স্বামী স্ত্রীর অধিকার

Slide1

স্বামী স্ত্রীর অধিকার

সাইয়েদ আবুল আ’লা মওদূদী


স্ক্যান কপি ডাউনলোড

চলমান পেজের সূচীপত্র

আমাদের কথা

আল্লামা সাইয়েদ আবুল আ’লা মওদূদী র. ইসলামী জীবন ব্যবস্থাকে পুনরায় তার প্রকৃত রূপ ও চিত্রসহ আধুনিক বিশ্বের নিকট তুলে ধরেছেন, যা বিগত কয়েক শতাব্দী থেকে চাপা পড়েছিল। পরিবার, সমাজ ও রাষ্টীয় কাঠামো নির্মাণে ইসলামী শরীয়াতের সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা তিনি পেশ করে গেছেন।

বর্তমান গ্রন্হটিতে তিনি ইসলামের দাম্পত্য বিধান তুলে ধরেছেন। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনগ্রন্হ। এসব বিধান অবগত হওয়া প্রত্যেক মুসলমানের জন্যই জরুরী।

ঢাকাস্থ সাইয়েদ আবুল আ’লা মওদূদী রিসার্চ একাডেমী আল্লামার সবগুলো গ্রন্হই বাংলা ভাষায় পাঠকদের সামনে হাযির করার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। মাওলাকার ‘হুকূকুয যাওযাইন’ গ্রন্হটি আমরা ‘স্বামী-স্ত্রীর অধিকার’ নাম দিয়ে বাংলা ভাষায় পাঠকদের সামনে পেশ করতে পারায় আল্লাহ তা’আলার শোকরিয়া আদায় করছি।

এ গ্রন্হের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে ইসলামের দাম্পত্য বিধান উপলব্ধির তাওফীক দিন। আমীন।

আবদুস শহীদ নাসিম

ডিরেকটর

সাইয়েদ আবুল আ’লা মওদূদী

রিসার্চ একাডেমী, ঢাকা।

ভূমিকা

১৯৩৩/৩৪ সালের কথা। হায়দারাবাদ, ভূপাল এবং বৃটিশ ভারতে খুব জোরেশোরে এ প্রশ্ন উত্থাপিত হলো যে, বর্তমান প্রচলিত আইনের ক্রটির কারণে দাম্পত্য জীবনের ক্ষেত্রে যে বিপর্যয় সৃষ্টি হচ্ছে তা দূর করার জন্য এবং ইসলামী শরীয়াতের নির্দেশসমূহকে সঠিক পন্হায় কার্যকর করার জন্য কোন ফলপ্রসূ প্রচেষ্টা চালানো দরকার। সুতরাং এ বিষয়টি সামনে রেখে ভারতের বিভিন্ন এলাকায় আইনের খসড়াসমূহ প্রণীত হতে থাকে এবং কয়েক বছর যাবত এর প্রতিধ্বনি শোনা যায়। এ সময়ে আমি অনুভব করি, বিষয়টির এমন অনেক গুরুত্বপূর্ণ দিক রয়েছে, যার প্রতি যথাযথ দৃষ্টি দেয়া হচ্ছে না। সুতরাং আমি হিজরী ১৩৫৪ (১৯৩৫ খৃ.) সনে ********* (স্বামী-স্ত্রীর অধিকার) শিরোনামে ‘তরজমানুল কুরআন’ পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে একটি দীর্ঘ প্রবন্ধ লিখি। এ প্রবন্ধে ইসলামের দাম্পত্য আইনের প্রাণসত্তা ও এবং এর মূলনীতি বিশদভাবে বর্ণনা করার সাথে সাথে কুরআন-হাদীসে আমরা স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক সম্পর্কের সংশোধন ও পরিমার্জনের জন্য যেসব নির্দেশ পাই, তাও বিশ্লেষণ করি। মুসলমানদের বর্তমান আইনগত সমস্যাসমূহের সঠিক পদ্ধতিতে সমাধান করার জন্য আমি কতকগুলো পরামর্শও পেশ করি। এ ধারাবাহিক প্রবন্ধটি মূলত আলেম সমাজের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য পেশ করি। এ ধারাবাহিক প্রবন্ধটি মূলত আলেম সমাজের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য লেখা হয়েছিল। কিন্তু আলোচনায় এমন কতকগুলো বিষয়ও এসে গেছে যা সাধারণ পাঠকেরও উপকারে আসবে। বিশেষ করে যেসব লোক আমার ‘পর্দা’ গ্রন্হ অধ্যয়ন করেছেন, তাঁরা স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক সদৃঢ় করার জন্য যেসব বিধি-নিষেধ রয়েছে, সে সম্পর্কে অবহিত হওয়ার প্রয়োজন অনুভব করবেন এবং ইসলামের সমাজ ব্যবস্থা পূর্ণরূপে বুঝতে সক্ষম হবেন। এ প্রয়োজনকে সামনে রেখে এ ধারাবাহিক প্রবন্ধের সাথে আরো কিছু জরুরী বিষয় যোগ করে এখন তা পুস্তকাকারে প্রকাশ করা হচ্ছে।

 

