আসহাবে রাসূলের জীবনকথা – পঞ্চম খন্ড

মায়মূনা বিন্ত হারিস (রা)

উম্মুল মু’মিনীন হযরত হাফসার (রা) পরে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হযরত মায়মূনা বিনতুল হারিস আল-হিলালিয়্যাকে (রা) বিয়ে করেন। ইনিই সেই মহিলা য৭াকে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সর্বশেষ বিয়ে করেন-একথা বরেছেন ইবন সা‘দ। তাঁর পিতা হারিস ইবন হায়ন এবং মাতা হিন্দা বিনত ‘আওফ।১

হযরত মায়মূনা (রা) কুরাইশ গোত্রের মেয়ে। আরবের অনেক বড় নামী-দামী বংশ ও ঘরের সাথে ছিল তাঁর আত্মীয়তার সম্পর্কে। তাঁর এ বোন উম্মুল অফাদল লুবাবা আল কুবরা ছিলেন হযরত ‘আববাসের (র) স্ত্রী। যাঁর ছয় ছেলে-ফাদল, ‘আবদুল্লাহ, ‘উবাইদল্লাহ, মা’বাদ, কুসাম ও আবদুর রহমান ছিলেন ইসলামের প্রতিদ্ধ সন্তান। তাঁর দ্বিতীয় বোন লুবাবা সুগরা ছিলেন হযরত খালিদ বিন ওয়ালীদের (রা) মা। তৃতীয় বোন বায়যাহ ছিলেন ইয়াযীদ ইবনুল আসাম-এর মা। ৪র্থ বোন উম্মু হাফীদের নাম হযযায়লা। ইমাম মালিক (রহ) আল মুওয়াত্তা’ গ্রন্থে বিস্তারিত এবং বুখারী ও মুসলিম একটু সংক্ষিপ্তভাবে বণৃনা করেছেন যে, একবার রাসূলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হযরত মায়মূনার (রা) বাড়ী যান। সেখানে হযরত আবদুল্লাহ ইবন আববাস (রা) ও হযরত খালিদ ইবনুল ওয়ালীদ উপস্থিত ছিলেন। তাঁরে সামনে গুঁইসাপের পোশত উপস্থাপন করা হয়। মায়মূনা (রা) বলেন, এ গোশত আমার বোন হুযায়লা বিনত হারিস পাঠিয়েছেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) গুঁইসাপের গোশত খেলেন না; কিন্তু তাঁর অনুমতিতে অন্যরা খেলেন। ইমাম তাহাবী সংকলিত একটি বর্ণায় জানা যায় যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) না খাওয়ার কারণে হযরত মায়মূনাও (রা খেলেন না।

উপরে উল্লেখিত বোনেরা সবাই ছিলেন বৈমাত্রেয়। ‘মাওয়াহিবে লাদুন্নিয়া’ গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে, হযরত জা‘ফর ইবন আবী তালিব (রা)-এর স্ত্রী হযরত আসমা বিনত ‘উমাইস (রা) ছিলেন তাঁর বৈপিত্রেয় বোন। হযরত জা‘ফরের (রা) ঔরসে আবদুল্লাহ, মুহাম্মাদ ও আওন নামের তিনি ছেলে ছিল। হযরত জা‘ফর (রা) মূতার যুদ্ধে শাহাদাত বরণ করার পর হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রা) তাঁকে বিয়ে করেন এবং তাঁর ঔরসে মুহাম্মাদ ইবন আবী বকর জন্মগ্রহণ করেন। হযরত আবু বকরের (রা) ইনতিকালের পর হযরত আসমাকে (রা) বিয়ে করেন হযরত আলী (রা)। তাঁর ঔরসে জন্মগ্রহণ করেন ইয়াহইয়া ও আওন নামের দুই ছেলে। হযরত মায়মূনার (রা) বৈপিত্রেয় আর এক বোন সালমা বিনত উমাইস (রা) ছিলেন হযরত হামযার (রা) স্ত্রী। তাঁর বৈপিত্রেয় আর এক বোন সালামা বিনত উমাইস। তিনি অমুসিলম থেকে যান।২

