কারাগারে রাতদিন

সম্পুর্ণ সূচীপত্র

ষষ্ঠ অধ্যায়

আদালত

১৭ই মে’র সকালে আমাদের আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়। বিচারক মণ্ডলীর সভাপতিত্ব করছিলেন সামরিক বাহিনীর কর্ণেল ওজুমী। তাঁর হাবভাব ছিল ভীষণ কড়া ধরনের। অন্যান্য বিচারপতিরা তাঁর ডানপাশে বসেছিলেন।

এটর্নির কাছে একটি টেবিল ঘিরে কয়েকজন সাংবাদিক বিচার শুরু হবার অনেক আগে থেকেই এসে অবস্থান পর্যবেক্ষণ করছিলেন। প্রেস ফটোগ্রাফাররা আমাদের ছবি নিতে শুরু করলো। এদের মধ্যে আব্দুল আজীম নামক প্রেস ফটোগ্রাফারও ছিল। আব্দুল আজীম ইসলামী মহিলা সংস্থার বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ছবি নিতে আসতো বলে তাকে দেখেই আমি চিনতে পারি।

আমি তাকে ডেকে বললাম-

: আব্দুল আজীম। এসব সংরক্ষণ করে রেখো। পরে এসবের দরকার পড়তে পারে।

সে বলল- অবশ্যই।

সে নির্ভীকভাবে তা বলতে গিয়েও অজানা ভয়ে কেঁপে উঠল বলে মনে হলো। জবাব দিয়ে হটাৎ তার চেহারা রঙ হলুদ হয়ে উঠলো। সে কয়েক মিনিটের মধ্যে পালিয়ে বাঁচলো যেন। সাংবাদিকদের দিকে তাকিয়ে বিচারপতি কর্ণেল ওজুমী আমার নাম উচ্চারণ করেই মামলার কাজ শুরু করলেন। তিনি বললেন-

: জয়নব, কি করছো?

আমি প্রশ্নের জবাব দেয়ার জন্যে কাঠগড়া থেকে বেরিয়ে নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছাই। আমাকে যেসব প্রশ্ন করা হলো, তার সাথে তদন্তকালীন দেয়া আমার বিবৃতির সাথে কোন সম্পর্কই ছিল না।

আমি তার কথার জবাবে বললাম- আমি এসব কথা তার কাছে বলিনি। আমি শুধু দু’টি প্রশ্নের জবাব দিয়েছিলাম।

কর্ণেল বিচারপতি ওজুমী বললেন-

: হাসান হুজায়বীর কথা হচ্ছে, তুমি তাকে যে চার হাজার জিনিহ্‌ দিয়েছ, তা নিজের স্বামীর কাছ থেকে চুরি করে দিয়েছ।

আমি বললাম-

: চার হাজার জিনিহ ছিল আটক ব্যক্তিদের পরিবার বর্গের খাদ্য, বস্ত্র, শিক্ষা ইত্যাদির জন্যে ইখওয়ানদের চাঁদার টাকা। ১৯৫৪ সালের মামলার পর জামাল আব্দুল নাসের এসব পরিবার বর্গকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছিল।

আমার কথায়, বিশেষ করে শেষ বাক্য শুনে মুখোশ পরিহিত বিচারপতি ওজুমীর অবস্থা এমন হয়ে দাঁড়ায় যেন তাঁকে এই মাত্র বিষাক্ত বিছায় কামড়েছে।

তিনি এবার বললেন-

: তোমার যখন পা ভেঙ্গে যায় তখন কেন এসব টাকার ব্যাপারে তোমার মনে শঙ্কা জাগে? তোমার কাছে হাসপাতালে আব্দুল ফাত্তাহ ইসমাইল কেন আসতো? যাকে তুমি নিজের ঘরে সিন্দুকের চাবি দিয়েছিলে, তাত্থেকে টাকা নিয়ে হুজায়বীকে দেওয়ার জন্য!

আমি বললাম-

: যেহেতু ওসব ইসলামী আন্দোলনের টাকা ছিল যা কয়েদী ভাইদের পরিবারবর্গের সাহায্যার্থে জমা করা হয়েছিল। ওসব পরিবারকে আপনারাই ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছেন। …… আমি মরে গেলে সেই টাকা আমার ওয়ারিশরা নিয়ে নিতে পারে এই আশংকায় আমি টাকা তার আসল মালিক অর্থাৎ ইসলামী আন্দোলনকে ফিরিয়ে দেই।

বিচারপতি ওজুমী এবার বললেন-

: ওসব সংগঠনের টাকা, যা দিয়ে তোমরা অস্ত্র ক্রয় করতে। হুজায়বী বলেছেন, এ টাকা অর্জন সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না। …… তুমি নিশ্চয়ই তোমার টাকা চুরি করেছ।

এটর্নি মাঝখানে হস্তক্ষেপ করে বললেন-

: সাইয়েদ কুতুবের বক্তব্য মোতাবেক তিনি হামীদার কাছ থেকে ব্যাপক আকারে কর আদায়ের জন্য বলেছেন।

আমি বললাম- এসব কিছু হয়নি।

এটর্নি প্রশ্ন করলো- তাহলে, সাইয়েদ কুতুব কি মিথ্যে বলেন? আমি বললাম- আল্লাহ্‌ তাকে মিথ্যাবাদীতা থেকে মুক্ত রাখুন।

এটর্নি আর সইতে পারলো না। সেই ভরা আদালতেই বিশ্রী গালিগালাজ শুরু করে দিল। আমি বিস্মিত হলাম। আদালত কক্ষে এধরনের অশ্লীল গালি শুনবো তা জীবনে কোনদিন ভাবিনি। আশ্চর্য! এসব অসভ্য ব্যাক্তি এভাবেই কি মিশরের ভদ্রতা ও শালীনতার ঐতিহ্যকে গলা টিপে হত্যা করবে?

কর্ণেল বিচারপতি ওজুমী আমার সাথে জিজ্ঞাসাবাদ মূলতবী ঘোষণা করলে আমি আবার কাঠগড়ায় ফিরে যাই। এরপর হামীদা কুতুবকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্যে ডাকা হয়। তার সাথে সওয়াল জবাব শেষ করে তাকেও কারাগারে পাঠিয়ে দেয়া হয়। এরপর এটর্নি তার বিবৃতি পাঠ করতে শুরু করলো।

এসবকে আদালত বা বিচারালয় বলা ঠিক হবে কিনা জানিনা। যেখানে এটর্নি সম্ভ্রান্ত লোকদের বিশ্রী ভাষায় গালি দিতে পারে এবং মনগড়া অপবাদ রটনা করতে পারে, সেটা আবার কেমন আদালত? এটর্নির নামে যে ব্যাক্তিটি আদালতে দাঁড়িয়ে কথা বলছে, তার মনের কালিমা চেহারাকে কালো করে আদালত কক্ষেও তার কালো প্রভাব ছড়াচ্ছিল।

