রাছার অধ্যাপক; পাটনা শামছুল হুদা মাদ্রাছার অধ্যাক্ষ ও দওবন্দ মাদ্রাছায় স্বল্পকালের মুফতী ছিলেন।

(খ) মাওলানা খলীল আহমদ সাহরনপুরী

[১২৬৯- ১৩৪৬ হিঃ মোঃ ১৮৫২-১৯২৭ ইং]

মাওলানা খলীল আহমদ ইবনে শাহ মাজীদ আলী ১২৬৯ হিঃ সাহারনপুরের আম্বোঠায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি যাবতীয় প্রাথমিক এলম ‘মাজাহেরে উলুমে’র বিভিন্ন ওস্তাদ এবং হাদীছ মাওলানা মাজহার নানুতবীর নিকট, অতঃপর ভূপালে মাওলানা আবদুল কায়উম বুঢানবীর নিকট শিক্ষা করেন।( মাওলানা গঙ্গুহীর নিকট নহে) ১৩৪৪ হিঃ পযর্ন্ত তিনি ‘শায়খুল হাদীছ’রূপে ‘মাজাহেরে ‘উলুমে’ হাদীছ শিক্ষা দেন। এবং সেই বৎসরের শেষের দিকে মক্কায় হিজরত করেন। ১৩৪৬ হিঃ তিনি তথায় এন্তেকাল করেন। তিনি মাওলানা গঙ্গুহীর প্রধান খলীফা ছিলেন।তিনি কিছুদিন দারুল উলুমেও শিক্ষাকতা করিয়াছিলেন। হাদীছে তাঁহার রচনাঃ

(ক) ‘বজলুল মাজহুদ’- আবু দাউদ শরীফের মূল্যবান ও বিখ্যাত শরাহ। ( ৪ খণ্ডে প্রকাশিত)

(খ) ‘তানশীতুল আজান’- জুমআর দ্বিতীয় আজানের স্থান সম্পর্কীয় রিছালাহ। এছাড়া অন্যান্য বিষয়ে তাঁহার আরও কতিপয় কিতাব রহিয়াছে।

তাঁহার কতিপয় প্রসিদ্ধ শাগরিদঃ

তাঁহার শাগরিদের সংখ্যা বহু। অনেক লোক দেওবন্দে শায়খুল হিন্দের নিকট হাদীছ শিক্ষা করিয়া ‘ছানদ’ লাভের জন্য তাঁহার নিকট সাহারনপুর গিয়াছেন। অনুরূপভাবে অনেক তাঁহার নিকট হাদীছ শিক্ষা করিয়া আবার ‘শায়খুল হিন্দু’ হইতে ছনদ লাভের জন্য দেওবন্দ আসিয়াছেন। এ কারণে বহু লোককে উভয়ের শাগরিদ হিসাবে দেখা যায়।

১। মাওলানা আবদুল লতীফ সাহারনপুরী ( মৃঃ ১৩৭৭ হিঃ)। তিনি যথাক্রমে ‘মাজাহেরে উলুমে’র অধ্যাপক ও অধ্যক্ষ পদে থাকিয়া আজীবন হাদীছ-কোরআনের খেদমত করিয়াছেন।

২। মাওলান আবদুলর রহমান কামেলপুরী। খটক, আকুড়া মাদ্রাছায় মোহাদ্দেছে ছিলেন। তিনি মাওলানা থানবীর একজন বিশিষ্ট খলীফা।

৩। মাওলানা আশেকে এলাহী মীরঠী।তিনি তাজকিরতুর রশীদ’ নামে মাওলানা গঙ্গুহীর এবং ‘তাজকিরাতুল খলীল’ নামে মাওলানা সাহারনপুরীর জীবনীগ্রন্হ লিখিয়াছেন।

৫। মাওলানা আবদুর রহীম রায়পুরী।

৬। মাওলানা কিফায়েতুল্লাহ গঙ্গুহী। দিল্লী ফতহেপুরী মাদ্রাছার অধ্যাপক।

৭। মাওলানা জাকারিয়া কদ্দুছী। মাজাহেরে উলুমের অধ্যাপক।

৮। মাওলানা মানছুর আহমদ সাহারনপুরী। মাজাহেরের উলুমের অধ্যাপক

৯। মাওলানা আছআদুল্লাহ রামপুরী। মাজাহেরের উলমের অধ্যাপক।

১০। মাওলানা জাকারিয়া কান্দলবীর ।(তাঁহার পূর্ণ পরিচয় পরে আসিবে)

(গ) মাওলানা আশরাফ আলী থানবী

[১২৮০-১৩৬২ হিঃ মোঃ ১৮৬৩-১৯৪৩ ইং]

