ইসলামী শাসনতন্ত্র প্রণয়ন

Slide1

ইসলামী শাসনতন্ত্র প্রণয়ন

সাইয়েদ আবুল আ’লা মওদূদী

অনুবাদ: মুহাম্মাদ আবদুর রহীম


স্ক্যান কপি ডাউনলোড

বিসমিল্লাহির রাহমানীর রাহীম

ভদ্র মণ্ডলী!

করাচী বার এসোসিয়েশনের সভাপতি এবং সম্পাদক এরূপ এক উচ্চ শিক্ষিত ও বিদগ্ধ জনসম্মেলনে আমাকে নিজের বক্তব্য প্রকাশ করার মূল্যবান সুযোগ করে দিয়েছেন, সে জন্য আমি তাঁদের কাছে কৃতজ্ঞ। আজকের এই সম্মেলনে আমাদের জাতির শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিগণ (Cream of Society) সমবেত হয়েছে। এদের মধ্য হতে একজনকেও আমার মত ও আদর্শের সমর্থক করে নিতে পারলে তার গুরুত্ব এবং প্রভাব শত-সহস্র ব্যক্তিকে সমর্থন করা অপেক্ষা অনেক বেশী এবং সুদূর প্রসারী। এই সুবর্ণ সুযোগের গুরুত্ব আমি হৃদয় মন দিয়ে অনুভব করছি। অতএব এটাকে সুফলপ্রদ কাজে নিযুক্ত করতে আমি বিশেষভাবে যত্নবান হবো- ইনশাআল্লাহ।

বস্তুত এখানে কোন দীর্ঘ ও বিস্তারিত বক্তৃতা করা আমার উদ্দেশ্য নয়। কারণ আজকের এই সম্মেলন মূলত একটি আলোচনা বৈঠক মাত্র। ইসলামী শাসনতন্ত্র সম্পর্কে আলাপ-আলোচনা এবং চিন্তা ও মতের আদান-প্রদান করার উদ্দেশ্যেই এটা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু বিষয়টি যেহেতু অত্যন্ত জটিল ও অভিনব, কাজেই প্রাথমিক আলোচনা হিসেবে কয়েকটি জরুরী কথা না বললে আলোচনা ব্যাপদেশে এমন সব বিতর্কের উদ্ভব হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে যাকে সুস্পষ্ট করে তুলবার জন্য তখন একটি বক্তৃতার প্রয়োজন হতে পারে। এজন্যই সর্বপ্রথম আমি কয়েকটি নীতিগত কথার বিশ্লেষণ করতে চাই। তারপর এই প্রসংগে যে কোন প্রশ্নই উত্থাপন করা হবে, তার যথাযথ জবাবও দেয়া হবে।

বিষয়বস্তুর স্বরূপ

আমরা এখন যে বিষয়টির আলোচনা করতে যাচ্ছি, পূর্বাহ্নেই এর প্রকৃত স্বরূপ সম্যকরূপে অনুধাবন করে নেয়া একান্ত আবশ্যক। আমরা যখন এদেশে ইসলামী শাসনতন্ত্র দাবী করি, তখন তার দ্বারা একথা বুঝায় না যে, ইসলামী শাসনতন্ত্র কোথায়ও বিরচিত ও লিখিত হয়ে বর্তমান আছে, এখন এটাকে জারী করার দাবী উত্থাপিত হয়েছে মাত্র। বস্তুতপক্ষে আমাদের যাবতীয় চেষ্টা যত্নের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে এক ‘অলিখিত শাসনতন্ত্র’ (Unwrittent Conditions)-কে লিখিত শাসনতন্ত্র (Written Constitution) পরিবর্তিত করা। ইসলামী শাসনতন্ত্র আসলে এক অলিখিত শাসনতন্ত্র, এর কয়েকটি নির্দিষ্ট উৎস রয়েছে। সেই উৎসসমূহ হতে নিজেদের দেশের অব্যবস্থা ও প্রয়োজনের দৃষ্টিতে এক লিখিত শাসনতন্ত্র রচনা করাই এই ব্যাপারে আমাদের একমাত্র লক্ষ্য।

অলিখিত শাসনতন্ত্র দুনিয়াতে কোন অভিনব বা দৃষ্টান্তহীন ব্যাপার নয়। অষ্টাদশ শতাব্দী পর্যন্ত দুনিয়ার সকল দেশের রাষ্ট্র ব্যবস্থা অলিখিত শাসনতন্ত্রের ভিত্তিতেই চলছি। বর্তমান সময় দুনিয়ার এক অন্যতম শ্রেষ্ঠ রাষ্ট্র- বৃটিশ সাম্রাজ্য- লিখিত শাসনতন্ত্র ছাড়াই  চলছে। ইংল্যাণ্ডের শাসতন্ত্র যদি কখনও লিপিবদ্ধ করার প্রয়োজন হয়, তখন অনিবার্যরূপে সেটাকে তার অলিখিত বিভিন্ন শাসনতান্তিক উৎস হতে তথ্য সংগ্রহ করে সেটাকে তার অলিখিত বিভিন্ন শাসনতান্ত্রিক উৎস হতে তথ্য সংগ্রহ করে শাসনতন্ত্রের ধারাসমূহ শ্রেণীবদ্ধ করতে হবে।সত্য কথা এই যে, আমাদেরকেও- সেই কাজই সুসংবদ্ধভাবে সম্পন্ন করতে হবে।

