মৃত্যু যবনিকার ওপারে

সম্পুর্ণ সূচীপত্র

জাহান্নামবাসীদের দুর্দশা

কুরআন পাকের বহুস্থানে বেহেশতবাসী ও জাহান্নামবাসীদের অবস্থা বর্ণনা করা হয়েছে। প্রথমে জাহান্নামবাসীদের ভয়াবহ পরিণতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অতপর বেহেশতবাসীদের পরম সৌভাগ্যের কিছু বিবরণও দেয়া হয়েছে।

(আরবী *****************************************************)

“অবিশ্বাসী কাফেরদের দলে দলে জাহান্নামের দিকে তাড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। জাহান্নামের রক্ষক দ্বার খুলে দিয়ে তাদেরকে জিজ্ঞেস করবেন, তোমাদের নিকটে কি আল্লাহর রসূলগণ তাঁদের প্রভুর আয়াতসমুহ পাঠ করে শুনাননি? তোমরা যে এ দিনের সম্মুখীন হবে সে সম্পর্কে তারা কি তোমাদেরকে সতর্ক করে দেননি? প্রত্যুত্তরে তারা বলবে, হ্যাঁ, তাঁরা সবই তো করেছেন, কিন্তূ কাফেরদের জন্যে শাস্তির যে ওয়াদা করা হয়েছিল তা সেদিন পূর্ণ করা হবে। অতপর তাদেরকে বলা হবে, তোমরা জাহান্নামে প্রবেশ কর। গর্বিত কাফেরদের জন্যে ভয়ানক গর্হিত স্থান এ জাহান্নাম। আর এখানেই তাদেরকে অবস্থান করতে হবে চিরকাল।”-(সূরা আয যুমারঃ ৭১-৭২)

জাহান্নামবাসীদের সম্পর্কে বলা হয়েছেঃ

(আরবী ********************************************************)

“কিয়ামতের দিনে আমরা তাদের মস্তক ও মুখমণ্ডল অধঃমুখী করে হাজির করব। তাদের বাসস্থান হবে জাহান্নাম। জাহান্নামের অগ্নির তীব্রতা যদি হ্রাস পায় আমরা তা বাড়িয়ে দেব। এটা তাদের পরিণাম ফল। তার কারণ, তারা আমাদের নিদর্শনসমুহ অস্বীকার করেছিল। তারা বলতো মৃত্যুর পর আমাদের কংকাল মাটিতে মিশে যাবে। তারপর কি করে তা আবার নতুন করে পয়দা হবে?”-(সূরা বনি ইসরাঈলঃ ৯৭-৯৮)

(আরবী ***********************************************************)

“কাফেরদেকে জাহান্নামের অগ্নিবস্ত্র পরিধান করানো হবে। তাদের মাথার উপরে ঢালা হবে ফুটন্ত গরম পানি। ফলে তাদের চর্ম এবং উদরস্থ বস্তূসমুহ বিগলিত হবে। তাদের জন্যে নির্ধারিত থাকবে লৌহদণ্ড। অসহ্য কষ্টের দরুন যখন তারা জাহান্নাম থেকে বেরিয়ে যাবার চেষ্টা করবে, তখন তাদেরকে পুনরায় তার মধ্যে ঠেলে দেয়া হবে। তাদেরকে বলা হবে আগুনের স্বাদ গ্রহণ কর।”-(সূরা আল হাজ্জঃ ১৯-২২)

“কাফেরদের জন্যে জাহান্নামের অগ্নি নির্ধারিত আছে। সেখানে না তাদের মৃত্যু হবে আর না তাদের শাস্তি লাঘব করা হবে। তারা আর্তনাদ করে বলবে প্রভু আমাদেরকে এ শাস্তি থেকে নিষ্কৃতি দিন। আমরা পূর্বের মন্দ কাজ পরিত্যাগ করে এখন থেকে ভালো কাজ করব। আল্লাহ তাদেরকে বলবেন আমি কি তোমাদেরকে দীর্ঘায়ু দান করেছিলাম না যাতে করে তোমরা সত্য উপলদ্ধি করতে পারতে? (তা যখন করনি) তখন এ শাস্তি ভোগ কর। যালেমদের আজ কোনই সাহায্যকারী নেই।”-(সূরা আল ফাতিরঃ ৩৬-৩৭)

