হাদীছের তত্ত্ব ও ইতিহাস

বর্তমানে কতিপয় মোহাদ্দেছ

বর্তমানে পাক-ভারতে যাঁহারা হাদীছের খেদমতে রত আছেন, তাঁহাদের সংখ্যা অগণিত। নিম্নে তাঁহাদের কতিপয় বিশিষ্ট ব্যক্তির নাম দেওয়া গেলঃ

মাওলানা জফর আহমদ ওছমানী

মাওলানা জফর আহমদ ইবনে শায়খ লতীফ আহমদ ওছমানী ১৩১০ হিঃ মোঃ ১৮৯২ ইং দেওবন্দের দীওয়ান মহল্লার এক সম্ভ্রান্ত ও বিত্তশালী শায়খ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁহার দাদা শায়খ নেহাল আহমদ ওছমানী ‘দারুল উলুম’ প্রতিষ্ঠাতাদের অন্যতম ছিলেন। প্রাথমিক শিক্ষা তিনি দেওবন্দে তথাকার ওস্তাদগণের নিকট এবং হাদীছ, তফছীর ‘জামেউল উলুম’ জানপুরে (২৩-২৬) মাওলানা মোহাম্মদ ইছহাক বর্ধমানী ও মাওলানা রশীদ কানপুরীর নিকট শিক্ষা করেন। ১৩২৭ হিঃ তিনি ‘মাজাহেরে উলুমে’ যাইয়া মাওলানা আবদুল লতীফ সাহারনপুরী প্রমুখের নিকট ‘ফনুনাতে’ উচ্চ জ্ঞান লাভ করেন।

তথায় মাওলানা খলীল আহমদ সাহারনপুরীর নিকট হইতে তিনি বোখারী শরীফ প্রভৃতির ‘এজাজত’ হাছেল করেন। ১৩২৯-৩৫ হিঃ পর্যন্ত সাত বৎসরকাল তিনি ‘মাজাহেরে উলুমে’ অধ্যাপনা করেন এবং ১৩৩৬-৫৯ হিঃ ২৪ বৎসরকাল থানাভুনে তাঁহার মামা মাওলানা আশরাফ আলী থানবীর খেদমতে থাকিয়া ফতওয়া ও কিতাবাদি লেখার কাজ করেন। ১৩৬০-৬৮ হিঃ মোঃ ১৯৪১-৪৮ ইং পর্যন্ত তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাদীছ প্রভৃতি বিষয় শিক্ষা দেন। ১৯৪৯-৫৪ ইং পর্যন্ত তিনি ঢাকা আলিয়া মাদ্রাছার হেড মাওলানা ছিলেন।

১৯৫৫ হইতে এ যাবৎ তিনি সিন্ধুর আশরাফাবাদ টাণ্ডুল্লাহইয়ারে মাওলানা শিব্বীর আহমদ ওছমানী কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত ও মাওলানা ইহতেশামুল হক থানবী কর্তৃক পরিচালিত ‘দারুল উলুম’ মাদ্রাছায় শায়খুল হাদীছরূপে কাজ করিয়া আসিতেছেন। তিনি তাঁহার মামা মাওলানা থানবীর খলীফা। তাঁহার বহু মুরীদান রহিয়াছে। বিভিন্ন বিষয়ে তাঁহার বহু মূল্যবান কিতাব রহিয়াছে।

হাদীছে তাঁহার কিতাবঃ

(ক) ‘এ’লাউছ ছুনান’ (আরবী******************)। ইহা ২০ খণ্ডে লিখিত মূল্যবান কিতাব। ১১ খণ্ড প্রকাশিত হইয়াছে। (খ) ‘ফাতেহাতুল কালাম’ (আরবী************)। (গ) ‘শাককুল গাইন’ (আরবী**************)। (ঘ) ‘আল কাওলুল-মাতীন’ –(আরবী****************)।

মাওলানা জাকারিয়া সাহারনপুরী

হাফেজ মাওলানা জাকারিয়া কান্দলবী সাহারনপুরী ১৩১৫ হিঃ মুজাফ্ফরনগর জিলার কান্দালায় এক বিরাট এলমী খান্দানে জন্মগ্রহণ করেন। প্রাথমিক শিক্ষা তিনি তাঁহার পিতা মাওলানা ইয়াহইয়া কান্দলবী ও তাঁহার পিতৃব্য (বিশ্ববিখ্যাত তবলীগ জামাআতের প্রতিষ্ঠাতা) মাওলানা ইলইয়াছ কান্দলবীর নিকট লাভ করেন। ‘ফনুনাতে’ উচ্চ জ্ঞান তিনি মাজাহেরে উলুমে মাওলানা আবদুল লতীফ সাহারনপুরী প্রমুখের নিকট হাছিল করেন। হাদীছ তিনি তাঁহার পিতা মাওলানা ইয়াহইয়া কান্দলবী ও মাওলানা খলীল আহমদ সাহারনপুরীর নিকট অধ্যয়ন করেন। ১৩৩৫ হিঃ তিনি ‘মাজাহেরে উলুম’ মাদ্রাছায় অধ্যাপক পদে নিযুক্ত হন। বর্তমানে তিনি উহার ‘শায়খুল হাদীছ।

