ছোটদের শহীদ হাসানুল বান্না

মসজিদের জন্র ইখওয়ান সদস্যদের সাইকেল বিক্রি

একজন সদস্যের নাম আস্তি আলী আবুল আ’লা। কয়েকদিন ধরে হাসান লক্ষ্য করেন, তিনি নির্ধারিত সময়ে আলোচনায় আসতে পারেন না। হাসান জিজ্ঞেস করলেন। তিনি নানান ওজর দেখালেন। কিন্তু হাসানের কাছে সেসব কারণ সঠিক বলে মনে হল না। তিনি খবর নিয়ে জানতে পারলেন, ঐ সদস্য মসজিদ তৈরীর তহবিলে দেড়শ’ ক্রোশ দান করার ওয়াদা করেন। অথচ তার আয় খুবই কম। তারপক্ষে তা’ দেয়া সম্ভব নয়। এজন্য তিনি বাধ্য হয়ে তাঁর সাইকেল বিক্রি করেন। সাইকেল না থাকায তাঁকে অফিস থেকে বাসে করে আসতে হয়। শহর থেকে ৬ কিলোমিটার দূরে বাস থেকে নেমে তিনি হেঁটে আসেন। সাইকেল বেঁচে তিনি যা পেয়েছিলেন সেটাও তিনি দান করেন। এসব কথা জানতে পেরে অন্যান্য ইখওয়ানরা নিজেরা চাঁদা তুলে সেই সদস্যের জন্য একটা নতুন সাইকেল কিনে উপহার হিসেবে তাঁকে দিলেন। এটা ছিল তাঁর আন্তরিক ভাবে দান করার জন্য দুনিয়ার পুরস্কার। আর আখেরাতে আল্লাহপাক আন্তরিক দানের জন্য অনেক বড় পুরষ্কার দেয়ার কথা ঘোষণা করেছেন।

মসজিদের জন্য ওয়াক্‌ফ্‌ জমি

হাসান মসজিদের জন্য জমি খুঁজতে থাকেন। সাধারণ মানুষের কাছে মসজিদ তৈরীর কথা বলা হল। তারা খবর দিলেন হাজী আব্দুল করিমের কাছে একটা জমি আছে। তিনিও সেখানে মসজিদ তৈরীল কথা ভাবছেন। হাসান তার সাথে দেখা করলেন। তিনি মসজিদ তৈরীর কথা জেনে খুশী হলেন। ইখওয়ানেরা এ ব্যাপারে তার সাথে চুক্তি করেন। তিনি মসজিদের জন্য জমিটা ওয়াক্‌ফ করে দিলেন।

খারাপ লোকদের বাঁধা

কেউ ভাল কাজ করতে গেলে নানান দিক থেকে তাকে বাধা দেয়া হয়। ভাল লোকেরা আল্লাহকে ভয় পান। তারা ভাল কাজ করতে গিয়ে আল্লাহর সাহায্য লাভ করেন। এজন্য তারা খারাপ লোকের বাধা দানে ভয় পান না। বাধার মধ্য দিয়েও তারা ভাল কাজ করতেই থাকেন। ধৈর্য ধরে ভাল কাজ করতে থাকলে মানুষ সফলতা লাভ করে।

হাসান মসজিদ করবেন। এটা জানতে পেরে খারাপ লোকেরা ক্ষেপে উঠলো। মসজিদ যাতে না হয় সেজন্য হাসান ও ইখওয়ানদের সম্পর্কে নানান খারাপ কথা বলতে লাগলো। তারা বললো, এসব লোক অপদার্থ। কোন ভাল কাজ এদের দ্বারা হবে না। এরা শুধু পরের জিনিস নিতে চায়। খারাপ লোকেরা জমিদাতা আব্দুল করিমের কাছে গিয়েও হাসানদের সম্পর্কে নানান কথা লাগালো। আব্দুল করিম ছিলন সহজ সরল লোক। তাদের কথা তিনি বিশ্বাস করলেন। হাসান দেখলেন এসব জিনিস নিয়ে খামাখাই হাঙ্গামা আর গন্ডোগোল হবে। এজন্য তিনি আব্দুল করিমের সাথে দেখা করে তার জমি ফিরিয়ে দিলেন। হাসান ভাবলেন, এভাবে নয়- বরং তারা জমি কিনে সেখানে মসজিদ করবেন।

এদিকে খারাপ লোকেরা তো মহাখুশী। হাসানরা ব্যর্থ হয়েছে বলে তারা আরো জোরে শোরে প্রচার করতে লাগলো।

