আল্লাহর রাসুল (স.) কিভাবে নামাজ পড়তেন

নামাযের জন্যে রসূলুল্লাহর পবিত্রতা অর্জন পদ্ধতি

রসূলুল্লাহ সা. কিভাবে অযু করতেন?

রসূলুল্লাহ সা. বেশিরভাগই নতুন অযু করে নামায পড়তেন। তবে কখনো কখনো এক অযুতে একাধিক ওয়াক্ত পড়তেন।

একবার অযু করতে তাঁর এক মুদ্দ (প্রায় এক কিলোগ্রাম) বা তার একটু কম-বেশী পরিমাণ পানি ব্যয় হতো। অযু করার সময় তিনি অযুর অংগুলোতে ভালোভাবে পানি ব্যবহার করতেন। তবে তিনি পানি অপচয় করতেন না, খুবই কম পানি ব্যবহার করতেন। উম্মতকেও পানি অপচয় করতে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেছেন:

“আমার উম্মতের মধ্যে কিছু লোক অযু করতে গিয়ে পানি অপচয় করবে (অথচ এটা শয়তানের কুমন্ত্রণা পসূত কাজ)।“ তিনি আরো বলেছেন “অযু করার সময় ওলহান নামের এক শয়তান এসে (অধিক পানি ব্যয় করার জন্যে) অসঅসা দিতে থাকে। তোমরা তার দ্বারা প্রতারিত হয়োনা।“

সা‘আদ ইবনে আনি ওয়াক্কাস রা. একবার অযু করছিলেন। এমন সময় রসূল সা. তাঁর নিকট দিয়ে পথ অতিক্রম করছিলেন। তিনি তাকে বললেন, সা‘আদ! পানির অপচয় করোনা।‘ সা‘আদ জিজ্ঞাসা করলেন হে আল্লাহর রসূল! পানিতেও কি অপচয় আছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ, তুমি যদি কোনো প্রবহমান নদীর কূলে বসেও অযু করো, সেখানেও অপচয় আছে। তুমি সর্বাবস্থায় অপচয় থেকে আত্মরক্ষা করো।“(মুসনাদে আহমদ)

সহীহ সূত্রে প্রমাণ পাওয়া যায়, রসূলুল্লাহ সা. অযুর অংগসমূহ কখনো একবার ধুয়েছেন, কখনো দু‘বার, কখনো তিনবার। এমনও প্রমাণ পাওয়া যায়, একই অযুতে তিনি কোনো অংগ একবার, কোনো অংগ দু‘বার এবং কোনো অংগ তিনবার ধুয়েছেন।

তিনি কখনো এক আঁজলা পানি নিয়ে তা দিয়েই কুল্লিও করেছেন এবং নাকেও দিয়েছেন। আবার কখনো দু‘তিন আঁজলা দিয়ে এ দুটো কাজ করেছেন। কখনো এক আঁজলা পানির অর্ধেক দিয়ে কুল্লি করতেন আর বাকি অর্ধেক নাকে দিতেন। যখন দুতিন আঁজলা ব্যবহার করতেন, তখন সম্ভবত এ দু‘টো কাজ আলাদা আলাদা করতেন, কিংবা একত্রে করতেন। তবে, বুখারী ও মুসলিমে আবদুল্লাহ ইবনে যায়েদের বর্ণনায় পাওয়া যায়, রসূলুল্লাহ সা. এক আঁজলা পানি নিয়ে দিয়েই কুল্লি করেছেন, নাকেও দিয়েছেন এবং এমনটি তিনবার করেছেন। তবে আরেকটি হাদিস থেকে জানা যায়, এ দুটো কাজ তিন আঁজলা পানি নিয়ে করেছেন।

কুল্লি করা এবং নাকে পানি দেয়ার পদ্ধতি সম্পর্কে এ হাদিসটিই অধিকতর সহীহ। আলাদা আলাদা আঁজলা নিয়ে কুল্লি করেছেন এবং নাকে পানি দিয়েছেন-এমন কোনো সহীহ হাদিস পাওয়া যায়না। এরূপ বর্ণনা সম্বলিত একটি হাদিস পাওয়া যায় তালহা থেকে। তিনি তাঁর পিতা থেকে এবং তাঁর পিতা তাঁর দাদা থেকে হাদিসটি বর্ণনা করেছেন, অথচ তাঁর দাদা সাহাবি ছিলেন না- রসূলুল্লাহ সা. এর সাথে তাঁর সক্ষাত হয়নি।

