ছোটদের শহীদ হাসানুল বান্না

দারুল ইখওয়ান প্রতিষ্ঠা

পোর্ট সাঈদে আল মানইয়ান। সেখানে কাজ বাড়তে থাকে। এক সময় ইখওয়ানরা সিদ্ধান্ত নিলেন তারা সাধারণ মানুষের কাছে দাওয়াত দেবেন। এজন্য সমাবেশ হল। এতে ইসমাঈলিয়া ও পোর্ট সাঈদের ইখওয়ান নেতারা বক্তৃতা করেন। আলোচনা হল নবী (সা) এর হিজরত নিয়ে। এ মাহফিলে দলে দলে লোক যোগদান করে। এটাই ছিল সেখানে ইখওয়ানের প্রথম সমাবেশ। সেদিন হঠাৎ হাসান খুবই অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁর গলায় ভীষণ ব্যাথা। এতবেশী কষ্ট হচ্ছিল যে, কোথাও যাওয়ার মত অবস্থা তার ছিল না। এ কারণে তিনি ইসমাঈলিয়া থেকে পোর্ট সাঈদ পর্যন্ত রেল গাড়ীতে শুয়ে শুয়ে কাটান। স্কুলের পরিচালক মাহমুদ বেক হাসানের অবস্থা দেখে বললেন,

-আজ আপনার কোথাও যাওয়া ঠিক হবে না। আর বক্তৃতা করাও উচিত হবে না।

-কিন্তু আমি যাওয়ার ওয়াদা করেছি। তারা আমার জন্যে অপেক্ষা করবে।

-আপনার যে অবস্থা তাতে বাইরে বের হওয়াটা মোটেই উচিত নয়। যদি আপনি বেরহন তবেতা হবে নিজের ওপর জুলুম করা।

-না। আমাকে ওয়াদা রক্ষা করতে হব। আমি যাব।

ট্রেন থেকে নেমে হাসান সোজা দারুল ইখওয়ানে গেলেন। শরীরটা এতই দুর্বল হয়ে পড়েছে যে তিনি দাঁড়িয়ে নামাজ পড়তে পারলেন না। বসে বসে মাগরিবের নামাজ পড়তে হল। তিনি ভাবলেন, পোর্ট সাঈদের ইখওয়ানরা কতই না কষ্ট করে এই সমাবেশের আয়োজন করেছে। এজন্যে তারা নিজেদের কষ্টের টাকা পয়সা দান করেছে। লোকজনকে দাওয়াত দিতে ইখওয়ানরা কষ্ট করেছে।

এত কষ্ট করে যে সমাবেশ করা হল তার প্রধান ব্যক্তিই যদি বক্তৃতা দিতে না পারে তবে অবস্থঅটা কি হবে? এসব চিন্তা করে হাসান আবেগে কেঁদে ফেললেন। এখন কি উপায় হবে? তিনি এশার নামাজ পর্যন্ত কান্নাকাটি করে আল্লাহর কাছে সুস্থতা লাভের জন্য দোয়া করলেন। এসময় তিনি বেশ সজীব বোধ করলেন। ফলে এশার নামা দাঁড়িয়ে আদায় করেন।

এরপর মাহফিলের কাজ শুরু হয়। হাসান বক্তৃতা দিতে ওঠে দাঁড়ান। তিনি নিজের মধ্যে প্রচন্ড শক্তি অনুভব করলেন। মনে হল তিনি পুরোপুরি সুস্থ। তার আওয়াজ পরিষ্কার ও বোধগম্য। তখনো মাইকের প্রচলন হয়নি। সামিয়ানার নীচে এবং তার বাইরে যারা ছিল সবাই হাসানের কথা পরিষ্কার ভাবে শুনতে পেল। মাহফিল ভালভাবে শেষ হয়। হাসান দু’ঘন্টা কক্তৃতা করেন। তিনি আল্লাহর কাছে যে দোয়া করেন তা কবুল হয়েছিল। তাই শুধু সেদিনই নয়, বরং সারা জীবনে তার ঐ রোগ আর হয়নি।

পোর্ট সাঈদে ইখওয়ানদের আন্তরিক চেষ্টায় দাওয়াতের কাজ বেড়ে গেল। সেখানে ইখওয়ানের চারটি মজবুত শাখা খোলা হল।

