আসহাবে রাসূলের জীবনকথা – চতুর্থ খন্ড

সম্পুর্ণ সূচীপত্র

খুাইব ইন ’আদী ইবন ’আমের (লা)

খুবাইব ইবন আদী মদীনার আউস খান্দানের সন্তান। একজন আনসারী সাহাবী।১ হিজরাতের পূর্বে ইসলাম গ্রহণ করেন। বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন এবং মুসলিম মুজাহিদদের জিনিসপত্র রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন।২ এ যুদ্ধে তিনি মক্কার পৌত্তরিক আল-হারেস ইবন নাওফালকে হত্রা করেন।৩ ইবন সা’দ বলেণ, তিনি উহুদ যুদ্ধেও যোগদান করেন।৪

আল-ওয়াকিদী ও বালাজুরীর মতে হিজী চতুর্থ সনের সফর মাসে ‘আর-রাজী’র দুঃখজনক ঘটনাটি ঘটে।৫ এতে রাসূলুল্লাহর (সা) কয়েকজন বিশষ্ট সাহাবী শাহাদাত বরণ করেন। হযরত খুবাইব (রা) সেই মহান শহীদদের অন্যতম। ঘটনাটির যেভাবে ত’ত্রপাত হয় সে সম্পর্কে দুই রকম বর্ণনা পাওয়া যায়। এখানে সংক্ষেপে তা তুল ধরা হলো।

ইবন শিহাবের সূত্রে আবূ হুরাইরা থেকে বর্ণিত হয়েছে। রাসূলে কারীম (সা) দশ সদস্য বিশিষ্ট একটি বাহিনীকে গোয়েন্দাগিরির উ্েদশ্যে মদীনা থেকে পাঠান। তাঁদের আমীর নিয়োগ করেন আসেম ইবন সাবেত আল-আনসারীকে, তাঁরা যখন হাদয়া’ (উসফান ও মক্কার মাঝামাঝি) নামক স্থানে পৌছেন তখন সেখানে বসবাসরত হুজাইল গোত্রের বনু লিহইয়ান শাখাটের পায়। তাদের প্রায় একশো দক্ষ তীরন্দায ব্যক্তি এই ক্ষুদ্র বাহিনীকে ধরার জন্য বেরিয়ে পড়ে এবং তন্ন তন্ন করে খুজতে থাকে। এক স্থানে তারা এই বাহিনীর খাওয়া খেজুরের বীটি কুড়িয়ে পেয়ে বুঝতে পারে, এটা ইয়াসরিবের খেজুর এবং যারা ইে খেজুর খেয়েে তারা ইয়াসরিবের অধিবাসী। আসেম তাঁর সঙ্গীদের নিয়ে একটি নিরাপদ টিলায় আশ্রয় নেন। বনু লিহইয়ান খুঁজতে খুঁজতে তাঁদের অবস্থান জেনে যায়। তারা চারদিক থেকে তাঁদেরকে ঘিরে ফিলে এবং জীবনের নিরাপত্তর মিথ্যা প্রতিশ্র“তি দিয়ে আত্মসমর্পণের আহবান জানায়।

ইবন ইসহাক, আসিম ইবন উমার ইবন কাতাদাহ থেকে বর্ণনা করেছেন। উহুদ যুদ্ধের পর আদাল ও আল-কারা গোত্রের একটি প্রতিনিধিদল মদীনায় রাসূলুল্লাহর (সা) নিকট আসে। তারা বলে: ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাদের গোত্রে ইসলামের প্রাসর ঘটেছে। আপনার কিু সাহাবীকে আমাদের সংগে পাঠান যাঁরা আমাদেরকে কুরান পড়াবেন, দ্বীনের তা’লীম ও শরীয়াতের বিধিবিধান শিক্ষা দেবেন। রাসূল (সা) তাদের কথা বিশ্বাস কয়ে ছয়জন সাহাবীকে তাদের সংগে দিলেন। মদীনা থেকে রওয়ানা হয়ে তাঁরা যখন উসফান ও মক্কার মধ্যবর্তী হুজাইল গোত্রের ‘আর-রাজী’ নামক জলাশয়ের নিকট পৌঁছান তখন আদাল ও া-কারা গোত্রের ুক্ত লোকগুলি অহেতুক গলা ফাটিয়ে চিৎকার জানায়। ভাবখানা এমন দেখায় যে তারা আক্রান্ত হয়েছে। মূলতঃ তাদেরকে কোন রকম ভয়-ভীতি দেখানো হয়নি। হুজাইল গোত্রের লোকেরা তরবারি হাতে নিয়ে বেরিয়ে পড়ে এবং রাসূলুল্লাহর (সা) এই গুটিকতক অসহায় সাহাবীকে ঘিরে ফেলে। তাঁরাও তরবারি কোষমুক্ত করে প্রতিরোধের সিদ্ধান্ত নেন। শত্র“রা তখন তাঁদেরকে লক্ষ্য করে বলে: ‘তোমরাদের হত্যার কোন উদ্দেশ্য আমাদেরনেই। আমরা তোমাদের বিনিময়ে মক্কাবাসীদের নিকট থেকে শুধু ছিু সুবিধা লুটে নিতেচাই। আল্লাহর নামে আমরা অঙ্গীকার করছি, তোমাদের আমরা হত্যাকরাে। না।’ তখন দলটির তিনজন সদস্যÑমরসাদ, খালিদ ইবন ুকাইর ও আসিম ইবন সাতি (রা) বললেন: আল্লাহর কসম! তাঁরা শত্র“র বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হন এবং উপরিউক্ত তিনজনই শাহাদাত বরণ করেন।

