আসহাবে রাসূলের জীবনকথা – চতুর্থ খন্ড

সম্পুর্ণ সূচীপত্র

রাফে’ নি খাদীজ (রা)

রাফে’ (রা) হিজরাতের বারো বছর পূর্বে ৬১১ খ্রীষ্টাব্দে অন্মগ্রহণ করেন।১ তিনি মদনিার বিখ্যাত খাযরাজ, মতান্তরে আউস গোত্রের বনু আল-হারেসার সন্তান। তিপা খাদীজ ইবন রাফে’ এবং মাতা হালীমা বিনত মাসউদ। দাদার নামে তাঁর রাখা হয়।২ রাফে’-এর ডাকনাম আবূ আবদিল্লাহ। ইমাম বুখারী বলেছেন আবূ খাদজি।৩ তিনি রাসূলুল্লাহর (সা) দুইজন নামকরা সাহাবী ও জহীর ও মুজাহির ইবন রাফে’-এর ভাতিজা।৪

প্রাচীন মদীনার আবদুল্লাহ আশহাল ও আল-হারেসা গোত্র দুইটি শক্তি ও সামর্থের দিক দিয়ে সমপর্যায়ের ছিল। তাদের মধ্যে ঝগড়-বিবাদ এবং পরিণতিতে দ্বন্দ্ব-সংঘাত সবসময় লেগেই থাকতো। উসাইদ ইবন হুদাইরের (রা) দাদাদ সিমাক ইবন রাফে’ কে এই গোত্রদ্বয়ের লোকেরা কেটি যুদ্ধে হত্যা করে এবং তার বংশের লোকদের মদীনা থেকে বিতরাড়িত করে। উসাইদের পিতা হুদাইর আল-হারেসা গোত্র অবলোধ করে পিতৃহত্যার প্রতিশোধ নেন এবং তাদেরকে পরাভূত করে খায়বারে তাড়িয়ে দেন। বনু আল-হারেস খঅয়বারে বসরাস করতে থাকে। এর মধ্যে হুদাইরের অন্তরে দয়ার সঞ্চায় হয়। তিনি বনু আল-হারেসাকে আবার মদীনায় ফিরে এসে বসবাসের অনুমতি দান করেন।

রাফে’ ইবন খাদীজের (রা) পূর্বপুরুষ এই বনু আল-হারেসার রয়িস বা নেতা ছিলেন। বাবা-চাচার মৃত্যুর পর এ নেতৃত্ব লাভ করেন রাফে’ এবং আজীবন তা হাতছাড়া হয়নি। রাসূলে কারীমের (সা) হিজরাতের সময় রাফে’ অল্পবয়স্ক এক বালকমাত্র।তা সত্ত্বেও ইসলাম তাঁর অন্তরে গভীর ছাপ ফেলেছিল। তাঁর দুই চাচা জহীর ও মুজহির তখন মুসলমান।

বদর যুদ্ধের সময় রাফে’র বয়স চৌদ্দ বছর। যুদ্ধে যাওয়ার ইচ্ছা দিয়ে রাসূলুল্লাহর (সা) সামনে হাজির হলেন। যুদ্ধে যাওয়ার বয়স হয়নি দেখে খান্যদের সাথে তাঁওে ফেরত দিলেন। এভাবে হযরত রাফে’ বদরের যোদ্ধা হতে পারলেন না।৫

মদীনার ছোট ছেলেদেরপ্রতিবছর রাসূলে কারীমের (সা) সামনে হাজির করা হতো।৬ তিনি তাদের মধ্য থেকে যারা যুদ্ধে যাওয়ার যোগ্য মনে করতেন তাদেরকে বাছাইকরতেন। হিজরী ৩য় সনে উহুদ যুদ্ধে মাত্রার সময় রাফে’ কে রাসূলুল্লাহর (সা) সামনে আনা হয়। তখন তাঁর বয়স পনেরো বছর পূর্ণ হয়েছে। সুতরাং তিনি যুদ্ধে যাওয়ার অনুমতি লাভ করেন। এ সময় তাঁরই সমবয়সী সামুরা ইবন জুন্দুবের সাথে তাঁর এটি মজার ঘটনা ঘটে। রিজাল’ শাস্ত্রের প্রায় সকল গ্রন্থে ঘটনাটি বর্ণিত হয়েছে।