মাতরিয়া সফরে মজার ঘটনা

পোর্ট সাঈদের সমাবেশে বাহরুস সগির- এর জামালিয়া অঞ্চলের এক দল লোক যোগদান করেন। তাদের মধ্যে জামালিয়া অঞ্চলের মাহমুদ আফেন্দি আব্দুল লতিফ এবং ওয়াকহিলার সিঙ্গার কোম্পানীর এজেন্ট ওমর তালামও ছিলেন। তারা হাসানকে তাদের অঞ্জলে সফরের আমন্ত্রণ জানান। এসব এলাকায় ইখওয়ানের কয়েকটি শাখা খোলা হয়। হাসানের মাতরিয়া সফর কালে বেশ মজার একটি ঘটনা ঘটে। হাসানকে স্বাগত জানাতে সেখানে আল মানজিলার গন্যমান্য একদল লোক উপস্থিত ছিলেন। তারা ভাবছিলেন, ইখওয়ানুল মুসলিমুনের মত দলের প্রধান একজন জাঁদরেল লোক হবেন। বিরাট লম্বা চওড়া দশাসই আকার হবে তার। বয়সতো তাঁর কম হবে না। বেশ বয়ষ্ক হবেন। আর নামী দামী আলেম হবেন। চেহারা দেখলেই মনে হবে জীবন সার্থক, আজকে একজন মহান লোক দেখতে পেলাম। কিন্তু হাসানকে দেখে তারা অবাক হয়ে গেলেন। তাদের মুখে যেন এক তাচ্ছিল্যের ভাব ফুটে উঠলো। দেখে মনে হল, এতো ২৫ বছরের এক যুবক। যার বয়সও কম। চেহারা হাল্কা পাতলা। পোশাক পরিচ্ছদ সাদাসিধে। ওরকম লোক আর কি ওয়াজ নসিহত করবেন? তার বিরাট শরীর নেই। নেই কোন জাঁকজমক্ ওদরে বাঁকা হাসি দেখে হাসান চিন্তি হলেন। ভাবলেন নিশ্চয়ই কোন ব্যাপার আছে। আল মানজিলা অঞ্চলের ইখওয়ান সভাপতি শায়খ মুস্তফা তাইরকে ডেকে হাসান লোকজনের হাসির কারণ জিজ্ঞেস করলেন। তিনি বললেন, লোকজন ভাবছিল, ইখওয়ান সভাপতি একজন প্রভাবশালী আর বিরাট দেহধারী কোন মাওলানা হবেন। কিন্তু বাস্তবে তারা দেখলো কম বয়সের এক হ্যাংলা পাতলা যুবককে। একারণেই তাদের এই হাসি। লোকজনের মধ্যে ইখওয়ান সম্পর্কে ভাল ধারণা দেয়ার জন্য চেষ্টা চালাতে হবে। এজন্য আমাদেকে আজকের রাতের সমাবেশ সফল করতে হবে। একথা শুনে হাসান বললেন, ভাল ওয়াজ করার ক্ষমতা দেয়ার মালিক আল্লাহ। আর সফলতা দানের মালিকও তিনি। তিনি যদি ভাল করার ফয়সালা কনে তবে তাই হবে। মানুষের অন্তর আল্লাহর হাতে। তিনি ইচ্ছা করলেই মানুষের অন্তর ঘুরে যেতে পারে।

হাসান জলসায় বক্তৃতা শুরু করেন। শামিয়ানার নীচে লোকজন কানায় কানায় পূর্ণ। যতদূর নজরে পড়ে শুধু মানুষ আর মানুষ। হাসান যে কথা বলেন তা’ তার অন্তর থেকে বেরিয়ে আসে। তার কথার মধ্যে কোন কপটতা নেই। তার বক্তৃতায় মানুষ একজন খাঁটি মুসলমানের কথা শুনতে পায়। ফলে সমবেত লোকজন মুগ্ধ হয়ে যায়। লোকজন বক্তৃতা শেষে তার কাছে এসে বললেন, এতদিন পর আমরা একজন খাঁটি মানুষ দেখলাম। আগে ভেবেছিলাম বিরাট দেহ ধারী কোন মাওলানা সাহবকে দেখতে পাব। কিন্তু এখন দেখলাম একজন খাঁটি আল্লাওয়ালা মানুষকে। পরে এসব অঞ্চলে ইখওয়ানের আরো শাখা খোলা হয়।

মেন্দি পাতার ঘটনা

একবার দাওয়াতের কাজে হাসান সুয়েজ খাল অঞ্চল সফরে গেলেন। সুয়েজের এক ইখওয়ানের বাড়ীতে তিনি উঠলেন। তার রুমের ভেতর একটি টেবিল। টেবিলের ওপর রাখা ছিল একটি বই। নাম ‘সিফরাতুস সাআদাহ’। হাসান বইটি হাতে নিলেন। খোলাম মাত্রই নজরে একটি হাদিসেরদিকে। এতে বলা হয়েছে, মহানবী (সা) মেন্দি পাতা পছন্দ করতেন। হাসান একথা জানতে পেরে মেন্দি পাতার প্রতি আগ্রেোবধ করলেন। কিন্তু এখানে তিনি মেন্দি পাতা পাবেন কোথায়? কে দেবে তাকে মেন্দিপাতা। তিনি নিজ শহর আর পরিবার থেকে বহু দূরে রয়েছেন। এর কিছুক্ষণ পরে তিনি ইখওয়ান কেন্দ্রে গেলেন। সেখানে বক্তৃতা দিতে শুরু করেন। হাসানের পেছনে একটি জানালা ছিল। হঠাৎ একটি বালক শায়খ হাদি আতিয়াকে ডাক দেয়। তিনি তার কাছে গেলেন। সে তার হাতে মেন্দি গাছের একটা বড় ডাল তুলে দিয়ে তা হাসানকে দিতে বললেন। শায়খ হাদি ডালটি হাসানের হাতে দিযে বললেন, আপনার জন্য এটা এখানকার শিশুদের উপহার। হাসান বুঝতে পারলেন, আলআহ তার মনের আশা পূরণের জন্য এ ব্যবস্থা করলেন। তিন মৃদু হেসে বললেন, এটা শিশুদের উপহার নয়। এটা হচ্ছে আল্লাহর রাসূল (সা) এর প্রতি ভালাবাসার একটি প্রতিদান।

