কর্মপদ্ধতিঃ বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির

সম্পুর্ণ সূচীপত্র

প্রথম দফা কর্মসূচি : দাওয়াত

“তরুণ ছাত্র সমাজের কাছে ইসলামের আহ্বান পৌঁছিয়ে তাদের মাঝে ইসলামী জ্ঞানার্জন এবং বাস্তব জীবনে ইসলামের পূর্ণ অনুশীলনের দায়িত্বানুভূতি জাগ্রত করা।” এ দফায় তিনটি দিক রয়েছে:

প্রথমত :- তরুণ ছাত্র সমাজের কাছে ইসলামের আহ্বান পৌঁছিয়ে দেয়া অর্থাৎ ইসলামের ব্যাপক প্রচার।

দ্বিতীয়ত :- ছাত্রদের মাঝে ইসলামী জ্ঞান অর্জনের দায়িত্বানুভূতি জাগ্রত করা।

তৃতীয়ত :- ইসলামী অনুশাসন মেনে চলার জন্যে ছাত্রদের মধ্যে দায়িত্বানুভূতি জাগ্রত করা।

এ তিনটি দিকের কাজ হলেই আমাদের বুঝতে হবে প্রথম দফার কাজ সঠিকভাবে হচ্ছে। সংক্ষেপে এ দফাকে ‘দাওয়াত’ বলা হয়। নিন্মে এ দফার করণীয় কাজগুলো উল্লেখ করা হলো :

  • ব্যক্তিগত সাক্ষাৎকার ও সম্প্রীতি স্থাপন
  • সাপ্তাহিক ও মাসিক সাধারণ সভা
  • সিম্পোজিয়াম, সেমিনার
  • চা-চক্র, বনভোজন
  • নবাগত ও কৃতি ছাত্র সংবর্ধনা
  • বির্তক সভা, রচনা এবং বক্তৃতা প্রতিযোগিতা ও সাধারণ জ্ঞানের আসর
  • পোষ্টারিং, দেয়াল লিখন, পরিচিতি ও বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত সাময়িকী বিতরণ।
  • ক্যাসেট, সিডি, ভিসিডি প্রভৃতি বিতরণ।

ব্যক্তিগত সাক্ষাৎকার ও সম্প্রীতি স্থাপন :

দাওয়াতী কাজের সর্বোত্তম পন্থা হলো ব্যক্তিগত সাক্ষাৎকার। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ছাত্রাবাস, গ্রাম ও মহল্লা থেকে কয়েকজনকে বেছে নিয়ে এ পন্থায় কাজ করতে হবে। এরই নাম টার্গেট নির্ধারণ। ছাত্র বেছে নেবার সময় নিম্নোক্ত গুণাবলীর প্রতি নজর রাখা উচিত।

(১) মেধাবী

(২) বুদ্ধিমান ও কর্মঠ

(৩) চরিত্রবান

(৪) নেতৃত্বের গুণাবলী সম্পন্ন

(৫) সমাজে বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রভাবশালী।

ব্যক্তিগত সাক্ষাৎকারের জন্যে নিম্নোক্ত পন্থা অবলম্বন করা প্রয়োজন:-

(ক) পরিকল্পনা

টার্গেটকৃত ছাত্রকে অগ্রসর করে নেয়ার জন্য একটি বাস্তব পরিকল্পনা থাকা চাই। তা প্রয়োজন অনুযায়ী অল্প অথবা দীর্ঘ সময়ের জন্য হতে পারে। পরিকল্পিত কাজ করলেই সাক্ষাৎকারী একজন ছাত্রের চিন্তার পরিশুদ্ধির জন্য যথার্থ চিন্তা-ভাবনা করার সুযোগ পায়। অনেকগুলো ছাত্রকে একসাথে টার্গেটের আওতায় না এনে সুযোগ এবং সামর্থ অনুযায়ী কমসংখ্যক ছাত্রের উপর অত্যন্ত ধৈর্য ও আন্তরিকতার সাথে নিয়মিত কাজ চালিয়ে যেতে হবে।

(খ) সম্প্রীতি স্থাপন

ব্যক্তিগত সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে যার কাছে দাওয়াত পৌঁছাতে হবে তার সাথে পূর্বেই সুসম্পর্ক স্থাপন করতে হবে। এমন এক আন্তরিক পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে যেন সে সাক্ষাৎকারীকে তার শুভাকাংখী হিসেবে বিশ্বাস করতে পারে।

