ইসলামী ঐক্য ইসলামী আন্দোলন

সম্পুর্ণ সূচীপত্র

আহলি হাদীস ও হানাফী

বাংলাদেশের সকল মুসলমানই সুন্নী বা আহলি সুন্নত ওয়াল-জামায়াতের অন্তর্ভুক্ত। শিয়া ও আগাখানী ইসমাইলী সামান্য কিছু লোক থাকলেও তারা সাধারণ মুসলিম সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন। সুন্নী মুসলমানদের মধ্যে সব মাযহাবের লোক এ দেশে নেই। জনসংখ্যার প্রধান অংশ হানাফী মাযহাবের অনুসারী হলেও আহলি হাদীসের সংখ্যাও বেশ বড়।
উপরোক্ত দশ ধরনের ইসলামের খেদমত আলোচনায় হানাফী ও আহলি হাদীসের খেদমত আলাদাভাবে উল্লেখ করা হয়নি। কারণ এ আলোচনার প্রসংগ তা নয়। ঐ সব খেদমত যেমন হানাফী মাযহাবের লোকেরা করছেন, তেমনি আহলি হাদীসের লোকেরাও কম করছেন না।
মুসলিমদের মধ্যে ইত্তেহাদের যে মহান লক্ষ্যে সকলের দ্বীনী খেদমতকে স্বীকৃতি দেবার প্রয়োজন রয়েছে সে উদ্দেশ্যেই আহলি হাদীস ও হানাফীদের মধ্যে বৃহত্তর ঐক্য স্থাপনের গুরুত্ব আরও বেশী। আহলি হাদীস ও হানাফী মাযহাবভুক্ত সকল মুসলমানই সুন্নী এবং হকপন্থী। দ্বীনের ব্যাপারে তাদের মধ্যে পূর্ণাংগ মিল রয়েছে।
কুরআন ও হাদীসের যেসব বিষয়ে মত পার্থক্যের কোন অবকাশ নেই সেক্ষেত্রে তাদের মধ্যে কোন মতভেদ নাই। যে কয়টি ক্ষেত্রে ব্যাখ্যায় মত পার্থক্যের সুযোগ রয়েছে সেখানেই মতের পার্থক্য রয়েছে। এ পার্থক্যের দরুন তাদের দ্বীন আলাদা হয়ে যায়নি।
মুসলিম জনগণের মধ্যে আহিল হাদীস ও হানাফীদের মধ্যে কোন্ কোন্ বিষয়ে মিল রয়েছে সে সবের কোন চর্চ্চা নেই। এক শ্রেণীর ধর্ম-ব্যবসায়ী দাদের মধ্যে কোথায় কোথায় বেমিল রয়েছে সেগুলোকেই ফলাও করে প্রচার করে যাতে তাদের ব্যবসা চালু থাকে। হানাফী ও আহলী হাদীসের সকল মুসলিম দ্বীনদারগণ যদি উভয়ের মধ্যে নৈকট্য ও ঐক্যের বিষয়গুলো জনগণের মধ্যে তুলে ধরেন তাহলে উম্মতের ইত্তেহাদ বাস্তব সম্ভব হতে পারে।

ইসলামী ঐক্যের বাস্তব পন্থা

এদেশে ইসলামের যারা খেদমত করেছেন তারা বহু সংগঠন, জামায়াত ও জমিয়ত ইত্যাদিতে বিভক্ত। তাবলীগ জামায়াত, আহলে হাদীস, জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্র শিবির ইত্যাদি কয়েকটি সংগঠন যে পরিমাণ মজবুত দ্বীনের অন্যান্য খাদেমগণ এতটা সুসংগঠিত না হলেও তাদের মধ্যে পেশাগত এক ধরনের ঐক্যবোধ আছে। আলীয়া মাদরাসাসমূহের মুদাররিসগণ তুলনামূলকভাবে অধিকতর সংগঠিত। কওমী মাদরাসার মুদারিসগণ এতোটা না হলেও তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ এছ। পীর সাহেবান নিজ নিজ মুরিদ ও মুতাকিদগণকে স্বাভাবিকভাবেই এক ধরনের ঐক্যসূত্রে আবদ্ধ রাখার চেষ্টা করেন। অবশ্য একটি শ্রেণী হিসেবে পীর সাহেবানদে কোন সংগঠন নেই। কাজী সাহেবদের সংগঠন যে পরিমাণ আছে, মসজিদের ইমামগণের তেমন নেই। ওয়ায়েযগণের পেশা ভিত্তিক কোন মজিয়ত নেই। ইসলামী সাহিত্য রচয়িতা ও প্রকাশকদেরও পৃথক কোন সমিতি নেই।
এ দ্বারা প্রামাণিত হয় যে, আলেমগণ উপরোক্ত বিভিন্ন ধরনের খেদমত ও পেশায় বিভিন্ন শক্তি হিসেবে আছেন। তাদের সবার এমন কোন প্লাট ফরম, ফোরাম বা সমিতি নেই যেখানে দ্বীনের খাদেম হিসবে ঐক্যবদ্ধ হয়ে জাতির সামনে কোন বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করতে পারেন। এ ধরনের ঐক্য জোটের প্রয়োজন বোধ করেই কোন কোন মহল প্রচেষ্টা চালিয়ে এসেছেন এবং কাউন্সিল বা পরিষদ গঠন করেছেন। এসব উদ্যোগ প্রশংসনীয় হলেও প্রকৃত ঐক্যের প্রয়োজন পূরণ করতে হলে বাস্তব পন্থা গ্রহণ করতে হবে।