বিরোধীতায় ধৈর্য ধারণ

যুগে যুগে যারা ইসলামের দাওয়াত দিয়েছেন একদল লোক তাদের পেছনে লেগে থাকে। সমস্ত নবী-রসূলের বিরুদ্ধে এ ধরনের লোক কতই না আজে বাজে কথা বলেছে। এমনকি তারা নবীদের মারধর করে অনেককে মেরেও ফেলেছে। নবীরা তবুও ভাল কাজের দাওয়াত দেয়া থেকে বিরত হননি। এ ধরনের লোক হাসানদের পেছনেও লাগলো। তারা ইখওয়ান সম্পর্কে আজে বাজে কথা বলতে লাগলো। কিন্তু হাসান আর তার বন্ধুরা এসব বাজে কথায় দমে গেলেন না। তিনি সকলকে বোঝালেন, দাওয়াতের কাজ করলে এরকম বিরোধীতা সইতে হবে। কেননা পবিত্র কোরআনে আল্লাহপাক বলেছেন, মানুষ কি একথা ভেবেছে যে আমরা এনেছি একথা বললেই তাদের ছেড়ে দেয়া হবে? অথচ তাদের পূর্ববর্তীদের পরীক্ষা করা হয়েছে।

চাঁদা সংগ্রহ

হাসান চাঁদা সংগ্রহ শুরু করেন। তার সাথে হামেদ আসকারিয়াকে নিলেন। তিনি মানুষেরঘরে ঘরে আর দোকানে দোকানে ঘুরলেন। আরেকজন লোক এব্যাপারে অনেক সাহায্য করেন। তার নাম শায়খ মুহাম্মদ হোসাইন মামলুত। তিনি নিজেই ৫শ’ পাউন্ড দান করেন।

জমি ক্রয়

এরপর তারা জমি খুঁজতে থাকেন। ইসমাঈলিয়ার আরব মহল্লার শেষ মাথায় তারা এক খন্ড জমি পেলেন। মসজিদ করার জন্য তারা সেটা কিনলেন। জমির দলিলে দু’জনই সই দিলেন। একজন হলেন, শায়খ মুহাম্মদ হোসাইন মামলুত আর একজন হলেন, হাজী হোসাইন মুলি। হাসানরা মসজিদ আর মাদ্রাসা করার সিদ্ধান্ত নিলেন। এর নামকরন করা হল দারুল ইখওয়ান বা ইখওয়ান ভবন। সকলেই ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করার জন্য হাসানকে ধরলেন। কিন্তু তিনি বিনয় নম্রতারসাথে সে প্রস্তাব নাকচ করলেন। শেষে হাসানের মত শায়খ মুহাম্মদ হোসেন মামলুতকে এ কাজের জন্য ঠিক করা হল। তিনি একদিকে নেককার ভাল লোক। আবার ধনী লোক। দু’টো জিনিস একই সাথে তার মধ্যে রয়েছে। নির্ধারিত দিনে এক বিরাট প্যান্ডেল খাটানো হল। বহু লোক জমায়েত হল। বিরাট ধুমধামের সাথে শায়খ মুহাম্মদ হোসাইন মামলূত এগিয়ে এসে ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন।

মসজিদ নির্মাণ ও মিথ্যা অপবাদ

মসজিদ নির্মাণ হয়ে যায়। খারাপ লেকেরা এতে আরো ক্ষেপে যায়। তারা হাসানদের বিরুদ্ধে নানান অভিযোগ আনে। বেনামী দরখাস্ত লিখে তারা ইসমাঈলিয়ার ডেপুটি পুলিশ কমিশনার ও বড় বড় সরকারী কর্মকর্তাদের কাছে সেগুলো পাঠায়। কিন্তু এসব লোক হাসানকে খুব ভাল ভাবেই চেনেন। হাসান সম্পর্কে খারাপ কথা বললেও তাতে কোন লাভ হলনা। কেননা হাসান একজন ভাল লোক। তিনি মানুষকে আল্লাহর দিকে ডাকেন। যারা তার দলে আসে তারা খারাপ থেকে ভাল হয়ে যায়। কাজেই এসব দরখাস্তে কোন কাজ হল না। তখন তারা একটা দরখাস্ত প্রধানমন্ত্রী সেদকি পাশার কাছে পাঠাল। যেমন- ইখওয়ানের প্রতিষ্ঠাতা হাসান একজন কমিউনিস্ট। মষ্কো থেকে তিনি টাকা পান। তিনি আর তার দলবল একটা মসজিদ আর কেন্দ্র তৈরী করেছেন। তারা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে এ টাকা পয়সা নেয়নি। এত টাকা তারা পায় কোথা থেকে? হাসান সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলেন। তিনি বলেন নির্বাচন ঠিক হয়নি। দেশের সংবিধান ভুল। এরকম ১২ রকমের অভিযোগ। হাসান একথা জানতে পেরে অবাক হয়ে যান। তিনি ভেবে পাননি কিভাবে এসব লোক এত মিথ্যা কথা বলতে পারে। হাসানকে নাকি বাদশাহ ফুয়াদের নামে যা তা বলেন। তিনি বলে থাকেন, হযরত ওমর ইবনে আবদুল আজিজ কখনো রাষ্ট্রের কোষাগার থেকে এক পয়সাও নেননি। আর বর্তামন কালের শাসকরা অবৈধ প্রজাদের সম্পদ লুটে নিচ্ছে।