ইসলামী শাসনতন্ত্রের উৎস

ইসলামের অলিখিত শাসনতন্ত্রের উৎস চারটি

এক: কুরআন মজীদ- সর্বপ্রথম উৎস হচ্ছে কুরআন মজীদ। এতে আল্লাহ তা’য়ালার হুকুম-আহকাম ও বিধি-নিষেধ লিখিত রয়েছে। কুরআনে উল্লিখিত এ বিধি-বিধান গোটা মানবজাতিহর সমগ্র জীবনের (Social Life) প্রত্যেক দিক ও বিভাগের সংশোধন ও সংগঠনের মূলনীতি ও চিরন্তন ব্যবস্থা তাদের প্রয়োজনানুসারে দেয়া হয়েছে। মুসলমানগণ তাদের রাষ্ট্র ও সরকার কোন্‌ নিয়ম-বিধান এবং কোন্‌ লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অনুসারে স্থাপিত করবে তাও কুরআন মজীদে সুস্পষ্টরূপে বলে দেয়া হয়েছে।

দুই: সুন্নাতে রাসূল- ইসলামী শাসনতন্ত্র দ্বিতীয় উৎস হচ্ছে রাসূলুল্লাহর সুন্নাত। শেষ নবী হযরত মুহাম্মাদ (সা) কুরআন মজীদের বিধি-নির্দেশ এবং এর উপস্থাপিত মূলনীতিসমূহকে আরবের সরযমীনে কিরূপে বাস্তবায়িত করেছিলেন, ইসলামকে কল্পনা ও আদর্শবাদের স্তর হতে টেনে বাস্তবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন, ইসলামের পরিকল্পনার উপর একটি আদর্শ সমাজ তিনি কিরূপে গঠন করেছিলেন, অতপর সেই সমাজকে সুসংবদ্ধ ও সুসংগঠিত করে কিভাবে একটি রাষ্ট্রের রূপ দিয়েছিলেন এবং সেই রাষ্ট্রের বিভিন্ন বিভাগসমূহ কিভাবে পরিচালিত করেছিলেন- ইসলামী জীবন ও রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা প্রসংগে এসব গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের সুনির্দিষ্ট ও নিশ্চিত জবাব পেতে হলে “সুন্নাতে রাসূল” ভিন্ন অন্য কোন উপায় নেই। এমনকি কুরআন মজীদের প্রকৃত লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য কি, তা সঠিকরূপে জানার একমাত্র উপায় হচ্ছে “সুন্নাতে রাসূল”। বস্তুত “সুন্নাতে রাসূল” হচ্ছে কুরআন মজীদের উপস্থাপিত নীতিসমূহের বাস্তবায়ন (Application)। তা হতে ইসলামী শাসনতন্ত্র সম্পর্কে অত্যন্ত মূল্যবান দৃষ্টান্ত ও তুলনা (Precedents) লাভ করা যায়- শাসনতান্ত্রিক ঐতিহ্যের (Convention to the constitution) এক বিরাট ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গ্রহণ করা সম্ভব।

