আসহাবে রাসূলের জীবনকথা – চতুর্থ খন্ড

সম্পুর্ণ সূচীপত্র

সামুরা ইবন জুনদুব আল ফাযারী (রা)

সামুরা আল ফাযারীর (রা) অনেকগুলি কুনিয়াত বা ডাকনাম সীরাতের গ্রন্থসমূহে পাওয়া যায়। যথা: আবূ সাঈধ, আবূ আবদির রহমান, আবূ আবদিল্লাহ, আবূ সুলায়মান ও আবূ মুহাম্মদ।১ তিনি রাসূলুল্লাহর (সা) একজন সাহাবী। ইতিহাসে তিনি একজন সাহসী নেতা হিসাবে প্রসিদ্ধ।২ ইমাম জাহাবী বলেন: তিনি ছিরেন আলিম (জ্ঞানী) সাহাবীদের একজন।৩

সামুরা (রা) মদীনার আনসার সম্প্রদায়ের সন্তান নন। মূলত তিনি বনু ফাযারার সন্তান। ইবন ইসহাক বলেন: তিনি মদীনার আনসারদের একজন হালীফ বা চুক্তিবদ্ধ বন্ধু ছিলেন।৪ তাঁর পিতা জুনদুব ইবন হিলাল আল ফাযারী ছিলেন বসরার অধিবাসী। সামুরা বসরায় জন্মগ্রহণ করেন। শিশু বয়সেই সামুরা পিতৃহারা হন। তাঁর মা তাঁকে নিয়ে মদীনায় আসেন এবং আনসারদের কাউকে দ্বিতীয়বার বিয়ে করার ইচ্ছা প্রকাশ কনের। তবে শর্ত দেন, যে তাঁকে বিয়ে করবেন, সন্তান সামুরাসহ তাঁর সার্বিক দায়িত্ব গ্রহণে রাজী থাকতে হবে। মুররী ইবন শায়বান ইবন সা’লবা তাঁর এ শর্ত মেনে নিয়ে ত৭াকে বিয়ে করেন। সামুরা (রা) তাঁর এই সৎ পিতা মুররী ইবন শায়বানের তত্ত্বাবধান ও øেহছায়ায় বেড়ে ওঠেন।৫

সামুরা (রা) হিজরাতের পর ইসলাম গ্রহণ করেন। যুদ্ধে যাওয়ার বয়স না হওয়ায় তিনি হিজরী দ্বিতীয় সনের বদর যুদ্ধে যোগদানের অনুমতি পাননি। উহুদ যুদ্ধের সময় আরো কিছু আনসার কিশোরের সাথে যুদ্ধে যাওয়ার আশায় রাসূলুল্লাহর (সা) নিকট উপস্থিত হন। রাসূল (সা) সামুরার একজন সাথীকে নির্বাচন করেন এবং তাঁকে ফিরিয়ে দেন। তখন সামুরা বলেন: আপনি তাকে নির্বাচন করলেন এবং আমাকে ফিরিয়ে দিলেন। অথচ আমি তার চেয়েও শক্তিশাল্ ীবিশ্বাস না হলে আমাদের কুস্তি লাগিয়ে দেখতে পানের। তাঁর কথা শুনে রাসূল (সা) তাঁদের দুজনের কুস্তি লাগার নির্দেশ দেন। কুস্তিতে সামুরা তাঁর প্রতিপক্ষ কিশোরকে উুঁচু করে ফেলে দেন। তাই দেখে রাসূল (সা) ত৭াকেও রণক্ষেত্রে যাওয়ার অনুমতি দান করেন।৬ ইবন হিশাম বলেন: রাসূল (সা) সামুরা ইবন জুনদুব ও রাফে’ ইবন খাদীজকে উহুদ যুদ্ধে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছিলেন। তখন তাঁদের দুইজনেরই বয়স পনেরো বছর।৭ উহুদের পর থেকে সকল যুদ্ধে তিনি রাসূলুল্লাহর (সা) সাথে অংশগ্রহণ করেন।