হাসানকে কমিউনিষ্ট অপবাদ দিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর পত্র

সেদিন ভোরে ক্লাস। হাসান ক্লাস নিতে যাচ্ছেন। এমন সময় স্কুলের প্রিন্সিপাল ওস্তাদ আহমদ হাদী সাহেবকে তার রুমের সামনে দাঁড়িযে থাকতে দেখতে পেলেন। এভঅবে আর কোনদিন তাকে দাঁড়াতে দেখেননি হাসান। আবার তাঁর দিকেই তাকিয়ে আছেন। কাজেই হাসান ক্লাসে না ঢুকে তার কাছে গিয়ে বললেন,

-আসসালামুল আলাইকুম, শুভ সকাল।

-ওয়াআলাইকুমুস সালাম, শুভ সকাল।

-আল্লাহর রহমতে ভালো তো?

-হ্যাঁ ভালই আছি।

-কোন কথা আছে কি?

-ব্যাপারটা ক্রিমিনাল কোর্টের। আমরা সবাই জড়িয়ে গেছি।

-কিভাবে এই ক্রিমিনাল কোর্টে তলব করা হল?

-প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে শিক্ষামন্ত্রীর কাছে একটি পত্র এসেছে। সে পত্রে বলা হয়েছে, আপনি কমিউনিষ্ট। আপনি বর্তমান সরকার ও বাদশাহের বিরোধী।

-শুধু এতটুকুই। আলহামদুলিল্লাহ। আল্লাহর কসম- আমরা নিরপরাধ। সুরা হজ্জের ৩৮ নং আয়াতে আল্লাহ বলেন, আল্লাহ অবশ্যই ঈমানদারদের হেফাজত হেফাজদত করবেন। নিশ্চয়ই অকৃতজ্ঞ বিশ্বাসঘাতকদেরকে আল্লাহ ভালবাসেন না। কাজেই আপনি অযথা ভাববেন না। ব্যাপারটা আল্লাহর হাতে ছেড়ে দিন।

হাসান ক্লাস নিতে চলে গেলেন। প্রিন্সিপাল সাহেব বেশ চিন্তিত হয়ে পড়লেন। শিক্ষামন্ত্রীর পতে হাসানের ব্যাপারে খোঁজ নিতে বলা হয়েছে। হাসান যা কিছু পড়ান সে সব ব্যাপারেও খোঁজ নিতে বলা হয়েছে। এখওয়অনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যে এবং কাজকর্ম সম্বন্ধেও খোঁজ নিতে হবে। এসব বিষয়ে তাঁকে রিপোর্ট দিতে হবে। প্রিন্সিপাল সাহেব স্থানীয় আদালতের জজ পুলিশ অভিসার ও গুরুত্বপূর্ণ লোকদের কাছ থেকে হাসান সম্পর্কে মতামত নিলেন। ছাত্রদের কপি ঘাঁটাঘাটি করে তিনি রচনা দেখতে পেলে। তাতে বাদশাহ ফুয়াদের সুয়েজ খাল সফর নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। রচনায় বাদশাহ ফুয়াদের প্রশংসা করা হয় এবং তার ভাল কীর্তির কথা উল্লেখ করা হয়। প্রিন্সিপাল সাহেব রিপোর্টে এরচনার উল্লেখ করেন।

পুলিশের রিপোর্ট

ইসমাঈলিয়ার পুলিশের বড় অফিসার ছিলেন ক্যাপ্টেন শরীফ নাবায়ুসি। হাসান সম্পর্কে তাঁকেও রিপোর্ট দিতে বলা হয়। হাসান সম্পর্কে তিনি জানতেন। কিন্তু সরকারী পত্রে হাসান সম্পর্কে যেসব মিথ্যা কথা বলা হয়েছে তা দেখে তিনি অবাক হলেন। একদিন সুয়েজ কোম্পানীর একজন ফরাসী কর্মচারী সেখানে এলেন। তিনি ক্যাপটেন শরীফের অস্থিরতা দেখে বললেন,

-আপনাকে বেশ পেরেশান মনে হচ্ছে- ব্যাপর কি?