দলটির অপর তিনজন সদস্য খুবাইব ইবন আদী, যায়িদ ইবন আদ-দাসিনা ও আবদুল্লাহ ইবন তারেক (রা) জীবনের প্রতি কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়েন। তাঁরা রণেভঙ্গ দিয়ে আত্মসমর্পণ করন। কাফিররা আত্মসমর্পণকারীদেরই ধনুকের সূতা খুলে তাঁদের হাত-পা শক্ত করে বেঁধে ফেলে। তখন আবদুল্লাহ ইবন তারেক তাদের এ কাজের প্রতিবাদ করে বলেন, ‘এটা হলো তোমাদের প্রথম অঙ্গীকার ভঙ্গ। আল্লাহর কসম! আমি তোমাদের সংগে যাবনা।’ অপর সঙ্গীদের উদ্দেশে বলেন, এই কাফিরদের ব্যাপারে আমার কাছে আদর্শ আছে। শত্র“রা তখন তাঁকে টানাহেঁচড়া করে নিতে থাকে। তিনি তাদের সাথে চলতে অস্বীকৃতি জানাতে থাকেন। এ অবস্থায় তাঁরা যখন মক্কার অদূরে মাররুজ জারান’ নামক স্থানে পৌঁছেন আবদুল্লাহ ইবন তারেক এক সুযোগে হাতের বন্ধন খুলে মুক্ত হয়যান এবং সাথে সাথেতরবরি উঁচিয়ে শত্রর বিরুদ্ধে রুখে দাঁনান। শত্র“রা তাঁর থেকে কেটু দুরে সরে গিয়ে তীর মেরে তাঁকে হত্যা করে। ‘মাররুজ জাহরানে’ তাঁর কবর আছে।

খুবাইব ইবন আদী ও যায়িদ ইবন আদ-দাসিনাকে নিয়ে তারা মক্কায় পৌছে। হুজাইল গোত্রের দুই ব্যক্তি মককার কুরাইশদের হাতে বন্দী ছিল। তারা এই দুই জনের বিনময়ে তাদের দুই বনদীকে মুক্ত করে।৬ তবে বিভিন্ন বর্ণনায় একথাও জানা যায় যে, বনদী বিনিময় নয়, বরয় অতি উচ্চমূল্যে তারা এই দুই জনকে মক্কার কুরাইশদের নিকট বিক্রয় করে।

খুবাইকে কে বা কারা খরীদ করেছিল সে সম্পর্কে সামান্য মতভদ আছে। একটি মতে উকবা ইবনুল হারেস তার পিতৃ হত্যার প্রতিশোধর উদ্দেশ্যে খরীর করে। অন্য একটি বর্ণনামতে, আবু ইহাব, ‘আকরামা ইবন আবী জাহল, আল-আখনাস ইবন শুরাইক, উবাইদা ইবন হাকীম ইবনলু আওকাস, উমাইয়্যা আবন আবী আসমাহ, বনুল খাদারামী সাফওয়ান ইবন উমাইয়্যা প্রমুখ সম্মিলিতভবে তাঁকে খরীদ করে বদরে নিহত তাদের প্রত্যেকের পিতর হত্যার বদলা নেওয়ার জন্য।৭ ইবন ইসহাক বলেন হারেস ইবন আমেরের বৈপিত্রীয় ভাই হুজইর ইবন আবী ইহাব আত-তামীমী খুবাইবকে খরীদ করে উকবা ইবন আল-হারেসের হাতেতুলে দেয়। যাতে সে বদরে নিহত পিতৃহত্যার বদলা হিসেবে তাঁকে হত্যা করতে পারে।৮

উল্লেখ্য যে, মদীনা থেকে রাসূল (সা) যে দলটি পাঠান তার সদস্য সংখ্যা কত ছিল এবং দলনেতাই বা কেছিলেন, সে সম্পর্কে সীরাত বিশষজঞদের কিঞ্চিৎ মতপার্থক্য আছে। বিভিন্ন বর্ণনায় দলটির সদস্য সংখ্যা য়, সাত ও দশ জনের কথা এসেছে। ইবন হিশাম পূর্বে উল্লেখিত চয় জনের নাম বর্ণনা করে মারসাদকে দলনেতা (আমীর) বলে উল্লেখ করেছেন। আবার কোন কোন বর্ণনায় আসিম ইবন সাবিতকে দলনেতা বলা হয়েছে।৯ খুবাইবকে (রা) হাতকড়া পরিয়ে উকবা ইবন হারেসের পৃহে বন্দী করে রাখা হয়।১০ মাওহাব’ নামক এক ব্যক্তিকে পাহারায় বসানো হয্ উকবার স্ত্রী আহারের সময় তাঁর হাতকড়াটি খুলে দিত।১১ বিভিন্ন বর্ণনা পর্যালোচনা করলে এই মহিলার নাম শাবিয়্যা বরে প্রতীয়মান হয়। কোন কোন বর্ণনায় যাকে হুজার ইবন আবী ইহাবের দাসীর বা কন্যা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ইবন ইসহাক তঁর বক্তব্য বর্ণনা করেছেন। পরবর্তীকালে এই মহিলা মুসলমান হন।

