আসহাবে রাসূলের জীবনকথা – চতুর্থ খন্ড

সম্পুর্ণ সূচীপত্র

‘আবদুল্লাহর ইবন’ আবদিল্লাহ ইন উবাই ইবন রাসূল (রা)

‘আবদুল্লাহর (রা) মদীনার বিখ্যাত খাযরাজ গোত্রের হুবলা’ শাখার সন্তান। খান্দানটি খুবই সম্মানিত। এই খান্দানের উর্ধতন এক ব্যক্তি ছিলেন সালেম। তাঁর উপাধি ছিল ‘হুবলা’। আর সেখান থেকেই এই খান্দানের নাম হয়েছে ‘হুবলা’ বলতো। সালেমের পেটটি ছিল ুব মোটা। এই কারণে তাঁকে ‘হুবলা’ বলতো। পরবর্তীকালে তাই তাঁর  খান্দানের নামে পরিণত হয়।১ ‘আবদুল্লাহর (রা) মাতার নাম খাওলা বিনত আল-মুনজির। তিনি বনু নাজ্জার খান্দানের বনু মাগালা শাখার সন্তান।২

এখানে একটি কথা স্মরণ রাখতে হবে যে, আমাদের আলোচ্য ব্যক্তিত্ব আবদুল্লাহর (রা) পিতা রয়িসুল মুনাফিকীন’ (মুনাফিকদের নেতা)’ আবদুল্লাহর ইন উবাই ইবন সালূল। এই মুনাফিক নেতা ইতহিাসে ইন উবাই ইবন সালূল নামে প্রসিদ্ধ। জাহিলী মদীনার খাযরাজ গোত্রের সর্বাধিক সম্মানিত ও প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গের অন্যতম। তার প্রভাব পতিপত্তি ও শক্তি-সামর্থের প্রমাণের জন্য এতটুকু যথেস্ট যে, ইসলাম-পূর্ব মদীনার অধিবাসীরা তাকেই তাদের রাজা বানানোর চিন্তা-ভাবনা করছিল। আউস ও খাযরাজ গোত্রদ্বয়ের মধ্যে দীর্ঘকাল দ্বন্দ্ব-সংঘাত দ্যিমান ছিল। তা সত্ত্বেও তাকে রাজা করার ব্যাপারে কারো দ্বিমত ছিল না। এমন পিতারই ছেলে আবদুল্লাহ (রা)।৩

আবদুল্লাহর (রা) পিতা এই ইন উবাই ইবন সালূল। সে বড় জ্ঞানী, বিচক্ষণ ও কূটকৌশলী ছিল। তাসত্ত্বেও ঈমানের সৌভাগ্য থেকে বঞ্চিত থেকে যায়। রাসূলেকারীম (সা) মদীনায় এসে ইসলামী খিলাফতের ভিত্তি স্থাপন করলে ঈর্ষা ও শত্র“তার এক বিষ্ময়কর দৃশ্য তার মধ্যে দেখা যায়। ইন উবাই ও তার অনুসারী মদীনার কিছু লোক ইসলামের উত্তরোত্তর উন্নতি ও শ্রীবৃদ্ধিকে ঈর্ষা ও বিদ্বেষের দৃষ্টিতে দেখতে থাকে। রাসূলুল্লাহর (সা) প্রভাব-প্রতিপত্তি তাদের নিকট অসহনীয় হয়ে পড়ে। তাই ইসলাম ও মুসলমানদেরকে মদীনার মাটি থেকে উৎখাতের জন্য একের পর এক নানা রকম ষড়যন্ত্র পাকাতে থাকে।

