হাদীস সংকলনের ইতিহাস

সম্পুর্ণ সূচীপত্র

নবী (স) কর্তৃক লিখিত সম্পদ

ইসলামী আন্দোলনের প্রথম পর্যায়ে- মক্কী অধ্যায়ে – নবী করীম (স) কুরআন মজীদ ব্যতীত অন্যকিছু লিখিয়া রাখিবার অনুমতি দেন নাই। তাই হিজরতের পূর্বে মক্কী জীবনে কোন হাদীস লিখিত হইয়াছে বলিয়া প্রমাণ পাওয়া যায় না। কিন্তো হিজরতের পর মদীনীয় জিন্দেগী শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কুরআন ছাড়াও হাদীসের বিরাট সম্পদ লিপিবদ্ধ হইতে থাকে। নিম্নলিখিত প্রমাণাদির ভিত্তিতে এই কথা জোর করিয়া বলা যাইতে পারে যে, মদীনীয় পর্যায়ে- নবুয়্যাতের এয়োদশ চতুর্দশ বৎসরে- কুরআন ও হাদীসের পারস্পরিক পার্থক্য বোধ সুস্পষ্ট হইয়া উঠার পর একদিকে যেমন হাদীস লিখিয়া লইবার সাধারণ অনুমতি প্রদান করা হয়, অন্যদিকে স্বয়ং নবী করীম (স) কর্তৃক লিপিবদ্ধ করানো বিপুল সংখ্যক সম্পদ মুসলমানদের হস্তে সঞ্চিত হয়। প্রসঙ্গত বলা যাইতে পারে যে, বদরের যুদ্ধ-বন্দীদের মুক্তির বিনিময়ে মদীনায় মুসলিম বালকদিগকে লেখাপড়া শিক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা হওয়ার পর[********************] হাদীস লেখা অধিকতর সহজ হয় এবং উহার মাত্রাও অধিক ব্যাপক হইয়া পড়ে। হযরত আবদুল্লাহ ইবন সাঈদ ইবনুল আ’স মদীনার মসজিদে নববীতে রীতিমত লিখা শিক্ষা দেওয়ার স্কুল খুলিয়া দিয়াছিলেন।[*********************] এতদ্বত্যতীত মদীনার নয়টি মসজিদে বালকদিগকে লেখাপড়া শিক্ষা দেওয়ারও ব্যবস্থা করা হইয়াছিল।[*****************] ফলে উত্তরকালে লিখা জানা বা লিখিতে সক্ষম লোকদের কোন অভাবই ছিল না।

ফলে জরুরী লিখার কাজ সম্পন্ন কারর জন্য নবী করীম (স) নিজের নিকট বহু ব্যক্তিকে নিযুক্ত করিয়াছিলেন এবং বহুসংখ্যক লেখক (লিখিতে সক্ষম) নানা বিষয়ের লিখন কার্য সম্পাদনের জন্য রাসূলের দরবারে সার্বক্ষণিকভাবে উপস্থিত থাকিতেন। আধুনিক ভাষায় বলিলে বলা যায়, তখন মদীনায় একটি পূর্ণাঙ্গ সচিবালয় গড়িয়া উঠিয়াছিল ও কাজ করিতেছিল। বিশেষ বিশেষ লিখার কাজ সম্পাদনের জন্য বিশেষ বিশেষ ব্যক্তি নিযুক্ত ছিলেন। তাঁহাদের মধ্যে হযরত আলী (রা), হযরত উসমান (রা), হযরত যায়দ ইবন সাবিত (রা) [***************] ও হযরত উবাই ইবন কাব (রা) প্রমুখ সাহাবী কুরআন মজীদ লিপিবদ্ষ করণের কাজে দায়িত্বশীল ছিলেন। হযরত যুবায়র ইবনূল আওয়াম (রা) ও জহম ইবনুসসালত (রা) ছিলেন যাকাত-সাদাকাত-এর মাল-সম্পদের হিসাবরক্ষক। হযরত আবদুল্লাহ ইবনুল আরকাম (রা) ও আল-উলা ইবন উকবা (রা) জনগনের পারস্পরিক লেন-দেন ও চুক্তি প্রতিশ্রুতি সংক্রান্ত দলীল-দস্তাবিজ লিখিতেন। হযরত হুযায়ফা ইবনুল ইয়ামান (রা) খেজুর ফসলের পরিমাণ ও তাহার উপর ধার্য যাকাতের পরিমাণ অনুমানপূর্বক লিখিয়া রাখিতেন। মুয়াইকীব ইবন আবূ ফাতিমাদসী (রা) রাসূলে করীমের প্রাপ্ত মালের বিবরণ লিপিবদ্ধ করিতেন।[******************] রাসূলে করীম (স)- এর সময়ে যেসব সাহাবী জিহাদে যোগদান করিতেন তাঁহাদের নাম-ধাম পরিচিতি লিখিয়া রাখারও ব্যবস্থা করা হইয়াছিল।[***************] লেখক হিনযিলা (রা) দরবারে প্রত্যেক অনুপস্থিত লেখকের স্থানে কাজ করিতেন। রাসূলে করীম (স)-এর সিলমোহরও তিনিই ধারণ ও ব্যবহার করিতেন।[***************************]

