হাদীছের তত্ত্ব ও ইতিহাস

২২০। হাফেজ শাহজাহান ছাহেব

তিনি অনুমান ১৯০০ ইং ঢাকা জিলার টাউনে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁহার পিতার নাম আলহাজ্জ হাফেজ মাওলানা মোহাম্মদ আবদুল্লাহ। তিনি ঢাকায় প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করিয়া যথাক্রমে কানপুর ও সাহারনপুরে শিক্ষা লাভ করেন। ১৯৩১ ইং তিনি কলিকাতা আলিয়া মাদ্রাছা হইতে ‘মোমতাজুল মোহাদ্দেছীন’ ডিগ্রী লাভ করেন। অতঃপর তিনি ‘বুযুর্গানে চিশত’ সম্বন্ধে ২ বৎসরকাল রিসার্চ করেন। মাওলানা ইছহাক বর্ধমানী, মাওলানা ইয়াহইয়া ছাহছারামী ও মাওলানা বেলায়েত হোছাইন বীরভূমী প্রমুখ মোহাদ্দেছীন তাঁঞার হাদীছের ওস্তাদ।

তিনি প্রথমে কলিকাতা রমজানিয়া মাদ্রাছা ও পার্কসার্কাস হাই স্কুলে কিছুদিন শিক্ষকতা করেন, অতঃপর কলিকাতা আলিয়া মাদ্রাছায় হাদীছের অধ্যাপক নিযুক্ত হন। বর্তমানে ঢাকা আলিয়া মাদ্রাছায় ফেকাহর লেকচারার।

২২১। মাওলানা শহরুল্লাহ ছাহেব

তিনি ১৯১৭ ইং সিলেট জিলার থানাধীন ডাকনাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁহার পিতার নাম মরহুম আহমদ আলী। তিনি যথাক্রমে গাছবাড়ী ও সিলেট গভঃ আলিয়া মাদ্রাছা হইতে ফাজেল ও হাদীছে কামেল পাস করেন। মাওলানা মোহাম্মদ ছহুল ওছমানী ছাহেব প্রমুখ তাঁহার হাদীছের ওস্তাদ। পুনরায় তিনি মাওলানা মোশাহেদ ছাহেবের নিকট ‘বোখারী শরীফ’ অধ্যয়ন করেন। তিনি ১৯৫৫ ইং হইতে কানাইঘাট মনছুরিয়া মাদ্রাছায় হাদীছেল দরছ দিয়া আসিতেছেন।

২২২। মাওলানা শায়খ আহমদ ছাহেব

তিনি নোয়াখালী জিলার অধিবাসী। তিনি প্রথমে চৌমুহনী মাদ্রাছা হইতে ফাজেল পাস করিয়া দেওবন্দ গমন করেন এবং তথায় যথাক্রমে ফনুনাত ও হাদীছের উচ্চ শিক্ষা লাভ করেন। মাওলানা ছৈয়দ হোছাইন আহমদ মদনী প্রমুখ মোহাদ্দেছীন তাহার হাদীছের ওস্তাদ।

স্বদেশ ফিরিয়া তিনি নোয়াখালী জিলার উত্তর হাতিয়ার অন্তর্গত কলাকোপা মাদ্রাছায় হাদীছ প্রভৃতি এলম শিক্ষা দেন, অতঃপর হয়বতনগর আলিয়া মাদ্রাছায় দীর্ঘদিন অধ্যাপনা করেন। বর্তমানে তিনি পুনরায় কলাকোপা মাদ্রাছায় হাদীছ শিক্ষা দানে আত্মনিয়োগ করিয়াছেন।

(হ)

২২৩। মাওলানা হোছাইন আহমদ ছাহেব

তিনি ১৯১৫ ইং সিলেট জিলার অন্তর্গত কাজীপুর (পোঃ জালালপুর) গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁহার পিতার নাম মৌলবী মোহাম্মদ ছাঈদ। তিনি যথাক্রমে জালালিয়া ও ফুলবাড়ী মাদ্রাছায় প্রাথমিক শিক্ষা সমাপ্ত করিয়া ১৯২৯ ইং সিলেট গভঃ আলিয়া মাদ্রাছা হইতে সরকারী বৃত্তি সহকারে ফাজেল এবং ১৯৩১ ইং কলিকাতা আলিয়া মাদ্রাছা হএত কৃতিত্বের সহিত হাদীছে কামেল পাস করেন। মাওলানা ইয়াহইয়া, মাওলানা ওয়াছীউদ্দীন, মাওলানা মোশতাক আহমদ, মাওলানা বেলায়েত হোছাইন বীরভূমী ও মাওলানা মোহাম্মদ হোছাইন সিলেটী প্রমুখ মোহাদ্দেছীন তাঁহার হাদীছের ওস্তাদ।

তিনি প্রথমে সিলেটের এক কওমী মাদ্রাছায় ও শায়েস্তাগঞ্জ (জিবগঞ্জ) আলিয়া মাদ্রাছায় যথাক্রমে প্রধান শিক্ষক ও সুপারেন্টেণ্ডেন্ট ছিলেন। ১৯৪৫ ইং হইতে তিনি সিলেট গভঃ আলিয়া মাদ্রাছায় হাদীছ শিক্ষাদান কার্যে আত্মনিয়োগ করেন।

২২৪। মাওলানা হোছাইন আহমদ (বারকুটী)

তিনি ১৩৪৭ হিঃ সিলেট গোলাপগঞ্জ থানাধীন বারকুট গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁহার পিতার নাম মরহুম আবদুল গফুর। তিনি নিজ গ্রাম বারকুট আহমদিয়া মাদ্রাছা হইতে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপ্ত করিয়া রাণাপিং মাদ্রাছায় হাদীছ অধ্যয়ন করেন। মাওলানা রিয়াছত আলী ও মাওলানা তাহির প্রমুখ মোহাদ্দেছীন তাঁঞার হাদীছের ওস্তাদ।

শিক্ষা সমাপ্ত করার পর হইতে অদ্যাবধি তিনি রাণাপিং মাদ্রাসায় হাদীছ প্রভৃতি এলম শিক্ষা দিতেছেন।

২২৫। মাওলানা হোছাইন আহমদ ছাহেব

চট্টগ্রাম জিলার সাতকানিয়া থানার অন্তর্গত দক্ষিণ কেওরা গ্রামে তাঁহার জন্ম হয়, তিনি দেশীয় মাদ্রাছা হইতে জমাতে উলা পাস করিয়া দেওবন্দ দারুল উলুম গমন করেন। তথায় মাওলানা ছৈয়দ হোছাইন আহমদ মদনী প্রমুখ মোহাদ্দেছের নিকট তিনি হাদীছ অধ্যয়ন করেন।

স্বদেশ ফিরিয়া তিনি পটিয়া কাছেমুল উলুম মাদ্রাছায় হাদীছ প্রভৃতি এলম শিক্ষাদান কার্যে আত্মনিয়োগ করেন।

২২৬। হাফেজ ক্বারী মাওলানা ছৈয়দ হোছাইন আহমদ ছাহেব

তিনি ১৩২৯ বাং ময়মনসিংহ জিলার ঈশ্বরগঞ্জ থানাধীন কাছিমপুর গামে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁহার পিতার নাম ছৈয়দ গোলাম মাওলান ছাহেব। তিনি গ্রাম্য পাঠশালায় প্রাথমিক শিক্ষা সমাপ্ত করিয়া ত্রিশাল হাফেজিয়া মাদ্রাছা হইতে কোরআন পাক হেফজ করেন। অতঃপর তিনি যথাক্রমে বালিয়া ও ঢাকা আশরাফুল উলুম মাদ্রাছায় ফনুনাত ও হাদীছ অধ্যয়ন করেন। মাওলান শামছুল হক ফরিদপুরী প্রমুখ মোহাদ্দেছ তাঁহার হাদীছের ওস্তাদ।

শিক্ষা সমাপ্ত করার পর তিনি বিভিন্ন মাদ্রাছায় শিক্ষকতা করেন। ১৩৫৯ বাং ময়মনসিংহের অন্তর্গথ সোহাদী কওমী মাদ্রাছার পতিষ্ঠা করিয়া তথায় হাদীছেল দরছ দিতে থাকেন। বর্তমানে তিনি উক্ত মাদ্রাছার পরিচালক ও মোহাদ্দেছ।

২২৭। মাওলানা হাফেজ আহমদ ছাহেব

তিনি চট্টগ্রাম জিলার পাঁচলাইশ থানার অন্তর্গথ মোহরা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি জিরী মাদ্রাছা হএত প্রথমে হাদীছে দাওরা পাস করেন, অতঃপর যথাক্রমে দারুল উলুম দেওবন্দ ও ডাবিল হইতে হাদীছের পুনঃ ছনদ লাভ করেন। মাওলানা আনওয়ার শাহ কাশ্মীরী প্রমুখ মোহাদ্দেছ তাঁহার হাদীছেল ওস্তাদ।

স্বদেশ ফিরিয়া তিনি কয়েক বৎসর জিরী ও রাঙ্গুনিয়া মাদ্রাছায় শিক্ষকতা করেন। বর্তমানে তিনি পটিয়া কাছেমুল উলুম মাদ্রাছায় হাদীছ শিক্ষ দিতেছেন।

২২৮। মাওলানা হেদায়েত উল্লাহ ছাহেব

তিনি কুমিল্লা জিলার হাজিগঞ্জ থানাধীন রামচন্দ্রপুরে (বর্তমান নাম মুমিনপুর) জন্মগ্রহণ করেন। তাঁহার পিতার নাম মুনশী মোবারক উল্লাহ। তিনি ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়া ইউনুছিয়া মাদ্রাছায় প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন, অতঃপর দারুল উলুম দেওবন্দে ফনুনাত ও হাদীছের উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করেন। মাওলানা ছৈয়দ হোছাইন আহমদ মদনী, মাওলানা ছৈয়দ আছগর হোছাইন, মাওলানা ইব্রাহীম বৈলয়াবী, মাওলানা এ’জাজ আলী ও মুফতী মাওলানা শফী ছাহেব প্রমুখ মোহাদ্দেছীন তাঁহার হাদীছের ওস্তাদ।

তিনি প্রায় ১৮ বৎসর ঢাকা আশরাফুল উলুম মাদ্রাছায় বিভিন্ন এলম শিক্ষা দেন। ১৯৫১ ইং হইতে তিনি ঢাকা লালবাড় জামেয়া কোরআনিয়া শিক্ষা দিতে আছেন। বর্তমানে তিনি তথাকার শায়খুল হাদীছ। তিনি দারুল উলুম দেওবন্দ হইতে ফনুনাতের বিষয়সমূহ ও হাদীছ অধ্যয়ন করেন। প্রায় ১৭ বৎসর যাবৎ তিনি অধ্যাপনার কাজ করিয়া আসিতেছেন। বর্তমানে তিনি মুক্তাগাছা আলিয়া মাদ্রাছার মোহাদ্দেছ।