কয়েকমাস তারা খবুইবকে বন্দী করে রাখে। পবিত্র হারাম মাসগুলি অতিবাহিত হওয়ার পর তারা তাঁকে হত্যার তোড়জোড় শুরু করে দেয়। খুবাইব তাঁকে হত্যা করা হবে একথা বুঝতে পেরে পাহারায় নিযুক্ত মাওহাবের নিকট তিনটি অনুরোধ করেন:১২

১.তাকে মিষ্টি পানি পানকরাবে।

২.তাদের দেব-দেবীর নামে জবেহকৃত জীবের পোশত খেতে দেবে না।

৩.হত্যার পূর্বে যেন তাঁকে অবহিত করে।

শেষের অনুরোধটি তিনি উকবার স্ত্রীকেও করেন। হত্যার সিদ্ধান্ত হলে সে অবহিত করে।১৩ তিনি পাক-সাফ হওয়ার জন্য তার নিকট থেকে একটি ক্ষুর চেযে নেন। খুবাইব (রা) যখন ক্ষৌরকার্য্য করছেন তখন, উকবার একটি শিশু সন্তান খেলতে খেলতে তাঁর নিকটে চলে যায়। তিনি শিশুটিকে আদর করে কোলে তুলে নেন। খুব শিগগির যাকে শূলী কাষ্ঠে চড়ানো হবে এমন বন্দীর হাতে ধারালো ক্ষুর এবং তার মানসিক অবস্থা বুঝতে পেরে বন্দী খুবাইব বললেন, তোমার ধারণা, এই শিশুকে হত্যা করে আমি আমার রক্তের বদলা নিব। এমন কাজ কক্ষণও আমি করবো না। এমন চরিত্র আমাদের নয়।১৪ তারপর তিনি একটু রসিকতা করে বলেন, আল্লাহ এখন আমাকে তোমাদের উপর বিজয়ী করেছেন। শিশুটির মা বললো, তোমার কাছে আমি এমন আশা করিনি। একথার পর খুবাইব ক্ষুরটি মহিলার সামনে ছুড়ে ফেলে দিয়ে বললেন, এই নাও, একটু মশকারা করলাম।১৫

এই মহিলার উপর খুবাইবের (রা) কথাও কর্মের ভীষণ প্রভাব পড়ে। খুবাইবের হত্যার পর তিনি মুসলমান হন। ইবন ইসহাক খুবাইব (রা) সম্পর্কে তাঁর মন্তব্র লিপিবদ্ধ করেছেন। তিনি বলছেন: আমি এই খুবাইবের চেয়ে ভালো কোন কয়েদী আর দেখিনি। আমি কয়েদখানার দরজার ফাঁক দিয়ে দেখতাম তাঁর হাতে মানুষের মাথার আকৃতির বড় বড় আঙ্গুর। তিনি সেই আঙ্গুর খাচ্ছেন। এমন আঙ্গুর পৃথিবীর কোথাও খাওয়া হয় তা আমার জানা নেই। মক্কায় তখন আঙ্গুরের বাগানও ছিলনা। তাছাড়া তিনি তো লোহার হাতকড়া অবস্থায় বন্দী ছিলেন। এ নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট থেকে আসা রিযক (খাদ্য)।১৬

মক্কার পৌত্তলিক শক্তি খুবাইবের হত্যার বিষয়টি খুব গুরুত্বের সাথে গ্রহণকর। হারাম শরীফের আদূরে তান’ঈন’ নামক স্থানে একটি গাছে শূলী কাঠ ঝোলানো হয়। ঢোল-শুহরত করে মককার নারী-পুরুষ, শিশু-যুবক-বৃদ্ধ নির্বিশেষে সকল শ্রেণীর মানুষের সমাবেশ ঘটানো হয়। ব্যাপারটিছিল তাদের নিকট এক মস্তবড় আনন্দ ও তামাশার। লোকেরা যখন তাঁকে উকবর গৃহ থেকে নেওয়র জন্য এলো, তিনি তাদেরকে অনুরোধ করলেন, তোমরা কেটু সময় দাও, আমি সংক্ষিপ্ত দুই রাকাঃ’য়াত নামায আদায় করে নিই। নামায দীর্ঘ করলে তোমরা বলবে, আমি মরণ ভয়ে দীর্ঘ করছি। সংক্ষিপ্ত দুই রাকা’য়াত নামায শেষ করে তিনি বধ্যভমির দিকে যাত্রা করেন। তিনি মৃত্যুর দিকে চলছেন, আর তাঁর মুখ থেকে উচ্চারিত হচ্ছে:১৭