(আরবী *************************************************)

“যারা আমার নিদর্শনসমুহ প্রত্যাখ্যান করেছে, শীঘ্রই তাদেরকে আগুনে জ্বালাব। যখন তাদের দেহের চামড়া পুড়ে যাবে, তখন তার জায়গায় নতুন চামড়া পয়দা করব যাতে তারা শাস্তি ভোগ করতে থাকে। আল্লাহ পরম পরাক্রমশালী ও বিজ্ঞ।”-(সূরা আন নিসাঃ ৫৬)

(আরবী ****************************************************)

“এসব লোক বলে, আমাদের প্রথম মৃত্যুর পর আর কিছুই নেই। তারপর আমাদেরকে আর দ্বিতীয়বার পুনরুজ্জীবিত করা হবে না, যদি তুমি সত্যবাদী হও তাহলে আমাদের (মৃত) বাপদাদাকে (জীবিত করে) উঠিয়ে আন দেখি। (জবাবে বলা হচ্ছে) এরা কি ভালো, না তুব্বা জাতি এবং তাদের পূর্ববর্তী লোক? তাদেরকে এ জন্যে ধ্বংস করেছিলাম যে তারা পাপাচারী হয়েছিল। ……… এদের সবাইকে পুনর্জীবিত করে উঠিয়ে নেবার জন্যে নির্দিষ্ট সময় হচ্ছে ফয়সালার দিন। ঐদিন কোন নিকটতম বন্ধু কোন নিকটতম বন্ধুর কাজে আসসে না। এবং কোথাও থেকে তাদেরকে সাহায্যও করা হবে না। …………যাক্কুম গাছ পাপীদের খাদ্য হবে। তা তেলের গাদের মতো। তা পেটের মধ্যে এমনভাবে উথলে উঠবে যেমন উথলে ওঠে ফুটন্ত পানি। (বলা হবে) ধর তাকে এবং হেঁচড়ে টেনে তাকে নিয়ে যাও জাহান্নামের দিকে। উজাড় করে ঢেলে দাও তার মাথার খুলির উপর টগবগ করা ফুটন্ত পানির আযাব। উপভোগ কর এ স্বাদ, যেহেতু তুমি ছিলে বড়ো সম্মানিত ও প্রতাপশালী ব্যক্তি। এ হলো সেই জিনিস যে বিষয়ে তোমরা সন্দেহ পোষণ করছিলে।”-(সূরা আদ দুখানঃ ৩৪-৫০)

ক্ষমতা মদমত্ত খোদাদ্রোহী শাসক মানুষের প্রভু হয়ে বসেছিল। মনে করতো দুনিয়ার সবচেয়ে প্রতিপত্তিশীল ও সম্মানীত ব্যক্তি। মানুষ স্বেচ্ছায়-অনিচ্ছায় তাকে সিজদা করতো, সর্বদা গুনকীর্তন ও প্রশংসা করতো। আখেরাতের বিচার শেষে তার কি দশা হবে তা উপরে বর্ণনা করা হয়েছে।

“যেদিন এ কাফেরদেরকে সে আগুনের মুখে এনে দাঁড় করানো হবে তখন তাদেরকে বলা হবে; তোমাদের নিজেদের অংশের নিয়ামতসমুহ তোমরা দুনিয়ার জীবনেই শেষ করেছ এবং তার স্বাদও উপভোগ করেছ। দুনিয়াতে তোমাদের কোন অধিকার ছাড়াই তোমরা যেসব অহংকার করেছিলে এবং যেসব নাফরমানী করছিলে, তার প্রতিফল হিসেবে আজ তোমাদেরকে লাঞ্চনাময় আযাব দেয়া হবে।”-(সূরা আহকাফঃ ২০)

(আরবী ************************************************)

