ইসলামে শক্তির উৎস

সম্পুর্ণ সূচীপত্র

Picture7

ইসলামে শক্তির উৎস

সাইয়েদ আবুল আ’লা মওদুদী (র)


স্ক্যান কপি ডাউনলোড

গ্রন্থ পরিচিতি

আলোচ্য পুস্তকখানি বর্তমান বিশ্ব ইসলামী আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা বিশিষ্ট চিন্তানায়ক হযরত মাওলানা সাইয়েদ আবুল আ’লা মওদূদী (র) এখন থেকে ৫০ বছর আগের মাত্র ২২ বছর বয়সে লেখা। এর রচনাকাল ১৯২৫ সালের জুলাই ও আগষ্ট মাস। মাওলানা সাহেব তখন দিল্লী থেকে প্রকাশিত দৈনিক আল-জমিয়তের একমাত্র দায়িত্বশীল সম্পাদক। তার আগে তিনি ১৯২০ সালে জব্বলপুর থেকে প্রকাশিত ‘তাজ’ পত্রিকায় এবং ১৯২১ থেকে ১৯২৩ সাল পর্যন্ত দিল্লী থেকে প্রকাশিত ‘মুসলিম’ পত্রিকায় তরুণ সাংবাধিক হিসাবে দায়িত্বপালন করেন। আলোচ্য পুস্তকখানি আল-জমিয়তের ১৯২৫ সালের জুলাই মাসের ১৮, ২২, ২৬ ও ২৯ তারিখে এবং আগষ্টের ১০, ১৪ ও ১৮ তারিখের সংখ্যাগুলোতে ‘ইসলামের শক্তির উৎস’ শিরোনাম ধারাবাহিক সম্পাদকীয় নিবন্ধের আকারে প্রকাশিত হয়। ৪৪ বছর পর্যন্ত আল-জমিয়তের পাতায় অবরুদ্ধ থাকার পর ১৯৬৯ সালে মূল রচনাটি সর্বপ্রথম একত্রে পুস্তকাকারে প্রকাশিত হয়। বর্তমান পুস্তক সেই প্রকাশনার ভাষান্তর।

এ যাবত “আল-জিহাদ ফিল ইসলাম” (প্রকাশকাল-১৯২৭) মাওলানা মওদূদীর প্রথম গ্রন্থরূপে গণ্য হয়ে আসছে। কিন্তু এখন আশা করা যায় যে, “ইসলামের শক্তির উৎস”ই রচনাকালের বিচারে (প্রকাশকালের বিচারে না হলেও) তাঁর প্রথম পুস্তকরূপে গণ্য হবে। পাঠকদের জন্য এটা পরম কৌতুহলের ব্যাপার যে, উভয় গ্রন্থই তৎকালীন ভারতবর্ষের একটি অতি উত্তেজনাকর ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা শুদ্ধি আন্দোলনের পটভূমিতে লেখা। স্বামী শ্রদ্ধানন্দ পরিচালিত এ আন্দোলনের দরুন তৎকালে মুসলমানদের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও উদ্বেগের সঞ্চার হয়েছিল এবং কিভাবে ঐ আন্দোলনের মোকাবিলা করা যাবে তা নিয়ে চিন্তা-গবেষণা চলছিল। আর তারই জবাব হিসাবে এ রচনাটি প্রকাশিত হয়েছিল। আর ‘আল জিহাদ ফিল ইসলাম’ লিখিত হয় স্বামী শ্রদ্ধানন্দের আকস্মিক হত্যাকাণ্ডের পর –যখন হিন্দুদের পক্ষ থেকে মুসলমানদের ধর্মকে নর হত্যার প্রেরণা দানকারী রূপে অভিযুক্ত করার প্রবণতা দেখা দেয়। ঐ গ্রন্থে মাওলানা সাহেব ইসলামের জিহাদ নীতির বস্তুনিষ্ঠ ব্যাখ্যা দিয়ে ইসলামের প্রতি আরোপিত অপবাদ প্রক্ষালনের অত্যন্ত চমৎকার ও ফসল প্রয়াস পান।

“ইসলামের শক্তির উৎস” গ্রন্থখানির লেখকের একটি বৈশিষ্ট্য অত্যন্ত বিস্ময়করভাবে পাঠকদের নজরে পড়বে। সেটি হলো, লেখকের অপূর্ব চিন্তাগত সাদৃশ্য। অর্ধ শতাব্দী আগে লেখা এ রচনাখানি পরবর্তী সকল রচনার সাথে মিলিয়ে পড়লে এসবের মধ্যে চিন্তার দিক থেকে এমন সুসংহত ও সুসামঞ্জস্য ব্যক্তিত্ব পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম চিন্তানায়কদের মধ্যেও খুব কমই দৃষ্টিগোচর হয়ে থাকে। চিন্তার এ সামঞ্জস্যের প্রমাণ হিসাবে আমরা গ্রন্থকারের ১৯৬৭ সালে প্রদত্ত একটি ভাষণের অংশবিশেষ এ পুস্তিকার শেষে উদ্বৃত করলাম। আমরা আশা করি, আলোচ্য গ্রন্থখানি ভাষান্তরিত হয়ে প্রকাশিত হওয়ার পর এর দ্বারা ইসলাম প্রচারে নিয়োজিত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানসমূহ যথেষ্ঠ উপকৃত হবেন। সেই সাথে গ্রন্থকারের চিন্তাগত ও মানসিক বিকাশের প্রাথমিক পর্যায়ে উপলব্ধি করার ব্যাপারেও এ পুস্তক একটি মূল্যবান ঐতিহাসিক উপাদান হিসাবে সহায়ক হবে।

About সাইয়েদ আবুল আ’লা মওদূদী রহ.