আসহাবে রাসূলের জীবনকথা – চতুর্থ খন্ড

সম্পুর্ণ সূচীপত্র

কায়স ইবন সা’দ ইবন’ উবাদা (রা)

হযরত কায়সের (রা) একাধিক ডাকনাম ইতিহাসে পাওয়া যায়। যেমনঃ ‘আবুল ফাদল, আবু ‘আবদিল্লাহ ও আবু আবদিল মালিক। ইবন হিব্বান ‘আবুল কাসেম নামটি উল্লেখ করেছেন।  মদীনার বিখ্যাত খাযরাজ গোত্রের সায়িদা শাখার সম্মানিত সদস্য। একজন আনসারী সাহাবী খাযরাজ গোত্রের বিখ্যাত নেতা ও বিশিষ্ট সাহাবী হযরত সা’দ ইবন উবাদা তাঁর পিতা এবং ফুকাইহা বিনতু ‘উবাইদ ইবন দুলাইম মাতা। পিতা-মাতা ছিলেন পরস্পর চাচাতো ভাই-বোন।  তাঁর পূর্ব পুরুষের লোকেরা ছিলেন মদীনার বিখ্যাত জনসেবক ও শ্রেষ্ঠ নেতা। রাসূলুল্লাহর (সা) মদীনায় হিযরতের পূর্বে হযরত কায়স ইসলাম গ্রহণ করেন।

রাসূলুল্লাহর (সা) সাথে সকল যুদ্ধ ও অভিযানে হযরত কায়স অংশ গ্রহণ করেন।  ইমাম যুহরী বলেন, তিনি ছিলেন রাসূলুল্লাহর (সা) পতাকাবাহীদের অন্যতম।  হিজরী ৮ম সনের ‘জায়শুল খাবাত’ যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেন। যুদ্ধটি ছিল মুসলমানদের জন্য একটি বিরাট পরীক্ষা। ৩০০ (তিনশো) সদস্যের এক বাহিনী নিয়ে, যার মধ্যে হযরত আবু বকর ও ‘উমারও ছিলেন- আবু ‘উবায়দা উবনুল জাররাহ সমুদ্র উপকূলের দিকে অগ্রসর হন। সেখানে ১৫ (পনেরো) দিন অবস্থান করেন। সংগে নেওয়া খাদ্য-খাবার ফুরিয়ে যায়। গোটা বাহিনী প্রচন্ড খাদ্য সংকটের সম্মুখীন হন। সৈনিকরা ক্ষুধার জ্বালায় গাছের ঝরা পাতা খেতে থাকেন। ‘খাবাত’ অর্থ ঝরা পাতা। যেহেতু এ বাহিনীরা সৈনিকেরা গাছের পাতা খেয়েছিলেন, একারণে এই বাহিনী ‘জায়শুল খাবাত’ বা ঝরা পাতার বাহিনী নামে ইতিহাসে পরিচিতি লাভ করে। হযরত কায়স এ দুঃসময়ে তিনটি করে উট ধার নিয়ে জবেহ করেন। তিনবার মোট নয়টি উট ধার নিয়ে জবেহ করে গোটা বাহিনীর বেঁচে থাকার মত খাবারের ব্যবস্থা করেন। অতিরিক্ত ধার দেনা হয়ে যাচ্ছে দেশে অধিনায়ক আবু ‘উবায়দাহ (রা) তাঁকে এমন কাজ থেকে বিরত থাকতে বলেন।  একটি বর্ণনায় এসেছে, ‘জায়শুল খাবাত’ যুদ্ধ থেকে ফেরার পথে হযরত আবু বকর ও হযরত ‘উমার (রা) তাঁর এমন বেপরোয়া উট জবেহ করা দেখে শঙ্কিত হয়ে পড়েন। তাঁরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করলেন, যদি এ যুবককে বিরত না রাখা হয় তাহলে সে তার পিতার সকল সম্পদ নিঃশেষ করে ফেলবে। তারপর তাঁরা দু’জন বাহিনীর অন্য সদস্যদের বুঝিয়ে নিেেজদের স্বপক্ষে এনে কায়সকে উট জবেহ থেকে নিবৃত করেন।  যুদ্ধ থেকে ফিরে এসে লোকেরা তাঁর এ আচরণের কথা রাসূলুল্লাহর (সা) নিকট উল্লেখ করলে তিনি বললেন: দানশীলতা অবশ্যই এ বাড়ীর এক বৈশিষ্ট্য।

মক্কা বিজয় অভিযানে তিনি হযরত রাসূলে কারীমের (সা) সফরসঙ্গী ছিলেন। মক্কায় প্রবেশকালে আনসারদের ঝান্ডা প্রথমতঃ সা’দ ইবন উবাদার হাতে ছিল। এক পর্যায়ে রাসূল (সা) সেটি তার হাত নিয়ে কায়সের হাতে তুলে দেন।  বিভিন্ন যুদ্ধে ঝান্ডা বহনকারী ছাড়াও রাসূলুল্লাহর (সা) জীবদ্দশাতে খিলাফতের একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বে পরিণত হন। এ সময় শাসন-শৃংখলার দায়িত্ব যে সকল ব্যক্তির উপর ন্যস্ত হয়, কায়স তাদের মধ্যে অন্যতম।

হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) বলেনঃ রাসূলুল্লাহর (সা) দরবারে কায়সের মর্যাদা ছিল কোন আমীরের দরবারে পুলিশের একজন সর্বাধিনায়কের মর্যাদার মত।

হয়রত আলীর দরবারেও তাঁর বিশেষ মর্যাদা ছিল। ইবন ইউনুস বলেনঃ তিনি মিসর বিজয়ে অংশ গ্রহণ করেন এবং সেখানে বাড়ী তৈরী করেন। তারপর আলী (রা) তাঁকে মিসরের আমীর নিয়োগ করেন।  হযরত মুয়াবিয়া (রা) নানাভাবে বিরুদ্ধাচরণ করেও মিসরে কোন রকম হাঙ্গামা ও অশান্তি সৃষ্টি করতে ব্যর্থ হন। অবশেষে কুফাবাসীদের ক্ষেপিয়ে তুলে আলী (রা) দ্বারা তাঁকে বরখাস্ত করাতে সক্ষম হন। তাঁর স্থলে আলী (রা) মুহাম্মদ ইবন আবী বকরকে ওয়ালী নিয়োগ করেন। এ সম্পর্কে ইবন সীরীন বলেনঃ আলী (রা) কায়স ইবন সা’দকে হিজরী ৩৬ সনে মিসরের ওয়ালী নিয়োগ করেন এবং হিজরী ৩৭ সনে বরখাস্ত করেন। কারণ, আলীর (রা) বন্ধুরা তাঁকে এ কথা বুঝায় যে, কায়স মুয়াবিয়ার (রা) সাথে গোপন আঁতাত করেছে। যখন তাঁকে অপসারণ করে তার স্থলে মুহাম্মদ ইবন আবী বকরকে নিয়োগ করা হয় তখন তিনি বুঝতে পারেন যে, আলীকে (রা) বিভ্রান্ত করা হয়েছে। এরপরেও আলীর (রা) সাথে তাঁর সদ্ভাব বজায় থাকে এবং সকল ব্যাপারে আলী (রা) তাঁর সাথে পরামর্শ করতেন।  মিসর শাসন করা মুহাম্মদ ইবন আবী বকরের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়ে। তাঁর বিরুদ্ধে পরিচালিত আমীর মু’য়াবিয়া (রা) ও আমর ইবনুল ‘আসের (রা) কর্ম-কৌশল অশান্তির এক প্রবাহ সৃষ্টি করে। পরবর্তীকালে যা খিলাফতের বন্ধনকে ছিন্ন ভিন্ন করে দেয়।

হযরত কায়স (রা) মিসর থেকে সোজা মদীনায় চলে আসেন। মারওয়ান তখন মদীনায়। তিনি কায়সকে ভয় দেখালে তিনি মদীনা ছেড়ে কুফায় চলে যান এবং সেখানে হযরত আলীর (রা) সাথে বসবাস করতে থাকেন।

আলীর (রা) সাথে সকল যুদ্ধে তিনি অংশগ্রহণ করেন। সিফ্ফীন যুদ্ধের দিনগুলিতে তিনি আলীর (রা) বাহিনীর পুরোভাগে ছিলেন। এ যুদ্ধের দিনগুলিতে তিনি একটি কবিতা আবৃত্তি করতেন। তার দু’টি পংক্তি নিম্নরূপঃ

সেই ঝান্ডা যা আমরা নবীর সাথে বহন করেছি।

তখন জিব্রাইল ছিলেন আমাদের সাহায্যকারী।

আমরা সেই জাতি, যখন তারা যুদ্ধ করে

তখন দেশ বিজয় না হওয়া পর্যন্ত

তাদের তরবারি ধরা হাতটি প্রলম্বিত হতে থাকে।

এর পূর্বে তিনি উটের যুদ্ধেও অংশগ্রহণ করেন। নাহরাওয়ানের যুদ্ধে তিনি নিজের গোত্রের সকল লোকের সাথে যোগদান করেন। এ যুদ্ধের শুরুতে হযরত আলী (রা) নিয়ম অনুযায়ী প্রতিপক্ষকে শান্তি ও সমৃদ্ধির প্রতি আহবান জানানোর জন্য আবু আইউব আল-আনসারী ও কায়সকে (রা) খারেজী সম্প্রদায়ের নিকট পাঠান। আবদুল্লাহ ইবন সানজার খারেজীর সাথে তাঁদের আলোচনা হয়। তিনি বলেন, আলীর আনুগত্য ও অনুসরণ আমাদের মনপূত নয়। ‘উমার ইবনুল খাত্তারের (রা) মত কেউ হলে আমরা তাঁকে খলীফা বলে মানতে রাজী হতাম। জবাবে কায়স (রা) বললেন, আমাদের মধ্যে আলী ইবন আবী তালিব (রা) আছেন। আপনাদের মধ্যে তাঁর সমকক্ষ কেউ থাকলে তাঁর নাম পেশ করুন। তিনি বললেন, না, আমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই। কায়স বললেন, তাহলে আপনাদের সতর্ক হওয়া উচিত। অশান্তি ও বিশৃংখলা আপনাদের অন্তরে শিকড় গেড়ে বসেছে।