বিভিন্ন ভাষাভাষী লোকদের জন্য তাহাদের ভাষায় পত্রাদি লিখার কাজ করার জন্য রাসূলে করীম (স)-এর নির্দেশ অনুযায়ী তদানীন্তন সভ্য দুনিয়ায় প্রচলিত ভাষাসমূহ শিখিয়া লইয়াছেন বহু কয়জন সাহাবী। হযরত যায়দ ইবন সাবিত (রা) সুরীয়ানী ভাষা শিখিবার জন্য আদিষ্ট হইয়া উহা শিখিয়াছিলেন। এই ভাষায় লিখিত কোন পত্র রাসূলের নিকট আসিলে উহা পাঠ করিয়া লিখিত বিষয় সম্পর্কে রাসূলে করীম (স)- কে অবহিত করিতেন। রাসূলের দরবারে নিয়োজিনত লেখকদের সম্পর্কে বহু গ্রন্হও রচিত হইয়াছে। [***********************]

১। নবী করীম (স) মদীনায় হিজরত করিয়া স্থঅনীয়ভাবে বসবাস শুরু করার পর সর্বপ্রথম যেসব গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পাদন করেন, মদীনার ইয়াহুদী ও আশেপাশের খৃষ্টান এবং মদীনার আনসার ও মুহাজির মুসলমানদের পাস্পরিক অনাক্রমণ ও অন্যান্য শর্ত স’লিত এক দীর্ঘ চুক্তিনামা রচনা করা তাহার অন্যতম। উহার ভাষা ছিল এইঃ

******************************************************

মুহাম্মদ (স) আল্লাহর নবী ও রাসূল কর্তৃক কুরায়শ বংশের মু’মিন মুসলমান ও মদীনাবাসী যাহারা তাহাদের সঙ্গে মিলিত হইবে ও একত্রে জিহাদ করিবে, তাহাদের মধ্যে লিখিত চুক্তিনামা ইহা। সিদ্ধান্ত এই যে, তাহারা অন্যান্য লোকদের হইতে পৃথক এক স্বতন্ত্র উম্মত তথা জাতি হইবে।[***************]

এই চুক্তিনামা ইসলামের ইতিহাসে এক ঐতিহাসিক অমূল্য সম্পদ। ইহাতে মোট ৫২টি দফা সন্নিবেশিত হয়। ইহাতে মদীনা শরীফকে মুসলমানদের জন্য ‘হেরম’ ঘোষণা করা হয়।[কিতাবুল আমওয়াল, আবূ দউদ, পৃষ্ঠা ৩১১।] নিম্নোকত্ উদ্ধৃতি হইতে প্রমাণিত হয় যে, চুক্তিনামা যথারীতি লিখিত হইয়াছিল এবং ইসলামে ইহই সর্বপ্রথম লিখিত সম্পদঃ

******************************************************

হযরত ‘রাফে’ ইবন খাদীজা (রা) হইতে বর্ণিত হইয়াছে- তিনি বলেন, মদীনা একটি হেরেম। রাসূলে করীম (স) উহাকে হেরেম ঘোষণা করিয়াছেন। আমাদের নিকট এই চুক্তিনামা খাওলানী চর্মে লিখিত রহিয়াছে। [********]

হযরত আলী (রা) –এর নিকট এই লিখিত চুক্তিনামাখানি পরবর্তীকাল পর্যন্ত সুরক্ষিত ছিল। তিনি বলিয়াছেনঃ

******************************************************

আমার নিকট আল্লাহর কিতাব এবং নবী করীম (স) হইতে প্রাপ্ত এই সহীফাখানি ছাড়া লিখিত সম্পদ আর কিছু নাই। সহিফাখানিতে লিখিত রহিয়াছেঃ মদীনা হেরেম। উহার সীমানা ‘আয়ের’ পাহাড় হইতে ঐ স্থান পর্যন্ত। এই হেরেমে যে কেহ কোন বিদ’আত উদ্ভাবন ও প্রচলন করিবে কিংবা কোন বিদ’আতকারীকে আশ্রয় দান করিবে, তাহারই উপর আল্লাহর ফেরেশতাদের এবং সমস্ত মানুষের লা’নত হইবে। তাহার নিকট হইতে কোনরূপ ব্যয় বা বিনিময় কবূল করা হইবে না। মুসলমানের প্রদত্ত নিরাপত্তা সর্বতোভাবে সমান মর্যাদায় গণ্য হইবে। কেহ যদি মুসলমানের দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভংগ করে, তবে তাহার উপরও আল্লাহ, ফেরেশতা এবং সমস্ত মানুষের লা’নত। তাহার নিকট হইতে কোনরূপ ব্যয় বা বিনিময় গ্রহণ করা হইবে না।[**********************]

বস্তুত সভ্যতার ইতিহাসে এই চুক্তিনামাই একখানি প্রথম লিখিত শাসনতন্ত্রের মর্যাদর অধিকারী এবং অতিশয় গুরুত্বপূর্ণ দলীল।

১। রাসূলে করীম (স) মদীনায় ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করার পর মুসলিম নাগরিকদের আদশুমারী গ্রহণ করেন। তিনি এ্ই উদ্দেশ্যে নিম্নোক্তদ্ধৃত ভাষায় এক ফরমান জারী করেনঃ