রাসূলে কারীমের (সা) জীবনকালে তিনি মদীনায় বসবাস করেন। পরে তিনি বসায় বসতি স্থাপন করে।৮ হিজরী ৫০ সনে কূফার ওয়ালী মুগীরা ইবন শু’বার (রা) মৃত্যুর পর মু’য়াবিয়া (রা) কূফার সাথে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসাবে বসরার ইমারাতের দায়িত্বও যিয়াদ ইবন সুমাইয়্যার ওপর অর্পণ কনের। যিয়াদ সামুরাকে (রা) স্বীয় প্রতিনিধি ও সহকারী হিসাবে নিয়োগ করেন। যিয়াদ ছয় মাস করে বসরা ও কূফায় অবস্থান করতেন। সামুরাও উভয় স্থানে তাঁর অনুপস্থিতির সময় দায়িত্ব পালন করতেন। যিয়াদ বসরায় থাকলে তিনি কূফায় এবং তিনি কূফায় থাকলে সামুরা বসরায়-এভাবে।৯

যিয়াদের শাসনকাল নানা দিক দিয়ে স্বরণযোগ্য। তাঁর সময়ে শাস্তি ও নিরাপত্তার প্রতি এত অধিক গুরুত্ব দেওয়া হতো যে, কোনপ্রকার বিদ্রোহ ও বিক্ষোভ তাঁর সময়ে বসরা ও কূফায় দেখা দিতে পারেনি। খারেজী বিপ্লবপন্থীদের একটি দল, যারা পূর্ব থেকেই সোখানে বিদমান ছিল, একবার মাথা উঁচু করলে ভালোমত তাদের দমন করা হয়।

চুতর্থ খলীফা আলীর (রা) জীবদ্দশায় খারেজীদের উদ্ভাব হয়। এক সময় তারা আলীরই (রা) অনুসারী ছিল। পরে তারা অশাস্তি ও বিশৃংখলা সৃষ্টিকারী দল হিসাবে নিজেদেরকে পরাজিত হয় এবং তাদের অনেক সাহসী যোদ্ধা মারা যায়। তবে তাদেরকে সম্পূর্ণ নির্মূল করা সম্ভব হয়নি। সুযোগ পেলেই তারা মাথা উঁচু করে বিদ্রোহের পতাকা উডডীন করতো। এই উগ্রপন্থািদের হাতে বহু সাহাবীসহ অসংখ্য নিরপরাধ মুসলমানের রক্ত ঝরেছে। খলীফা আলী (রা) শাহাদাত বরণ করেন এই পথভ্রষ্ট চরমপন্থেিদর হাতে।১০ বসরা ও কূফা ছিল তাদের মূল কেন্দ্র। ুযয়াদ তাদের নির্মূল ও চিশ্চিন্ত করার সিদ্ধান্ত নেন। এ সিদ্ধান্ত সামুরার (রা) সিদ্ধান্তের সাথে মিলে যায়।১১ ইবন হাজার বলেন: সামুরা ছিলেন খারেজীদের প্রতি ভীষণ কঠোর।১২ ইতিহাস ও সীরাতের গ্রন্থসমূহে দেখা যায়, ুযয়াদ ও তাঁর ছেলে উবায়দ্ল্লুাহ বসরায় প্রায় সত্তর হাজার লোক হত্যা করেন। আর এর সাথে সামুরাও জড়িত ছিলেন।১৩ ইমাম জাহাবী বলেছেন: সামুরা (লা) বহু মানুষ হত্যা করেছেন।১৪

আমের ইবন আবী আমের বলেন: আমরা ইউনুস ইবন হাবীবের মজলিসে বসা ছিলাম। উপস্থিত লোকেরা বললো: এই যমীন যে পরিমাণ রক্ত চুষেছে পৃথিবীর আর কোন ভূ-খণ্ড তেমন চোষেনি। এখানে সত্তর হাজার মানুষ হত্যা করা হয়েছে। আমি ইউনুসকে কথাটি হত্যা কিনা তা জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন: হাঁ। প্রম্ণ করা হলো: এ কাজ কারা করেছে? বললেন: যিয়াদ, তাঁর ছেরে উবায়দুল্লাহ ও সামুরা।১৫ ইমাম আল কুরতুবী বলেন: সামুরার নিকট কোন খারেজীকে আনা হলে তিনি তাকে হত্যা করতেন এবং বলতেন: আকাশের নীচে এ হচ্ছে নিকৃষ্টতম নিহত ব্যক্তি। কারণ, তারা মুসলমানদের কাপির বলে এবং মানুষের রক্ত ঝরায়।”১৬