হাকীমুল উম্মত, হাফেজ মাওলানা আশারাফ আলী থানবী ১২৮০ হিঃ মোজাফফরগর জিলার থানাভুনে এক সম্ভ্র শিক্ষিত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। প্রাথমিক শিক্ষা তিনি থানাভুনে মাঃ ফতহে মোহাম্মদ থানবীর নিকট শিক্ষা করার পর ১২৯৫ হিঃ দেওবন্দের দারুল উলুমে প্রবেশ করেন এবং ৭ বৎসরকাল তথায় ফনুনাতে উচ্চ শিক্ষা লাভ করেন। হাদীছ তিনি ‘দারুল উলুম-এ মাওলানা ইয়াকুব নানুতবী ( মৃঃ ১৩০২ হিঃ) মোল্লা মোহাম্মদ মাহমুদ দেওবন্দী ও শায়খুল হিন্দ মাওলানা মাহমুদুল হাছান দেওবন্দীর নিকট শিক্ষা করেন। ‘তাছাওফ’ তিনি হাজী ইমদাদু্ল্লাহ মুহাজির মক্ক ও তাঁহার খলীফা রশীদ আহমদ গঙ্গুহীর নিকট হইতে হাছিল করেন।দীর্ঘ দিন তিনি কানপুর জামেউল উলুম মাদ্রাছার প্রাধান অধ্যাপক ও শায়খুল হাদীছ ছিলেন।অতঃপর থানাভুনের ‘খানকায়ে ইমদাদিয়া’য় তাছাওফ শিক্ষাদান ও কিতাব রচনায় আত্মনিয়োগ করেন। তিনি ছোট-বড় পাঁচ শতের অধিক কিতাব রচনা করিয়াছেন। ওতদ্ব্যতীত অন্যদের দ্বারা মত। তাঁহার স্বরচিত কিতাবসমুহের মধ্যে ‘তফছীরে বয়ানুল কোরআ’ একটি বিশিষ্ট কিতাব। তাঁহার হাজার হাজার মুরীদ বহু খলীফা রহিয়াছে। তাছাওফের তিনি বহু সংস্কার সাধন করিয়াছেন।১৩৬২ হিঃ ৮২ বৎসর বয়সে তিনি থানাভুনে এন্তেকাল করেন।

হাদীছে তাঁহার রচনাঃ

১। ‘জামেউল আছার’। ২। ‘তাবেউল আছার’। ৩। ‘হিফজে আরবায়ীন’। ৪। ‘আল মিছকজ জকী’। ৫। ইতফাওল ফেতান’ ( আরবী*******************) প্রভৃতি।

তাঁহার  শাগরিদগণঃ

১।মাওলানা ইছহাক বধাঁমানী ( মৃঃ ১৩৪৭ হিঃ) পরিচয় পরে আসিবে)

২।মাওলানা মোহাম্মদ রশীদ কানপরী ( মৃঃ১৩৩৫ হিঃ মোঃ ১৯১৬ ইং)। তিনি প্রথমে ‘জামেউল উলুম’ এবং পরে কলিকাতা আলিয়া মাদ্রাছার অধ্যাপক ছিলেন।

৩। মাওলানা আহমদ আলী ফতহেপুরী।হজরত থানবীর আদেশে ‘বেহাশতী জেওর’ প্রথম পাঁচ খণ্ড তিনিই রচনা করেন।

৪। মাওলানা ছাদেকুল ইয়াকীন কুরছবী।

৫।মাওলানা ছাদেকুল ইয়াকীন কুরছবী।

৬। মাওলানা শাহ লুৎফুর রছূল বারাবাঁকী। তিনি হজরত থানবীর কিতাব ‘কাছদুছ ছাবীল-এর ‘তাছহীল’ (সহজ) করেন।

৭। মাওলানা হাকীম মোস্তাফা বিজনৌরী। তিনি হজরত থানবীর ‘আল ইন্তেবাহাতুল মফীদাহ’ কিতাবের এক বিস্তারিত শরাহ করেন। এছাড়া তাঁহার আরও বহু কিতাব রহিয়াছে।

৮। মাওলানা ইছহাক কানপুরী। তিনি এলাহাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ছিলেন।

৯। মাওলানা মাজহারুল হক রামুবী ।তিনি দক্ষিণ  চট্তগ্রামের একজন প্রসিদ্ধ আলেম ছিলেন।

১০। মাওলানা জফর আহমদ ওছমানী। ( পরিচয় পরে আসিবে।)

 

About মাওলানা নূর মোহাম্মদ আ’জমী (রঃ)