হযরত কায়স (রা) সর্ব অবস্থায় আলীর (রা) একজন বিশ্বাসভাজন বন্ধু ছিলেন। হিঃ ৪০ সনে আলী (রা) শাহাদাত বরণ করেন। খিলাফতের দায়িত্ব ইমামন হাসানের (রা) ওপর অর্পিত হয়। হযরত কায়স (রা) ইমাম হাসানকে সমর্থন জানান। এদিকে আলীর (রা) শাহাদাতের খবর পেয়ে হযরত মু’য়াবিয়ার (রা) এক বাহিনী পাঠান। হযরত কায়স (রা) পাঁচ হাজার সৈন্যের এক বাহিনী, যাঁদের প্রত্যেকের মাথা ছিল মুড়ানো এবং যাঁরা মৃত্যুর জন্য শপথ করেছিল- নিয়ে মু’য়াবিয়ার (রা) সিরীয় সৈন্যদের প্রতিরোধ করার জন্য ‘আনবার’ পৌছেন। আমীর মু’য়াবিয়ার বাহিনী ‘আনবার’ অবরোধ করেন। এর মধ্যে ইমাম হাসান (রা) ও মু’য়াবিয়ার মধ্যে সন্ধি হয়ে যায়। ইমাম হাসান (রা) ‘আনবার’ শহরটি মু’য়াবিয়া (রা) বাহিনীর হাতে অর্পণ করে মাদায়েনে তাঁর কাছে চলে যাওয়ার জন্য কায়সকে (রা) লেখেন।

ইমামের চিঠি পেয়ে হযরত কায়স দারুণ ক্ষুব্ধ হলেন। তিনি তাঁর বাহিনীর সকল সদস্যকে একত্র করে এক জ্বালাময়ী ভাষণ দেন। ভাষণে তিনি বলেনঃ তোমরা কী চাও? তোমাদের ইচ্ছা হলে আমি তোমাদেরকে সাথে নিয়ে আমরণ লড়বো। আর তোমরা যদি চাও তাহলে আমি আমীর মু’য়াবিয়ার নিকট থেকে তোমাদের জন্য আমান বা নিরাপত্তার অঙ্গীকার নিতে পারি। সৈনিকেরা বললো, আপনি আমাদের জন্য নিরপত্তার অঙ্গীকার নিন। তিনি তাই করেন এবং সহযোদ্ধাদের নিয়ে মাদায়েন চলে যান।

মাদায়েন থেকে হযরত কায়স (রা) মদীনার দিকে যাত্রা করেন। পথে মদীনা পৌছা পর্যন্ত প্রতিদিন সঙ্গীদের জন্য একটি করে নিজের উট জবেহ করতেন। মদীনায় এসে তিনি সম্পূর্ণ নির্জন বাস অবলম্ন করেন এবং আমরণ এক্যগ্রচিত্তে আল্লাহর জিকর ও ইবাদাতে মশগুল থাকেন।

খলীফা ইবন খাইয়্যাত, ওয়াকিদী ও আরো অনেকের মতে হযরত কায়স হিজরী ৬০ সনে হযরত মু’য়াবিয়ার (রা) ফিলাফতকালের শেষ দিকে মদীনায় ইনতিকাল করেন। ইবন হিব্বানের মতে তিনি মু’য়াবিয়ার ভয়ে মদীনা থেকে সরে অন্যত্র পালিয়ে থাকেন এবং হিজরী ৮৫ সনে খলীফা আবদুল মালিকের সময় মারা যান। ইবন হাজার আসকালানীর মতে প্রথমোক্ত মতটি সর্বাধিক সঠিক।

মৃত্যুর পূর্বে কিছুদিন অসুস্থ ছিলেন। মদীনার বহু অধিবাসী তাঁর কাছে আর্থিকভাবে ঋণী ছিল। এ কারণে ঋণগ্রস্থরা তাঁকে দেখতে আসতে লজ্জিত হচ্ছিলো। একথা বুঝতে পেরে তিনি ঘোষণা দেন, আমি আমার সকল পাওনা মাফ করে দিলাম। এ ঘোষণা ছড়িয়ে পড়তেই তাঁকে এক নজর দেখার জন্য জনতার মিছিল শুরু হয়ে যায়। লোকের প্রচন্ড ভিড়ে তার বাড়ীর সিঁড়িটি এক সময় ভেঙে পড়ে।