এ সম্পর্কে রাফে’ বলেন: আমি সারিতে দাঁড়িয়ে গায়ের আঙ্গুলে ভর দিয়ে নিজেকে উঁচু করে দেখাচ্ছিলাম। রাসূলুল্লাহকে (সা) পূর্বেই বলা হয়েছিল যে, আমি একজন দক্ষ তীরন্দায়। অতঃপর রাসূল (সা) আমাকে অনুমতি দান করেন। তখন আমারই সমবয়সী সামুরা বিন জুন্দুরব তাঁর সৎ পিতা মুররী ইবন সাবিতকে বললো: রাসূল (সা) রাফে’ ইবন খাদিজকে অনুমতি দিলেন’ কিন্তু আমাকে ফেরত দিলেন। মুররী তখন বললেন: ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি রাফে’ কে অনুমতি দিয়েছেন, আর আমার ছেলে সামুরাকে ফেরত দিয়েছেন। সে কিন্তু কুসিএত রাফে’ কে হারিয়ে দিতে পারে। তখন রাসূল (সা) বলেন: তোমরা দুইজনকুস্তি লাগো।’৭ এভাবে তাঁরা দুইজন কুস্তি লাগেন এবং সামুরা রাফে’ কে হােিয় দিয়ে রাসূলুল্লাহর (সা) অনুমতি লাভ করেন। ইবন হিশাম বলেন: দুই জনেরই বয়স তখন পনেরো বছর।৮

এই উহুদ যুদ্ধে শত্র“ পক্ষের নিক্ষিপ্ত একটি তীর রাফে’র বুকে লাগে। তীরটি হাড় ভেদ করে ভিতরে ঢুকে যায়। এ সম্পর্কে ইমাম আল-বায়হাকী বর্ণনা করেছেন। উহুদ অথবা হুনাইনের দিন রাফে’ ইবন খাদীজের বুকেতীর বিদ্ধ হয়। তাকে রাসূলুল্লাহর (সা) নিকট আনা হলে আরজ করলেন: হে আল্লাহ রাসূল! আমার বুক থেকে তীরটি বের কর দিন। রাসল (সা) বললেন:‘তুমি চাইলে আমি ফলসহ তীরটি বের করে দিতে পারবো। আর তুমি চাইলে আমি শুধু তরিটি বের করে আনাে এবং ফলাটি থেকে যাবে। সে ক্ষেত্রে আমি কিয়ামতর দিন সাক্ষ্য দেব যে তুমি একজন শহীদ।’ তখন রাফে’ বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি তাহরে তীরটিই বের করে আনুন, ফলাটি থাক। কিয়ামতের দিন আপনি আমার জন্য সাক্ষ্য দিন যে, আমি একজন শহীদ। এ অবস্থায় হযরত মু’য়াবিয়ার (রা) খিলাফতকাল পর্যন্ত বেঁচে থাকেন। অবশেষে ক্ষতস্থানে পচন ধরে মৃত্যুবরণ করেন।৯

উহুদ যুদেধ কিভাবে মুসলমানদের পরাজয় হয় রাফে’ পরবর্তীকালে তা বর্ণনা করতেন। সেই বর্ণনার মধ্যে এ যুদ্ধের একটা চিত্র ফুটে ওঠে।১০

খন্দকসহ পরবর্তীকালে সকল যুদ্ধ ও অভিযানে তিনি অংশগ্রহণ করেন।১১ সিফফীনের যুদ্ধে তিনি আলীর (রা) পক্ষে যোগদান করেন।১২