ইসলামী ঐক্যের দৃষ্টান্ত

এ বিষয়ে দুটো উদাহরণ আমাকে অত্যন্ত উৎসাহিত করেছে। ভারতে ইন্দিরা গান্ধীর চরম দাপটের সময় মুসলিম পারিবারিক আইন পরিবর্তন করার সরকারী প্রচেষ্টা চলে। উর্দু ভাষাকে পংগু করে মুসলম কালচারকে ধর্ম নিরপেক্ষ করার ষড়যন্ত্র চলে এবং আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের মুসলিম প্রাধান্য খতম করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ভারতের মুসলিমদের ঐ অসহায় অবস্থায় তাদের সকল দল ও মতের নেতাদের একটি ঐক্যজোট গঠিত হয়। এর নাম রাখা হয় “মজলিসে মুসাওয়াত” বা পরামর্শ পরিষদ। ইন্দিরা সরকার মুসলিম শক্তির ঐক্যবদ্ধ আওয়াজকে উপেক্ষা করা সম্ভব মনে করল না। মজলিসে মুসাওরাতের দু’- তিনিটি সম্মেলনের বলিষ্ঠ ভূমিকা মুসলমানদের মধ্যে এমন চেতনা সৃষ্টি করল যে সরকার শেষ পর্যন্ত ঐসব ষড়যন্ত্র স্থগিত রাখতে বাধ্য হল। ভারতের মতো দেশে অসহায় সংখ্যালঘু মসলিমগণ একমাত্র ঐক্যজোটের মাধ্যমেই দ্বীনের হেফাযতের শক্তি সঞ্চয় করতে সক্ষম হলেন। ঐ পন্থায় ব্যর্থ হয়ে ভারতের হিংস্র একদল মুসলিম বিদ্বেষী আলিগড়ে ব্যাপক দাংগা বাঁধিয়ে মুসলমাদেরকে সেখান থেকে উৎখাত করার মাধ্যমে আলিগড় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মুসলিম প্রাধান্য খতম করার চেষ্টা চালাচ্ছে।
দ্বিতীয় উদাহরণটি পাকিস্তানে। পাকিস্তান ন্যাশনাল এলায়েন্স (পি-এন-এ-) বা পাকিস্তান জাতীয় ঐক্যজোট (পি-এন-এ-) নামক প্রতিষ্ঠান মাওলানা মুফতী মাহমুদের জমিয়তে ওলামায়ে ইসলামের উদ্যোগে গঠিত হয়। এককালে মুফতী মাহমুদের দলটি জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে প্রচারণায় লিপ্ত ছিল। কিন্তু মত পার্থক্য সত্ত্বেও ইসলামের বৃহত্তর স্বার্থে মুফতী মাহমুদ ও মাওলানা মওদূদীর মধ্যে ঐক্য স্থাপতি হবার পর মুসলিম লীগ, এয়ার মার্শাল আজগর খান, এমনকি সীমান্তের ওয়ালী খান পর্যন্ত তাদের দলবলসহ পি. এন. এ’তে যোগদান করে “নেযামে মুস্তফা” বা ইসলামী শাসনের আওয়াজ তুলেন। ভূট্টো শাসনের চরম দুর্দিনে এ ঐক্যজোট ব্যতীত পাকিস্তানে ইসলামের মুক্তি অসম্ভব ছিল। ইসলামের প্রাধমিক প্রাধান্য সৃষ্টি হবার পর পি, এন, এ পরবর্তীকালে কোন শক্তি হিসাবে গণ্য না হলেও ইসলামের এ প্রাধান্যটুকু ঐ ঐক্যজোটেরই ফসল।
ভারত ও পাকিস্তানের মতো দুটো প্রতিবেশী রাষ্ট্রে ইসলামী ঐক্যের যে নগত সুফল পাওয়া গেল তা বাংলাদেশের ইসলামী মহলকে নিশ্চয়ই প্রেরণা যোগাবে। বাংলাদেশে ইসলামী শক্তির ঐক্য স্থাপিত হলে পাকিস্তানের চেয়েও বেশী সফলের সম্ভাবনা রয়েছে।