হযরত কায়সের (রা) এক ছেলের নাম ছিল ‘আমের।  তিনি পিতা কায়সের সূত্রে হাদীস বর্ণনা করেছেন। হযরত কায়স ছিলেন স্থুলকায় ও দীর্ঘ দেহী। ‘আমর ইবন দীনার বলেন: তাঁর ছিল বিশাল একটি দেহ ও ছোট্ট একটি মাথা। এত লম্বা ছিলেন যে, গাধার পিঠে সাওয়ার হলে পা মাটিতে গিযে ঠেকতে।  মুখে তাঁর কখনও দাড়ি গজায়নি। আনসাররা রসিকতা করে বলতো, নিজেদের পয়সায় আমরা কায়সের জন্য কিছু পশম কিনতে চাই।

তিনি ছিলেন ‘আলিম সাহাবীদের অন্যতম। তাঁর জীবনের মূল লক্ষ্য ছিল রাসূলুল্লাহর (সা) হাদীদের প্রচার ও প্রসার। জীবনের কোন পর্যায়ে তিনি এ লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হননি। মিসরের আমীর থাকা কালেও সেখানের মসজিদের মিম্বরে দাঁড়িয়ে হাদীস বর্ণনা করতেন।  হাদীদের গ্রন্থসমূহে তাঁর পিতা সা’দ ইবন ‘উবাদা, ‘আবদুল্লাহ ইবন হানজালা প্রমুখ থেকে বর্ণনা করছেন। এই শেষোক্ত ব্যক্তি ছিলেন বয়সে কায়সের চেয়ে ছোট।  তিনি মোট ১৬ (ষোল) টি হাদীস বর্ণনা করেছেন। একথা বলেছেন ‘আল্লামা যিরিক্লী।

হযরত কায়সের নিকট থেকে বহু লোক হাদীস শুনেছেন এবং তাঁর সনদে হাদীস বর্ণনাও করেছেন। এখানে তাঁর বিখ্যাত কয়েকজন ছাত্রের নাম উল্লেখ করা হলোঃ আনাস ইবন মালিক, সা’লাবা ইবন আবী মালিক, আবু মায়সারা, ‘আবদুর রহমান ইবন আবীলায়লা, আবু ‘আম্মার আজ-জাহাবী, গুরাইব ইবন হুমাইদ হামাদানী, আশ-শা’বী, ‘আমর ইবন শুরাহবীল, ‘উরওয়া ইবন যুবাইর, মায়মূন ইবন আবী শায়ব, মুহাম্মদ ইবন আবদির রহমান ও আবু তামীম আল-জায্শানী।

হযরত কায়স ছিলেন একজন বড় মাপের চিন্তাশীল মানুষ। কোন বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিতে গেলে অনেক ভবে-চিন্তে দিতেন। ইসলামের বিধি-বিধানের ব্যাপারেও তাঁর মধ্যে ছিল একটা পরিচ্ছন্ন মুক্ত চিন্তার ছাপ। যেমন একবার এক ব্যক্তি তাঁকে সাদাকাযে ফিতরার ব্যাপারে প্রশ্ন বসলো। তিনি বললেন, যাকাতের হুমুমের পূর্বে রাসূল (সা) সাদাকায়ে ফিতরের নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু যাকাত ফরজ হওয়ার পর সাদাকায়ে ফিতরের নির্দেশও দেননি, আবার নিষেধও করেননি। পূর্ববর্তী নির্দেশের ভিত্তিতেই আমরা এখনও আদায করছি।  হযরত রাসূলে কারীমের (সা) আখলাক ও স্বভাব বৈশিষ্ট্যের দারুণ প্রভাব পড়েছিল তাঁর ওপর। রাসূলুল্লাহর (সা) খিদমাত, পার্থিব ভোগ-বিলঅসিতার প্রতি অনীহা, তাকওয়া, দানশীলতা, চিন্তা ও অনুধ্যান, বীরত্ব ও সাহসিকতা, উদারতা, সকলকে সমানভাবে ভালোবাসা ইত্যাদি ছিল তাঁর চরিত্রের বিশেষ মাধুর্য।

হযরত রাসূলে কারীমের (সা) খিদমাত ও সুযোগ পাওয়া ছিল দ্বনি ও দুনিয়ার সৌভাগ্য। সকল সাহাবী এই সৌভাগ্য অর্জনের জন্য প্রাণপণ চেষ্টা ও সাধনা করতেন। হযরত কায়সও (রা) এ গৌরব ও সৌভাগ্যের একজন অধিকারী। মুসনাদে ইমাম আহমাদে এসেছেঃ