অবশেষে মুসলমানদের বিজয় ও শক্তির কাছে ইবন উবাই ও তার অনুসারীদেরকে বাহ্যতঃ মাথা নত করতে হয়। তারা কপটতার আশ্রায় নিয়ে মুসলমানদের দলে ভিড়ে যায়।তার এই দলটির সদস্যরা মুনাফিক (কপট মুসলমান) এবং সে মুনাফিকদের নেতা হিসাবে ইসলামের ইহিাসে প্রসিদ্ধ। পৃথিবীতে যত মুনাফিক জন্মাবে তাদের নেতা এই ইবন উবাই ইবন সালূল। হিজরাতের পর মদীনায় রাসূলুল্লাহর (সা) ও সাহাবায়ে কিরামের (রা) ওপর যত দুঃখ-কষ্ট ও বিপদ-আপদ আপতিতর হয়েছে তার প্রায় প্রত্যেকটির সাথে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এই ইন উবাই ও তার দলবল কোন না কোনভাবে জড়িত ছিল। তার ও তার দলের কীর্তি-কলাপের বর্ণনার কুরআনের বহু আয়াত নাযিল হয়েছে। সূরা ‘আল-মুনাফিকুন’ তো তাদের স্বভাব-বৈশিষ্ট্যের বিবরণ।৪

কথায় বলে ফির’আউনের ঘরে মূসা বা যেখানে ফির’আউন সেখানে মূসা। এক্ষেত্রেও তাই; এহন কট্টর ইসলামের দুশমন ও চরম মুনাফিকের ঔরসে জন্মগ্রহণ করেন মহান সাহাবী আবদুল্লাহ (রা)। পিতার নাপাক আছর থেকে তিনি সম্পূর্ণ মুক্ত থাকেন। এতবড় বুদ্ধিমান পিতা নিজের ছেলের ওপর বিন্দুমাত্র প্রভাব সক্ষম হয়নি।

এই মুনাফিক ইবন উবাই তৎকালীন আরবের একজন বিখ্যাত সাধু আবু ‘আমের আর-রাহিব-এর খালাতো ভাই। রাসূলুল্লাহর (সা) আবির্ভাবের অব্যবহিত পূর্বে আরবের যে সকল সাধু পুরুষ তাঁর শীঘ্র আগমনের কথা বলতেন এবং তাঁর ওপর ঈমান রাখতেন, এই আবু আমের তাঁদের একজন। জাহিলী আমলে তিনি পার্থিব ভোগ-বিমুখ সন্যাস ও বৈরাগ্য জীন গৃহণ করেন। ন্তিু যখন রাসূল (সা) নবী হিসেবে আত্মাপ্রকাশ করলেন তখন তিনি স্বীয় বিশ্বাস থেকে সরে গেলেন। বদরে িিন মুশরিকদের সাথে একাত্ম হয়ে রাসূলুল্লাহর (সা) বিরুদ্ধে গুদ্ধ করলেন এ কারণে রাসূল (সা) তাঁকে আল-ফাসেক’ (পাপাচারী) অভিধায় চিহ্নিত করলেন।৫

রাসূলুল্লাহ (সা) মদীনায় আসার আগেই আবদুল্লাহ (রা) ইসলাম গ্রহণ করেন। তাঁর ইসলাম পূর্ব নাম ছিল আ-হুবাব। উরওয়া বলেনঃ রাসূলুল্লাহর (সা) অভ্যাস ছিল কারো খারাপ নাম শুনলে তা পরিবর্তন করে দেওয়া। একদিন িিন আল-হুবাবকে বললেন: এখন থেকে তোমার নাম হবে আবদুল্লাহ। কারণ, আল-হুবাব হচ্ছে শয়তানের নাম।৬ এভাবে পিতা-পুত্রের নাম এক হয়ে যায়।

‘আবদুল্লাহ (রা) একজন বদরী সাহাবী। রাসূলুল্লাহর (সা) সাথে বদরে অংশগ্রহণ করেন। পরবর্তীকালে সকল যুদ্ধ ও অভিযানে তাঁর যোগদানের কথা জানা যায়।৭ তিনি উহুদেও যুদ্ধ করেন। এ যুদ্ধে তাঁর সামনের দুটি দাঁত শহীদ হয়। যুদ্ধের পর রাসূল (সা) তাঁকে বলেন, তুমি দুটি সোনার দাঁত বানিয়ে লও। একথা আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত হয়েছে। তবে ইবন মুন্দাহ উল্লেখ করেছেন যে, দাঁত নয়, বরং তাঁর নাক বিচ্ছিন্ন হয় এবং তিনি সোনার একটি নাক প্রতিস্থাপন করেন। কন্তিু এ ধারণা সঠিক নয়।৮