বিভিন্ন বিষয়ে তাঁহার বহু কিতাব রহিয়াছে। এলমে হাদীছে তাঁহার ‘আওজাজুল মাছালিক’ মোয়াত্তা ইমাম মালেকের একটি মূল্যবান শরাহ। ইহা ৬ খণ্ডে প্রকাশিত হইয়াছে। এছাড়া তিনি তাঁহার পিতা কর্তৃক সংগৃহীত মাওলানা গঙ্গুহীর তিরমিজীর ‘তাকরীর’ (বক্তৃতা)-কে সম্পাদন করিয়া ‘আর কাওকাবুদ দুররী’ নামে এবং বোখারী শরীফেরর ‘তাকরীর’কে সম্পাদন করিয়া ‘লামেউদ দারারী’ নামে প্রকাশ করিয়াছেন।

মাওলানা ছৈয়দ ফকরুদ্দীন মোরাদাবাদী

তিনি ১৩০৪ হিঃ তাজমীরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি হাদীছের বোখারী শরীফ ও তিরমিজী শরীফ শায়খুল হিন্দ মরহুমের নিকট, আবু দাঊদ ও মোআত্তা ইমাম মালেক আল্লামা কাশ্মীরীর নিকট এবং অন্যান্য কিতাব দেওবন্দের অন্যঅন্য ওস্তাদের নিকট শিক্ষা করেন। তিনি দীর্ঘদিন মোরাদাবাদের ‘জামেয়ায়ে কাছেমিয়া’র শায়খুল হাদীছ ছিলেন। বর্তমানে তিনি ‘দারুল উলুম’ দেওবন্দের শায়খুল হাদীছ।

হাদীছে তাঁহার নিম্নলিখিত কিতাবসমূহ রহিয়াছেঃ

(ক) ‘আল কাওলুল ফাছীহ’ (আরবী**********************)। (খ) ‘আল কাওলুন নাছীহ (আরবী***********)। (গ) ‘আছমায়ে ছাহাবা’। (ঘ) ‘হাশিয়ায়ে নাছারী। -আনওয়ারুল বারী ২/২৫৩-পৃঃ। (ঙ) ‘ইজাহুল বোখারী’ –তাঁহার শাগরিদ মাওলানা রিয়াছত আলী বিজনৌরী কর্তৃক সংগৃহীত ও সম্পাদিত।

মাওলানা ইবরাহীম বৈলয়াবী

তিনি ১৩০৪ হিঃ বৈলয়াতে জন্মগ্রহণ করেন। ফনুনাত তিনি হাকীম জামীলুদ্দীন নগীনবী, মাওলানা ফারুক আহমদ চড়য়াকোটী ও মাওলানা আবদুল গাফ্ফার প্রমুখ আলেমবৃন্দের নিকট এবং হাদীছ হজরত শায়খুল হিন্দ, মুফতী আজীজুর রহমান ওছমানী ও হাকীম মোহাম্মদ হাছান ছাহেবের নিকট শিক্ষা করেন। তিনি যথাক্রমে দেওবন্দের দারুল উলুমে, ডাবীলে, দিল্লীর ফতহেপুরীতে এবং দুই বৎসর কাল চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে হাদীছ শিক্ষা দেন। বর্তমানে তিনি দারুল-উলুম’ দেওবন্দের প্রধান শিক্ষক (ছদরুল মোদাররেছীন)। বিভিন্ন বিষয়ে তাঁহার কতিপয় কিতাব রহিয়াছে। ইহাদের মধ্যে ‘শরহে তিরমিজী’- এর নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

-আনওয়ারুল বার-২/২৭৫ পৃঃ

মাওলানা তৈয়ব দেওবন্দী

মাওলানা হাফেজ ক্বারী মোহাম্মদ তৈয়ব দেওবন্দী ১৩১৫ হিঃ মোঃ ১৮৯৮ ইং দেওবন্দে জন্ম- গ্রহণ করেন। তাঁহার পিতা মাওলানা হাফেজ আহমদ দেওবন্দী দেওবন্দ মাদ্রাছার প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা মোহাম্মদ কাছেম নানুতবীর পুত্র ও দেওবন্দ মাদ্রাছার ৫ম প্রধান অধ্যক্ষ (মোহতামেমে আ’লা) ছিলেন। মাওলানা তৈয়ব দুই বৎসরে ক্বেরাআতের সহিত কোরআন পাক হেফ্জ করেন এবং হাদীছসহ যাবতীয এলম দেওবন্দে শিক্ষা করেন। আল্লামা কাশ্মীরী তাঁহার হাদীছের একজন বিশিষ্ট ওস্তাদ।