বাংলাদেশে ঐক্যের রূপ

পাকিস্তানের মতো বাংলাদেশের ওলামাদের সুসংগঠিত কোন রাজনৈতিক দল নেই। তাই যে ক’’টি ইসলামী রাজনৈতিক দল আছে শুধু তাদের ঐক্যেই এখানে ইসলামের ঐক্যের জন্য যথেষ্ট নয়। এ দেশের ইসলামী শক্তিগুলো চিহ্নিত হওয়া প্রয়োজন। ইসলামী শক্তিগুলোর প্রতিনিধিদের দ্বারা যদি কোন সংগঠন গড়ে উঠে তাহলে এদেশের গোটা মুসলিম চেতনাকে ঐক্যবদ্ধ করা সম্ভব হতে পারে।
সাধারণঃ এ ধরনের ঐক্য দু’কারণে ব্যর্থ হয়। প্রথমতঃ ঐক্যজোটের নেতৃত্ব নিয়ে চরম মতভেদ দেখা দেয়। দ্বিতীয়তঃ ঐক্যের পেছনে সুস্পষ্ট উদ্দেশ্য না থাকলে বিভিন্ন নিজ নিজ উদ্দেশ্যে ঐক্যের প্লাটফরমকে ব্যবহার করার সুযোগ পায়।
তাই এ দুটো সমস্যার পরিষ্কার সমাধান এ জাতীয় ঐক্যজোটের কামিয়াবীর পয়লা জরুরী শর্ত। এর সমাধান হিসেবে আমার সুচিন্তিত প্রস্তাব নিম্নরূপ:-
ইসলামী শক্তিগুলোর প্রতিনিধিদের দ্বারা যে কেন্দ্রীয় মাজলিস গঠিত হবে কোন এক ব্যক্তি এর সভাপতি হবেন না। প্রতিনিধিদের সবাই সভাপতি হিসেবে গণ্য হবেন এবং কেন্দ্রীয় কমিটিকে মাজলিসের “সভাপতি মন্ডী” বলা হবে। এ কমিটির বৈঠক পরিচালনার জন্য বায়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তি সভাপতিত্ব করবেন। বৈঠকের বাইরে তিনি মাজলিসের সভাপতি হিসাবে বিবেচিত হবেন না। কেন্দ্রীয় কমিটির পরবর্তী বৈঠকে বয়স অনুপাতে দ্বিতীয় ব্যক্তির সভাপতিত্বে কাজ চলবে। এভাবে কাজ করা হলে কোন এক ব্যক্তির নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হবে না।
অবশ্য যখন কোন সম্মেলন হবে তখন সকলকেই এমনভাবে বিভিন্ন মর্যাদা দেবার ব্যবস্থা করতে হবে যাতে সভাপতি মন্ডলীর সবাই গুরুত পান। এভাবেই নেতৃত্বের কোন সমস্যা সৃষ্টি হওয়া থেকে মজলিসকে রক্খা করা যাবে ইনশাআল্লাহ।
ঐক্যজোটের উদ্দেশ্য পরিষ্কারভাবে নির্ধারিত থাকলে দ্বিতীয় সমস্যার সমাধানও হয়ে যাবে। এ ঐক্যজোট কোন রাজনৈতিক প্লাটফরম হবে না। নির্বাচনেও প্রার্থী মনোনয়ন দেবে না। এর একমাত্র উদ্দেশ্যে হবে এদেশে ইসলাম ও মুসলিম জাতির প্রতিনিধিত্ব করা। প্রতিনিধিত্বের দায়িত্ব নিম্নরূপ:-
(ক) ইসলামী বিধান সম্পর্কে মজলিসের সবার মধ্যেই যেসব বিষয়ে কোন মতভেদ নেই সে বিষয়ে ঐক্যমত ঘোষণা করা, যাতে অন্ততঃ ঐ সব ক্ষেত্রে মুসলিম জনসাধারণ সঠিক হেদায়াত পায়। এর ফলে জাহেলিয়াত, সুস্পষ্ট বেদয়াত ও ইসলাম বিরোধী রসম-রেওয়াজের প্রচরণ কমতে থাকবে এবং বাস্তব জীবনে ইসলামকে অনুকরণ করার প্রেরণা বাড়বে।
(খ) দেশের সরকারী যা কিছু করছেন তা ইসলামের দৃষ্টিতে বিবেচনা করে সঠিক বক্তব্য পেশ করা, যাতে সরকার ভুল করলে নিজেদেরকে সংশোধন করার সযোগ পান। এ ধরনের একটি প্লাটফরম থেকে ইসলামের যে রায় প্রকাশ করা হবে তার বিপরীত কাজ করা সরকার এত সহজ মনে করবেন না, যত সহজ এখন মনে করেন। বর্তমানে ইসলামের ঐতীম অবস্থা। তাই ইসলামের পৃষ্ঠপোশক শক্তি অত্যন্ত জরুরী।
(গ) দেশের রাজনৈতিক দলগুলোকে ইসলামের বিপরীত কাজ করা থেকে বিরত রাখার জন্য ঐক্যজোটের সুচিন্তিত অভিমত যথেষ্ট সহায়ক হতে পারে। পাকিস্তাতন আমলে ওলামাদের ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্ত অনুায়ী ১৯৫০ সালে সর্বশ্রেণীর ৩১ জন ওলামার সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত অনযায়ী শাসনতন্ত্রের যে ২২ দফা মূলনীতি রচিত হয়েছিল তাকে সম্পূর্ণ অগ্রাহ্য করে কোন শাসনতন্ত্র সেখানে রচিত হতে পারেনি।
এসব উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে যদি ইসলামী শক্তিগুলোর প্রতিনিধিগণ একটি কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব সৃষ্টি করতে পারেন তাহলে এদেশে ইসলামের বিজয় অবশ্যই ত্বরান্বিত হবে।
এ ব্যাপারে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ইসলামী শক্তিগুলো চিহ্নিত করা। কোন্ কোন্ গ্রুপ, দল, শ্রেণী বা পেশার লোক থেকে প্রতিনিধি নেয়া হবে তা সঠিকভাবে নির্ধারিত হওয়ার উপরিই এ ঐক্যজোটের প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করে। আমার বিবেচনায় নিম্নলিখিত মহল এ উদ্দেশ্য গণ্য। এবিষয়ে চূড়া্ত মতের দাবী আমি করি না। কিন্তু এদের প্রতিনিধিগণ যদি আর কোন মহলকে এতে শামীল করতে চান তাতে কোন অসুবিধার কারণ নেই।
১। জমিয়তে আহলী হাদীস
২। জমিয়তুল মুদুররিসীন (আলিয়া মাদরাসা)
৩। হক্কানী পীর সাহেবানদের প্রয়োজনীয় সংখ্যক প্রতিনিধি
৪। ওলামায়ে দেওবন্দ (কওমী মাদরাসা)
৫। তাবলীগ জামায়াত
৬। ওলামা ও মাশায়েখ সিলেট
৭। কাজী সমিতি
৮। ইসলামি রাজনৈতিক দলসমূহ
৯। অরাজনৈতিক ইসলামী সংগঠন (দেশ-ভিত্তিক)
এসব ইসলামী শক্তির এক একজন প্রতিনিধি নিয়ে কেন্দ্রী “সভাপতি মন্ডলী” হঠিত হলে তারা এ প্লাটফরমের একটা নাম ঠিক করবেন।
সভাপতি মন্ডলী যাবতীয় বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন। মাজলিসের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য একটি সম্পাদকমন্ডলী থাকবে। উপরোক্ত প্রতিষ্ঠানসমূহ থেকেই একজন করে সম্পাদক নিয়ে সম্পাদকমণ্ডলী গঠিত হবে। এ সম্পর্কে বিস্তারিত সাংগঠনিক কাঠামো সভাপতিমন্ডলীই ঠিক করবেন।
দেশে ইসলামী শক্তিসমূহের প্রতিনিধিত্বমূলক একটি বলিষ্ঠ ঐক্যজোট বা প্লাটফরম সৃষ্টির উদ্দেশ্য যেসব প্রতিষ্ঠানের নাম উপরোক্ত তালিকায় উল্লেখ করা হয়েছে সে বিষয়ের ভিন্ন মতও থাকতে পারে। যদি প্রকৃত ঐক্যের লক্ষ্য সম্পর্কে সাই আগ্রহশীল হন তাহলে একত্রে বসে পরামর্শের ভিত্তিতে চূড়ান্ত তালিকা তৈরী করা সম্ভভ।
পূর্ব বর্ণিত ১০ প্রকার দ্বীনী খেদমতের কোনটাকেই ছোট করে দেখা উচিত নয়। এসব খেদমেই একে অপরের সহায়ক ও পরিপূরক। কোন এক ধরনে খেদমত দ্বারা দ্বীনে যাবতীয় প্রয়োজন পূরণ হতে পারে না। সবার কাজ মিলে দ্বীনের যে বিরাট খেদমত হচ্ছে তা উপলব্ধি করার যোগ্যতা আল্লাহ পাক সবাইকে দান করুন প্রত্যেক মুখলিস খাদেমে দ্বীনের এটাই কাম্য হওয়া উচিত। আল্লাহ পাক সংশ্লিষ্ট সবাইকে ইসলামের ঐক্যের জন্য ইখলাসের সাথে কাজ করার তৌফিক দান করুন- আমীন।
বাংলাদেশে ইসলামী শক্তির ঐক্যের গুরুত্ব সঠিকভাবে অনুভব করার জন্য একটি বিষয়ের প্রতি সংশ্লিষ্ট সবার সতর্ক দৃষ্টি আকৃষ্ট করতে চাই। দুনিয়ার মানচিত্রে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলো দুটো ভৌগলিক দিক দিয়ে এলাকায় যুক্ত। একমাত্র বাংলাদেেই মুসলিম দুনিয়া থেকে ভৌগলিক দিক দিয়ে বিচ্ছিন্ন। শুধু তাই নয়, ভারতের মতো একটি দেশ দ্বারা এদেশটি ঘেরাও হয়ে আছে। খোদা না করুন, এদেশে যদি ভারতের তাবেদার কোন সরকার কায়েম হয় তাহেল সকল প্রকার ইসলামী শক্তিকে খতম করা তারা প্রাথমিক কর্তব্য মনে করবে। সুতরাং ইসলামের দাবীদারগণ ঐক্যবদ্ধ হয়ে এদেশে দ্বীনের বিজয়ের চেষ্টা না করলে ইসলাম বিরোধীদের হাতে কচু-কাটা হওয়া ছাড়া আর কোন উপায়ই বাকী থাকবে না।