২৩০। মাওলানা হাবীবুল্লাহ (মূছাপুরী)

তিনি ১৯০৩ ইং ২৬শে অক্টোবর নোয়াখালী জিলার বামনী থানার অন্তর্গত মূছাপুর গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁহার পিতার নাম মুনশী ইমাদুল্লাহ। তিনি নোয়াখালী আহমদিয়া মাদ্রাছায় প্রাথমিক শিক্ষা সমাপ্ত করিয়া ১৯১৫ ইং কলিকাতা আলিয়া মাদ্রাছায় ভর্তি হন। তথা হইতে তিনি যথাক্রমে ১৯১৭ ইং ১৯১৯ ইং সরকারী বৃত্তি সহকারে ছুয়াম ও উলা পাস করেন এবং ১৯২২ ইং ‘ফখরুল মোহাদ্দেছীন’ পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করেন।

শিক্ষা সমাপ্ত করার পর তিনি কলিকাতা আলিয়া মাদ্রাছায় অস্থায়ী শিক্ষক নিযুক্ত হন এবং ১৯২৯ ইং উহাতে স্থায়ী হন। ১৯৩০ ইং তিনি মাওলানা মোশতাক আহমদ ছাহেবের স্থলে ফেকাহর অধ্যাপক নিযুক্ত হন। ১৯৫১ ইং ৮ই মার্চ তিনি অবসর গ্রহণ করেন এবং ঢাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস এখতেয়ার করেন। তিনি বিভিন্ন সময় হাদীছের বিভিন্ন কিতাব শিক্ষা দিয়াছেন। তিনি বিজ্ঞ আলেম ও ছূফী প্রকৃতির লোক। -[তিনি ২৭ মার্চ ১৯৬৫ ইং শুক্রবার ঢাকায় এন্তেকাল করেন এবং নোয়াখালী নিজ পারিবারিক কবরস্থানে সমাধিস্থ হন।]

২৩২। মাওলানা মোহাম্মদ হামেদ ছাহেব

মাওলানা হাফেজ মোহাম্মদ হামেদ ইবনে মাওলানা ইবনে মাওলানা ইফাজুদ্দীন চট্টগ্রাম জিলার হাটহাজারীতে ১৩৩৫ হিঃ জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৩৬৬ হিঃ দারুল উলুম দেওবন্দ হইতে হাদীছের ছনদ লাভ করেন।

স্বদেশ ফিরিয়া তিনি হাটহাজারী মাদ্রাছায় হাদীছ প্রভৃতি এলম শিক্ষা দান কার্যে আত্মনিয়োগ করেন।

২৩৩। মাওলানা মোহাম্মদ হারূন ছাহেব

তিনি চট্টগ্রাম জিলার ফটিকছড়ি থানাধীন শাহনগরে ১৯২৮ ইং জন্মগ্রহণ করেন। তাঁহার পিতার নাম ফারূক আহমদ ছাহেব। তিনি নাজিরহাট নাছিরুল উলুম মাদ্রাছায় কোরআন পাক হেফজ ও প্রাথমিক শিক্ষা সমাপ্ত করিয়া জিরী ও হাটহাজারী মাদ্রাছায় ফনুনাত ও হাদীছ শিক্ষা করেন। অতঃপর তিনি দেওবন্দ দারুল উলুম হইতে পুনরায় হাদীছের ছনদ লাভ করেন। মাওলানা ছৈয়দ হোছাইন আহমদ মদনী, মাওলানা ইব্রাহীম বৈলয়াবী ও মাওলানা এ’জাজ আলী প্রমুখ মোহাদ্দেছীন তাঁহার হাদীছের ওস্তাদ।

শিক্ষা সমাপনান্তে তিনি মালদহের দামাইলপুর মাদ্রাছায়ে মোহাম্মদিয়া শামছীতে হাদীছ শিক্ষা দেন। অতঃপর জিরী ইছলামিয়া মাদ্রাছায় ২ বৎসরকাল শিক্ষকতা করেন। ১৯৫৮ ইং ঢাকা লালবাগ জামেয়া কোরআনিয়ায় শিক্ষক নিযুক্ত হন। বর্তমানে তথায় হাদীছ প্রভৃতি এলম শিক্ষা দিতেছেন।

২৩৪। মাওলানা মোহাম্মদ হারূন ছাহেব

মাওলান মোহাম্মদ হারূন দেশ বিখ্যাত ‘শায়খুল হাদীছ’ মরহুম মাওলানা মোহাম্মদ ছাঈদ ছাহেবের পুত্র। তিনি হাটহাজারী মাদ্রাছায় প্রাথমিক শিক্ষা সমাপ্ত করিয়া দারুল উলুম দেওবন্দে ফনুনাত ও হাদীছ অধ্যয়ন করেন। তিনি চারিয়া মাদ্রাছায় প্রায় ৮ বৎসরকাল হাদীছ প্রভৃতি এলম শিক্ষা দিয়াছেন।

২৩৫। আলহাজ্জ মাওলানা মোহাম্মদ হরজুল্লাহ ছাহেব

তিনি ১৯০৩ ইং সিলেট জিলার সদর থানার তুড়খলা (পোঃ রঙ্গাদাঊদপুর) গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। স্থানীয় মাদ্রাছায় প্রাথমিক শিক্ষা সমাপ্ত করিয়া তিনি যথাক্রমে সিলেট ও কলিকাতা আলিয়া মাদ্রাছা হইতে ফাজেল ও মোমতাজুল মোহাদ্দেছীন ডিগ্রী লাভ করেন।

১৯৩২ ইং তিনি কলিকাতা আলিয়া মাদ্রাছার অধ্যাপক নিযুক্ত হন। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর তিনি ঢাকা আলিয়া মাদ্রাছয় অধ্যাপনা করেন, অতঃপর সিলেট আলিয়া মাদ্রাছায় সুপারেন্টেণ্ডেন্টরূপে বদলী হন। ১৯৫৮ ইং তিনি অবসর গ্রহণ করেন। তিনি একজন বিজ্ঞ আলেম ও বিখ্যাত উর্দু কবি, ‘শায়দা’ উপনাম। ‘মাখজানুল ফারাছাহ’ (আরবী****************************) নামে তাঁহার একখানা কিতাব রহিয়াছে।

২৩৬। মাওলানা মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন ছাহেব

মাওলানা মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন ইবনে মরহুম মুনশী আবুল ফজল ফরিদপুর জিলার ইছলামপুর (কোটালীপাড়া) গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি গওহরডাঙ্গা মাদ্রাছায় ফনুনাত, হাদীছ ও তফছীর ইত্যাদি শিক্ষা করিয়া ১৩৭১ হিঃ তথাকার শিক্ষা সমাপ্ত করেন। পুনরায় দেওবন্দ দারুল উলুমে যাইয়া মাওলানা ছৈয়দ হোছাইন আহমদ মদনী প্রমুখ মোহাদ্দেছের নিকট হাদীছ অধ্যয়ন করেন।

তিনি বিগত ১৩ বৎসর হাদীছ প্রভৃতি এলম শিক্ষা দিতেছেন। বর্তমানে তিনি গওহরডাঙ্গা খাদেমুল ইছলাম মাদ্রাছার মোহাদ্দেছ।

২৩৭। মাওলানা হাশমত উল্লাহ ছাহেব

তিনি কুমিল্লা জিলার লকসাম থানাধীন মদাফরগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁহার পিতার নাম মৌলবী ওমর আলী সাহেব। তিনি যথাক্রমে চট্টগ্রাম জিলার শিবগঞ্জ এহইয়াউল উলুম মাদ্রাছায় ও নাজিরহাট নাছিরুল উলুম মাদ্রাছায় প্রাথমিক শিক্ষা সমাপ্ত করিয়া সাহারানপুর মাজাহেরে উলুমে ফনুনাত ও হাদীছ এবং ১ বৎসর দেওবন্দ দারুল উলুমে ফনুনাত অধ্যয়ন করেন। তৎপর তিনি ২ বৎসরকাল টাণ্ডুল্লাইয়ার ইছলামিয়া মাদ্রাছায় ফনুনাত ও হাদীছ শিক্ষা করেন। মাওলানা ইউছুফ বিন্নৌরী, মাওলানা আবদুর রহমান কামেলপুরী ও মাওলানা মুফতী এশফাকুর রহমান কান্দলবী প্রমুখ তাঁহার হাদীছের ওস্তাদ।

শিক্ষা সমাপ্ত করার পর তিনি হায়দরাবাদ দারুল উলুম রহমানিয়ায় ৪ বৎসরকাল হাদীছ প্রভৃতি এলম শিক্ষা দেন। বর্তমানে তিনি লালবাগ জামেয়া কোরআনিয়ায় হাদীছ শিক্ষা দিতেছেন।

২৩৮। মাওলানা মোহাম্মদ ইউছুফ ছাহেব

মাওলানা খায়রুল বাশার মোহাম্মদ ইউছুফ ইবনে মুনশী জাহেদ আলী ১৯৪১ ইং ময়মনসিংহের সদর মহকুমায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৫৭ ইং ফুলবাড়িয়া ছিনিয়র মাদ্রাছা হইতে ফাজেল পাস করিয়া কিশোরগঞ্জ জামেয়া এমদাদিয়ায় হাদীছ অধ্যয়ন করেন, অতঃপর ১৯৫৯ ইং ঢাকা আলিয়া মাদ্রাছা হইতে কামেল ফেকাহ পাস করেন। তৎপর ফুলবাড়িয়া মাদ্রাছায় কিছুদিন শিক্ষকতা করার পর পুনরায় তিনি কিশোরগঞ্জ জামেয়া এমদাদিয়ায় ভর্তি হইয়া তথা হইতে দাওরায়ে তফছীর পাস করেন। মাওলানা মোহাম্মদ আলী প্রমুখ মোহাদ্দেছ তাঁহার হাদীছের ওস্তাদ। বর্তমানে তিনি হয়বতনগর আলিয়া মাদ্রাছার ২য় মোহাদ্দেছ।