তিনি ১৩৩৩ হিঃ শিক্ষা সমাপ্ত করিয়াই দারুল উলুমে শিক্ষকতা আরম্ভ করেন এবং ১৩৪৩ হিজরী তিনি উহার সহকারী অধ্যক্ষ (নায়েবে মোহতামেম) নিযুক্ত হন। ১৩৪৮ হিঃ মাওলানা হাবীবুর রহমান ওছমানীয় এন্তেকালের পর তিনি উহার অধ্যক্ষ পদ লাভ করেন। এ যাবৎ তিনি উক্ত পদে সমাসীন আছেন। তাঁহার আমলে দারুল উলুমের প্রভূত উন্নতি সাধিত হইয়াছে ও হইতেছে। তিনি এত বড় একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনের কর্মব্যস্ততার মধ্যেও হাদীছের মেশকাত শরীফ প্রভৃতি শিক্ষা দিয়া থাকেন। বিভিন্ন বিষয়ে তাঁহার কতিপয় মূল্যবান কিতাব রহিয়াছে।

-তারিখে দেওবন্দ

মুফতী মোহাম্মদ শফী দেওবন্দী

তিনি দেওবন্দের প্রথম যুগের ছাত্র মাওলানা মোহাম্মদ ইয়াছীন দেওবন্দীর পুত্র। তিনি হাদীছ দেওবন্দে আল্লামা কাশ্মীরী ও শিব্বীর আহমদ ওছমানী প্রমুখ মনীষীগণের নিকট শিক্ষা করেন। ১৩৫৯ হিঃ তিনি দেওবন্দের মুফতীর পদে নিযুক্ত হন এবং পাকিস্তান কায়েম হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত তিনি উক্ত পদে বহাল থাকেন। পাকিস্তান কায়েম হওয়ার পর তিনি পাকিস্তানে হিজরত করেন এবং করাচীতে দারুল উলুম নামে এক বিরাট মাদ্রাছা স্থাপন করেন। বর্তমানে তিনি উহার পরিচালক ও শায়খুল হাদীছ। তিনি হাকীমূল উম্মত মাওলানা থানবীর একজন বিশিষ্ট খলীফা। বিভিন্ন বিষয়ে তাঁহার বহু মূল্যবান কিতাব রহিয়াছেন। বিখ্যাত ‘ফতওয়ায়ে দারুল উলুম’ তাঁহারই সম্পাদিত। ইহা চারি খণ্ডে প্রকাশিত হইয়াছে।

-মোকাদ্দমায়ে ফতওয়ায়ে দারুল উলুম প্রভৃতি।

মুফতী ছৈয়দ মাহদী হাছান শাহজাহানপুরী

তিনি হাদীছ প্রভৃতি এলম মুফতী কেফায়েতুল্লাহ ছাহেবের নিকট শিক্ষা করেন। তিনি রান্ধীয় ও সুরাতে প্রায় ৪০ বৎসর যাবৎ ফতওয়া কিতাব লেখার কাজে ব্যাপৃত থাকেন। বর্তমানে তিনি ‘দারুল উলুম’ দেওবন্দের প্রধান মুফতী। হাদীছে তাঁহার রচনাঃ

(ক) ‘শহরে কিতাবুল আছার’ –ইমাম মোহাম্মদ -৪ খণ্ডে সমাপ্ত। (খ) ‘শহরে কিতাবুল হুজাজ’ –ইমাম মোহাম্মদ। (গ) ‘তা’লীকাতে তাহাবী শরীফ’।

মাওলানা ইউছুফ কান্দলবী

তিনি তাবলীগ জামাআতের প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা ইলইয়াছ কান্দলবীর পুত্র। তিনি ১৩৩৫ হিঃ জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ফনুনাত ‘মাজাহেরে উলুম’ মাদ্রাছায় এবং হাদীছ আপন পিতার নিকট শিক্ষা করেন। ১৩৬৩ সালে তাঁহার পিতার এন্তেকালের পর তিনি তাঁহার স্থলাভিষিক্ত হন এবং ‘তাবলীগ জামাআত’ পরিচালনভার গ্রহণ করেন। ইদানীং তিনি এন্তেকাল করিয়াছেন।

হাদীছে তাঁহার রচনাঃ

(ক) ‘আমানীউল আহবার’- (আরবী**************************)। (খ) ‘হায়াতুছ ছাহাবাহ’ –ছাহাবীগণের জীবনাদর্শ বিষয়ক কিতাব।

