হাদীস সংকলনের ইতিহাস

সম্পুর্ণ সূচীপত্র

কয়েকজন প্রখ্যাত তাবেয়ী মুহাদ্দিস

পূর্বোক্ত সাধারণ আলোচনার পর আমরা এখানে তাবেয়ী যুগের কয়েকজন বিশিষ্ট হাদীস বিশেষজ্ঞ সম্পর্কে বিশেষ ও সংক্ষিপ্ত আলোচনা করিব। তাবেয়ী যুগের হাদীস সাধনা কি বিরাট ও মহৎ সাধনা ছিল এবং তাহার ফলে কি ধরনের যোগ্যতা ও প্রতিভাসম্পন্ন লোক তৈয়ার হইয়াছিলেন, তাহা এই আলোচনা হইতে অধিক স্পষ্টভাবে জানিতে পারা যাইবে।

প্রথম হিজরী শতক হইতে দ্বিতীয় হিজরী শতকের প্রথমাধ্য পর্যন্ত সময়ে মুসলিম জাহানের বিভিন্ন শহর ও অঞ্চলে বিভিন্ন বিশেষ খ্যাতি লাভ করেন। স্থানের উল্লেখসহ তাঁহার নাম ও মৃত্যুর সন নিম্নে উল্লেখ করা যাইতেছেঃ

মদীনাঃ (১) সায়ীদ ইবনুল মুসাইয়্যিব- মৃত্যু ৯৩ হিঃ (২) উরওয়া ইবনুযযুরায়র- মৃত্যু ৯৪ হিঃ (৩) আবূ বকর ইবনে আবদুর রহমান ইবনুল হারিস- মৃত্যু ৯৪ হিঃ (৪) উবায়দুল্লাহ ইবনে উতবা- মৃত্যু ৯৯ হিঃ (৫) সালেম ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে উমর- মৃত্যু ১০৬ হিঃ (৬) সুলায়মান ইবনে ইয়াসার- মৃত্যু ৯৩ হিঃ (৭) কাসেম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবূ বকর- মৃত্যু ১১২ হিঃ (৮) নাফে ‘মাওলা ইবনে উমর- মৃত্যু ১১৭ হিঃ (৯) ইবনে শিহাব জুহরী- মৃত্যু ১২৪ হিঃ (১০) আবুজ্জানাদ- মৃত্যু ১৩০ হিঃ।

মক্কাঃ (১) ইকরামা মাওলা ইবনে আব্বাস- মৃত্যু ১০৫ হিঃ (২) আতা ইবনে আবূ রিবাহ- মৃত্যু ১১৫ হিঃ (৩) আবু যুবায়র মুহাম্মাদ ইবনে মুসলিম – মৃত্যু ১২৮ হিঃ।

কূফাঃ (১) আশশা’বী আমের ইবনে শারাহবীল- মৃত্যু ১০৪ হিঃ (২) ইবরাহীম আন- নাখয়ী- মৃত্যু ৯৬ হিঃ (৩) আলকামা ইবনে কায়স ইবনে আবুল হাসান বসরী- মৃত্যু ১১০ হিঃ।

বসরাঃ (১) আল হাসান ইবনে আবূল হাসান আল-বসরী – মৃত্যু ১১০ হিঃ (২) মুহাম্মাদ ইবনে সিরীন- মৃত্যু ১১০ হিঃ (৩)  কাতাবাদ ইবনে দায়ামাতা আদ- দওসী- মৃত্যু ১১৭ হিঃ।

সিরিয়াঃ (১) উমর ইবনে আবদুল আযীয – মৃত্যু ১০১ হিঃ (২) মফহুল – মৃত্যু ১১৮ হিঃ (৩) কুবাইচা ইবনে যুয়াইয়িব –মৃত্যু ৮৬ হিঃ। (৪) কায়াবুল আহবার- মৃত্যু ৩২ হিঃ।