“তাঁর পিতা তাঁকে রাসূলুল্লাহর (সা) সেবায় নিয়োগ করেন।  ইমাম বুখারী তাঁর তারীখে মারয়াম ইবন আ’সয়াদের সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আমি কায়স ইবন সা’দকে দেখেছি। তিনি দশ বছর রাসূলুল্লাহর (সা) খিদমাত করেছেন।

হযরত রাসূলে কারীমের (সা) প্রতি ছিল তাঁর অপরিমিত ভক্তি ও শ্রদ্ধ। একদিন রাসূল (সা) গেলেন সা’দ ইবন ‘উবাদার গৃহে। ফেরার সময় হলে সা’দ নিজের একটি গাধা আনালেন এবং পিঠে একটি চাঁদর বিছালেন। রাসূল (সা) গাধার ওপরে, আর কায়স তার পাশে হাঁটতে শুরু করলেন। রাসূল (সা) তাঁকে পিছনে উঠে বসতে বললেন। কিন্তু তিনি ইতস্তত ভাব প্রকাশ করলেন। তখন রাসূল (সা) বললেন: হয় আমার বাহনের পিঠে উঠে বস, নয়তো ফিরে যাও। রাসূলুল্লাহর (সা) পাশাপাশি বসা আদবের খিলাফ মনে করলেন। তাই ফিরে গেলেন।

উদারতা ও দানশীলতা ছিল তাঁর চরিত্রে এক উজ্জ্বল দিক। আসমাউর রিজাল শাস্ত্রকারগণ তাঁর চিত্তের প্রসস্ততার কথা অকপটে স্বীকার করেছেন। ইবনুল আসীর বলেনঃ

“তিনি ছিলেন অন্যতম জ্ঞানী ও মর্যাদাবান সাহাবী এবং আরবের অন্যতম চালাক ও দানশীল ব্যক্তি।” এ উদারতা ও দানশীলতা ছিল একান্তই তাঁর স্বভাবগত। কিন্তু এ স্বভাব গঠনে দেশের পরিবেশ-প্রকৃতি, মাতা-পিতা ও খান্দানের স্বভাব বৈশিষ্ট্যের যে বড় প্রভাব ছিল তা অনস্বীকার্য।’ জায়শুল খাবাত’ যুদ্ধ থেকে মদীনায় ফিরে পিতার কাছে যখন সৈনিকদের অনাহার ও খাদ্যাভাবের কথা বর্ণনা করছিলেন তখন পিতা তাঁকে বললেন, তুমি উট জবেহ করে আহার করাতে পারতে। তিনি বললেন, আমি তো তাই করছি। দ্বিতীয় পর্যায়ের খাদ্যভাবের কথা বর্ণনা করলে পিতা একই কথা বলেন এবং পুত্রও একই উত্তর দিলেন। এভাবে তৃতীয় পর্যায়ের অনাহারের কথা বর্ণনা করা হলে পিতা তাঁকে একই কথা বললেন। তখন তিনি অভিযোগের সুরে বললেন, আমি তো তাই করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু আমাকে বিরত রাখা হয়েছে।  জাবির থেকে বর্ণিত হয়েছে, এ যুদ্ধে তিনি মোট নয়টি উট জবেহ করেছিলেন।  এই ‘জায়শুল খাবাত’ যুদ্ধে হযরত আবুবকর ও হযরত ‘উমার (রা) কায়সের (রা) উট জবেহ সম্পর্কে যে মন্তব্য করেছিলেন তা সা’দ ইবন ‘উবাদার (রা) কানে পৌঁছুলে তিনি রাসূলুল্লাহর (সা) কাছে ছুটে যান এবং তাঁর পিছনে দাঁড়িয়ে বলেন, ইবন আবু কুহাফা ও ইবন খাত্তাব (আবু বকর ও উ’মার) কেন আমার ছেলেকে কৃপণ বানাতে চেয়েছে- একথার জবাব আপনি দিন।

যে পিতা এমন দরিয়া দিল, তাঁর পুত্র কেমন দানশীল হতে পারেন তা সহজেই অনুমান করা যায়। উসুদুল গাবা গ্রন্থাকর বলেন: তাঁর দানশীলতা সম্পর্কে বহু কাহিনী প্রচলিত আছে। দীর্ঘ হয়ে যাবে তাই উল্লেখ করলাম না।  রাসুল (সা)  বলেছেনঃ দাশীলতা এ বাড়ীর এক বৈশিষ্ট্য।  অন্য একটি বর্ণনায় এসেছে, রাসূল (সা) সম্পর্কে বলেছেনঃ সে দানশীল পরিবারের সন্তান।