(গ) ক্রমধারা অবলম্বন

প্রথম সাক্ষাতেই মূল দাওয়াত পেশ না করে ক্রমান্নয়ে এ কাজ সুসম্পন্ন করতে হবে। প্রথমে বন্ধুত্ব সৃষ্টির মাধ্যমে এমন এক পর্যায়ে আনতে হবে যাতে পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাস স্থাপিত হয়। একে অন্যের কল্যাণকামী হয়। প্রথমত : টার্গেটকৃত ছাত্রের মন-মগজে প্রতিষ্ঠিত ইসলাম ও ইসলামী আন্দোলন সম্পর্কে যাবতীয় ভুল ধারণার অসারতা বুদ্ধিমত্তার সাথে তুলে ধরতে হবে। দ্বিতীয়ত : আখেরাত তথা পরকাল সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা দিতে হবে এবং যাবতীয় সমস্যার সমাধানে ইসলামের সুমহান আদর্শের কার্যকারীতা তুলে ধরতে হবে। ইসলাম সংক্রান্ত তার যাবতীয় ভুল ধারণা দূর করে এর প্রতি আকর্ষণ সৃষ্টি করতে হবে। ইসলামের অনুশাসনগুলির (ইবাদত) প্রতি পরোক্ষ এবং কোন কোন সময় প্রত্যক্ষভাবে সজাগ করতে হবে। তৃতীয়তঃ তাকে ইসলামী আন্দোলনের ও সাংগঠনিক জীবনের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করাতে হবে। রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর জীবন, সাহাবায়ে কেরামদের জীবনের ঘটনাবলী, যুগে যুগে ইসলামী আন্দোলন সৃষ্টিকারী মহৎ ব্যক্তিদের জীবনীর মাধ্যমে তাকে আন্দোলন ও সংগঠনের প্রয়োজনীয়তা বুঝাতে হবে। এ পর্যন্ত কৃতকার্য হলে পরবর্তী পর্যায়ে তাকে প্রত্যক্ষভাবে সংগঠনে অংশগ্রহণ করার আহ্বান জানাতে হবে। দাওয়াতী কাজের এটাই স্বাভাবিক পন্থা।

 (ঘ) যোগাযোগকারীর বৈশিষ্ট্য

যোগাযোগকারীকে নিম্ন লিখিত বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হতে হবে। কম কথা বলা। অত্যাধিক ধৈর্যের পরিচয় দেয়া। বেশি কথার পরিবর্তে চারিত্রিক মাধুর্য দিয়ে প্রভাব সৃষ্টি করা। ইসলাম সম্পর্কে সঠিক ও স্পষ্ট ধারণা রাখবেন। কোন প্রশ্নের উত্তর দিতে না পারলে ব্যক্তিত্ব

অক্ষুন্ন রেখে সময় নেবেন। গোজামিলের আশ্রয় না নেয়া। যার সাথে সাক্ষাত করা হচ্ছে তার মন-মানসিকতার দিকে লক্ষ্য রাখা। যোগাযোগকৃত ছাত্রের রোগ দূর করার জন্য একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসকের ভূমিকা পালন করা। তার দুর্বলতার সমালোচনা না করে সৎ গুণাবলী বিকাশে সহযোগিতা করা। ব্যবহারে অমায়িক হওয়া। তার সুখ-দুঃখের অংশীদার হওয়া। মনকে অহেতুক ধারণা থেকে মুক্ত রাখা।

সম্পর্ক বৃদ্ধির জন্য একসংগে ভ্রমণ, একত্রে নাস্তা করা, খাওয়া, নিজ বাসায় নিয়ে আসা, তার বাসায় যাওয়া, উপহার দেওয়া ইত্যাদি উপায় অবলম্বন করা।

(ঙ) ক্রমান্বয়ে কর্মী পর্যায়ে নিয়ে আসা

একজন ছাত্রকে শুধু আদর্শ,আন্দোলন ও সংগঠনের দাওয়াত দিলেই চলবে না। তাকে ক্রমান্বয়ে কর্মীপর্যায়ে নিয়ে আসতে হবে। আমাদের সংগঠনের লক্ষ্যে পৌঁছার জন্য চাই কাজ, এজন্য প্রয়োজন কর্মীর। একজন সমর্থককে কর্মীরূপে গড়তে হলে ব্যক্তিগত যোগাযোগ ছাড়াও নিন্মোক্ত উপায়গুলো কাজে লাগাতে হবে :

(১) সংগঠনের বিভিন্ন অনুষ্ঠানের প্রতি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে আগ্রহী করতে হবে।

