আসান ফেকাহ – ১ম খণ্ড

সম্পুর্ণ সূচীপত্র

অক্ষম ও রোগীর নামায

১. রোগ যতোই কঠিন হোক, যতোদূর সম্ভব নামায ওয়াক্তের মধ্যে আদায় করা উচিত। নামাযের সকল আরকান আদায় করার শক্তি না থাকে না থাক, যে আরকান আদায় করার শক্তি হোক, অথবা ইশারায় আদায় করার হোক, তবুও নামায ওয়াক্তের মধ্যে আদায় করা উচিত। ***১

২. যথাসাধ্য দাঁড়িয়ে নামায পড়তে হবে। সমস্ত নামায দাঁড়িয়ে থেকে সম্ভব না হলে যতোক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার শক্তি হয়  ততোক্ষণ দাঁড়িয়ে পড়তে হবে। এমন কি কোন অক্ষম অথবা রোগী শুধু তাকবীর তাহরীমা বলার জন্যেও যদি দাঁড়াতে পারে, তাহলে দাঁড়িয়ে তাকবীর তাহরীমা বলবে এবং তারপর বসে নামায পুরা করবে। দাঁড়িয়ে নামায পড়ার শক্তি থাকতে বসে পড়া দুরস্ত নয়।

৩. যদি কেউ দাঁড়িয়ে নামায পড়তে কিছুতেই সক্ষম নয়, অথবা দুর্বলতার কারণে পড়ে যাওয়ার আশংকা হয়, অথবা দাঁড়ালে মাথা ঘুরে যায়, অথবা দাঁড়ালে ভয়ানক কষ্ট হয়, অথবা দাঁড়ালেও রুকু’ সিজদা করার শক্তি নেই এমন সকল অবস্থায় বসে নামায পড়বে।

৪. বসে নামাযা পড়া সম্ভব হলে মসনূন তারিকায় বসতে হবে যেমন ‘আত্তাহিয়্যাতু’ পড়ার সময় বসা হয়। এভাবে বসা যদি সম্ভব না হয় তাহলে যেভাবে বসা যায় সেভাবেই বসেই নামায পড়বে। রুকূ’ সিজদা করা সম্ভব না হলে ইশারা করে কাজ সারাবে।

৫. ইশারায় রুকূ’ সিজদা করতে হলে চোখ এবং মুখ দিয়ে ইশারা করা যথেষ্ট হবে না। মাথার দ্বারা ইশারা করতে হবে। রুকূ’তে একটু কম এবং সিজদাতে বেশী মাথা নত করতে হবে।

৬. সিজদা করার জন্যে মাটি পর্যন্ত কপাল ঠেকানো যদি না যায় তাহলে ইশারাই যথেষ্ট। বালিশ প্রভৃতি কপাল পর্যন্ত উঁচু করে তাতে সিজদা করা মাকরূহ।

*****১ [দ্বীনের ফকীহগণ এতটা তাকীদ করেছেন যে, যদি কোন গর্ভবতী নারীর গর্ভবেদনা শুরু হয় তখন নামাযের ওয়াক্ত এসে যায়, আর যদি সে নারীর হুশ-জ্ঞা থাকে, তাহলে দাঁড়িয়ে হোক বসে হাক যেমন করেই হোক তাড়াতাড়ি নামায পড়ে নেবে। কারণ নেফাসের রক্ত আসার পর তো নামায  কাযা হয়ে যাবে এবং নামায পড়ার শক্তি থাকা সত্ত্বেও তা কাযা করা কঠিন গুনাহ।]

৭. নামায পড়ার শক্তিও যদি না হয়, অথবা খুব কষ্ট হয় অথবা রোগ বেড়ে যাওয়ার আশংকা হয়, অথবা ক্ষতস্থানের ব্যাণ্ডেজ খুলে যাওয়ার ভয় হয় তাহলে শুয়ে ‍শুয়ে নামায পড়বে। শুয়ে শুয়ে নামায পড়ার উত্তম পন্থা এই যে, চিত হয়ে কেবলার দিকে পা করতে হবে। তবে পা সটান না করে হাটু উচু রাখতে হবে। মাথার নীচে বালিশ প্রবৃতি দিয়ে মাথা একটু উচু করতে হবে। তারপর ইশারায় রুকু’ সিজদা করবে। তাও সম্ভব না হলে উত্তর দিকে মাথা দিয়ে কেবলার দিকে মুখ ফিরাতে হবে এবং ডান কাত হয়ে নামায আদায় করবে। তাও সম্ভ না হলে যেমন ভাবে সক্ষম হয় তেমনভাবে নামায পড়বে।

৮. রোগীর অবস্থা যদি এমন হয় যে, ইশারায়ও নামায পড়া সম্ভব নয়। তাহলে নামায পড়বে না। ভালো হলে কাযা পড়বে। এমন অবস্থা যদি পাঁচ ওয়াক্তের বেশী সময় পর্যন্ত থাকে তাহলে তার কাযা ওয়াজেব হবে না। এ নামায মাফ হবে। অথবা দুর্বলতার জন্যে জ্ঞান হারিয়ে যাচ্ছে এবং এ অবস্থা ছয় ওয়াক্ত নামায পর্যন্ত চলে, তাহলে এসব নামাযের কাযা ওয়াজেব হবে না। ঠিক তেমনি কোন ‍সুস্থ লোক যদি হঠাৎ বেহুশ হয়ে পড়ে এবং এভাবে ছয় ওয়াক্ত নামায পর্য়ন্ত থাকে তাহলে এসব নামায তার মাফ।

৯. যদি নামায পড়া অবস্থায় হঠাৎ কেউ অসুস্থ হয়ে পড়ে তাহলে দাঁড়িয়ে নামায পড়তে না পারে, বসে পড়বে, বসে না পারলে শুয়ে, অথবা ইশারা করে। মোট কথা বাকী নামায যেভাবে পারে পড়বে।

১০ চলন্ত নৌকা, জাহায রেলগাড়ী বিমান প্রভৃতিতে দাঁড়িয়ে নামায পড়তে অসুবিধা হলে বসে পড়বে। অবশ্যি দাঁড়িয়ে পড়তে কোন অসবিধা না হলে দাঁড়িয়ে নামায পড়াই উচিত।

১১. সুস্থ অবস্থায় যদি কারো কিচু নামায কাযা হয় এবং তারপর অসুস্থ হয়ে পড়, েতাহলে রোগ সেরে যাওয়া পর্যন্ত কাযা করার অপেক্ষা করবে না। অসুস্থ অবস্থায় যেমন করেই হোক কাযা পড়ে নিতে হবে।

১২. যদি কোন রোগীর বিছানা নাপাক হয়ে যায় এবং পাক বিছানা জোগাড় করা কঠিন অথবা বিচানা বদলানো সম্ভব নয়, তাহলে নাপাকক বিছানায় নামায পড়া দুরস্ত হবে।

 

About মাওলানা ইউসুফ ইসলাহী