-এই যে এখানকার সরাকারী স্কুলের একজন শিক্ষক হাসান। যিনি মানুষকে আল্লাহর পথে ডাকেন –তার সম্পর্কে কিছু বাজে লোক খারাপ রিপোর্ট করেছে। এখন আমাকে সত্য কথা জানাতে হবে। কিভাবে লিখবো তাই ভেবে পাচ্ছিনা।

-ও এই ব্যাপার। হাসানকে তো আমি চিনি। আমি নিজেই দেখেছি বাদশাহ ফুয়াদ যখন ইসমাঈলিয়ায় আসেন সেদিন হাসান শ্রমিকদের বলেছিলেন, তোমরা সেখানে গিযে বাদশাহকে অভিনন্দন জানাবে। বিদেশীরা যেন বুঝতে পারে আমরা আমাদের বাদশাহকে সম্মান করি। এতে বিদেশীদের কাছে আমাদের মর্যাদাও বেড়ে যাবে।

-সত্যি বলছেন আপনি?

-জ্বি হ্যাঁ! আমি তো সেখানে ছিলাম।

-তা’হলে তো ভালই হল। আপনি দয়া করে একথাগুলো লিখে দিন।

-হ্যাঁ আমি নিজের চোখে দেখা ঘটনার কথা এখনই লিখে দিচ্ছি।

তাঁর নাম ছিল মসিয়ে তাওফিক ক্রুজ। তিনি লিখিত সাক্ষ্য দেন। সেটা ক্যাপটেন শরীফ নথিভুক্ত করেন। আরেকজন পুলিশ অফিসার ইখওয়ান সম্পর্কে রিপোর্ট লিখলে। তাতে বলা হ’ল পুলিশও যেসব লোককে খারাপ কাজ আর অপরাধ থেকে ফিরিয়ে রাখতে পারে না। তারাই আবারইখওয়ানের ডাকে সাড়া দিয়ে অপরাধ ছেড়ে দিয়ে ভাল হয়ে গেছে। একারণে সরকারের উচিত ইখওয়ানদের সাহায্য করা আর সারা দেশে ইখওয়ানের শাখা প্রতিষ্ঠা করা।

ইন্সপেক্টরের ইখওয়ানের কাজে অংশগ্রহণ

তদন্ত রিপোর্টের বিরাট ফাইল শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। কিছুদিন পর ইসমাঈলিয়ার প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের ইন্সপেক্টর জেনারেল আলী বেক কিলানী হাসানদের স্কুলে এলেন। তিনি দ্বিতীয় পিরিয়ডে হাসানের ক্লাসে গেলেন। তার সঙ্গে প্রিন্সিপালও ছিলেন। তিনি হাসানের পাঠদান শুনলেন। এরপর হেসে জিজ্ঞেস করলেন,

-ইনিই কি ওস্তাদ হাসান?

-জ্বি হ্যাঁ।

তাঁরা দু’জনে ক্লাশ থেকে চলে গেলেন। ইন্সপেক্টর জেনারেল প্রিন্সিপালের রুমে ছিলেন। হাসান সেখানে গিয়ে সালাম করলেন। তিনি কাছে ডেকে বিভিন্ন বিষয়ে আলাপ করলেন। হাসান তাকে ইখওয়ানের মাদ্রাসা ও মসজিদ নির্মাণের কাজ দেখার আমন্ত্রণ জানান। তিনি যেন নিজের চোখে ইখওয়ানের দাওয়াত ও অন্যান্য কাজ দেখেন।

তিনি বিকেলে ইখওয়ান ভবনে আসেন। একটা সাদা সিধে ধরনের চায়ের আসরহল। এতে শহরের বিশিষ্ট লোকজন ও সরকারী কর্মকর্তাদের দাওয়াত দেয়া হয়। ইখওয়ানের বক্তারা বক্তৃতা দিলেন। আর হাম্‌দ ও নাত পরিবেশন করা হল। মেহমানরা ইখওয়ানের বক্তাদের পরিচয় জেনে অবাক হয়ে গেলেন। বক্তাদের মধ্যে কেউ ছিলেন রাজমিস্ত্রি। কেই ছিলেন বাগানের মালি আবার কেউবা ধোপা। ইন্সপেক্টর জেনারেল আলী বেক কিলানী অনুষ্ঠান দেখে খুবই মুগ্ধ হন। তিনি ইখওয়ানের ব্যাজ নিয়ে নিজের কোটে লাগালেন। ব্যাজ পরে তিনি ইখওয়ানে যোগদানের ঘোষণা দেন। শিক্ষা বিভাগে তাঁর চাকুরীর মেয়াদ ছিল আর কয়েক মাস। এর পর তিনি অবসর নেবেন। তখন তিনি দাওয়ারেত কাজ করার ওয়াদা করেন। কিন্তু অবসর গ্রহণের কিছুদিনের মধ্যেই তিনি ইন্তেকাল করেন। যে ক’দিন বেঁচে ছিলেন ইখওয়ানের কাজে অংশ গ্রহণ করেন।