******************************************************

যে সব লোক ইসলাম কবুল করার কথা বলিয়াছে, তাহাদের নাম-ধাম আমার জন্য লিখিয়া দাও।

হাদীস বর্ণনাকারী সাহাবী হযরত হুযায়ফা (রা) বলেনঃ

******************************************************

অতঃপর আমরা রাসূলকে এক হাজার পাঁচশত ব্যক্তির নাম-ধাম ও পরিচয় লিখিয়া দিলাম।[*****************]

ইহাও রাসূলে করীম (স)- এর জীবন কালেরই এক লিখিত সম্পদ।

৩। তৃতীয় হিজরী সনের সফর মাসে বনী জামরা গোত্রের সাথে নবী করীম (স) এক সন্ধিচুক্তি স্বাক্ষর করেন। এই চুক্তিনামাও লিখিত অবস্থায় পাওয়া গিয়াছে।[*****************]

অবশ্য নিম্নলিখিত দুইটি বিবরণ হইতে এই কথার ইংগিত পাওয়া যায় যে, হিজরতের অব্যবহিত পূর্বেও নবী করীম (স) অন্তত দুইটি ক্ষেত্রে লিখিত ফরমান দিয়াছিলেনঃ

(ক) তমীমদারীকে নবী করীম (স) এক লিখিত পরোয়ানা প্রেরণ করেন। [*****************]

(খ) হিজরত করিয়া মদীন যাওয়ার পথে নবী করীম (স) সুরাকার ইবন মালিক মুদলেজীকে এক নিরাপত্তালিপি লিখিয়া দিয়াছিলেন।[***************]

আল্লামা ইবন কাসীর উল্লেখ করিয়াছেনঃ

******************************************************

সুরাকা বলিলঃ আমার জন্য একটি দলীল লিখাইয়া দিন, যাহা আমার ও রাসূলের মধ্যবর্তী এই মুক্তির সিদ্ধান্তের প্রমাণ হইবে। অতঃপর নবী করীম (স) আমার জন্য হাড় বা পাতা বা ছেঁড়া কাপড়ে একটি লেখা তৈরী করাইয়া দিলেন।[****************]

৪। হযরত আবূ হুরায়ারা (রা) হইতে বর্ণিত হইয়াছে, মক্কা বিজলেয়র বৎসর (৮ম হিজরী) খাজায়অ গোত্রের লোকগণ লাইস গোত্রের এক ব্যক্তিকে হত্যা করে। এই সংবাদ রাসূলে করীমের নিকট পৌঁছিলে তিনি তাঁহার জন্তু যানের পৃষ্ঠে সওয়ার থাকা অবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দান করেন। তাহাতে তিনি হেরেম শরীফের মর্যাদা, শ্রেষ্ঠত্ব, মাহাত্ম্য এবৃং নরহত্যার দণ্ড্ ও ‘দিয়ত’ সংক্রান্ত যাবতীয় হুকুম আহকাম বিস্তারিতভাবে বর্ণণা করেন। ভাষণ সমাপ্ত হইলে হযরত আবূ শাহ নামক জনৈক সাহাবী রাসূলে করীম (স)-কে বলিলেনঃ ****************************************************** হে রাসূল ! আমার জন্য ভাষণটি লিখাইয়া দিন। [আবূ শাহ যে রাসূল প্রদত্ত ভাষণটিই লিখিয়া দিতে বলিয়াছিলেন তাহার প্রমাণ এই যে, এই হাদীসের বর্ণনাকারী আলী ইবন মুসলিম ইমাম আওযায়ীকে জিজ্ঞাসা করিলেনঃ  ************************* ‘হে রাসূল ! আমার জন্য ইহা লিখাইয়া দিন’ বলিয়া লিখাইয়া দিতে আবূ শাহ রাসূলে করীমকে বলিয়াছেন? ইমাম আওযায়ী বলিলেনঃ ********************** ‘রাসূলের দেওয়া যে ভাষণটি তিনি শুনিতে পাইয়াছিলেন ইহা তাহাই’। ******************************************************] তখন নবী করীম (স) তাঁহার আবেধন মঞ্জুর  করিয়া জনৈক সাহাবীকে বলিলেনঃ- ***************** এই ভাষণটি আবূ শাহকে লিখিয়া দাও।[**************]

৫। ঐতিহাসিক হাফিয ইবন আবদুল বার লিখিয়াছেনঃ

******************************************************

নবী করীম (স)আমর ইবন হাজম ও অন্যান্যকে সাদকা, দিয়ত, ফরয ও সুন্নাত সম্পর্কে এক দস্তাবেজ লিখাইয়া দিয়াছিলেন।[***************]

আল্লামা শাওকানী বিভিন্ন স্থানে এই কিতাবখানিরই উল্লেখ করিয়াছেন। [***************] ইমাম মালিক (রা) এই কিতাবখানির উল্লেখ করিয়া বর্ণনা করিয়াছেনঃ

******************************************************

আবদুল্লাহ ইবন আবূ বকর ইবন হাজম হইতে কথাটি বর্ণিত হইয়াছে যে, নবী করীম (স) আমর ইবন হাজমের জন্য যে কিতাবখানি লিখাইয়া দিয়াছিলেন, তাহাতে লিখিত রহিয়াছে, কুরআন মজীদকে কেবল পবিত্র ব্যক্তিই স্পর্শ করিবে।[***************]