এর জঘন্য মিথ্যাবাদিতা শুনে রাগে আমার রক্ত টগ্‌বগ্‌ করে ওঠে। আমি তার আপত্তিকর কথার প্রতিবাদ করার উদ্দেশ্যে হাত তুলি। বিচারপতি গাউন পরিহিত ওজুমী ভেবেছেন, আমি হয়তো ফাঁসীর দণ্ড থেকে বাঁচার জন্যে শেষ মুহূর্তে তাদের পক্ষ অবলম্বনের উদ্দেশ্য হাত তুলেছি। তিনি আহাম্মকের মতো আমার দিকে তাকিয়ে বললেন- বল।

আমি মুহূর্ত কয়েক চুপ করে থেকে পুরো আদালত কক্ষে দৃষ্টি বুলিয়ে বলতে শুরু করলাম-

: পরম করুণাময় আল্লাহ্‌র নামে শুরু করছি। আমরা, জাতির কর্ণধার। আমরা কুরআন ও শরিয়তের হেফাজতকারী। আমাদের কাছে রাসূলই হচ্ছেন মানবতার শ্রেষ্ঠতম আদর্শ। আমরা আল্লাহ্‌র পথে অবিচল থাকবো এবং তাওহীদ, রিসালাত, ন্যায় ও সত্যের পতাকা উত্তোলিত রাখবো। এ থেকেই জাতি তার পথের দিশা পাবে। …… জালিম-অত্যাচারীদের চক্রান্ত ও ধোঁকার মুখে আল্লাহ্‌ই আমাদের নেহা্‌বান এবং তাঁরই দয়াই আমাদের জন্যে যথেষ্ট।

এরপর আমি তথাকথিত বিচারপতি এবং এটর্নির দিকে আঙ্গুলি নির্দেশ করে বলি-

: এদের মিথ্যাবাদিতা এবং অপবাদ থেকে আল্লাহ্‌ই আমাদের জান ও মাল রক্ষার জন্য যথেষ্ট।

একথা আমি কয়েকবার বললাম। তথাকথিত বিচারপতি ওজুমী হিষ্টিরিয়া গ্রস্ত রোগীর মতো চেঁচিয়ে উঠে বলল-

: থামো! থামো! তুমি এসব কি বলছো? এই বলে তিনি এম সব শব্দ উচ্চারণ করছিলেন যে, তার কসরৎ দেখে আদালত কক্ষে উপস্থিত সব লোক হাসতে লাগলো। বিচারপতিই বটে!…… বিচারপতিকে কিভাবে কথা বলতে হয়, তাও তার জানা ছিল না। বস্তুতঃ আব্দুন নাসেরের সব সহযোগীই ছিল এমন গোঁয়ার-গোবিন্দ। এসব সহযোগীই তাকে বিভ্রান্ত এবং ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। কোন ভদ্র এবং জ্ঞানীলোক তার সংস্পর্শে থাকতো না বলে সে এসব গোঁয়ার-গোবিন্দকেই বিভিন্ন দায়িত্ব পালনের জন্যে নিয়োগ করতো। এরপর আমি বসে বসে বললাম-

: মূর্খতাই হচ্ছে আসল সমস্যা। এই মূর্খতার কারণেই যতোসব মন্দ কাজের সৃষ্টি হয়। আজকের বিচারপতি ও এটর্নির যোগ্যতা ও ব্যাক্তিত্ব ইতিহাস অবশ্যই তার সাক্ষ্য লিপিবদ্ধ করে রাখবে। সেদিনের এজলাস মুলতবী হলে আমাদের জেলে ফিরিয়ে আনা হয়। আমরা প্রত্যেকেই নিজ নিজ কক্ষে ফিরে আসি। কিন্তু আমাকে আদালতে কথা বলার শাস্তি ভোগ করতে হয়।

 

চরম বর্বরতা

আমি ভেবেছিলাম, আদালতে মামলা চলছে বলে আমার উপর অত্যাচার চালানো হয়তো বন্ধ করে রাখা হবে। কিন্তু না, আগের মতোই আমাকে তদন্তের নামে অফিসে অফিসে ঘোরানোর কাজ চলতে থাকে। এবার আমাকে কয়েকজন লোক সম্পর্কে তথ্য দিতে বলা হয়। আমি এ ব্যাপারে অজ্ঞতা প্রকাশ করলে, আমাকে দেয়ালের দিকে মুখ করে দাঁড় করিয়ে মারধোর করা হয়। একদিকে আদালতে মামলার কাজ চলছে। অন্যদিকে আমার উপর সমানে অত্যাচার চলছে। কোন অভিযুক্তের সাথে এমন দুর্ব্যবহারের নজীর ইতিহাসে পাওয়া যাবে না। কোন আদালত বা কোন তদন্তকারী দল কি এ- ধরণের অন্যায় আচরণ করতে পারে? এমনকি ইসলামী আন্দোলনের প্রথম দিকে সেই অন্ধকার যুগের কোরাইশরা পর্যন্ত মুসলমানদের বিরুদ্ধে এমন জঘন্য অসৎ আচরণ করেনি। সত্যিই করেনি। ইতিহাস তার সাক্ষী।

 

মামলার রায় ঘোষণা

মামলার রায় ঘোষণার দিন আমাকে এবং হামীদাকে একখানা আলাদা গাড়ীতে করে সিপাহীদের কড়া পাহারায় আদালতের রায় শোনার জন্যে নেয়া হয়। আমাদের আগের গাড়ীতে পুরুষ বন্দীদের নেয়া হয়। প্রথমে পুরুষদের শুনানী শুরু হয়। ততক্ষণ আমাদের পৃথক কক্ষে বসিয়ে রাখা হয়। এরপর আমাদের আদালত কক্ষে আনা হয়। প্রথমে আমার নাম ডাকা হয় এবং “ পঁচিশ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড সহ আমার স্থাবর-অস্থাবর যাবতীয় সহায়-সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত” ঘোষণা করা হয়। আমি আদালতের রায় শুনে বললাম-

: আল্লাহু আকবার। সব প্রশংসা আল্লাহ্‌র জন্যে!…… জয়নব সত্যের পথে, ইসলামী আন্দোলনের পথে কোন দুর্বলতা দেখালে চলবে না। কোন ভয় বা দুঃখের কারণ নেই। …… মুমিন হয়ে বেঁচে থাক, শেষ পর্যন্ত সাফল্য তোমারই পদচুম্বন করবে।

আমার পর বোন হামীদা কুতুবের নাম ঘোষণা করা হলো-

“দশবছর সশ্রম কারাদণ্ড”।

আমি উঠে হামীদাকে গলা জড়িয়ে বললাম-

: আল্লাহু আকবার। আল্লাহ্‌র শোকর। ইসলামী শাসন ব্যবস্থা কায়েমের পথে আল্লাহ্‌র সন্তুষ্টির পথে আমাদের চেষ্টা ও সংগ্রাম সাফল্যের পথে, আমরা সন্তুষ্ট।

আমরা স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে বলতে আদালত প্রাঙ্গণে এসে উপস্থিত হই। ওখানে গাড়ী ভরা ইখওয়ান ভাইদের দেখতে পাই। ওঁদের ব্যাপারে আমরা খুবই উদ্বিগ্ন ছিলাম। ওরা আমাদেরকে দেখতে পেয়ে একজন উচ্চকণ্ঠে জিজ্ঞেস করলেন-

: “……জয়নব বোন……?”