আবু সুফইয়ান উহুদ থেকে প্রত্যাবর্তন কালে ্ককেটি পাহাড়ের ওপর উঠে চিৎকার করে বলে: আগামী বছর বদরে আবার তোমাদের সাথে সাক্ষাতের প্রতিশ্র“তি রইলো। এ ঘোষণা শুনে রাসূল (সা) একজন সাহাবীকে বললেন: তুমি বল, হাঁ, সেখানেই তোমাদের সাথে সাক্ষাতের প্রতিশ্র“তি দিলাম।৯ ইবন ইসহাক বলেন: আবু সুফইয়ানের সাথে এ অঙ্গীকার রক্ষার জন্য রাসূল (সা) হিজরী চতুর্থ সনের শা’বান মাসে দ্বিতীয়বার বদরে উপস্থিত হন। ইতিহাসে যা বদর আল আখেরাহ নামে পরিচতি। উবন হিশাম বলেন: এ যাত্রায় রাসূল (সা) তাঁর অনুপিিস্থতিতে প্রতিনিধি হিসেবে আবদুল্লাহকে (রা) মদীনায় রেখে যান।১০

বুন আল মুসতালিক মতান্তরে তাবুক যুেদ্ধর এক পর্যায়ে উট-ঘোড়ার পানি পান করানোকে কেন্দ্র করে একজন আনসার ও একজন মুহাজির ব্যক্তির মধ্যে ঝগড়া হয়। এ ঝগড়ার এক পর্যায়ে মুনাফিক ইবন উবাই রাসূল (সা) ও মুহাজিরদের প্রতি ইঙ্গিত করে মন্তব্যÑ‘মদীনায় পৌঁছাতে পারলে আমরা অভিজাতরা ইে ইতরদেরকে বের করে দেব।’১১ একথা রাসূলুল্লাহর (সা) কানে গেলে এবং অন্যান্য মুসলমানদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে দারুণ উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। উমার (রা) তো রাসূলুল্লাহর (সা) সামনে এসে বলেই ফেললেন: যদি অনুমতি দান করেন তো এই মুনাফিকের মাথাটা ধর থেকে আলাদা করে ফেলি।’ রাসূল (সা) তাঁকে বললেন: বাদ দাও। তা করলে লোকে বলবে, মুহাম্মদ তার সঙ্গীদের হত্যা করে।:১২

আল্লাহর রাসূল (সা) ও তাঁর বহু পরীক্ষিত মুহাজির সঙ্গী-মুহাজির সঙ্গী-সহচরদের সম্পর্কে উচ্চারিত ইবন উবাইর মহাআপত্তিকর মন্তব্যটি এক সময় ছেলে আবদুল্লাহর (রা) কানে গেল। তিনি রাসূলুল্লাহর (সা) সামেনে হাজির হয়ে বললেন, আমার পিতা আপনাকে ‘ইতর’ বলে গালি দিয়েছেন। আমি আল্লাহর নামে কসম করে বলছি, আপনি নন, তিনিই ইতর। তারপর যে কথাটি তিনি বললেন তা অতি চমকপ্রদ ও বড় বিষ্ময়কর। বললেন, গোটা খাযরাজ গোত্রের মধ্যে আমার চেয়ে বশী পিতার বাধ্য ও অনুগত ছেলে দ্বিতীয়টি নেই। তবুও আপনি যদি তাঁকে কাতে চান তো আমাকে হুকুম দিন। আমি তার মাথাটি আপনার নিকট হাজির করছি। কিন্তু অন্য কোন মুসলমান যদি আমার পিতাকে হত্যা করে তাহলে ামার পিতর ঘাতক হবে আমার চোখের কাঁটা। আমি তাকে সহ্য করতে পারবো না। তখন হয়তো তাকে হত্যা করবো এবং একজন মুসলমান হত্যার দায়ে জাহান্নাম হবে আমার ঠিকানা। তাঁর কথা শেষ হলে রাসূলুল্লাহর (সা) বললেন: তাকে হত্যা করানোর কোন উদ্দেশ্য ও ইচ্ছা আমার নেই।১৩