ইমাম বায়হাকী তাঁহার *************** গ্রন্হে এই কিতাবখানি সম্পর্কে নিম্নোক্ত বর্ণনার উল্লেখ করিয়াছেনঃ

******************************************************

আবূ বকর ইবন মুহাম্মদ ইবন হাজম হইতে বর্ণিত হইয়াছে। তিনি বলেনঃ ইহা নবী করীম (স) লিখিত সেই কিতাব, যাহা তিনি আমর ইবন হাজমকে ইয়েমেনে পাঠাইবার সময় লিখাইয়া দিয়াছিলেন। তাঁহাকে পাঠাইয়াছিলেন সেখানকার অধিবাসীদিগকে দ্বীন-ইসলামের গভীর জ্ঞান দান ও সুন্নাতের শিক্ষাদানের উদ্দেশ্যে এবং তাহাদের নিকট হইতে যাকাত আদায় করার জন্য। ইহাতে তাঁহার জন্য নিয়োগপত্র ও প্রতিশ্রুতি এবং সেখানকার লোকদের মধ্যে তাঁহার দায়িত্ব পালনের বিষয়ও লিখিত ছিল।[******************]

হিজরী দশম সনে নবী করীম (স) হযরত আমর ইবন হাজম (রা)- কে নাজরান অধিবাসীদের শাসনকর্তা নিযুকত্ করেন। তিনি যখন নজরান এলাকার দিকে রওয়ানা  হইতেছিলেন, তাখন তাঁহাকে উক্ত দস্তাবেজখানা শাসনতান্ত্রিক আইন ও বিধান হিসাবে ব্যবহার করার জন্য প্রদান করা হয়।[***************]

ইমাম আবূ দাউদ উল্লেখ করিয়াছেনঃ

******************************************************

নবী করীম (স) নাজরানবাসীদের সহিত সন্ধিচুক্তি স্বাক্ষর করেন এবং তাহাদের জন্য একখানি কিতাব লিখাইয়া দিলেন। [**************]

৬। এতদ্ব্যতীত নবী করীম (স) ইয়েমেনের অধিবাসীদের জন্য আর একখানি ‘দস্তাবেজ’ লিখাইয়া পাঠাইয়াছিলেন। উহার নাম ছিল ‘কিতাবুল জিরাহ’ (********)। ইহার সূচনায় লিখিয়ত হইয়াছিলঃ

******************************************************

ইহা আল্লাহ তা’আলা এবং তাঁহার রাসূলের তরফ হইতে প্রদত্ত ফরমানঃ হে ঈমানদার লোকেরা ! তোমরা তোমাদের ওয়াদা্ এ প্রতিশ্রুতিসমূহ পূরণ কর।[*****************]

এই ঘোষণাপত্র উষ্ট্রচর্মের লিখিত ছিল। হাফিয ইবন কাসীর লিখিয়াছেনঃ

এই গ্রন্হখানি ইসলামের প্রাথমিক ও পরবর্তীকালের সকল নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি কর্তৃক সমাদৃত, নিয়মিত পঠিত ও সকল গুরুত্বপর্ণ ব্যাপারে জ্ঞান উৎসরূপে পরিগণিত হইয়া আসিয়াছে। এমন কি-

******************************************************

রাসূলের সাহাবিগণ এই দস্তাবেজের দিকে সবসময়ই তাকাইতেন এবং উহার মুকাবিলায় নিজেদের রায় ও মতামত পরিহার করিতেন।[************]

৭ । বনু সকীফের প্রতিও তিনি এক সন্ধিনামা লিপিবদ্ধ করিয়া দিয়াছিলেন। উহার শুরুতে লিখিত ছিলঃ

******************************************************

ইহা সকীফ গোত্রের জন্য আল্লাহর রাসূলের লিখিত সন্ধিনামা।[********************]

৮। নবী করীম (স) সদকা ও যাকাত সম্পকের্ক একখানি পূর্ণাঙ্গ দস্তাবেজ লিখাইয়া লইয়াছিলেন। উহাকে ইসলামী রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলের সরকারী দায়িত্বশীল কর্মচারীদের নিকট প্রেরণ করাই ছিল তাঁহার উদ্দেশ্যে। কিন্তু তাহা পাঠাইবার পূর্বেই তিনি ইন্তেকাল করেন। পরে ইহা খিলাফতে রাশেদার কার্যপরিচালনার ব্যাপারে পুরাপুরি দিকদর্শন হিসাবে ব্যবহৃত হয়।[**************]

আল্লামা শওকানী এই দস্তাবেজখানি সম্পর্কে নিম্নোক্ত বর্ণনা উদ্ধৃত করিয়াছেনঃ

******************************************************

নবী করীম (স) সদকা সম্পর্কে একখানি কিতাব রচনা করাইয়াছিলেন। কিন্তু উহা তাঁহার কর্মচারীদের নিকট প্রেরণ করার পূর্বেই তিনি ইন্তেকাল করিয়া যান। তাঁহার পর হযরত আবূ বকর উহা বাহির করিয়া তদনুযায়ী আমল করেন। তাঁহার ইন্তেকালের পর হযরত উমর উহাকে বাহির করিয়া তদনুযায়ী কাজ করেন। হযরত উমরের ইন্তেকালের পর উহা তাঁহার এক অসিয়তের সহিত নথি করা অবস্থায় পাওয়া যায়। [******************]