তীরের যে আগাটি রাফে’র শরীরে ভিতরে ছিল, দীর্ঘদিন পর তা ক্ষতের সৃষ্টি করে, এবং সেই যন্ত্রণায় তিনি মারা যান। তিনি মদীনায় বসবাস করতেন এবং সেখানেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তাঁর মৃত্যুসন নিয়ে রিজাল শাসত্রবিদদের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা যায়। তবে একটি ব্যাপারে সকলে একমত যে, আবদুল্লাহ ইবন উমার (রা) তাঁর জানাযার নামায পড়ান। ইমাম আল-বুখারী তাঁর তারীখে বলেছেন যে, তিনি মু’য়াবিয়ার (রা) খিলাফতকালে মারা যান। তিনি তারীখুল আওসাত গ্রন্থে হিজরী ৫০-৬০ সনের মধ্যে যাঁরা মারা গেছেন’ শিরোনামের অনুচ্ছেদে রাফে’র নামটি উল্লেখ করেছেন। আর ইবন কানে’ নির্দিষ্ট করে হিজরী ৫৯ সনের কথা বলেছেন।১৩ পক্ষান্তরে আল-ওয়াকিদী রাফে’ ইবন খাদীজের কোন কোন সন্তানের সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি হিজরী ৭৪ সনের প্রথম দিকে ৮৬ বছর বয়সে মদীনায় মারা  যান।১৪ আর তখন আবদুল মালিক ইবন মারওয়ান খিরাফতের মসনদে আসীন।

একথা প্রমাণিত যে, আবদুল্লাহ ইবন উমার তাঁর জানাযার নামায পড়ান। আর এটাও স্বীকৃত যে, তিনি হিজরী ৭৪ সনের প্রথম দিকে মক্কায় ছিলেন। তাই অনেকে বলেছেন, রাফে’ ইবন খাদীজের ক্ষতে পঁচন ধরে আগেই এবং তিনি মারা যান হিজরী ৭৪ নরে ইÍ উসার সব্বা থেকে মদীনায় ফিরে আসার পর। অতবা হিজরী ৭৩ সনে মারা যান ইবন উমারের (রা) মক্কা যওয়ার আগে। ইবন উমার (রা) তাঁর সনে মারা যান। আর এটাই অধিক যুক্তিঙ্গত।১৫

মুসনাদে ইমাম আহমাদে এসেছে, তাঁকে কাফন পরিয়ে বাইরে আনা হয়েছিল এবং তাঁর ওপর একটি লাল চাদর বিছিয় দেওয়া হয়েছিল।’১৬ লাশের সাথে বিপুল সংখক লোক চলেছিল। ঘর থেকে মহিলারা কাঁদতে ও মাতম করতে করতে বের হয়েছিল। তাঁর মৃত্যু ও জানাযা সম্পর্কে অনেকবর্ণনা সীরাত ও রিজাল’ শাস্ত্রে রগ্রন্থাবলীতে ধেখা যায়। এখানে তার কয়েকটি হুবহু নকল করা হলো:

আবূ নুসরা বলেন: আমি রাফে’ ইবন খাদীরেজ জানাযায় যোগ দিয়েছিলেন। অশংগ্রহণকারীদের মধ্যে ইবন উমারও ছিলেন। মহিলারা চিৎকার করে কান্না জুড়ে দিলে তিনি বললেন: চুপ কর। এই বৃদ্ধের আল্লাহর আযব (শাস্তি) সহ্য করার শক্তি নেই। রাসূলুল্লাহর (সা) বলেছেন: মৃত ব্যক্তিকে তার পরিবারের লোকদের মাতম ও কান্নার জন্য আযাব দেওয়া হয়।১৭

শু’বা ইউসুফ ইবন মাহাক থেকে বর্ণনা করেছেন। ইউসুফ বলেছেন: আমি দেখেছি যে, ইবন উমার রাফে’ ইবন খাদীজের লাশবাহী খাটিয়ার সামনের দুইটি পায়া ধরে স্বীয় কাঁধে রাখেন এবং আগে আগে হেঁটে কবর পর্যন্ত পৌঁছেন। এ সময় তিনি বলেন: মৃতকে জীবিত লোকদের কাঁদার জন্য আযাব দেওয়া হয়।১৮

বিশর ইবন হারব থেকে হাম্মাদ বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন: রাফে’ ইবন খাদীজ মারা গেলে ইবন উমারকে বলা হলো, রাতে পোহানো পর্যন্ত দাফন দেরী করা হোক। তাহলে শহরবাসীদেরকে জানিয়ে দেওয়া যাবে। তিনি বললেন: তোমাদের এ সিদ্ধান্ত অতি চমৎকার। কহিশাম ইবন সা’দ বর্ণনা করেছেন উসমানইবন উবাইদুল্লাহ থেকে। তিনি বলেছেন: রাফে মারা গেলে সূর্যোদয়ের পূর্বে লাশ আনা হলো জানাযার জন্য। ইবন উমার বললেন: সূর্যোদয়ের আগে তার জানাযা পড়োনা।১৯