২৮ সফর, ১৩৬২

মার্চ, ১৯৪৩

আবুল আ’লা

উর্দু কিতাবের চতুর্থ সংস্করণের ভূমিকা

সতের বছর পূর্বে এ পুস্তক একটি ধারাবাকি প্রবন্ধের আকারে প্রকাশিত হয়েছি। গত দশ বছর যাবত তা পুস্তকাকারে প্রকাশিত হয়ে আসছে। যদিও প্রথম দিনই একথা পরিস্কারভাবে বলে দেয়া হয়েছিল যে, এ প্রবন্ধের হানাফী ফিকাহের অন্তর্গত দাম্পত্য আইনের সংশোধনের জন্য যেসব পরামর্শ দেয়া হয়েছে- তা ফতোয়ার আকারে নয়, বরং এগুলো পরামর্শের আকারে আলেম সমাজের সামনে এ উদ্দেশ্যে পেশ করা হয়েছিল যে, তাঁরা যদি এগুলোকে শরয়ী ও বুদ্ধিবৃত্তিক দলীল-প্রমাণের ভিত্তিতে সঠিক মনে করেন তাহলে সেই অনুযায়ী ফতোয়ার মধ্যেও পরিবর্তন আনবেন। কিন্তু এ সত্ত্বেও প্রথম দিন থেকে আজ পর্যন্ত এ পরামর্শের ওপর গভীরভাবে চিন্তাও করা হয়নি, আর কেউ এর ওপর জ্ঞানগর্ভ পর্যালোচনা করার কষ্টও স্বীকার করেননি। অবশ্য এটাকে আগেও আমার সম্পর্কে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল এবং এখনো তাই করা হচ্ছে।

এখন পুনর্বার অধ্যয়ন করার সময় অনেক ক্ষেত্রে আংশিক সংশোধনের সাথে সাথে আমি এর দুটি আলোচনার সাথে অপেক্ষাকৃত অধিক শক্তিশালী দলীল-প্রমাণ সংযোজন করে দিয়েছি। পূর্বে তা এতটা শক্তিশালী দলীল সহকারে পেশ করা হয়ীন। বিষয় দুটি হচ্ছে, ‘ঈলা’ এবং বিলায়েতে আজবার’ (অভিভাবকের ক্ষমতা প্রয়োগ)। অবশিষ্ট কোন কোন ব্যাপারে বিরুদ্ধবাদীদের অপবাদ সত্ত্বেও আমি কোন পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করিনি।

১৭ রমযান, ১৩৭১

১১ জুন, ১৯৫২

আবুল আ’লা

সূচীপত্র

সূচনা

দাম্পত্য আইনের লক্ষ্য উদ্দেশ্য

নৈতিক চরিত্র ও সতীত্বের হেফাযত

ভালোবাসা ও আন্তরিকতা

অমুসলিমদের সাথে দাম্পত্য সম্পর্ক স্থাপনের কুফল

কুফু প্রসংস

আইনের মূলনীতিঃ প্রথম মূলনীতি

পুরুষের দায়িত্ব ও কর্তব্য

ক্ষতি সাধন ও সীমলংঘন

স্ত্রীদের মধ্যে ইনসাফ না করা

পুরুষের অধিকারসমূহ

১. গোপনীয় বিষয়সমূহের হেফাযত করা

২. স্বামীর আনুগত্য

পুরুষের ক্ষমতাসমূহ

১. উপদেশ, সদাচরণ ও শাসন

২. তালাক

দ্বিতীয় মূলনীতি

তালাক ও এর শর্তসমূহ

খোলা

হিজরী প্রথম শতকের খোলার দৃষ্টান্তসমূহ

খোলার বিধান

খোলার মাসয়ালায় একটি মৌলিক গলদ

খোলার ব্যাপারে কাযীর এখতিয়ার

শরীয়তী বিচার ব্যবস্থা

শরীয়াতের বিচার ব্যবস্থা সম্পর্কে কয়েকটি মৌলিক কথা

বিচারের জন্য সর্বপ্রথম শর্ত

বিচার ব্যবস্থার ক্ষেত্রে ইজতিহাদের প্রয়োজনীয়তা

ভারতীয় উপমহাদেশে শরীয়াত ভিত্তিক বিচার ব্যবস্থা না থাকার কুফল

সংস্কারের পথে প্রথম পদক্ষেপ

আইনের একটি নতুন সংবিধানের প্রয়োজনীয়তা

মৌলিক পথনির্দেশ

প্রাসংগিক মাসয়ালাসমূহ

১. স্বামী-স্ত্রী যে কোন একজনের ধর্মচ্যুতি

২. প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষমতা প্রয়োগ

৩. অভিভাবকদের জোর-জবরদস্তি

৪. প্রাপ্তবয়স্কার কর্তৃত্ব প্রয়োজ শর্ত সাপেক্ষ

৫. দেন মোহর

৬. স্ত্রীর ভরণ-পোষণ

৭. অবৈধভাবে নির্যাতন করা

৮. সালিস নিয়োগ

৯. দোষ প্রমাণে বিবাহ রদ (ফাসখ) করার ক্ষতি

১০. নপুংসক লিঙ্গ কর্তিত ইত্যাদি

১১. উন্মাদ বা পাগল

১২. নিখোঁজ স্বামীর প্রসংগ

১৩. নিখোঁজ ব্যক্তি সম্পর্কে মালেকী মাযহাবের আইন

১৪. নিরুদ্দেশ ব্যক্তি ফিরে এলে তার বিধান

১৫. লি’আন

একই সময় তিন তালাক দেয়া

শেষ কথা

পরিশিষ্ট

পরিশিষ্ট

পাশ্চাত্য সমাজে তালাক ও বিচ্ছেদের আইন

 

About শিবির অনলাইন লাইব্রেরী