সামুরার এমন কঠোরতার কারণে খারেজীরা ছিল তাঁর প্রতি ভীষণ ক্ষুদ্ধ। তারা সামুরাকে খারাপ জানতো। তাঁর এরূপ আচরণের প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাতো। পক্সান্তরে বসরার তৎকালীন জ্ঞানী গুনীরা যাঁদের মধ্যে ইবন সীরীন ও হযরত হাসান আল বসরীর মত খ্যাতিমান লোকও আছেন, তাঁর প্রশংসা করতে। তাঁরা সামুরার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের জবাব দিতেন।১৭

ইতিহাস ও সূীরাতের গ্রন্থাবলীতে উল্লেখিত এ সকল তথ্য দেখে আজ আমাদের মনে প্রশ্ন দেখা দিতে পারে, সামুরার (রা) মত একজন সাহাবীর হাত মানুষের রক্তে রঞ্জিত হতে পারে কিভাবে এর উত্তরে বলা যেতে পারে, ইতিহাসের সকল তথ্য হাদীসের মত সম্পূর্ণ নির্ভুল নয়। হতে পারে তৎকালীন গোলযোগপূর্ণ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এ অপবাদ তাঁর প্রতি আরোপ করা হয়েছে। এমন নজীর ইতিহাসে বিরল নয়।

তাছাড়া ইতিহাসের এ অধ্যায়টি বুঝার জন্য খারেজীদের উদ্ভব, বিকাশ, তাদের দর্শন, সর্বোপরি বিরুদ্ধবাদীদের প্রতি তাদের নির্মম আচরণ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঠিক ইতিহাস আমাদের জানা থাকা দরকার। তারা একটি চরমপন্থী অসংখ্যা নিরপরাধ মানুষ। নিবির্চচারে তারা হত্যা করেছে বিরুদ্ধবাদীদের। রাসূলুল্লাহর (সা) বিপুলসংখ্যাক সাহাবী তাদের হাতে প্রাণ হারিয়েছেন। সামুরার (রা) মন্তব্যেও এই সত্য ফুটে উঠেছে, যা আগেই উল্লেখ করা হয়েছে। তাই একজন শাসক হিসেবে তাদের প্রতি নির্মম হওয়া ছাড়া কোন উপায় ছিল না। আর এ কারণ ইবন সীরীন ও হযরত হাসান আল বসরীর মত শ্রেষ্ঠ মনীষীরা তাঁকে অকুষ্ঠ সমর্থন দিয়েছেন। আমরা বিশ্বাস করি, রাসূলুল্লাহর (সা) একজন মাহন সাহাবী অন্যায়ভাবে মানুষের রক্ত ঝরাতে পারেন না।

হিজরী ৫৩ সনে যিয়াদের মৃত্যু হলে রাষ্ট্র প্রশাসন ব্যবস্থায় কিচু পরিবর্তন হয়। বসরা এবং কূফা দুইটি স্বতন্ত্র প্রদেশের মর্যাদা লাভ করে এবং দুই প্রদেশে দুইজন ওয়ালী নিয়োগ লাভ করেন। সামুরা বসরার ওয়ালী হন এবং প্রায় একবছর এ পদে বহাল থাকেন।১৮ হিজরী ৫৪ সনে আমীর মু’য়াবিয়ার (র) নির্দেশে এ পদ থেকে তিনি অপসারিত হন।