আসল কথা হল, আল্লাহ ও তার রাসূলের প্রতি খাঁটি ভালবাসা থাকলে তার মনের কোন আশাই অপূর্ণ থাকে না। আল্লাহ তার আশা পূর্ণ করে থাকেন। এই ঘটনায় হাসানের সমস্ত মনপ্রাণ আনন্দে ভরে গেল।

কায়রোতে ইখওয়ান অফিস

কায়রোতে দু’জন সৎ যুবক ইসলামের দাওয়াতের কাজ করার জন্য জমিয়েুতে হাদারাতে ইসলামিয়া বা ইসলামী সংস্কৃতি সংস্থা নামে একটি দল প্রতিষ্ঠা করেন। তারা রোম মহল্লার একটি ভবনের নীচের তলায় একটি রুম ভাড়া নেন। সেখানেই দলের কাজ চালাতে থাকেন। এ সময় অনেক জ্ঞানী-গুনী লোক তাদের সাথে যোগ দেন। তারা ইসমাঈলিয়ার ইখওয়ানদের কথা শুনেছিলেন। ইখওয়ানের কাজ কর্ম তারা ভালভাবে দেখেন। ভাবলেন,আলাদা আলাদা দল না করে ঐক্যবদ্ধভাবে থাকা দরকার। এর ফলে তাদের দলের দপ্তরই ইখওয়ানের শাখায় পরিণত হল। পরে কায়রোর সালাখ বাজার সড়কে সলিম পাশা হেজাজির বিল্ডিং এ একটি রুম ভাড়া নিয়ে সেখানে অফিস করা হল।কিন্তু মিসরের রাজধানী কায়রোতে ইখওয়ানের অফিস যে রকম হওয়া দরকার তা হয়নি। এর জন্র প্রয়োজনীয় টাকা পয়সা ছিল না। ফলে ইসমাঈলিয়া থেকে কায়রো অফিসের জন্য টাকা পাঠানো হত।

সরকারের পক্ষ থেকে ইখওয়ানকে টাকার লোভ

১৯৩২ সালের কথা। হাসানকে কায়রোতে বদলি করা হল। তিনি কায়রোতে চলে এলেন। এর ফলে ইখওয়ানের হেড অফিসও কায়রোতে সরানো হল। এসময় কায়রোতে একটি স্মরণীয় ঘটনা ঘটে। তখন সবে মাত্র দাওয়াতের কাজ শুরু হয়েছে। কায়রোর অফিসে খরচ ইসমাঈলিয়া থেকে আসে। এ সময় ইখওয়ানকে অনেক টাকা পয়সা দিয়ে সাহায্য দানের জন্য সরকার থেকে প্রস্তাব দেয়া হল। এর বিনিময়ে সরকারের প্রতি সমর্থন জানাতে হবে আর সরকারের পক্ষে কাজ করতে হবে। এ সময় সিদকি পাশা প্রথমবারের মত মন্ত্রিসভা গঠন করেছেন। তার পক্ষ থেকে যখন এই প্রস্তাব এল তখন হাসানের দু’বছরের ছোট ভাই আব্দুর রহমান সায়াতি জবাবে বললেন, আমাদের হাত কেটে ফেললেও আমরা এমন টাকা পয়সা নেবনা। কেননা এই টাকা পয়সা দেয়ার উদ্দেশ্য হচ্ছে ইসলামী আন্দোলনকে ব্যক্তি স্বার্থের নিয়ন্ত্রণে আনা। তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকারের কাজকর্ম ইসলামী বিধান অনুযায়ী হেলে আমরা জানমাল দিয়ে তাদের পক্ষে কাজ করতাম। কিন্তু তা হচ্ছে না। এ কারণে টাকা পয়সার বিনিময়ে আমরা সরকারের সব  কাজের প্রতি অন্ধভঅবে সমর্থন জানাতে পারি না।

ইখওয়ানকে টাকা পয়ংসা দিয়ে বশ করার সরকারী চেষ্টা ব্যর্থ হল। অথচ তখন ইখওয়ানের প্রাথমিক অবস্থা। কয়েকজন যুবক আর সরকার সরকারী কর্মচারী নিয়েই কায়রোতে ইখওয়া গড়ে ওঠে। কিন্তু শুরু থেকে ভেজাল মুক্ত থাকায় ইখওয়ান খালেস আল্লাহর দলে পরিণত হয়।