মাওলানা বদরে আলম মিরাঠী

মাওলানা বদরে আলম মিরাঠী হজরত আল্লামা আনওয়ার শাহ্ কাশ্মীরীর একজন বিশিষ্ট হাদীছের শাগরিদ। তিনি আল্লামা কাশ্মীরীর বোখালী খরীফ শিক্ষাদান কালের তাকরীরকে লিপিবদ্ধ করিয়া ‘ফয়জুল বারী’ (আরবী****************) নামে ৪ খণ্ডে প্রকাশ করিয়াছেন। বর্তমানে তিনি ‘তরজুমানুছ ছুন্নাহ্’ (আরবী********) নামে হাদীছের এক স্বতন্ত্র কিতাব লিখিতেছেন। ১৩৮০ হিঃ পর্যন্ত ইহার তিন খণ্ড প্রকাশিত হইয়াছে। ইহার ভূমিকা নানা মূল্যবান তথ্যে পরিপূর্ণ। ইহা উর্দু ভাষায় লিখিত।

মাওলানা মিরাঠী প্রথমে দেওবন্দের ‘দারুল উলুম’ অতঃপর ডাবীলের ‘জামেয়া মাদ্রাছা’-এর মোদাররেছ ছিলেন। বর্তমানে তিনি মদীনা শরীফের মুহাজির।

মাওলানা ইউছুফ বিননুরী

তিনি হাদীছ আল্লামা কাশ্মীরী প্রমুখ দেওবন্দের ওস্তাদগণের নিকট শিক্ষা করেন। তিনি আল্লামা কাশ্মীরী প্রমুখ কর্তৃক স্থাপিত ‘জামেয়ায়ে ডাবীলে;র শায়খুল হাদীছ ছিলেন। বতর্মানে তিনি নিউ টাউন, করাচীর ‌জামেয়ায়ে ডাবীলে’র শায়খুল হাদীছ ছিলেন। বর্তমানে তিনি নিউ টাউন, করাচীর ‘জামেয়ায়ে আরাবিয়া’র শায়খুল হাদীছ ও প্রধান পরিচালক।

বিভিন্ন বিষয়ে তাঁহার বহু মূল্যবান কিতাব রহিয়াছে। বর্তমানে তিনি তিরমিজী শরীফের এক শরাহ্ লিখিতেছেন। কোরআন-হাদীছ ও আরবী সাহিত্যে তাঁহার অগাধ জ্ঞান রহিয়াছে। তিনি আরবী মাতৃভাষার ন্যায় অনর্গল বলিতে পারেন।

মাওলানা ইদ্রীছ কান্দলবী

তিনি হাদীছ মাওলানা আনওয়ার শাহ্ কাশ্মীরী প্রমুখ দেওবন্দের ওস্তাদগণের নিকট শিক্ষা করেন। তিনি দীর্ঘ দিন যাবৎ দারুল উলুম দেওবন্দে হাদীছ-তফছীর প্রভৃতি বিষয়ের ওস্তাদ ছিলেন। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর তিনি পাকিস্তানে হিজরত করেন এবং ‘জামেয়ায়ে আশরাফিয়া’ নামে লাহোরে এক বিরাট মাদ্রাছা স্থাপন করেন। বর্তমানে তিনি উহার শায়খুল হাদীছ। বিভিন্ন বিষয়ে তাঁহার বহু কিতাব রহিয়াছে। হাদীছে তাঁহার কিতাবঃ

(ক) ‘আত্ তালিকুছ ছাবীহ’ মেশকাত শরীফের শরাহ। ৪ খণ্ডে প্রকাশিত। (খ) ‘মোকাদ্দমাতুল হাদীছ’। (ঘ) ‘তোহফাতুল-ক্কারী’(আরবী***************)। (ঙ) ‘জেলাউল আইনাইন’ –(আরবী*********)

মাওলানা আবদুল ওফা আফগানী

তিনি দক্ষিণ হায়দরাবাদে ‘এবারায়ে এহইয়ায়ে মাআরিফে নো’মানিয়া’-

(আরবী*************) নামক একটি প্রতিষ্ঠান কায়েম করিয়া উহা হইতে ইমাম আ’জম আবু হানীফা নো’মান ইবনে ছাবেত কুফরীর মাজহাব সম্পর্কীয় প্রাচীন গ্রন্থাবলীর সম্পাদনা ও প্রকাশের ব্যবস্থা করিয়াছেন। এ যাবৎ উহা হইতে নিম্নলিখিত কিতাবসমূহ সম্পাদিত ও প্রকাশিত হইয়াছে।

(ক) ‘আল আলেম ওয়াল মোতাআল্লেম’ (আরবী************) –ইমাম আ’জম। (খ) ‘কিতাবুল-আছার’ (আরবী***********) –ইমাম আবু ইউছুফ। (হাদীছ) (গ) ‘ইখতেলাফে আবি হানীফাতা ও ইবনে আবি লায়লা ‘(আরবী**********) (ঘ) ‘আররাদ্দু আলা ছিয়ারিল আওজায়ী’ (আরবী**********)। (ঙ) ‘আল জামেউল কবীর’ –ইমাম মোহাম্মদ (আরবী*********) (চ) ‘শরহুন্ নাফাকাত’ (আরবী**********) প্রভৃতি।