২৩৯। মাওলানা মোহাম্মদ ইউছুফ ছাহেব

তিনি কুমিল্লা জিলার গামারুয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন, পিতার নাম বকশ আলী মিয়াঁজী। তিনি যথাক্রমে বরুড়া দারুল উলুম মাদ্রাছায় মাওলানা ছৈয়দ খাঁ চাঁদপুরী ও দেওবন্দে মাওলানা ছৈয়দ হোছাইন আহমদ মদনী প্রমুখ মোহাদ্দেছীনের নিকট হাদীছ অধ্যয়ন করেন। বর্তমানে তিনি বরুড়া দারুল উলুম মাদ্রাছায় হাদীছ প্রভৃতি এলম শিক্ষা দিতেছেন।

২৪০। মাওলানা মোহাম্মদ ইয়াকুব ছাহেব

মাওলানা আবু ইউছুফ মোহাম্মদ ইয়াকুব ইবনে মৌলবী জান মোহাম্মদ ১২৯৩ বাং সিলেট জিলার কানাইঘাট থানাধীন ছত্রপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৩১৩ বাং তিনি হিন্দুস্তান গমন করেন এবং যথাক্রমে রামপুর ও দেওবন্দে শিক্ষা লাভ করেন। অতঃপর তিনি ১৩১৭ বাং দিল্লী গমন করেন এবং তথাকার আবদুর রব মাদ্রাছা হইতে হাদীছ অধ্যয়ন করিয়া ১৩১৯ বাং স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করেন।

১৯১৯ ইং তিনি সিলেট গাছবাড়ী মাদ্রাছায় সুপারেন্টেণ্ডেন্ট নিযুক্ত হন। তাঁহার চেষ্টায় উক্ত মাদ্রাছা আলিয়ায় উন্নীত হয়। বর্তমানে তিনি উহার প্রিন্সিপাল।

২৪১। মাওলানা মোহাম্মদ ইউনুছ ছাহেব

তিনি চট্টগ্রাম জিলার অন্তর্গত ফটিকছড়ি থানাধীন আজীমপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁহার পিতার নাম মরহুম আবদুল হামীদ। তিনি দেওবন্দ দারুল উলুমে ফনুনাত ও হাধীছ অধ্যয়ন করেন। মাওলানা ছৈয়দ হোছাইন আহমদ মদনী প্রমুখ তাঁহার হাদীছেল ওস্তাদ।

বর্তমানে তিনি চরচাক্তাহই মাজাহেরে উলুমে হাদীছ প্রভৃতি এলম শিক্ষা দিতেছেন। তিনি পটিয়ার মাওলানা মুফতী আজীজুল হক ছাহেবের খলীফা ও একজন বুজুর্গ আলেম।

২৪২। মাওলানা মোহাম্মদ ইউনুছ ছাহেব

তিনি চট্টগ্রাম জিলার হাটহাজারীর নিকট আলীপুর গ্রামে ১৩৪৮ হিঃ এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম্রগ্রহণ করেন, পিতার নাম মুনশী বেলায়েত আলী চৌধুরী। তিনি প্রাথমিক শিক্ষা হইতে শেশকাত-জালালাইন পর্যন্ত হাটহাজারী মাদ্রাছায় এবং হাদীছ ও তফছীর দেওবন্দ দারুল উলুমে অধ্যয়ন করেন। শায়খুল ইছলাম মাওলানা মদনী প্রমুখ তাঁহার হাদীছের ওস্তাদ।

১৩৭০ হিঃ শিক্ষা সমাপ্ত করিয়া তিনি বাবুনগর আজীজুল উলুম মাদ্রাছায় শিক্ষঅদান কার্যে আত্মনিয়োগ করেন। বর্তমানে তিনি তথায় বোখারী শরীফ (দ্বিতীয় খণ্ড) এবং তিরমিজী শরীফ (প্রথম খণ্ড) শিক্ষা দিতেছেন। তিনি হজরত মাওলানা মদনীর মুরীদ ও সরল প্রকৃতির বুজুর্গ আলেম।

২৪৩। মাওলানা মোহাম্মদ ইয়াহইয়া ছাহেব

তিনি ১৯১৩ ইং কুমিল্লা জিলার চৌদ্দগ্রাম থানাধীন প্রতাপপুর (পোঃ মিয়ার বাজার) গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি প্রথমে হাটহাজারী মাদ্রাছায় শিক্ষা লাভ করেন, অতঃপর যথাক্রমে চট্টগ্রাম দারুল উলুম ও শর্ষিণা আলিয়া মাদ্রাছা হইতে ফাজেল ও কামেল (হাদীছ) পাস করেন।

তিনি প্রথমে বটগ্রাম ছিনিয়র মাদ্রাছায় ১৪ বৎসরকাল শিক্ষকতা করেন, অতঃপর যথাক্রমে নোয়াখালী কারামতিয়া আলিয়া মাদ্রাছায় ও শর্ষিণা আলিয়া মাদ্রাছায় হাদীছের দরছ দেন। বর্তমানে তিনি সোনাকান্দা মাদ্রাছায় আলিয়া মাদ্রাছার প্রধান মোহাদ্দেছ।

পরিশিষ্ট

মাদ্রাছা পরিচিতি

পূর্ব পাকিস্তান বর্তমানে (১৯৬৪ ইং) ফোরকানিয়া মাদ্রাছা ব্যতীত মোট ১৫৪০টি দ্বীনী মাদ্রাছা রহিয়াছে। ইহার মধ্যে এক প্রকার মাদ্রাছা সরকার কর্তৃক নিয়োজিত ‘পূর্ব পাকিস্তান মাদ্রাছা শিক্ষা বোর্ড’ কর্তৃক নির্ধারিত পাঠ্য তালিকা ও পরীক্ষার অনুসরণ করিয়া থাকে। এইগুলিকে সাধারণতঃ সরকারী মাদ্রাছা বলা হইয়া থাকে। (যদিও খাছ সরকারী মাদ্রাছা মাত্র দুইটি; ঢাকা আলিয়া ও সিলেট আলিয়া) এই সকল মাদ্রাছা সরকারী নিয়ম মানিয়া চলার শর্তে সরকার হইতে অল্প-বিস্তর আর্থিক সাহায্য লাভ করিয়া থাকে। এই শ্রেণীর মঞ্জুরীপ্রাপ্ত মাদ্রাছার সংখ্যা মোট ১০৯৩টি -২৪টি কামেল, ১৯০টি ফাজেল, ২৯৯টি আলেম এবং ৫৮০টি দাখেল মানের মাদ্রাছা। ইহাদের মোট ছাত্র সংখ্যা ১৪৩৬২৩, শিক্ষক সংখ্যা ৯৭৮০ এবং মালিকানা ভূসম্পত্তির পরিমান ১৬৯৪ একর। এ সকল মাদ্রাছায় সাধারণতঃ ছাত্রদের নিকট হইতে বেতন গ্রহণ করা হইয়া থাকে। কোন কোন মাদ্রাছায় সাধারণতঃ ছাত্রদের নিকট হইতে বেতন গ্রহণ করা হইয়া থাকে। কোন কোন মাদ্রাছায় ফ্রি বাসস্থানের ব্যবস্থা থাকিলেও খোরাকী ছাত্রদের নিজেদের জিম্মায়।

অপর শ্রেণীর মাদ্রাছা মোটামুটিভাবে দেওবন্দের দারুল উলুম মাদ্রাছার পাঠ্য তালিকারই অনুসরণ করিয়া থাকে। ইহাতে মাতৃভাষা প্রভৃতি জাগতিক বিষয় শিক্ষার ব্যবস্থা পূর্বে ছিল না। আজকাল মাতৃভাষা ও অঙ্ক প্রভৃতি শিক্ষার ব্যবস্থা প্রায় মাদ্রাছাতেই করা হইয়াছে। এইগুলিকে কওমী মাদ্রাছা বলা হইয়া থাকে। কওমী মাদ্রাছার সংখ্যা ৪৪৩টি, ছাত্র সংখ্যা ৫৬৫৭৭, শিক্ষক সংখ্যা ২৬০৮ এবং মালিকানা ভূসম্পত্তির পরিমান ৯৬২ একর –[সংখ্যাসমূঞ হালে (১৯৬৪ইং) গঠিত ‘ইছলামী আরবী বিশ্ববিদ্যালয় কমিশন’ কর্তৃক সংগৃহীত তথ্য হইতে গ্রহণ করা হইয়াছে।]। ২৭টি কওমী মাদ্রাছায় দাওরায়ে হাদীছ পর্যন্ত শিক্ষা দেওয়া হইয়া থাকে।

কওমী মাদ্রাছার ছাত্রদের নিকট হইতে বেনত গ্রহণ করা হয় না; বরং প্রায় সমস্ত ছাত্রদিগকেই মাদ্রাছার পক্ষ হইতে ফ্রি বাসস্থান, খোরাকী এবং শিক্ষাকালের জন্য ধারে কিতাব দেওয়ার ব্যবস্থা রহিয়াছে। বৃটিশ আমলের পূর্বে আমাদের সর্বপ্রকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই খোরাক ও পোশাকসহ ছাত্রদের যাবতীয় ব্যয়ই সরকার ও দেশের বিত্তশালী ব্যক্তিবর্গের পক্ষ হইতে বহন করা হইত।

মাদ্রাছা কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন জানাইয়া যে মাদ্রাছা সম্পর্কে যে পরিচয় পাইয়াছি নিম্নে তাহা দেওয়া গেল-

১। দারুল উলুম মুঈনুল ইছলাম (কওমী) মাদ্রাছা

[পোঃ হাটহাজারী, চট্টগ্রাম]

[হাদীছ শিক্ষা আরম্ভ -১৯০৮]

ইহা মওলানা আবদুল ওয়াহেদ ছাহেব, মাওলানা আবদুল হামীদ ছাহেব ও মাওলানা হাবীবুল্লাহ ছাহেব প্রমুখ মনীষীবৃন্দের সমবেত প্রচেষ্টায় ১৯০১ ইং প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ১৯০৮ ইং ইহাতে দাওরায়ে হাদীছ খোলা হয়। ইহাই বাংলার প্রথম মাদ্রাছা যাহাতে হাদীছের ‘ছেহাহ ছেত্তা’ শিক্ষাদানের ব্যবস্থা করা হয়। এখনও ইহা বাংলার হাদীছ শিক্ষার প্রধান কেন্দ্র। ইহার তত্ত্বাবধানে একটি ‘হেফজখানা’, ‘রচনা বিভাগ’ (দারুত তাছনীফ) ও ‘ফতওয়া বিভাগ’ রহিয়াছে। ইহাতে এলম শিক্ষা দানের সহিত শিক্ষার্থীদের চরিত্র গঠতের প্রতিও লক্ষ্য রাখা হইয়া থাকে। এ উদ্দেশ্যে মুফতী ফয়জুল্লাহ ছাহেব সপ্তাহে (সম্ভবতঃ বুধবারে) ছাত্র-শিক্ষকদেরকে মর্মস্পর্শী ভাষায় নছীহত করিয়া থাকেন।