মহিলা অঙ্গনে ইখওয়ান

ইসমাঈলিয়ায় বালকদের জন্র আল হেরা মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করা হয। এই প্রতিষ্ঠানটি ভালভাবে দাঁড়াবার পর হাসান বালিকাদের জন্য একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার চিন্তা-ভাবনা করলেন। মেয়েদের এই প্রতিষ্ঠানের নাম রাখা হল, ‘উম্মাহাতুল মুমেনীন মাদ্রাসা।’ এর জন্য একটা বিরাট বিল্ডিং ভাড়া নেয়া হল। একদিকে ইসলামী শিক্ষা আর একদিকে আধুনিক বিজ্ঞান শিখ্ষা এ দুটোই পাঠ্য সূচীতে রাখা হল। ইসমাঈলিয়অর দক্ষ অভিজ্ঞ ওস্তাদ আহমদ আব্দুল হালিম। তিনি একজন দ্বীনদার পরহেজগার লোক। তিনি ইখওয়ানের একজন ভাল কর্মী। মাদ্রাসাটির ভার পরে শিক্ষা বিভাগ গ্রহণ করে। কিছুদিন পর ইখওয়ানের মহিলা শাখা গঠন করা হয়। এর নাম রাখা হয় ‘আল আখাওয়াত আল মুসলিমাত’। ইখওয়ান কর্মীদের স্ত্রী, বোন, মেয়ে আর আত্মীয়স্বজনেরা এর সদস্য হন। হাসান এদের বলতেন, মুসলিম বোনদের গ্রুপ। মহিলাদের মধ্যে ইসলামী দাওয়াতের কাজ করার জন্য এই গ্রুপটি গঠিত হল।

স্কাউট গ্রুপ গঠন

প্রতিটি মুসলমানই মুজাহিদ। এদিকে ঈমান আনার পর তার ওপর নামাজ, রোজা, হজ্ব, জ্বাকাত যেমন ফরজ তেমনিই জেহাদও তার জন্য করনীয় কর্তব্য। হাসান এ সম্পর্কে কোরআন ও হাদিসে অনেক প্রমাণ দেখতে পেলেন তিনি দেখলেন, এজন্য রাসূল (স) এর একটি হাদিসই যথেষ্ট। হাদিসে আছে, যে ব্যক্তি এমন অবস্থায় মারা গেল যে সে জিহাদ করেনি আর মনে মনে জিহাদের নিয়তও করেনি সে ব্যক্তি জাহেলিয়াতের মৃত্যু বরণ করে।

ইখওয়ানের মধ্যে স্কাউট গ্রুপ করা হল। তারা শারীরিক ব্যয়ামের অনুশীলন শুরু করে। এর নাম রাখা হয় কিরআতুল রিসলাত বা ট্যুরিস্ট স্কাউট গ্রুপ।

শ্রমিক সমাজে ইখওয়ান

জাবাসাত এর কিছু শ্রমিক ইসমাঈলিয়ায় ইখওয়ানের বক্তৃতা শুনে মুগ্ধ হয়। তারা জাবাসাতে ফিরে গিয়ে শ্রমিকদের মধ্যে দাওয়াতের কাজ করতে থাকে। ফলে হাসানকে জাবাসাতে সফর যেতে হয়। সেখানকার শ্রমিকরা ইখওয়ানের সদস্য হ। এর কিছুদিন পর শ্রমিকরা সুয়েজ কোম্পানীর কাছে একটা মসজিদ নির্মানের দাবী জানায়। কারণ সেখানে মুসলমান শ্রমিকের সংখ্যা ৩ শতাধিক। কোম্পানী দাবী মেনে নিয়ে মসজিদ নির্মাণ করে। মসজিদে ইমামতির জন্য একজন লোক পাঠানোর জ্য ইসমাঈলিয়ায় হাসানের কাছে লোক পাঠানো হল। এ কাজের জন্য বিশিষ্ট আলেম মুহাম্মদ ফারগালীকে পাঠানো হল। তিনি তখন আল হেরা মাদ্রাসার শিক্ষক।

শায়খ ফারগালী জাবাসাত আল বালাহতে গিয়ে মসজিদের ইমম হলেন। তিনি শ্রমিকদের কাছে ইসলামের সত্যিকার রূপ তুলে ধরলেন। তিনি বললেন: মুসলমান হলে তার মধ্যে ঈমান থাকতে হবে। সে সঠিক ভাবে দায়িত্ব পালন করবে। আবার সঠিক ভাবে নামাজ রোজা ও অন্যান্য এবাদত করবে। মুসলমান আল্লাহকে ভয় করবে। আল্লাহর হুকুম সেঠিক ভাবে মেনে চলবে। শায়খ ফারগালীর কথা শুনে শ্রমিকদের মধ্যে বিপ্লব সৃষ্টি হল। এসব দেখে শুনে কোম্পানীর অফিসাররা ভয় পেলেন। তারা ভাবলেন, এ অবস্থা চলতে থাকলে একদিন শ্রমিকরা কোম্পানীর কর্তৃত্ব শায়খ ফারগালিকেই দিয়ে দেবে। এ কারণে তারা মসজিদে থেকে চলে যেতে বলল। কিন্তু তিনি তা মানলেন না। শেষে তারা হাসানের সাথে যোগাযোগ করলো। হাসান দু’মাস সময় নিলেন। পরে ইসমাঈলিয়া থেকে আরেক জন আলেম পাঠানো হল। তার নাম শায়খ শাফেয়ী আহমদ। তাকে দায়িত্ব দিয়ে শায়খ ফারগালি ইসমাঈলিয়ায় চলে এলেন।