সামুরা ইবন জুনদুবের (রা) মৃত্যু সন নিয়ে মত পার্থক্য আছে। হিজরী ৫৮, ৫৯ ও ৬০ সনের কথা বর্ণিত হয়েছে।১৯ ইবনু ইমাদ আল হাম্বলী হিজরী ৬০ সনে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন।২০ তিনি বসরা না কূফায় মারা যান, সে সম্পর্কে মতভেদ আছে।২১ কেউ কেউ বলেছেন, তিনি বসরার ওয়ালী ছিলেন এবংয় কূফায় মারা যান। আবার একথাও বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি কূফায় মৃত্যুবরণকারী রাসূলুল্লাহর (সা) সর্বশেষ সাহাবী।২২

মাসুরার (রা) মৃত্যু হয় অস্বাভাবিক ভাবে। শেষ জীবনে তিনি ভীষণ ঠন্ডা অনুভব করতেন। চিকিৎসা স্বরূপ দীর্ঘদিন গরম পানিতে বসে শরীর গরম করতেন। অবশেষে এটা কালব্যাধিতে রূপ নেয়। একদিন ভীষণ ঠাণ্ডা  অনুভব করতে থাকেন। তাঁর চারপাশে আগুন জ্বালিয়ে রাখা হরো; কিন্তু কোন কাজ হলো না। তিনি বললেন, আমার পেটে যে কি অবস্থা হচ্ছে, তা বুঝাবো কি করে। এমন এক অস্থিরতার মধ্যে হাঁড়ির গরম পানিতে বসতে গিয়ে টগবগ করে পুটন্ত পানিতে পড়ে মৃত্যুবরণ করেন।২৩ হিলাল ইবন উমাইয়া বলেন, তিনি সেঁক দিতে গিয়ে াসতর্ক অবস্থায় আগুনে পুড়ে মারা যান। যদি এ বর্ণনা সত্য হয় তাহলে রাসূলুল্লাহর (সা) ভবিষ্যদ্বাণীর অর্থ ছির দুনিয়ার আগুন। আখেরাতের আগুন নয়।২৪ ইবন আবদিল বার বলেন, সামুরার এভাবে মৃত্যু হওয়াতে রাসূলুল্লাহর (সা) একটি ভবিষ্যদ্বাণী সত্যে পরিণত হয়।

হযরত সামুরার (রা) মৃত্যু সম্পর্কে রাসূলে কারীমের (সা) একটি ভবিষ্যদ্বাণী রিজাল ও সীরাত শাস্ত্রে গ্রন্থসমূহে দেখা যায়। আনাস ইবন হাকীম আদ-দাব্বী বলেন, আমি মদীনায় ঘোরাফেরা করছিরাম। হঠাৎ আবূ হুরাইয়ার সাথে দেখা হলো। ান্য কোন কথা বলার আগেই তিনি সামুরা সম্পর্কে জিজ্ঞেস কররেন। আমি সামুরা বেঁচে থাকার খবর দিলে খুব খুশী হরেন। তারপর বললেন: আমরা দশজন এক বাড়ীতে একদিন রাসূলুল্লাহর (সা) সাথে ছিরাম। এক সময় তিনি হঠাৎ উঠে দাঁড়িয়ে আমাদের সবার মুখের দিকে তীক্ষèভাবে তাকারেন। তারপর দরজার দুইটি বাজু ধরে  বরলেন: আখেরুকুম মাওতান ফিন নার।’Ñতোমাদের মধ্রে সর্বশেষ মৃত্যুবরণকারী আগুনে যাবে অথবা আগুনে পুড়ে মৃত্যু হবে। আমাদের সেই দশজনের আটজন মারা গেছে। বেঁচে আছি আমি ও সামুরা। এখন মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণের চেয়ে আর কোন কিছু প্রিয়তর আমার কাছে নেই।২৫ কোন কোন বর্ণনায় দশজনের স্থলে তিনজনের কথা এসেছে। তারা হলেন: সামুরা, আবূ মাহজুরা ও আবূ হুরাইরা।২৬