২। কলিকাতা ও ঢাকা গভঃ আলিয়া মাদ্রাছা

[হাদীছ -১৯০৯ ইং]

ইহা ১৭৮১ ইং তৎকালের ভারতের বড়লাট লর্ড ওয়ারেন হেষ্টিংস কর্তৃক প্রথমে কলিকাতার বৌ বাজারে স্থাপিত হয়। ১৮২৪ ইং ইহা কলিকাতার মুসলিম এলাকা ‘ওয়ালেসলী স্কয়ারে’ স্থানান্তরিত হয়। ১৯৪৭ ইং পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার সময় প্রিন্সিপাল জিয়াউল হক ও তাঁহার সহকর্মীদের প্রচেষ্টায় ইহার বিরাট লাইব্রেরীসহ ইহা ঢাকার অপসারিত হয়। ১৯৫৯ ইং পর্যন্ত ইহা সদরঘাটের নিকট ঢাকা মুসলিম গভঃ হাই স্কুলের ‘ডাফরিন’ নামক ছাত্রাবাসে অস্থায়ীভাবে অবস্থান করে এবং ১৯৬০ইং বকসী বাজারে উহার নিজস্ব ভবনে স্থানান্তরিত হয়।

১৭৯০ ইং পর্যন্ত উহার পাঠ্য তালিকা সাধারণতঃ দরছে নেজামিয়া অনুসারেই থাকে, যাহাতে হাদীছেল মেশকাত শরীফ ও তফছীরের জালালাইন ও বায়জাবী শরীফ শিক্ষা দানের ব্যবস্থা ছিল।

অতঃপর ইহার পাঠ্য তালিকা হইতে হাদীছ ও তফছীরকে বাদ দেওয়া হয় এবং ১৯০৮ ইং পর্যন্ত ১১৮ বৎসরকাল এই অবস্থা বিদ্যমান থাকে। ১৯০৮ ইং আর্ল কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী দশম শ্রেণীর উচ্চ পর্যায়ের উপর ‘টাইটেল’ পর্যায়ে নামে তিন বৎসরের একটি পর্যায় বাড়াইয়া দেওয়া হয় এবং উহাতে হাদীছের ‘ছেহাহ ছেত্তা’ এবং তফছীর প্রভৃতি এলমের উচ্চ পর্যায়ের কিতাবসমূহ শিক্ষা দানের ব্যবস্থা করা হয়। ১৯২৮ ইং সালে ‘শামছুল হুদা কমিটি’র সুপারিশক্রমে ইহার পরিবর্তন সাধন করা হয় এবং টাইটেলে হাদীছ, তফছীর ও ফেকাহ প্রভৃতি এলমের জন্য পৃথক পৃথক বিভাগ খোলা হয়। পূর্বে এই পর্যায়ের শিক্ষাকাল ছিল তিন বৎসর। এই উত্তীর্ণ ব্যক্তির উপাধি ছিল ‘ফখরুল মোহাদ্দেছীন’, আর এখন ইহার শিক্ষাকাল করা হয় দুই বৎসর এবং উত্তীর্ণ ব্যত্তির উপাধি নির্ধারিত হয় ‘মোমতাজুল মোহাদ্দেছীন’।

প্রথম স্থাপনকালে ইহার উদ্দেশ্য ছিল তৎকালের বৃটিশ ভারতে শাসনকার্য পরিচালনের জন্য একদল উপযুক্ত আমলা তৈরী করা। ১৮৩৫ ইং হইতে ইংরেজীকে শিক্ষার মাধ্যম, অতঃপর আদালতের ভাষা করার পর ইহা উদ্দেশ্যহীনভাবে কেবল একটি ঐতিহাসিক প্রতিষ্ঠান হিসাবেই চালু থাকে। ১৯০৮ ইং হইতেই প্রকৃত ইসলামী শিক্ষার দিকে ইহার মোড় পরিবর্তিত হয়।

১৯৪৬ ইং পর্যন্ত মাদ্রাছা-ই-আলিয়া ও ইহার অনুসারী মাদ্রাছাসমূহে জাগতিক এমনকি, মাতৃভাষা বাংলা শিক্ষারও ব্যবস্থা ছিল না। মোআজ্জমুদ্দীন কমিটির সুপারিশ অনুসারে ১৯৪৬ ইং হইতে ইহাতে বাংলাভাষা ও আবশ্যক জাগতিক বিষয়সমূহকে বাধ্যতামূলক করা হয়।

প্রতিষ্ঠার তারিখ হইতে ১৮৪৯ ইং পর্যন্ত প্রধান আরবী শিক্ষকের তত্ত্বাবধানেই মাদ্রাছার শিক্ষা কার্য পরিচালিত হইত। ১৮৫০ ইং সালে ইহার জন্য প্রিন্সিপাল নিযুক্ত করা হয়। ২৬ জন ইংরেজ প্রিন্সিপালের পর যথাক্রমে ১৯২৭ইং মিঃ কামালুদ্দীন, ১৯২৮ ইং শামছুল উলামা মাওলানা হেদায়েত হোছাইন, ১৯৩৪ ইং খান বাহাদুর মূছা, ১৯৩৭ ইং খান বাহাদুর ইউছুফ, ১৯৩৮ ইং পূনরায় মূছা, ১৯৫৫ ইং মৌলবী মকবুল আহমদ এবং ১৯৫৭ ইং মাওলানা আবদুল হাফীজ ছাহেবকে মুসলমান প্রিন্সিপালরূপে নিযুক্ত কর হয়।

মাদ্রাছার প্রথম ছদরুল মোদাররেছ (হেড মৌলবী) নিযুক্ত হন মাওলানা মাজদুদ্দীন ওরফে মোল্লা মদনী, অতঃপর যথাক্রমে হেড মীলবীর পদ অলঙ্কৃত করেন মাওলানা ইস্রাঈল ১৭৯১-১৮০৮ ইং, মাওলাান আবদুর রহীম ছফীপুরী ১৮০৮-২৮ ইং, মাওলানা গিয়াছুদ্দীন ১৮২৮-৩৭ ইং, মাওলানা ওজীহ, ১৮৩৭-৫৬,মাওলানা আবদুল হক খায়রাবাদী ১৮৫৬-৫৭ ইং, মাওলানা আহমদ ১৮৯১-১৯১২ ইং, মাওলানা আবদুল হক হক্কানী ১৯১২-১৫ ইং, মাওলানা নাজের হাছান ১৯১৫-১৭ ইং, মাওলানা আবদুল্লাহ টংকী ১৯১৭-২০ ইং, মাওলানা মাজেদ আলী ১৯২০-২৭ ইং, ‘মোল্লা ছাহেব’ মাওলানা ছফীউল্লাহ ১৯২৭-২৯ ইং, মাওলানা ইয়াহইয়া ১৯২৯-৪২ ইং, মাওলানা বেলায়েত হোছাইন ১৯৪২-৪৭ ইং, মাওলানা শফী হুজ্জাতুল্লাহ ১৯৪৭-৪৮ ইং, মাওলান জফর আহমদ ওছমানী ১৯৪৮-৫৪ ইং, অতঃপর মুফতী আমীমুল এহছান ছাহেব ইহার হেড মৌলবী নিযুক্ত হন।

৩। ইছলামিয়া আরাবিয়া (কওমী) মাদ্রাছা

[পোঃ জিরী, চট্টগ্রাম]

[হাদীছ -১৯২০ ইং]

উক্ত মাদ্রাছা ১৩২৯ হিঃ মোঃ ১৯১১ ইং ‘মোবাল্লেগে ইছলাম’ মাওলানা আহমদ হোছাইন ছাহেব কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ১৯২০ ইং উহাতে হাদীছের দরছ আরম্ভ হয়। ইহা একটি প্রসিদ্ধ মাদ্রাছা । হাটহাজারীর পর প্রথম ইহাতেই হাদীছ শিক্ষার ব্যবস্থা করা হইয়াছে। ইহার ছাত্র-মোদাররেছগণ চরিত্রবলে খুর উন্নত। মাদ্রাছাটি পাকা দ্বিতল বিশিষ্ট এবং বিরাট এলাকা জুড়িয়া অবস্থিত।

৪। ইছলামিয়া (কওমী) মাদ্রাছা, ঢাকা

[হাদীছ -১৯২৫ ইং]

ইহা ১৩২৭ বাং ১৩৩৯ হিঃ ঢাকার নওয়াবদের তত্ত্বাবধানে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। দীর্ঘদিন ইহা ওয়াব বাড়ীর গেটের দোতলায় চলিতে থাকে, অতঃপর আমপট্টির পিছনে শাহজাদা লেনে স্থানান্তরিত হয়। মরহুম খাজা মৌলবী আবদুর রশীদ ছাহেবের অনুরোধ আপন পীর হাকীমুল উম্মত হজরত আশরাফ আলী থানবী (রঃ)-এর ইশারায় মাওলানা ইছহাক বর্ধমানী ১৯২৫ ইং সালে উহাতে হাদীছের দরছ দিতে আরম্ভ করেন। অবশ্য মধ্য সময় উহাতে কিছুদিন হাদীছের শিক্ষা দান বন্ধ ছিল, পুনরায় উহা নিয়মিতভাবে চালু হ।

৫। ইছলামিয়া আলিয়া মাদ্রাছা, নোয়াখালী

[হাদীছ -১৯২৫ ইং]

ইহা প্রথমে কওমী মাদ্রাছা হিসাবে ১৩২০ বাং মোঃ ১৯১৩ ইং স্থাপিত হয় এবং ১৯২৫ইং যথারীতি ইহাতে হাদীছের শিক্ষাদান আরম্ভ হয়। ১৯৩৯ ইং উহা ইছলামিয়া আলিয়ায় নামান্তরিত হয় এবং সরকারী মাদ্রাছা বোর্ডের পাঠ্য তালিকা অনুসরণ আরম্ভ করে। মাওলানা আবদুছ ছুবহান (বাড়ীর মৌলবী ছাহেব) উহার প্রতিষ্ঠাতা।

৬। আশরাফুল উলুম (কওমী) মাদ্রাছা

[বড় কাটরা, ঢাকা]

[হাদীছ -১৯৩৬ ইং]