জৈনিক খৃষ্টানের মিথ্যা অভিযোগ

হাসানের বিরুদ্ধে যে সব নালিশ করা হয় তার একটিতে একজন খৃষ্টানদের সই ছিল। খৃষ্টানের অভিযোগে বলা হয়, হাসান ইখওয়ানুল মুসলিমুনের প্রধান। তিনি ক্লাশে খৃষ্টান আর মুসলমান ছেলেদের ব্যাপারে বৈষম্য করেন। খৃষ্টান ছাত্রদের তুচ্ছ করেন। তাদের শিক্ষার প্রতি কোনই মনোযোগ দেন না। মুসলমান ছাত্ররাই তার প্রিয়। তাদের ভালভাবে পড়ান। বিষয়টি তদন্তের জন্র প্রিন্সিপালের কাছে পাঠানো হল। সেখান থেকে সকলেই তা’ জানতে পারলো। ইসমাঈলিয়ার খৃষ্টান অধিবাসীরা হাসানকে ভালবাসেন। তারা হাসানের মধ্যে সে রকম কোন দোষ দেখেননি। কাজেই তারা ঐ পত্রের নিন্দা করলেন। স্থানীয় গীর্জার পক্ষ থেকে অভিযোগ মিথ্যা বলে জানানো হয়।

ইখওয়ান ভবনের উদ্বোধন

বেশ জাঁকজমকের সাথে মাহফিলের আয়োজন করে ইখওয়ান ভবনের উদ্বোধন হয়। মসজিদের উদ্বোধন করেন ওস্তাত আহমদ সাকারি। তিনি মাহমুদিয়ায় ইখওয়ানের প্রধান। অথচ সকলে দাবী করেছিল হাসান-ই যেন উদ্বোধন করেন। কিন্তু এতে হাসানেরও মত ছিল না। হাসান ওস্তাদ হামেদ আসকারিয়াকে মেহরাবের দিকে ঠেলে দেন। তিনি এ মসজিদে প্রথম ইমামতি করেন। এই মসজিদ নির্মাণের পর শহরে আরো বহু মসজিদ নির্মিত হয়।

প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা সম্বলিত মান-পত্র পাঠে আপত্তি

মিশরের প্রধানমন্ত্রী সেদকি পাশা সিনাই সফল করেন। এ জন্য তাকে ইসমাঈলিয়া হয়ে যেতে হবে। খবর পেয়ে সরকারের বিভিন্ন স্তরে তোলপাড় শুরু হয়। প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানানোর প্রস্তুতি চলতে থাকে। ডেপুটি কমিশনার ও ম্যাজিষ্ট্রেটও সেখানে আসেন। বিপুল সংখ্যক লোক সেখানে সমবেত হয়। প্রধানমন্ত্রীকে সংবর্ধনা জানিয়ে বক্তৃতা করবেন সেটা নিয়ে আলোচনা হল। শেষে এ কাজের জন্য হাসানকে বাছাই করা হল। হাসানকে ম্যাজিষ্ট্রেটের অফিস তলব করা হল। ম্যাজিষ্ট্রেট সাবের বেক তানতাবি হাসানের সাথে এ বিষয়ে বললেন। পুলিশ অফিসার ও অন্যান্য কর্মচারীরাও এই প্রস্তাব সমর্থন করেন। এতে হাসান বেশ রেগে গেলেন। তিনি ম্যাজিষ্ট্রেটকে বললেন,

-আমি এখনই চাকুরীতে ইস্তেফা দেব। আপনারা কি মনে করেন সরকারী কর্মচারীরা কাঠের পুতুল। তাদেরকে ইচ্ছে মত নাচানো যায়।

-আপনি রেগে যাচ্ছেন কেন- শান্ত হন। আপনার কথা আমরা শুনছি বলুন।

-দেখুন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাথে আমার যে চুক্তি হয়েছে তা’ কেবল এতটুকুই যে শিক্ষার ক্ষেত্রে আমি উন্নত সেবা করে যাব।

-তা’ছাড়া প্রয়োজনবোধে অন্যান্য সরকারী কাজও করা যাবে।

-কিন্তু চুক্তিতে এমন কথা কোথাও লেখা নেই যে প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করে মানপত্র পড়তে হবে।

-ঠিক আছে আপনার অসুবিধা থাকলে আমরা এ কাজের জন্য অন্য লোক ঠিক করবো।

হাসানের প্রচন্ড আপত্তির কারণে এ কাজের জন্য অন্য লোক ঠিক করা হল।

মসজিদের জন্য সুয়োজ কোম্পানীর সাহায্য

মসজিদের জন্য সুয়েজ কোম্পানীর পরিচালক ব্যারন ডা বোনো ৫শ’ মিশরীয় পাউন্ড দিলেন। এজন্য তিনি  মসজিদের প্রকল্প, নকশা ও অন্যান্য বিবরণ দেখেন। হাসান তাকে বললেন,