আমি জবাব দিলাম- “ ইসলামী শাসন ব্যবস্থা কায়েমের পথে পঁচিশ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড”।

তিনি এবারে জানতে চাইলেন- “…… হামীদা বোন……?”

আমি বললাম- আল্লাহ্‌র দুনিয়াতে আল্লাহ্‌র দ্বীন প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে দশ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড”।

আমি তাঁদের কাছে জনাব সাইয়েদ কুতুব, ভাই আব্দুল ফাত্তাহ ইসমাইল এবং ইউসুফ হাওয়াশের খবর জানতে চাইলে তাঁরা জানালেন- …… আল্লাহ্‌র পথে শহীদ…… বুঝলাম তাঁদের মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে। হাত তুলে আল্লাহ্‌র কাছে মোনাজাত করলাম।–

: হে পরওয়ারদিগার! তোমার সন্তুষ্টির পথে নিবেদিত তাঁদের মহান আত্মত্যাগ কবুল কর এবং বিনিময়ে এই যমিনের বুকে ইসলামী শাসন প্রতিষ্ঠার জন্যে তোমার মুজাহিদদের শক্তি-সাহস ও সাহায্য দান কর। ইনশাআল্লাহ্‌ আল্লাহ্‌র দ্বীনই বিজয়ী হবে।

সাফওয়াত এবং অন্যান্য সিপাহীরা এসে আমাকে এবং হামীদাকে একটি ছোট্ট গাড়ীতে তুলে দিল। সাংবাদিক এবং প্রেস ফটোগ্রাফাররা আমাদের দেখে ছুটে এলো। ওরা ছবি নিতে চাচ্চিল। আমার কাছে তা খুব আপত্তিকর মনে হয়। আমি তাদের ডেকে বললাম-

তোমরাও কি এসব জালিম অত্যাচারীদের অনুসারী? আমাদের উপর অন্যায়-অবিচারে তোমরাও কি আনন্দিত?…… জাতীয় ঘৃণ্যতম শত্রুদের সাথে কি তোমরা হাত মিলিয়ে আছ?…… যদি তা হয় হলে এসব কি হচ্ছে? কি দেখতে পাচ্ছি?

(*****ছবি****)

আমাদের জেলে পৌঁছানোর পরপরই নির্যাতনের নতুন ধারা শুরু হয়ে যায়। তবে আদালতের রায় ঘোষণার পর থেকে আমাকে এবং বোন হামীদা কুতুবকে একই কক্ষে রাখা হয়।

 

সাইয়েদের সাথে কয়েক মুহূর্ত

মৃত্যুদণ্ড ঘোষণার পাঁচদিন পরে ভাই সাইয়েদ কুতুব এসে আমাদের কক্ষের কড়া নাড়লেন। দরজা খুললে তিনি একজন সামরিক অফিসারের সাথে ভিতরে এলেন। তাকে ভিতরে রেখে অফিসার ফিরে চলে যায়। অবশ্য সাফওয়াত সাইয়েদ কুতুবের কাছে বসে থাকে। আমি বীর সাইয়েদকে খোশ্‌ আহমেদ জানিয়ে বললাম।

: আপনি আমাদের কাছে কয়েক মুহূর্তের জন্যে বসেছেন- তা আমাদের উপর আল্লাহ্‌র বিশেষ রহমতের সমতুল্য এবং এটাকে আমরা আমাদের জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সৌভাগ্য বলে মনে করি।

তিনি অত্যন্ত সহজ এবং স্বাভাবিক কণ্ঠে আমাদের সাথে মৃত্যু এবং তার নির্ধারিত সময় সম্পর্কে তত্ত্বগত আলোচনা করতে গিয়ে বলেন-

: জীবন-মৃত্যুর এখতিয়ার পুরোপুরি আল্লাহ্‌র হাতে। আল্লাহ্‌ ছাড়া অন্য কেউ এ ব্যাপারে কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারে না।

তিনি আমাদেরকে আল্লাহ্‌র সন্তুষ্টি অর্জনের পথে অবিচল থাকতে বলেন। তিনি বলেন- আমাদের জীবনের উদ্দেশ্যই আল্লাহ্‌র ইবাদাত করা এবং তাঁরই সন্তুষ্টির জন্যে জান-মাল কোরবান করার মধ্যেই নিহিত রয়েছে আমাদের জীবনের পরম স্বার্থকতা। এরপর তিনি তাঁর বোন হামীদা কুতুবকে কানে কানে কিছু উপদেশ দেন এবং চাপাকণ্ঠে আমাকেও কিছু পরামর্শ দেন। সত্যদ্রোহী সাফওয়াত আমাদের কথাবার্তায় অসহ্য হয়ে গর্জে উঠলো এবং সাইয়েদকে উঠে যেতে বলল। এ ধরণের কঠিন সন্ধিক্ষণে পাথরও হয়তো গলে যেতো। কিন্তু পাপিষ্ঠ জালিমদের মন পাথরের চেয়েও কঠিন। মানবতাবোধ বলতে তাদের কোন অনুভূতিই নেই। কয়েকদিনের মধ্যেই যে ভাই শহীদ হতে যাচ্ছেন, তাকে তার বন্দিনী বোনের সাথে কয়েক মুহূর্ত কথা বলার সুযোগ দিতেও তারা নারাজ।

সাইয়েদ কুতুব সাফওয়াতের অভদ্র আদেশ শুনে আমাদের লক্ষ্য করে বললেন-

: কোন পরওয়া নেই। আমাদের অন্তরে ধৈর্য্যের স্থান বহাল থাকা চাই। এই বলে তিনি আমাদের সালাম জানিয়ে চলে গেলেন।

 

ফাঁসীর আগের পাঁয়তারা

ফাঁসীর জন্যে নির্ধারিত রাতে নাসেরের এজেন্টরা বোন হামীদা কুতুবকে ডেকে যে আলাপ-আলোচনা করে, তা তার মুখেই শুনুন। বোন হামীদা বললেন-

: হামজা আমাকে অফিসে তলব করে মৃত্যুদণ্ড সরকারী নির্দেশনামা ও তার আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি-পত্র আমাকে দেখিয়ে বলল-