খোদা ময়দানে ঈদের নামাজ আদায়

রমজানের রোজার দিনে হাসান আব্বাসী মসজিদে ফজরের নামাজের পর নামাজ রোজা ও রমজানের ফজিলত সম্পর্কে আলোচনা করেন। ঈদের নামাজ খোলা মাঠে আদায় করা উত্তম। এ ব্যাপারে ইসলামের সব ঈমাম একমত। তবে ইমাম শাফেয়ী বলেন, ঈদের নামাজ মসজিদে আদায় করা উত্তম। শর্ত হচ্ছে শহরের ভিতর এতবড় মসজিদ থাকতে হবে। যেখানে শহরের সব লোক একত্রে নামাজ পড়তে পারবে। হাসানের এসব কথা শুনে সকলেই বড় মাঠে ঈদের নামাজ আদায় করতে চাইলো। ইখওয়ানের বিরোধীরা এসব কথা জানতে পেরে নানান খারাপ কথা বলতে লাগলো। তারা বলল, খোলা মাঠে ঈদের নামায আদায় করা বেদয়াত। এটা মসজিদকে উজাড় করার সমতুল্য। কেউ কেই বললো, এটা ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধ। কিন্তু ইখওয়ানদের পেছনে সাধারণ সমর্থন বেশী। ফলে সকলেই মিলে ঠিক করলো খোলা মাঠে ঈদের নামাজ আদায় করা হবে। হাসান প্রত্যেক ঈদ কায়রো গিয়ে পরিবার পরিজনের সাথে ঈদ করেন। সে কারণে তিনি এবারও কায়রো গেলেন। ইখওয়ানরা আল্লাহর রাসূলের সুন্নত জিন্দা করার জন্য খোলা মাঠে ঈদের নামাজের ব্যবস্থা করলেন। এতে আরাইশ মসজিদের ইমাম শায়খ মুহাম্মদ মাদইয়াদ ঈদের নামাজ পড়ান। নবীজির পাক সুন্নত জিন্দা হওয়ায় সবাই খুশী। হাসান কায়রো থেকে ফিরে এসে সবাইকে হাসিখুশী দেখতে পেলেন। এরপর থেকে ইসমাঈলিয়ায় ঈদের নামাজ খোলা ময়দানে আদায় করা হতে থাকে।

সোনা রূপার পাত্রে পানাহার

রমজানের এক রাতে হাসান ইসমাঈলিয়ার শরীয়তি কাজীর বাড়ীতে গেলেন। সেখানে তখন পুলিশ ইন্সপেক্টর, সিভিল জজ, স্কুলের প্রধান শিক্ষক, শিক্ষা বিভাগের ইন্সপেক্টর, সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবী ও আইনজীবীসহ শহরের গনমাণ্য লেঅকেরা ছিলেন। আলাপ-আলোচনার আসর বেশ জমে উঠেছে। এ সময় কাজী সাহেব চা আনতে বললেন। সঙ্গে সঙ্গে চা এল। হাসান ভাল করে দেখেন চায়ের পাত্র গুলো রূপার তৈরী। কিন্তু ইসলামে রূপা ও সোনার পাত্রে খাবার খাওয়া নিষিদ্ধ। কাজেই খাদেম যখন হাসানের কাছে রূপার পাত্রে চা নিয়ে এল তিনি তা নিলেন না। তিনি তাকে বলনে,

-কাঁচের পাত্রে আমার জন্য চা আন।

কাজী সাহবেও একথা শুনে ফেললেন। তিনি মৃদু হেবে বললেন,

-মনে হয় আপনি রূপার পাত্রে চা পান করবেন না?

-জ্বী হ্যাঁ। সব চে’বড় কথা আমরা এখন শরয়ী কাজীর বাসায় রয়েছি।

-দেখুন এই রূপার পাত্র ব্যবহার করা জায়েজ হবে কি না জায়েজ হবে সে ব্যাপারে মতভেদ আছে। এ নিয়ে অনেক বিতর্ক হয়েছে। আর ইসলামের সব বিধান কি আমরা মেনে চলছি?

-না, তা পারছি না।

-তবে এ বিষয়ে কেন কড়াকড়ি করবো?

এ বিষয়ে মতভেদ আছে। কিন্তু রূপার পাত্রে পানাহার করা সম্পর্কে যে বিধান আছে সে ব্যাপারে সবাই একমত। এ ব্যাপারে যে হাদিস আছে তা’ সর্ববাদী সম্মত।

-হাদিসটি একটু বলুন।

-মহানবী (স) বনে, তোমরা সোনা আর রূপা পাত্রে খাবেনা ও তাতে  পান করবে না। আরেকটি হাদিসে বলা হয়েছে, যে লোক সোনা-রূপার পাত্রে পানাহার করে সে পেটে জাহান্নামের আগুন ঢুকায়। সকলেই মনযোগের সাথে হাসানের কথা শুনছিলেন। কেউ কেউ বলতে চাইলেন,

-যেহেতু এসব বিষয়ে মতভেদ রয়েছে, কাজেই রূপার পাত্রে চা পানে আপত্তি করা ঠিক নয়।

এ সময় সিভিল জজ সাহেব কিছু বলতে  চাইলে। তাকে কথা বলতে দেখে অন্যান্য লোকেরা চুপ হয়ে গেলেন। তিনি কাজী সাহবেকে বললেন,