মিসরঃ (১) আবুল খায়ের মারসাদ ইবনে আবদুল্লাহ ইজনী- মৃত্যু ৯০ হিঃ এবং (২) ইয়াযিদ ইবনে আবূ হাবীব- মৃত্যু ১২৮ হিঃ।

ইয়ামনঃ (১) তায়ূস ইবনে কাইসান-আল ইয়ামানী আলহিময়ারী- মৃত্যু ১০৬ হিঃ (২) অহব ইবনে মুনাববাহ- মৃত্যু ১১০ হিঃ। [তাবেয়ীদের এই পূর্ণ তালিকা জামে’ আজহার – এর অধ্যাপক মুহাম্মদ আবূ জাহু প্রণীত *********************** গ্রন্হের ১৭৩ পৃষ্ঠা হইতে গৃহীত।]

‘আসমাইর রিজাল’ সম্পর্কীয় গ্রন্হসমূহে ইহাদের সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা উদ্ধৃত রহিয়াছে। এখানে মাত্র কয়েকজন সম্পর্কে খানিকটা বিস্তারিত আলোচনা দেওয়া যাইতেছে।

ইবনে শিহাব জুহরী

(আসল নাম মুহাম্মদ ইবনে মুসলিম)

ইমাম জুহরী ইলমে হাদীসের সুবিখ্যাত মুহাদ্দিস ছিলেন। তিনি হযরত আনাস ইবনে মালিক, সহল ইবনে সায়াদ, সায়েব ইবনে ইয়াযিদ, শুবাইব আবূ জামীলা, আবদুর রহমান ইবনে সায়াদ, রবীয়াতা ইবনে আতাদ, মাহমুদ ইবনে রবী ও আবুত্তোফাইল প্রমুখ সাহাবায়ে কিরাম হইতে হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন। অপরদিকে বিপুল সংখ্যক তাবেয়ী তাঁহার নিকট হইতে হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন।

 ইলমে হাদীসে তিনি ছিলেন সর্ববাদীসম্মত ইমাম। তাঁহার বর্ণিত হাদীস ছিল তাঁহার অপূর্ব স্মৃতিশক্তির বাস্তব প্রমাণ।

আমর ইবনে দীনার তাঁহার সম্পর্কে বলিয়াছেনঃ

******************************************************

ইমাম জুহুরী অপেক্ষা হাদীসের অধিক প্রামাণ্য ও অকাট্য দলীল রূপে আমি আর কাহাকেও দেখিতে পাই নাই।

বস্তুত আল্লাহ তাঁহাকে অপরিসীম স্মরণশক্তি দান করিয়াছিলেন। ইমাম বুখারীর বর্ণনা মতেঃ

******************************************************

তিনি মাত্র আশিটি রাত্রে কুরআন মজীদ সম্পূর্ণ মুখস্থ করিয়াছেন।

তিনি নিজে স্বীয় স্মরণশক্তির পরিচয় দিয়া বলিয়াছেনঃ

******************************************************

কোন কিছু মুখস্থ করিয়া লওয়ার পর উহা আমি কখনও ভুলিয়া যাই নাই।[*******************]

হযরত উমর ইবনে আবদুল আযীয- এর আদেশক্রমে সর্বপ্রথম তিনিই রাসূল (স)-এর হাদীস সংগ্রহ ও গ্রন্হাবদ্ধ করেন। তাঁহার হাদীস সংগ্রহের বিরাট কাজ লক্ষ্য করিয়া ইমাম শাফেয়ী বলিয়াছেনঃ

******************************************************

ইমাম জুহরী না হইলে মদীনায় হাদীস সমূহ নিঃসন্দেহে বিলিন হইয়া যাইত।[*******************]

তিনি ১২৪ হিজরী সনে সিরিয়ার ‘শাগবাদ’ নামক গ্রামে ইন্তেকাল করেন ও সেখানেই তাঁহাকে সমাধিস্থ করা হয়। [*************************] তিনি সমগ্র হিজাজ অঞ্চলে প্রাপ্তব্য সুন্নাতে রাসূল (হাদীস) সংগ্রহ করিয়াছিলেন।