রসূলুল্লাহ সা. ডান হাতে করে পানি নিতেন। ডান হাতে নাকে পানি দিয়ে বাম হাতে পরিস্কার করতেন।

তিনি পুরো মাথা মাসেহ করতেন। কপালের দিক থেকে আরম্ভ করে পেছনের দিকে, আবার পেছনের দিক থেকে সামনের দিকে মাসেহ করতেন। এরকম করার কারণে কেউ কেউ বর্ণনা করেছেন, তিনি দুবার মাসেহ করতেন। আসলে তিনি মাথা একবারই মাসেহ করতেন। অন্যান্য অংগ একাধিকাবার ধুইতেন, কিন্তু মাথা একবারই মাসেহ করতেন। একথা অকাট্যভাবে প্রমাণিত, এর ব্যতিক্রম কথা সহীহ নয়। ইবনুল ইয়ামানী তার পিতার সূত্রে উমর রা. থেকে তিনবার মাসেহ করার যে হাদিস বর্ণনা করেছেন, তা গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ তারা বাপ-বেটা দু‘জনই জয়ীফ বর্ণাকারী, যদিও বাপের অবস্থা কিছুটা ভালো।

আবু দাউদে উসমান রা.- এর সূত্রে তিনবার মাসেহ করার যে বর্ণনা উল্লেখ করা হয়েছে, সেটি হযরত উসমান থেকে বর্ণিত অন্য সমস্ত সহীহ হাদিসের সাথে সাংঘর্ষিক। তাঁর থেকে বর্ণিত বিভিন্ন সহীহ হাদিসে একবার মাসেহ করার কথাই উল্লেখ হয়েছে।

রসূল সা. মাথা আংশিক মাসেহ করেছেন- এমন প্রমাণও কোনো সহীহ হাদিস থেকে পাওয়া যায় না। তাবে অযুর সময় যখন মাথার পাগড়ি থাকতো, তখন তিনি কপাল মুছে পাগড়ির উপর দিয়ে হাত বুলিয়ে নিয়ে মাসেহ পূর্ণ করতেন।

আবু দাউদে আনাস রা. থেকে একটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে, তাতে আনাস রা. বলেন, “আমি রসূলুল্লাহ সা. কে একবার কাতারে তৈরি পাগড়ি মাথায় থাকা অবস্থায় অযু করতে দেখেছি। তিনি পাগড়ির ভেতর হাত ঢুকিয়ে দেন এবং মাথার সম্মুখ ভাগ মাসেহ করেন। পাগড়িকে ভাংগেনওনি, সংকুচিতও করেননি।“ অর্থাৎ তিনি পাগড়ি না ভেংগে বা না খুলে পাগড়ির নিচে দিয়ে মাথা মুছে নিতেন। অবশ্য এ হাদিস থেকে পাগড়ির উপর দিয়ে মাসেহ না করাটা প্রমাণ হয়না। এর প্রমাণ রয়েছে মুগীরা ইবনে শু‘বা এবং অন্যান্য সাহাবির বর্ণিত হাদিসে। আনাসের হাদিসে এ ব্যাপারে বক্তব্য না থাকাতে কিছু যায় আসেনা।

রসূল সা. কুল্লি করা ও নাকে পানি দেয়া ছাড়া কখনো অযু করেছেন বলে প্রমাণ নেই। এরকম একটি নযীরও নেই।

তিনি সব সময় অযুতে তরতীব (ধারাবাহিকতা) রক্ষা করতেন। একবারও তরতীবের খেলাফ করেছেন বলে কোনো প্রমাণ নেই।

মাথা মাসেহ করার ক্ষেত্রে তিনি কখনো সরাসরি পুরো মাথা মাসেহ করতেন। কখনো পাগড়ির উপর মাসেহ করে নিতেন। কখনো কপাল এবং পাগড়ি মুছে নিতেন। আর একথা তো আগেই বলা হয়েছে যে, তিনি শুধুমাত্র কপাল মুছে মাথা মাসেহের কাজ সম্পন্ন করেছেন- এমন কোনো প্রমাণ নেই।

মাথা মাসেহ করার সাথে সাথে তিনি কানের ভেতর এবং বাইরে দিয়ে মুছে নিতেন। এ কাজের জন্যে নতুন করে পানি নিতেন না। এর প্রমাণ হলো আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. বর্ণিত হাদিস।