-এ বিষয়ে যখন মহানবীর হাদিস রয়েছে, তখন তা অবশ্যই পালন করতে হবে।

হাসান একথা শুনে খুশী হলেন। তিনি লক্ষ্য করলেন জজ সাহেবের আঙ্গুলে সোনার আংটি। তিনি তার দিকে তাকিয়ে বললৈন,

-ভালই হল বিষয়টির ফয়সালা আপনিই করে দিলে। এখন জনাব আরেকটি কথা।

-কি কথা বলুন।

-আপনার আঙ্গুলে সোনার আংটি। মহানবী পুরুষদের সোনার জিনিস ব্যবহার করতে মানা করেছেন। সোনার জিনিস পরা শুধু মাত্র মেয়েদের জন্য জায়েজ।

হাসানের কথা শুনে জজ সাহেব হেসে ফেলেন। তিনি বললেন,

-দেখুন আমরা মামলার রাইদেই নেপোলিয়ান কোড অনুযায়ী। আর কাজী সাহেব ফয়সালা করেন কিতাব ও সুন্নাহ অনুযায়ী। কাজেই আপনি আমাকে মাফ করুন। আর কাজী সাহেবকে ধরুন।

-ইসলামী আইন সব মুসলমানের জন্যই এসেছে। আপর আপনি মুসলমান। কাজেই নির্দেশটি আপনার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

-ঠিক আছে। আমি আংটি খুলে ফেলছি।

আসরটি বেশ জমজমাট হয়ে ওঠছিল। এতে সকলেই অংশ গ্রহণ করেন। সব বিষয়ে খোলাখুলি ভাবে যুক্তিতর্ক দিয়ে আলোচনা হল। পরে এসব বিষয়ে সাধারণ জনগনের কানে এল। তারা হাসানের সাহস এবং সর্বক্ষেত্রে সৎকাজের আদেশ আর খারাপ কাজ থেমে মানুষকে ফিরিয়ে রাখার প্রচেষ্টায় খুশী হল। ইখওয়ানের প্রভাব মানুষের মধ্যে আরও বেড়ে গেল।

মিরাজ সম্পর্কে ইখওয়ান

হাসান এক মাহফিলে শবে মিরাজ সম্পর্কে একবার বক্তৃতা করেন। তিনি বলেন, মিরাজের সফর মহানবীর জন্য এক মহাসম্মান। ঐ পবিত্র রাতে তাঁর রূহ এমন এক স্তরে পৌঁছায় যখন তা’ নবীজীর ‍পুরাদেহের ওপর বিজয় লাভ করে। হাসান কবি শাওকির কবিতার উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, লোকেরা জিজ্ঞেস করে, তিন তো সব রাসূলদের সেরা রাসূল। তাঁর ইসরার সফর দেহযোগে হয়েছে না রূহ যোগে? সন্দেহ নেই যে, দেহ ও রূহ উভয় ভাবেই ছিল আগাগোড়া রূহ, রুহনিয়্যাত এবং আলো।

মাহফিলের লোকজন হাসানের বক্তৃতা শুনে খুশী হয়। কিন্তু কিছু খারাপ লোক তার এ বক্তৃতা নিয়ে আজে বাজে কথা বলতে থাকেন। তারা বললো, ইখওয়ানরা মিরাজ মানে না। তারা বলে, এ ঘটনা মুজিজা নয়। মিরাজ হয়েছিল শুধু আত্মিকভাবে, দৈহিকভাবেনয়। ইখওয়ানের এ ধরনের আকীদা ভুল। কোন ইমাম এরকম আকীদা পোষণ করেননি।

ইখওয়ানের সদস্যরা এসব অপপ্রচারের জবাব দিতে চাইলেন। কিন্তু হাসান মানা করলেন। তিনি পরামর্শ দিলেন আরেকটি মাহফিল করতে হবে। সেখানে মহানবীর শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে আলোচনা হবে। মাহফিল হল। হাসান লোকজনের সামনে মহানবীর শ্রেষ্ঠত্ব স্পর্কে আলোচনা করলেন। তিনি বললে, মহানবী দৈহিক দিকে যেমন শ্রেষ্ঠ, নৈতিক দিক থেকেও শ্রেষ্ট, আত্মিক দিক থেকেও শ্রেষ্ঠ। আল্লাহর কাছে দুনিয়া ও আখেরাতে তার কত বড় মর্যাদা, সে সম্পর্কেও হাসান আলোচনা করেন। এ বক্তৃতার ফলে সকল মিথ্যা প্রচারের ফানুস চুপসে গেল। আর কেউ এ ব্যাপারে মুখ খুলতে পারল না।

হাসানের বিরুদ্ধে এক মাওলানা সাহেবের অভিযোগ

একবার দু’জন ইখওয়ান সদস্য হাসানের কাছে ছুটে এলেন। তারা হাসানকে বললেণ,

-আমাদের নামে বদনাম ছড়ানো হচ্ছে।

-তাতে ঘাবড়ানোর কিছু নেই।

-ক্তিু এতো বড় মারাত্মক ধরনের কথা হচ্ছে যে আমরা স্থির থাকতে পারছি না।

-যতবড় খারাপ কথাই বলা হোক না কেন মিথ্যা কখনই সত্য হবে না।

-আপানি যদি তাদের কথা শুনতেন তবে-

-যারা ইসলামের সহজ সরল পথে মানুষকে ডাকেতাদের নানান অভিযোগের সম্মুখীন হতে হয়। এ ব্যাপারে কোরআনের আয়অত রয়েছে।

