ইসলামের নৈতিকতা ও আচরণ

সম্পুর্ণ সূচীপত্র

দ্বিতীয় অধ্যায়ঃ বিভিন্ন দৈহিক কার্যক্রম

হাঁচি

ইসলামের মতে, হাঁচি **১ হচ্ছে আল্লাহর রহমত বিশেষ। এ সংক্রান্ত পালনীয় হচ্ছেঃ
১. কোন মুসলমানের হাঁচি প্রতিরোধ বা ঠেকানো উচিত নয়। এটা একটা স্বাস্থগত প্রক্রিয়া। যেভাবেই হোক হাঁচি স্বেচ্ছায় দেয়া যায়ন বা এটা সহজেই দমিয়ে দেওয়া যায়না। **২
২. হাঁচির সময় প্রত্যেক মুসলমানের উডিচত তার মুখ সরিয়ে নেয়া অথবা তার মুখ ও নাক হাত বা রুমাল দিয়ে ঢেকে দেয়া। এর ফলে আওয়াজ কম হবে এবং পার্শ্ববর্তী লোকজনের বিড়ম্বনা এড়ানো যাবে।
৩. হাঁচি যেহেতু আল্লাহর পক্ষ থেকে রহমত স্বরূপ, সেজন্য মুসলমনদের একথা বলে কৃতজ্ঞতা স্বীকার করতে হবেঃ আলহামদুলিল্লা (সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর)।
৪. কোন মুসলমান হাঁচি দেওয়ার পর আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করবে, নিকটবর্তী যারা এটি শুনবে তাদের বলতে হবে ‘ইয়ারহামুকাল্লাহ’ (আল্লাহ তোমার উপর রহম করুন)। এর সুষ্ঠু প্রত্যোত্তর হলো: ইয়দিকুমুল্লা ওয়া ইয়ুসলিহ বালাকুম (আল্লাহ তোমাকে হেদায়াত দিন এবং তোমার মঙ্গল করুন)
[ ** ১ বক্ষ ও মুখমন্ডলের মাংসপেশী দিয়ে নাক দিয়ে অনৈচ্ছিক যে বায়ু নির্গত হয় তাই হাঁচি। কাফেরেরর ন্যায় হাঁচি হচ্ছে শ্বাস প্রশ্বাসের জন্য নিরাপত্তামূলক কার্যক্রম। নাকের ভেতর দিয়ে ফুসফুসের উপযোগী সহনশীল অবস্থা সৃষ্টির জন্য বাতাস বের করে দেওয়া হয়। শরীরের উপযোগী বাতাস ‍উত্তপ্ত হয়ে সম্পৃক্তির কাছাকাছি আর্দ্র হয় এবং ধূলিকণা ও জীবাণূযুক্ত হওয়ার পর তা শ্বাসনালীতে প্রবেশ করে। Encylopedia American Vol. 25. p. 107. ]
[ **২ প্রগুক্ত।]
৫. কোন ব্যক্তি সর্বাধিক তিনবার হাঁচি দিলে এই দোয়া পড়া উত্তম। এর বেশি হলে সম্ভবতঃ এর অর্থ দাঁড়ায় তার সর্দি লেগেছে।
৬. কোন মুসলমান হাঁচি দেওয়ার পর আলহামদুলিল্লাহ না বললে তার জবাব দেওয়ার কান প্রয়োজন নেই।
৭. কেউ হাঁচি দেওয়ার পর আলহামদুলিল্লাহ বলতে ভুলে গেলে, তাহলে তার কাছের মুসলমানদের উচিত তাকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া।
৮. কোন অমুসলমান হাঁচি দিলে তার মঙ্গল কামনায় বলতে হবে ‘ইয়াহদিকুমুল্লাহ’ (খোদা তোমাকে হেদায়াতের পথে চালিত করুন)।