“তখন কি অবস্থা হবে যখন ফেরেশতারা তাদের রূহগুলো কবয করবে এবং তাদের মুখ ও পিঠের উপর আঘাত করতে করতে তাদেরকে নিয়ে যাবে? এটাতো এ কারণেই করা হবে যে, তারা এমন পন্থা-পদ্ধতি ও মতবাদ অনুসরন করেছে যা আল্লাহকে অসন্তুষ্ট করেছে এবং যে পথ অনুসরণে তাঁকে সন্তুষ্ট করা যেতো সে পথ অনুসরণ করা পছন্দ করেনি। এ জন্যেই তিনি তাদের সমস্ত কর্মকাণ্ড বিনষ্ট ও নিস্ফল করে দিয়েছেন।”-(সূরা মুহাম্মাদঃ ২৭-২৮)

উপরের কথাগুলো ইসলাম ও কুফরের মধ্যে সংঘাত-সংঘর্ষের প্রসংগে বলা হয়েছে, দুনিয়ায় এসব মুনাফিকরা নিজেদের স্বার্থ সংরক্ষনের জন্যে ইসলাম ও কুফরের সংঘাত-সংঘর্ষের বিপদের ঝুঁকি থেকে নিজেদেরকে বাঁচিয়ে রেখেছিল। কিন্তূ মৃত্যুর পর তারা খোদার পাকড়াও থেকে কোথায় পালাবে? সে সময় তাদের শেষ চেষ্টা-তদবীর তাদেরকে ফেরেশতাদের মার থেকে বাঁচাতে পারবে না।

মৃত্যুর পর আলমে বরযখে যে আযাব হবে এ আয়াতটিও তার প্রমাণ। এর থেকে একথা সুস্পষ্ট হয় যে, মৃত্যুর সময়েই কাফের ও মুনাফিকদের আযাব শুরু হয়ে যায়। অবশ্যি এ আযাব সে আযাবের মতো নয় যা হাশরের মাঠে বিচারের শেষে তাদেরকে দেয়া হবে।

                                                 ________________

জান্নাতবাসীদের পরম সৌভাগ্য

একদিকে যেমন নবীগণের দ্বীনের দাওয়াত অস্বীকারকারী, ক্ষমতাগর্বিত খোদাদ্রোহী শাসক ও সমাজপতিদের পরকালীন জীবনের ভয়াবহ পরিণামের বিশদ বর্ণনা দেয়া হয়েছে, অপরদিকে সত্যদ্বীনের প্রতি বিশ্বাসী ও খোদার পথে নিবেদিত প্রাণ লোকদের অনন্তকালীন সুখময় জীবনের বিবরণও দেয়া হয়েছে। এখানে কয়েকটির উল্লেখ করা হচ্ছেঃ

(আরবী ********************************************)

“দুনিয়ার জীবনে যারা ছিল খোদাভীরু এবং খোদার ভয়ে সংকিত ও অনুগত, তাদেরকে দলে দলে বেহেশতের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে। বেহেশতের রক্ষক তাদেরকে বলবে, আসসালামু আলাইকুম, আসুন-আসুন, আপনাদের চিরন্তন বাসস্থান বেহেশতে প্রবেশ করুন-পরম সুখে এখানে বসবাস করুন। তারা বলবে, সমস্ত প্রশংসা সেই আলাহর যিনি আমাদের প্রতি কৃত তাঁর ওয়াদা পুরন করেছেন। তিনি এ বেহেশত আমাদের পূর্ণ অধিকারে দিয়ে দিয়েছেন। আমরা যেখানে খুশী বাস করতে পারি। যারা নেক কাজ করে তাদের জন্যে কি সুন্দর পুরস্কার।”-(সূরা আয যুমারঃ ৭৩-৭৫)

(আরবী *******************************************************)