তিন: খিলাফতে রাশেদার কর্মধারা- ইসলামী শাসনতন্ত্রের তৃতীয় উৎস হচ্ছে খিলাফতে রাশেদার কর্মধারা, হযরত নবী করীম (সা)-এর পর খোলাফায়ে রাশেদীন যেভাবে ইসলামী রাষ্ট্র পরিচালনা করেছেন, তার বাস্তব উদাহরণ এবং ঐতিহ্যের বিস্তারিত বিবরণে হাদীস, ইতিহাস ও জীবনচরিতের বিরাট গ্রন্থসমূহ পরিপূর্ণ। এসব জিনিস বস্তুতই আমাদের জন্য অত্যুজ্জ্বল নিদর্শন সন্দেহ নেই। ধর্মীয় বিধি-নিষেধ ও নির্দেশ-উপদেশের যে ব্যাখ্যা সাহাবায়ে কিরাম সর্বসম্মতিক্রমে করেছেন- ইসলামের পরিভাষায় যাকে বলে ‘ইজমা’ এবং শাসনতান্ত্রিক ও আইন সংক্রান্ত ব্যাপরসমূহে খোলাফায়ে রাশেদীন সাহাবাদের সাথে পরামর্শ করার পর যে সিদ্ধান্ত করেছেন, দুনিয়ায় মুসলমানের জন্য তা অকাট্য যুক্তি বিশেষ এবং অপরিহার্যরূপে গ্রহণীয়। তাকে  যথাযথভাবেই সমর্থন করতে হবে। কারণ কোন ব্যাপারে সাহাবাদের মতৈক্য হওয়ার অর্থ েএই যে, তা-ই ইসলামী আইনের প্রামাণিক ব্যাখ্যা এবং বিশ্বস্ত কর্মপদ্ধতি। পক্ষান্তরে যে বিষয়ে তাঁদের মতবিরোধ সৃষ্টি হয়েছে, সেই বিষয়ে যে একাধিক ব্যাখ্যার অবকাশরয়েছে, এটা এই মতবিরোধ হতে পরিষ্কার প্রমাণিত হয়। কাজেই এসব বিষয়ে যুক্তি-প্রমাণের  সাহায্যে এদের মধ্য হতে বিশেষ একটি মত গ্রহণ করা যেতে পারে। কিন্তু যেখানে তাঁদের মধ্যে পরিপূর্ণ মতৈক্য হয়েছে, সেখানে তাঁদের সিদ্ধান্ত অনিবার্যরূপে একই ব্যাখ্যা এবং একই কর্মনীতিকে বিশুদ্ধ ও প্রমাণসহ উপস্থিত করে। কারণ তাঁরা হযরত নবী করীম(সা)-এর ব্যক্তিগত  ছাত্র এবং তাঁর নিকট সরাসরিভাবে দীক্ষাপ্রাপ্ত ছিলেন। কাজেই তাঁদের সকলেরই সমবেতভাবে ভুল করা কিংবা দ্বীন ইসলামকে বুঝার ও হৃদয়ংগম করার ব্যাপারে সঠিক পথ হতে বিচ্যুত হওয়া কোন মতেই সমর্থনযোগ্য হতে পারে না।

চার: মুজতাহিদীনের সিদ্ধান্ত ও মীমাংসা- মুসলিম মুজতাহিদ্‌গণ (কুরআন-হাদীসের ভিত্তিতে) নিজেদের জ্ঞান, বুদ্ধি ও অন্তর্দৃষ্টির আলোকে বিভিন্ন শাসনতান্ত্রিক সমস্যার যে সমাধান পেশ করেছেন, ইসলামী শাসনতন্ত্রের তা চতুর্থ জ্ঞান-উৎস। মুজাহিদদের এই সিদ্ধান্ত ও মীমাংসাসমূহ ইসলামী শরীযাতে এক অকাট্য প্রমাণ হওয়ার মর্যাদান না পেলেও ইসলামীশাসনতন্ত্রের অন্তর্নিহিত ভাবধারা এবং এর নীতি-বিধানসমূহ অনুধাবন করার জন্য নির্বুল ও সুস্পষ্ট পথনির্দেশ করে তাতে সন্দেহ নেই। এই চারটি বিষয়ই হচ্ছে আমাদের ইসলামী শাসনতন্ত্র প্রণয়নের জ্ঞান-উৎস। ইসলামী হুকুমাতের শাসনতন্ত্র প্রণয়ন করতে হলে তাদের State Law, Common Law এবং তাদের শাসনতান্ত্রিক প্রচলন ও ঐতিহ্য (Conventions of the Constitution) হতে এক একটি খুঁটিনাটি পর্যন্ত গ্রহণ করে  কাগজের উপর লিখতে হবে। আর অনেক শাসনতান্ত্রিক নিয়ম-নির্দেশ তাদেরকে তাদের আদালতসমূহের ‘রায়’ হতে বেছে বেঘে গ্রহণ করতে হবে।

বাধা ও প্রতিবন্ধকতা

ইসলামী শাসনতন্ত্রের উল্লিখিত চারটি উৎসই সুরক্ষিতভাবে আমাদের কাছে বর্তমান আছে। কুরআন মজীদ তো লিখিতভাবে মুসলমানদের ঘরে ঘরে রয়েছে। ‘সুন্নাতে রাসূল’ েএবং খোলাফায়ে রাশেদীনের কর্মাদর্শ সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য গ্রন্থাকারে পাওয়া যায়। অতীতকালের মুজতাহিদদের সিদ্ধান্ত ও মতামত অসংখ্যভাবে লিপিবদ্ধ হয়ে আছে যুগযুগান্তকাল ধরে। এদের মধ্যে একটি জিনিসও দুর্লভ নয়। কিন্তু তা সত্ত্বেও এসব উৎস হতে এই অলিখিত শাসনতন্ত্রের নিয়ম-পদ্ধতি ও প্রণালী উদ্ধার করে এটাকে লিখিত রূপ দান করার ব্যাপারে কয়েকটি প্রধান প্রধান দুর্লংঘ বাধা এবং প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। সামনে অগ্রসর হওয়ার পূর্বে একথাগুলো গভীরভাবে হৃদয়ংগম করে নেয়া আবশ্যক।