বিয়ে

হযরত মায়মূনার (রা) প্রথম বিয়ে হয় মাস‘উদ ইবন ‘আমর ইবন উমাইর আস-সাকাফীর সঙ্গে। এ বর্ণনা পাওয়া যায় তাবাকাত যুরকানী ও অন্যান্য গ্রন্থে। তবে আল ইসবা গ্রন্থকার ইবন হাজার ত৭ার প্রথম স্বামী কে ছিলেন, সে ব্যাপারে বোন আলোচনা করেননি। মুধু এতটুকু বলেছেন যে, রাসূলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পূর্বে তিনি আবু রুহম ইবন আবদিল উযযার স্ত্রী ছিলেন। যা হোক, বিভিন্ন বর্ণনায় জানা যায়, মাস‘উদ ইবন আমরের সাথে ছাড়াছাড়ি হয়ে যাওয়ার পর আবু রুহমের সাথে বিয়ে হয়। হিজরী ৭ম সনে আবু রুহমের মৃত্যু হলে রাসূলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বেগমের মর্যাদা লাভ করেন। তিনি ছিলেন রাসূলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সর্বশেষ বেগম। তাঁর পর আর কোন মহিলাকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বেগমের মর্যাদা দান করেননি।৩

রাসূলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাথে হযরত মায়মূনার (রা) বিয়ে সম্পন্ন হয় হযরত আববাস ইবন আবদিল মুত্তালিবের (রা) অভিভাবকত্বে। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হিজরী ৭ম সনে উমারাতুল কাজা আদায়ের উদ্দেশ্যে যখন মক্কার দিকে বেরিয়ে পড়নে তখন হযরত জা‘ফর ইবন আবী তালিবকে (রা) বিয়ের পয়গামসহ মক্কায় অবস্থানরত হযরত মায়মূনার (রা) নিকট পাঠান। তিনি ভন্নিপতি হযরত আববাস ইবন আবদিল মুত্তালিবকে (রা) উকিল নিয়োগ করেন। অনেকের ধারণা হযরত আববাস নিজেই রাসূলুল্লাহকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এ বিয়েতে আগ্রহী কনের।৪

ইবন হিশামের বর্ণনা মতে, মায়মূনা (রা) বিয়ের বোন উম্মুল ফাদলের উপর ছেড়ে দেন। আর তিনি সে দায়িত্ব ছেড়ে দেন স্বামী ‘আববাসের (রা) হাতে।৫

যাই হোক, এই উমরার ইহরামের অবস্থায় হিজরী ৭ম সনের জিলকা‘দা মাসের পাঁচ শত মতান্তরে চারশত দিরহাম৬ দেন-মাহরের বিনমিয়ে হযরত রাসূলে কারীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হযরত মায়মূনাকে (রা) বিয়ে করেন।৭ উমরা আদায়ের পর মদূীনা ফেরার পথে মক্কা হতে ছয় থেকে বারো মাইল দূরে ‘সারাফ’ নামক স্থানে যাত্রাবিরতি করেন। এদিকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) খাদেম হযরত আবু রাফে হযরত মায়মূনাকে (রা) নিয়ে সেখানে উপস্থিত হন। এই ‘সারাফে’ রাসূলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জন্য নির্মিত তাঁবুতে হযরত মায়মূনা (রা) রাসূলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাথে মিলিত হন।৮

ইবন ‘আববাসের (রা) একটি বর্ণনায় জানা যায়, রাসূলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাথে মায়মূনার (রা) বিয়ে হয় ‘উমরা আদায়কালীন সময়ে মক্কাতে। উমরা উপলক্ষে তিনদিন সেখানে অবস্থান কনের। তৃতীয় দিনে হুয়ায়তিব ইবন আবদিল উযযা আরও কয়েজন কুরাইশ ব্যক্তিকে সঙ্গে করে রাসূলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাথে দেখা করে বলেঃ হুদায়বিয়ার চুক্তি অনুযায়ী আপনার অবস্থানের মেয়াদ আজ শশেষ হয়ে যাচ্ছে। আপনি মক্কা ছেড়ে চলে যান।’ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ আমাকে আরও একটু সময় দিলে তোমাদের এমন কি হতো। আমি তোমাদের মধ্যে মায়মূনার সাথে মিলিত হতাম এবং তোমাদের জন্য ওলীমার খাবার তৈরি করতাম।’ তারা বললোঃ ‘আপনার এ খাবারের আমাদের প্রযোজন নেই। আপনি মক্কা ছাড়ুন।’৯ এ কারণে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তড়িঘড়ি করে মক্কা থেকে বেরিয়ে সারাফে’ এসে অবস্থান করতে থাকেন এবং সেখানে মায়মূনার (রা) সাথে বাসর করেন।