তিনি ঘাড় মুছেছেন বলে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় না।

যখন চামড়া বা কাপড়ের মোজা পরা থাকতোনা, তখন রসূলুল্লাহ সা. পা ধুইয়ে নিতেন। তবে মোজা পরা থাকলে তিনি মোজার উপরই মাসেহ করে নিতেন।

তিনি বিসমিল্লাহ বলে অযু আরম্ভ করতেন। বিসমিল্লাহ ছাড়া অন্য কিছু বলে তিনি অযু শুরু করেছেন বলে যেসব হাদিসের কথা উল্লেখ করা হয়, সেগুলো মিথ্যা-মনগড়া হাদিস। এমন কিছু তিনি নিজেও করেননি, উম্মতকেও শিখাননি। বিসমিল্লাহ ছাড়া অন্য কিছু বলার কোনো প্রমাণ নেই।

রসূলুল্লাহ সা. অযু শেষ করে নিম্নেরূপ দুআ পড়তেন:

(আরবী***************)

অর্থ: আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি, মুহাম্মদ আল্লাহর দাস এবং রসূল। হে আল্লাহ! আমাকে তওবাকারী এবং পবিত্রতা অর্জনকারীদের অন্তর্ভূক্ত করো।“

নাসায়ীতে বর্ণিত হয়েছে, অযুর পরে তিনি নিম্নরূপ দু‘আও পড়তেন:

(আরবী***************)

অর্থ: সমস্ত ত্রুটি ও অক্ষমতা থেকে মুক্তি তুমি। তোমার প্রশংসা স্বীকার করে আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, তুমি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। তোমার কাছে আমি ক্ষমা প্রার্থী আর তোমারই দিকে আমি প্রত্যাবর্তন করছি।“

রসূলুল্লাহ সা. অযু করার শুরুতে “আমি নাপাকি দূর করার কিংবা নামায পড়ার নিয়্যত বা ইচ্ছা করছি“- এ ধরনের কোনো কথা বা নিয়্যত উচ্চারণ করতেন না। সহীহ কিংবা জয়ীফ কোনো হাদিসেই এমনটি করার কোনো প্রমাণ নেই। তাঁর সাহাবিরাও এমনটি করেননি। এ ব্যাপারে সহীহ জয়ীফ কোনো প্রমাণ নেই।

তিনি হাতের কুনুই এবং পায়ের টাখনু গিরার উপরে ধয়েছেন বলে প্রমাণ পাওয়া যায় না। তবে আবু হুরাইরা রা. এমনটি করতেন। তিনি রসূল সা. এর অযু সম্পর্কে যে হাদিস বর্ণনা করেছেন, তাতে কনুই এবং টাখনু গিরা ধৌত করা অযুর অংগের মধ্যে পড়ে।

রসূলুল্লাহ সা. অযু করার পর ধৌত করা অংগ প্রত্যংগ মুছতেন না। কোনো সহীহ হাদিসে এমনটি করার প্রমাণ নেই। আয়েশা রা. এবং মুয়ায বিন জাবাল রা. থেকে বর্ণিত হাদিসে বস্ত্রখণ্ড এবং বস্ত্রাংশ দিয়ে তাঁর অংগ প্রত্যংগ মোছার যে কথা রয়েছে, তা সহীহ নয়। কারণ প্রথম হাদিসটির বর্ণনাকারীদের মধ্যে সুলাইমান বিন আকরাম গ্রহনযোগ্য ব্যক্তি নয়, আর দ্বিতীয় হাদিসের বর্ণনাকারীদের মধ্যে আল আফ্রিকী দুর্বল রাবী। ইমাম তিরমিযি বলেছেন, অযুর অংগ প্রত্যংগ কাপড় দিয়ে মোছার ব্যাপারে রসূল সা. থেকে কোনো বিশুদ্ধ হাদিস পাওয়া যায় না।

রসূলুল্লাহ সা. কখনো নিজেই পানি দিয়ে অযু করতেন, আবার কখনো প্রয়োজনের প্রেক্ষিতে কেউ একজন পানি ঢেলে দিতেন আর তিনি অযু করতেন। বুখারী ও মুসলিমে মুগীরা ইবনে শু‘রা রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, এক সফরে তিনি রসূল সা. কে পানি ঢেলে দিয়ে অযু করিয়েছেন। কিন্তু এটা কোনো নিয়মিত ব্যাপার ছিলনা।