: আপনার ভাই যদি এখনো আমাদের কথামতো জবাব দেন তাহলে সরকার তাঁর মৃত্যুদণ্ড প্রত্যাহার করতে রাজী আছেন। …… দেখুন, আপনার ভাইয়ের ফাঁসী পুরো জাতির জন্যে দুঃখজনক এবং শোকাবহ হবে। আর তা মিশরের এক অপূরণীয় ক্ষতি বলে বিবেচিত হবে। …… আমার বিশ্বাস করতে মনে চাচ্ছেনা যে, মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরেই এই মহান ব্যক্তিত্বকে আমরা চিরদিনের জন্যে হারিয়ে ফেলবো। …… আমরা যে কোন উপায়ে হোক আপনার ভাইকে এই অবাঞ্চিত মৃত্যুদণ্ড থেকে বাঁচাতে আগ্রহী। অবশ্য এজন্যে তাঁকে কেবল দু’একটি কথাই বলতে হবে। এরপরই তাঁকে ফাঁসীর দণ্ড থেকে রেহাই দেয়া হবে। …… আমরা জানি যে, আপনি ছাড়া অন্য কেউই তাঁকে কথায় রাজী করাতে পারবে না। এ ব্যাপারে আপনি শেষ ভরসা…… এসব কথাবার্তা আমার দায়িত্তেই থাকবে। কিন্তু আমার চেয়ে আপনিই তাঁর উপর প্রভাব ফেলতে সক্ষম হবেন। ব্যাস-শুধু একটি কথাই তিনি বলবেন। এরপর সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। তাকে শুধু এ কথাটাই বলতে হবে যে, এই আন্দোলনের আসল সম্পর্ক অন্য কোন দেশের সাথে রয়েছে। এই কথাটা বলা মাত্রই আমরা তাঁর অবনতিশীল স্বাস্থ্যের অজুহাত দেখিয়ে মৃত্যুদণ্ড মওকুফ করে তাঁকে মুক্তি দিয়ে দেবো।

ওরা কথা শুনে আমি বললাম-

: কিন্তু তোমরা প্রত্যেকেই এবং তোমাদের প্রেসিডেন্ট নাসের জানে যে, এই আন্দোলনের সাথে অন্য কোন দেশ বা শক্তির কোন সম্পর্ক নেই। হামজা স্বীকার করে বলেন –

: প্রতিটি লোকই এটা জানে যে, তোমরা মিশরে ইসলামের জন্যে নিঃস্বার্থভাবে কাজ করছ এবং তোমরা নিঃসন্দেহে দেশের সবচেয়ে উত্তম ও চরিত্রবান লোক সচেতন ও শিক্ষিত লোক; কিন্তু এখন সাইয়েদ কুতুবকে বাঁচানোই হচ্ছে আসল কথা। আমি তখন বললাম –

তোমাদের হাই কমান্ড যদি একথা তাঁর কাছে পৌঁছানোর ব্যাপারে বিশেষভাবে আগ্রহী হয়, তাহলে আমার কোন আপত্তি নেই।

এরপর হামজা সাফওয়াতকে ডেকে বলল-

: একেঁ তাঁর ভাইয়ের কাছে পৌঁছিয়ে দাও।

আমি আমার ভাই সাইয়েদ কুতুবের কাছে গিয়ে সরকারের পায়গাম পৌঁছিয়ে দিই। তিনি সব শুনে আমার দিকে গম্ভির দৃষ্টিতে দেখে নীরব-নিঃশব্দেই যেন জিজ্ঞেস করলেন-

: তুমিও কি চাও? নাকি এটা শুধু ওদেরই ইচ্ছে?

আমি আমার ইঙ্গিতে জানালাম-

: এটা আমার কথা বা ইচ্ছে নয়।

এরপর সাইয়েদ কুতুব গম্ভীর দৃষ্টিতে চেয়ে গম্ভীর কণ্ঠে বললেন –

আল্লাহ্‌র শপথ আমি যা বলেছি তা সত্যই বলেছি। বিশ্বের কোন শক্তিই কোন কিছুই বিনিময়েই আমার মুখ দিয়ে মিথ্যে বলাতে পারবেনা।

আমি কোন রকমের অনুচিত কথা বলিনি।

সাফওয়াত জিজ্ঞেস করলো-

: এটাই কি তোমার মত? একথা জিজ্ঞেস করে সে আমাদের ওখানে রেখে যেতে বলল-

: কিছুক্ষণ আরো বসে বুঝতে পার কিনা, চেষ্টা করে দেখ।

আমি আমার ভাইকে প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত সব ঘটনা খুলে বলে চললাম।

হামজা আমাকে ডেকে মৃত্যুদণ্ডের সরকারী নির্দেশনামা দেখিয়েছ এবং আপনার কাছে তার পক্ষ থেকে সরকারের পয়গাম পৌঁছাতে অনুরোধ করে। আমার ভাই আমাকে জিজ্ঞেস করলেন-

: তুমি কি তাতে সুখী হবে?

আমি বললাম- না!

তিনি শান্ত সহজ কণ্ঠে বললেন-

 : লাভ-ক্ষতি মানুষের আয়ত্তাধীন নয়। জীবন এবং জীবনের আনুসঙ্গিক সব কিছু আল্লাহ্‌র ইচ্ছাতেই হয়ে থাকে। কোন ব্যক্তি আমার হায়াত বাড়াতে বা কমাতে পারে না। কারণ যা করার তা শুধু আল্লাহ্‌র হাতেই রয়েছে। তিনিই সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করেছেন।

 

ফয়সালা কার্যকরী

কয়েকদিন পর আমরা সাইয়েদ কুতুব, আব্দুল ফাত্তাহ ইসমাইল ও মোহাম্মদ হাওয়াশের শাহাদাতের খবর শুনি। এ খবর আমাদের উপর যেন বজ্রপাতের মতো পড়লো। এ’রা প্রত্যেকেই ছিলেন জাতীয় নেতা। তাঁদের প্রজ্ঞা, দূরদর্শিতা, উন্নত চরিত্র, মহানুভবতা, বিপ্লবী চিন্তাধারা এবং ইসলামী বৈশিষ্ট্যের জন্যে গোটা জাতির কাছে এঁরা ছিলেন আন্তরিক ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার পাত্র। এমন কি শত্রুরা পর্যন্ত তাদের বলিষ্ঠ নৈতিক-চারিত্রিক গুণাবলীর অকুণ্ঠ স্বীকৃতি দিলে কার্পণ্য করতো না। আজ তাদের মতো মহান জন-নায়কদেরকে বিদেশী লাল-সাম্রাজ্যবাদের ইঙ্গিতে ফাঁসীর কাষ্ঠে ঝুলিয়ে দেয়া হয়েছে। কি মর্মান্তিক বিশ্বাসঘাতকতা মহান বিপ্লবী নেতা সাইয়েদ কুতুবকে শহীদ করে দেয়া হয়েছে। আর তাঁর বোন আমারই সাথে লৌহকারার অন্তরালে আমারই পাশে বসে। কোন ভাষায়, কোন শব্দে যে তাঁকে শান্তনা দেবো, তা ভেবে পাচ্ছিলাম না। ব্যথায়-দুঃখে আমিও মুহ্যমান; নির্বাক-নীরবতা ছাড়া কোন ভাষাই খুঁজে পাচ্ছিলাম না। কিইবা আমি বলতে পারি? কিইবা করতে পারি?এটা আমার বা কোন ব্যক্তি বিশেষের দুঃখ নয়; এই দুর্ঘটনায়, এই দুঃখে গোটা মিশর, সমগ্র মুসলিম বিশ্ব শোকাভিভূত। এই ক্ষতি শুধু মিশরে নয়, বরং সমগ্র মুসলিম জাহান আজ তাদের মহান নেতার নেতৃত্ব থেকে বঞ্চিত হয়ে পড়েছে। এটা কোন সহজ কথা নয়। সহজভাবে এই ক্ষতি বরদাস্ত করা সম্ভব নয়। আল্লাহ্‌র দুনিয়ায়-মুসলমানদের দেশে-ইসলামের নাম নেয়াকে অপরাধ গণ্য করে ইসলামী আন্দোলনের নেতাদের ফাঁসিতে ঝোলানো হবে আর কোন প্রতিক্রিয়া হবে না, তা কেমন করে হতে পারে?