এতদ্ব্যতীত তিনি কিতাবুল আছার –ইমাম মোহাম্মদ এর একটি উত্তম শরাহ্ও করিয়াছেন। তিনি হায়দরাবাদ নেজামিয়া মাদ্রাছায় অধ্যাপনাও করিয়া থাকেন।

মাওলানা আবদুর রশীদ নো’মানী

তিনি করাচী নিউ টাউনের ‘জামেয়ায়ে আরাবিয়া’-এর অধ্যাপক ছিলেন। বর্তমানে তিনি নাকি করাচী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নিযুক্ত হইয়াছেন। ‘কিতাবুল আছার’, ‘মোছনাদে ইমাম আ’জম ও ইবনে মাজাহ্’ প্রভৃতির প্রথমে তাঁহার ভূমিকা হাদীছে তাঁহার গভীর জ্ঞানের পরিচায়ক। তাঁহার রচিত ‘ইমাম ইবনে আওর এলমে হাদীছ’ (আরবী**************) একটি তথ্যবহুল কিতাব।

মাওলানা ছৈয়দ আবদুল্লাহ হায়দরাবাদী

তিনি মেশকাত শরীফের অনুরূপ একটি হাদীছের কিতাব সংকলন করিয়াছেন। ইহাতে তিনি হানাফী মাজহাবের স্বপক্ষে বহু হাদীছের সন্নিবেশ করিয়াছেন এবং উহার নাম করিয়াছেন ‘মেছবাহুজ্ জুজাজাহ’ (আরবী*******)। ইহা পাঁচ খণ্ডে প্রকাশিত হইয়াছে।

-আনওয়ারুল বারী

মাওলানা মানজুর নো’মানী

মাওলানা মানজুর নো’মানী মোরাদাবাদ জিলার ছম্ভলের অধিবাসী। তিনি হাদীছ দারুল উলুম দেওবন্দে আল্লামা আনওয়ার শাহ্ কাশ্মীরী ও তথাকার অন্যান্য মোহাদ্দেছবৃন্দের নিকট শিক্ষা করেন। তিনি মোরাদাবাদ হইতে ‘আল ফুরকান’ (আরবী******) নামে একটি উচ্চাংঙ্গের এলমী মাসিকী প্রকাশ করেন। বর্তমানে তিনি ‘দারুল উলুম নুদওয়াতুল ওলামা’র*

টীকা-

* দারুর উলুম নুদওয়াতুল ওলানাঃ

দেওবন্দের দ্বীন ও আলীগড়ের দুনয়াকে একত্রিত করার উদ্দেশ্যে নুদওয়াতুল ওলামার প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা মোহাম্মদ আলী মুঙ্গেরী ও মুনসী মোহাম্মদ আতহার আলী লক্ষ্মৌবীর প্রচেষ্টায় নুদওয়াতুল ওলামার অধীনে ১৩১৬ হিঃ মোঃ ১৮৯৮ ইং ‘দারুর উলুম নুদওয়াতুল ওলামা’ প্রতিষ্ঠিত হয়। (নুদওয়াতুল ওলামা প্রতিষ্টি হয় ১৩১৩ হিঃ মোঃ ১৮৯৫ ইং।) প্রসিদ্ধ মোহাদ্দেছ মাওলানা হায়দর হাছান খাঁ দীর্ঘ দিন ইহার শায়খুল হাদীছ ছিলেন। নুদওয়ার বর্তমান প্রধান পরিচালক (নাজেম) ও মোহাদ্দেছ মাওলানা ছৈয়দ আবুল হাছান আল নদবী ১৯২৯ ও ৩০ সালে তাঁহার নিকট হাদীছ শিক্ষা করেন।

দারুর উলুম নুদওয়া বহু সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও ঐতিহাসিককে জন্ম দিতে সমর্থ হইয়াছে। মাওলানা মাছউদ আলম নদবী, মাওলানা আবদুছ ছালাম নদবী, মাওলানা মুঈনুদ্দীন নদবী, মাওলানা আবদুল বারী নদবী, মাওলানা আবদুল কাইয়্যুম নদবী, মাওলানা আবুল হাছান আল নদবী, মাওলানা ইমরান খাঁ নদবী, মাওলানা আবদুর রহমান কাশগড়ী নদবী, মাওলানা আবদুশশাকুর নদবী নুদওয়ারই ফল। শায়খুল হাদীছ।

