আসান ফেকাহ – ১ম খণ্ড

সম্পুর্ণ সূচীপত্র

রোগ ও মৃত্যুর বিরণ

রোগীর এয়াদাতের মাসয়ালা ও আদব

রোগীর নিকটে গিয়ে তার অবস্থা সম্পর্কে অবগত হওয়াকে ইসলামী পরিভাষায় ‘এয়াদাত’ (পরিচর্যা) বল, রোগীর এয়াদাত করা মুস্তাহবঅ যে রোগীর কোন নিকট আত্মীয়-স্বজন নেই তারা তার দেখা শুনা করতে পারে, তার ‘এয়াদাত’ ও পরিচর্যা করা মুসলমানদের উপর ফরয। নবী (স) এয়াদাতের বিশেষ চেষ্টা করতেন। শুধুমাত্র মুসলমানের ‘এয়াদাতেই’ নয়, অমুসলমানের এয়াদাতের জন্যেও তিনি যেতেন। তিনি এয়াদাতের বড়ই গুরুত্ব ও ফযিলত বয়ান করে তাঁর জন্যে তাকীদ করেছেন এবং কিছু আদব কায়দাও বলে দিয়েছেন।

১. এয়াদাতের প্রেরণা দিতে গিয়ে এ ধরনের ফযিলত বয়ান করেছেন-

কেয়ামতের দিন আল্লাহ বলবেন, -হে আদম সন্তান, আমি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলাম, তুমি আমাকে দেখতে যাওনি কেন?

বান্দাহ বলবে, আল্লাহ! তুমি তো বিশ্বজাহানের মালিক, তোমার কিভাবে এয়াদাত করবো?

আল্লাহ বলনে, আমার অমুক বান্দাহ অসুস্থ হয়ে পড়েছিল, তুমি তার এয়াদাত করনি। তুমি যদি তার এয়াদাতে সেখানে যেতে তাহলে আমাকে সেখানে পেতে-(মুসলিম)।

যখন কোন বান্দাহ তার মুসলমান ভাইয়েল এয়াদাত করে অথবা তার সাথে দেখা করার জন্যে যায়, তখন একজন ঘোষণাকারী আসমান থেকে ঘোষণা করে, তোমাকে মুবারকবাদ। তোমার রোগী  দেখতে যাওয়ার জন্যে মুবারকবাদ, তুমি জান্নাতে একটা বাস্থান বানিয়ে নিয়েছো- (তিরমিযী)।

২. রোগীর নিকটে গিয়ে তাকে সান্ত্বনা দেয়া উচিত। ধৈর্যধারণ করার জন্যে বলতে এবং তার দৃষ্টি এদিকে আকৃষ্ট করতে হবে- রোগ আসলে আল্লাহর রহমত। কারণ এখন মুমেনের যে সামান্য পরিমাণেও দুঃখ-কষ্ট হয়, তার দ্বারা তার গুনাহের কাফফারা হয়ে যায়। নবী (স) রোগীর কাছে জিজ্ঞেস করতেন (*****) বলুন, কেমন আছেন? তারপর সান্ত্বনা দিয়ে বলতেন (********) চিন্তা করবে না, আল্লাহ চাহেন এ রোগ গুনাহ থেকে পাক করার কারণ হবে।”

হযরত আবু সাঈদ (রা) বলেন, নবী (স) বলেছেন-মুসলমানদের উপরে যে কোন বিপদ, যে কোন রোগ, যে কোন পেরেশানী, যে কোন দুঃখ, কষ্ট, শোক প্রভৃতি আসে এমন কি যদি একটা কাঁটাও বিদ্ধ হয়, তাহলে আল্লাহ এ সবের কারণে তাদের গুনাহ মাফ করে দেন- (বুখারী, মুসিলম)।

হযরত আবু সাঈদ (রা) আরও বলেন, নবী (স) বলেচেন, যখন তুমি কোর রোগীর পরিচর্যা করতে যাও, তারপর সান্ত্বনার বাণী শুনাও যদিও তোমার এসব কথায় পরিবেশ বদলে যায় না, তথাপি রোগী আনন্দ পাবে- (তিরমিযী, ইবনে মাজাহ)।

৩. রোগীর াকছে তার জন্যে দোয়া করাও সুন্নাত। হযরত আয়েশা (রা) বলেন, নবী (স)-এর অভ্যাস ছিল, যখন আমাদের মধ্যে কারো অসুখ হতো, তখন তিনি তাঁর ডান হাত আর শরীরের উপর বুলিয়ে দিতেন এবং এ দোয়া পড়তেন-