সাইয়েদ কুতুব কুরআনের মোফাচ্ছের, ইসলামের মুবাল্লেগ, ইসলামী সাহিত্যের দিকপাল, ইসলামী আন্দোলনের নির্ভীক আপোষহীন নেতা, খোদার পথের বিপ্লবী মুজাহীদ-লাখো অন্ধকে দিয়েছেন সত্যের দৃষ্টি, বিশ্বের কোণে কোণে যার যুক্তিবাদী সাহিত্যের অসাধারণ সমাদর, সেই তেজস্বী বাগ্মী পুরুষকে হত্যা করা হয়েছে। কেমন লাগে কথাটা ভাবতে। আজকের যুগে কুরআনের পয়গামকে যথার্থভাবে বোঝার জন্যে তিনি সম্পূর্ণ আধুনিক ও যুক্তি নির্ভর দৃষ্টিকোণ থেকে রচনা করেন তাঁর বিখ্যাত তাফসীর গ্রন্থ “ ফী জিলালিল কুরআন”- কুরআনের ছায়াতলে। আধুনিক বিশ্বের জটিল আর্থিক, সামাজিক ও প্রশাসনিক সমস্যাবলীর পরিস্কার ইসলামী সমাধান পেশ করেন তিনি তাঁর অমর গ্রন্থে। সূরা আনয়ামের ভূমিকায় তিনি মানুষের সামনে মুক্তির সঠিক পথ তুলে ধরেন।

ইসলামে সামাজিক সুবিচার; ইসলামের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ, কিয়ামতের দৃশ্য, কুরআন মানবতার জীবনাদর্শ ইত্যাদি গ্রন্থ সব বিশটি গ্রন্থের রচয়িতা ইমাম সাইয়েদ কুতুব। তাঁর এক একটি গ্রন্থ আজকের বঞ্চিত মানবতার জন্যে এক একটি অমূল্য সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

তাঁর বিখ্যাত রচনা ‘মাআলিম ফিত-তারীক’ পড়লেই বুঝতে পারা যাবে যে, বৃহৎ শক্তিবর্গ ও তাদের দোসররা তাকে হত্যা করার জন্যে কেন উঠে পড়ে লেগেছিল। ইমাম সাইয়েদ কুতুব দুই বৃহৎ শক্তির নিষ্ঠুর কবল থেকে বিশ্বের নিষ্পেষিত মানবতাকে মুক্তির পথ নির্দেশ দান করেন। তিনি তথাকথিত দুই পরাশক্তির অক্টোপাস থেকে মুক্ত হয়ে বিশ্বমানবতাকে তাদের স্বাভাবিক জীবনাদর্শ ইসলাম মোতাবেক নব জীবনের সূচনা করার আহ্‌বান জানান। আর বিশ্বজোড়া ইসলামী পূণর্জাগরণের অর্থই হচ্ছে- পুঁজিবাদী আমেরিকান সাম্রাজ্যবাদ এবং সমাজবাদী সোভিয়েত সাম্রাজ্যবাদের পতন। এই জন্যে দুই বৃহৎ শক্তি তাদের শত পারস্পরিক বিরোধ সত্ত্বেও ইসলামী আন্দোলনের বিরুদ্ধে আদা-নুন খেয়ে নেমেছে। সাইয়েদ কুতুব মুসলিম জাতিকে তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন করে দিয়ে কুরআনের ভাষায় বলেন-

: মানুষের মধ্যে তোমরাই শ্রেষ্ঠ জাতি। সুতরাং শ্রেষ্ঠ জাতি হিসেবে তোমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্যে অবহেলা চলবে না। তিনি অত্যন্ত আশাবাদী হয়ে বলেন-

: বাতিল ও কুফরী শক্তি যতই বিরোধিতা করুকনা কেন, ইসলামের অনির্বাণ আলোকে এই বিশ্ব আবার উজ্জ্বল হয়ে উঠবে।

 

শেষ কয়দিন

যেদিন ইমাম সাইয়েদ কুতুবকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়, সেদিন ভোরে ফজরের নামজের পর ঘুমিয়ে আমি সপ্নে দেখলাম, তিনি আমাকে বলছেন-

: জেনে রেখো, আমি ওসব লোকদের সঙ্গী নই, আমি প্রিয়নবীর সাথে মদীনায় আছি। এই টুকুতেই আমার ঘুম ভেঙ্গে যায়। আমি উঠে হামীদাকে স্বপ্নের বিবরণ শোনাই। ফাঁসীর দ্বিতীয় দ্বীন ফজরের নামাজের পর তসবীহ্‌ পড়তে পড়তে আমি আবার ঘুমিয়ে পড়লে আমি নেপথ্যে আওয়াজ শুনতে পাই-

: সাইয়েদ জান্নাতুল ফেরদৌসে অবস্থান করছেন।

ঘুম ভেঙ্গে গেলে আমি স্বপ্নের কথা হামীদাকে বলি। শুনে তাঁর চোখ বেয়ে দরদর করে অশ্রু গড়াতে লাগলো। তিনি বাকরুদ্ধ কণ্ঠে বললেন-

: আল্লাহ্‌র মেহেরবানীর উপর আমার অবিচল বিশ্বাস রয়েছে। তিনি অবশ্যই জান্নাতুল ফেরদৌসে আছেন। আমি বললাম, স্বপ্নের মাধ্যমে আল্লাহ্‌ পাক আমাদেরকে সাইয়েদের সৌভাগ্যের ইঙ্গিতই দিচ্ছেন।