হাই তোলা

হাই তোলা **৩ খারাপ অভ্যাস হিসেবে বিবেচিত এবং এ জন্যে যতদূর সম্ভব তা দমন করতে হবে। একজন মুসলমান অবশ্যইঃ
১. যতদূর সম্ভব হাই তোলা থেকে বিরত থাকতে হবে।
২, হাই তোলার সময় তার মুখের ওপর হাত দিয়ে ঢাকতে হবে।
৩. হাই তোলার সময় যাতে কোন শব্দ না হয়ম তার চেষ্টা করতে হবে।

বিছানায় গমন (প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি)

১. প্রত্যেক মুসলমানকে অবশ্যই বিছানায় আশ্রয় নেয়ার আগে ইস্তিঞ্জা করতে তথা মূল মূত্র ত্যাগ করতে হবে।
২. অজু করর মাধ্যমে পবিত্র অবস্থায় বিছানায় গমন আবশ্যক।
৩. ভরপেটে শুতে না যাওয়া স্বাস্থ্য বিধিসম্মত।

কখন ঘুমাতে হবে

১. এশার নামাজ পড়ার আগে শুতে যাওয়া ঠিক নয়, কারণ এর ফলে নামাজ কাজা হতে পারে।
[**৩ ফুসসুসে অনৈচ্ছিক বায়ুর প্রবেশের ফলে প্রায়ত হাত পাযের প্রসারণ গটে এবং হাই তুলতে হয়। বেশি আলস্য, স্বল্পমাত্রায় অক্সিজেন সরবরাহ এবং কতিপয় রোগের ফলে হাই তোলার মত অবস্থা সৃষ্টি হয়। হাই তোলার সময় অসাবধানবশতঃ মুখ বেশি হা করলে চোয়াল আটকে যেতে পারে এবং ঘাড়ের পিছনে মারাত্মক ব্যাথার সৃষ্টি হতে পারে। Encyclopedia Americana : Vol. 29 . P/ 6556 ]
২. দিবসে যখন নামাজের সময় শুরু হয়, সেই সময় ঘুমানো যাবেনা নামাজ পড়া ছাড়া। এসময় ঘুমিয়ে পড়লে নামাজ তরক হতে পারে।
৩. জোহর, আসর নামাজের মধ্যবর্তী সময়ে অল্পক্ষণ আরাম করা বা ঘুমানো যেতে পারে। এর ফলে চোখ ও শরীর আরাম লাভ করে এবং দিবসের বাকী কাজ সম্পাদনের জন্য তা দেহে সজীবতা এনে দেয়।
৪. প্রয়োজনীয় কাজ করে অথবা কোন অতিথিকে আপ্যয়ণ করে এশার নামাজের পর পরই মুসলমানদের ঘুমিয়ে পড়া উচিত। এভাবে তারা সজীবতা লাভ করতে পারে এবং দিনটি পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারে।

বিছানা

১. সাধারণ ডিজাইন ও নির্মাণের মাধ্যমে বিছানা তৈরি করতে হবে। এটা খুব বেশি আরাম দায়ক অথবা অস্বস্তিকর হওয়ার প্রয়োজন নেই। আলস্য বা পরিশ্রমবিমুখতাকে প্রশ্রয় না দিয়ে প্রয়োজনীয় আরামের উপযোগী আরামদায়ক হলেই হয়।
২. বিছানাটি মেঝে থেকে খুব ‍উঁচুতে হওয়া উচিত নয়- বিনয়ের লক্ষ্যে এটচা করা উচিত।
৩.বিছানা এমন স্থানে স্থাপন করা উচিত নয়, যাতে শরীরের একাংশ রোদে এবং অপরাংশ ছায়ায় পড়ে।
৪. নিরাপত্তার জন্য যে সব ছাদে প্রতিরক্ষা প্রাচীর নেই, সে সব স্থানে শয়ন চলবেনা। তেমনিভাবে যেসব নির্জন স্থানে হঠাৎ অসুস্থতা, অনুপ্রবেশকারীরেদ হামলা অথবা অগ্নিকাণ্ডের ন্যায় জরুরি অবস্থার সয় সাহায্য পাওয়া যায় না- এসব স্থানে শয়ন করা উচিত নয়।
৫. পল্লী এলাকার মত অনেক স্থান নিকটবর্তী কোন বাথরুম না থাকলে বিছানার নীচে উপযুক্ত পাত্রে পানি রাখা প্রয়োজন। অসুস্থ, ‍বৃদ্ধ এবং যারা দরজার বাইরে ঘুমান তাদের জন্য এটা বেশ প্রয়োজনীয় হয়ে পড়ে।