“আর খোদার সামনে পেশ হওয়ার ভয় পোষণ করে এমন প্রত্যেক লোকের জন্যে দু’টি করে বাগান আছে। তোমাদের খোদার কোন কোন পুরস্কার তোমরা অস্বীকার করবে? (সে বাগান) সবুজ-শ্যামল ডাল পালায় ভরপুর। ………দু’টি বাগানে দু’টি ঝর্ণাধারা সদা প্রবহমান। ………উভয় বাগানে প্রত্যেকটি ফলের দু’টি রকম হবে। ………জান্নাতের লোকেরা এমন শয্যার উপর ঠেস দিয়ে বসবে যার অভ্যন্তর মোটা রেশমের তৈরী হবে। বাগানের বৃক্ষশাখাগুলো ফল্ভারে নত হয়ে আসবে। সেখানে আরও থাকবে লজ্জায় দৃষ্টি অবনতকারিণী পরমা সুন্দরী। ইতিপূর্বে এদেরকে স্পর্শ করেনি কোন মানুষ অথবা জ্বীন। তারা হবে অপরূপ সৌন্দর্যের অধিকারিণী সুরক্ষিত মণি মানিক্যের মতোই। ভালো কাজের পুরস্কার ভালো ছাড়া আর কি হতে পারে? ………সে দু’টি বাগান ছাড়াও দেয়া হবে আরও দু’টি বাগান। …………ঘনো সবুজ-শ্যামল সতেজ বাগান। ……দু’টি বাগানে দু’টি ঝর্নাধারা ফোয়ারার মতো উতক্ষিপ্তমান থাকবে। ………তাতে বেশুমার ফলমূল-খেজুর, আনার প্রভৃতি থাকবে। ………(এসব নিয়ামতের মধ্যে থাকবে) সতীসাধ্বী স্ত্রী। ………তাঁবুতে অবস্থানরত হুরপরী। এসব জান্নাতীদেরকে এর আগে স্পর্শ করেনি কোন মানুষ অথবা জ্বীন। এ জান্নাতবাসীগণ সবুজ গালীচা এবং সুন্দর ও মুল্যবান চাদরের উপর ঠেস দিয়ে বসবে।”-(সূরা আর রহমানঃ ৪৬-৭৬)

(আরবী *******************************************************)

“যারা আল্লাহর সাথে করা অংগীকার পূরণ করে এবং প্রতিজ্ঞা ভংগ করে না, এবং আল্লাহ যে সম্পর্ক অক্ষুণ্ণ রাখার আদেশ করেছেন তা অক্ষুণ্ণ রাখে, ভয় করে তাদের প্রতিপালককে এবং ভয় করে কঠিন হিসাব নিকাশকে এবং যারা তাদের প্রভুর সন্তুষ্টিলাভের জন্যে কষ্ট স্বীকার করে, নামায কায়েম করে, আমি তাদেরকে যে জীবিকা দিয়েছি তার থেকে গোপনে এবং প্রকাশ্যে খরচ করে এবং যারা ভালোর দ্বারা মন্দের মুকাবেলা করে, তাদেরই জন্যে আখেরাতের এ আবাসস্থল। অর্থাৎ তাদের জন্যে এমন বাগান হবে যা হবে তাদের বাপ-দাদা ও স্ত্রী-সন্তানাদির মধ্যে যারা নেক হবে তারাও তাদের সাথে উক্ত বাগানে প্রবেশ করবে। চারদিক থেকে ফেরেশতাগণ তাদেরকে খোশ আমদেদ করতে থাকবে এবং বলবে-আসসালামু আলাইকুম (তোমাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক)। তোমরা ধৈর্যের সাথে যেভাবে দুনিয়াতে পরিস্থিতির মুকাবিলা করেছ (ইসলাম বিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে)। তারই জন্যে আজ তোমরা এ স্থানের যোগ্য হয়েছ। কত সুন্দর আখেরাতের এ বাগান।”-(সূরা আর রাদঃ ২০-২৪)

(আরবী *************************************************************)