(২) সাধারণ সভা, চা-চক্র ও বনভোজনে শামিল করতে হবে।

(৩) ছাত্রদের জ্ঞান, বুদ্ধি, আন্তরিকতা, মানসিকতা ও ঈমানের দৃঢ়তা লক্ষ্য করে পরিকল্পিতভাবেই বই পড়াতে হবে।

(৪) বিভিন্ন ইবাদতের প্রতি তার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে হবে।

(৫) সময় সময় মন মানসিকতা বুঝে তাকে ছোট-খাট কাজ দিতে হবে।

(৬) ব্যক্তিগত রিপোর্ট সংরক্ষণে অভ্যস্ত করাতে হবে।

এছাড়াও মসজিদে, কেন্টিনে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আলোচনা, সাহিত্যসভা, বিতর্কসভা ইত্যাদি সমাবেশে ছাত্রদের মধ্যে দাওয়াত দানে সচেষ্ট থাকতে হবে। অর্থাৎ দাওয়াত কখনও সরাসরি হবে, কখনও হবে পরোক্ষভাবে।

মুসলমান একটি মিশনারী জাতি। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন মুসলমান জাতিকে সৃষ্টি করেছেন তাঁর দ্বীনের পথে মানুষকে ডাকার জন্য। মুসলমানদের জীবনের এটাই একমাত্র মিশন। যতদিন মুসলমানরা দুনিয়ার বুকে এই দায়িত্ব পালন করেছিল ততদিন তারাই ছিল দুনিয়ার বুকে নেতা, আর যখনই তারা এই দায়িত্ব পালনে গাফেল হল তখনই তাদের উপর নেমে এল লাঞ্ছনা। তাই আল্লাহর জমীনে তাঁর দ্বীন প্রতিষ্ঠার দায়িত্বকেই আমাদের জীবনের মিশন হিসেবে গ্রহণ করতে হবে।

সাপ্তাহিক সাধারণ সভা

নিয়মিত কাজের মধ্যে সাপ্তাহিক সাধারণ সভা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতি সপ্তাহে নির্দিষ্ট সময়ে আল্লাহর দ্বীনের দাওয়াত পৌঁছে দেয়ার উদ্দেশ্যে এক জায়গায় জমায়েত হওয়ার মাধ্যমে ইসলামী জ্ঞানার্জন ছাড়াও পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত হয়। সপ্তাহে প্রতিটি কর্মী যতজন ছাত্রের সাথে ব্যক্তিগত সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে সংগঠনের দাওয়াত পৌঁছায় তাদেরকে এ সভায় দাওয়াত দিতে হয়। এতে করে যোগাযোগকৃত ছাত্রদের মধ্যে সাংগঠনিক ও সমষ্টিগত জীবনের অনুভুতি জাগ্রত হয়। এ সভাগুলো হচ্ছে প্রচারধর্মী। এগুলো সমষ্টিগতভাবে দাওয়াতী কাজ করার ফোরাম হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এ ছাড়াও সভায় বক্তৃতা ও কুরআনের অংশ বিশেষ অর্থসহ পেশ করার মাধ্যমে কর্মীদের যোগ্যতা বৃদ্ধি পায়। সাপ্তাহিক সাধারণ সভার কার্যসূচী নিম্নরূপ হওয়া উচিত।

অর্থসহ কুরআন তেলাওয়াত

বিষয় ভিত্তিক সংক্ষিপ্ত আলোচনা

সভাপতির ভাষণ/ বক্তব্য

মাসিক সাধারণ সভা

প্রতিমাসে একটি করে মাসিক সাধারণ সভার আয়োজন করাও আমাদের নিয়মিত দাওয়াতী কার্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত। সংগঠনের প্রাক্তন কোন কর্মী, অভিজ্ঞ যে কোন কর্মী বা ব্যক্তি, একটি নির্দিষ্ট বিষয়ের উপর এতে আলোচনা পেশ করবেন।

 এর কার্যসূচী নিম্নরূপে হবে

ব্যাখ্যাসহ কুরআন তেলাওয়াত

নির্দিষ্ট বিষয়ের উপর বক্তৃতা

সংগঠনের পরিচয় পেশ

সভাপতির বক্তব্য

পরিচিতি বিতরণ

এ সভায় বেশি সংখ্যক নতুন ছাত্র উপস্থিত করার চেষ্টা করা প্রত্যেক কর্মীর দায়িত্ব।

সিম্পোজিয়াম

উর্ধ্বতন সংগঠনের অনুমতিক্রমে কোন উপলক্ষকে সামনে রেখে সিম্পোজিয়ামের আয়োজন করা যেতে পারে। কোন হলে বা অডিটোরিয়ামে যে কোন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে একজন বিশিষ্ট বক্তার দ্বারা বক্তৃতার আয়োজন করা যেতে পারে। সিম্পোজিয়ামকে আকর্ষণীয় ও সুশৃংখল ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হবে। এতে ছাত্র ছাড়াও উৎসাহী যে কোন ব্যক্তিই থাকতে পারেন। সিম্পোজিয়ামের কার্যসূচী সাধারণত নিন্মরূপ :