উল্লেখিত দলটির মধ্য থেকে হযরত সামুরা যে সর্বশেষ মৃত্যুবরণ করেছেন, সে ব্যাপারে কোন দ্বিতম নেই। তবে আবূ মাহজুরা ও আবূ হুরাইয়ার (রা) মধ্যে কে আগে মারা গেছেন সে ব্যাপারে মত পার্থক্য দেখা যায়। কোন কোন বর্ণনা দ্বারা বুঝা যায় আবূ হুরাইরা (রা) আগে মারা গেছেন। বালাজুরী বলেন: সামুরা বসরায় এবং আবূ মাহজুরা মক্কায় জীবিত ছিলেন। তাই হিজায তেকে কেউ বসরায় গেলে াসমুরা জিজ্ঞেস করতেন আবূ মাহজুরা সম্পর্কে, আবার কেউ বসরা থেকে মক্কায় গেলে আবূ মাহজুরা জিজ্ঞেস করতেন সামুরা সম্পর্কে। এবাবে একদিন আবূ মাহজুরা মারা যান সামূরার আগে।২৭

আউস ইবন খারিদ বলেন: আমি আবূ মাহজুরার কাছে গেরে তিনি সামূরা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতেন। আবার সামুরার কাছে গেরে তিনি আবূ মাহজুরা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতেন।২৮ কিন্তু পূর্বে উল্লেখিত আনাস ইবন হাকীমের বর্ণনা এবং তাউসের একটি বণৃনা দ্বারা বুঝা যায় আবূ হুরাইরার আগেই আবূ মাহজুরা মারা যান। যেমন তাউস বলেন: কেউ আবূ হুরাইরাকে ভয় দেখাতে চাইলে বলতোঃ সামুরা মারা গেছেন একথা শুনেই তিনি হঠাৎ চিৎকার দিয়ে অচেতন হয়ে পড়ে যেতেন।২৯

সামুরার (রা) সন্তানদের সঠিক সংখ্যা জানা যায় না। তবে সুলায়মান ও সা’দ নামে তাঁর যে দুই ছেলে ছিল, একথা জানা যায়। তিনি ছিলেন জ্ঞানী ও অতি মর্যাদাবান সাহাবীদের একজন। রাসূলে কারীমের (সা) জীবদ্দমায় যদিও তিনি ছিলেন একজন তরুণ, তবুও রাসূলুল্লাহর (সা) অসংখ্য হাদীস স্মৃতিতে ধারণ করেন। ইমাম আল-কুরতুবী বলেন: তিনি ছিলেন বেশী পরিমাণে রাসূলুল্লাহর (সা) হাদীস বর্ণনাকারী হাদীসের হাফেজদের একজন।৩০ তাহজীবুত তাহজীব গ্রন্থে বলা হয়েছে, ত৭ার বণিৃত হাদীসের লিখিত একটি কপি ত৭ার ছেলে কাছে ছিল।৩১ ইবন সীরীন বলেন,এই পুস্তিকাটি ছিল জ্ঞানের ভাণ্ডার।৩২

সামুরা (রা) হাদীস স্মৃতিতে ধরে রাখার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিতেন। স্মৃতিশক্তিও ছিল অসাধারণ যা কিছু স্মৃতিতে ধরে রাখতে চাইতেন, পারতেন। রাসূলে কারীম (সা) নামাযের মধ্রে দুইটি স্থানে চুপ থাকতেন। একটি তাকবীর তাহরীমার পরে যখন সুবহানাকা আল্লাহুম্মা’ পড়তেন। ান্যটি সূরা ফাতিহা পাঠের পর যখন আমীন’ বলতেন। এ বিষয়টি সামুরার স্মৃরণ ছির এবং তিনি তা আমলও করতেন। কিন্তু ইবরান ইবন হুসাইনের (রা) বিষযটি মনে ছিলনা। একবার সামুরা (রা) নামাযে রাসূলুল্লাহর (সা) আমলের অনুসরণ করলে ইমরান (রা) প্রতিবাদ করলেন। বিষয়টি উল্লেখ করে সঠিক তথ্য জানার জন্য মদীনার উবাই ইবন কা’বকে (রা) চিঠি লেখা হরো। জবাবে তিনি লিখলেন, সামুরা সত্য বলেছে। তাঁর ঠিকই স্মারণ আছে।৩৩