মাওলানা ওবাইদুল্লাহ রহমানী

তিনি আ’জমগড়ের অধীন মোবারকপুরের আধিবাসী। তিনি রহমানিয়া মাদ্রাছায় মাওলানা আহমদুল্লাহ প্রতাবগড়ী প্রমুখের নিকট হাদীছ শিক্ষা করেন এবং প্রতাবগড়ীর পর তিনি উহার শায়খুল হাদীছ নিযুক্ত হন। তিনি ‘মেরকাতুল মাফাতীহ’ (আরবী**************) নামে মেশকাত শরীফের এক শরাহ করেন। ১৯৭০ সাল পর্যন্ত উহার দুই খণ্ড প্রকাশিত হইয়াছে বলিয়া জানা গিয়াছে। বর্তমানের আহলে হাদীছ ওলামাগণের মধ্যে তিনি একজন বিশিষ্ট ব্যক্তি।

মাওলানা ছৈয়দ আহমদ রাজা বিজনৌরী

তিনি ১৯০৭ ইং হিন্দুস্তানের বিজনৌর এক সম্ভ্রান্ত ছৈয়দ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। প্রাথমিক শিক্ষা তিনি বিজনৌরের ‘মাদ্রাছায়ে ফয়জে আম’ ও ‘মাদ্রাছায়ে আরাবিয়া কাদেরিয়া’য় লাভ করেন। হাদীছ তিনি দেওবন্দে মাওলানা আনওয়ার শাহ্ কাশ্মীরী ও মাওলানা ছৈয়দ হোছাইন আহমদ মদনীর নিকট শিক্ষা করেন। অতঃপর তিনি কর্ণালের তাবলীগ কলেজে ভর্তি হইয়া ইঙরেজী ভাষা ও তাবলীগ বিষয় শিক্ষালাভ করেন। তৎপর তিনি ডাবীলে যাইয়া মাওলানা কাশ্মীরীর নিকট পুনঃ বোখারী শরীফ অধ্যয়ন করেন।

তিনি ৫/৬ বৎসরকাল ডাবীল মাদ্রাছায় অধ্যাপনা করেন এবং কিছু দিন উহার নায়েবে মোহতামেম-এর পদেও সমাসীন ছিলেন। বর্তমানে তিনি দেওবন্দ দারুল উলুম মাদ্রাছার প্রচার ও প্রকাশনা বিভাগের প্রধান।

তিনি আল্লামা কাশ্মীরীর তাকরীর অবলম্বনে ‘আনওয়ারুল বারী’ নামে উর্দুতে বোখারী শরীফের এক শরাহ্ লেখিয়াছেন। ইহার ভূমিকায় (মোকাদ্দমায়) তিনি প্রায় পাঁচ শত মোহাদ্দেছের জীবনী সংগ্রহ করিয়া স্বতন্ত্র দুই খণ্ডে প্রকাশ করিয়াছেন।

দারুল উলুম ও মাজাহেরে উলুম

হিজরী ত্রয়োদশ শতাব্দীর ৮৩তম বৎসরটি (১২৮৩ হিঃ) এলমে হাদীছের পক্ষে একটি অতীক ভুশ বৎসর। এই বৎসরই শাহ্ ইছহাক দেহলবী ও মাওলানা মুজাদ্দেদীর কতিপয় শাগরিদ কর্তৃক সাহারনপুর সদরে ‘মাজাহেরে উলুম’ এবং উক্ত জিলাব দেওবন্দে বিখ্যাত ‘দারুল উলুম’ মাদ্রাছা প্রতিষ্ঠিত হয়। মাজাহেরে উলুমের প্রথম ভিত্তি স্থাপন করেন মাওলানা আহমদ আলী সাহারনপুরী (মৃঃ ১২৯৭ হিঃ) উহাকে স্থানাস্তরিত করেন বর্তমানে অবস্থিত মুফতী মহল্লায় এবং নামকরণ করেন ‘মাজাহেরে উলুম’।

‘দারুল উলুম’ স্থাপিত হয় মাওলানা মোহাম্মদ কাছেম নানুতবী, মাওলানা রশীদ আহমদ গঙ্গুহী, মাওলানা ফজলুর রহমান দেওবন্দী, মাওলানা জুলফিকার আলী দেওবন্দী ও ছৈয়দ আবেদন হোছাইন প্রমুখ সুধীবৃন্দের সমবেত প্রচেস্ঠায়। এই মাদ্রাছাদ্বয়ের প্রতিষ্ঠা এই উপমহাদেশে এলমে হাদীছের এক নবযুগের সূচনা করে। ইতিপূর্বে সাধারণতঃ কোন বিশিষ্ট আলেম ও ওস্তাদকে কেন্দ্র করিয়াই গড়িয়া উঠিত হাদীছ তথা এলম শিক্ষার কেন্দ্র তাঁহার বাসবভনে, খানকায় অথবা মসজিদে।