হযরত রাসূলে কারীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উমরাতুল কাজা’র সময়কালে হযরত মায়মূনাকে (রা) বিয়ে করেন। এ ব্যাপারে সকল সীরাত বিশেষজ্ঞ একমত। তবে ফকীহদের মধ্যে এ ব্যাপারে ভীষণ মতপার্থক্য রয়েছে যে, বিয়ের সময় রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইহরাম অবস্থান ছিলেন না হালাল অবস্থায়।১০

ইবন হাজার (রহ) এই মতপার্থক্যের সমন্বয় করতেগিয়ে বলেছেন, ইহরাম অবস্থায় বিয়ে সম্পন্ন হয়, আর মিলম হয় ‘উমরা আদায়ের পর হালাল অবস্থায়।১১

হযরত আয়িশা (রা) হযরত মায়মূনার (রা) চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করতে গিয়ে মন্তব্য করেছেনঃ

আরবী হবে

-আমাদের মধ্যে মায়মূনা সবচেয়ে বেশি আল্লাহকে ভয় করতেন এবং সবচেয়ে বেশি আত্মীয়তার সম্পর্ক অটুট রাখতেন।১২

তিনি খুব পরিচ্ছন্ন বিশ্বাস ও শুদ্ধ ধ্যান-ধারণার মহিলা ছিলেন। বিভিন্ন ঘটনার মাধ্যমে তাঁর স্বচ্ছ চিন্তা-বিশ্বাসের পরিচয় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। যেমন, একবার এক মহিলা অসুস্থ অবস্থায় মান্নত মানেন যে, আল্লাহ তাকে সুস্থ করলে বায়তুল মাকদাসে গিয়ে নামায আদায় করবেন। আল্লাহর ইচ্ছায় তিনি সুস্থ হয়ে ওঠেন। এখন তিনি মান্নত পূর্ণ করতে বায়তুল মাকদাসে যাবেন। এ উদ্দেশ্যে তিনি হযরত মায়মূনার (রা) নিকট বিদায় নিতে আসেন। হযরত মায়মূনা (রা) তাঁকে বুঝালেন যে, মসজিদে নবীবীতে নামায আদায়ের সাওয়াব অন্য মসজিদের চেয়ে হাজার গুণ বেশি। সুতরাং তুমি সেখানে না গিয়ে এখানে থাক।১৩

তিনি মাঝে মধ্যে ধার-করজ করতেন। একবার একটু বেশি ধার করে ফেললেন। তাই কেউ একজন বললেন, এত ধার শোধের উপায় কি হবে? তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, যে ব্যক্তি শোধ করার ইচ্ছা রাখে, আল্লাহ নিজেই তা শোধ করে দেন।১৪ হযরত মায়মূনার (রা) মধ্যে ছিল দাস মুক্ত করার প্রবল আগ্রহ। একবার একটি দাসীকে মুক্তি দিলে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, এতে তুমি অনেক সাওয়াব অর্জন করেছো।১৫

শরীয়াতের আদেশ-নিষেধের ব্যাপারে ভীষণ কঠোর ছিলেন। এ ব্যাপারে কোন রকম নমনীয়তা তাঁর মধ্যে ছিল না। একবার তাঁর এক নিকট আত্মীয় দেখা করতে আসে। তার মুখ দিয়ে তখন মদের গন্ধ বের হচ্ছিল। তিনি লোকটিকে শক্ত ধমক দেন। তাকে আর কখনও তাঁর কাছে না আসার জন্য শক্তভাবে বলে দেন।১৬

হযরত মায়মূনার (রা) একজন দাসী একবার হযরত ইবন আববাসের (রা) বাড়ীতে যেয়ে দেখেন, তাঁদের স্বামী-স্ত্রীর বিছানা বেশ দূরে দূরে। দাসী মনে করলেন সম্ভবতঃ মিয়া-বিবির মধ্যে কিচুটা তিক্ততার সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু জিজ্ঞেস করে জানতে পারেন, না, তা নয়; বরং স্ত্রীর মাসিকের সময় ইবন আববাস (রা) পৃথক বিছানায় চলে যান। দাসী ফিরে এসে সব কথা উম্মুল মুমিনীর মায়মূনাকে (রা) জানিয়ে দিলেন। তিনি দাসীকে বললেন যাও, তাকে বল, রাসূলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রীতি-পদ্ধতির প্রতি এত উপেক্ষা কেন? তিনি তো সব সময় আমাদের বিছানায় আরাম করতেন।১৭