আধুনিক বিশ্বে ইসলামী আন্দোলন

বিংশ শতাব্দীতে সারা মুসলিম দুনিয়ায় ইসলামের যে নব জাগরণ দেখা যাচ্ছে তা প্রধানতঃ দুজন মহান ইসলামী চিন্তানয়কের প্রত্যখ্য সংগ্রামের ফসল। প্রায় একই সময়ে মিসরে ইমাম হাসানুল বান্না শহীদ (রঃ) এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় মাওলানা সাইয়েদ আবুল আ’লা মওদূদী (রঃ) যে ইসলামী আন্দোলনের সূচনা করেন আজ এ দুজনের চিন্তাধারা ও বিপ্লণবের কর্মসূচি দুনিয়ার সব দেশে বিস্তার লাভ করেছে। এ সমযে আর যেসব দেশে অন্যান্য ইসলামী চিন্তানায়কের প্রচেষ্টা স্থানীয়ভাবে ইসলামী আন্দোলনের জন্ম দিয়েছে সেখানেও এ দু’জনের সাহিত্য ও চিন্তাধারা ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করেছে।
ইমাম হাসানুল বান্নার ইখয়ানুল মুসলিম এবং মাওলানা মওদূদগীর জামায়াতে ইসলামী বর্তমানে কোন এক দেশে সীমাবদ্ধ নয়। এশিয়া, ইউরোপ, আমেরিকা ও আফ্রেরিকায় এ দুটো ইসলামী আন্দোলনের সাহিত্য বহু ভাষায় তরজমা হয়ে ঐ সব দেশের ইসলামী আন্দোলনের মাধ্যমে গড়া কর্মীর এক বিরাচ সংখ্যা বিভন্নি কারণে প্রায় সব-অকমিউনিষ্ট দেশেই পৌছে গেছে এবং তাদের মাধ্যমে স্থানীয় লোকদের মধ্যে ধীরে ধীরে এ আন্দোলনের প্রসার হচ্ছে। জামায়াতে ইসলামী ও ইখওয়ানুল মুসলিমুনের কোন কর্মী বিশ্বের ঐ সব স্থানে পৌছলে দেখতে পাবে যে, তাদের ইসলামী আন্দোলনের সংগঠন কোন না কোন আকারে বিরাজ করছে। তাই সর্বত্রই তিনি দ্বীনী সংগঠন তৈরী পাবেন। ইউরোপ ও আমেরিকায় এ ধরনের সংগঠনে যোগ না দিলে মুসলিম হিসেবে জীবন যাপন করা অসম্ভব। মুসলিম দেশ থেকে উচ্চ-শিক্ষা বা বিভিন্ন প্রকার প্রশিক্ষণের জেন্য যারা সেখানে যান তাদের পক্ষে ইসলামী জ্ঞান ও চরিত্র অর্জনের মহাসুযোগ লাভ করা ঐ সব সংগঠনের মাধ্যমেই সম্ভব হচ্ছে।
ইখওয়ানের প্রতিষ্ঠাতা ইমাম হাসানুল বান্না ১৯৪৯ সালের ১১ই ফেব্রুয়ারী দিবাগত রাত্রে মাত্র ৪২ বৎসর বয়সে আততায়ীর গুলীতে শহীত হওয়ায় তিনি ইসলামের বিভিন্ন দিকে বেশীসংখ্যক সাহিত্য দিয়ে যেতে না পারলেও তাঁর আন্দোলনের বেশ কয়েকজন চিন্তাবিদ সে অভাব পূরণ করেছেন। এ সত্ত্বেও মাওলানা মওদূদীর বিপুল ইসলামী সাহিত্য ইখওয়ানদের নিকট অত্যন্ত প্রিয়। ইসলামী জীবন বিধান সম্পর্কে উভয় আন্দোলনের মধ্যে চিন্তা ও জ্ঞানের বিস্ময়কর ঐক্য দেখা যায়। আল্লাহর কোরআন ও রাসূল (সা) এর সুন্নাতকে মূল উৎস হিসেবে গ্রহণ করার এটাই স্বাভাবিক সুফল।
ইসলামী আন্দোলনের নামে ইরানে যে বিপ্লব সাধিত হয়েছে তা শিয়ামতবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত বলে সুন্নী দুনিয়া এখনও ইরান সম্পর্কে নীরব ভূমিকা পালন করছে। এ সত্ত্বেও ইসলামের নামে ইরানে বিপ্লপ সাধিত হওয়ায় আমেরিকা ও রাশিয়া দুনিয়ার সব দেশের ইসলামী আন্দোলন নিয়ে আতংকগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। সুদানে ইসলামী আন্দোলন বিজয়ী হওয়ার পথে এগিয়ে চলছে। মিসর ও পাকিস্তানে ইসলামী আন্দোলন বিজয়ী হওয়ার পথে এখনও যথেষ্ট বাধা আছে।