ইমাম জুহরী এই দস্তাবেজখানি দেখিতে পাইয়াছেন এবং বলিয়াছেন, ইহা নবী করীমের সদকা সম্পর্কে লিখিত কিতাব। জুহরী সালেম ইবন আবদুল্লাহর নিকট উহার পাঠ গ্রহণ করিয়াছিলেন এবং তিনি উহা নিজের মধ্যে আয়ত্ত করিয়া লইয়াছিলেন। উত্তরকালে উমর ইবন আবদুল আযীয খিলাফতের দায়িত্ব করিয়া হযরত আবদুল্লাহ ইবন উমরের বংশধরদের নিকট হইতে উহা গ্রহণ করেন এবং উহার প্রতিলিপি তৈয়ার করাইয়া লন।[ ঐ, পৃষ্ঠা ১৯০ মুসনাদে ইমাম আহমদ, ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ১৪।]

৯। হযরত মু’আয ইবন জাবাল (রা)- কেও সাদকা সম্পর্কে একখানি দস্তাবেজ লিখাইয়া দিয়াছিলেন। মুসা ইবন তালহা বলেনঃ

******************************************************

আমাদের নিকট নবী করীম (স)-এর নিকট হইতে প্রাপ্ত মু’আয ইবন জাবালের একখানি কিতাব রহিয়াছে।[মিশকাত, পৃষ্ঠা ১৫৯।]

এতদ্ব্যতীত নবী করীম (স)- এর লিখিত আরো বহুসংখ্যক সন্ধিচুক্তি ও অন্যান্য দলীল-দস্তাবেজ পাওয়া গিয়াছে। হাদীস বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে সে সবের মূল্য অপরিসীম। এই ধরনের দস্তাবেজ সমূহের সংখ্যা হিসাবে করিলে তিন শতাধিক হইবে। ‘মিফতাহুল আকবা’ গ্রন্হে নবী করীম (স)- এর প্রেরিত ৩৬ খানা চিঠির প্রতিলিপির উল্লেখ করা হইয়াছে। টংক রাজ্যের তদানীন্তন অভ্যন্তরীণ বিষয়ক মন্ত্রী সাহেবজাদা আবদুর রহীম খান ২৫০ খানা লিখিত দস্তাবেজের উল্লেখ করিয়াছেন।[**********]

১। হুদায়বিয়ার সন্ধিনামা।[কিতাবুল আমওয়ালঃ আবূ উবাইদ, পৃষ্ঠা ১৫৭-১৫৮; আল-বিদায়া আন-নিহায়া, ইবনে কাসীর, ৪র্থ খণ্ড, পৃষ্ঠা ১৬৮; সহীহ বুখারী, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩৭১; ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৬১০।]

২। বিভিন্ন কবীলা ও গোত্রের প্রতি বিভিন্ন সময়ের লিখিত ফরমান।[তাবাকাতে ইবনে সায়াদ, কিতাবুল আমওয়ালঃ আবূ উবাইদ, পৃষ্ঠা ২১।]

৩। বিভিন্ন দেশের বাদশাহ ও রাষ্ট্রনেতাদের নিকট লিখিত ইসলামী দাওয়াতের পত্রাবলী।[বুখারী শরীফ, ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৬৩১ কিতাবুল আমওয়ালঃ আবূ উবাইদ, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ২০-২৩।]

৪। আবদুল্লাহ ইবন হাকীম সাহাবীর নিকট রাসূলের প্রেরিত চিঠি। এই চিঠিতে মৃত জন্তু ইত্যাদি সম্পর্কে আইন লিখিত হইয়াছিল।[মুজিমুস সগীর তাবরানী।]

৫। ওয়ায়েল ইবন হাজার সাহাবীর জন্য নামায, মদ্যপান ও সুদ ইত্যাদি সম্পর্কে নবী করীম (স) বিধান লিখাইয়া দিয়াছিলেন।[ঐ।]

৬। জহাক ইবনে সুফিয়ান সাহাবীর নিকট রাসূলে করীম (স)-এর লিখিতও প্রেরিত একখানি হিদায়াতনামা বর্তমান ছিল, তাহাতে স্বামীর পক্ষ হইতে স্ত্রী কর্তৃক রক্তপাতের বদলা (*********) আদায় করার বিধান লিখিত ছিল।[আবু দাউদ।]

৭। ইয়েমেনবাসীদের প্রতি বিভিন্ন ফসলের যাকাত সম্পর্কে নবী করীম (স) কর্তৃক লিখিত ও প্রেরিত এক দস্তাবেজ।[********************]

৮। ইয়েমেনবাসীদের প্রতি রাসূলে করীম (স)- এর লিখিত অপর একখানি পত্র, যাহাতে লিখিত ছিলঃ

******************************************************

ইয়াহুদী ও খৃষ্টানদের মধ্যে যাহারা ইসলাম কবুল করিবে, তাহারা মু’মিন লোকদের মধ্যে গণ্য হইবে, তাহাদের অধিকার ও কর্তব্য মু’মিনদের সমান হইবে। আর যাহারা ইয়াহুদী বা খৃষ্টান থাকিয়া যাইবে, তাহাদিগকে তাহাদের ধর্মপালন হইতে  বিরত রাখার চেষ্টা করা হইবে না, তবে তাহারা ‘জিযিয়া’ আদায় করিতে বাধ্য থাকিবে।[কিতাবুল আমওয়ালঃ আবূ উবাইদ, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ২১।]