(আরবী***************)

-হে মানুষের রব! এ রাগীর দুঃখ দূর করে দাও। তাকে আরোগ্য দান কর। তুমিই আরোগ্যদানকারী। আরোগ্য দানের কাজ তোমারই। এমন আরোগ্যদান কর যেন রোগের নাম নিশানা না থাকে।]৪. রেগীর দ্বারা নিজের জন্যে দোয়া করানোও উচিত। কারণ রোগ অবস্থায় তার অন্তকরণ আল্লাহর দিকে আকৃষ্ট থাকে। হাদীসে আছে- যখন তোমরা কোন রোগীর এয়াতাদরে জন্যে যাও তখন তোমাদের জন্যে দোয়া করার জন্যে তাকে বলো। রোগীর দোয়া ফেরেশতার দোয়ার মতো- (ইবনে মাজাহ)। ফেরেশতা আল্লাহর ইচ্ছায় দোয়া করেন এবং জন্যে তাদের দোয়া কবুল হয়।

৫. রোগীর নিকট বেশীক্ষণ বসে থাকা ঠিক নয়। তবে যদি মনে হয় যে, রোদী বেশীক্ষণ থাকা পসন্দ করে এবং তার সান্ত্বনা লাভ হচ্ছে তাহলে দোষ নেই। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা) বলেন, রোগীর নিকটে বেশীক্ষণ বসা এবং গোলমাল করা ঠিক নয়।

৬. অমুসলিমের এয়াদাতের সময় সুযোগ হলে হিকমতের সাথে ঈমান ও ইসলামের দিকে আকৃষ্ট করা উচিত। রোগীর সময় মন নরম হয়, হক কবুর করার জন্যেও তুলনামূলক ভাবে বেশী সজাগ হয়। হযরত আনাস (রা) বলেন, একটি ইহুদী বালক নবীর খেদমতে যাতায়াত করতো। সে অসুস্থ হলে নবী (স) তাকে দেখতে গেলেন। তিনি তার শিয়রে বসলেন। তারপর বললেন, দ্বীনে হক গ্রহণ কর। ছেলেটি তার বাপের দিকে তাকিয়ে রইলো। বাপ বললো, ‘আবুল কাসেমের কথা মেনে নাও।’

ছেলেটি মুসলমান হলো, তারপর নবী (স) তর ধর থেকে এ কথা বলতে বলতে বেরুলেন, আল্লাহর শোকর, তিনি ছেলেটাকে জাহান্নাম থেকে বাঁচালেন –(বুখারী)।

মুমূর্ষ ব্যক্তির জন্যে আদবকায়দা ও হুকুম

১. যদি এমন নিদর্শন দেখতে পাওয়া যায় যে, রোগী আর বেশীক্ষণ নয়, তাহলে তাকে ডান কাত করে দেয়া যাতে মুখ কেবলার দিক হয় এবং মাথা উঁচু করে সুন্নাত। এরূপ করতে রোগীর কষ্ট হলে তার যাতে আরাম হয় সে অবস্থায় রাখা।

২. রোগীর কাছে বসে কালেমা পড়া উচিত। কিন্তু মুমূর্ষ ব্যক্তিকে পড়তে বলা ঠিক নয়। এমন না হয় যে, জান বেরুবার কষ্টে সে হঠাৎ কালেমা পড়তে অস্বীকার করে বসে, অথবা অস্থিরতার মধ্যে এমন কোন অসংগত কথা তার মুখ দিয়ে বেরিয়ে পড়ে। একবার সে যদি কালেমা পড়ে তাহলে চুপ থাকা উচিত। তবে হাঁ রোগী যদি দুনিঢার কোন কথা-বার্তা বলে তাহলে তালকীন করা উচিত যাতে শেষ কথা কালেমা তাইয়েবা হয়। রোগীকে কালেমায়ে তাইয়েবার তালকীন করানো মুস্তাহাব। নবী (স) বলেন-

মুমূর্ষু ব্যক্তিকে ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ তালকীন কর-(মুসলিম)। তিনি আরও বলেন- যার শেষ কথা ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ হবে সে জান্নাতে যাবে-(আবু দাউদ)।

৩. মরণের সময় রোগীর পাশে সূরা ইয়াসিন পড়াও মুস্তাহাব। নবী (স) বলেন, মুমূর্ষু ব্যক্তির কাছে সূরায়ে ইয়াসীন পড়ে- (ফতুয়ায়ে আলমগীরী)।