এদিকে জালিমরা আমাদের উপর তাদের জুলুমের হাত চালিয়ে যেতে লাগলো। সে কঠিন অত্যাচার কোন মানুষের পক্ষে সহ্য করা সম্ভব নয়। এর মধ্যে আবার তথাকথিত তদন্তের নামে নিত্য দিন অফিসে অফিসে ঘোরানোর কসরতও চালানো হয়। মনে হচ্ছিল, আদালতের রায় ঘোষণার পর আনুষ্ঠানিক শাস্তি ছাড়া অন্যান্য জুলুম থেকে মুক্তি পাবো। কিন্ত সে আশা দুরাশা মাত্র। তারা আমাকে স্বস্তি দেবে কেন?আমাকে প্রতিদিন হয়রানীর জন্যে অফিসে অফিসে ঘোরানো হতো আর আমি বোন হামীদাকে একা শোকাভিভূত রেখে জল্লাদদের অনুসরণ করতে বাধ্য হতাম। প্রতিদিনই অফিস থেকে ফিরে এসে তাঁকে খবর দিতে হতো যে আজো জালিমরা অনেক মুসলমানকে গ্রেফতার করে এনেছে। ওরা আমাকে অজানা-অচেনা লোকদের সম্পর্কে তথ্যাদি জিজ্ঞেস করতো। আসলে ওরা আরো অন্যান্য মামলায় জড়াতে চাচ্ছিল। আমার পঁচিশ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডেও যেন ওরা তৃপ্ত হতে পারেনি। এভাবে দুঃসহ অবস্থার মধ্যে আমরা কারাগারের এক একটি মুহূর্ত কাটাচ্ছিলাম। প্রতি মুহূর্তকেই শত বছরের মতো দীর্ঘ মনে হচ্ছিল। এই দুঃখ-দুশ্চিন্তা ও বিরক্তি থেকে বাঁচার একমাত্র উপায় ছিল পবিত্র কুরআন পাঠ। কুরআন পড়তে বসে সব দুঃখ ভুলে যেতাম এবং এক অপার্থিব প্রশান্তিতে মনপ্রাণ জুড়িয়ে যেতো। আল্লাহ্‌ যথার্থই বলেছেন- “ শোন, আল্লাহ্‌র জিকির হৃদয়ে ধৈর্য ও প্রশান্তির সৃষ্টি করে”।

কিছুদিন পর আমরা পত্রিকার দাবী করি। অতএব কারাগারের তহবিলে আমাদের জমা টাকা থেকে হামজা আমাদের জন্যে পত্রিকা আনানোর ব্যবস্থা করে দেয়। পত্রিকা আসার পর অনেক দিন পড়ে বাইরের দুনিয়ার খোঁজ-খবর পেতে শুরু করলাম। এতে করে সময়ও ভাল কাটতে লাগলো।

কারাগারে বসে আমার সমস্যার অন্ত ছিল না। এদিকে প্রায় প্রতিদিনই নাসেরের বিরুদ্ধে কোন না কোন ষড়যন্ত্রের খবর আসছিল। যেই মাত্র কোন ষড়যন্ত্রের গুজব উঠতো, অমনি আমাকে নিয়ে টানা-হেঁচড়া শুরু করে দিত। ধারাবাহিকভাবে চলতে থাকতো অর্থহীন জিজ্ঞাসাবাদ। ব্যাপার ঘটতো বাইরের মুক্ত পৃথিবীতে আর এখানে কারাগারের বন্ধ কক্ষে অবস্থানকারী বন্দিনীকে দিতে হতো ওসব কৃত্রিম ষড়যন্ত্রের জবাবদিহি। বস্তুতঃ এসব ষড়যন্ত্রের খবর সরকার নিজেই তৈরী করে প্রচার করতো। প্রতিদিনই ষড়যন্ত্রের ফাঁস হচ্ছে আর প্রতিদিনই আমার মাথায় এসে পড়ছে অবাঞ্ছিত বজ্রপাত।

 

আমার স্বামীর ইন্তেকাল

আদালতে রায় ঘোষণার পড়ে হামজা বিসিউবিকে ডেকে আমি আমার স্বামীর সাথে দেখা করার ব্যবস্থা করতে বললাম। কয়েকদিন পরেও তিনি আসেননি দেখে আমি তাকে আবার সেকথা স্মরণ করিয়ে দিলাম। এ অজুহাতে আমাকে অফিসে ডেকে স্বামীর সাথে দেখা করার উদ্দেশ্য জিজ্ঞেস করা হয়। আমি তখন তাদেরকে বললাম-

: আমি পঁচিশ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত এবং বন্দিনী। এ ব্যাপারে তাঁর সাথে দাম্পত্য সম্পর্ক নিয়ে আলাপ করে তাঁকে আমি সম্পর্কের আওতা থেকে মুক্ত করতে চাই। তাঁর মতামত ও পরামর্শ শোনা দরকার। আমার কথা শুনে হামজা বলল-

: আব্দুন নাসের তোমাকে ফাঁসীতে ঝোলাবে না বরং তিলে তিলে ধ্বংস করবে।

আমি বললাম-

: আল্লাহ্‌ ভরসা! আব্দুন নাসের, তোমরা এবং পুরো দুনিয়ার লোকের এতটুকু শক্তিও নেই যে, তারা একটি গাছের পাতা ঝরাবে। আল্লাহ্‌র ইচ্ছার বিরুদ্ধে কেউ কিছু করতে পারে না।

হামজা বলল- আমরা শিগগীরই তোমার কাছে তোমার স্বামীর তালাক নামা পৌঁছাবো।

: তোমরা সত্যিই জানোয়ার! – একথা বলে আমি ফিরে আসি। আমি সে’লে ফিরে আসি সত্যি কিন্তু আমার অন্তর ভীষণভাবে ছটফট করছিল। অত্যন্ত অস্থিরতার মধ্যে দিন কাটে। একদিন ফজরের নামাজের পর ঘুমিয়ে স্বপ্নে দেখলাম, পত্রিকায় আমার স্বামীর মৃত্যু সংবাদ প্রকাশ পেয়েছে। আমি আরো উদ্বিগ্ন হয়ে পড়লাম। তাঁর জন্যে আল্লাহ্‌র দরবারে হাত তুলে বললাম-

: হে জীবন-মৃত্যুর মালিক! মৃত্যুকে ফিরিয়ে দাও তাতো বলতে পারিনা। তবে তার উপর রহমত বর্ষণ কর। সেদিন বোন হামীদাও সেই একই স্বপ্ন দেখেন। পরের দিন শুক্রবারের পত্রিকা এলে আমরা সত্যি সত্যিই পত্রিকায় আমার স্বামীর ইন্তেকালের খবর পাঠ করে ভেঙ্গে পড়লাম। প্রিয়তম স্বামীর ইন্তেকালের খবর পড়ে আমি ধৈর্য হারিয়ে ফেলে শিশুর মতো কাঁদতে থাকি। কাঁদতে কাঁদতে আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। আমার জন্যে ডাক্তার ডাকা হয়।

কয়েকদিন পরে আমার পরিবারের সদস্যরা আমার সাথে দেখা করতে এলে তাঁরা জানান যে, আব্দুন নাসের এবং তার সৈন্যরা আমার স্বামীকে ত্যাগ করতে অথবা জেল বরণ করার জন্যে বাধ্য করে। আমার স্বামী অত্যন্ত সরল প্রাণ এবং সম্ভ্রান্ত ব্যাক্তি। সমাজে তিনি প্রত্যেকের শ্রদ্ধেয় হাজী সাহেব বলে পরিচিত।