ঘুমাতে যাবার আগে

প্রত্যেক মুসলমানকে নিম্নোক্ত বিধি মানতে হবেঃ
১. লেপ-তোশক-বালিশ ঝেড়ে দেখতে হবে তার নীচে কোন ক্ষতিকর কীট-পতঙ্গ লুকায়িত আছে কিনা।
২. নিম্নোক্ত দোয়া পড়তে হবেঃ বিসমিকা আল্লাহুম্মা অহইয়অ ওয়া বিসমিকা আমুত (হে খোদা, তোমার নামেই আমি বেঁচে আছি ও মৃত্যবরণ করব)।
৩. ডান দিকে পাশ করে শোয়া।
৪. উপুড় হয়ে না শোয়া।
৫. জোর করে ঘুমাবার চেষ্টা না করা। শরীরের চাতিদা অনুযায়ী স্বাভাবিক নিয়মেই ঘুম এসে যাবে।
৬. খোদার নাম নিয়ে শুতে হবে এবং ঘুম না আসা পর্যন্ত তাঁর নাম নিতে হবে। এর ফলে শিথির ভাব আসবে এবং দিনের সম্যা ও জটিলতার চিন্তা দূর হবে।
৭. শরীরে প্রকৃত চাহিদা অনুসারে (কম বা বেশি নয়) নিজের ঘুম নিয়ন্ত্রণষ করা।

ঘুম থেকে জাগা

১. ভোরে ঘুম থেকে জাগতে হবে। এর ফলে সারা দিনের কাজের উপর ইতিবাচক মনস্তাত্ত্বিক প্রতিক্রিয়া সুস্পষ্ট হয় এবং যারা একাজ করেন তাদের কাছে এটা অনুধাবন সহজ।
২. আগের দিনের ন্যায় দিনে আল্লাহর নাম নিয়ে শুরু করতে হবে এবং তার শোকরানা আদায় করতে হবে।
৩. ফজরের নামাজের জন্য অজু করার আগে টুথব্রাশ বা মেছওয়াক দিয়ে তাঁদ পরিষ্কার করতে হবে। রাতের বেলা দীর্ঘ সময়ের জন্য জাগলে এরূপ করা ‍উচিত।
৪. যদি কোন প্রবাহমান পানি না পাওয়া যায়, তাহলে ঘুম থেকে জেগে প্রথমে নিজের হাত ধুরে ফেলতে হবে। পাত্রে সংরক্ষিত পানির হাত ডুবানোর আগেই তা করতে হবে। এর কারণ কেউ জানেনা, রাতে তার হাত কি স্পর্শ করেছিল।