‘আবদুল্লাহ (রা) রাসূলুল্লাহর (সা) সাথে কথা শেষ করে রাস্তায় এসে দাঁড়ালেন। পিতাকে আসতে দেখে উটের পিঠ থেকে নেমে অসি উঁচু করে ধরে বললেন: যতক্ষণ আপনি মুখ দিয়ে একথা উচ্চারণ না করবেনÑ‘আমি ইতর এবং মুহাম্মদ অতি সম্মানীয়ঃÑততক্ষণ এ অসি কোষবদ্ধ হবে না। আপনি এক পাও এগুতে পারবেন না। অবস্থা বেগতিক দেখেসে উচ্চারণ করলোÑ‘তোর ধ্বংস হোক! মুহাম্মদ সম্মানীয় এবং আমি ইতর।’ একটু পিছনে রাসূলে কারীম (সা) আসছিলেন। পিতা-পুত্রের সংলাপ কানে গেল। তিনি আবদুল্লাহকে নির্দেশ দিলেন: তাকে ছেড়ে দাও। আল্লাহ কসম! যতদিন সে আমাদের মধ্যে আছে আমরা তার সাথে ভালো ব্যবহার করবো।১৪ উরওয়া বলেন: হানজালা ইবন আবী আমের ও আবদুল্লাহ ইবন আবদিল্লাহÑএ দুইজনের প্রত্যেক নিজ নিজ পিতাকে হত্যার জন্য রাসূলুল্লাহর (সা) অনুমতি চেয়েছিলেন। রাসূলুল্লাহর (সা) তাঁকেরকে বিরত রাখেন।১৫

তাবুক যুদ্ধ থেকে রাসূলুল্লাহর (সা) মদীনায় ফেরার পর মুনফিক আবদুল্লাহ ইবন উবাই মারা যায়।১৬

সাহীহ হাদীস সমূহের মাধ্যমে উম্মতে মুহাম্মাদী এ সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে, পবিত্র কুরআনের সূরা তাওবার আশি ও চুরাশিমত আয়াত দুটি মুনাফিক আবদুল্লাহ ইবন উবাই-এর মৃত্যু ও তার জানাযা সম্পর্কে নাযির হয়েছে। আশিতম আয়াতে আল্লাহ তা’য়ালা বলেছেন: ‘তুমি তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর আর না কর (উভয় সমান)। যদি তুমি তাদের জন্য সত্তর বারও ক্ষমা প্রার্থনা কর, পথাপি কখনোই তাদেরকে আল্লাহ ক্ষমা করবেন না। তা এজন্য যে তারা াল্লাহকে এবং তাঁর রাসূলকে অস্বীকার করেছে।’ সাহীহাইবন (অর্থাৎ বুখারী ও মুসলিম)-এর বর্ণনা দ্বারা প্রামাণিত হয়েছে যে, তার জানাযায় রাসূল (সা) নামায পড়েন, তার কবরের পাশে দাঁড়ান এবং তার ছেলে আবদুল্লাহকে (রা) সান্ত্বনা দেন। নামায পড়ার পরই চুরাশিমত আয়াতটি নাযিল হয়। এ আয়াতে বলা হয়: আর তাদের মধ্য থকে করো মৃত্যু হলে তার ্পর কখনও নামায পড়বেনা এবং তার কবরে দাঁড়াবে ন। তারা তো আল্লাহর প্রতি অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করেছে এবং রাসূলের প্রতিও। বস্তুতঃ তারা না-ফরমান অবস্থায় মৃত্যুবরণকরছে।’ এ আয়াত নাযিলের পর রাসূলে কারীম (সা) আর ােন মুনাফিকের জানাযায় নামায পড়েননি।