দারুকুতনী ইয়াহইয়া ইবন আবদিল আযীয হতে বর্ণনা করেছেন। সা’দ ইবন’ উবাদা ও তাঁর ছেলে কায়স এক বছর এক বছর করে পালাক্রমে যুদ্ধে যেতেন। একবার সা’দ যুদ্ধে গেলেন, কায়স থাকলেন বাড়ীতে। সা’দ যুদ্ধ ক্ষেত্র থেকে খরব পেলেন, মদীনায় রাসূলুল্লাহর (সা) নিকট বহু অতিথি এসেছে। তিনি সাথীদের বললেন: কায়স যদি আমার ছেলে হয় তাহলে সে আমার খাদিম ‘নিসতাস’ কে বলবে: তোমার পিতার অনুমতিপত্র দেখাও। কায়স তখন তার নাকে ঘুষি মেরে চাবি ছিনিয়ে নেবে এবং রাসুলুল্লাহর (সা) প্রয়োজন মত জিনিস বের করে নেবে। বর্ণনাকারী বলেন, বাস্তবেই এমনটি ঘটেছিল। সেবার কায়স রাসূলুল্লাহর (সা) জন্য এক শো ওয়াসাক খাদ্য নিয়েছিলেন।  হযরত কায়সের দানশীলতার আর একটি ঘটনা এখানে উল্লেখ করা অসংগত হবে না। কুসাইর ইবন সাল্ত নামে এক ব্যক্তি আমীর মু’য়াবিয়ার (রা) নিকট ঋণী ছিলেন। আমীর মু’য়াবিয়া (রা) মারওয়ানকে লিখলেন, আপনি কুসাইরের বাড়ীটি খরিদ করুন। যদি সে বিক্রী করতে না চায় তাহলে আমার পাওনা টাকার তাগাদা দিন। টাকা দিয়ে দিলে ভালো, অন্যথায় তার বাড়ীটি বিক্রী করে দিন। কুসাইরকে ডেকে মারওয়ান বিষয়টি জানালেন এবং তাকে তিন দিন সময় দিলেন। বাড়ীটি বিক্রীর ইচ্ছা কুসাইরের ছিলনা। তিন টাকা দিয়ে দেওয়ারই চিন্তা করলেন। কিন্তু ত্রিশ হাজার টাকার ঘাটতি দেখা দিল। এ অর্থ কোথা থেকে স্মরণ হলো। তিনি কায়সের বাড়ী গিয়ে ত্রিশ হাজার টাকা ধার চাইলেন। কায়স টাকা ধার দিলেন। কুসাইর টাকা নিয়ে মারওয়ানের নিকট উপস্থিত হলে সব কথা মুনে তাঁর অন্তরে দয়া হলো। তিনি বাড়ী ও টাকা সবই তাঁকে ফেরত দিলেন। কুসাইর সেখান থেকে উঠে কায়সের নিকট গেলেন এবং তাঁকে ত্রিশ হাজার টাকা ফেরত দিলেন। কায়স-যা আমি একবার কাউকে দিই তা আর ফেরত নিইনা- একথা বলে টাকার বান্ডিল গ্রহণ করতে অস্বীকার করলেন।  একবার এক বৃদ্ধ কায়সের (রা) নিকট এসে তার চরম দারিদ্র ও অভাবের কথা জানিয়ে বললো, এখন আমার ঘরে কোন খাদ্য-খাবার নেই। কায়স বললেন, আপনি বাড়ী ফিরে যান। এখনই আপনার ঘরে শুধু খাবার বস্তু দেখতে পাবেন। অতঃপর তিনি বৃদ্ধার বাড়ীটি তেল, আটা, ঘি, গোশ্ত, খেজুর ইত্যাদি খাদ্য সামগ্রী দিয়ে বরে দেওয়ার নির্দেশ দেন।  জুয়াইরিয়া ইবন আসমা বলেন, কায়স তাদেরকে ঋণ দিতেন ও আহার করাতেন।

তাঁর পিতা হযরত সা’দের (রা) ছিল বিপুল বিষয়-সম্পত্তি। সা’দ (রা) সিরিয়া চলে যাওয়ার সময় যাবতীয় সম্পদ ছেলে-মেয়েদের মধ্যেবণ্টন করে যান। তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর আর একটি ছেলেন জন্ম হয়। তার জন্য কোন অংশ নির্ধারিত ছিল না। আবু বকর ও ‘উমার (রা) কায়সকে তাঁর পিতার বণ্টন বাতিল করে নতুন করে সকল সম্পদ বণ্টন করার পরামর্শ দিলেন। কায়স বললেন, আমার পিতা যেভাবে বণ্টন করে গেছেন সেভাবেই থাকবে। তবে আমার অংশটি আমি তাকে দিলাম।

হযরত কায়স (রা) আল্লাহর কাছে সম্পদের প্রাচুর্য চাইতেন। তিনি একথা বিশ্বাস করতেন, ভালো কিছু করতে হলে সম্পদের প্রয়োজন হয়। সম্পদ ছাড়া কিছুই হয় না। তাই তিনি প্রায়ই দু’আ করতে: ‘হে আল্লাহ, আমাকে সম্পদ দান করুন। কারণ, সম্পদ ছাড়া কোন কাজ হয় না।

সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে ও রাজনৈতিক কূট-কৌশলে তিনি ছিলেন তৎকালীন আরবের অন্যতম সেরা ব্যক্তি। ইবন শিহাব বলেন: অশান্তি ও বিশৃঙ্খলার সময়ে গোটা আরবে কূটচাল ও কৌশল হিসেবে খ্যাত ছিলেন পাঁচ ব্যক্তি। তারা হলেন: মু’য়াবিয়া, ‘আমার ইবনুল ‘আস, কায়স, মুগীরা ও ‘আবদুল্লাহ ইবন বুদাইল। তাঁদের মধ্যে কায়স ও বুদাইল ছিলেন আলীর (রা) সাথে।

তাঁর বুদ্ধি ও চাতুর্য এমন ছিল যে, যতদিন তিনি মিসরের ওয়ালী ছিলেন ততদিন সেখানে আমীর মু’য়াবিয়া ও ‘আমর ইবনুল’ আসের (রা) যাবতীয় ষড়যন্ত্র ও কূটকৈৗশল সফল হতে দেননি। তিনি বলতেন: যদি ইসলাম না আসতো তাহলে আমি এমন ধোঁকাবাজি করতাম যে সমগ্র আরববাসীকে অক্ষম করে ছাড়তাম।  অন্য একটি বর্ণনায় এসেছে, ‘প্রতারক ও ধোঁকাবাজ দোযখী’- রাসূলুল্লাহর (সা) এ বাণী যদি আমি না শুনতাম তা হলে আমি হতাম এ উম্মাতের সর্বশ্রেষ্ট ধোঁকাবাজ।  ইমাম যুহরী বলেছেন, তিনি ছিলেন আরবের শ্রেষ্ট ধূর্ত লোকদের একজন।  তাঁর সমকালীন লোকেরা বলেছেন, যুদ্ধ ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন নির্ভুল সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী, অব্যর্থ কৌশল অবলম্বনকারী, সাহসীু বিচক্ষণ যোদ্ধা।

হযরত ‘উসমানের (রা) শাহাদতের সময়কারে খিলাফতের চতুর্দিকে যখন চরম বিশৃঙ্খলা ও অশান্তি বিরাজমান তখন একদিন হাবীব মাসলামা ঘোড়ায় চলে তাঁর কাছে আসেন এবং তাঁর লক্ষ্য করে বলেন, আপনি এই ঘোড়ার পিঠে চড়–ন। এই বলে তিনি নিজের আসন থেকে একটু সরে তাঁকে সামনে বসার স্থান করে দেন। ‘রাসূল (সা) বলেছেন, বাহনের পিঠে সামনের দিকে মালিকের বসা উচিত- একথা বলে তিনি সামনে বসতে অস্বীকার করেন। বললেন, একথা আমিও জানি। তবে আপনাকে পিছনে বসিয়ে আমি নিশ্চিন্ত হতে পারিনে।

হযরত কায়স (রা) ছিরেন একজন উদার ও নিরপেক্ষ ব্যক্তি। এটা তাঁর জীবনের বিভিন্ন আচরণে ফুটে উঠেছে। একবার কাদেসিয়ায় সাহল ইবন হুনাইফের সাথে বসে আছেন। এমন সময় সামনে দিয়ে একটি লাশ নিয়ে যেতে দেখলেন। মুসলমানদের রীতি অনুযায়ী তক্ষুণি মৃত ব্যক্তির সম্মানে উঠে দাঁড়িয়ে গেলেন। লোকেরা বললো, আপনি অহেতুক দাঁড়িয়ে গেছেন। মৃত ব্যক্তিটি তো একজন জিম্মী। কায়স (রা) বললেন, রাসূলও (সা) এ ইহুদীর লাশ দেখে উঠে দাঁড়িয়ে ছিলেন। মৃত ব্যক্তিটি একজন ইহুদী- একথা বলা হলে তিনি বলেছিলেন, কোন ক্ষতি নেই। সেও তো একটি প্রাণী।

হযরত কায়স (রা) ছিলেন রাসূলুল্লাহর (সা) খাদেম। রাসূল (রা) তাঁকে খুবই আদর ও স্নেহ করতেন। আদর করে তাঁকে অনেক কিছু শিখাতেন। কায়স বলেন, একদিন আমি দু’রাকা’য়াত নামায শেষ করেছি। এমন সময় রাসূল (সা) আমার পাশ দিয়ে অতিক্রম করার সময় পা দিয়ে আমাকে মৃদু আঘাত করে বললেন: আমি কি তোমাকে জান্নাতের একটি প্রবেশ পথ বলে দেব না? বললাম: জ্বী, বলে দিন। বললেন: “লা হাওলা ওয়ালা কুয়াতা ইল্লাবিল্লাহ”।