৫. মুমূর্ষু ব্যক্তিকে খুশবু প্রভৃতি লাগানো মুস্তাহাব।

৬. জান বেরুবার পর আস্তে তার চোখ বন্ধ করে দিতে হবে।

চোখ বন্ধ করার সময় এ দোয়া পড়া ‍উচিত: (আরবী**************)

হে আল্লাহ তার কঠিন কাজ সহজ করে দাও। পরবর্তী কালে তার যে অবস্থা হবে তা তুমি সহজ করে দাও। তাকে তেহামার দীদার লাভে ধন্য কর এবং যেখানে সে যাচ্ছে তা তার জন্যে ঐ স্থান থেকে ভালো করে দাও যেখান থেকে সে যাচ্ছে।

৭. প্রিয়জনদের ‍মৃত্যুতে শোক দুঃখ হওয়া অত্যন্ত স্বাভাবিক। চোখ দিয়ে পানি পড়াও স্বাভাবিক। কিন্তু বিলাপ করে কাঁদা, বুক চাপড়ানো, জামা-কাপড় ছিঁড়ে ফেলা, পাগলের মতো শোকে গড়াগড়ি করা প্রভৃতি ঠিক নয়। নবী (স) এসব কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন।

৮. মৃত্যুর অভিযোগের সুরে কথা বলা, নিজেকে অভিসম্পাৎ করা, নিজের জন্যে বদ দোয়া করা একেবারে অন্যায়। নবী (স) বলেন, নিজের জন্যে সব সময় দোয়া করতে থাকো। এ জন্যে যে,  তোমরা যে দোয়া কর ফেরেশতাগণ তার জন্যে আমীন বলতে থাকেন- (মুসলিম)।

৯.  ‍মৃত ব্যক্তিকে ভালো কথার দ্বারা স্মরণ করা উচিত। কোন মন্দ কাজ করে থাকলেও শুধু তার গুণাবলী বর্ণনা করা উচিত। নবী (স) বলেন- আপন মৃত ব্যক্তিদের গুণাবলী বর্ণনা কর। তাদের দোষ-ত্রুটির ব্যাপারে মুখ বন্ধ রাখো-(আবু দাউদ)।

মাইয়েতের (মৃত ব্যক্তির) গোসলের হুকুম

১. মৃত্যুর পর তার গোসল ও কাফন দাফনে বিলম্ব করা উচিত নয়। নবী (স)-এর নির্দেশ হচ্ছে:-

কাফন-দাফনে তাড়াতাড়ি কর। মৃত ব্যক্তি কারো বাড়িতে অধিক্ষণ পড়ে থাকা ঠিক নয়- (আবু দাউদ)।

২. মাইয়েতকে গোসল দেয়া ফরযে কেফায়া। কোনো মাইয়েত লাওয়ারেস হলে তার গোসলের দায়িত্ব সামষ্টিকভাবে সকল মুসলমানের। গোসল ব্যতীত কোন মাইয়েত দাফন করা হলে সকল মুসলমান গুনাহগার হবে। যদি তাদের জানা থাকা সত্ত্বেও তারা অবহেলা করে।

৩. গোসল ব্যতীত  কোন মাইয়েতকে কবরে রাখা হলে এবং তার উপর মাটি দেয়া না হলে তাকে উঠিয়ে গোসল দেয়া আবশ্যক তবে উপরে মাটি দেয়া হলে আর বের করা উচিত নয়।

৪. মাইয়েতের কোন অংগ-অংশ যদি ধোয়া না হয়ে থাকে এবং কাফন পরাবার পর মনে হয়। তাহলে কাফন খুলে তা ধুয়ে দেয়া উচিত। তবে যদি কোন সামান্য অংশ মুকনো থাকে যেমন কোন আঙুল শুকনো রয়ে গেছে অথবা সেই পরিমাণ অন্য কোন অংশ, তাহলে কাফন খুলে ধুয়ে ফেলার দরকার নেই।