স্বপ্ন ও দুঃস্বপ্ন দেখা

১. এমন স্বপ্ন দেখার ভান করা যা সে দেখেনি, সেটা পাপ। ইসলাম সবরকম মিথ্যা বলতে নিষেধ করেছে।
২. কেউ যদি মঙ্গলকর স্বপ্ন দেখে, তাহলে তা বলা উচিত তার পছন্দনীয় ব্যক্তির কাছে। আর যদি অমঙ্গলের কিছু দেখে, তাহলে তার ক্ষতি থেকে এবং শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে খোদার কাছে পানাহ চাওয়া উচিত।
৩. শুধু বন্ধুর কাছে অথবা প্রজ্ঞাবান লোকের কাছেই স্বপ্নের কথা বলা যেতে পারে।
৪. যে স্বপ্ন দেখে সে স্বপ্ন শুধু তার জন্যই, অন্যের জন্য নয়। যদি কোন মুসলমান মনে করে যে, মহানবীকে (সা.) দেখেছে অথবা তার কাছ থেকে একপ্রকার নির্দেশ বা পরামর্শ পেয়েছে, তাহলে তার মধ্যেই সীমিত রাখতে হবে এবং অন্যের কাছে তা বলবে না। ইসলাম একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ জীবনব্যবস্থা এবং স্বপ্নকে কখনই ইসলামি শিক্ষার উৎস হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি।

মলমূত্র ত্যাগ

মল-মূত্র ত্যাগের জন্য উপযুক্ত স্থান হচ্ছে বিশেষভবে ডিজাইনকৃত ও নির্মিত অথবা বাড়ির প্রান্তে তৈরি স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা। এক্ষেত্রে নিম্নোক্ত বিধান মানতে হবেঃ
১. পায়খানায় প্রত্যেক মুসলমানকে প্রথম বাম পা ফেলে প্রবেশ করতে হবে, বিসমিল্লাহ আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা নিাল খুবসি ওয়াল খাবাযেছ (আল্লাহর নামে প্রবেশ করছি, হে আল্লাহ তোমার কাছে সব রকম কুচিন্তা ও কুকর্ম থেকে পানাহ চাই)।
২. কাউকে সাথে নিয়ে পায়খানায় যাবে না অথবা শরীরের গোপনাঙ্গ অন্যের সামনে উন্মুক্ত করবে না, যেমনটি পেশাবখানায় গিয়ে মানুষ দাঁড়িয়ে স্থায়ীভাবে নির্মিত পাত্রে প্রস্রাব করে। এ ধরনের পেশাবখানায়, একজন আরেকজনকে যাতে না দেখতে পায়, এমন মোটা স্ক্রীন বা পর্দা টাঙ্গাইতে হবে।
৩. খোলা পায়ে পায়খানায় প্রবেশ উচিত নয়। ধূলা-ময়লা বা মারাত্মক রোগ জীবানু যাতে শরীরে প্রবেশ করতে না পারে সেজন্যে এই সাবধানতা।