এক: পরিভাষার অসুবিধা

এই প্রসংগে সর্বপ্রথম অসুবিধা হচ্ছে ভাষার অসামঞ্জস্যতা। কুরআন, হাদীস এবং ফিকাহ শাস্ত্রে শাসনতান্ত্রিক বিধান প্রকাশের জন্য যেসব পরিভাষা ব্যবহার করা হয়েছে, বর্তমান সময় তা জনগণের কাছে প্রায় দুর্বোধ্য হয়ে পড়েছে। কারণ দীর্ঘকাল পর্যন্ত ইসলামের রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠা এবং এর রাষ্ট্রব্যবস্থার বাস্তব রূপায়ণ কোথায়ও ছিল না। আর সেই জন্যই এসব পুরাতন পরিভাষার ব্যবহার বন্ধ হয়ে গিয়েছে। কুরআন শরীফে অসংখ্য পারিভাষিক শব্দ রয়েছে, যথা, সুলতান, মালিক, হুকুম, আমর, বিলায়েত েইত্যাদি। এই শব্দসমূহ কুরআন শরীফে রোজ তেলাওয়াত করা সত্ত্বেও এগুলোকে শাসনতান্ত্রিক পরিভাষা বলে আমরা মোটেই জানতে পারি না। শুধু এ দেশেই নয়, আরবী ভাষায়ও এর শাসনতান্ত্রিক অর্থ এবং ভাব খুব কম লোকেই বুঝতে পারে। আর কোন ভাষায় এর অনুবাদ করলে তো এর সমগ্র অর্থ বিকৃত হবার পূর্ণ সম্ভাবনা। ঠিক এজন্যই অনেক বড় বড় লেখাপড়া জানা পণ্ডিত ব্যক্তিও কুরআনের শাসনতান্ত্রিক বিধি-নিষেধের আলোচনা শুনে বিস্মিত হন এবং “কুরআনের কোন্‌ আয়াত হতে শাসনতন্ত্র সম্পর্কে তথ্য জানা যায়”, বলে বিস্ময়সূচক প্রশ্ন করে বসেন। বস্তুতপক্ষে এসব লোকদের বিস্ময় এবং প্রশ্নের কোন ‘সূরা’ কুরআন মজীদে বর্তমান নেই, আর বিংশ শতকের পরিভাষা অনুসারে কোন আয়াতও এতে নাযিল হয়নি।

দুই: প্রাচীন ফিকাশাস্ত্রের অপরিচিত প্রণয়ন-পদ্ধতি

অন্যদিকে আমাদের প্রাচীন ফিকাহশাস্ত্রের কিতাবাদীতে শাসনতন্ত্র সম্পর্কীয় বিষয়সমূহকে আলাদাভাবে কোথাও পরিচ্ছেদ বা অধ্যায়ক্রমে একত্র করে লিখিত ও সন্নিবেশিত করা হয়নি। শাসনতন্ত্র এবং আইন তাতে মিশ্রিত এবং যুক্তভাবে লিখিত হয়েছে। তাই ইসলামী শাসনতন্ত্র রচনার পথে এটা দ্বিতীয় বাধা। শাসনতন্ত্র ও আইন সম্পর্কে আলাদা আলাদা ধারণা বহু পরবর্তীযুগের উদ্ভূত ব্যাপার, ‘শাসনতন্ত্র’ শব্দটিকে এর নূতন অর্থে ব্যবহার করার কাজও সম্প্রতি শুরু হয়েছে। অবশ্য একথা সত্য যে, যেসব ব্যাপারকে আমরা এখন শাসন-সংবিধান সংক্রান্ত ব্যাপার বলে মনে করি, সেই সকল বিষয় সম্পর্কেই প্রাচীন ফিকাহশাস্ত্রকারগণ বিস্তারিতভাবে আলোচনা করেছেন, কিন্তু মুশকিল এই যে, তাদের এসব আলোচনা বড় বড় ফিকাহশাস্ত্রের কিতাবের বিভিন্ন অধ্যায়ে ইতস্তত বিক্ষিপ্ত হয়ে পড়েছে। একটি বিষয়ে যদি ‘কাজা’ (বিচার) পুস্তকে আলোচনা হয়েছে তো অন্যটি সম্পর্কে আলোচনা হয়েছে ‘কিতাবুল ইমরাতে’। একটি ‘মাসয়ালা’ যদি ‘কিতাবুসসিয়র’ –যুদ্ধ ও সন্ধী সংক্রান্ত গ্রন্থে লিখিত হয়েছে, তবে অন্যটি আলোচিত হয়েছে ‘নিকাহ ও তালাক’ গ্রন্থে। অনুরূপভাবে একটি বিষয়ে আলোচনা রয়েছে ‘কিতাবুল হুদুদ’- ফৌজদারী আইন গ্রন্থে, তবে অন্য বিষয়ের আলোচনা হয়েছে ‘কিতাবুল ফাই’এ- পাবলিক ফিনান্স কিতাবে। এছাড়া এদের ভাষা ও পরিভাষা অধুনা প্রচলিত ভাষা ও প্ররিভাষা হতে সম্পূর্ণ ভিন্ন। আিইনের বিভিন্ন বিভাগ এবং এদের বিষয়বস্তু সম্পর্কে গভীর অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা যার নেই আর আরবী ভাষার উপরও যার ব্যুৎপত্তি যথেষ্ট নয়, সে এটা হতে কোন তথ্যই খুঁজে বের করতে পারবে না। কোন্‌খানে দেশীয় আইনের আলোচনা ব্যাপদেশে আন্তর্জাতিক আইনের কোন বিষয়ের প্রসংগ এসে গেল, আর কোথায় ব্যক্তিগত (Private) আইনের মাঝখানে শাসনতান্ত্রিক আইনের কোন্‌ জটিল বিষয়ে আলোকপাত করা হলো তা উপলব্ধি করা তার পক্ষে খুবই কঠিন ব্যাপার সন্দেহ নেই। বিগত  শতাব্দীসমূহে আমাদের সমাজের শ্রেষ্ঠ আইনজ্ঞ ব্যক্তিগণ অতিশয় মূল্যবান জ্ঞান সম্পদ রেখে গিয়েছেন। কিন্তু আজ তাদের পরত্যক্ত এসব মূল্যবান সম্পদকে যাচাই করা এবং বেছে ছাঁটাই করে এক এক বিভাগের আইন সম্পর্কীয় তথ্য ভিন্ন ভিন্নভাবে সন্নিবেশিত করা এবং স্বচ্ছ ও সুপরিষ্ফুট করে জনসমাজে পেশ করা অত্যন্ত শ্রমসাধ্য ব্যাপার। এরূপ সাধনালব্ধ সম্পদ আহরণ করার জন্য আমাদের যুব সমাজ মোটেই আগ্রহান্বিত ও অগ্রসর হচ্ছে না। কারণ যুগ যুগ ধরে তারা অপরের উচ্ছিষ্টাংশ পেয়ে যথেষ্ট মনে করছে- যারপর নাই তুষ্ট রয়েছে। শুধু তা-ই নয় তাদের পূর্বপুরুষদের রক্ষিত এই মূল্যবান জ্ঞান-সম্পদকে তারা না জেনে না বুঝে উপেক্ষা করছে- এর প্রতি ঘৃণার দৃষ্টি নিক্ষেপ করছে। এটা নিতান্তই যুলুম সন্দেহ নেই।