একবার ভাষণ দানকালে তিনি একটি হাদীস বর্ণনা করেন। শ্রোতাদের মধ্যে সালাবা ইবন আবআদ আল-আবদী ছিলেন। তিনি বলেন, দ্বিতীয়বার যখন সামুরা হাদীসটি বর্ণনা করেন, তখন শব্দের মধ্রে কোন তারমতম্য দেখা গলেনা।৩৪ প্রখর স্মৃতিশক্তির াধিকারী হওয়া সত্ত্বেও হাদীস বণৃায় দারুণ সতর্ক ও রক্ষণশীল ছিলেন। তিনি বলেছেন: আমি রাসূলুল্লাহর (সা) মুখ থেকে বহু কিচু শুনেছি। কিন্তু বয়ঃজ্যেষ্ঠ সাহাবীদের প্রতি আমার আদব তার সব বণৃনা থেকে আমাকে বিরত রাখে। তাঁরা আমার চেয়ে বয়সে বড়। রাসূলুল্লাহর (সা) জীবনকালে আমি ছিরাম একজন তরুণ। তা সত্ত্বেও যা কিচু শুনতাম, স্মৃতিতে ধারণ করতাম।৩৫

কখনো কখনো তিনি হাদীস বণৃনা করতেন এবং তাতে কারো মনে কোনপ্রকার সন্দেহ দেখা দিলে তিনি জবাব দিয়ে তা দূর করতেন। এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহর (সা) একটি মুজিযার বর্ণনা শুনে প্রশ্ন করলো: খাবার কি বেড়ে গিয়েছিল? তিনি বললেন: বিস্ময়ের কি আছে? তবে আসমান ছাড়া আ কোথা থেকে এ বৃদ্ধি ঘটেছিল?৩৬

সামুরা সরাসবি রাসূলুল্লাহ (সা) ও আবূ উবায়দাহ ইবনুল জাররাহ থেকে শোনা হাদীস র্বণনা করেছেন। বিভিন্ন গ্রন্থ তাঁর সনদে মোট ১২৩ টি (্একশত তেইশ) হাদীস বর্ণিত হয়েছে। ত৭ার থেকে যাঁরা হাদীস বর্ণনা করেছেন, তাঁদের মধ্যে বিশেষ কয়েকজন হলো:

ইমরান ইবন হুসাইন, শা’বী, ইবন আবী লায়লা, ‘আলী ইবন রাবী’য়া, ‘আবদুল্লাহ ইবন বুরাইদা, হাসান আল-বসরী, মুহাম্মাদ ইবন সীরীন, মুতরিফ ইবন শুখাইর, আবুল আলা আল-আতারাদী, কুদামা ইবন ওয়াবরা, যাযিদ ইবন উকবা, রাবী ইবন উমাইলা, হিলাল বিন লিয়াফ, আবূ নাদরা আল-আবদীম সা’লাবা ইবন আববাদ, আবূ কিলাবা আল-জারমী, সুলায়মান ইবন সামুরা।৩৭

সামুরার (রা) মধ্যে বহুবিধ চারিত্রিক সৌন্দর্য্য বিদ্যমান ছিল। মুহাম্মাদ ইবন সীরীন বলেন: তিনি ছিরেন একজন গরম আমানতদার ও সত্যভাষী ব্যক্তি। ইসলাম ও মুসলমানদেরকে প্রাণি দয়ে ভালোভাসতেন।’৩৮ রাসূলুল্লাহর (সা) অভ্যাস ও সুন্নাতের একনিষ্ঠ অনুসারী ছিলেন।৩৯

আরবে আহনাফ’ নামক এক ব্যক্তি বিশেষ একধরনেরর তরবারি তৈরী করেন, যা হানাফিয়্যা’ নামে প্রসিদ্ধ ছিল। রাসূলুল্লাহর (সা) নিকটও একখানি এই তরবারি ছিল। সামুরা (রা) তার একটি নকল তৈরী করেন। তাঁর শাগরিদদের মধ্যে মুহাম্মদ ইবন সীরীনও তার নকল তৈরী করেন।৪০

তথ্যসূত্র:

About ড. মুহাম্মদ আবদুল মাবুদ