ইহা পুরান ঢাকার চক বাজারের দক্ষিণে এবং বুড়িগঙ্গা নদীর উত্তর তীরে অবস্থিত। পীরজী মাওলানা আবদুল ওহহাব, মাওলানা শামছুল হক ফরিদপুরী, মাওলানা হাফেজ মোহাম্মদ উল্লাহ ও মুফতী মোহাম্মদ আলী ছাহেবের সমবেত চেষ্টায় ১৯৩৬ ইং ইহা প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ঐ সালেই হাদীছ শিক্ষা আরম্ভ হয়। জিঞ্জিরার প্রসিদ্ধ চামড়ার ব্যবসায়ী মরহুম খান বাহাদুর হাফেজ  মোহাম্মদ হোছাইন ছাহেব ইহার জন্য শাহী আমলে নির্মিত বড় কাটরা বিল্ডিংটি দান করেন। কাটরা বিল্ডিং সংলগ্ন ইহার ৪ বিঘা খরিদা ও বনানীতে ১৪ বিঘা ওয়াকফ সম্পত্তি রহিয়াছে। ইহাতে সাধারণ মাদ্রাছা ছাড়া কোরআন পাক হেফজ ও কেরাআন শিক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থাও রহিয়াছে। ইহার লাইব্রেরীতে বহু হাজার টাকার বহু মূল্যবান কিতাব রহিয়াছে। ইহা পূর্ব পাকিস্তানের একটি প্রসিদ্ধ মাদ্রাছা। প্রতিষ্ঠা হইতে ১৯৫০ইং পর্যন্ত মাওলানা শামছুল হক ফরিদপুরী ইহার পরিচালক ছিলেন। বর্তমানে পীরজী ইহার পরিচালক।

৭। সিলেট গভঃ আলিয়া মাদ্রাছা, সিলেট

[হাদীছ -১৯৩৭ ইং]

মাদ্রাছাটি হজরত জালাল ইয়ামানীর মাজারের সন্নিকটে চৌহাট্টা নামক স্থানে অবস্থিত। ইহা ১৯১৩ ইং তৎকালীর আসামের শিক্ষামন্ত্রী, বিখ্যাত সমাজসেবী জনাব আবদুল মজীদ (কাপ্তান মিঞা)। সি, আই, ই ছাহেবের প্রচেষ্টায় স্থাপিত হয়। ১৯৩৭ ইং সালে তখনকার শিক্ষাউজীর শামছুল ওলামা মাওলানা অহীদ ছাহেবের উদ্যোগে এই মাদ্রাছায় হাধীছ শিক্ষার জন্য টাইটেল ক্লাস খোলা হয় এবং মাওলানা ছহুল ওছমানীকে প্রথম মোহাদ্দেছ নিযুক্ত করা হয়।

৮। দারুছ ছুন্নত আলিয়া মাদ্রাছা

[শর্ষিণা, বরিশাল]

[হাদীছ -১৯৪৩ ইং]

পূর্ব পাকিস্তানের অন্যতম ওলীঅল্লাহ মরহুম মাওলানা নেছারুদ্দীন আহমদ ছাহেব –[আলহাজ্জ মাওলানা নেছারুদ্দীন ছাহেবঃ তিনি ১২৭৯ বাংলা বাকেরগঞ্জ জিলার স্বরূপকাঠি থানাধীন শর্ষিণা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁহার পিতার নাম মরহুম মুনশী ছদরুদ্দীন ছাহেব। তিনি নিজ গ্রামে শৈশবকালীন শিক্ষা সমাপ্ত করিয়া মাদারীপুরের এক মাদ্রাছায় দ্বীনি প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন, অতঃপর ঢাকা হাম্মাদিয়া ও কলিকাতা আলিয়া মাদ্রাছায় কিছুদিন শিক্ষা গ্রহণের পর হুগলী মোহছিনিয়া হইতে জমাতে উলা পাস করেন। শিক্ষা শেষ করিয়া তিনি হাদীছ, তফছীর ও ফেকাহর কিতাবাদি পড়িতে থাকেন এবং ফুরফুরার পীর মরহুম আবু বকর ছাহেবের নিকট ‘বয়ত’ করেন। স্বীয় মোরশেদের আদেশে তিনি হেদায়েত ও তাবলীগের কাজে আত্মনিয়োগ করেন এবং জনসাধারণের মধ্যে আল্লাহর দ্বীন প্রচার করিতে থাকে। ১৩০৮ বাং তিনি সপরিবারে মক্কা শরীফ গমন করেন এবং তিন বৎসরকাল তথায় অবস্থান করেন। অতঃপর আপন মাতার আদেশে তিনি স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করেন এবং পূর্ববৎ তাবলীগের কাজে ব্যাপৃত হন।

দ্বীনি এলম শিক্ষা দানের উদ্দেশ্যে তিনি নিজ দারুছ ছুন্নত আলিয়া মাদ্রাছা নামে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও তৎসংলগ্ন একটি লিল্লাহ বর্ডিং কায়েম করেন। বর্তমানে তথায় পাঁচ শতাধিক ছাত্র ফ্রি খোরাক পাইয়া শিক্ষা গ্রহণ করিতেছেন।

তিনি একজন কামেল পীর ছিলেন। পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিমবঙ্গে তাঁহার অসংখ্য মুরীদ রহিয়াছে। ১৩৫৮ বাং ১৭ই মাঘ তিনি ইহলীলা ত্যাগ করেন।

বাংলা ও উর্দু ভাষায় তাঁহার শতাধিক কিতাব রহিয়াছে। তন্মদ্যে উর্দু ভাষায় ‘আল কাওলুছ ছাদীদ’ (আরবী********) ‘আলমাছায়েলুছ ছালাছ’ (আরবী**************) ও ‘আলহাকীকাতুল মা’রেফাহ’ (আরবী**************) এবং বাংলাভাষায় তারীখুল ইছলাম (১২ খণ্ড), ফতওয়ায়ে ছিদ্দীকিয়া (৫ খণ্ড) এবং ‘মাজহাব ও তাকলীদ’ বিশেষ উল্লেখযোগ্য।] ১৯১৫ ইং উক্ত মাদ্রাছা স্থাপন করেন। তাঁহার অক্লান্ত চেষ্টা ও সাধনার ফলে ১৯৪৩ ইং উহা আলিয়া মাদ্রাছায় উন্নীত হয় এবং তথায় হাদীছের ‘ছেহাহ ছেত্তা’-এর তা’লীম আরম্ভ হয়। ইহাই একমাত্র অবিভক্ত বাংলার দ্বিতীয় টাইটেল মাদ্রাছা। ইহার লাইব্রেরীতে লক্ষাধিক টাকার কিতাব মজুদ আছে এবং ৫০০ শতের অধিক ছাত্র লিল্লাহ বর্ডিংয়ে থাকিয়া এলমে দ্বীন শিক্ষা লাভ করিতেছেন। মাদ্রাঠছাটি দ্বিতল বিশিষ্ট এবং বিরাট এলাকা জুড়িয়া অবস্থিত। সরকারী মাদ্রাছাসমূহের মদ্যে ইহাই পূর্ণ আবাসিক মাদ্রাছা।

৯। কাছেমুল উলুম (কওমী) মাদ্রাছা

[পোঃ চারিয়া, চট্টগ্রাম]

[হাদীছ -১৯৪৪]

শায়খুল হাদীছ মরহুম মাওলানা ছাঈদ ছাহেব স্থানীয় মাওলানা আবদুল গনী ছাহেবের সহযোগিতায় ১৩৬৩ হিঃ জিলহজ্জ মাসে উক্ত মাদ্রাছার ভিত্তি স্থাপন করেন। এক বৎসর পর ১৩৬৪ হিঃ মোঃ তথায় ‘ছেহাহ ছেত্তা’-এর দরছ আরম্ভ হয়।

১০। জমিরিয়া কাছেমুল উলুম (কওমী) মাদ্রাছা

[পোঃ পটিয়া, চট্টগ্রাম]

[হাদীছ -১৯৪৬]

মরহুম মাওলানা আজীজুল হক ছাহেব ১৩৫৭ হিঃ উক্ত মাদ্রাছা প্রতিষ্ঠা করেন। ১৩৬৬ হিঃমোঃ ১৯৪৬ ইং তথায় দাওরায়ে হাদীছ আরম্ভ হয়। দেওবন্দের সুযোগ্য ওস্তাদ মরহুম মাওলানা ইব্রাহীম বৈলয়াবী উহার আরম্ভিক পাঠ দান করেন। ইহা পটিয়া ষ্টেশন সংলগ্ন এক বিরাট এলামা জুড়িয়া অবস্থিত এবং পাকা বিল্ডিং-এ পরিণত। ইহার ছাত্র-শিক্ষকগণ চরিত্রবলে খুবই উন্নত।

১১। দারুল উলুম আলিয়া মাদ্রাছা, চট্টগ্রাম

 [হাদীছ -১৯৪৭ ইং]

১৯১৩ ইং চট্টগ্রাম শহরের চন্দরপুরায় মরহুম হাজী চানমিঞা সওদাগর –[মরহুম হাজী চানমিঞা সওদাগরঃ তিনি চট্টগ্রাম পাঁচলাইশ থানার অন্তর্গত চান্দগাঁও গ্রামে অনুমান ১৮৬৯ ইং জন্মগ্রহণ করেন, পিতার নাম মরহুম শায়খ কাছেম আলী। সাত বৎসর বয়সেই তিনি ইয়াতীম হইয়া যান এবং আপন বিমাতা ভাইদের অবহেলার দরুন একমাত্র কোরআন পাক শিক্ষা ব্যতীত অপর শিক্ষা-দীক্ষা হইতে বঞ্চিত থাকেন। পরিণত বয়সে সংবাদ-পত্র পড়ার মাধ্যমে তিনি কিছু বাংলাভাষায় জ্ঞান লাভ করেন এবং ওলামায়ে কেরামের সংস্পর্শে আসিয়া দ্বীতি মছলা-মাছায়েল শিক্ষা করেন, অথচ তাঁহার বুদ্ধি-জ্ঞান এত প্রখর ছিল যে,বড় বড় শিক্ষিত লোকেরাও তাঁহার বুদ্ধি-জ্ঞানের প্রশংসা করিতেন।