অর্থসহ কুরআন তেলাওয়াত

নির্ধারিত বিষয়ের উপর বক্তৃতা

প্রশ্নোত্তর

সংগঠনের পরিচয় পেশ

সভাপতির ভাষণ

সেমিনার

কেন্দ্রীয় সংগঠনের অনুমতিক্রমে বৎসরে একবার অথবা দু’বার উপযুক্ত পরিবেশ ও সময়ে শিক্ষা ব্যবস্থা, রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর জীবন, বিভিন্ন সমস্যার ইসলামী সমাধান ইত্যাদি বিষয়ের উপর সেমিনার করা যেতে পারে। একটি বিষয়ের বিভিন্ন দিকের উপর কয়েকজন বক্তা এতে বক্তৃতা করবেন। এজন্য চিন্তাশীল ও সুযোগ্য বক্তা প্রয়োজন। ইসলামী প্রজ্ঞা সম্পন্ন কোন ব্যক্তিকে সভাপতি মনোনীত করতে হবে। সেমিনারের কর্মসূচি সাধারণত নিম্নরূপঃ

অর্থসহ কুরআন তেলাওয়াত

উদ্বোধনী বক্তব্য

প্রবন্ধ উপস্থাপন

প্রবন্ধের উপর আলোচনা

সভাপতির বক্তব্য

বি. দ্র. সেমিনারে এক বা একাধিক অধিবেশন হতে পারে।

চা-চক্র

দাওয়াতী কাজের জন্য এটা একটা আকর্ষণীয় প্রোগ্রাম। অনুষ্ঠানের বৈচিত্র ও আনন্দঘন পরিবেশে ছাত্র সমাজের কাছে আন্দোলনের দাওয়াত পৌঁছে দেয়া সম্ভব হয়। টার্গেটকৃত ছাত্রদেরকে এতে আমন্ত্রণ জানানো হয়। প্রত্যেক কর্মীকে চা-চক্রের খরচ নির্বাহের জন্য নির্ধারিত হারে আর্থিক সহযোগীতা দিতে হয়। আমন্ত্রিতদের কেউ আগ্রহ করে আর্থিক সহযোগীতা দিতে চাইলে নেয়া যেতে পারে। চা-চক্রের জন্য নিরিবিলি কোন জায়গা বেছে নেয়া প্রয়োজন। স্মরণ রাখতে হবে নতুন ছাত্রদের আকৃষ্ট করার উদ্দেশ্যেই চা-চক্রের আয়োজন করা হয়। সংগঠনের উর্ধ্বতন দায়িত্বশীল ব্যক্তির আগমনকে উপলক্ষ্য করেও চা-চক্রের আয়োজন করা যেতে পারে। অন্যান্য ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং ছাত্র সংসদ কর্মকর্তাদেরও এরূপ চক্রে দাওয়াত দেয়া যেতে পারে। খেয়াল রাখতে হবে যেন পরিবেশ গুরু-গম্ভীর হয়ে না পড়ে অথবা মাত্রাতিরিক্ত হালকা না হয়। চা-চক্রের কার্যসূচী নিম্নরূপ হওয়া বাঞ্ছনীয় :

তেলাওয়াতে কুরআন

পারস্পরিক পরিচয়

কবিতা, আবৃতি, হামদ, নাত, শিক্ষণীয় কোন ঘটনার উল্লেখ ইত্যাদি।

প্রশ্নোত্তর

সভাপতির বক্তব্য

আপ্যায়ন

সমাপ্তি ঘোষণা

বনভোজন

ছাত্রদের পাঠ্য জীবনের একঘেঁয়েমি দূর করার জন্য এ ধরণের কর্মসূচির প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। বনভোজনে আনন্দ লাভের সাথে সাথে ইসলামী পরিবেশও উপভোগ করা যায়।