তিন: শিক্ষাব্যব্থায় ত্রুটি

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা কয়েক শতাব্দী পর্যন্ত দোষ-ত্রুটিতে পরিপূর্ণ  হয়ে রয়েছে। আমাদের মধ্যে যারা ধর্মীয় জ্ঞান শিক্ষা করেন, তারা বর্তমান কালের রাষ্ট্র বিজ্ঞান, এর বিষয়ব্তু এবং শাসনতান্ত্রিক আইনের ও এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যাপার সম্পর্কে েএকেবারেই অজ্ঞ। এজন্য তাঁরা কুরআন, হাদীস ও ফিকাহ অধ্যযন ও অধ্যপনা- নিজের বুঝ ও অপরকে বুঝাতে যদিও জীবন অতিবাহিত করেন, কিন্তু বর্তমান যুগের রাজনৈতিক ও শাসনতান্ত্রিক বিষয়-সময়হকে আধুনিক ভাষা ও পরিভাষায় অনুধাবন করা এবং সেই সম্পর্কে ইসলামের নিয়ম-নীতি ও বিধান নির্ধারণ করা ও সুস্পষ্টরূপে প্রকাশ করা তাদের পক্ষে বড়ই মুশকিল ব্যাপার। তাঁরা যে ভাষা ও পরিভাষা বুঝতে পারেন, আধুনিক সমস্যা এবং যাবতীয় ব্যাপারসমূহ তাঁদেরকাছে সেই ভাষা ও পরিভাষাই পেশ করা তাঁদের পক্ষে অপরিহার্য। তারপরই তাঁরা বলতে পারেন যে, এসব সম্পর্কে ইসলামের নিয়ম-নীতি এবং বিধি-বিধান কি? আর তা কোন্‌খানে পাওয়া যেতে পারে?

অন্যদিকে আমাদের আধুনিক শিক্ষিত লোকগণ কেবলমাত্র আমাদের রাজনীতি ও তামাদ্দুন এবং আইন আদালতের সমগ্র বিভাগের উপর কর্তৃত্ব করছেন। তাঁরা জীবনের আধুনিক সমস্যা সম্পর্কে পূর্ণরূপে ওয়াকিফহাল; কিন্তু দ্বীন ইসলাম সংশ্লিষ্ট ব্যাপারে তাঁদের কি পথনির্দেশ করেছে- কি নিয়ম-নীতি পেশ করেছে, সেই কথা তাঁরা আদৌ  জানেন না। শাসনতন্ত্র, রাজনীতি ও আইন সম্পর্কে তাঁরা যা কিছুই জানেন তা সবই পাশ্চাত্যের শিক্ষাভিত্তিক- পাশ্চাত্য দেশসমূহের বাস্তব নিদর্শনই তাঁদের এই জ্ঞানের উৎস। কুরআন, সুন্নাত ও ইসলামী ঐতিহ্য সম্পর্কে তাদের জ্ঞান অত্যন্ত সীমাবদ্ধ। কাজেই তাদের মধ্য হতে যারা মনের ঐকান্তিক নিষ্ঠা ও আগ্রহের সাথে ইসলামী নেজামে পুনঃপ্রতিষ্ঠা চান, তাঁদেরকেও ঐসব বিষয়ে ইসলামের নির্দেশ ও বিধি-বিধান- যে ভাষা তারা বুঝতে পারে সেই ভাষায়- বুঝিয়ে দেয়া অপরিহার্য হয়ে পড়ে। কাজেই ইসলামী শাসনতন্ত্র প্রণয়নের ব্যাপারে এটা তৃতীয় বাধা। আর সত্য বলতে কি, ইসলামী শাসনতন্ত্র প্রণয়নের পথে বর্তমান এটা অত্যন্ত জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে সন্দেহ নেই।