-আমরা কোম্পানীর কাছ থেকে এত কম সাহায্য আশা করিনি।

-আমার কিছু করার নেই। এটা কোম্পানীর সিদ্ধান্ত।

-দেখুন কোম্পানীর খরচে একটা গীর্জা তৈরী হচ্ছে। তাতে ব্যয় হচ্ছে ৫ লাখ পাউন্ড।

-আপনার কথা মানলাম। কিন্তু আমি দুঃখিত আমার কোম্পানীর পক্ষ থেকে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে।

মসজিদের কোষাধ্যক্ষ শায়খ মুহাম্মদ হোসাইন মমলুত কোম্পানীর কাছ থেকে ৫শ পাউন্ড গ্রহণ করলেন।

আল হেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠা

মসজিদ তৈরী হল। তার ওপরে বিদ্যালয় হল। শিশুদের জন্য ইসলামী পদ্ধতিতে শিক্ষা ব্যবস্থা করলেন হাসান।  বিদ্যালয়ের নাম রাখা হল আল হেরা শিক্ষালয়। ছাত্রদের জন্য ইউনিফর্ম ঠিক করা হল। দেশী কাপড়ের তৈরী লম্বা জামা কোট, সাদা টুপি আর জুতাই হল ইউনিফর্ম। বিদ্যালয় ফজরের নামাজের পর শুরু হয় আর জোহরের নামাজ পর্যন্ত চলে। ছাত্ররা জামায়াতে জোহরের নামাজ আদায় করে। খাওয়া দাওয়া শেষ করে আসরের পূর্বে ফিরে এসে জামায়তের সাথে আসরের নামাজ আদায় করে। ছাত্রদরে দিনের প্রথম ভাগে আল আজহারের পাঠ্য সূচী অনুযায়ী শিক্ষা দেয়া হয়। দিনের দ্বিতীয় ভাগে শিল্পকার্য শিখানো হয়। দুপুরের খাবারের পর ছাত্ররা শহরে যায়। সেখানে ইখওয়ান কর্মীদের কারখানা ও ওয়ার্কশপে তাদের ট্রেনিং দেয়া হয়। এভাবে তারা লেখাপড়ার পাশাপাশি কারিগরী শিক্ষাও নেয়। এছাড়া ছাত্রদের সরকারী প্রথমিক বিদ্যালয়ের অনুরূপ শিক্ষা দেয়া হয়। এতে তাদেরকে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধমিক শিক্ষার জন্য প্রস্তুত করা হয়। ছাত্রদের বেতন ধরা হয় খুবই কম। বিনা বেতনেও অনেক ছাত্র নেয়া হয়। উচ্চ শিক্ষিত ও প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত শিক্ষকদের এই বিদ্যালয়ে নিয়োগ দেয়া হয়। মানুষের মধ্যে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ব্যাপারে বেশ আগ্রহ সৃষ্টি হয়। এখানে আধুনিক পদ্ধতিতে শিক্ষা দেয়া হয়। ইসম ইসমাঈলিয়ায় রয়েছে সুদর্শন পার্ক। পার্কে গাছের ছায়াতলে বসেও অনেক সময় ছাত্রদের ক্লাশ নেয়া হয়। মাটি পাথর আর কাগজের টুকরার সাহায্যে বর্ণমালা আর অংকের বুনিয়াদি বিষয় শেখান হয়। ছাত্ররা অবাধে শিক্ষকদের প্রশ্ন করে থাকে। ছাত্র আর শিক্ষকদের মধ্যে সৃষ্টি হয় সহযোগিতা আর ভালবাসার সম্পর্ক। হাসান তাঁর নিজের স্কুলের ফাঁকে ফাঁকে আল হেরায় ছুটে যান। আর ক্লাস নেন।

তিনি শিক্ষকদেরও উপদেশ দেন। ছাত্রদের সাথে তিনিও বাগানে যান। আর দু’ঘন্টা তাদের সাথে কাটান। এসময় ভ্রমণ বিনোদনের পরিবেশ সৃষ্টি হয়। এতে করে ছাত্ররা যথেষ্ট আনন্দ পায়। বিকেলে ছাত্ররা ইচ্ছামত খেলাধূলা করতে পারে। ইচ্ছা করলে হাসি খুশী আর খোশ গল্পও করতে পারে। হাসানও তাদের সাথে এসময় মিশে যান। তাদের পারিবারিক খোঁজ খবর নেন। সুখ দুঃখের অংশীদার হন। ছাত্ররা যাতে মনে করতে পারে শিক্ষকরা তাদের আপন পিতা বা ভাইয়ের মতই। সেভাবে ব্যবহার করার জন্য হাসান শিক্ষখদের অনুরোধ জানান। তার অনুরোধে কাজ হয়। অনেকেই তার কথা মেনে নেয়। এর ফলে তারা ভাল শিক্ষকে পরিণত হয়।