আরবী হবে

Ñহে আল্লাহ! তদের সংখ্যা তুমি গুণে রাখ, এক এক করে তাদেরকে হত্যা কর এবং তাদের কাউকে তুমি ছেড়ে দিও না।

তান’ঈনের সেই গাছের নীচে যখন পৌছলেন তখন তাঁর মুখে একটি কবিতার আবৃত্তি শোনা গেল, যার দুইটি শ্লোকের অর্থ নিুরূপ:

১.আমি যদি মুসলমান অবস্থায় নিহত হই তাহলে আমার মৃতদেহ কোন পার্শ্বে পড়ে থাকে সে ব্যাপারে আমার কোন পরোয়া নেই।

২.এ যা কিছু হচ্ছে, সবই আল্লাহর পবিত্র সত্তার প্রেমের পথে। তিনি ইচ্ছা করলে আমার খন্ড-বিখন্ড দেহের উপওে করুণা বর্ষণ করতে পারেন।

এছাড়া তাঁর জবিনের অন্তিম মুহূর্তে উচ্চারিত আরও কিচু শ্লোক বিভিন্ন গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।১৮

শূলী কাঠে ঝোলানোর পূর্বে তিনি এই দু’আও করেন: ‘হে আল্লাহ! আমরা আপনার রাসূলের বাণী পৌঁছে দিয়েছি। আপনি আমাদের সংবাদ আপনার রাসূলকে পৌঁছে দিন।’১৯

উকবা ইবন হারেস ও আবু হুরাইরা আল-আবদারী সমিমরিতভাবে তাঁকে শূলীতে চড়ায়।২০ পরবর্তীকালে উকবা ইবন হারেস খুবাইবের হত্যায় তার অংশগ্রহণের কথা অস্বীকার করে বলতেন, আমি মূলত: খুবাইবকে হত্যা করিনি। কারণ তখন কাউকে হত্যা করার মত বয়স আমার হয়নি। তাই আবু মায়সারা আমার হাতে কেটি বল্লম ধরিয়ে দেয়। তারপর বল্লমটিসহ আমার হাতটি ধরে খুবাইবের দেহে বিদ্ধ করে তাঁকে হত্যা করে। এই উকবা মুসলমান হন এবং দুধপান বিষয়ে তিনি হদীস বর্ণনা করেছেন।২১

এই বর্ণনা দ্বারা বুঝা যায়, খুবাইবকে শূলীতে ঝুলিয়ে বল্লাম দ্বারা বিদ্ধ করা হয়েছিল। মূসা ইবন উকবার মাগাযীতে বর্ণিত হয়েছে। খুবাইব ও যায়িদ ইবন আদ-দাসিনাকে একই দিন হত্যা করা হয়। আর যে দিন তাঁদেরকে হত্যা করা হয়, সেই দিন মদীনায় রাসূলকে (সা) বলতে শোনা যায়: ‘তোমাদের দুইজনের প্রতি সালাম।’ তিনি তাঁদের হত্যার কথাটিও ঘোষনা করেন। ওহীর মাধ্যমে তিনি সবকিচু অবগত হন।২২

রাসূলে কারীম (সা) খুবাইব ও যায়িদের লাশ কাফিরদের হাত থেকে কৌশলে উদ্ধারের জন্য মদীনা থেকে কয়েকজন সহসী ও দক্ষ লোক পাঠান। তাঁরা হলেন, ‘আমর ইবন উমাইয়্যা আল-মিকদাদ ও যুববাইর। আমর বলেন, আমি খুবাইবের শূলী কাঠের কাছে গিযে তাকে মুক্ত করে একটু মাটিতে ফেলে দিলাম। তারপর নেমে এসে বহু খোঁজাখুঁজির পরও তার কোন চিহ্ন পেরাম না। যমীন যেন তাকে গিলে ফেলেছে।

পক্ষান্তরে আবু ইউসুফ কিতাবুল লাতায়িফ’ গ্রন্থে দাহহাক থেকে বর্ণনা করেছেন। নবী কারীম (সা) শূলী কাঠ থেকে খুবাইবের লাশটি নামিয়ে আনার জন্য আল-মিকদাদ ও যুবাইর  ইবনুল আওয়ামকে মদীনা থেকে পাঠান। তানঈমে পৌঁছে তাঁরা দেখলেন, লাশের আশেপাশে ৪০ জন নেশাগ্রন্থ মানুষ। তারা লাশ পাহারা দিচ্ছে।  তাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে তাঁরা লাশটি নামান এবয় যুবাইর ঘোড়ার পিঠে উটান। এতক্ষণে পাহারাদাররা টের পেয়ে যায় এবং তাঁদের পিছু ধাওয়া করে। যুবাইর লাশটি ফেলে দেন এবং যমীন তা গিলে ফেলে। এ কারণে যুবাইবকে বালী ুল ারদি বলা হয়।২৩ যুবাইবের কবরটি কোথায় দুনিয়ার মানুষ কোন দিন জানতে পারেনি। মূসা ইবন ুকবা বলেছেন: অনেকের ধারণা, আমর ইবন উমাইয়্যা তাঁকে কোথাও দাফন করেছেন।