তিনি প্রথমে দর্জির কাজ করিতে ও কাটা কাপড় বিক্রয় করিতে আরম্ভ করেন, অতঃপর উহা ত্যাগ করিয়া মনোহারী ব্যবসা অবলম্বন করেন। তাঁহার ভাগ্য এতই সুপ্রসন্ন ছিলযে, তিনি যখন যাহাতে হাত দিতেন তাহাতে সোনা ফলিত। ফলে অল্প দিনের মধ্যেই তিনি লক্ষ লক্ষ টাকার অধিকারী হন এবং মৃত্যুকালে বিপুল সম্পত্তি রাখিয়া যান। কিন্তু এই বিপুল সম্পদ তাঁহাকে কখনও অহঙ্কার-অহমিকারদিকে পরিচালিত করিতে পারে নাই। তিনি বরাবরই তাঁহার বন্ধু-বান্ধবের নিকট তাঁহার বাল্যকালের দুঃখ-দারিদ্রের কথা নিঃসঙ্কোচে বর্ণনা করিতেন এবং আল্লাহ তা’আলার শোকরিয়া ও বিনয়ে অবনত হইয়া যাইতেন। তিনি জীবনে কখনও জাঁক-জমকপূর্ণ পরিচ্ছিদ ব্যবহার করেন নাই এবং গাড়ী-ঘোড়া করেন নাই, অথচ দরিদ্রদের সাহায্যে ও সৎ কার্যে ব্যয় করিয়াছেন মুক্তহস্তে।

তিনি বহু জায়গায় বহু মসজিদ নির্মাণ করিয়াছেন, দুইটি বিরাট মুছাফিরখানা তৈয়ার করিয়াছেন; একটি মদীনা শরীফে মছজিদে নববীর নিকটে (বাঙ্গালী মুছাফিরখানা) অপরটি তাঁহার কারবারের স্থল খাতুনগঞ্জে। তিনি বহু মাদ্রাছায় সাহায্য করিয়াছেন এবং এই দারুল উলুম মাদ্রাছাটি নূতনভাবে প্রতিষ্ঠা করিয়াছেন। তিনি তাঁহার এ সকল প্রতিষ্ঠানের জন্য তাঁহার সম্পত্তির এক বিরাট অংশ ওয়াকফ করিয়া গিয়াছেন। তাঁহার ব্যবসায়ের প্রারম্ভে তাঁহার কোন মূলধন ছিল না। তাঁহার মূলধন ছিল সত্যবাদিতা, সাধুতা, ধৈর্য ও অধাবসায়।

দ্বীনের ব্যাপারে তাঁহার জ্ঞান ছিল স্বচ্ছ ও সত্যভিত্তিক। সত্য কথা বলিতে কি, তাঁহার সংস্পর্শে আসার সুযোগ লাভ না করিলে এ অধীনের পক্ষে মাদ্রাছায় পড়িয়াও দ্বীনের সত্য পথের সন্ধান লাভ কর, সুদূরপরাহত ছিল। আমি তাঁহার বাড়ীতে থাকিয়াই চারি বৎসরকাল (১৯২২-২৫ ইং) এই দারুল উলুমে শিক্ষা লাভ করিয়াছি। (আল্লাহ তাঁহার প্রতি লাখ লাখ রহমত নাজিল করুন।) এছাড়া তিনি দ্বীনের একজন একনিষ্ঠ মোবাল্লেগও ছিলেন। তাঁঞার ন্যায় মাতৃভক্ত লোক আমি খুব কমই দেখিয়াছি। মায়ের অনুমতি ব্যতীত তিনি দৈনিক কারবারের স্থলে যাইতেও কুন্ঠাবোধ করিতেন।

তিনি ছয় পুত্র (হাজী আবদুল লতীফ, হাজী আবদুল মতীন, মাওলানা আবদুল মান্নান, মরহুম আবদুল মালেক, মরহুম হাফেজ ইছহাক ও মোহাম্মদ ইব্রাহীম) এবং একাধিক কন্যা রাখিয়া ৭ই জানুয়ারী ১৯৩৩ ইং এন্তেকাল করেন।]কর্তৃক উক্ত মাদ্রাছা প্রতিষ্ঠিত হয়। মরহুম মাওলানা ফজলুর রহমান ছাহেবের চেষ্টায় উহাতে হাদীছের উচ্চ শিক্ষার উদ্দেশ্যে ১৯৪৭ ইং টাইটেল ক্লাস খোলা হয়। ১৯২০ইং হুগলী, ঢাকা ও চট্টগ্রামের মোহছিনিয়া মাদ্রাছাত্রয়কে নিউ স্কীমে পরিণত করার পর বাংলার বেসরকারী মাদ্রাছাসমূহের মধ্যে ইহাই ছিল প্রধান মাদ্রাছা। ইহার প্রথম সুপারেন্টেণ্ডেন্ট নিযুক্ত হন মাওলানা ফজলুর রহমান মরহুম। মাদ্রাছায় টাইটেল ক্লাস খোলা হইলে ইহার প্রথম প্রিন্সিপালও হন তিনিই। ১৯৩৫ ইং তাঁহতার পদত্যাগের পর এই পদে নিয়োজিত হন ‘মোমতাজুল মোহাদ্দেছীন’ মাওলানা মোহাম্মদ শফীক এম,এ; এল,এল, বি, তিনি একজন নানা গুণের অধিকারী ব্যক্তি।

এই মাদ্রাছার বহু কৃতী ছাত্র প্রদেশের বিভিন্ন স্থানে দ্বীনের বিভিন্ন খেদমতে নিয়োজিত আছেন। এ অধীন জমাতে চাহারম হইতে উলা পর্যন্ত এই মাদ্রাছায়ই শিক্ষা লাভ করিয়াছে।

১২। হোছাইনিয়া আরাবিয়া (কওমী) মাদ্রাছা

[পোঃ রাণাপিং, সিলেট]

[হাদীছ -১৯৪৮ ইং]

ইহা ১৩৫১ হিঃ স্থাপিত হয় এবং ১৩৬৮ হিঃ মোঃ ১৯৪৮ ইং তথায় ছেহাহ ছেত্তার তা’লীম আরম্ভ হয়। বর্তমানে উক্ত মাদ্রাছায় ৪ জন মোহাদ্দেছ হাদীছ শিক্ষা দিতেছেন।

১৩। দারুল উলুম খাদেমুল ইছলাম (কওমী) মাদ্রাছা

[গওহর ডাঙ্গা,পোঃ পাটগাতী,ফরিদপুর]

[হাদীছ -১৯৪৯ ইং]

মাওলানা শামছুল হক ফরিদপুরীর পৃষ্ঠপোষকতায় উক্ত মাদ্রাছা ১৩৪৪ বাং মোঃ ১৯৩৭ গোপালগঞ্জ থানাধীন গওহরডাঙ্গায় মধূমতি নদীর অদূরে স্থাপিত হয় এবং ১৩৫৬ বাং মোঃ ১৯৪৯ ইং উহাতে হাদীছ শিক্ষা আরম্ভ হয়। মোহতামেম মাওলানা আবদুল আজীজ ছাহেবের আপ্রাণ চেষ্টায় মাদ্রাছাটি দ্রুত উন্নতি করিয়া চলিয়াছে।

১৪। দারুল উলুম (কওমী) মাদ্রাছা

[পোঃ বরুড়া, কুমিল্লা]

[হাদীছ -১৯৪৯ ইং]

১৩১৭ বাংলা ইহা স্থাপিত হয় এবং ১৩৫৫ বাং মোঃ ১৯৪৯ ইং তথায় ছেহাহ ছেত্তার দরছ আরম্ভ হয়। বর্তমানে ২০ জন শিক্ষক দ্বারা মাদ্রাছাটি পরিচালিত হইতেছে, তন্মদ্যে ৪ জন মোহাদ্দেছ। তথায় ছাত্র প্রায় ৫০০ শত।

১৫। এ,ইউ, আলিয়া মাদ্রাছা

[হয়বতনগর, ময়মনসিংহ]

[হাদীছ -১৯৪৯ ইং]

উক্ত মাদ্রাছা ১৯৩৪ ইং প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ১৯৪৯ ইং মাওলানা ছৈয়দ মুছলেহ উদ্দীন ছাহেবের প্রচেষ্টায় তথায় টাইটেল ক্লাস খোলা হয়। তথায় সরকারী মাদ্রাছার কেন্দ্রীয় পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হইয়া থাকে।

১৬। মোস্তাফাবিয়া আলিয়া মাদ্রাছা, বগুড়া

 [হাদীছ -১৯৪৯ ইং]

ইহা ১৯২৫ ইং স্থাপিত হয় এবং আলেম ও ফাজেল পরীক্ষার মঞ্জুরী লাভ করিয়া দীর্ঘনিদ সুচারুরূপে চলিতে থাকে। ১৯৪৯ ইং উহা আলিয়ায় উন্নীত হয় এবং ১৯৫০ ইং টাইটেল পরীক্ষার মঞ্জুরী লাভ করে।

১৭। আজীজুল উলুম (কওমী) মাদ্রাছা

[বাবুনগর, চট্টগ্রাম]

[হাদীছ -১৯৫০ ইং]

হাটহাজারী মাদ্রাছার প্রতিষ্ঠাতাগণের অন্যতম মাওলানা আজীজুর রহমান ছাহেবের তৃতীয় পুত্র মাওলানা শাহ মোহাম্মদ মূছা ছাহেব আপন পিতার নামানুসারে নিজ দখলীর ভূমিতে ১৯২৬ ইং অক্টোবরে ইহার প্রতিষ্ঠা করেন। মাওলানা মূছা ছাহেব রেঙ্গুন বাঙ্গালী মসজিদের ইমামতি গ্রহণ করিলে তাঁহার কনিষ্ঠ ভ্রাতা মাওলানা হারূন ছাহেব ইহার পরিচালনভার গ্রহণ করেন। বর্তমানে তিনি ইহার প্রধান পরিচালক। ১৩৭০ হিঃ মোঃ ১৯৫০ ইং ইহাতে দাওরায়ে হাদীছ খোলা হয়।

১৮। জামেয়া কোরআনিয়া আরাবিয়া (কওমী) মাদ্রাছা

[লালবাগ, ঢাকা]

[হাদীছ -১৯৫০ ইং]

পাক-ভারতের সুপ্রসিদ্ধ আলেম ও পীর হজরত মাওলানা জফর আহমদ ওছমানী, মাওলানা মুফতী দ্বীন মোহাম্মদ খাঁ, মাওলান শামছুল হক ফরিদপুরী ও মাওলানা হাফেজ মোহাম্মদ উল্লাহ ছাহেব প্রমুখ খ্যাতনামা মনীষীবৃন্দের প্রচেষ্টায় ১৩৭০ হিঃ মোঃ ১৯৫০ ইং উক্ত মাদ্রাছা প্রতিষ্ঠা লাভ করে এবং ঐ বৎসরই উহাতে দাওরায়ে হাদীছ খোলা হয়। ১৩৮৩ হিঃ হইতে তথায় নিয়মিতভাবে দাওরায়ে তফছীরও খোলা হইয়াছে। তথাকার ‘হেফজখানা’ অতি প্রসিদ্ধ। উহাতে সাধারণতঃ এক হইতে তিন বৎসরের মধ্যেই হেফজ শেষ করান হইয়া থাকে।