ইকারামা মওলা ইবনে আব্বাস

তিনি হযরত ইবনে আব্বাস (রা)- এর মুক্তিপ্রদত্ত ক্রীতদাস ছিলেন। হযরত ইবনে আব্বাসই তাঁহাকে কুরআন ও হাদীসের শিক্ষা দান করেন। ইকরামা নিজেই বলিয়াছেনঃ

******************************************************

ইবনে আব্বাস তাঁহার পায়ে বেড়ী পরাইয়া আটকাইয়া রাখিয়া তাঁহাকে কুরআন ও হাদীস শিক্ষা দান করিতেন।[********************]

ইকরামা হযরত ইবনে আব্বাস ছাড়াও হাসান ইবনে আলী, আবূ কাতাদাহ, ইবনে উমর, আবূ হুরায়রা, আবূ সায়ীদুল খুদরী, মু’আবিয়া, ইবনে আমর ইবনুল আস প্রমুখ সাহাবীর নিকট হইতেও হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন। আবার বিপুল সংখ্যক তাবেয়ীও তাঁহার নিকট হইতে বর্ণনা করিয়াছেন। সায়ীদ ইবনে মুসাইয়্যিব তাবেয়ী’কে জিজ্ঞাসা করা হইয়াছিলঃ *********************** ‘হাদীসে আপনার অপেক্ষা অধিক বিদ্বান আর কেহ আছেন কি? উত্তরে তিনি বলিলেনঃ হ্যাঁ, আছেন এবং তিনি ইকরামা।[*******************]

সায়ীদ ইবনুল মুসাইয়্যিব

তিনি হযরত উমর ফারুকের ফিলাফতের দ্বিতীয় কি চতুর্থ বৎসরে জন্মগ্রহণ করেন। [********************] এই সময় রাসূলে করীমের স্বর্ণযুগ অতিবাহিত হইয়া গিয়াছিল; কিন্তু তবুও ইসলামের বসন্তকাল সর্বত্র বিরাজিত ছিল। দুই-চারজন ব্যতীত প্রধান সাহাবীদের প্রায় সকলেই তখন পর্যন্ত জীবিত ছিলেন। আর তাঁহারাই ছিলেন ‘ইলমে রিসালাতে’র প্রকৃত উত্তরাধিকারী। ইবনে মুসাইয়্যিবের ছিল অসীম জ্ঞান পিপাসা। তিনি সাহাবীদের নিকট হইতে কুরআন ও হাদীসের জ্ঞান- অমৃত আহরণ করেন। হযরত আবূ হুরায়রা (রা) ছিলেন তাঁহার শশুর। এই সম্পর্কের কারণে হযরত আবূ হুরায়রার নিকট হইতে হাদীস জ্ঞান অধিক মাত্রায় অর্জন করা তাঁহার পক্ষে সহজ হইয়াছিল। এই কারণে তাঁহার বর্ণিত অধিকাংশ হাদীসই মূলত হযরত আবূ হুরায়রা (রা) বর্ণিত। [***********************] অপরদিকে তাঁহার স্বাভাবিক স্মরণশক্তি ছিল এতই তীক্ষ্ণ ও প্রবল যে, একবার যাহা শুনিতেন তাহা চিরদিনের তরেই তাঁহার স্মৃতিপটে মুদ্রিত ও রক্ষিত হইয়া  যাইত।[**************************] এইসব কারণে তাঁহার হাদীস- জ্ঞান অত্যন্ত গভীর ও প্রশস্ত হইয়াছিল।

উবায়দুল্লাহ ইবনে আবদুল্লাহ

তিনি ছিলেন প্রসিদ্ধ সাহাবী হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদের ভ্রাতা উতবার পৌত্র। ইসলামী জ্ঞানের কেন্দ্র ছিল তাঁহার ঘর ও পরিবার। এই পরিবেশে লালিত- পালিত হইয়া তিনি অপরিসীম জ্ঞানের অধিকারী হইয়াছিলেন। ইবনে সায়াদ তাঁহার সম্পর্কে লিখিয়াছেনঃ