আল হেরা নামটি রাখার প্রস্তাব করেন শায়খ মুহাম্মদ সাঈদ ওরফী। তিনি একজন বড় আলেম ও সিরিয়ার পার্লামেন্ট মেম্বার। ফরাসীদের জুলুম নির্যাতনের প্রতিবাদ করায় তাকে নির্বাসন দেয়া হয়। এর ফলে তিনি মিসরে এসে কায়রোতে বাস করতে থাকেন। হাসানের সাথে তার পরিচয় হয়। তিনি রাত জেগে ইবাদত করেন। দিনের বেলায় জ্ঞান বিতরেণের কাজ করেন। তাঁর কাছে জ্ঞান লাভের জন্য অনেকে আসেন। একবার তিনি জানতে পারলেন, হাসানরা একটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান করতে চাচ্ছেন। এটা হবে ইসলামী ও আধুনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। সেটি হবে ইখওয়ানের একটি আদর্শ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। আর ইখওয়ানের দাওয়াততো কোরআনেরই দাওয়াত। আল কোরআন সর্ব প্রথম হেরা গুহাতেই নাজিল হয়েছে। কাজেই তিনি প্রস্তাব দিলেন। এই শিক্ষালয়ের নাম আল হেরা রাখা হোক। তার প্রস্তাব সকলে মেনে নেয়। কাজেই আল হেরা নামই রাখা হল। সেদিন শায়খ ওরফি হাসানকে বললেন।

-ভাল ভাল নাম আর উপাধিতে ধন্য করো।

-কাকে ধন্য করবো?

-তোমার ভাই বন্ধু, সঙ্গী ও প্রতিষ্ঠানকে ভাল নাম আর উপাধিতে ধন্য কর।

-সেটা কি ভাবে করবো?

-তোমার একজন বন্ধুকে বলবে, আরে তোর মধ্যে হযরত আবু বকরের (রা) মত গুন দেখা যাচ্ছে- আরেকজনকে বল, তোমার মধ্যে হযরত ওমর (রা) এর মত গুন রয়েছে।

-বললে কি লাভ হবে?

-এতে তাদের মধ্যে আত্ম মর্যাদাবোধ জেগে উঠবে। তারা আদর্শ চরিত্র আর সৎ নমুনা অনুযায়ী চলার চেষ্টা করবে।

-আমরা এরকম ভাবে বললে লোকেরা আমাদের কড়া কথা শোনাবে।

-লোকের কথায় কান দিওনা। তুমি আল্লাহর হয়ে যাও। আল্লাহ তোমার হয়ে যাবেন।যে কাজে কল্যান আছে সে কাজ করতে থাক।

-প্রতিষ্ঠানের নাম আমরা কি কি রাখতে পারি?

-ইসলামের ইতিহাসের স্মরণীয় নাম বেছে নিয়ে রাখতে পার। মেযন আল হেরা বালক বিদ্যালয়। উম্মাহাতুল মুমিনূন বালিকা বিদ্যালয়, ফুন্দুক ক্লাব ইত্যাদি।

শাযখ মুহাম্মদ সাঈদ ওরফি যতদিন মিসরে ছিলেন নিজের হাতে উপার্জন করে জীবিকা নির্বাহ করেছেন। তিনি বই পত্র সম্পাদনা ও সংশোধন করে যা কিছু বাঁচতো সেগুলো ইখওয়ানের তবহিলে দান করতেন। তিনি ইকওয়ানদের ভালবাসতেন। তাদের সঠিক পথে চলার জন্য উপদেশ দিতেন। তিনি গুনাহগার ও ইবাদতে গাফেল লোকদেরও ইখওয়ানে নেয়ার আহ্বান জানাতেন। তিনি বলতেন, ইখওয়ানুল মুসলিমুন হচ্ছে একটা হাসপাতাল। এখানে রোগী আসবে। আর আরোগ্য লাভ করে বাড়ীতে ফিরবে। দাওয়াত দ্বারাই মানুষ নিজের সংশোধন করতে পারে আর ভাল মানুষ হতে পারে। হাসান এসব কথা ভেবে দেখলেন। তিনি বুঝতে পারলেন শায়খ ওরফি ঠিক কথাই বলেছেন। তাই তিনি এই সব লোকদের দাওয়াত দিয়ে ইখওয়ানের মধ্যে আনতে শুরু করেন।