একবার হযরত ইবন আববাস (রা) খালা হযরত মায়মূনার (রা) সাথে দেখা করতে আসেন। তাঁর মথার চুল ও দাড়ি অবিন্যস্ত দেখে থালা প্রশ্ন করেন, বেটা, তোমার এ অবস্থা কেন? ইবন আববাস বললেন, উম্মু আম্মারের বর্তমানে মাসিক অবস্থা চলছে। সেই আমার কেশ পরিপাটি করে থাকে। হযরত মায়মূনা (রা) বললেন, বাহ, খুব ভালো! রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের কোলে মাথা রেখে শুয়ে থাকতেন, কুরআন তিলাওয়াত করতেন, যখন আমরা সেই বিশেষ অবস্থায় থাকতাম। সে অবস্থায় মাদুর উঠিয়ে আমরা মসজিদে রেখে আসতাম। বেটা! হাতে কি কিচু থাকে?১৮

হযরত মায়মূনা (রা) থেকে বর্ণিত হাদীসের সংখ্যা ৪৬টি, মতান্তরে ৭৬টি। তার মধ্যে সাতটি মুত্তাফাক আলাইহি। একটি বুখারী ও পাঁচটি মুসলিম স্বতন্ত্রভাবে বর্ণনা করেছেন।ান্যগুলি হাদীসের বিভিন্ন গ্রন্থে সংকরিত হয়েছে। তাঁর থেকে বর্নিত কিচু হাদীসের মাধ্যমে শরীয়ারেত গুঢ়তত্ত্ব সম্পর্কে তাঁর গভীর জ্ঞানের পরিচয় পাওয়া যায়।

হযরত মায়মূনার (রা) নিকট থেকে যাঁরা হাদীস শুনেছেন এবং বণৃনা করেছেন, তাঁরেদ মধ্যে সর্বাধিক উল্লেখযোগ্য কয়েকজন হলেনঃ

হযরত ইবন আববাস (রা) আবদুল্লাহ ইবন শাদ্দাদ ইবনুল হাদ, আবদুর রহমান ইবনুস সায়িব, ইয়াযীদ ইবন আসাম, (তাঁরা সবাই তাঁর বোনের ছেলে), ‘উবায়দুল্লাহ আল-খাওলানী, নাদবা (দাসী), আতা ইবন ইয়াসার মুসায়মান ইবন ইয়াসার, অইবরাহীম ইবন আবদিল্লাহ ইবন মা‘বাদ ইবন আববাস কুরাইব, উবায়দা ইবন সিবাক, উবায়দুল্লাহ ইবন আবদিল্লাহ ইবন উতবা আলীয়া বিনত সুবায় প্রমুখ।১৯

হযরত মায়মূনার (রা) মৃত্যুসন নিয়ে যথেষ্ট মতপার্থক্য আছে। বিভিন্ন বর্ণনায় হিজরী ৫১, ৬১, ৬৩ ও ৬৬ সনের কথা এসেছে। তবে ইবন হাজারসহ অধিকাংশ সীরাত বিশেষজ্ঞ হিজরী ৫১ সনের মতটি সঠিক বলে মত প্রকাশ করেছেন।২০ তাঁর জীবনের এটাও এক উল্লেখযোগ্য ঘটনা যে, একদিন যে সারাফ’ নামক স্থানে রাসূলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) স্ত্রীর মর্যাদা রাভ করে প্রথম মিলিত হন, তার প্রায় ৪৪ বছর পর সেখানেই ইনতিকাল করেন। যে স্থানটিতে রাসূলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাথে বাসর করেন, ঠিক সেখানেই সমাহিত হন।২১

এ কথাও বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি হজ্জ আদায়ের জন্য মক্কায় যান। হজ্জ শেষে সেখানেই ইনতিকাল করেন। হরত ইবন আববাসের (রা) নির্দেশে মরদেহ কাঁধে করে সারাফে’ আনা হয় এবং সেখানে দাফন করা হয়।২২

হযরত ইবন আববাস (রা) জানাযার নামায পড়ান। ইবন আববাস (রা), আবদুর রহমান ইবন খালিদ ইবনুল ওয়ালীদ, আবদুল্লাহ ইবন শাদ্দাদ ইবনুল হাদ, আবদুল্লাহ ইবনুল খাওলানী ও ইয়াযীদ ইবনুল আসাম্ম লাশ কবরে নামান। যখন লাশটি খাটিয়ায় করে উঠানো হয় তখন হযরত ইবন আববাস (লা) বলেন, সাবধান! রাসূলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বেগম। বেশি ঝাঁকি দিবে না। আদবের সাথে নিয়ে চলো। কারণ, তিনি তোমাদের মা।’২৩

 

About ড. মুহাম্মদ আবদুল মাবুদ