৯। হুযায়ফা ইবন আয়ামান (রা)-কে এক ফরমান লিখাইয়া দিয়াছিলেন। তাহাতে যাকাতের ফরযগুলি সম্পর্কে বিবরণ লিখিত ছিল।[তাবাকাতে ইবন সায়াদ।]

১০। আল-ইবনুল হাজারীকে রাসু করীম (স) যাকাতের মসলা লিখাইয়া দিয়াছিলেন।

১১। নবম হিজরী সনে হযরত আবূ বকর সিদ্দীক (রা)- কে আমীরে হজ্জ নিযুক্ত করিয়া পাঠাইয়া দিয়াছিলেন এবং তাঁহাকে নবী করীম (স) হজ্জ্বের নিয়ম-পদ্ধতি লিখাইয়া দিয়াছিলেন।[তাফসীরে রুহুল মায়ানী, ১০ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৪৪ ******************** সীরাতে ইবন হিশাম, পৃষ্ঠা ৫৫৬।]

১২। সূরা তওবা নাযিল হওয়ার পর নবম হিজরী সনে মদীনা হইতে হযরত আলী (রা)- কে মক্কার বিশেষ পয়গাম সহকারে প্রেরণ করেন। তাঁহাক হজ্জ্বের সময় লোকদিগকে জানাইয়া দেওয়ার জন্য নিম্নোক্ত ঘোষণা লিখাইয়া দেনঃ

******************************************************

এই বৎসরের পর কোন মুশরিকই কা’বা ঘরের নিকটে যাইতে পারিবে না; উলঙ্গ হইয়া কেহ উহার তওয়াফ করিতে পারিবে না, বেহেশতে মু’মিন ব্যতীত কেহ দাখিল হইতে পারিব না এবং প্রত্যেকে প্রতিশ্রুতি পূরণ করিতে বাধ্য থাকিবে।[তাফসীরে আবুস সয়ুদ, ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ২৫২, সীরাতে ইবন হিশাম (উর্দূ), পৃষ্ঠা ৫৫৩।]

১৩। উমর ইবন আকসা সুলামীকে এক লিখিত ফরমান পাঠানো হয়, তাহাতে সদকা ও জন্তুর যাকাত সম্পর্কিত আইন-কানুন লিখিত ছিল।

১৪। গালিব ইবন আবদুল্লাহকে এক ফরমান পাঠানো হয়, তাহাতে গনীমতের মাল সম্পর্কে বিস্তারিত মাসলা-মাসায়েল লিখিত হইয়াছিল।

১৫। সুমামা প্রতিনিধিদলকে রাসূলে করীম (স) ফরযসমূহ এবং সদকার মাসলা লিখাইয়া দিয়াছিলেন।

১৬। আবূ রাশেদুল আজদীকে নামাযের নিয়ম-কানুন ও আইন লিখাইয়া দেন।

১৭। নজরানাবাসীদের এক পাদ্রীর প্রতি রাসূলে করীম (স)- এর এক লিখিত ফরমান প্রেরণ করা হয়। উহাতে ইসলাম, ইসলামের দাওয়াত ও জিযিয়ার আদেশ লিখিত হয়।

১৮। ‘হাজরামাউত’-এর শাসনকর্তার নামে নামায, যাকাত ও গনীমনের মালের বিবরণ লিখিয়া পাঠানো হয়।

১৯। ‘দাওমাতুল জান্দাল’ অধিবাসীদের নামে জিযিয়া ও যাকাতের বিধান লিখিয়া পাঠানো হয়।[কিতাবুল আমওয়াল আবূ উবায়দ, পৃষ্ঠা ১৯৫।]

২০। দাওমাতুল জান্দাল ও কতনের অধিবাসীদের নাম ওশর সম্পর্কীয় মাসলা লিখিয়া পাঠানো হয়।

২১। হররা ও আজরাহ কবীলাসমূহের নামে জিযিয়ার বিধান লিখিয়া পাঠান হয়।

২২। বনু নাহাদ কবীলার নামে যাকাতের পশু সম্পর্কে নির্দেশ পাঠানো হয়।

২৩। বনূ হানীফা কবীলাকে জিযিয়ার মাসলা লিখিয়া পাঠানো হয়।

২৪। ‘হাজার’-বাসীদের প্রতি এক ফরমান পাঠানো হয়। উহাতে ইসলামের উপর মজবুত হইয়া দাঁড়াইতে ও শাসনকর্তার আনুগত্য করিতে বলা হয়।[ঐ, পৃষ্ঠা ২০০।]

২৫। ‘আয়লা’ ও ‘ইউহানা’ বাসীদিগকে আমন-নামা লিখিয়া দেওয়া হয়। ইবনে কাসীর লিখিয়াছেনঃ

******************************************************

রাসূল তাহাদের জন্য একটি দস্তাবেজ লিখিয়া দেন। উহা তাহাদের নিকট রক্ষিত ছিল। উহার শুরুতে লিখিত হয়ঃ

******************************************************

দয়মায় মেহেরবান আল্লাহর নামে- ইহা আল্লাহ ও তাঁহার নবী মুহাম্মদের তরফ থেকে ‘ইউহানা’ ও ‘আয়লা’- বাসীদের জন্য দেওয়া এক আমানত।[কিতবুল আমওয়াল, পৃষ্ঠা ২০০, নূরুল ইয়াকীন পৃষ্ঠা ২৪৮।]