৪. পায়খানায় প্রবেরে আগেই পোশাক খুলে ফেলা চলবে না। সর্বাধিক গোপনীয়তা ও শিষ্টাচার পালন করা প্রয়োজন।
৫. এরপর পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা প্রয়োজন। পেশাব করার পর গোপনাঙ্গ পানি দিয়ে ধৌত করা এবং পায়খানার ক্ষেত্রে প্রথমে টয়লেট পেপার ব্যবহার ও পরে সাবান ব্যবহার করলেও চলে (পানি বা সাবানের অভাবে ঢিলা বা বালি ব্যবহার করা যেতে পারে- অনুবাদক)।
৬. পেশাব-পায়খানার সময় অথবা হাত ধৌতকালে ডান হাত ব্যবহার করা যাবে না। খাবার গ্রহণ, পানাহার, পবিত্র কুরআন স্পর্শ করা প্রভৃতি কাজে ডান হাত ব্যবহার করতে হবে। মলমুত্র ত্যাগের পর পরিচ্ছন্ন হওয়া, নাক ঝাড়া প্রভৃতি কাজে বাম হাতের ব্যবহারের মধ্যে সীমাবদ্ধ করতে হবে- যা ইসলামি বিধানের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ।
৭. শরীর বা পোশাকে কোন প্রকার ময়লা যাতে না লাগে সেজন্য সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে এবং বরে পাকসাফ হওয়ার ব্যাপারে কোন প্রকার বাড়াবাড়ি করা কাঙ্ক্ষিত নয়।
৮. কোন মুসলমানের পক্ষে তার গোপনাঙ্গের প্রতি তাকানো অরুচিকর।
৯. কেবলামুখী হয়ে পেশাব পায়খানা করা মুসলমানর জন্য নিষিদ্ধ। কিবলাহ মুখী অথবা কিবলাকে পিছনে ফেলে পেশাব পায়খানা নিষিধ্ধ। সুতরাং বাকী দু’দিকে এই কাজ সারত হবে।
১০. পায়খানার পর উঁচু হয়ে বসে পানি ব্যবহার করা উত্তম। তবে (বৃদ্ধদের বেলায়) বসে থেকে শারীরিক অসুবিধা হলে দাঁড়িয়ে পানি ব্যবহার করা নিষিদ্ধ নয়।
১১. জরুরি প্রয়োজন ছাড়া পেশাব-পায়খানার সময় কোন মুসলমানের পক্ষে হাঁটা চলা উচিত নয়। এ সয় কোন কিছু পড়াও নিষেধ।
১২. পায়খানা ছেড়ে না আসা পর্যন্ত কোন মুসলমান অন্য কারো স্বাগত সম্ভাষণের জবাব দেবে না। ফিরে এসে সে ক্ষমা চেয়ে তার প্রত্যোত্তর দেবে।
১৩. নিজের শরীর পুরোপুরি আবৃত করার পরেই মুসলমানদের পায়খানা ছেড়ে আসতে হবে।
১৪. গোসলকালে কোন মুসলমানের উচিত নয়, একইস্থানে পেশাবের পানি প্রবাহিত করা।
১৫. পায়খানা থেকে বের হয়ে তাকে বলতে হবে গোফরানাকা (হে খোদা, আমার গুনাহ মাফ করে দাও)।