চার: ইজতিহাদ ক্ষমতার হাস্যকর দাবী

ইসলামী শাসনতন্ত্র প্রণয়নের পথে চতুর্থ বাধাটিও কম ফ্যাসাদ সৃষ্টি করেনি। বরং বর্তমানে এটা বাড়তে বাড়তে একটি রসালাপ ও হাসি-তামাসার রূপ পরিগ্রহ করেছে। বর্তমান সময় প্রায়ই শোনা যায় যে, ইসলামের “পৌরোহিত্যবাদের” অবকাশ নেই, কুরআন ও সুন্নাতের উপর কোন মোল্লার একচ্ছত্র আধিপত্য হতে পারে না, কাজেই এর ব্যাখ্যা করার অধিকারও কারো একার নয়। বরং এর ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ এবং ইজতিহাদ করতে মোল্লাদেরও যেরূপ অধিকার আছে, তাদের এবং অন্যান্যদেরও তদ্রূপই অধিকার রয়েছে। এবং দ্বীন-ইসলাম সম্পর্কে মোল্লাদের কোন সকথা আমাদেরও অন্যান্যদের অপেক্ষা বেশী গুরুত্বপূর্ণ হওয়ারও কোনই কারণ নেই। বর্তমান সময় এরূপ চিন্তা পদ্ধতি খুব ব্যাপক ও মারাত্মক হয়ে দেখা দিয়েছে। বস্তুত এসব কথা কেবল তারাই বলে বেড়ায়, যারা না কুরআন ও সুন্নাহতের ভাষায় অভিজ্ঞ, না ইসলামী ঐতিহ্য  সম্পর্কে তাদের কিছুমাত্র ধারণা আছে। এমনকি, তারা জীবনের কিছু সময়- কয়েকটি দিনও ইসলামের তত্ত্বানুশীলন ও তথ্যানুসন্ধানের জন্য ব্যয় করেনি। মূলত তাদের জ্ঞান এ ত্রুটি ও অসম্পূর্ণতাকে অনুভব করা এবং উহা দূর করতে প্রথম হতে চেষ্টা করাই ছিল বাঞ্ছনীয়। কিন্তু তার পরিবর্তে তারা কুরআন-হাদীস- তথা ইসলাম সম্পর্কে ইজতিহাদ করার ব্যাপারে ইসলামী  জ্ঞান-বিজ্ঞানে পারদর্শী হওয়ার আবশ্যকতাকেই অস্বীকার করেছে। ইসলামী জ্ঞান ছাড়াই এর ব্যাখ্যা করার সুযোগ নিয়ে ইসলামকে বিকৃত করার জন্যই তারা আজ দৃঢ় সংকল্প, সেই জন্য তারা পূর্ণ ও প্রতিবন্ধকতাহীন আজাদী পেতে চায়।