ইসলামী আন্দোন দেশে দেশে

স্বাধীনত বিশ্বের (অকমিউনিষ্ট দেশ) সব দেশেই ইসলামী আন্দোলন কোন না কোন আকারেও পর্যায়ে চলছে। ইসলাম সম্পর্কে ধারণা ও জ্ঞানে ঐক্য সত্ত্বেও সংগত কারণেই বিভিন্ন দেশে ইসলামী আন্দোলনের কর্মসূচী ও কর্মপন্থা নিজ নিজ দেশের পরিবেশ ও অবস্থা অনুযায়ী বিভিন্ন হওয়াই স্বাভাবিক । যে দেশে প্রকাশ্য সংগঠন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ সেখানেও কর্মসূচী বিশেষ ধরনের হবেই। যে দেশে সংগঠনের অনুমতি থাকলেও রাজনৈতিক মতামত নিয়ন্ত্রিত সেখানের কর্মসূচী সে ভিত্তিতেই রচিত। কোথাও এক দলীয় শাসনথাকায় আন্দোলন নিজস্ব নামে কাজ করতে না পারলেও বিরাট কর্মসূচী নিয়ে কর্মব্যস্ত রয়েছে। কোথাও ডানপন্থী এবং বামপন্থী রাজণৈতিক দলের মাঝখানে ইসলামী দল হিসেবে রাজনৈতিক ময়দানেও তৎপর। কোন্ কোন্ দেশে কিছুটপা গণতন্ত্র থাকা সত্ত্বেও ইসলামী আন্দোলন রাজনৈতিক দল হিসেবে কর্মরত নয়- যদিও রাজনৈতিক বিষয়ে আন্দোলনের সুস্পষ্ট বক্তব পেশ করা হয়। কোন কোন দেশে সরকারের সাথে সহযোগিতার মাধ্যমে ইসলামী আন্দোলনের লক্ষ্যকে এগিযে নেয়ার চেষ্টা চলছে। মোট কথা প্রত্যেক দেশেই ইসলামী আন্দোলন নিজস্ব পরিবেশে, ঐতিহ্য ও রাজণৈতিক পরিস্থিতি ইত্যাদিকে সামনে রেখেই তাদের কর্মসূচী, কর্মনীতি ও স্ট্রাটেজী নির্ধারণ করে।
ইসলামী আন্দোলনের এতসব বিভিন্ন রকম কর্মসূচী সাধারণতঃ মুসলিম প্রধান দেশেই লক্ষ্য করা যায়। ঐসব দেশেই ইসলামকে একটি বিজয়ী শক্তি হিসেবে কায়েমের চিন্তা করা স্বাভাবিক। যেসব দেশে মুসলিম জনতার সংখ্যা নগণ্য সেখানে ইসলামী আন্দোলনের কর্মসূচী আরও বিভিন্ন। সেখাই ইসলামকে সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে বিজয়ী করার কর্মসূচী অনেক পরে সম্ভব হতে পারে। ভারতের মতো মুসলিম সংখ্যালঘু দেশের ইসলামী আন্দোলনের কর্মসূচী কোন মুসলিম প্রধান দেশের উপযোগী হতে পারে না।
বর্তমানে ইসলামী আন্দোলন যে কটি দেশে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য তার মধ্যে ইরান, পাকিস্তান, মিসর, সুদান ও তুরস্ক অন্যান্য দেশের তুলনায় অগ্রসর।
তুরস্কে ইসলামী আন্দোলন তেমন শক্তিশালী না হলেও মধ্যে প্রাচ্যের অন্যান্য দেশের তুলানয় সেখানে গণতন্ত্র কিছুটা অগ্রসর বলে ইসলামী শক্তি সংগঠিত হতে বেশী সক্ষম। মুসলিম প্রদান দেশগুলোতে প্রধানতঃ ইসলামকে দমিয়ে রাখার প্রয়োজনেই গণহন্ত্রের বিরুদ্দে ষড়যন্ত্র এত ব্যাপক। যেসব মুসলিম দেশে বাদশাহী চলছে সেখানকার অবস্থা পৃথক। কিন্তু অন্যান্য দেশগুলোতে গণতন্ত্রের আওয়াজ সরকারীভবে উচ্চারণ করা সত্ত্ওেব নানা প্রকার ভাওতার দ্বারা জনগণকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। করণ গণতন্ত্রের বিকাশ হলেই সেখানে ইসলামের বিজয় হবে বলে আশংকা।
আফগানিস্তানে ইসলামী আন্দোলন উপরোক্ত কয়েকটি দেশের তুলনায় তেমন সুসংগঠিত ও বলিষ্ঠ ছিল না। তবে ঐতিহাসিক কারণে সেখানে জিহাদী ঐতিহ্যের বিরাট প্রভাব রয়েছে। কিন্তু উমলামাদের ও ইসলামী সংগঠন সমূহের মধ্যে ঐক্য না থাকায় রাশিয়ার দালালদের সাহায্যে সোভিয়েঠ রাশিয়ার আফগানিস্থান দখল করে নেয়। ৭টি ছোট বড় ইসলামী দল পাকিস্তানে আশ্রয় নেয় এবং ঐক্যবদ্ধভাবে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ১০ বছর যুদ্ধ কর বিজয়ী হয়।
দুর্ভাগ্যের বিষয় যে বিজয়ের পর ঐক্যবদ্ধ হয়ে ইসলামী হুকুমত কায়েমেরে মহান সুযোগ পেয়েও ক্ষমতার দ্বন্দ্বে লিপ্ত হয়। তাদের ব্যবর্থার এক পর্যায়ে তালেবান সরকার কায়েম হয় সৌদি মুজাহিদ উসামা-বিন-লাদেন রাশিয়ার বিরুদ্ধে আফগান মুজাহিদদের সাথে মিলে নিজেও যুদ্ধ করেছেন এবং বিরাট আর্থিক সাহায্যও দিয়েছেন। তালোন সরকারকে সাহায্য করার উদ্দেশ্যে তিনি আফগানিস্থানেই অবস্থান করেন।
২০০১ সালের ১১ই সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের টুইন টাওয়ার ধ্বংসের জন্য আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ বিন লাদনেকে কোন তদন্ত ও প্রমাণ ছাড়াই দোষী সাব্যস্থ করে তাকে আফগানিস্থান থেকে বহিষ্কার করার দাবী জানান। এ দাবী মানতে অস্বীকার করার অজুহাতে আমেরিকা আফগানিস্থান দখল করে তাদের পুতুল সরকার কায়েম করে। ইসলামী দলগুলো ঐক্যবদ্ধ থাকলে এ দুর্দশা হতোনা।
ইউরোপে অবস্থানরত বিদেশী মুসলমানদের মধ্যে যারা ইখওয়ানুল মুসলিমুন ও জামায়াতে ইসলামীর সাথে সম্পর্কিত তারা ঐ সব অনৈসলামী পরিবেশে নিজেদেরকে ইসলামী শিক্ষা অনুযায়ী গড়ে তুলবার প্রয়োজনে বিভিন্ন স্থানে সংগঠন কায়েম করে দ্বীনের দাওয়াত ব্যাপক করার চেষ্টা করেছেন। ভাষার পার্থক্যের দরুণ বিভিন্ন ভাষাভাষীদের আলাদা প্রতিষ্ঠান থাকলেও ইসলামী কাউন্সিল অব ইউরোপের মাধ্যমে সকল ভাষার মুসলমানদের মধ্যে সন্তোষজনক সমন্বয় রয়েছে এবং সময় সময় ঐক্যবদ্ধ হয়েও দাওয়াতে দ্বীনের দায়িত্ব পালন করেন।
আমেরিকা ও কানাডায় এ উদ্দেশ্যে ইসলামী সোসাইটি অব নর্থ আমেরিকা নামে একটি বিরাট সংগঠনে বিদেশী সব মুসলমান ছাত্র অছাত্র শামিল হয়ে ইসলামের উল্লেখযোগ্য খেদমত করেছেন। আমেরিকার স্থানীয় কৃষ্ণকায় মুসলমানদের একাধিক সংগঠন সেখানে ইসলামী সমাজ ব্যবস্থা কায়েম করার দাওয়াত দিচ্ছে।