******************************************************

তিনি বহু হাদীসের বর্ণনাকারী ও নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী ছিলেন।[*********************]

ইমাম জুহরী বলিয়াছেন, আমি সমসাময়িক প্রায় সকল হাদীসবিদের নিকট হইতেই প্রায় সবটুকু ইলম আহরণ করিয়াছি। কিন্তু উবায়দুল্লাহর ইলম ছিল অসীম ও অতলস্পর্শ সমুদ্র, তাঁহার নিকট যখন আসিতাম, তখনই সম্পূর্ণ নূতন ইলম লাভ করার সুযোগ হইত।[*******************] ইহা হইতে তাঁহার ইলমের গভীরতা, ব্যাপকতা ও প্রসারতা সুস্পষ্টভাবেই প্রমাণিত হয়।

উরওয়া ইবনুয যুবায়র

উরওয়া হাদীস ও ফিকাহ উভয় ধরনের ইলমেই গভীর ব্যুৎপত্তি ও পারদর্শিতা লাভ করিয়াছিলেন। আল্লামা ইবনে সায়াদ লিখিয়াছেনঃ

******************************************************

তিনি বহু হাদীস বর্ণনাকারী ছিলেন, ফিকাহর ইলমে ছিলেন বিশেষ পারদর্শী ও উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন। সকল বিপর্যয় হইতে তিনি সুরক্ষিত ও অত্যন্ত দৃঢ় ও বিশ্বাসযোগ্য ছিলেন।[***************]

তাঁহার পিতা, ভাই, মা, খালা প্রভৃতি সকল নিকট-আত্মীয়ই হাদীস  জ্ঞান বিশেষ ব্যুৎপত্তিসম্পন্ন ছিলেন। উরওয়া তাঁহাদের সকলের নিকট হইতেই হাদীস আহরণ করেন।[*************************] কিন্তু হযরত আয়েশা (রা) বর্ণিত হাদীসসমূহ তিনি প্রায় সম্যক পরিমাণে সংগ্রহ করিতে সমর্থ হইয়াছিলেন। তিনি তাঁহার নিকট বারবার যাতায়াত করিতেন, আর আয়েশা (রা) ছিলেন সকলের অপেক্ষা অধিক বড় আলিমে হাদীস।[ঐ] উরওয়া নিজেই বলিয়াছেন, হযরত আয়েশার ইন্তেকালের পূর্বে-পূর্বে আমি তাঁহার সমূদয় ইলমে হাদীস আহরণ করিয়া পূর্ণরূপে সংরক্ষণ করিয়া লইতে সমর্থ হইয়াছিলাম।[ঐ] উরওয়া হযরত আয়েশা (রা) ছাড়াও অন্যান্য বড় বড় সাহাবীর নিকট হইতে বিপুল পরিমাণ হাদীস আহরণ করিয়া লইয়াছিলেন।[ঐ]

সালেম ইবনে আবদুল্লাহ

সালেম মদীনার শীর্ষস্থানীয় তাবেয়দের অন্যতম। তিনি ছিলেন ইলম ও আমল উভয়ের সমন্বয়। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমরের নিকট হইতেই তিনি বেশীর ভাগ হাদীস আহরণ করিয়াছিলেন। এতদ্ব্যতীত হযরত আবূ হুরায়রা, আবূ আইয়ূব আনসারী ও হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রা)- এর নিকট হইতেও তিনি হাদীসের জ্ঞান লাভ করিয়াছিলেন।[*********************] আল্লামা ইবনে সায়াদ তাঁহাকে ‘বহু হাদীস বর্ণনাকারী ও উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তি; বলিয়া উল্লেখ করিয়াছেন।[*****************]