“কিয়ামতের দিন পাপীদের দেখেই চেনা যাবে। তাদের মাথার অগ্রভাগের কেশরাশি ও পদদ্বয় ধরে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হবে। সেদিন তোমরা আল্লাহর কোন কোন কুদরত অস্বীকার করবে? এটাই হচ্ছে সেই জাহান্নাম যা তারা মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছিল। তারা এর অগ্নিকুণ্ড ও উত্তপ্ত ফুটন্ত পানির মধ্যে চলাফেরা করতে থাকবে। …… অপরদিকে খোদাকে যারা ভয় করে তাদের উপভোগের জন্যে বেহেশতে দু’টি বাগান দেয়া হবে। ……শ্যামল তরুলতায় ভরা সে বাগান। ………বাগান দু’টির মধ্যে দিয়ে দু’টি ঝর্ণা প্রবাহিত। ……… বাগানের প্রতিটি ফল দু’প্রকারের হবে। ……এ বাগানের মালিক সেখানে মনোরম রেশমী শয্যায় বালিশে ঠেস দিয়ে বসবে। বাগানের বাগানের বৃক্ষ শাখাগুলো ফল ভারে নত হয়ে আসবে। সেখানে আরও থাকবে লজ্জায় দৃষ্টি অবনতকারিণী সুন্দরী। ইতিপূর্বে এদেরকে স্পর্শ করেনি কোন মানুষ অথবা জ্বীন ……… তারা হবে অপরূপ সৌন্দর্যের অধিকারিনী সুরক্ষিত মণি-মানিক্যের মতোই।”-(সূরা আর রহমানঃ ৪১-৪৫)

(আরবী **************************************************)

“যারা আমার নিদর্শনসমূহ প্রত্যাখ্যান করেছে, তাদেরকে অগ্নিদগ্ধ করব। যখন তাদের চর্ম দগ্ধিভূত হবে, তখন তার পরিবর্তে নতুন চর্ম সৃষ্টি করে দেব। যাতে করে তারা শাস্তি ভোগ করতে পারে। আল্লাহ পরম পরাক্রমশালী ও বিজ্ঞ।”-(সূরা আন নিসাঃ ৫৬)

(আরবী ****************************************************)

“আল্লাহ তায়ালার কাছে সবচেয়ে বড়ো মর্যাদা তো তাদের, যারা তাঁর উপরে ঈমান এনেছে, তাঁরই পথে ঘরদোর, ব্যবসা-বাণিজ্য, ক্ষেত-খামার পরিত্যাগ করেছে এবং মাল ও জান দিয়ে (আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে) আল্লাহর পথে সংগ্রাম করেছে, তাদেরই জীবন সার্থক হয়েছে। তাদের প্রভু (আল্লাহ) তাঁর রহমত, সন্তুষ্টি এবং এমন বাগবাগিচায় বাসস্থানের সুসংবাদ দেন-যেখানে তাদের জন্যে চিরন্তন সুখ-শান্তির ব্যবস্থা রয়েছে। চিরকাল তারা সেখানে বসবাস করবে। নেক কাজের প্রতিদান দেবার জন্যে তাঁর কাছে অফুরন্ত সম্পদ রয়েছে।”

(আরবী *****************************************************)

“হে ঈমানদারগণ! তোমাদেরকে কি এমন একটা ব্যবসার কথা বলে দেব, যা তোমাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি থেকে অব্যাহতি দেবে? আল্লাহ ও তাঁর রসূলের উপর ঈমান আন এবং আল্লাহর পথে মাল ও জীবন দিয়ে সংগ্রাম কর। যদি জানতে চাও তাহলে শুনে রাখ এই হচ্ছে তোমাদের জন্যে মংগলদায়ক। (কারণ এর ফলে) আল্লাহ তোমাদের গোনাহ মাফ করে দেবেন, বেহেশতে প্রবেশ করাবেন যার নিম্ন দিয়ে স্রোতস্বিনী প্রবাহিত হবে এবং চিরদিনের বাসস্থান ও বাগানসমুহে তোমাদেরকে দান করবেন সুরম্য আবাসগৃহ। এটাই হলো প্রকৃতপক্ষে বিরাট সাফল্য।”

কুরআন হাকীমে বহুস্থানে বেহেশতবাসী ও জাহান্নামবাসীদের এ ধরনের বিশদ বর্ণনা দেয়া হয়েছে। দৃষ্টান্ত স্বরূপ উপরে মাত্র কয়েকটি উল্লেখ করা হলো।

                                         ____________________

About আব্বাস আলী খান