হত্যার পূর্বে পৌত্তলিকরা তাঁর মুখটি কিবলার দিকে ফেরাতে চায়নি। কিন্তু যে মুখ একবার কিবলার দিকে ফিরে যায় তাকে অন্য দিকে ফেরায় কার সাধ্য। পৌত্তলিকরা বার বার মুখটি অন্য দিকে ফেরানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়।২৪

সা’ঈদ ইবন আমের আল-জামহী (রা) খুবাইবের হত্যা-অনুষ্ঠানে একজন দর্শক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। সেটা ছিল তাঁর ইসলাম পূর্ব জীবন। পরবর্তীকালে তিনি মুসলমান হন। খলীফা উমার (রা) তাঁকে হিমসের গভর্ণর নিয়োগ করেন। কিছুদিনের মধ্যে হিমসবাসীরা তাঁর বিরুদ্ধে কয়েকটি অভিযোগ উত্থাপন করে। তার মধ্যে একটি ছিল এই রমক: সা’ঈদ ইবন আমের মাঝে মাঝে এমনভাবে অচেতন হয়ে পড়েন যে, তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা হয়। সা’ঈদের নিকট খলীফা উমার এর কারণ জানতে চান।  সা’ঈদ ইবন আমের মাঝে মাঝে এমনভাবে অচেতন হয়ে পড়েন যে, তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা হয়। সা’ঈদের নিকট খলীফা  উমার এর কারণজানতে চান। সা’ঈদ বলন আমি মক্কায় খুবাইব আল-আনসারীর শূলীতে ঝোলানোর দৃশ্য দেখেছিলাম। কুরাইশরা তাঁর দেহ থকে গোশত কেটে কেটে ফেলেছিল। তারপর তাঁকে গাছে ঝুলিয়ে জানতে চেয়েছিল! তুমি কি এটা পসন্দ করবে যে, তোমার এই স্থানে মুহাম্মদকে আনা হোক? তিনি বলেছিলেন: আমি আমার রিবার-পরিজন ও সন্তানদের মধ্যে নিরাপদে অবস্থান করি এবং তার কক্ষণো পসন্দ করিনে। আমার যখনই সেই দিনটির কথা মনে পড়ে তখন আমার মধ্যে একটা অপরাধবোধ জেগে ওঠে। আমি কেন সেদিন তাঁর সাহায্যে এগিয়ে যাইনি। যদিও আমি সেদিন পৌত্তলিক ছিলাম তবুও আমার মনে হয় আল্লাহ আমার এ অপরাধ কক্ষণো ক্ষমা করবেন না। আর তখনই আমার এ অবস্থার সৃষ্টি হয়। একথা বলার পর তিনি মুহাম্মদ বলে জোরে এক চিৎকার দিয়ে বেহুঁশ হয়ে পড়েন।২৫

মু’য়াবিয়া (রা) পরবর্তীকালে বলতেন: খুবাইবের হত্যার অনুষ্ঠানে অন্যদের মত আমি আমার পিতা আবু সুফইয়ানের সাথে উপস্থিত ছিলাম। তিনি খুবাইবের বদ-দু’আর ভয়ে আমাকে প্রায় মাটির সাথে ঠেসে ধরে রাখেন। কারণ, তাদের বিশ্বাস ছিল, কেউ যদি কোন ব্যক্তির উপর বদ-দু’আ করে, আর সে ভয়ে জড়সড় হয়ে তার পাশে শুয়ে পড়ে তাহলে সে বদদু’আ তার উপর না পড়ে অন্যত্র পড়ে।২৬ আল-হারেস বলেন: আমি উপসিথত ছিলাম। আল্লাহর কসম! আমাদের কেউ বেঁচে থাকবে এমন ধরণা আমার ছিল না।২৭

খুবাইবের (লা) দু’আ আল্লাহর দরবারে কবুল হয়েছিল। যে সকল নরাধম তাঁর হত্যায় সক্রিয ভূমিকা পালন করেছিল, এক বছরের মধ্যে তাদের সবাই অতি নির্দয়ভাবে নিহত হয়।২৮

ইবন আব্বাস (রা) বলেণ: এ ঘটনার পর মদীনার মুনাফিকরা বলাবলি করতে লাগলো, এই হতভাগ্যরা তাদের পরিবার-পরিজনদের মধ্যেও থাকলো না, আবার তাদের বন্ধুর (নবী) অর্পিত দায়িত্বও পালন করতে পারলো না। তখন আল্লাহ পাক এই মুনাফিকদেরস্বরূপ তুরে ধরে সূরা আল-বাকারার ২০৪-২০৬ নং আয়াত এবং খুবাইব ইবন আদী ও তাঁর সঙ্গীদের প্রশংষায় ২০৭ নং আয়াত নাযিল করেনঃ২৯