সুলায়মান ইবনে ইয়াসার

তিনি উম্মুল মু’মিনীন হযরত মায়মুনার ক্রীতদাস ছিলেন। এই কারণে তিনি হযরত আয়েশা (রা) ও অন্যান্য সাহাবীদের নিকট যাতায়াত করা ও ইলমে হাদীস আহরণ করার বিরাট সুযোগ লাভ করিয়াছিলেন। ফলে তিনি মদীনার প্রধান আলিমদের মধ্যে গণ্য হইত পারিয়াছিলেন।[********************] ইমাম নববী লিখিয়াছেন, তাঁহার মর্যাদা ও ইলমী প্রাধান্য সর্ববাদী সমর্থিত ছিল।[ঐ পৃষ্ঠা ২৩৫।]

আতা ইবনে আবূ বিরাহ

তিনি ছিলেন হাবশী গোলাম। কিন্তু ইলম ও আমল, তাকওয়া ও পরহেযগারীর দিক দিয়া তিনি সৈয়দ বংশের তাবেয়ীদের মধ্যে গণ্য হইতেন। [********************] কুরআন, হাদীস, ফিকাহ প্রভৃতি জরুরী দ্বীনী ইলমে তিনি বিশেষ বুৎপত্তি লাভ করিয়াছিলেন। ইবনে সায়াদের ভাষায়ঃ

******************************************************

তিনি ফিাকহ জ্ঞানসম্পন্ন ও অধিক হাদীস বর্ণনাকারী ছিলেন। তিনি লোকদিগকে কুরআন শিক্ষা দিতেন।[********************]

তিনি ছিলেন হাদীসের প্রখ্যাত হাফেজ। ঐতিহাসিক যাহবী তাঁহাকে প্রথম শ্রেণীর হাফেযে হাদীসের মধ্যে গণ্য করিয়াছেন। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস, আবদুল্লাহ ইবনে উমর, আবদুল্লাহ ইবনে আমর, ইবনে যুাবায়র, মু’আবিয়া, উসামা ইবনে যায়দ, জাবির ইবনে আবদুল্লাহ, যায়দ ইবনে আরকাম, আবদুল্লাহ ইবনে সায়েব, রাফে ইবনে খাদীজ, আবূ দারদা, আবূ সায়ীদ খদরী, আবূ হুরায়রা ও হযরত আয়েশা (রা) প্রমুখ প্রখ্যাত সাহাবী হইতে তিনি বিপুল সংখ্যক হাদীস আহরণ করেন।[********************]

তিনি হাদীসের প্রতি অপরিসীম শ্রদ্ধা ও সম্মান প্রদর্শন করিতেন। হাদীস বর্ণনার মাঝখানে অন্য কোন কথা বলা তিনি আদৌ পছন্দ বা বরদাশত করিতেন না।[********************]

ইমাম বাকের (রা) লোকদিগকে এই বলিয়া উৎসাহদান করিতেন যে, তোমরা যত পার আতা’র নিকট হইতে হাদীস গ্রহণ কর।[********************]

ইবরাহীম নাখরী

তিনি ছিলেন কূফা নগরের শ্রেষ্ঠ তাবেয়ীদের অন্যতম। তিনি ইলম ও আমলের পবিত্র পরিবেশে লালিত-পালিত হইয়াছিলেন। তাঁহার চাচা আলকামা ও মামা আসওয়াদ উভয়ই কুফার প্রখ্যাত মুহাদ্দিস ছিলেন।[********************] এই সুযোগে তিনি হযরত আয়েশা (রা)-এর খিধমতেও যাতায়াত করিতেন ও তাঁহার মজলিসমূহের যোগদান করিতেন।

এই কারণে ইবরাহীম ইলমে হাদীসে বিরাট যোগ্যতা অর্জন করিতে সমর্থ হইয়াছিলেন। ইমাম নববীর মতে তাঁহার প্রামাণ্যতা, মর্যাদা ও ফিকাহ-জ্ঞান সম্পর্কে

সকলে একমত। হাদীসের হাফেয ছিলেন তিনি। ঐতিহাসিক যাহবী তাঁহাকে দ্বিতীয় স্তরের হাফেযে- হাদীসগণের মধ্যে গণ্য করিয়াছেন।[********************]