মাইয়েতকে একবার গোসল দেয়া ফরয এবং তিন বার দেয়া সুন্নাত।

৬. মাইয়েতকে দেখা জায়েয সেই গোসল দিতে পারে। সে জন্যে পুরুষ নারীর এবং নারী-পুরুষের গোসল দিতে পারে না। তবে বিবি স্বামীর গোসল দিতে পারে। এ জন্যে যে, ইদ্দতের সময় পর্যন্ত তাকে স্বামীর নেকাহের মধ্যেই ধরতে হবে। কিন্তু স্বামীর জন্যে স্ত্রীর গোসল জায়েয নয়। এ জন্যে যে, স্ত্রীর মৃত্যুর সাথে সাথে নেকাহ খতম হয়ে যায়। আহলে হাদীসের মতে স্বামী স্ত্রীর গোসল দিতে পারে।

৭. নাবালেগ বালক বালিকাকে নারী পুরুষ উভয়েই গোসল দিতে পারে।

৮. মাইয়েতের কোন প্রিয়জন হলে তারই গোসল দেয়া ভালো। তার গোসল পদ্ধতি জানা না থাকলে অন্য কোন নেক লোক গোসল দিবে।

৯. কোন বাচ্চা পয়তা হওয়ার পরই মারা গেলে তার গোসল দেয়া ফরয হবে। মৃত অবস্থায় পয়দা হলে তার গোসল ফরয হবে না। তবে গোসল দেয়া ভালো।

মাইয়েতের গোসল সুন্নাত মুতাবেক পদ্ধতি

মাইয়েতকে তক্তার উপর শুইয়ে তার কাপড় খুলে ফেলতে হবে এবং আর একটা কাপড় নাফি থেকে হাটু পর্য়ন্ত উপরে দিতে হবে। যাতে করে লজ্জা স্থান  দেখা না যায়। তারপর হাতে কাপড় জড়িয়ে তার এস্তেঞ্জা করে দিতে হবে। তারপর অযু করাতে হবে। তা এভাবে যে, প্রথমে তার চেহারা ধুতে হবে, তারপর কনুই পর্যন্ত দু’হাত, তারপর মাথা মুসেহ, তারপর দু’পা। নাকে মুখে পানি দিতে হবে না। তবে তুলা ভিজিয়ে দাতের মাড়ি এবং নাকের ভেতরে মুঝে দেয়া জায়েয। জানাবাত এবং হায়েয অবস্থায় মারা গেলে এরূপ করা আবশ্যক। তারপর নাক, মুখ এবং কানে তুল দিতে হবে যেন পানি ভেতরে না যায়। তারপর ধুতে হবে। সাবান প্রভৃতি ব্যবহার করা যেতে পারে। তারপর মাইয়েতকে বাম কাত করে ‍শুইয়ে কুলপাতা দিয়ে অল্প গরম পানি তিনবার মাথা থেকে পা পর্যন্ত এমনভাবে ঢালতে হবে যেন বাম কাত পর্যন্ত পৌঁছে যায়। তারপর ডান কাত করে এমনিভাবে তিনবার পানি ঢালতে হবে। তারপর মাইয়েতকে কিছু জিনিসের ঠেস দিয়ে বসাতে হবে এবং ধীরে ধীরে তার পেট ঠাসতে হবে। যদি কোন মল বের হয় তা পরিষ্কার করে দিতে হবে। কিন্তু অয এবং গোসল দ্বিতীয় বার করাতে হবে না। তারপর বাম কাত করে শুইয়ে কর্পুর মেশানো পানি তিনবার ঢালতে হবে। তারপর একটা কাপড় দিয়ে সমস্ত শরীরে মুছে দিতে হবে।

কাফনের মাসয়ালা

১. গোসলের পর শরীর শুকে গেলে কাফন পরাতে হবে।

২. কাফন পরানো ফরযে কেফায়া।

৩. কাফন কেনার দায়িত্ব তাদের যার তার জীবনে ভরণ-পোষণ বহন করেছে। মাইয়েতের এমন যদি কেউ না থাকে এবং যদি কোন সম্পদও রেখে গিয়ে না থাকে তাহলে তার কাফনের দায়িত্ব সকল মুসলমানের সামষ্টিগতভাবে। এখন কোন এক ব্যক্তি তার দায়িত্বগ্রহণ করুক অথবা সকলে মিলে।

৪. বালেগ, নাবালেগ, মুহাররাম, গায়ের মুহাররাম সকলের কাফন একই সমান।

৫. কাফনের জন্যে সেই ধরনের কাপড় হতে হবে যা মাইয়েতের জন্যে জীবদ্দশায় জায়েয ছিল। মেয়েদের জন্যে রেশমী অথবা রঙিন কাপড়ের কাফন দেয়া জায়েয। কিন্তু পুরুষের জন্যে রেশমী কাপড় অথবা জাফরানী রঙের কাপড় দেয়া যাবে না।