ইসমাঈলিয়ায় ইখওয়ানের শাখা গঠন

ইসমাঈলিয়া থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে আবু সবির ষ্টেশন। ইংরেজ সৈন্যদের ক্যাম্পের পরেই এই ষ্টেশন। হাসান আবু সবিরে গেলেন। উদ্দেশ্য মানুষকে ইসলামের দাওয়াত দিয়ে সংগঠিত করা। ইখওয়ানের শাখা প্রতিষ্ঠা করা। সেখানে কফি শপ, রাস্তাঘাট আর দোকানে দোকানে গিয়ে তিনি উপযুক্ত লোক খুঁজতে থাকেন। শেষে শায়খ মুহাম্মদ আল আজুরদীর দোকানে এলেন। তিনি একজন সৎ লোক। তিনি মানুষ জনের সাথে সুন্দর ভাবে কথা বলতে পারেন।তার কাছে কিছু লোক বসা ছিলেন। হাসান সালাম জানিয়ে সেখানে বসলেন। তিনি ইসলামের সুন্দর আদর্শের কথা আলোচনা করে বর্তমানে মুসলমানদের অন্যায় অনাচার আর খারাপ ভাবে জীবন যাপনের কথা তুললেন। ইসলামী আন্দোলন গড়ে তুলে এ সব অন্যায় দূর করা যাবে বলে হাসান মতামত দিলেন। এজন্য ইখওয়ানের প্রয়োজন। এ দলে ভালো লোকদের টানতে হবে। তারা মানুষকে আল্লাহর পথে ডাকবে।

দোকানদার আর তার সঙ্গীরা বেশ মনোযোগের সাথে এসব কথা শুনলেন। হাসানকে দুপুরের খাবার খাওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হল। হাসান খেতে রাজী হলেন না। তারা হাসানের কাছ থেকে আরো কথা ‍শুনতে চাইলেন। এজন্য কফি হাউজে মাহফিল করার সিদ্ধান্ত হল। লোকজন কফি হাউজে সমবেত হল। সকলেই মন দিয়ে হাসানের কথা শুনলো। হাসানের কথাগুলো তাদের ভাল রাগে। তারা হাসানকে আবারো আসার জন্য অনুরোধ জানালো। হাসান পরে আবারো সেখানে গেলেন। মানুষের মধ্যে ইসলামের দাওয়াত দিলেন। কয়েকবার যাওয়ার পর সেখানে কিছু লোক তৈরী হল। পরে ববসায়ী আহমদ আফেন্দি দাসুতির বাসায় সবাই সমবেত হলেন। হাসান আবু সবিরে ইখওয়ানের শাখা গঠন করলেন। পথমে আাহমদ আফেন্দি দাসুতিকে এই শাখার সভাপতি করা হয়। তিনি ব্যবসায়ের কাজে ব্যস্ত থাকতেন। ফলে ইখওয়ানের নেতৃত্ব দেয়া তার পক্ষে সম্ভব হল না। হাসান উপযুক্ত লোক খুঁজতে লাগলেন। শেষে ওস্তাদ আবদুল্লাহ বাদবীকেই সভাপতির দায়িত্ব দেয়ার চিন্তা করলেন। তিনি আবুসবির প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। ওয়াজ নসিহত করতে পারেন। এছাড়া লোকজনও তাকে শ্রদ্ধা করে। সকলেই তাকে ভালবাসে। তাকেই সভাপতি করা হল। তিনি বেশ পরিশ্রম করে দাওয়াতের কাজ করতে থাকেন। ফলে কিছুদিনের মধ্যে সেখানে ইখওয়ানের শক্তিশালী শাখা গড়ে ওঠে।

পোর্ট সাঈদে ইখওয়ান

ইসমাঈলিয়ায় কিছুদিনের জন্য একজন যুবক আসেন। তাঁর নাম আহমদ আফেন্দি মিসরি। তিনি পোর্ট সাঈদের বাসিন্দা। ইসমাঈলিয়ায় থাকা কালে তিনি ইখওয়ানের কেন্দ্রে আসা শুরু করেন। সেখানে যেসব ওয়াজ নসিহত আর কোরআন হাদিসের আলোচনা হত তিনি তা’ শুনতেন। কিচুদিন পরে তিনি ইখওয়ানের সদস্য হন। এরপ তিনি দাওয়াতের কাজে শরীক হলেন। এ কাজেও তিনি ভাল করেন। ইসমাঈলিয়ায় কাজ শেষ হলে তিনি পোর্ট সাঈদে ফিরে যান। সেখানে গিয়ে দাওয়াত দিতে থাকেন। তার বন্ধু বান্ধবরা সকলেই ইখওয়ানে যোগদান করেন। সেখানে দাওয়াতের কাজ বাড়তে থাকে। শেষে হাসানকে সেখানে যেতে হল। তিনি পোর্ট সাঈদের যুবকদের কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি নিলেন দাওয়াতের পথে জিহাদ চালিয়ে যেতে হবে। হয় বিজয় আসবে হয়তো এ পথে শহীদের মৃত্যু হবে।

About নূর মোহাম্মদ মল্লিক