হাসান আল-বসরী

হাসান বসরী যখন জন্মগ্রহণ করেন, তখন বিপুল সংখ্যক সাহাবী ভূ-পৃষ্ঠে বাঁচিয়াছিলেন। তখনকার পরিবেশে সর্বত্র ইলমে রিসালাতের আওয়াজে মুখরিত ছিল।

ইবনে সায়াদ তাঁহার সম্পর্কে লিখিয়াছেনঃ

******************************************************

হাসান বসরী বহু পূর্ণত্ব যোগ্যতার অধিকারী ছিলেন। অতি বড় আলিম ছিলেন, উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন ছিলেন, ফিকাহবিদ ছিলেন, ফিতনা হইতে সুরক্ষিত ছিলেন, বড় আবেদ ও পরহেযগার ছিলেন, জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন, শুদ্ধভাষী, মিষ্টভাষী সুন্দর ও অমায়িক ছিলেন। [********************] বিশেষভাবে ইলমে হাদীসে তাঁহার গভীর ব্যুৎপত্তি ছিল।

হাফেয যাহবীর ভাষায় তিনি ছিলেন বড় বিজ্ঞ, ইলমের সমুদ্র।[********************] তিনি হযরত উসমান, আলী, আবূ মুসা আশ’আরী, আবদুল্লাহ ইবনে উমর, আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস, আনাস ইবনে মালিক প্রমুখ বড় বড় সাহাবীর নিকট হইতে হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন।[********************]

ইয়াহইয়া ইবনে সায়ীদ

তিনি বিশিষ্ট তাবেয়ীদের অন্যতম। হাফেয যাহবী তাঁহাকে ইমাম ও ‘শায়খুল ইসলাম’ প্রভৃতি নামে উল্লেখ করিয়াছেন।[********************]

তিনি যদিও সাহাবী যুগের প্রায় শেষ পর্যায়ের লোক, কিন্তু তবুও তখনকার দিনের অবশিষ্ট সকল সাহাবী হইতেই পূর্ণরূপে ইলম হাসিল করিয়াছেন; হযরত আনাস ইবনে মালিক, কাসিম ইবনে মুহাম্মদ, আমর ইবনে সালমা ইবনে আবদুর রহমা, উরওয়া ইবনে যুবায়র ও সুলায়মান ইবনে ইয়াসার প্রমুখ সাহাবী ও বিশিষ্ট তাবেয়ীদের নিকট হইতে হাদীস শ্রবণ করিয়াছেন।[********************]

ফলে তিনি হাদীসের বড় হাফেয হইয়াছিলেন। আল্লামা ইবনে সায়াদ তাঁহার সম্পর্কে লিখিয়াছেনঃ

******************************************************

তিনি বড়ই নির্ভরযোগ্য, বিশ্বাস্য, বেশী সংখ্যক হাদীসের বর্ণনাকারী, অকাট্য প্রমাণ্য ও প্রতিষ্ঠালব্ধ ছিলেন।

ইবনে মুবারক তাঁহাকে হাদীসের শ্রেষ্ঠ হাফেযদের মধ্যে গন্য করিয়াছেন। আবূ হাতিম তাঁহাকে ইমাম জুহরীর সমপর্যায়ের হাদীসবিদ বলিয়া জানিতেন। বস্তুত ইমাম জুহরী ব্যতীত আর যাঁহারা অক্লান্ত চেষ্টায় মদীনার বিক্ষিপ্ত হাদীসসমূহ সংগৃহীত ও সুরক্ষিত হইয়াছিল, তিনি ছিলেন এই ইয়াহইয়া ইবনে সায়ীদ। ইয়াযিদ ইবনে হারুন বলেন যে, ইয়াহইয়া ইবনে সায়ীদ তাঁহার বর্ণিত তিন সহস্র হাদীস মুখস্থ করিয়াছেন।[]

 

About মাওলানা মুহাম্মাদ আবদুর রহীম