রাফে’ ইবন খাদীরে (রা) দৈহিক গঠন ও আকৃতির তেমন বিবণ পাওয়া যায় না।  এতটুকু জানা যায় যে, তিনি চিকন করে মোট রাখতেন এবং চুরে খিজাব লাগাতেন। মৃত্যুকালে তিনি দাস-দাসী, ইট ও ভূ-সম্পদ উত্তরাধিকার হিসেবে রেখে যান।২০

আবদুল্লাহ, রিফায়া, আবদুর রহমান, উবইদুল্লাহ, সাহল ও উবাইদÑতাঁর এই ছয় ছেলের নাম জানা যায়। আবদুল্লাহ পিতর মসজিদের ইমাম ছিলেন। উবাইদ ছিলন দাসীর পেটের সন্তান। আর অন্য ছেলেরা ছিলেন তাঁর লুবনা ও আসমা নাøী দুই স্ত্রীর পেটের সন্তান। তাঁর এই সন্তানদের বংশধারা বহুকাল যাবত মদীনা ও বাগদাদে বিদ্যমান ছিল।২১

রাফে’ (রা) রাসূল (সা) ও চাচা জহীর ইবন রাফে’ (রা) থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন।২২ হাদীসের গ্রন্থসমূহে তাঁর সনদে সর্বমোট ৭৮ (আটাত্তর) টি হাদীস বর্ণিত হয়েছে।২৩ তাঁর থেকে যাঁরা হাদীস বর্ণনা করেছেন, সেই সকল রাবীর মধ্যে সাহাবী ও তাবেঈÑউভয় শ্রেণীর ব্যক্তিরা আছেন। এখনে তাঁদের কয়েকজনের নাম দেওয়া হলো:

ইবন ‘উমার, মাহমুদ ইবন লাবীদ, সায়ব ইবন ইয়াযীদ, উসাইদ ইবন জহীর, মুজাহিদ, আতাঃ, শা’বী, ‘আবাইয়া ইবন রিফায়া’, উমরা বিনত আবদির রহমান সা’ঈদ ইবন মুনায়্যিব, নাফে’ ইবন জুবাইর, আবু সালামা ইবন আবদির রহমান, আবু আন-নাজ্জাশী, সুলায়মান ইবন ইয়াসার, ‘ঈসা, উসমান ইবন সাহ্ল হারীর ইবন আবদির রহমান ইয়াহইয়া ইবন ইসহাক সাবিত ইবন আনাস ইবন জহীর, হানজালা ইবন কায়স, নাফে’ আল-উমারী, ওয়াসি’ ইবন হিব্বান মুহাম্মদ ইবন ইয়াহইয়া ইবন হিববান, উবাইদুল্লাহ ইবন আমর ইবন উসমান প্রমুখ।২৪

 রাফে’ ইবন খাদীজ (রা) ছিলেনমদীনার মুফতী সাহাবীদের অন্যতম। যিয়াদ ইবন মীনা বলেন: ইবন আব্বাস ইবন উমার আবু সা’ঈদ আল-খুদরী আবদুল্লাহ ইবন আমর ইবনুল আস, জাবির ইবন আবদিল্লাহ রাফে ইবন খাদীজ সালামা ইবন আকওয়া আবু ওয়াকিদ আল-লাইসী আবদুল্লাহ ইবন বুহাইনা এবং এঁদের মত রাসূলুল্লাহর (সা) আরো অনেক সাহাবী মদীনায় ফাতওয়া দিতেন এবং রাসূলুল্লাহর (সা) হাদীস বর্ণনা করতেন। এ কাজ তাঁরা করতেন উসমানের (রা) মৃত্যু থেকে তাঁদের মৃত্যু পর্যন্ত।২৫ ইমাম জাহাবী বলেন: তিনি মু’য়াবিয়ার (রা) সময় ও তার পরে মদীনায় যাঁরা ফাতওয়া দিতেন তাঁদের মধ্যে অন্যতম।২৬ ইবন আব্বাস (রা) মারা গেলে রাফে’ ইবন খাদীজ মন্তব্য করেছিলেন: আজ এমন এক ব্যক্তি মারা গেলেন যাঁর প্রতি মাশরিক ও মাগরিবের পূর্ব থেকে পশ্চিম পর্যন্ত সকল জ্ঞানী ব্যক্তি মুখাপেক্ষী ছিলেন।২৭ তিনি ছিলেন একজন মরুচারী মানুষ। কৃষি ও সেচকাজে ছিলেন দক্ষ।২৮