নাসেরের লোকেরা খুব বেশী পিড়াপীড়ি শুরু করলে তিনি এ ব্যাপারে ভাবনা চিন্তার জন্যে দু’সপ্তাহ সময় চান। কিন্তু তারা কোন সময় দিতে অস্বীকার ক’রে জোর-জবরদস্তি আমার স্বামীকে তালাকনামায় স্বাক্ষর করতে বাধ্য করে। তিনি তাদের এ কথা স্পষ্ট করে জানিয়ে বলেন যে-

: আল্লাহ্‌ সাক্ষী রয়েছেন, আমি আমার স্ত্রী জয়নব আল-গাজালীকে কোন অর্থেই তালাক দেইনি।

তিনি আরো বলেন, আমি বুড়ো হয়েছি। আমার মৃত্যু নিকটবর্তী! আমাকে তোমরা স্ব সম্মানে শান্তির মৃত্যুবরণ করতে দাও। …… আমার জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত জয়নব আমার স্ত্রী থাকবে।

হয়েছেও তাই। আমার স্বামী কারাদণ্ডের খবর শুনে মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এমনিতেও তিনি পক্ষাঘাত ভুগছিলেন তাঁর কোম্পানির লোকসান, আমার গ্রেফতারী, ঘরবাড়ী বাজেয়াপ্ত ইত্যাদি কারণে তিনি ভীষণভাবে দুশ্চিন্তাগ্রস্থ হন। আমার স্বামীর কাছ থেকে জবরদস্তি স্বাক্ষর আদায়ের পরপরই তিনি ইন্তেকাল করেন।

বিয়ের আগে আমার স্বামী আমার দ্বীনি ভাই ছিলেন। দাম্পত্য সম্পর্ক থেকেও ঈমানের সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত মধুর। তাঁর সাথে আমার দাম্পত্য সম্পর্কও ছিল অত্যন্ত মধুর। তাঁর ইন্তেকালের পর আমার আত্মীয় স্বজনরা যথাযোগ্য মর্যাদার সাথে তাঁর দাফন-কাফনের কাজ সমাধা করেন। এজন্যে আমি তাদের প্রত্যেকের কাছে ঋণী।

আমি প্রিয় নবীকে স্বপ্নে দেখার যে ঘটনা উল্লেখ করেছি সে দ্বীনের তারিখ আমি লিখে রেখেছিলাম। আমি তারিখ মিলিয়ে দেখলাম যে, ঠিক সেদিনই শত্রুরা আমার স্বামীকে তালাকনামায় সাক্ষরের জন্যে বাধ্য করে। আমি প্রিয় নবীকে পরিস্কার সাদা ধবধবে পরিচ্ছেদ স্বপ্নে দেখলাম। প্রিয়নবীর পিছনে জনাব হাসান হুজায়বীকেও সাদা পোশাক সাদা টুপি পরিহিত অবস্থায় দেখলাম। আমি দাঁড়িয়েছিলাম এবং আমার পাশেই ছিলেন মা হযরত আয়েশা (রাঃ) এবং অন্যান্য কয়েকজন মহিলা। তিনি আমাকে কিছু উপদেশ দিচ্ছিলেন। এমন সময় প্রিয়নবী সেখানে এলেন এবং মা আয়েশা (রাঃ)- কে ডেকে বললেন-

: ধৈর্য ধারণ কর আয়েশা! ধৈর্য ধারণ কর! এর সাথে সাথে মা আয়েশা (রাঃ) আমার হাত ধরে মৃদুচাপ দেন এবং ধৈর্যধারণ করার উপদেশ দেন।

আমি ঘুম থেকে জেগে বোন হামীদাকে স্বপ্নের বিবরণ বলি। তিনি ধৈর্য শক্তি বৃদ্ধির জন্যে আল্লাহ্‌র দরবারে দোয়া করেন। সেদিনই আমি অনুভব করি যে আমার সামনে হয়তো বিরাট কোন বিপদ অপেক্ষা করছে। সুতরাং নতুন পরীক্ষার সাফল্য অর্জনের জন্যে আমি আল্লাহ্‌র দরবারে হাত তুলে বলি-

: হে, অসহায়ের সহায়। আমাকে ধৈর্য-শক্তি দাও, আমাকে তোমার মেহেরবাণীর ছায়াতলে আশ্রয় দাও।

 

নয়া প্রতিবেশী

শীতের এক প্রচণ্ড হিমেল রাতে আমাদের পাশের কক্ষে দারুন হৈ-চৈ শোনা গেল। আমরা অবগতির জন্যে কক্ষের দরজা খুললে দেখতে পেলাম সালাহ্‌ আমাদের দিকে আসছে। সে এসেই সকালে দিয়ে যাওয়া বমি নিরোধক ঔষুধ চাইলো। তাকে আমরা তক্ষুণি ঔষুধ দিয়ে দেই। পরের দিন সে আমাদের পাশের কক্ষের প্রতিবেশীরা হচ্ছে ইয়েমেনের প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁর বিশ জন সহকর্মী। ব্যাপারটা অস্বাভাবিক হলেও এতে আমি তেমন বিস্মিত হয়নি। কারণ কথায় বলে, জেল মানে যাদুঘর। এখানে সব কিছুই সম্ভব।

আব্দুন নাসের বেশ জোরে শোরেই ইয়েমেন জয়ের অপপ্রচার চালিয়ে বেড়াচ্ছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, ইয়েমেনের প্রধানমন্ত্রী মিশরের কারাগারে বন্দী কেন? আপনারা কি কেউ শুনেছেন যে, বৃটিশ সাম্রাজ্যবাদ মিশর জয় করে ডজন ডজন মিশরীয়কে লন্ডনের কারাগারে নিয়ে বন্দী করেছে। অথবা নেপোলিয়ান বোনাপাট্‌ মিশর অধিকার করে কি কোন মিশরীয়কে প্যারিসের কারাগারে নিয়ে আটক করেছিল?

 

নাসেরের বিচার চাই

নাসেরের অসংখ্য গুরুতর অপরাধের জন্য তার বিরুদ্ধে মামলা চালানো হয়নি কেন, তা আমি জিজ্ঞেস করতে পারি কি? মিশর তার জাতীয় ইতিহাসে মর্যাদার আসন এজন্যেই কি হারায়নি যে, এখানে জালিম-অত্যাচারীদের দমন করার কোন পদক্ষেপই নেয়া হয়নি!