“আর এমন কিছু লোক রয়েছে যাদের পার্থিব জীবনের কথাবার্তা মোতাকে চমৎকৃত করবে। আর তারা সাক্ষ্য স্থাপন করে আল্লাহকে নিজের মনের কথার ব্যাপারে প্রকৃতপক্ষেতারা কঠিন ঝগড়াটে লোক। (২০৪)

যখন ফিরে যায় তখন চেষ্টা করে যাতে সেখানে অকল্যাণ সৃষ্টি করতে পারে এবং শস্যক্ষেত্র ধ্বংস ও প্রাণনাশ করতে পারে। আল্লাহ ফাসাদ ও দাঙ্গা-হাঙ্গামা পসন্দ করেন না।২০৫

আর যখন তকে বলা হয় যে, আল্লাহকে ভয় কর, তখন তার পাপ তাকে অহঙ্কারে উদ্ধুদ্ধ করে। সুতরাং তার জন্য দোযখই যথেষ্ট। আর নিঃসন্দেহে তা হলো নিকৃষ্টতর ঠিকানা। (২০৬)

আর মানুষের মাঝে এক শ্রেীর লোক রয়েছেÑযারা আলÍাহর সন্তুষ্টিকল্পে নিজেদের জান বাজি রাখে। আল্লাহ হলেন তাঁর বান্দাদের প্রতি অত্যন্ত মেহেরবান (২০৭)। (সূরা আল-বাকারা)

আর-রাজী’র এই হৃদয় বিদারক ঘটনা তৎকালীন আরবের মুসলিম কবিদের রোধ ও বিবেককে ভীষণ নাড়া দেয়। কবি হাসসান সহ আরও অনেকে এই সকল শহীদের সÍণে অনেক মর্মস্পর্শী কবিতা রচনা করেছেন। তাতে একদিকে যেমন শহীদদের প্রশংসা করা হয়েছে অন্যদিকে পৌত্তলিকদের স্বরূপ তুলে ধরা হয়েছে। সীরাতে ইবনে হিশাম পাঠ করলে তার কিছু চিত্র পাওয়া যয়।৩০

ইবন ইসহাক আসেম থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন: খুবাইইব সর্বপ্রথম মুসলমানদের জন্য নিহত হওয়ার পূর্বে দুই রাক’য়াত নামায আদায়ের প্রথা চালু করেন। এটা তাঁরই সুননাত।৩১

ইমাম আস-সুহাইলী বলেছেন: খুবাইব ইবন আদীর আদায়কৃত দুই রাকা’য়াত নামাযকে সে তাঁরই প্রবর্তিত সুন্নাত নামায বলা হয়েছে তা এই জন্য যে, তিনি রাসূলুল্লাহর (সা) জীবদ্দশায় আদায করেছেন এবং রাসূল (সা) কাজটির প্রশংসা করছেন। তাঁর পূর্ েযায়িদের জীবনের একটি বিশ্ময়কর ঘটনা বর্ণনা করেছেন। এ ঘটনাটিও ঘটে রাসূলে কারীমের জীবদ্ধশায়। সংক্ষেপে ঘটনাটি এই রকম:

যায়িদ ইবন হারেসা তায়েফ থেকে এই শর্তে এক ব্যক্তির একটি খচ্চর ভাড়া করেন যে, সে তাঁকে খচ্চরের পিঠে চড়িয়ে নিয়ে যাবে এবং তাঁর ইচ্ছামত জায়গায় নামিয়ে দেবে। লোকটি ত৭াকে খচ্চরের পিঠে চড়িয়ে একটি বিরান বধ্যভূমিতে নিয়ে পৌঁছে এবং হত্যা করতে উদ্যত হয়। যায়িদ তখন তাকে বলেন: আমাকে একটু সময় দিন, আমি দুই রাকা’য়াত নামায আদায় করে নিই।লোকটি বললো, ঠিক আছে, দুই রাকা’য়াত নামায আদায় কর আর ইে যে বিক্ষিপ্তভাবে পড়ে থাকা লাশগুলো দেখছো, তারাও তোমার মত নামায পড়েছিল। কিন্তু  তাদের নামায কোন কজে আসেনি। যায়িদ আবারও: ইয়া আরহামার রাহেমীন উচ্চারণ  করলেন। আবারও ঠিক একই ধ্বনি শোনা গেল এবং লোকট একই কাজ করলো। এভাবে তিনবার একই ঘটনা ঘটে। তবে তৃতীয়বার যায়িদ একজন অশ্বারোহীকে দেখতে পেলেন, যার হাতে একটি বর্শা এবং মাথায় আগুনের শিখা। সে লোকটির দেহে বর্শ ঢুকিয়ে দিয়ে হত্যা করলো। তারপর যায়িদের দিকে ফিরে বললো: তুমি প্রথমবার যখন আল্লাহকে ডাক তখন আমি ছিলাম সপ্ম আকাশে, দ্বিতীয়বার ডাকার সময় ছিলাম পৃথিবীর নিকটবর্তী আকাশে এবং তৃতীয়বার ডাকার সময তোমার কাছে এসে হাজির হয়েছি।৩২

তথ্যসূত্র:


গ্রন্থপঞ্জি:

১.আল-ইমাম আজ-জাহাবী: (ক) সিয়ারু আ’লাম আন-নুবালা, (বৈরুত, আল-মুওযাসসাতুর রিসালা, ৭ম সংস্করণ, ১৯৯০)

(ক) তাজকিরাতুল হুফফাজ, (বৈরুত, দারু ইহইয়া আত-তুরাস আল-ইসলালী)।

(খ) তারীকুল  ইসরাম ওয়া তাবাাত আল-মাশাহীর ওয়াল আ’লাম, (কায়রো, মাকতাবাতুল কুদসী, ১৩৬৭ হিঃ।)

২.ইবন হাজার

(ক) তাহজীবুত তাহজীব, (হায়দ্রাবাদ, দায়িরাতুল মা’য়ারিফ, ১৩২৫ হিঃ।)

(খ) তাকরীবুত তাহজীব, (লাখনৌ,)

(গ) আল-ইসাবা ফী তাময়ীযিস সাহাবা, (বৈরুত, দার আল-ফিকর, ১৯৭৮)।

(ঘ) লিসানুল মীযান, (হায়দ্রাবাদ, ১৩৩১ হিঃ।)

(ঙ) ফাতহুল বরী, (মিসর, ১৩৯১ হিঃ)।

৩.ইবনুল ইমাদ আল-হাস্বলী: শাহারাতু জাহাব, (বৈরুত, আল-মাকতাব আত-তিজারী)।

৪.জামাল উদ্দীন ইউসুফ আল-মুযী: তাহজীব আল-কামাল ফী আসমা আর-রিজাল, (বৈরুত, মুওয়াসসাসাতুর রিসালা, ১ম সংস্বরণ, ১৯৮৮।)

৫.আবু ইউসুফ: কিতাবুল খিরাজ, (বৈরুত, দার আল-মা’রিফা, ১৯৭৯।)

৬.ইবন কাসীর:

(ক) আত-তাফসীর, (মিসর, দারু ইহইয়া আল-কুতুব আল-আরাবিয়্যা।)

(খ) আস-সীরাহ আন-নাবাবিয়্যাহ, (বৈরুত, দারুল কুতুব আল-ইসমিয়্যা।)

(গ) আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, (বৈরুত, মাকতাবাতুল মা’য়ারিফ।)

৭.ইবনুল জাওযী:

(ক) আ’লাম আন-মুওয়াক্কি’ঈন, (দিল্লী, আশরাফুল মাতাবি’, ১৩১৩ হিঃ।)

(খ) কিতাবুল তানবীহ ওয়াল ইশাফ, (মিসর, মাতবা’য়াতুল হাসানিয়্যা, ১৩২৩ হিঃ।)

(গ) কিতাবুল আজকিয়া, (সম্পাদনা: আবদুর রহমান ইবন আলী, ১৩০৪ হিঃ।)

(ঘ) সিফাতুস সাফওয়া, (হায়দ্রাবাদ, দয়িরাতুর মা’য়ারিফ, ১৩৫৭ হিঃ।)

৮.ইবন সা’দ: আত-তাবাকাত আল-কুবরা, (বৈরুত, দারু সাদির)।

৯.ইবন আসাকিব: মু’জামুল বুলদান, (বৈরুত, দারু ইহইয়া আত-তুরাস আল-আরাবী)।

১০. ইয়াকূত আল-হামাবী: মু’জামুল বুলদান, (বৈরুত, দারু ইহইয়া আত-তুরাস আল-আরাবী)।

১১. আবুল ফারাজ আল-ইসফাহানী: কিতাবুল আগানী, (মিসর, ১৯২৯)।

১২. ইবন হাযাম: জামহারাতু আনসাবুল আরাব, (মক্কা, দারুল মা’য়ারফ, ১৯৬২)।

১৩. ইবন খাল্লিকান: ওফায়াতুস আ’য়ান, (মিসর, মাকতাবাতু আন-নাহাদাতুল মিসরিয়্যা, ১৯৪৮।)

১৪. মুহাম্মদ আল-আলুসী: বুলুগুল আরিব ফী মারিফাতি আহওয়ালিল আরাব, (১৩১৪ হিঃ)।

১৫. ইবনুল আসীর: (ক) ইসুদল গাবা ফী মা’রিফাতিস সাহাবা, (বৈরুত, দারু ইহইয়া আত-তুরাস আল-আরাবী)।

(খ) আল-কমিল ফিত তারীখ, (বৈরুত)।

(গ) তাজরীদু আসমা আস-সাহাবা, (হায়দ্রাবাদ, দায়িরাতুল মা’য়ারিফ, ১ম সংস্বরণ, ১৩১৫)।

১৬. আল-বালাজুরী:

(ক) আনসাবুল আশরাফ, (মিসর, দারুল মা’য়ারিফ)।

(খ) ফুতুহুল বুলদান, (সির, মাতবায়াতুল মাওসূয়াত, ১৯০১)।

১৭. আয্-যিরিকলী: আল-আ’লাম, (ভৈরুত, দারুল ইলম লিল মালাঈন, ৪র্থ সংস্করণ, ১৯৭৯)।

১৮. ইবন হিশাম: আস-সীরাহ (বৈরুত)।

১৯. ইউসুফ আল-কানধালূবী: হায়াতুস সাহাবা, (দিমাশক, দারুল কালাম, ২য় সংস্করণ, ১৯৮৩)।