ইতা’য়াতে রাসূল ও আমর বিল মা’রূফÑরাসূলের (সা) আনুগত্য ও সৎ কাজের আদেশ করা ছিল তাঁর চরিত্র ও স্বভাবের উজ্জ্বলতম বৈশিষ্ট। একবার নু’মান আলÑআনসারীর একজন দাস জনৈক ব্যক্তির বাগান থেকে খেজুরের ছোট গাছ উপড়ে ফেলে। বিষয়টি মারওয়ানের আদালতে উত্থাপিত হয়। তিনি চুরির অপরাধ আরোপ করে হাত কাটার সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছিলেন। তখন রাফে’ বললেন: রাসূল (সা) বলেছেন: ফলের জন্য হাত কাটা যাবেনা।২৯

একবার মারওয়ান ভাষণের মধ্যে বললেন: মক্কা হারাম। মাবেশে রাফে’ উপস্থিত ছিলেন। তিনি চেঁচিয়ে বললেন, মক্কা হারাম, তা ঠিক আছে। তবে মদীনাও হারাম। মদীনাকে রাসূল (সা) হারাম ঘোষণা করেছেন। আমার কাছে হাদীসটি লেখা আছে। তুমি চাইলে দেখতে পারি। মারওয়ান বললেন, হাঁ, হাদীসটি আমিও শুনেছি।৩০

রাসূলে কারীমের (সা) প্রতি ছিল তাঁর সীমাহীন ভক্তি, শ্রদ্দা ও ভালোবাসা। তাঁর জীবনের বহু কথা, কাজ ও আচরণে তা ফুটে উঠেছে। একবার তাঁর চাচা জহীর (রা) এসে বললেন, আজ রাসূল (সা) একটি জিনিসের ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন। অথচ এতে আমাদের কিছু সহজ হতো। রাফে’ (রা) সাথে সাথে বলে উঠলেন: চাচা। রাসূল (সা) যা কিছু বলেছেন তাই সত্য।৩১

একদিন তিনি স্ত্রি সম্ভোগে মগ্ন আছেন। আর ঠিক সেই সময় রাসূলে কারীম (সা) এসে ডাক দিলেন। আল্লাহর রাসূলের (সা) কষ্ঠস্বর কানে পৌঁছার সাথে সাথে তিনি উঠে দাঁড়িয়ে যান এবং পাকসাফ হয়ে বেরিয়ে আসেন।৩২

রাফে’ (রা) একদিন রাসূলুল্লাহর (সা) নিকট গিয়ে দেখলেন, সেখানে হাঁড়িয়ে টগবগ করে গোশত সিদ্ধ হচ্ছে। তাঁর খেতে খুব ইচ্ছে হলো। তিনি এক টুকরো মুখে দিয়ে গিলে ফেললেন। এরপর থেকে তাঁর পেটের পীড়া দেখা দিল। এক বছর পর্যন্ত ভুগতে লাগলেন। তারপর একদিন পেটের পীড়ার কথা রাসূলুল্লাহকে (সা) বললেন। তিনি রাফে’র (রা) পেটে হাত বুলিয়ে দেন। এতে তঁর সবুজ বর্ণের বমি হয়। এরপর থেকে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে যান।৩৩

রাফে’ (রা) রাসূলুল্লাহর (সা) বিভিন্ন সময় যে সকল দু’আ পাঠ করতেন তার কিছু কিছু বর্ণনা করেছেন। যেমন নতুন চাঁদ দেখা গেলে রাসূল (সা) যে দু’আ পড়তেন রাফে’ তা বর্ণনায় করেছেন।৩৪

হাদীস ও সীরাতের বিভিন্ন গ্রন্থে সন্ধান করলে রাফে’র (রা) জীবনের বহু ছোট ছোট কথা জানা যাবে। যা হবে একজন মুসলমানের জীবনে পথচলার জন্য আলোক বর্তিকাস্বরূপ।

তথ্যসূত্র:

 

About ড. মুহাম্মদ আবদুল মাবুদ