রসূলুল্লাহ সা. অযু করার পরে দাড়ি খিলাল করেছেন। তবে, সব সময় নয়, মাঝে মধ্যে করেছেন। অবশ্য এ ব্যাপারে মুহাদ্দিসগণের মধ্যে মতভেদ আছে। ইমাম তিরমিযি প্রমুখের মতে দাড়ি খিলাল করার বিষয়টি সহীহ। কিন্তু ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল এবং আবুয যুরআর মতে কোনো সহীহ হাদিস থেকে দাড়ি করার প্রমাণ মেলেনা।

তিনি অযুতে আংগুলও খিলাল করেছেন, তবে নিয়মিত নয়। সুনান গ্রন্থাবলীতে মুস্তাওরাদ বিন শাদ্দাদ বর্ণিত হাদিস থেকে একথার প্রমাণ পাওয়া যায়। অবশ্য রসূল সা.এর অযু সম্পর্কে যাঁরা বিশেষজ্ঞ ছিলেন যেমন উসমান, আলী, আবদুল্লাহ ইবনে যাযেদ, রুবাঈ রাদিয়াল্লাহু আনহুম প্রমুখ, তাদের থেকে এ বিষয়ে কোনো বর্ণনা পাওয়া যায় না। তাই এ বিষয়টিও দাড়ি খিলাল করার মতই সুপ্রমাণিত নয়।

অযুর সময় রসূল সা. আংটি এদিক সেদিক ঘুরিয়ে নিতেন বলে একটি বর্ণনা পাওয়া যায়। তাবে এ বর্ণনাটি জয়ীফ (দুর্বল)। ইমাম দারু কুতনি হাদিসটি সনদের (বর্ণনা সূত্রের) মুয়াম্মার ও তার বাবাকে জয়ীফ বর্ণনাকারী আখ্যায়িত করেছেন।

রসূলুল্লাহ সা. মোজার উপর মাসেহ করতেন

রসূলুল্লাহ সা. আবাসে এবং প্রাবসে সর্বত্রই মোজার উপর মাসেহ করতেন। একথা সহীহ হাদীস থেকে প্রমাণিত। আর এই নীতি তিনি মৃত্যু পর্যন্ত অব্যাহত রাখেন।

তবে বিভিন্ন সহীহ ও হাসান হাদিস থেকে প্রমান পাওয়া যায়, আবাসী (মুকীম) লোকদের জন্যে একদিন একরাত, আর প্রবাসী (মুসাফির) লোকদের জন্যে তিনদিন তিনরাত পর্যন্ত মাসেহ করার সময় নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়েছে। (অর্থাৎ একবার অযু করে মোজা পরার পর মুকীম একদিন একরাত আর মুসাফির তিন দিন তিনরাত পর্যন্ত মাসেহ করতে পারবে। অতপর পূণরায় পা ধুয়ে অযু করে নিতে হব।)

রসূলুল্লাহ সা. মোজার উপরিভাগ মাসেহ করতেন। পায়ের (পাতার) নিচের ভাগ মাসেহ করেছেন বলে সহীহ সূত্রে কোনো প্রমাণ নেই। তবে একটি মাকতু (সূত্রবিচ্ছিন্ন) হাদিসে মোজার নিচের ভাগ মোছার কথা পাওয়া যায়, কিন্তু এ বক্তব্য সবগুলো সহীহ হাদিসের বক্তব্যের বিপরীত।

রসূলুল্লাহ সা. জুতা এবং মোজা দু‘টোর উপরই মাসেহ করেছেন, যেমন কপালসহ পাগড়ি মাসেহ করেছেন। তাঁর বেশকিছু কর্মগত (ফেলী) ও বক্তব্যগত (কাওলী) হাদিস থেকে জুতা ও মোজা উভয়টার উপরই মাসেহ করার প্রমাণ পাওয়া যায়। কারো কারো মতে তিনি বিশেষ বিশেষ অবস্থায়ই কেবল এমনটি করেছেন। সম্ভবত চামড়ার জুতা খোলার অসুবিধার কারনেই তিনি জুতাসহ মাসেহ করতেন। তবে প্রকৃত কথা আল্লাহই ভালো জানেন।