বহির্ভাগে এস্তেঞ্জা

বন-জঙ্গল, মরুভূমি ও শিবিরের দিনগুলোতে এস্তেঞ্জার জন্য মুসলমানদের কতিপয় বিধি পালন করতে হয়ঃ
১. স্থির পানি, গাছের ছায়া, জনসাধারণ যেখানে চলাচর করে এমন স্থানে বা সড়ক, কোন পশু-বাখি বা সরীসৃপ জাতীয় প্রাণীর বাস্থান হিসেবে ব্যবহৃত গহ্বর বা গর্ত এবং বাঁকিযে গেছে এমন স্থানে এস্তেঞ্জা করা নিষিদ্ধ। কারো কোনো প্রকার ক্ষতি করা অথবা ক্ষতির পরিবেশ সৃষ্টি করা চলবে না।
২. যেখানে কাউকে নগ্ন অবস্থায় দৃষ্টিগোচর হয় না এমন স্থানে এবং গোপন অবস্থায় এস্তেঞ্জা করতে হবে।
৩. এমন স্থানে বসা উচিত, যাতে নিজের গায়ে অথবা কাপড়-চোপড় ময়লা না লাগে।

মাসিক রক্তস্রাব এবং প্রসূতি কাল

[**৪]
মাসিক রক্তস্রাব ও প্রসূতি অবস্থা নারীর স্বাভাবিক ব্যাপার হিসেবে গণ্য। তার স্বাভাবিক জীবন যাপনে বাধা সৃষ্টি করা উচিত নয়। এই দু’টি পর্যায়ে মহিলাদেরক প্রতি নিম্নোক্ত বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়ে থাকেঃ
১. এ অবস্থায় নামাজ পড়া, রোজা রাখা, কুরআনে পাঠ এবং মসজিদে অবস্থান করা নিষিদ্ধ।
২. কাবা প্রদক্ষিণও নিষিদ্ধ। এমনকি হজ্ব করতে গিয়ে যে নারীর মাসিক হয়েছে, তার জন্যও। কাবা পরিক্রমা ছাড়া তারা হজ্ঝের অন্যান্য কার্যক্রম সম্পাদন করতে পারেন। পুরুষের বীর্য বের হওয়ার পর অপবিত্র থাকলেও এসব বিধি নিষেধ প্রযোজ্য।
[ **৪ রক্তস্রাব হচ্ছে জরায়ু থেকে সাময়িক রক্ত ও রক্তের ন্যায় তরল পদার্থের নিঃসরণ। এটা মহিলাদের ডিম্ব-উৎপাদন প্রক্রিয়ার একটি পর্যায়। এটা জরায়ুর চর্ম কঞ্চনের ফলে পরিভ্রষ্টতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। অনেক মেয়ের ১১ বছর বয়সে বা তার আগেই রক্তস্রাব শুরু হয়। আবার অনেকের ১৬ বছর বা তারও পরে হয়, তবে মূল সময়টি ১৩ থেকে ১৪ বছরের মধ্যে। এই রক্তস্রাবের মেয়াদকাল নিয়ে ব্যাপক পার্থক্য দেখা যায়। তবে অধিকাংশ খ্ষেত্রে তা ৩ থেকে ৫ দিন স্থায়ী থাকেঃ Encyclopedia Ameicana : Vol. 18. P. 636 ]
৩. এ সময় যৌন সঙ্গম নিষিধ্ধ। এ সময় স্বামী ইচ্ছা করলে তার স্ত্রীকে আলিঙ্গন, চুম্বন এবং কটিদেশের ওপর পর্য়ন্ত স্পর্শও করত পারেন।
৪. মাসিক শেষ হওয়ার পর নারীরা রোজা রাখতে পারে, তবে গোসল না করা পর্যন্ত নামাজ পড়তে পারবে না। গোসলের পর রমযাজেনর কাজা রোজাগুলো পূরণ করতে হবে, তবে কাজা হওয়া নামাজ পড়তে হবে না।
৫. প্রত্যেক মুসলিম মহিলার কর্তব্য হচ্ছে রক্তস্রাব বা প্রসূতির মেয়াদ শেশ হওয়ার পর গোসল করা এবং সারা শরীর ও চুল ধৌত করা। এসময় তা গোপনাঙ্গে একটি কাপড়ের সঙ্গে মৃগনাভি (মৃগনাভি না পাওয়া গেলে অন্য কোন প্রসাধনী) ব্যবহার করতে হবে। গোসলের পর মাডসিক প্রসূতি অবস্থায় আরোপিত সকল বিধিনিষেধ শেষ হয়ে যায়।
৬. মাসিক চলা অবস্থায় স্ত্রীর সাথে স্বাভাবিক আচরণ করা উচিত।
৭. যে নারীর মাসিক হয়েছে, তাকে শোকরানা অনুষ্ঠানে যোগদানের অনুমতি দেওয়া হয়। তবে অংশগ্রহণেল জন্য নয়; অবশ্য শর্ত হচ্ছে এই অনুষ্ঠান মসজিদে হবে না।

পুরুরে অপবিত্র অবস্থা

কোন মুসলমান পুরুষ ঘুমাবার কালে, বৈধ ভালবাসার প্রক্রিয়া অথবা অন্য কোন কারণে বীর্যপাতের দরুন অপত্রি হয়ে পড়লে তাকে খুব তাড়াতাড়ি গোসল করতে হবে। এ অবস্থায় গোসলের আগে নামাজ পড়া, কুরআন পাঠ বা স্পর্শ করা, কাবা শরীফ তাওয়াফ করা অথবা মসজিদে অবস্থান করা যাবে না।
মহিলাদের বেলায় একই বিধান প্রযোজ্য। কোন মহিলা ঘুমাবার কালে অথবা যৌন সঙ্গমের মাধ্যমে বীর্যপাত হওয়ার দরুণ অপবিত্র হলে অথবা স্বামী তার যৌনএঙ্গ লিঙ্গ প্রবেশ করালে, বীর্যপাত না হলেও তাকে গোসল করতে হবে এবং তাকে উপর্যুক্ত বিধি মানতে হবে।

About ড. মারওয়ান ইবরাহীম আল-কায়সি