ইসলামী আন্দোলনের চিরন্তন কর্মপদ্ধতি

একথা সত্য যে, প্রত্যেক দেশের আভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি অনুযায়ী সে দেশে কর্মপদ্ধতি সর্বদেশে সর্বকালে একই। এটা এমন স্থায়ী কর্মপদ্ধতি যা আল্লাহর নবী ও রাসূল্লাহগণকে পর্যন্ত অনুরসরণ করতে হয়েছে। দুনিয়ার যে কোন আদর্শ কায়েমের এটাই একমাত্র স্বাভাবিক কর্মপদ্ধতি। এ সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিম্নরূপ:-
এক : আদর্শ যতই নিখুঁত হোক আদর্শ নিজে নিজে সমাজে কায়েম হতে পারে না। এমন একদল নেতা ও কর্মী বাহিনী তৈরী হওয়া প্রয়োজন যারা সমাজ ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন বিভাগে ঐ আদর্শ বাস্তবে কায়েম করার যোগ্য।
দুই : এ ধরনের যোগ্য নেতা ও কর্মীদলে আসমান থেকে নাযিল হয় না। মানব সমাজ থেকেই এদেরকে সংগঠিত করে গড়ে তুলতে হয়। আদর্শের আন্দোলন যখন মানুষের নিকট তার দাওয়াত দিতে থাকে তখন সমাজে িঐ আদর্শের প্রতি আকৃষ্ট হবার উপযোগী লোকেরা এগিযে আসে। আন্দোলনের পরিচালকগণ তাদেরকে সুসংগঠিত করে এক বিশেষ কর্মসূচীর মাধ্যমে তাদের মন, মগজ ও চরিত্র ঐ আদর্শ অনুযায়ী গড়ে তুলেন।
তিন : প্রত্যেক সমাজেই যেহেতু কোন না কোন বিধান প্রচলিত থাকে এবং সাজপতিরা (রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, ধর্মীয় ও সামাজিক নেতৃত্ব) সে ব্যবস্থা চালু রাখার মাধ্যমে তাদের স্বার্থ কায়েম রাখে, সেহেতু নতুন আদর্শের আন্দোলনকে তারা সর্বশক্তি দিয়ে প্রতিরোধ করে। ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের সাথে কায়েমী স্বার্থের এ সংঘর্ষ প্রত্যেক নবীর জীবনেই দেখা গেছে এ সংঘর্ষ অত্যন্ত স্বাভাবিক ও জরুরী। এ সংঘাতই কর্মীদের জন্য সত্যিকার পরীক্ষা। সমাজের সুযোগ-সুবিধা বঞ্চিত হয়েও এবং কায়েমী স্বার্থের জেল, জুলুম ও নির্যাতন বরদাশত করেও যারা আন্দোলনে টিকে থাকে তারাই এ আদর্শের যোগ্য বলে প্রমাণিত। এ স্বাভাবিক পরীক্ষা ছাড়া যোগ্য লোক বাছাই করার কোন উপায় নেই।
চার : আন্দোলনের যোগ্য নেতৃত্ব ও কর্মীবাহিনী তৈরীর এ চিরন্তন পদ্ধতি অবশ্যই সময় সাপেক্ষ। হঠাৎ অল্প সময়ে এটা কিছুতেই হতে পারে না। তাই বিশ্ব নবীকে দীর্ঘ ১৩টি বছর ব্যক্তি গঠন পর্যায়ে মদীনায় হিজরতের পূর্ব পর্যন্ত কায়েমী স্বার্থের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে হয়েছিল। নবীর কর্মীবাহিনীকে শেষ পরীক্ষা দিতে হয়েছিল হিজরতের মাধ্যমে। ইসলামের খাতিরে এমনভাবে যারা বাধ্য হয়ে বাড়ী-ঘর, আত্মীয়-স্বজন, ধন-সম্পদ ও জন্মুভূমি ত্যাগ করেছিলেন। তাঁরা প্রমাণ দিলেন যে, তাঁদের হাতেই দ্বীন ইসলামের বিজয় সম্ভব। কারণ দুনিয়ার সব কিছুই একমাত্র আদর্শের জন্য তারা ত্যাগ করতে পারেন। এভাবে আন্দোলনের মারফতে একদল ত্যাগী ও নিঃস্বার্থ কর্মীদল সৃষ্টি করতে বেশ কিছু সময় লাগা স্বাভাবিক।
পাঁচ : ব্যক্তি গঠনের এ পর্যায়ে অতিক্রম করার পরই সমাজ গঠনের সুযোগ হতে পারে। ব্যক্তি গঠনের স্তরকে সংগ্রাম যুগও বলা যায়। সংগ্রাম যুগে তৈরী লোকদের হাতে কোথাও ক্ষমতা অর্পিত হলে আন্দোলনের বিজয় যুগ ‍শুরু হয় এবং তখনি সমাজ গঠন সম্ভব হয় । হিরতের পর মদীনায় এ সুযোগই রাসূল (সা) পেয়েছিলেন।
আদর্শ কায়েমের যোগ্য লোকের হাতে সে পর্যন্ত দেশের নেতৃত্ব না আসে সে পর্যন্ত আদর্শ বাস্তবে কায়েম হতে পারে না। যারা ইসলামকে জানে না বা জানলেও নিজেদের জীবন মানে না তাদের দ্বারা কি করে ইসলাম কায়েম হতে পারে? যারা নিজেদের ব্যক্তি জীবনে ইসলাম কায়েমে ব্যর্থ তারা সমাজে ইসলামের খেদমতের যোগ্যতাই রাখে না।