৬. বেশী মূল্যবান কাপড় কাফন হিসেবে দেয়া মাকরুহ। আর একেবারে নিকৃষ্ট ধরনের কাপড় হওয়াও ঠিক নয়। বরঞ্চ জীবদ্দশায় মাইয়েত যে মানের কাপড় ব্যবহার করতো সে মানের কাফন হওয়াই উচিত।

৭. সাদা কাফন হওয়াই ভালো- নতুন হোক বা পুরাতন।

৮. অনেকে জীবদ্দশায় আপন কাফনের ব্যবস্থা করে থাকে তাতে কোন দোষ নেই। কিন্তু জীবদ্দশায় নিজের কবর খনন করে রাখা মাকরুহ।

৯. পুরুষের জন্যে তিনটি কাপড় সুন্নাত

(ক) অ-সিলাই করা জামা বা কোর্তা

(খ) তহবন্দ

(গ) চাদর

জামা গলা থেকে পা পর্যন্ত হতে হবে। ইজার ও তহবন্দ মাথা থেকে পা পর্যন্ত এবং চাদর তা থেকে একহাত লম্বা হতে হবে যেন মাথা এবং পা দু’দিকে বাঁধা যেতে পারে । কোর্তা বা জামায় আস্তিন অথবা কল্লী হবে না।

১০. মেয়েদের কাফনে পাঁচ কাপড়-

(ক) কোর্তা

(খ) ইজার

(গ) মাথাবন্ধ

(ঘ) সিনাবন্ধ

(ঙ) চাদর

কোর্তা গলা থেকে পা পর্যন্ত। কল্লী বা আস্তিন হবে না। ইজার মাথা থেকে পা পর্যন্ত। চাদর তার থেকে এক হাত লম্বা। মাথা বন্ধ তিন হাত লম্বা হতে হবে। মাথা ঢেকে চেহারার উপর দিয়ে দিতে হবে। বাঁধা অথবা পেঁচানো যাবে না। সীনাবন্ধ বুক থেকে হাটু পর্যন্ত। এমন চওড়া হতে হবে যেন, বাঁধা যায়।

১১. উপরের মুতাবেক কাফন সংগ্রহ করতে না পারলে পুরুষের ইজার ও চাদর এবং মেয়েদের ইজার, চাদর এবং মাথা বন্ধ হলেও চলবে। তাও সংগ্রহ করতে না পারলে যা পারা যায় তাই করতে হবে। কোন অংশ খোলা থাকলে পাতা ইত্যাদি দিয়ে ঢেকে দিতে হবে যেন উলংগ না থাকে।

১২. মৃত বাচ্চা হলে অথবা গর্ভপাত হলে কোন পাক সাফ কাপড় জড়িয়ে দাফন করা উচিত।

কাফন পরাবার নিয়ম

পুরুষকে কাফন পরাবার নিয়ম এই যে, প্রথমে কাফনের চাদর কোন চৌকি বা তক্তার উপর বিছিয়ে দিতে হবে। চাদরের উপর ইজার বিছাতে হবে। তারপর মাইয়েতকে কোর্তা পরিয়ে ইজারের উপর শুইয়ে দিতে হবে। তারপর ইজার এমনভাবে জড়াতে হবে যেন তার ডান কিনারার উপর থাকে। অর্থাৎ প্রথম বাম দিক থেকে জড়াবে। এভাবে চাদরও জড়াতে হবে।

মেয়েলোকদের কাফন পরার নিয়ম এই যে, প্রথমে চাদর বিছাবে তারপর ইজার, তারপর কোর্তা পরায়ে মাইয়েতের চুল দু’ভাগ করে ডানে বামে কোর্তার উপর রেখে দিতে হবে। তারপর মাথাবন্ধ মাথায় উড়ে দিয়ে মুখের উপর রাখতে হবে, বাঁধা হবে না। তারপর মাইয়েতকে ইজারের উপর শুইযে দিতে হবে। তারপর উপরে বর্ণিত নিয়মে ইজার পরাতে হবে যেন ডান কিনারা বাম কিনার উপরে পড়ে। এভাবে সিনাবন্ধ ও চাদর জড়াতে হবে। মাথা, কোমর এবং পা কাপড়ের ফিতা দিয়ে বেঁধে দিতে হব যেন বাতাসে রাস্তায় খুলে না যায়।

About মাওলানা ইউসুফ ইসলাহী