এসব অপরাধীদের অপরাধ- তৎপরতা থেকে আজো যদি দেশকে বাঁচানো না হয় তাহলে সমস্যা আরো জটিলরূপ ধারণ করবে।

মিশরে স্বৈরাচারী শাসনের চরম দুর্দিনে জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণের মহান দায়িত্ব পালনে এগিয়ে এসেছিল ইখওয়ানুল মুসলিমুন। ইখওয়ানুল নির্ভীকভাবে অন্যায়-অবিচার ও জুলুম-সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানায় এবং জনগণের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবী তোলে। প্রথম দিকে নাসের মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে ইখওয়ানকে প্রতারিত করার চেষ্টা করে। কিন্তু শিগ্‌গীরই থলের বিড়াল বেরিয়ে পড়ে এবং তার মুখোশ খসে পড়ে। যখন এতে আর কারো সন্দেহ রলো না যে, নাসের সোভিয়েত সাম্রাজ্যবাদের পোষা দালাল, তখন শত্রুর মোকাবেলায় ইখওয়ানের সাথে গোটা জাতি সোচ্চার হয়ে ওঠে। ১৯৫৪ সালে জাতি সত্যের সংগ্রাম ইখওয়ানকে সমর্থন করে। ১৯৬৫ সালে জাতি আবার তার ঈমানী দায়িত্ব পালনে এগিয়ে আসে। ১৯৬৫ সালে বিদেশী শক্তির এজেন্টরা মিশরের বুক থেকে ইসলামী আন্দোলন সমূলে উচ্ছেদের পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে আসে। তারা ইখওয়ানকে চিরদিনের জন্য স্তব্ধ করে দিয়ে প্রয়াস পায়। এজন্যে লাখ লাখ লোককে বন্দী করা হয়। অসংখ্য কর্মীকে হয়রানী করা হয়, আর কত লোক যে হতাহত হয়েছে তার হিসেব দেয়া মুশকিল। কিন্তু এতসব জোর-জুলুম সত্ত্বেও সত্যের মশালকে নিভানো সম্ভব হয়নি। তাদের সুখ সপ্ন ভেঙ্গে চুরচুর হয়ে যায়। আল্লাহ্‌র দ্বীনের কাজ আগের মতো এখনো অব্যাহত রয়েছে এবং অনাগতকাল পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।

আব্দুন নাসেরের বিপ্লবের সময় যেসব শিশু জন্মগ্রহণ করেছিল ১৯৬৫ সালের ইসলামী গণআন্দোলনে তারাই নাসেরের স্বৈরাচারী শাসনের নাকে দম আনিয়ে ছাড়ে।

নাসের তার বিদেশী প্রভূদের সহযোগিতায় দেশে নাস্তিক্যবাদ ও অশ্লীল ছায়াছবি, পত্র-পত্রিকা আমদানী করে দেশের নবীন বংশধরদের চরিত্র হননের আপ্রাণ চেষ্টা করে, কিন্তু দেশের বীর তরুণরা এসব বিজাতীয় চক্রান্তকে নস্যাৎ করে দিয়ে ইসলামের জয়কেতন সমুন্নত করে রাখে।

নবীন বংশধরদের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের জন্যে আমরা যে পদক্ষেপ নিয়েছিলাম, এভাবে তার সাফল্য দেখা দেয়। নবীন তরুণরাই ইসলামী আন্দোলনের প্রধান গতি সঞ্চারক শক্তিতে পরিণত হয়। ইসলামী আন্দোলনের তরুণদের প্রধান ভূমিকা দেখে নাসের ক্ষেপে পাগল হয়ে পড়ে।

সে তার সাঙ্গ-পাঙ্গদের প্রায়ই বলতো-

: জয়নব আল-গাজালী এবং আব্দুন ফাত্তাহ ইসমাইল তরুণ সম্প্রদায়কে আমার হাত থেকে কেড়ে নিয়েছে।

নাসেরের এই স্বীকৃতি আমাদের জন্যে গৌরবের কথা। তার নির্লজ্জ কঠোর থাবা থেকে আমরা তরুণ সম্প্রদায়কে বাঁচিয়ে রাখতে সক্ষম হয়েছি। আমরা ইসলামের খেদমতে এমন তরুণ বাহিনী সৃষ্টি করে দিয়েছি, যা যুগের যে কোন হুজুগের মোকাবেলায় ইসলামের ঝাণ্ডাকে বুলুন্দ করে রাখতে সক্ষম। শিক্ষায়-ভদ্রতায়, জ্ঞানে-চরিত্রে এবং নৈতিক বৈশিষ্ট্যে এসব তরুণ আজকের যুগের জন্যে এক জীবন্ত আদর্শ।

এই মহান সাফল্যের ক্ষেত্রে শহীদ আব্দুল ফাত্তাহ ইসমাইলের অবদান অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে! তিনি নিজেই একটি সংগঠন ছিলেন আর মোহাম্মদ হাওয়াশের মতো মহান বিপ্লবী তরুণের অবদানও অনির্বাণ হয়ে থাকবে। আজকের ইসলামী যুব আন্দোলন হচ্ছে তাদেরই অক্লান্ত পরিশ্রমের সোনালী ফসল।

সামরিক কারাগারের দিনগুলি ক্রমে শেষ হয়ে এলো। দুর্যোগের সেই দীর্ঘ দিনগুলোতে অবর্ণনীয় অত্যাচারের মুখেও ইসলামী আন্দোলনের বীর সেনানীদের ধৈর্য-সাহস ও বীরত্বের এতটুকুও ভাটা পড়েনি।

বিপদ-সংকুল এই মহাসমুদ্র পেরিয়ে এসেছে তারা তাদের দুর্জয় ঈমানী শক্তিতে। ৫ই জুন অভিশপ্ত নাসেরের উপর আল্লাহ্‌র গজব নাযিল হয়। আর আমাদেরকে সেইদিন সামরিক কারাগার থেকে বে-সামরিক জেলে স্থানান্তর করা হলে আমরা প্রত্যেকেই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলি।

এভাবে নাসেরের নিষ্ঠুর কবল থেকে আল্লাহ্‌ আমাদের উদ্ধার করেন। ইসলামের শত্রু নাসের ধ্বংস হয়ে গেছে আর ইসলামের মুজাহিদরা নতুন উদ্দীপনার ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার প্রয়াস চালাচ্ছে।

সুতরাং মিশরের ইতিহাসে ৫ই জুন জুলূম নিপাতের দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। সেদিন নাসেরের অস্তিত্ব থেকে মিশর মুক্তি পেয়েছে। রোজ হাশরে তাকে অপমানিত হয়ে লাঞ্ছনার শিরোপা পরে দাঁড়াতে হবে। বিশ শতকের ফেরাউন নাসেরের মৃত্যু ছিল মিশরীয় জাতির জন্যে এক আশীর্বাদ। ৫ই জুন সে অপমানের শৃঙ্খল পরে মানুষের পৃথিবী থেকে বিতাড়িত হয়। জীবদ্দশায় সে নিরীহ অসহায়-জনগণের উপর বিশেষ করে ইসলামী আন্দোলনের উপর যে সব বর্বর অত্যাচার চালিয়েছে, মৃত্যুর পর তাকে তার প্রতিফল ভোগ করতেই হবে।

About জয়নব আল-গাজালী