-কোরআনের আয়াতও এ ব্যাপারে রয়েছে? কোন আয়াত দয়া করে একটু বলুন।

-সূরা আল ইমরানের ১৮৬ নং আয়অতে আল্লাহ বলেন, ধন সম্পদ আর জন সম্পদে অবশ্যই তোমাদের পরীক্ষা হবে এবং পূর্ববর্তী আহলে কিতাব আর মুশরিকদের কাছ থেকেতোমাদের শুনতে হবে অনেক অশোভন উক্তি। আর তোমরা যদি ধৈর্য্য ধর এবং তাকওয়া অবলম্বন কর তবে তা হবে একান্ত সাহসের কাজ।

-সব কিছই বুঝলাম। কিন্তু এখন যেসব কথা ছড়ানো হচ্ছে তা শুনে আমরা চুপ থাকতে পারছি না।

-কি সে সব কথা?

-কি সে সব কথা?

-আপনি ওয়াজে আমাদেরকে শেখাচ্ছেন যে আল্লাহকে বাদ দিয়ে আমরা যেন আপনার ইবাদাত করি। আপনি বলছেন, ইখওয়ানদের বিশ্বাস করতে হবে,  হাসান মানুষ নন, তিনি নবী, ওলী বা পীরও নন। তিনি খোদা। তাকে পূজা করতে হবে।

-কে এসব কথা ছড়াচ্ছে?

-তিনি একজন আলেম। একটি ধর্মীয় পদেও তিন দায়িত্ব পালন করছেন।

-তিনি এসব কথা কি নিজেই তৈরী করছেন?

-তিনি বলছেন আপনি নাকি এসব কথা বলেছৈন। তাই তিনি সকলকে সে কথা শোনাচ্ছেন।

হাসান তাদের সাথে আর কোন কথা বললেন না। তিনি ঐ মাওলানা সাহবের দু’জন বন্ধুকে সাথে নিয়ে তার বাসায় গেলেন। মাওলানা সাহেব হাসানকে দেখে ঘাবড়ে গেলেন। তার চেহারা ফ্যাকাসে হয়ে গেল। হাসান তাকে অভিযোগ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। কিন্তু মাওলানা সাহেব তার কথার সঠিক জবাব দিতে পারলেন না। আসলে হাসানের প্রতি মানুষের ভক্তি আর ভালবাসা দেখে তার হিংসা হয়েছিল। এ কারণে তাকে ছোট করার জন্য মাওলানা সাহেব এরকম মিথ্যা কথা ছড়াচ্ছিলেন। সব কথা শুনে সেই মাওলানা সাহেবের বন্ধু দু’জনতো মহা ক্ষেপে গেলেন। তারা তো গায়ে হাত তুলতে যাচ্ছিলেন। কিন্তু হাসান বাধা দিলেন।

শেষে ঠিক হল একটা আলোচনা সভা হবে সেখানে ঐ মাওলানা সাহেব তার ভুল স্বীকার করবেন। বাঁচার আর কোন উপায় না দেখে মাওলানা সাহেব তাতেই রাজী হলেন। এভাবেই এ অভিযোগের ইতি ঘটলো।

এক মাওলানা সাহেবের কাহিনী

ইখওয়ানের বিদ্যালয়ে উচ্চ শিক্ষিত ও ভাল ডিগ্রি প্রাপ্ত শিক্ষক নেয়া হয়। তারা ইখওয়ানের সদস্যদের মত ভাল লোক ছিলেন না। তারেদ অনেকের মধ্যে সম্পদ বাড়াবার আর উঁচুপদ লাভের লোভ ছিল। কিন্তু তাদের চেয়ে যে আরো যোগ্য লোক থাকতে পারে এটা তারা বুঝতে চাননি। এ রকম একজন লোক ছিলেন একজন মাওলানা সাহেব। তিনি ভাল সাহিত্যিক ও ভাল বক্তা ছিলেন। তাকে আল হেরা স্কুলের শিক্ষুক নিযুক্ত করা হয়। ইখওয়ান মসজদে কোরআন হাদিসের শিক্ষা নিয়ে আলোচনা করতেন। প্রত্যেকেই তাকে সম্মান করে। তিনি নিজেকে ইসমাঈলিয়ার ইখওয়ান প্রধান হবার কথা ভাবতেন।