হযরত রাসূলে কারীম (সা) বাহুবার কায়সের পিতা সা’দ ইবন ‘উবাদ (রা) ও তাঁর বংশধরদের জন্য আল্লাহর নিকট দু’আ করেছেন। একবার বলেন: ‘হে আল্লাহ! আপনি সা’দ ইবন ‘উবাদা ও তার পরিবার-পরিজনদের ওপর দয়া ও করুণা বর্ষণ করুন।

হযরত কায়সের (রা) মধ্যে তাকওয়া ও আল্লাহভীতি এমন রূপ ধারণ করে যে, হযরত হাসানের (রা) খিলাফত থেকে সরে দাঁড়ানোর পর একেবারেই নির্জনবাস অবলম্বন করেন। এরপর বেশীর ভাগ সময় ইবাদাত-বন্দেগীতে অতিবাহিত করেন। তিনি সব সময় ফরজ ইবাদাত সমূহ যথাযথভাবে আদায় করতেন। ‘আশূরা দিনের রোযা নফল। রমজানের রোযা ফরজ হওয়ার পূর্বে সকল সাহাবী ও রোযা রাখতেন। রমজানের রোজা ফরজ হওয়ার পর এর কোন বাধ্যবাধকতা ছিল না। তা সত্ত্বেও হযরত কায়স সব সময় আশূরার রোযা রাখতেন।

হযরত কায়স (রা) ছিলেন হযরত আলীর (রা) সমর্থক। আলী (রা) এবং তাঁর পরে হাসানকে (রা) তিনি খিলাফতের ব্যাপারে সত্যপন্থী মনে করতেন। তাই হাসান যখন মু’য়াবিয়ার (রা) সাথে চুক্তি করে খিলাফত থেকে সরে দাঁড়ান তখন তিনি দারুণ মনঃক্ষুণœ হন। এরপর তিনি রাজনীতির ময়দান থেকে সরে গিয়ে নির্জনবাস অবলম্বন করেন। তা সত্ত্বেও তিনি মু’য়াবিয়ার (রা) খিলাফতকে মনে প্রাণে মেনে নিয়েছেন বলে মনে হয় না। তাঁর বিভিন্ন কথা ও কাজ একথা প্রমাণ করে। এখানে একটি মাত্র ঘটনা উল্লেখ করছি যা বিভিন্ন প্রামান্য গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।

একবার রোমন সম্রাট আমীর মু’য়াবিয়াকে আরব দেশের দীর্ঘতম ব্যক্তির একটি পায়জামা পাঠানোর অনুরোধ জানিয়ে দূত পাঠান। মু’য়াবিয়া (রা) কায়সকে (রা) ডাকিয়ে বলেন, আমার শুধু আপনার একটি পায়জামার প্রয়োজন। তিনি সাথে সাথে উঠে এক কোণে নির্জণে গিযে পরনের পায়জামাটা খুলে হাতে করে নিয়ে এসে মু’য়াবিয়ার দিকে ছুড়ে মারেন। মু’য়াবিয়া বলেন আপনি ঘরে ফিরে গিয়েও তো পাঠিয়ে দিতে পারতেন। হযরত কায়স (রা) তখন কবিতায় মু’য়াবিয়ার (রা) কথার জবাব দেন। তাতে তাঁর প্রবল আবেগ, আকুতি ও ক্ষোভ প্রকাশ পেয়েছে। বিভিন্ন গ্রন্থে সেই কবিতার কয়েকটি চরণ সংকলিত হয়েছে। তার কয়েকটি চরণের অর্থ নিম্নরূপঃ

১.আমি এখনি পায়জামা এ জন্য দিয়েছি যে, লোকে জানুক এটা কায়সের পায়জামা, আর কায়জারের প্রতিনিধিরা সাক্ষী থাকুক।

২.তারা যাতে বলতে না পারে যে, কায়স রাজনীতির রঙ্গমঞ্চ থেকে অদৃশ্য হয়ে গেছে এবং এ একটি সাধারণ পায়জামা।

৩.আমি তো ইয়ামনী গোত্রের একজন নেতা। আর মানুষ তো দু’প্রকারেরই হয়- নেতা ও অনুসারী।

৪.আমার মত মানুষ তাদের জন্য ভীতিকর। তবে আমার স্বভাব ও চরিত্র মানুষের মধ্যে প্রসারিত।

অতঃপর মু’য়াবিয়া (রা) তাঁর বাহিনীর দীর্ঘতম ব্যক্তিকে বলেন সেটি পরতে। সে পায়জামাটি তার নাকের উপর ধরলে তা মাটিতে গিয়ে পড়ে।  ইবনুল আসীর, আবু ‘আমরের বক্তব্যের উদ্বৃতি দিয়ে বলেছেন, মু’য়াবিয়ার দরবারে কায়সের পায়জামা বিষয়ক যে ঘটনাটি বর্ণিত হয়েছে তার কোন ভিত্তি নেই।

তথ্যসূত্র:

About ড. মুহাম্মদ আবদুল মাবুদ