ছয় : ইসলামের খেদমত ও ইসলামী আন্দোলনের সুস্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। ইসলামী আন্দোলনের সাথে প্রচলিত ক্ষমতাসীন ও কায়েমী স্বার্থের সংঘর্ষ অনিবার্য। কিন্তু ইসলামের যেসব খেদমত সম্পর্কে কায়েমী স্বার্থ বিচলিত নয় সে সবের সংগে তাদের সংঘাত হয় না। ইসলামের ঐসব খেধমত পরোক্ষভাবে এবং বিভিন্ন পর্যায়ে ইসলামী আন্দোলনের সহায়ক হতে পারে। কিন্তু ঐ খেদমতসমূহ প্রচলিত সমাজ ব্যবস্থাকে বদলিয়ে দিতে পারে বলে আশংকা না করলে কায়েমী স্বার্থ তাদেরকে বাধা দেয় না। যদি কোন দাওয়াত ও কর্মসূচী সম্পর্কে কায়েমী স্বার্থের ধারণা হয় যে, তা দ্বারা তাদের পরিচালিত সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থার বিরুদ্ধে জনশক্তি গড়ে উঠবে তাহলে স্বাভাবিকভাবেই তারা আন্দোলনকে বরদাশত করবে না।
সত্যিকার পূর্ণাঙ্গ ইসলামী আন্দোলন প্রকৃতিগতভাবেই বিপ্লবাত্মক। আল্লাহর দাসত্ব ও রাসূল (সা) এর নেতৃত্বের ভিত্তিতে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রকে গঠন করার বিপ্লবী কর্মপদ্ধতি ও কর্মসূচীই নবদের প্রধান সুন্নত। আল্লাহ ও রাসূল (সা)-এর আনুগত্যহীন সমাজ ব্যবস্থার পরিবর্তনই ইসলামী আন্দোলনের লক্ষ্য। এ আন্দোলনকেই কোরআন পাকের ভাষায় জিহাদ কি সাবীলিল্লঅহ বলা হয়।
সাত : ইসলামী আন্দোলন সঠিক কর্মপদ্ধতি ও কর্মসূচী নিয়ে দীর্ঘ সংগ্রাম যুগ অতিক্রম করা সত্ত্বেও এবং ইসলাম কায়েমের যোগ্য নেতৃত্ব ও কর্মীদল সৃষ্টি করতে সক্ষম হলেও শেষ পর্যন্ত বিজয় যুগ না-ও আসতে পারে। অবশ্যই ঈমানদার ও সৎকর্মশীল এক জামায়াত লোক তৈরী হলে ইসলামের বিজয়ের প্রথম শর্ত পূরণ হয়। কিন্তু সে আদর্শের সক্রিয় বিরোধী হয় তাহলে বিজয় সম্ভব নয়। রাসূলুল্লাহ (সা)-এর তৈরী যে নেতৃত্ব ও কর্মীদল মদীনায় ইসলাম কায়েম করতে সক্ষম হলেন তাঁরা মক্কায় কেন অক্ষম হলেন? এ থেকে প্রমাণ হয় যে, ইসলাম বিরোধী জনতার উপর ইসলাম কায়েম করা যায় না।
আল্লাহর অনেক রাসূল এ করণেই দ্বীন ইসলামকে বিজয়ী করতে পারেননি। এটা তাঁদের ব্যর্থতা নয়। তাঁদের চেয়ে যোগ্য কে হতে পারে? দ্বীন ইসলাম কায়েমের দ্বিতীয় শর্ত হলো জনগণের কমপক্ষে পারোক্ষ সমর্থন। প্রত্যক্ষভাবে বিরোধী জনসমষ্টির উপর ইসলাম কায়েম হতে পারে না। মক্কায় দ্বিতীয় শর্তটি পূরণ হয়নি বলেই মদীনায় হিজরত করতে হয়েছে।
আট : এ কথা বিশেষভাবে লক্ষ্য করার বিষয় যে, ইসলামী আন্দোলনের কাজ হলো প্রথমশর্ত পূরনের চেষ্টা করা- অর্থাৎ বাতিল শক্তির সাথে মোকাবিলা করর জন্য সমাজের মধ্য থেকে একদল বিপ্লবী মুজাহিদ তৈরী করা। যদি এ শর্ত পূরণ হয় এবং দ্বিতীয় শর্তও উপস্থিত থাকে তাহলে ঐ মুজাহিদ দলকে নেতৃত্ব দান করার দায়িত্ব আল্লাহ পাক নিজ হাতে রেখেছেন। কিভাবে কি পন্থায় কখন তিনি নেতৃত্ব দান করবেন তা পরিস্থিতির উপর নির্ভর করবে। নেতৃত্ব দান করার দায়িত্ব আল্লাহরিই। কোন অস্বাভাবিক ও কুটিল পন্থায় নেতৃত্ব হাসিল করার চেষ্টা ইসলামী আন্দোলনের সঠিক কর্মপন্থা হতে পারে না।
(আরবী***************)
অর্থ : তোমাদের মধ্যে যারা ঈমানদার ও সৎকর্মশীল তাদেরকে দুনিয়ার খেলাফত দান করার ওয়াদা করেছেন। (নূর-৫৫)
উপরোক্ত কর্মপদ্ধতি অনুসরণ না করে কোন না কোন প্রকারের ক্ষমতা হাসিল করলে যদি ইসলামকে কায়েম করার উদ্দেশ্য সফল হতো তাহলে যখন রাসূল (সা)-কে মক্কার নেতারা ইসলামের দাওয়াত পরিত্যাগ করে বাদশাহী কবুল করার আহবান জানালে তখন তিনি ক্ষমতা হাতে নিয়ে কায়দা করে ইসলাম কায়েমের কথা নিশ্চয়ই বিবেচনা করতেন। একটি সমাজ ব্যবস্থাকে বদলিয়ে নতুন কোন ব্যবস্থা চালু করতে হলে ঐ সমাজ থেকেই নতুন আদর্শ কায়েমের উপযোগী একদল নিঃস্বার্থ লোক তৈরী করতে হবে।
আরও মজার ব্যাপার এই যে, এ ধরনের লোক অনৈসলামী সমাজে ইসলামী আন্দোলনের মাধ্যমেই পাওয়া সম্ভব। কারণ পার্থিব কোন স্বার্থের টানে প্রচলিক সমাজ ব্যবস্থার বিরুদ্ধে এগিয়ে আসা অস্বাভাবিক। যারা কায়েমী স্বার্থের বাধা ও যুলুমকে অগ্রাহ্য করে এগিয়ে আসে তারাই নতুন আদর্শের উপযোগী। সংগ্রাম যুগেই এ ধরনেরে লোক বাছাই করা সম্ভব। বিজয় যুগে ‍সুবিধাবাদী লোকও আদর্শের প্রতি আকৃষ্ট হতে পারে। তখন নিঃস্বার্থ আদর্শবাদী লোক বাছাই করা অত্যন্ত কঠিন। এজন্যই বিজয়ের পর আদর্শিক আন্দোলন ক্রমে স্বার্থপরদের দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ইকামতে দ্বীনের দায়িত্ব