এই মাদ্রাছাদ্বয়ের প্রতিষ্ঠা দ্বারা একদিকে যেমন প্রবর্তিত হয় আলেমগণের সমবেতভাবে শিক্ষাদানের সুপ্রথা, অপর দিকে তেমন সুপ্রতিষ্ঠিত হয় শিক্ষার জন্য পৃথক শিক্ষাগার নির্মাণের স্থায়ী ব্যবস্থা। ইঁহাদের অনুকরণে আজ পাক-ভারতে এ ধরণের শত শত হাদীছ শিক্ষার কেন্দ্র গড়িয়া উঠিয়াছে।

দারুল উলুমের প্রথম পৃষ্ঠপোষক হন মাওলানা কাছেম নানুতবী। তাঁহার মৃত্যুর পর উহার পৃষ্ঠপোষকতার ভার গ্রহন করেন মাওলানা রশীদ আহমদ গঙ্গুহী। মাওলানা গঙ্গুহীর এন্তেকালের পর উহার পৃষ্ঠপোষক হন শায়খুল হিন্দ মাওলানা মাহমুদুল হাছান দেওবন্দী, অতঃপর উহার পৃষ্ঠপোষক হন মাওলানা আশরাফ আলী থানবী।

এভাবে দারুল উলুমের প্রথম প্রধান অধ্যাপক (ছদরুল মোদাররেছীন) ও শায়খুল হাদীছ (হাদীছ বিভাগের প্রধান) হন মাওলানা ইয়াকুব নানুতবী। অতঃপর সাত বৎসরকাল এই পদে সমাসীন থাকেন মাওলানা ছৈয়দ আহমদ দেহলবী। মাওলানা ছৈয়দ আহমদ দেহলবীর ভূপাল গমনের পর (১৩০৮-১৩৩১) উহার প্রধান অধ্যাপক ও শায়খুল হাদীছের পদ অলংকৃত করেন বিশ্ববিখ্যাত মোহাদ্দেছ শায়খুল হিন্দ মাওলানা মাহমুদুল হাছান দেওবন্দী (মৃঃ ১৩৩৯ হিঃ)। ১৩৩৩ হিঃ শায়খুল হিন্দের মক্কা শরীফ গমন এবং মাল্টায় বন্দী হওয়ার পর তাঁহার স্থলাভিষিক্ত হন তাঁহার স্বনামখ্যাত শাগরিদ মাওলানা ছৈয়দ আনওয়ার শাহ্ কাশ্মীরী (মৃঃ ১৩৫২ হিঃ)। ১৩৪৫ হিঃ মাওলানা কাশ্মীরী ডাবীল গমন করিলে উহার প্রধান অধ্যাপক ও শায়খুল হাদীছের পদে বরিত হন শায়খুল হিন্দের অন্যতম বিখ্যাত শাগরিদ মাওলানা ছৈয়দ হোছাইন আহমদ মদনী (মৃঃ ১৩৭৭ হিঃ)। বর্তমানে অর্থাৎ, ১৩৭৭ হিজরীর পর হইতে উহার প্রধান অধ্যাপকের পদে নিযুক্ত আছেন মাওলানা ইবরাহীম বৈলয়াবী এবং শায়খুল হাদীছের পদে অধিষ্ঠিত রহিয়াছেন মাওলানা ছৈয়দ ফখরুদ্দীন মোরাদাবাদী। ইঁহারা উভয়ই শায়খুল হিন্দের শাগরিদ।

হাদীছের তত্ত্ব ও ইতিহাস

মাজাহের উলুমের শায়খুল হাদীছের পদ অলংকৃত করেন যথাক্রমে মাওলানা আহমদ আলী সাহারনপুরী, মাওলানা মাজহার নানুতবী ও মাওলানা খলীল আহমদ সাহারনপুরী (মৃঃ ১৩৪৬ হিঃ) ও মাওলানা আবদুর রহমান কামেলপুরী। বর্তমানে উহার শায়খুল হাদীছ বিখ্যাত মোহাদ্দেছ মাওলানা জাকারিয়া কান্দলবী।

শাহ্ ওলীউল্লাহ দেহলবীর হাদীছ শিক্ষাধারার উত্তরাধিকারীরূপে এ মাদ্রাছাদ্বয়ের বিশেষ করিয়া ‘দারুল উলুম’-এর খেদমত অতি বিরাট। ‘দারুল উলুম’ এ যাবৎ (১৩৭৭ হিঃ) দেশ-বিদেশের প্রায় ৭ হাজার হাদীছ শিক্ষার্থীকে হাদীছে উচ্চজ্ঞান দান করিয়া বাহির করিতে সমর্থ হইয়াছে। শায়খুল হিন্দ মাওলানা মাহমুদুল হাছান দেওবন্দী, আল্লামা আনওয়ার শাহ্ কাশ্মীরী, মাওলানা হোছাইন আহমদ মদনী ও মানলানা শিব্বীর আহমদ ওছমানীর ন্যায় জগদ্বিখ্যাত মোহাদ্দেছগণকে ‘দারুল উলুম’ই জন্ম দিয়াছে।