কিন্তু (ইসলাম সম্পর্কে) অজ্ঞতা ও মূর্খতার এই সর্ববিদ প্লাবী বন্যাকে যদি বাধা দান না করা হয়, তবে এর প্রতিক্রিয়া সুদূর প্রসারী  হতে বাধ্য। কালই হয়ত কেউ উঠে বলবে যে, ইসলামে “উকিলবাদের” স্থান নেই, অতএব আইন সম্পর্কে প্রত্যেকেরই কথা বলার অধিকার থাকতে হবে। আইন সম্পর্কে সে যদি একটি অক্ষরও না পড়ে থাকে, তবুও তাকে সেই অধিকার দিতে হবে। তারপর আর একদিন হয়ত কেউ বলবে: ইসলামে “ইঞ্জিনিয়ারিংবাদ” নেই, কাজেই ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পর্কে সকলেই কথা বলতে পারবে যদিও এই শাস্ত্রের কিছুই জানা নেই। এরপর আবার একজন দাঁড়িয়ে বলতে পারে যে, ইসলামে চিকিৎসা বিদ্যাও কেবল ডাক্তারদের একচেটিয়া উপজীকিতা নয়, রোগীদের চিকিৎসা করার তাদেরও অধিকার আছে। যদিও চিকিৎসা বিজ্ঞানের বাতাসও তাদের স্পর্শ করেনি। আদর্শবাদের ক্ষেত্রে এরূপ চিন্তাপদ্ধতি কোন শুভ অধ্যায়ের ইংগিত করে না। অথচ ভাল ভাল শিক্ষিত লোকেরাও- মহাসম্মানিত ব্যক্তিগণও-উক্তরূপ হাস্যকর ও বালকোচিত কথা বলতে শুরু করেছেন দেখে আমার বড় আশ্চর্য বোধ হচ্ছে। গোটা জাতিকে তাঁরা এরূপ “অপদার্থ” মনে করে নিবেন কেমন করে- তাদের এসব অন্তসারশূন্য দাবী ও হাস্যকর কথা শুনেই জ নগণ তা শিরধার্য করে নিবে, এমন কথাই বা তারা কিরূপে মনে করলেন। ইসলামে পৌরহিত্যবাদ নেই, একথায় কোনই সন্দেহ নেই। কিন্তু এই পৌরহিত্যবাদ না থাকার অর্থ কি,ম তা কি তারা জানে? এর অর্থ এই যে, ইসলাম বনী ইসরাঈলদের ন্যায় দ্বীন ইসলামের জ্ঞান এবং দ্বীন ইসলামের খেদমতের কাজ কোন বংশ বা গোত্রের একচেটিয়া পৈত্রিক সম্পত্তি নয়। ইসলামে খৃষ্ট ধর্মের ন্যায় দ্বীন ও দুনিয়াকে পরস্পর বিচ্ছিন্নও করা হয়নি। কাজেই এখানে “দুনিয়া কাইসারের জন্য এবং দ্বীন পাদ্রীদের জন্য”-এরূপ কোন একচেটিয়া কর্তৃত্ব করার অধিকার কাউকে দেয়া হয়নি। ইসলামে কুরআন, সুন্নাত এবং শরীয়াতের উপর কারো ব্যক্তিগত ইজারাদারী স্বীকৃত বা স্থাপিত নয়, এটা সন্দেহহীন সত্য। তদ্রূপ ‘মোল্লা’ কোন বংশ বা গোত্রের নাম নয়, দ্বীন ইসলামের ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ করার তার কোন বংশীয় অধিকার নেই। বরং প্রকৃত ব্যাপার এই যে, প্রত্যেক ব্যক্তিই যেমন আইন পড়ে উকীল ও জজ হতে পারে এবং ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ে যেমন প্রত্যেক ব্যক্তিই ইঞ্জিনিয়ার ও চিকিৎসা বিজ্ঞান শিখে যেমন প্রত্যেক ব্যক্তিই ডাক্তার হতে পারে, ঠিক তেমনি প্রত্যেক ব্যক্তিই কুরআন ও সুন্নাতের ‘ইলম’ শিক্ষালাভ করার জন্য সময় ও পরিশ্রম ব্যয় করে শরীয়াতের ব্যাপারসমূহ  সম্পর্কে কথা বলার অধিকার অর্জন করতে পারে। ইসলামে ‘পৌরহিত্যবাদ’ নেই- একথাটির কোন বুদ্ধিসম্মত অর্থ যদি থেকে থাকে তবে তা এটাই। কিন্তু দুঃখের বিষয়, বর্তমানে একথাটি যদিও বলা হয়ে থাকে অনেক বেশী কিন্তু এর অর্থ অন্যরূপ গ্রহণ করা হয়ে থাকে। যদি কেউ মনে করে থাকে যে, ইসলামকে একটি ‘ছেলে খেলা’ বানিয়ে ছেড়ে দেয়া হচ্ছে এবং কুরআন ও সুন্নাত সম্পর্কে পূর্ণ দক্ষতা ও অন্তর্দৃষ্টি অর্জন না করেই প্রত্যেকে তা হতে ফায়সালা প্রকাশ করতে পারে, তবে সে মারাত্মক ভ্রান্তিতে লিপ্ত হয়েছে। জ্ঞান ছাড়া কোন বিষয়ে রায় দান করার অধিকার লাভ করার দাবী দুনিয়ার কোন ব্যাপারেই যদি গ্রহণ স্বীকৃত হওয়ার যোগ্য না হয়ে থাকে, তাহলে দ্বীন ইসলামের ব্যাপারে তা গ্রহণ করার মূলে কি যুক্তি থাকতে পারে?