হাসান সরাকরী স্কুলের শিক্ষক। যেকোন সময় তাকে বদলি করা হতে পারে। এদিকে ইসমাঈলিয়ায় তার ৪ বছর কেটে গেছে। সেই মাওলানা সাহেব ভুলে গেলেন যে তিনি নিজেও একজন শিক্ষক। বদলি বা চাকুরী হারানোর সম্ভাবনা তারও রয়েছে। তিনি নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার প্রমাণ দেখাতে পারেননি। বরং ইখওয়ানের কর্মপরিষদের কোন কোন সদস্যের সাথে ভালবাসার সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করেন। যাতে তারা তাকে সমর্থন করেন। হাসান ইসমাঈলিয়ার ইখওয়ান প্রধান পদে শায়খ আলী আল জাদাদির নাম প্রস্তাব করেন। তিনি সবদিক থেকে উত্তম লোক। তিনি প্রথম দিককার ইখওয়ান। হাসানের গৃহীত হলো। সকলেই তা মেনে নিলেও ঐ মাওলানা সাহেব তা মেনে নিলেন না। তিনি তার সমর্থকদের নিয়ে এর বিরোধিতা শুরু করেন। ইখওয়ানের মসজিদ নির্মাণে অনেক টাকা ব্যয় হয়। তখনও ৫০ পাউন্ড শোধ করা হয়নি। মাওলানা সাহেবের সমর্থকরা প্রচার করলেন হাসান এই ঋণের বোঝা রেখেই ইসমাঈলিয়া ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। কে ইই ঋণ শোধ করবে? হাসান এসব শুনে সবাইকে ডেকে ৫০ পাউন্ড শোধ করে দিলেন। এরপরেও বিরোধীদের মুখ বন্ধ হল না। তারা কিছু কাল্পনিক অভিযোগ ছাপিয়ে বিলি করলো। ইখওয়ানের পক্ষ থেকে তার জবাব দেয়া হয়। সাধারণ মানুষ এ ব্যাপারে আগ্রহী হয়ে উঠে। ফলে ইখওয়ানের কাজ আরও বেড়ে গেল।

হাসান একদিন ফজরের নামাজের আগে মসজিদে আসছিলেন। সে সময় সেই মাওলানা সাহেবকে দেখলেন তার বাসায় আরো কয়েকজনকে নিয়ে বসে আছেন। তারা কি যেন গোপন আলোচনা করছেন। হাসানের বিরুদ্ধে কি কি কাজ করতে হবে মাওলানা সাহেব সে সব পরামর্শ দিচ্ছিলেন। রাস্তায় দাঁড়িয়ে হাসান তা শুনে বুঝতে পারলেন সব কিছু। তিনি সেই দিনই সেই মাওলানা সাহেবকে ডাকলেন। তার গোপন মিটিং এর কথা বললেন। শেষে সেই মাওলানা সাহেব আল হেরার চাকুরী ছেড়ে দিলেন। কিন্তু তিনি ও তার সমর্থখরা আরেকটি বিদ্যালয় করার ঘোষণা দিলেন। শেষ পর্যন্ত তা আর হয়নি। এ দিকে মাওলানা সাহেব হাসানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করলেন। হাসানের নামে সমন এল। তিনি ইখওয়ানের সাথে যতদিন ছিলেন তার জন্য বেতন দাবী করলেন। হাসান তা’ দিরে রাজী হলেন। কিন্তু মাওলানা সাহেব আবার ইখওয়ানের কাছ থেকে অনেক টাকা পয়সা নিয়েছিলেন। হাসান আদালতে তার প্রমাণ দেখালেন ফলে বিচারক মামলা খারিজ করে দেন। মামলার খরচ মাওলানা সাহেবকে দেয়ার নির্দেশ দেন।

হাসানের বিয়ে

ইসমাঈলিয়ায় হাসান ৬ বছর ছিলেন। সেখানকার লোকজন তাকে খুবই ভালবাসতো। তাদের সুখ ও দুঃখের সময় তারা হাসানের কাছে যেতেন। তিনি সেখানকার সকলেরই আপনজ হয়ে ওঠেন। সেখানকার একজন ভাল লোক ছিলেন আলহাজ্ব হোসাইন ছুফী। হাসানের দাওয়াত আখলাকে মুগ্ধ হয়ে তিনি হাসানের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক স্থাপন করেন। বিভিন্ন কাজে তিনি হাসানের সাহায্য সহায়তা করতেন। তাঁর সন্তানরাও ছিল হাসানের ভক্ত। তিনি হাসানের সাথে নিজের মেয়ে লতিফাকে বিয়ে দিতে চাইলেন। পয়লা রমজান বিয়ে ঠিক হয়। ১৯৩২ সালে মসজিদে হাসানের বিয়ে হয়। সেটা ছিল ২৭ রমজান শবে কদর। বিয়ে সহজ সরল ও সাদাসিধে ভাবে হল। এজন্য কোন জাঁকজমক করা হয়নি। জিলকদ মাসের ১০ তারিখে হাসান স্ত্রীকে ঘরে তোলেন। স্ত্রী লতিফা খুবই পরহেজগার মহিলা। তিনি হাসানের যোগ্য স্ত্রী। নেককার এই মহিলা সুখ-দুঃখে সকল অবস্থায় হাসানের সাথে ছিলেন। অভাব অনটনের সংসারে থেকেও তিনি কখনো সেজন্য দুঃখ করতেন না। হাসানের মত তিনি অল্পতেই খুশী থাকতেন। তাঁদের ৫ মেয়ে আর এক ছেলে হয়। মেয়েদের নাম- সানা, ওফা, রাজা, হাজেরা ও ইসতিশহাদ এবং ছেলের নাম আহমদ সাইফুল ইসলাম।

About নূর মোহাম্মদ মল্লিক