২৬। তমীমদারী কবীলাকে উপঢৌকন কবুল করা ও স্বর্ণ নির্মিত জিনিসপত্র ব্যবহার করা সম্পর্কে ইসলামী বিধান লিখিয়া দেওয়া হয়।

২৮। আম্মানের শাসনকর্তা জা’ফর ও আবদের নামে ইসলামের দাওয়াত, ‘ওশর’‘যাকাত’ ইত্যাদির মাসলা লিখিয়া পাঠানো হয়।

২৯। খালিদ ইবন জামাদকে ইসলামের ‘আরকান’ লিখিয়া দেওয়া হয়।

৩০। জুরয়া-ইবন সায়ফকে জিযিয়া ও যাকাতের বিধান লিখিয়া দেওয়া হয়।[কিতাবুল আমওয়াল, পৃষ্ঠা ২০১, ********]

৩১। রবীয়া ইবন যী-মারহাব হাজরীকে শুল্ক ইত্যাদির মাসলা লিখিয়া দেওয়া হয়।

৩২। শারহবীল, হারেস, নয়ীম, বনু আবদু-কালানকে গনীমতের মাল, ওশর ও যাকাতের মাসলা লিখিয়া দেওয়া হয়।

৩৩। মুসলিম জনগণের জন্য এক ফরমানে নবী করীম (স) ফল পরিপক্ক হওয়ার পূর্বে উহার বিক্রয় ও বায়তুল মালের এক-পঞ্চমাংশ আদায় করা পূর্বে গণীমতের মাল হইতে নিজেদের অংশ গ্রহণ ইত্যাদি সম্পর্কে ইসলামরে বিধি-বিধান লিখাইয়া দিয়াছিলেন।

৩৪। বিক্রয় করার পূর্বে পণ্যদ্রব্যের দোষ প্রকাশ করার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে আদা ইবনে খালিদকে এক বয়ান লিখাইয়া দেওয়া হয়।

৩৫। হযরত উমর (রা)- কে সদকার মাসলাসমূহ লিখিয়া দেওয়া হয়।

৩৬। হযরত আবূ বকর (রা)- কে যাকাতের যাবতীয় হুকুম-আহকাম লিখিয়া দেন।

৩৭। তমীমদারী ইসলাম কবুল করিলে তাঁহার গ্রামরে একখণ্ড জমি লিখিয়া দেওয়া হয়। হযরত উমর (রা) খলীফা নিযুক্ত হওয়ার পর সেই লিখিত দস্তাবেজ তাঁহার নিকট পেশ করা হয় এবং তিনি উক্ত ভূমিখণ্ড তাঁহার জন্যই বরাদ্দ করেন।[কিতাবুল আমওয়াল-আবু উবাইদ, পৃ: ২৭৪]

৩৮। মজ্জায়া ইয়ামনীকে একখণ্ড জমি লিখিয়া দেওয়া হয় এবং ইহার জন্য দস্তাবেজ তৈয়ার করিয়া দেওয়া হয়। আবূ সা’লাবাত খুশানীকেও অনুরূপ দস্তাবেজ তৈয়ার করিয়া একখণ্ড জমি দেওয়া হয়।

৩৯। মতরফ ইবন কাহেন বাহেলীকে যাকাহের মাসলা-মাসায়েল লিখিয়া দেন।

৪০। মুনযির ইবন সাবীকে জিযিয়ার মাসলা লিখাইয়া দেওয়া হয়। অগ্নিপূজকদের প্রতি ইসলামের ভূমিকা সম্পর্কেও এক বয়ান লিখাইয়া দেওয়া হয়।[ঐ, পৃ: ২৮০ ও ২৮১ ***************]

৪১। ‘আকীদর’ বংশের লোকদিগকে এক ফরমান লিখাইয়া দেওয়া হয়। তখন পর্যন্ত রাসূল (স)-এর নবুয়্যাতী (সরকারী) স্ট্যাস্প তৈয়ার না হওয়ার কারণে উহার উপর হযরতের টিপসহি লাগানো হয়।[আল ইসাবাহ, ১ম খণ্ড, পৃঃ ১৩১।]

৪২। মুসাইলমাতুল কাযযাবের নামে রাসূলে করীম (স) এক ফরমান লিখাইয়া পাঠাইয়াছিলেন (এই ফরমানের আলোকচিত্র ১৮৯৬ সনে লণ্ডনের Picture Mahazine পত্রিকায় প্রকাশিত হয়)।

৪৩। খায়বারের ইয়াহুদীদের এলাকায় হযরত আবদুল্লাহ ইবন সাহল (রা)-কে মুতাবস্থায় পাওয়া যায়। তখন নবী করীম (স) ইয়াহুদীদিগকে উহার দিয়ত দেওয়া সম্পর্কে এক পত্র লিখিয়া পাঠান।[সীরাতে ইবনে হিশাম (উর্দু), পৃষ্ঠা ৪৭৩।]

৪৪। ইয়েমেনাবাসীদিগকে লিখিয়া পাঠানো হয় যে, মধুরও যাকাত দেওয়া কর্তব্য।

বায়হাকী উল্লেখ করিয়াছেনঃ

******************************************************

নবী করীম (স) ইয়েমেনবাসীদিগকে লিখিলেন যে, মধু চাষকারীদের নিকট হইতে যাকাত লওয়া হইবে।[***********]