দ্বীনের যত রকম খেদমত হচ্ছে তা দ্বারা আমাদের দেশে ইসলাম প্রচার বা ইশায়াতের কাজ হচ্ছে। ‍কিন্তু শুধু ইশায়অত বা প্রচারের কাজ দ্বারা দ্বীন কায়েম হতে পারে না। ইকামাতে দ্বীন বা দ্বীন ইসলামের বিধানকে ব্যক্তি ও সমাজ জীবনে কায়েম করা বা বাস্তবে চালু করার জন্য ইশায়াতই যথেষ্ট নয়।
আল্লাহর দ্বীন যত বিশুদ্ধ ও মহান হোক না কেন সে দ্বীন মানুষের চেষ্টা ছাড়া আপনিতেই কায়েম হয়ে যাবে না। তাই আল্লাহ পাক দ্বীন ইসলামকে কায়েম করার জন্য নবী ও রাসূল পাঠিয়েছেন। কোন নবী বা রাসূল একাই দ্বীনকে বিজয়ী করতে পারেন নি। তাই তারা মানুষকে দাওয়াত দিয়েছেন তাদের সাথী হবার জন্য। অনেক নবী প্রয়োজনীয় সংখ্যক সহকর্মী না পাওয়ায় দ্বীনকে বিজয়ী করতে পারেননি। এ দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, ইকামতে দ্বীনের জন্য। সংঘবদ্ধ চেষ্টা বিশেষভাবে জরুরী। যারা আল্লাহর দ্বীনকে বিজয়ী দেখতে চান তাদের সংখ্যা বিরাট হলেও তাদের মজবুত সংগঠন ও সুপরিকল্পিত চেষ্টা ছাড়া এ বিজয় কখনও সম্ভবপর হতে পারে না।
নবী করীম (সা)-এর উপর আল্লাহর দ্বীনকে বিজয়ী করার দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। শুধু দ্বীনের ইশা’য়াত পর্যন্তই তাঁর কাজ সীমাবদ্ধ ছিল না। ইশায়াত ব্যতীত ইকামাত হতে পারে না সত্য কিন্তু শুধু ইশা’য়াত দ্বারা আপনিই দ্বীন কায়েম হতে পারে না।
আল্লাহ পাক তাঁর শেষ নবী (সা)-কে দুনিয়ায় পাঠাবার উদ্দেশ্য স্পষ্টভাবে কোরআনে প্রকাশ করেছেন :
(আরবী*******************)
তিনিই সে (সত্তা) যিনি তাঁর রাসূলকে হেদায়েদ ও একমাত্র সত্য দ্বীনসহ পাঠিয়েছেন যাতে তিনি (সে দ্বীনকে) অন্য সমস্ত দ্বীনের উপর বিজয়ী করেন। (ফাতাহ্‌-২৮)।
বিশ্বনবী এ মহান দায়িত্ব পালন করেছিলেন বলেই দুনিয়ায় আল্লাহর রচিত জীবন বিধান মানব জাতির জন্য কল্যাণকর বলে প্রাণিত হয়েছিল।
মদীনার একটি ছোট্ট এলাকায় দ্বীনের বাস্তব রূপায়ণ হওয়ার কারণেই আরববাসীদের পক্ষে এর শ্রেষ্ঠত্ব উপলব্ধি করা সম্ভব হয়েছিল। বাস্তব জীবনে দ্বীন ইসলাম কায়েম হবার সুফল আরবের সর্বত্র মানুষকে দলে দলে ইসলাম কবুল করতে উদ্বুদ্ধ করেছিল।
বিশ্বনবী ইকামাতাতে দ্বীনের (দ্বীন-ইসলামকে কায়েম করার) যে পবিত্র দায়িত্ব পালন করে গেছেন সে কাজটাই তাঁর সবচেয়ে বড় সুন্নাত। নবীর ‍উম্মতের উপর এ সুন্নাতের অনুসরণই সবচেয়ে বড় কর্তব্য। এ কর্তব্যকে অবহেলা করে অন্য যত প্রকারেই দ্বীনের খেদমত করা হোক তাতে ইসলামের বিজয় সম্ভব হতে পারে না। ব্যক্তি জীবনে যত দ্বীনদার হবারই চেষ্টা করা হোক তাতে ইসলামের দাবী পূরণ করা যায় না। সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ইসলামকে কায়েম করা ছাড়া উম্মতের মুহাম্মদীর দায়িত্ব পালন করা হয় না।
ইতিপূর্বে যে নয় প্রকার দ্বীনী খেদমতের কথা আলোচনা করা হযেছে এর মধ্যে সবগুলো সত্যিকার অর্থে সংগঠন হিসাবে গড়ে উঠলে দ্বীনের আর ও বেশী খেদমত হতো। সংগঠন হিসেবে গণ্য হতে হলে কয়েকটি জরুরী শর্ত পূরণ হওয়া প্রয়োজন। কোন একটি নির্দিষ্ট দ্বীনী লক্ষ্য হাসিল করার জন্য দাওয়াত দেয়া; যারা দাওয়াত কবুল করেন তারবিয়াত বা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাঁদের ব্যক্তি চরিত্র গঠন করা; কর্মীদের জন্য নিয়মিত কর্মসূচী থাকা; সে কর্মসূচীকে বাস্তবায়িত করার জন্য দায়িত্বশীল থাকা এবং দায়িত্বশীলদের নির্দেশ পালন করার জন্য কর্মী বাহিনী থাকা ইত্যাদি সংগঠনের প্রকৃত পরিচয় বহন করে। এ জাতীয় সাংগঠনিক পন্থায় ইকামাতে দ্বীনের বাস্তব কর্মসূচী নিয়ে যারা কাজ করেন তাদের প্রচেষ্টায়ই ইসলামের বিজয় সম্ভব। পূর্ব বর্ণিত নয়টি খেদমতের মধ্যে যে কয়টি সংগঠনের পর্যায়ে পড়ে তাদের দাওয়াত ও কর্মসূচীকে বিচার-বিশ্লেষণ করে দেখা দরকার যে িএর কোন্ কোন্‌টা ইকামাতে দ্বীনকে প্রধান লক্ষ্য হিসবে গ্রহণ করেছে।
তাবলীগ জামায়াতের ভাইদের ধারণা যে ব্যক্তি চরিত্র ইসলাম মোতাবেক গঠন হতে থাকলে এর পরিণামে ইসলামের বিজয় আপনিতেই হবে। এ ধরণা বাস্তবে ঠিক বলে যাদের মনে হয় তাঁদের কথা আলাদা। কিন্তু সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থাকে ইসলামী ছাঁচে ঢালাই করার জন্য যারা তাবলীগ জামায়াতের কর্মসূচীকে যথেষ্ট মনে করেন না তাঁদের জামায়াতে ইসলামীর দাওয়াত ও কর্মসূচীকে ভালভাবে বুঝবার জন্য অনুরোধ জানাই।
ইকামাতে দ্বীনের জন্য চেষ্টা করা যদি ঈমানের দাবী হয় তাহলে কোন না কোন জামায়াত বা সংগঠনের সাথে মিলেই কাজ করতে হবে। একা কোন নবীর পক্ষেও এ বিরাট কাজ করা সম্ভব হয়নি। যদি কেউ এমন যোগ্য হন যে প্রচলিত সব জামায়াতেরই দোষ-ত্রুটি বুঝতে তিনি সক্ষম, তাহলে এসবের চেয়ে ভাল কোন জামায়াত গঠন করুন। শুধু অন্যের দোষ দেখে বা অন্য জামায়াতের সমালোচনা করা দ্বারাই তো ইকামাতে দ্বীনের দায়িত্ব পালন করা হয়ে যাবে না।
আল্লাহর দ্বীনকে তাঁর রাসূলের শেখান কর্মপদ্ধতি অনুযায়ী দুনিয়ায় কায়েম করার উদ্দেশ্য নিয়েই আমি এক জামায়াতে শামিল হয়ে কাজ করছি। এ মহান উদ্দেশ্য এর চেয়ে ভাল, বলিষ্ঠ ও রাসূলের অধিকতর অনুসারী কোন জামায়াত আছে বলে আমার জানা নেই। কোন অবস্তায় জামায়াত বিহীন জীবন যাপন করা ইসলাম সম্মত মনে করি না, যে জামায়াতে কাজ করছি রাসূলের (সা) পরিচালিত জামায়াতের গুণাবলীর দ্বারা তাকে আর ও সজ্জিত এবং উন্নত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এর চেয়ে অধিক উন্নত জামায়াত পেলে এ জামায়াত ছেড়ে ঐ জামায়াতে যাওয়া কর্তব্য মনে করব।
রাসূল (সা) যে জামায়াত গঠন করেছিলেন সে জামায়াতই ছিল আল জামায়াত” বা একমাত্র দ্বীনী জামায়াত। ঐ জামায়াতে যারা শামিল ছিলেন তাঁরাই মুসলিম ছিলেন। ঐ জামায়াতের বাইরে থাকলে কেউ মুসলিম হিসেবে গণ্য হতে পারত না। কিন্তু বর্তমানে কোন একটি জামায়াত আল-জামায়াত” হিসবে গণ্য হতে পারে না। যে সব জামায়াত রাসূল (সা)-এর জামায়াতকে অনুরসরণ করে চলে তাদের সবাইকে নিয়ে “আল-জামায়াত” গঠিত। বিচ্ছিন্নভাবে কোন একটি জামায়াত “আল জামায়াত” এর মর্যাদা দাবী করলে অন্যায় হবে। এখানে একটি বিষয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দ্বীন ইসলামের শিকল যে-ই গলায় পড়বে তাকে রাসূল (সা)-এর পথে চলতে হলে কোন না কোন জামায়াত ভুক্ত হতে হবে। তিনজন মুসলমান সফরে রওয়ানা হলে সেখানেও একজনকে আমীর নির্বাচিত করে জামায়াতবদ্ধ জীবন যাপনের জন্য রাসূল (সা) নির্দেশ দিয়েছেন। জামায়াতবিহীন জিন্দেগী যদি সফরেও অনুচিত হয় তাহলে স্বাভাবিক অবস্থায় জামায়াতী জীবন কতটা গুরুত্বপূরণ হতে পারে তা সহজেই অনুমান করা চলে। তাই প্রত্যেক মুসিলমকে জামায়াতবদ্ধভাবে আল্লাহর ও রাসূলের (সা) আনুগত্য করা কর্তব্য। মুসলিম মাত্রই হয় আমীর (হুকুম কারী) বা মামুর (হুকুম পালনকারী) হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। এ জন্যই হাদীসে জামায়াতের ‍শৃংখলার উপর এত গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

About শহীদ অধ্যাপক গোলাম আযম