রাসূলে কারীমের (সা) গায়ে তখন দুইটি জামা ছিল। আবদুল্লাহ (রা) নীচের জামাটি পসন্দ করলেন। রাসূলুল্লাহর (সা) দেহের পবিত্র ঘামতাতে লাগা ছিল। রাসূল (সা) আবদুল্লাহকে (রা) জামাটি দিয়ে বললেন, কাফন পরানো হলে আমাকে খবর দেবে, আমি জানাযায় নামায পড়াবো। অন্য একটি বর্ণনায় এসেছে। লাশ কবরে নামানোর পর রাসূল (সা) আসেন। কবরে নেমে লাশ হাঁটুর ওপর রেখে তাকে জামা পরান এবং পবিত্র মুখের লালা লাগনা। তারপর জানাযার নামাযের জন্য দাঁড়ান।

জানাযার নামাযে দাঁড়ালে উমার ইবন খাত্তাব (রা) রাসূলুল্লাহর (সা) কপড় টেনে ধরে নিবেদন করলেন, আপনি এ মুনাফিকের জানাযা পড়ছেন, অথচ অথচ আল্লাহ আপনাকে নামায পড়তে বারণ করেছেন। রাসূল (সা) মৃদু হেসে বললেন: যাও, নিরে স্থানে গিয়ে দাঁড়াও। এরপরেও উমার (রা) যখন একটু বাড়াবাড়ি করতে লাগলেন তখন রাসূল (সা) বললেন: আল্লাহ আমাকে এখতিয়ার দিয়েছেনÑমাগফিরাতের দু’আ করবো অথবা করবো না। যদি সতÍ বারের বেশীও মাগফিরাত চাইলে সে ক্ষমা পায় তাহলে আমি তার জন্যও প্রস্তুত আছি।

অতঃপর রাসূল (সা) তার জানাযার নামায পড়েন এবং নামাযের পরেই চুরাশিতম আয়াতটি নাযিল হয়। এ অহীর মাধ্যমে উমার (রা) স্বয়ি কর্ম ও আরণের সমর্থন লাভ করেন। তিনি নিজের এমন দুঃসাহসের জন্য দারুণ বিম্ময়বোধ করেন।১৭

খলীফা আবু বকরের (রা) খিলাফতকালে আবদুল্লাহ (রা) ইয়ামামার যুদ্ধে শাহাদাত বরণ করেন। এটা হিজরী ১২ সনের রবীউল আওয়াল মাসের ঘটনা।১৮

আবদুল্লাহ ছিলেন অতি মর্যাদাবান সাহাবীদের অন্তর্ভূক্ত। আয়িশা (রা) তাঁর সম্বন্ধে হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি লিখতে জানতেন। মাঝে মাঝে অহী লেখার দায়িত্বও পালন করেছেন।১৯

আবদুল্লাহ (রা) ছিলেন মুনাফিক পিতার একজন সুসন্তান। পিতার কপটতাপূর্ণ জীবন সর্বদা তাঁকে পীড়া দিত। তিনি ভীষণ কষ্ট পেতেন।২০ বিপথগামী পিতাকে সত্য ও সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার জন্য চেষ্টার কোন ত্র“টি করেননি। পিতার এ বিপথগামিতা সত্ত্বেও সন্তান হিসেবে তার প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে কখনও শৈথিল্য দেখাননি। ইসলামী বিধানের আওতায় থেকে সব সময় পিতার আনুগত্য করেছেন। তার মৃত্যুর পরেও মুক্তির আশায় সন্তান হিসেবে যা কিছু করার সবই করেছেন।

সথ্যসূত্র:

 

About ড. মুহাম্মদ আবদুল মাবুদ