৪৫। হযরত মু’আয ইবন জাবাল (রা)-কে নবী করীম (স) নগদ টাকা ও স্বর্ণের যাকাত সম্পর্কে এক বিধান লিখিয়া পাঠানঃ

******************************************************

নবী করীম (স) মু’আয ইবনে জাবাল (রা)-কে লিখিয়া পাঠান যে, প্রতি দুইশত দিরহাম হইতে পাঁচ দিরহাম ও প্রতি কুড়ি মিসকাল স্বর্ণ হইতে অর্ধ মিসকাল যাকাত গ্রহণ করিবে।[******************* প্রথম খণ্ড, কিতাবুযযাকাত পৃষ্ঠা, ১৭৫, দারে কুতনী।]

৪৬। ইয়েমেনবাসীদের প্রতি প্রেরিত অপর এক ফরমান সম্পর্কে ইমাম দারেমী লিখিয়াছেনঃ

******************************************************

নবী করীম (স) ইয়েমেনের অধিবাসীদিগকে লিখিয়া পাঠাইয়াছিলেন যে, কুরআন মজীদকে কেবল পাক ব্যক্তিই স্পর্শ করিবে, বিবাহের মালিকানার বা স্বামীত্ব লাভের পূর্বে তালাক হইতে পারে না এবং খরিদ করিয়া লওয়ার পূর্বে গোলাম আযাদ করা যায় না।[সুনানে দারেমী, পৃষ্ঠা ২৯৩।]

৪৭। আরবের সকল কবীলার নামেই নবী করীম (স) এক সময় দিয়তের মাসলা লিখাইয়া পাঠাইয়াছিলেন।[বুখারী, নাসায়ী, দারে কুতনী, নায়লুল আওতার, ৭ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ২৪২।]

৪৮। খায়বারের দখলকৃত জমি ইয়াহুদিদের মধ্যে বন্টনের চুক্তিনামা লিখিত হয়।[ফতুহুল বুলদান, পৃষ্ঠা ৩৬-৪২।]

৪৯। নবী করীম (স) ‘হামাদান’ গোত্রের প্রতি এক পত্র হযরত আলী (রা)- এর মাধ্যমে পাঠাইয়াছিলেন। এই পত্র তাহাদিগকে পাঠ করিয়া শোনাইলে তাহারা সকলেই ইসলাম কবুল করে। আল্লামা ইবনে কাসীর লিখিয়াছেনঃ

******************************************************

হযরত আলী তাহাদিগকে রাসূলে করীম (স)-এর পত্র পাছ করিয়া শোনাইলেন। তাহারা যখন সব শুনিলেন, তখন ‘হামদান’ গোত্রের সব লোক একত্রে ইসলাম কবুল কর।[****************]

৫০। জুরবা ও আযরাহবাসীদের নামেও রাসূলে করীম (স)-কে আমান-নামা লিখিয়া দেন।

আল্লামা ইবন কাসীর লিখিয়াছেনঃ

******************************************************

রাসূলে করীম (স) জুরবা ও আযরাহবাসীদের জন্য আমান-নামা লিখিলেন। উহার শুরুতে বিসমিল্লাহ লেখার পর লিখিত হয়ঃ ইহা আল্লাহর রাসূল মুহাম্মদের তরফ হইতে জুরবা ও আযরাহবাসীদের জন্য লিখিত দলীল, তাহারা আল্লাহর ও মুহাম্মদের নিকট হইতে প্রদত্ত আমান ও পূর্ণ নিরাপত্তার মধ্যে থাকিবে।[************** ৫ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ১৬-১৭।]

৫১। হেমইয়ারের বাদশাহদের প্রতি রাসূলের লিখিত পত্র।

আল্লামা ইবনে কাসীর লিখিয়াছেনঃ

******************************************************

রাসূলে করীম (স) তাঁহাদের প্রতি পত্র লিখিলেন।[***************]

৫২। নবী করীম (স) নাজরানের বিশপ পাদ্রীর নামে এক পত্র প্রেরণ করিয়াছিলেন। তাহাতে লিখিত ছিলঃ

******************************************************

আল্লাহর রাসূল ও নবী মুহাম্মদের তরফ হইতে নাজরানের বিশপের প্রতিঃ তুমি ইসলাম কবুল কর, আমি তোমার নিকট ইবরাহীম, ইসহাক ও ইয়াকুবের আল্লাহর হামদ করিতেছি। অতঃপর আমি তোমাদিগকে বান্দার দাসত্ব হইতে মুক্ত হইয়া আল্লাহর দাসত্ব কবুল করার ও মানুষের বন্ধুত্ব পৃষ্ঠপোষকতা হইতে নিষ্কৃতি পাইয়া আল্লাহর বন্ধুত্ব-পৃষ্ঠপোষকতার আশ্রয় গ্রহণের আহবান জানাইতেছি। ইহা কবুল না করিলে তোমরা জিযিয়া দিতে বাধ্য থাকিবে। আর তাহাও অস্বীকার করিলে তোমাদের সাথে যুদ্ধ করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করিব।[****************]

 

About মাওলানা মুহাম্মাদ আবদুর রহীম