২০. সা’ঈদ আনসারী মাওলানা: সিয়ারে ানসার, (ভারত, ১৯৪৮)।

২১. ইবন আবদিল বার: আল-ইসতী’য়াব, (আল-ইসাবা গ্রনেথর পার্শ্বটীকা)।

২২. ইবন সাল্লাম আল-জামহী: তাবাকাত আশ  শু’য়ারা, (বৈরুত, দারু কুুব আল-ইলমিয়্যা, ১ম সংস্বরণ, ১৯৮১)।

২৩. ইবন কুতায়বা: আশ-শি’রু ওয়াশ শু’য়ারাউ, (বৈরুত, দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যা, ১ম সংস্করণ, ১৯৮১)।

২৪. ডঃ আবদুর রহমান আল-বাশা: সুওয়ারুন মিন হায়াতুস সাহাবা, (সৌদি আরব, ১ম সংস্বরণ)।

২৫. খালিদ মুহাম্মদ খালিদ: রিজালুন হাওলার রাসূল, (বৈরুত, দারুল ফিকর)।

২৬. ডঃ শাওকী দাঈফ: তারীখুল আদাব আরাবী, (কায়রো, দারুল মাঃয়ারিফ, ৭ম সংস্করণ)।

২৭. ডঃ উমার পারূখ: তারীখুল আদাব আল-আরাবী, (বৈরুত, দারুল ইলম লিল মালাঈন, ১৯৮৫)।

২৮. জুরযী যায়দান: তারুখু আদাবিল লুগাহ আল-আরাবিয়্যা, (বৈরুত, দারু মাকতাবাতুল হায়াত, ৩য় সংস্করণ, ১৯৭৮)।

২৯. আহমাদ আবদুর রহমান আল বান্না: বুলূগুল আমানী মিন আসরার আল-াতহির রাব্বানী, (কায়রো, দারুশ শিহাব)।

৩০. আলাউদ্দীন আলী আল-মুততাকী: কানযুল উম্মাল (বৈরুত, ম্রওয়াসসাসাতুর রিসালা, ৫ম সংস্করন,  ১৯৮৫)।

৩১. ডঃ মুসতাফা আস-বিসা’ঈ: আস-সুনানহ ওয়া মাকানাতুহা ফিত তাশরীঃ আল-ইসলামী, (বৈরুত, আল-মাকতাব আল-ইসলামী, ২য় সংস্কর, ১৯৭৬)।

৩২. হাজী-খলীফা: কাশফুজ জুনূন আন আসামী আল-কুতুব ওয়াল ফুনূন, (বৈরুত, দারুল ফিক্র, ১৯৯০।

৩৩. মুহাম্মদ আল-খাদারী বেক: তারীকুল উমাম আল-ইসলামিয়া, (মিসর,্ াল-মাকতাবাতু তিজারিয়্যা আল-কুবরা, ১৯৬৯)।

৩৪. মুহাম্মদ আলী আ-সাবুনী: (ক) রাওয়ায়ি উল কুরআন, তাফসীরু আয়াতিল াহকাম মিনাল কুরআন, (বৈরুত, মুওয়াসসাসাতু মানাহিলিল ‘ইরফান, ৩য় সংস্কারণ, ১৯৮১)।

(খ) আত-তিবইয়ান ফী উলূমিল কুরআন, (বৈরুত)।

৩৫. মহিউদ্দীন ইবন শারফ আন-নাওবী: তাহজীবুল আসমা ওয়াল লুগাত, (মিসর, আত-তিবায়া’ আল-মুগীরিয়্যা)।

৩৬. ইমাম আহমাদ: আল-মুসনাদ

৩৭.

৩৮. পবিত্র কোরআনুল করীম: আনুবাদ ও সম্পাদনা: মাওলানা মুহিউদ্দীন খান।

৩৯. হাদীসের বিভিন্ন গ্রন্থ।

৪০. দায়িরা-ই-মা’য়ারিফ সিলামিয়্যা (উর্দ্দূ)।

৪১. কুদামাহ ইন জা’ফর: নাকদুশ শি’র (বৈরুত)।

৪২. ইবন রাশীক: কিতাবুল উমদাহ, (কায়রো-১৯৪৩)।

৪৩. আবু তাম্মাম: আল-হামাসা, (বৈরুত)।

৪৪. আল-বাকিল্লানী: ই’জাযল কুরআন, (বৈরুত)।

৪৫. আল-জুরজানী: দালায়িলুল ইঃজায, (কায়রো-১৯৭৬)।

৪৬. বুটরুস আল-বুসতানী: উদাবাউল আরাব ফিল জাহিলিয়্যাতি ওয়া সাদরিল ইসলাম (বৈরুত-১৯৮৯)।

৪৭. আবদুর রউপ দানাপুরী: আসাহ আস-সীরাহ (করাচী)।

About ড. মুহাম্মদ আবদুল মাবুদ