ইহাতে এলম দানের সঙ্গে ছাত্রদের চরিত্র গঠনের প্রতিও বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখা হইয়া থাকে। এ উদ্দেম্যে প্রত্যেক বৃহস্পতিবার বাদ মাগরেব ছাত্র শিক্ষকদের যুক্ত সভা হয়। প্রথম হইতে এ যাবৎ মাওলানা শামছুল হক ফরিদপুরীই ইহার ‘শায়খুল জামেয়া’ বা প্রধান পরিচালক।

১৯। আশরাফুল উলুম (কওমী) মাদ্রাছা

[বালিয়া, ময়মনসিংহ]

[হাদীছ -১৯৫১ ইং]

মাওলান ফয়জুর রহমান ও মাওলানা ছেরাজুল হক ছাহেবের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ১৩৩৫ বাং উহা স্থাপিত হয়। ইহার চারি বৎসর পর মাওলানা দৌলত আলী ছাহেবের আমলে উহাতে ‘মেশকাত শরীফ’ পর্যন্ত শিক্ষার ব্যবস্থা করা হয়। ১৩৫৭ বাং মোঃ ১৯৫১ ইং তথায় দাওরা জামাআত খোলা হয়।

২০। ফেনী আলিয়া মাদ্রাছা, নোয়াখালী

 [হাদীছ -১৯৫১ ইং]

মাদ্রাছাটি ফেনী মহকুমা শহরের লালদিঘীর উত্তর দিকে এক বিরাট এলাকা জুড়িয়া অবস্থিত। ইহা ১৮৯৮ ইং সালে স্থাপিত হয় এবং কয়েক বৎসর মুসলিম হাই স্কুল, অতঃপর নিউ স্কীম জুনিয়র মাদ্রাছার রূপ পরিগ্রহণ করিয়া ১৯২৩ ইং ওল্ড স্কীম ছিনিয়র মাদ্রাছায় পরিণত হয়। প্রথমে ইহা জমাতে পাঞ্জম পর্যন্ত থাকে, অতঃপর ১৯২৮ ইং আলেম, ১৯৩২ ইং ফাজেল এবং ১৯৫১ ইং টাইটেল ক্লাসের মঞ্জুরী লাভ করে।

আলেম পরীক্ষার মঞ্জুরীর পূর্ব পর্যন্ত যথাক্রমে মৌলবী আবদুর রাজ্জাক, মৌলবী আবদুর রউফ আমীরাবাদী ও মৌলবী গোলাম রহমান ছাহেব ইহার হেড মৌলবী থাকেন। অতঃপর যথাক্রমে মাওলানা মকবুল আহমদ, মাওলানা ইজহারুল হক চাটগামী এবং ১৯৩২ ইং মাওলানা ওবাইদুল হক চাটগামী ইহার সুপারেন্টেণ্ডেন্ট নিযুক্ত হন। ১৯৫১ ইং টাইটেল খোলার পর মাওলানা ওবাইদুল হক ছাহেব প্রিন্সিপাল পদে উন্নীত হন। ১৯৫১ ইং টাইটেল খোলার পর মাওলানা ওবাইদুল হক ছাহেব প্রিন্সিপাল পদে উন্নীত হন। বর্তমানে তিনিই এই পদে সমাসীন আছেন।

প্রিন্সিপাল ছাহেব ও মাদ্রাছার সেক্রেটারী মৌলবী ইব্রাহীম (সাবেক এম, এল, এ) ছাহেবের প্রচেষ্টায় মাদ্রাছার বহু উন্নতি সাধিত হইয়াছে। মাদ্রাছা এলাকায় তিন একন ও বাহিরে তিন একন জমি ইহার মালিখানায় রহিয়াছে। অতিরিক্ত জমিতে প্রস্তুত ঘর-বাড়ীর আয় মাসিক টাঃ ৩০০.০০। মাদ্রাছার লাইব্রেরীতে প্রায় ২৫ হাজার টাকা মূল্যের কিতাবাদি রহিয়াছে।

কিতাব শিক্ষা ছাড়া ইহাতে এলমে কেরাআত, সেলাই, বয়ন ও সূতার মিস্ত্রীর কার্য শিক্ষা দানেরও ব্যবস্থঅ রহিয়াছে।

ইহাতে টাইটেলের ছাত্রদিগকে মাদ্রাছার পক্ষ হইতে ফ্রি খোরাক ও শিক্ষাকালের জন্য ধারে কিতাব দেওয়া হইয়া থাকে।  ইহাতে ছাত্রদের চরিত্র গঠনের প্রতিও বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখা হইয়া থাকে। লিখক এই মাদ্রাছায় ১৯২৮ ইং হইতে ১৯৪৩ ইং পর্যন্ত ছাত্রদের খেদমতে অতিবাহিত করিয়াছে।

২১। মাজাহেরে উলুম (কওমী) মাদ্রাছা

[চরচাক্তাই, চট্টগ্রাম]

[হাদীছ -১৯৫২ ইং]

চট্টগ্রাম শহরের উপকণ্ঠে অবস্থিত চরচাক্তাহই মাদ্রাছা ১৩৬৫ হিঃ প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ১৩৭২ হিঃ মোঃ ১৯৫২ ইং উহাতে হাদীছের দরছ শুরু হয়। মাওলানা মোহাম্মদ ইছমাইল ছাহেব উক্ত মাদ্রাছার প্রতিষ্ঠাতা। ইহার ছাত্র-শিক্ষক চরিত্রবলে উন্নত।

২২। জামেউল উলুম আলিয়া মাদ্রাছা

[পোঃ গাছবাড়ি, সিলেট]

[হাদীছ -১৯৫৩ ইং]

১৯০১ ইং ইহা প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ১৯৫৩ ইং তথায় হাদীছের অধ্যাপনা আরম্ভ হয়। বর্তমানে ২০ জন সুদক্ষ শিক্ষক দ্বারা মাদ্রাছা পরিচালিত হইতেছে।

২৩। দারুল উলুম (কওমী)মাদ্রাছা

[পোঃ কানাইঘাট, সিলেট]

[হাদীছ -১৯৫৪ ইং]

১৮৮৯ ইং ইহার ভিত্তি স্থাপিত হয়। ১৯৩৯ ইং অবধি ইহাতে ৪/৫ জন মোদাররেছ দ্বারা ‘শরহে জামী’ পর্যন্ত শিক্ষা দেওয়া হইতে থাকে। অতঃপর মাওলানা আবদুর রব কাছেমী ছাহেবের ঐকান্তিক চেষ্টায় ৪/৫ বৎসরের মধ্যেই জমাতে উলা পর্যন্ত খোলা হয়। ১৯৪৭ ইং হাদীছ খোলার নিমিত্ উহাকে পাকা বিল্ডিংয়ে পরিণত করা হয় এবং ১৯৫২ ইং তথায় দাওরায়ে হাদীছ খোলা হয়, কিন্তু স্থায়িত্ব লাভ করিতে পারে নাই। অবশেষে মাওলানা মোশাহেদ ছাহেবের প্রচেষ্টায় ১৯৫৪ ইং তথায় নিয়মিতভাবে হাদীছ শিক্ষা আরম্ভ হয়।

২৪। জামেয়া এমদাদিয়া, কিশোরগঞ্জ, ময়মনসিংহ

 [হাদীছ -১৯৫৫ ইং]

জনাব মাওলান আতহার আলী ছাহেবের চেষ্টায় ১৯৪৫ ইং উক্ত মাদ্রাছা প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ১৯৫৫ ইং তথায় দাওরায়ে হাদীছ ও দাওরায়ে তফছীর আরম্ভ হয়। উহা পাঁচতলা বিশিষ্ট একটি বিরাট মাদ্রাছা। উহা একটি কওমী মাদ্রাছা হইলেও উহাতে দরছে নেজামীর বিষয়াবলী ছাড়া নিয়মিতভাবে বাংলা, ইংরেজী প্রভৃতি বিষয়ও মেট্রিক মান পর্যন্ত এবং টাইপ রাইটিং, সর্টহ্যাণ্ড,টেলিগ্রাফী,উইভিং,সিলাই, (আরবী-ফারছী লিথোগ্রাফী ছাপার জন্য) কিতাবত ও বুক বাইণ্ডিং শিক্ষা দানের ব্যবস্থা রহিয়াছে।

ইহাতে স্বতন্ত্র একটি হেফজখানা ও একটি কেরাআতখানা রহিয়াছে। কেরাআনখানায় ছাত্রদের ছাড়া সকাল বেলায় শহরের বয়স্ক জনসাধারণকে কেরাআন শিক্ষা দানেরও ব্যবস্থা রহিয়াছে। ইহাতে ‘নাদিয়াতুল কোরআন’ পদ্ধতি অনুসারে অতি অল্প সময়ে বালক-বালিকাদিগকে কেরাআন ও প্রাথকিম ইছলামিয়াত সম্পর্কে সুশিক্ষিত করিয়া তোলা হয়। মোটকথা, এ সকল ব্যাপারে ইহা একক মাদ্রাছা।

২৫। নেছারিয়া আলিয়া মাদ্রাছা

[পাঙ্গাশিয়া, বরিশাল]

[হাদীছ -১৯৫৫ ইং]

মাওলানা মোহাম্মদ হাতেম (পীর পাঙ্গাশিয়া) ছাহেব কর্তৃক ১৯১৯ ইং পাঙ্গাশিয়া আলিয়া মাদ্রাছার ভিত্তি স্থাপিত হয়। ১৯৫৫ ইং উহাতে টাইটেল (হাদীছ) ক্লাস খোলা হয় এবং ১৯৫৬ ইং উহা মঞ্জুরী লাভ করেন। ২০ জন মোদাররেছ দ্বারা উক্ত মাদ্রাছা পরিচালিত হইতেছে। ১৯৬৩ ইং হইতে উহাতে মাদ্রাছা বোর্ডের কেন্দ্রীয় পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

২৬। কারামতিয়া আলিয়া মাদ্রাছা

[পোঃ সোনাপুর, নোয়াখারী]

[হাদীছ -১৯৫৫ ইং]

১৯৫৫ ইং মাদ্রাছায় টাইটেল (হাদীছ)-এর দরছ আরম্ভ হয়। (প্রতিষ্ঠার তারিখ ও অপরাপর বিষয় প্রেরিত হয় নাই।)

২৭। কাতলাসেন আলিয়া মাদ্রাছা, মোমেনশাহী

 [হাদীছ -১৯৫৭ ইং]