আসল কথা হলো, রসূলুল্লাহ সা. কোনো বিষয়কেই অহেতুক কষ্টকর করে তুলেতেন না। সহজ পন্থা অবলম্বন করাটাই ছিলো তাঁর নীতি। মোজা পায়ে না থাকলে তিনি পা ধুয়ে নিতেন, আর মোজা পায়ে থাকলে মোজার উপর মাসেহ করে নিতেন, মোজা খোলা নিয়ে মাথা ঘামাতেন না। আবার মোজার উপরই মাসেহ করতে হবে- সেজন্যে অহেতুক মোজা পরে নিয়ে মাসেহ করতেন না। বরং পা খোলা থাকলে ধুয়ে নিতেন আর মোজা পরা থাকলে মাসেহ করে নিতেন- এটাই ছিলো তাঁর নীতি। আমাদের উস্তাদ (ইমাম ইবনে তাইমিয়া) এর মতে পা ধোয়া এবং মোজার উপর মাসেহ করা এ দুটোর মধ্যে কোনটা উত্তম, সে প্রশ্নের সঠিক জবাব এটাই।

রসূলুল্লাহ সা. –এর তাইয়াম্মুম পদ্ধতি

রসূলুল্লাহ সা. যখন তাইয়াম্মুম করতেন, এভাবে করতেন, দুই হাতের তালু শুধুমাত্র একবার মেরে তা দিয়ে দুই হাত এবং মুখমণ্ডল মাসেহ করে নিতেন। এর জন্যে দুবার হাত মারতেন বলে সহীহ হাদিসে কোনো প্রমাণ নেই। তাছাড়া তিনি হাত কুনুই পর্যন্ত মাসেহ করতেন বলেও কোনো প্রমাণ নেই। ইমাম আহমদ আম্বল বলেছেন, যারা এর বিপরীত বলেন, সেটা তাদের নিজস্ব মত, তা রসূলুল্লাহ সা. থেকে প্রমাণিত নয়।

রসূলুল্লাহ সা. সে মাটি দিয়েই তাইয়াম্মুম করতেন, যে মাটিতে নামায পড়া জায়েয। তাইয়াম্মুম করার জন্যে শক্ত মাটি, বালু এবং লোনা মাটিতে হাত মারতেন। তিনি বলেছেন, “আমার উম্মতের কোনো ব্যক্তি যেখানেই নামায পড়বে, সেখানেই তার জন্যে মসজিদ এবং পবিত্রতা অর্জনের ব্যবস্থা রয়েছে,-

-এ হাদিস থেকে পরিস্কার হয়ে যায়, কেউ যদি বালুময় স্থানে নামায পড়ে তাবে তার তাইয়াম্মুমের জন্যে বালুই যথেষ্ট।

রসূলুল্লাহ সা. যখন তাবুকের যুদ্ধে গেলেন, সেখানে পানির দুষ্প্রাপ্যতার কারণে বালু দিয়েই তাইয়াম্মুম করেছিলেন। তাবুকে যাবার সময় তিনি মাটির চাকা বয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন, কিংবা তাঁর সাহাবিগণের কাউকেও নিতে বলেছিলেন- এমন কোনো প্রমাণ নেই। আসলে বালুকার অধিকাংশই তো মাটি। হিজাজের ভূমিকা অবস্থাও অনরূপ।

রসূলুল্লাহ সা. থেকে তাইয়াম্মুমে হাত মোছার কোনো সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি জানা যায় না। একটি পদ্ধতির কথা বলা হয়ে থাকে যে, বাম হাতের তালুডান হতের পিঠের মাথা থেকে শুরু করে কুনুই পর্যন্ত নিয়ে আবার ঘুরিয়ে হাতের নিচের অংশ মুছে নিতে হবে এবং একইভাবে বাম হাতও মুছতে হবে।– এ পদ্ধতির পক্ষে রসূল সা. থেকে কোনো প্রমাণ নেই, সাহাবাগণ থেকেও নয়। তিনি এমনটি করার নির্দেশও দেননি এবং পছন্দ করেছেন বলেও প্রমাণ নেই।

রসূলুল্লাহ সা. তাইয়াম্মুমকে অযুর মর্যাদা প্রদান করেছেন। তিনি প্রত্যেক নামাযের জন্যে আলাদা আলাদা তাইয়াম্মুম করেছেন বলে কোনো প্রমাণ নেই। এমনটি করার নির্দেশও তিনি দেননি। এটাই সঠিক কতা যদি এর বিপরীত কোনো দলিল পাওয়া না যায়।

About আল্লামা হাফিয ইবনুল কায়্যিম