টীকা-

* নিম্নলিখিত মোহাদ্দেছগণকেও

‘দারুল উলুম’ই জন্ম দিয়াছেঃ

(১) মাওলানা ফখরুল হাছান গঙ্গুহী (আবু দাউদ ও ইবনে মাজাহর হাশিয়া লেখক)। (২) মাওলানা আহমদ হাছান আমরুহী (মোরাদাবাদ শাহী মাদ্রাছা ও আরাবিয়া মাদ্রাছা প্রভৃতির মোহাদ্দেছ)। (৩) মাওলানা আবদুল আলী দেহলবী (আবদুর রব মাদ্রাছার মোহাদ্দেছ)। (৪) হাকীমুল উম্মত মাওলানা আশরাফ আলী থানবী। (৫) মাওলানা মুফতী কিফায়েতুল্লাহ দেহলবী। (৬) মুফতী আজীজুর রহমান ওছমানী দেওবন্দী (দারুল উলুমের প্রধান মুফতী ও মোহাদ্দেছ)। (৭) মাওলানা ছৈয়দ মোরতাজা হাছান চান্দপুরী (দারুল উলূমের মোহাদ্দেছ)। (৮) মাওলানা ইবরাহীম আরাবী, মোহাদ্দেছ। (৯) মাওলানা হাফেজ আবদুর রহমান আমরুহী, মোহাদ্দেছ। (১০) মাওলানা ইয়াহইয়া ছাহছারামী (কলিকাতা আলিয়া মাদ্রাছার মোহাদ্দেছ ও হেড মাওলানা)। (১১) মাওলানা ছৈয়দ আহমদ মদনী (মদীনা শরীফের মাদ্রাছায়ে শরীয়ার প্রতিষ্ঠাতা)। (১২) মাওলানা ছাঈদ আহমদ চাটগামী (হাটহাজারী ও চারিয়া মাদ্রাছার শায়খুল হাদীছ)। (১৩) মাওলানা ছানাউল্লা অমৃতসরী। (১৪) মাওলানা আবদুর রহমান কামেলপুরী (মাজাহেরে উলুমের শায়খুল হাদীছ)। (১৫) মাওলানা আবদুল আজীজ গুজরানওয়ালা (বোখারীর আতরাফ ‘নিবরাছুছ ছারী’-এর লেখক)। (১৬) ছৈয়দ আছগর হোছাইন দেওবন্দী (দেওবন্দের মোহাদ্দেছ)। (১৭) মাওলানা এ’জাজ আলী আমরুহী (দারুল উলুমের আদীব ও মাহাদ্দেছ)। (১৮) মাওলানা ফখরুদ্দীন মোরাদাবাদী (দারুল উলুমের বর্তমান শায়খুল হাদীছ)। (১৯) মাওলানা ইবরাহীম বৈলয়াবী (দারুল উলুমের বর্তমান প্রধান অধ্যাপক)। (২০) মাওলানা আবদুছ্ছামী (দারুল উলুমের মোহাদ্দেছ)। (২১) মাওলানা মুফতী ছহুল ছাহেব (পাটনা শামছুলহুদা মাদ্রাছার অধ্যক্ষ)। (২২) মাওলানা মুফতী মোহাম্মদ শফী দেওবন্দী (দারুল উলুমের প্রধান মুফতী ও মোহাদ্দেছ)। (২৩) মাওলানা বদরে আরম মিরাঠী (মুহাজির মদনী, তরজুমানুছ ছুন্নাহর লেখক)। (২৪) মাওলানা ইদ্রীছ কান্দলবী (দারুর উলুমের মোহাদ্দেছ ও মেশকাত শরীফের শরাহ লেখক)। (২৫) মাওলানা ছৈয়দ আবুল হাছান আলী নদবী (নুদওয়াতুল ওলামা লক্ষ্মৌ)। (২৬) মাওলানা জমীরুদ্দীন মরহুম চাটগামী (হাটহাজারী মাদ্রাছার পৃষ্ঠপোষক)। (২৭) মাওলানা হাবীবুল্লাহ মরহুম চাটগামী (হাটহাজারী মাদ্রাছার মোহতামেম) প্রমুখ। (বাঙ্গালী অপরাপর মোহাদ্দেছগণের নাম সম্মুখের অধ্যায়ে আসিবে।) ‘দারুল উলুম’ এ যুগে বিশ্বে হাদীছ শিক্ষার শ্রেষ্ঠ কেন্দ্র।

বঙ্গে এলমে হাদীছ

 

About মাওলানা নূর মোহাম্মদ আ’জমী (রঃ)