১৮৯০ ইং ১লা ফেব্রুয়ারী উক্ত মাদ্রাছা স্থাপিত হয়। ১৯৫৭ ইং সরকারী সাহায্যে উহা আলিয়া মাদ্রাছায় পরিণত হয় এবং ছেহাহ ছেত্তা শিক্ষা দানের ব্যবস্থঅ করে।

২৮। রায়পুর আলিয়া মাদ্রাছা, নোয়াখালী

 [হাদীছ -১৯৫৭ ইং]

খ্যাতনামা ওলীউল্লাহ মরহুম মাওলানা শাহ ফজলুল্লাহ ছাহেব ১৮৭২ ইং নিজ হস্তে উক্ত মাদ্রাছার ভিত্তি স্থাপন করেন। তাঁহার মৃত্যুর পর তাঁহার জ্যেষ্ঠ পুত্র মরহুম শাহ ফজলুল হক ছাহেব, তৎপর তাঁহার আওলাদগণ কর্তৃক এ যাবৎ উহা পরিচালিত হইয়া আসিতেছে। ১৯৫৭ ইং উক্ত মাদ্রাছায় ছেহাহ ছেত্তার দরছ আরম্ভ হয়।

২৯। হুছাইনিয়া দারুল উলুম (কওমী) মাদ্রাছা

[ওলামা বাজার, নোয়াখালী]

[হাদীছ -১৯৫৮ ইং]

১৩৬৫ হিঃ ৮ই রবিউল আখার ইহা স্থাপিত হয় এবং ১৩৭৯ হিঃ, মোঃ ১৯৫৮ ইং তথায় দাওরায়ে হাদীছ আরম্ভ হয়। বর্তমানে তথায় ৫ জন মোহাদ্দেছ হাদীছেল দরছ দিতেছেন।

৩০। মজীদিয়া আলিয়া মাদ্রাছা

[পোঃ ফরিদগঞ্জ, কুমিল্লা]

[হাদীছ -১৯৫৮ ইং]

মরহুম মাওলানা আবদুল মজীদ ছাহেব কর্তৃক ১৮৯৬ ইং উক্ত মাদ্রাছা প্রতিষ্ঠিত হয়। তাঁহার জ্যেষ্ঠ পুত্র মাওলাান আমীনুল হক ছাহেব ১৯৩৫ ইং উক্ত মাদ্রাছার সুপারেণ্টেণ্ডেণ্ট নিযুক্ত হইয়া যথাক্রমে আলেম ও ফাজেল পরীক্ষার অনুমতি ও সরকারী সাহায্য লাভ করেন। অতঃপর মাওলানা আবদুল মান্নান ছাহেবের চেষ্টায় ১৯৫৮ ইং তথায় টাইটেল ক্লাস খোলা হয়। বর্তমাতে তথায় মাদ্রাছা বোর্ডের কেন্দ্রীয় পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। উহার লাইব্রেরীতে প্রায় ত্রিশ হাজার টাকা মূল্যের কিতাব রহিয়াছে।

৩১। গাজীমুড়া আলিয়া মাদ্রাছা

[পোঃ পশ্চিমগাঁও, কুমিল্লা]

[হাদীছ -১৯৫৮ ইং]

ইহা অতি প্রাচীন ইছলামিক প্রতিষ্ঠান। কর্তৃপক্ষের অবহেলার দরুন প্রতিষ্ঠানটি প্রায় অচল হইয়া গিয়াছিল। ১৯৩৫ ইং কতিপয় ধর্মপ্রাণ মুসলমানের চেষ্টায় উহা পুনঃ গড়িয়া উঠে। মাদ্রাছার বর্তমান প্রিন্সিপাল মাওলানা আদুল মজীন ছাহেবের প্রচেষ্টায় উহা আলিয়া মাদ্রাছায় উন্নীত হয় এবং ১৯৫৮ ইং উহাতে হাদীছেল দরছ আরম্ভ হয়। মরহুম মৌলবী আবদুল হাকীম ও মৌলবী মোহাম্মদ আলী ছাহেব ইহা প্রতিষ্ঠা করেন।

৩২। আহমদিয়া আলিয়া মাদ্রাছা

[মাদারীপুর, ফরিদপুর]

[হাদীছ -১৯৫৮ ইং]

মাদারীপুর নিবাসী পীর মাওলানা নূর মোহাম্মদ ছাহেব কর্তৃক ১৯৪৯ ইং ১লা জানুয়ারী মাদারীপুর টাউনে মাদ্রাছাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। বিগত ১৯৫৮ ইং ইহা আলিয়ায় পরিণত হয় এবং ছেহাহ ছেত্তার দরছ আরম্ভ করে।

৩৩। মুক্তাগাছা আলিয়া মাদ্রাছা, ময়মনসিংহ

 [হাদীছ -১৯৫৮ ইং]

উক্ত মাদ্রাছা পূর্ব হইতে আলেম ও ফাজেল পর্যন্ত সরকারী মঞ্জুরী লাভ করিয়া পরিচালিত হইতেছিল। ১৯৫৮ইং উহা আলিয়া মাদ্রাছায় উন্নীত হইয়া হাদীছ শিক্ষা দানের সুযোগলাভ করে।

৩৪। মাদ্রাছাতুল হাদীছ (কওমী) মাদ্রাছা

 [হাদীছ -১৯৫৮ ইং]

উক্ত মাদ্রাছা ১৯৫৮ ইং ২০শে ডিসেম্বর স্থাপিত হয় ও সঙ্গে সঙ্গে হাদীছের দরছ আরম্ভ করে।

৩৫। এ’জাজিয়া দারুল উলুম (কওমী) মাদ্রাছা

[রেলওয়ে ষ্টেশন, যশোহর]

[হাদীছ -১৯৫৯ ইং]

মাওলানা শামছুল হক ফরিদপুরী ও মাওলানা মোস্তফা আল মাদানী ছাহেবদ্বয় মৌলবী ছাখাওয়াত হোছাইন ও স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সহযোগীতায় এবং আলতাফ হোছাইন চৌধুরী ছাহেবের আর্থিক সাহায্যে ১৩৭১ হিঃ মোঃ ১৯৫১ ইং মাদ্রাছাটি স্থাপন করেন। অতঃপর মাওলানা আবুল হাছান (বর্তমান মোহাদ্দেছ) যশোহরীর ৪/৫ বৎসরের অক্লান্ত চেষ্টার ফলে ১৯৫৯ ইং তথায় হাদীছেল দরছ আরম্ভ হয়। বর্তমানে ১৫ জন শিক্ষক দ্বারা মাদ্রাছাটি পরিচালিত হইতেছে।

৩৬। মেফতাহুল উলুম (কওমী) মাদ্রাছা

[পোঃ নেত্রকোণা, মোমেনশাহী]

[হাদীছ -১৯৬০ ইং]

ইহা ১৩৬২ হিঃ প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ১৩৮০ হিঃ মোঃ ১৯৬০ ইং উহাতে হাদীছের দরছ আরম্ভ হয়। বর্তমানে তথায় ৬ জন বিজ্ঞ মোহাদ্দেছ হাদীছ শিক্ষা দিতেছেন।

৩৭। আহছানাবাদ আলিয়া মাদ্রাছা

[পোঃ চরমোনাই, বরিশাল]

[হাদীছ -১৯৬০ ইং]

উক্ত মাদ্রাছা প্রথমে কওমী মাদ্রাছারূপে পরিচালিত হইতে থাকে। ১৯৬০ ইং তথায় দাওরায়ে হাদীছ খোলা হয়। অতঃপর ১৯৬৪ ইং হইতে উহাকে ঢাকা মাদ্রাছা বোর্ডের অন্তর্ভুক্ত করিয়া টাইটেল মাদ্রাছায় পরিণত করা হয়। চরমোনাইর পীর মাওলানা ইছহাব ছাহেব উক্ত মাদ্রাছার প্রতিষ্ঠাতা।

৩৮। দারুছ ছালাম (কওমী) মাদ্রাছা

[পোঃ সোহাগী, ময়মনসিংহ]

[হাদীছ -১৯৬২ ইং]

মাদ্রাছার বর্তমান  মোহতামেম হাফেজ ক্বারী মাওলানা ছৈয়দ হুছাইন আহমদ ছাহেব ১৩৫৯ বাং উক্ত মাদ্রাছার প্রতিষ্ঠা করেন। ১৩৬৯ বাং মোঃ ১৯৬২ ইং উহাতে দাওরায়ে হাদীছ খোলা হয়।

৩৯। সোনাকান্দা আলিয়া মাদ্রাছা

 [হাদীছ -১৯৬৩ ইং]

কুমিল্লা জিলার মুরদানগর থানাধীণ সোনাকান্দার পীর মরহুম আবদুর রহমান ছাহেব ১৯৪০ ইং নিজ বাড়ীতে ইহা প্রতিষ্ঠা করেন। প্রথমে ইহা যথাক্রমে আলেম ও ফাজেল পরীক্ষার মঞ্জুরী লাভ করে, অতঃপর ১৯৬৩ ইং উহাতে টাইটেল ক্লাস আরম্ভ হয়। হাদীছ ক্লাসের জন্য স্বতন্ত্রভাবে দ্বিতল বিল্ডিংয়ের ব্যবস্থা করা হইয়াছে।

৪০। শাহতলী আলিয়া মাদ্রাছা, কুমিল্লা

 [হাদীছ -১৯৬৩ ইং]

ইহা প্রথমে মক্তব আকারে ১৯০০ ইং প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ক্রমে আলেম ও ফাজেল মাদ্রাছায় উন্নীত হয়। ১৯৩২ ইং মাওলানা আবুদল ওয়াহেদ ছাহেব ইহার পরিচালনভার গ্রহণ করেন এবং ১৯৬৩ ইং ইহাকে টাইটেল মাদ্রাছায় পরিণত করেন।

৪১। আরামনগর আলিয়া মাদ্রাছা, শারিষাবাড়ী, ময়মনসিংহ

 [হাদীছ -১৯৬৩ ইং]

ইহা ময়মনসিংহের টাঙ্গাইল মহকুমাধীন দেলদুয়ার নিবাসী মরহুম মাওলানা আবদুছ ছবুর কর্তৃক ১৯২২ ইং স্থাপিত হয়। প্রথমে ইহা যথাক্রমে আলেম ও ফাজেল জমাআত পর্যন্ত সরকারী মঞ্জুরী লাভ করে। অতঃপর ১৯৬৩ ইং ইহাতে হাদীছের দরছ আরম্ভ হয়। বর্তমানে প্রায় ১৭ জন উপযুক্ত শিক্ষক দ্বারা উহা পরিচালিত হইতেছে।

_ইতিহাস ভাগ সমাপ্ত_

About মাওলানা নূর মোহাম্মদ আ’জমী (রঃ)