ইসলামী শাসনতন্ত্র প্রণয়ন সম্পর্কে এই চতুর্থ বাধাটিও  কম জটিলতার সৃষ্টি করেনি। আর সত্য কথা বলতে গেলে বর্তমানে এটাই হচ্ছে সবচেয়ে বড় বাধা। প্রথমোল্লিখিত তিনটি বাধা ও শ্রম ও চেষ্টা-সাধনার দ্বারা দূর করা যেতে পারে এবং আল্লাহর অনুগ্রহে তা এক প্রকার দূর করাও হয়েছে। কিন্তু এই নূতন জটিলতা ও সমস্যার সমাধান বড়ই কঠিন ব্যাপার। বিশেষত এই জটিলতা বর্তমান শাসন কর্তপক্ষের তরফ হতে সৃষ্টি করা হয়েছে বলে এটা আরো অধিকতর দুরূহ ব্যাপারে পরিণত হয়েছে।

শাসনতন্ত্রের মূল ভিত্তিসমূহ

এখন আমি শাসনতন্ত্রের কয়েকটি বড় বড় ও মৌলিক বিষয়ের উল্লেখ করবো এবং সেই সম্পর্কে ইসলামের আসল জ্ঞান উৎসে কি কি নিয়ম ও নির্দেশ পাওয়া যায় তাও পেশ করবো। ইসলাম শাসনতান্ত্রিক ব্যাপারে কোন পথনির্দেশ দান করে কিনা, করলে তা নিছক সুপারিশ মাত্র- না মুসলমানদের পক্ষে অপরিহার্য ও অবশ্য পালনীয় একটি নির্দেশ- এসব কথাই আমার পরবর্তী আলোচনা হতে সুস্পষ্ট হয়ে উঠবে। এ ব্যাপারে আমি বিস্তারিত আলোচনা ও দীর্ঘসূত্রিতার দিকে না গিয়ে মোটামুটিভাবে শাসনতন্ত্রের ৯টি মৌলিক ধারা পেশ করবো এবং ইসলামের দৃষ্টিতে সেই সম্পর্কে আলোচনা করবো:

১. শাসনতন্ত্রের ব্যাপারে সর্বপ্রথম যে প্রশ্নটি উত্থাপিত হয়, তা হচ্ছে প্রভুত্বের প্রশ্ন। ইসলামী শাসনতন্ত্রের প্রভুত্ব কার হবে?… কোন বাদশাহর? বা কোন শ্রেণীর, কিংবা গোটা জাতির? না আল্লাহ তায়ালার?

২. এই সম্পর্কে দ্বিতীয় প্রশ্ন হচ্ছে রাষ্ট্রের কর্মসীমার-Jurisdiction এর। রাষ্ট্র কোন্‌ সীমা পর্যন্ত আনুগত্য পেতে পারে এবং কোন্‌ সীমা পমা পর্যন্ত পৌঁছলে এর এই অধিকার বাতিল হয়ে যায়?

৩. শাসনতন্ত্র প্রসংগে তৃতীয় মৌলিক প্রশ্ন হচ্ছে রাষ্ট্রের বিভিন্ন শাখার কর্মসীমা সম্পর্কে। অর্থাৎ শাসন বিভাগ (Executive), বিচার বিভাগ (Judiciary) এবং আইন পরিষদ (Legislature) প্রভৃতির আলাদা আলাদ কর্মসীমা (Jurisdiction) কি হবে? এদের প্রত্যেকটি বিভাগ কি কর্তব্য এবং কি দায়িত্ব পালন করবে- কোন্‌ সীমার মধ্যে থেকে করবে এবং তারপর এদের পরস্পরের মধ্যে কি ধরনের সম্পর্ক স্থাপিত হবে?

৪. চতুর্থ গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হচ্ছে রাষ্ট্রের উদ্দেশ্য সম্পর্কে ইসলামী রাষ্ট্রের উদ্দেশ্য এবং লক্ষ্য কি হবে, রাষ্ট্র কোন্‌ উদ্দেশ্যে কাজ করবে এবং এর মৌলিক কর্মনীতি কি হবে?

৫. পঞ্চম প্রশ্ন এই যে, রাষ্ট্রব্যবস্থা পরিচালনের জন্য গবর্ণমেন্ট বা সরকার কিভাবে গঠন করা হবে?

৬. ষষ্ট প্রশ্ন এই যে, সরকার পরিচালকদের নিজস্ব গুণ ও যোগ্যতা (Qualifications) কি হওয়া আবশ্যক? কোন ধরনের লোক তা চালাবার যোগ্য বিবেচিত হতে পারে? আর কোন্‌ ধরনের লোক নয়?

৭. সপ্তম প্রশ্ন এই যে, শাসনতন্ত্রে নাগরিক ও পৌর অধিকারের ভিত্তি কি হবে? কি যোগ্যতা থাকলে এক ব্যক্তি ইসলামী রাষ্ট্রের নাগরিক বলে পরগণিত হতে পারে, আর কি কারণে তা হবে না?

৮. অষ্টম প্রশ্ন এই যে, নাগরিকদের মৌলিক অধিকার কি?

৯. নবম প্রশ্ন এই যে, নাগরিকদের প্রতি রাষ্ট্রের কি কি অধিকার থাকবে?

দুনিয়ার প্রত্যেক দেশের শাসনতন্ত্রেই এই প্রশ্নগুলো সম্পূর্ণরূপে মৌলিক। এখন ইসলাম এই প্রশ্নগুলোর কি কি জবাব দিয়েছে তা-ই আমাদের অনুসন্ধান করে দেখতে হবে।

About শিবির অনলাইন লাইব্রেরী