বনভোজনের জন্য শহরের উপকণ্ঠে অথবা গ্রামের কোন সুন্দর প্রাকৃতিক পরিবেশে অথবা ঐতিহাসিক কোন স্থানে যাওয়ার প্রোগ্রাম নিতে হবে। পূর্বাহ্নেই বনভোজনের তারিখ, বিভিন্ন কাজের দায়িত্ব বন্টন, ডেলিগেট ফির পরিমান, একত্রিত হওয়ার সময় ও স্থান, রওয়ানা হবার সময় ইত্যাদি নির্ধারণ করে নিতে হবে। নির্দিষ্ট জায়গায় পৌঁছে কর্মসূচি জানিয়ে দিতে হবে। কর্মসূচির মধ্যে বক্তৃতা প্রতিযোগিতা, রশি টানাটানি, সাঁতার কাটা, গ্রুপ ভ্রমণ, বিভিন্ন শিক্ষামূলক আসর ইত্যাদি থাকবে। মনে রাখতে হবে উদ্যোক্তাদের যোগ্যতার মাধ্যমে পরিবেশকে আনন্দময় সুশৃঙ্খল এবং শিক্ষামূলক করে তোলার উপরেই প্রোগ্রামের সাফল্য নির্ভর করে।

নবাগত ও কৃতিছাত্র সংবর্ধনা

প্রতিষ্ঠানে নবাগত ছাত্রদের সংবর্ধনা প্রদান এবং বিভিন্ন পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্তসহ কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনার আয়োজন করা প্রয়োজন। সংবর্ধনার কর্মসূচি নিম্নরূপ-

অর্থসহ কুরআন তিলাওয়াত

হামদ/নাত/দেশের গান

কৃতি শিক্ষার্থীর বক্তব্য

শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান প্রধানের বক্তব্য

বিশেষ অতিথির বক্তব্য

প্রধান অতিথির বক্তব্য

ক্রেষ্ট-পুরস্কার বিতরণ

সভাপতির ধন্যবাদ জ্ঞাপন

বিভিন্ন বিষয়ে প্রতিযোগিতা

রাসুল (সাঃ) এর সীরাত গ্রন্থ, সাহাবাদের জীবনী এবং বিষয়ভিত্তিক বই নির্ধারণ করে গ্রুপ ভিত্তিক সীরাত পাঠ ও বই পাঠ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা প্রয়োজন। এ ছাড়াও বিভিন্ন দিবসে বিভিন্ন বিষয়ের উপর রচনা ও বক্তৃতা প্রতিযোগিতা, বিতর্কসভা, এবং সাধারণ জ্ঞানের আসরসহ ছাত্রদের আদর্শিক জ্ঞান, সাহিত্য ও সৃজনশীল প্রতিভার বিকাশের জন্য আকর্ষণীয় বিষয়বস্তুর উপর আকর্ষনীয় প্রতিযোগিতা রাখতে হবে। প্রতিযোগিতায় পুরস্কারের ব্যবস্থা থাকাটা উত্তম। প্রতিযোগিতার নিয়ম-কানুন পূর্বেই জানিয়ে দিতে হবে।

বিতর্ক প্রতিযোগিতায় ব্যক্তিগত আক্রমন, মিথ্যার আশ্রয় গ্রহণ ও যেনতেন প্রকারে প্রতিক্ষপকে পরাজিত করার মনোভাব পরিত্যাজ্য এবং প্রতিপক্ষ্যের উন্নত যুক্তির নিকট নিজের যুক্তি সমর্পনের মানসিকতা থাকতে হবে।

পোষ্টারিং, দেয়াল লিখন, পরিচিতি ও বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত সাময়িকী বিতরণ

সময় সময় বিভিন্ন উপলক্ষ্যকে কেন্দ্র করে শিবিরের বৈশিষ্ট্য, কর্মসূচি ও দাওয়াতের উপর পোষ্টারিং ও দেয়াল লিখন হতে পারে। এসব দাওয়াতী পোষ্টারিং ও দেয়াল লিখন সুন্দর ও আকর্ষণীয় করে লেখা প্রয়োজন।

ভর্তি ও পরীক্ষার সময় নবীনদের উদ্দেশ্য অভিনন্দনপত্র এবং পরিচিতি প্রভৃতি ছাত্রদের নিকট বিতরণ করা প্রয়োজন। মাঝে মাঝে গ্রুপে সমষ্টিগত দাওয়াতী কাজ করার সময় পরিচিতি বিতরণ অভিযান চালানো যেতে পারে। শুভাকাড়খী শিক ও বুদ্ধিজীবি মহলেও পরিচিতি পৌঁছান দরকার।

সংগঠন থেকে বিভিন্ন সময়ে সাময়িকী স্মারক ও পত্রিকা প্রকাশ এবং সুষ্ঠু বিতরণের মাধ্যমেও আমাদের দাওয়াত ছাত্রদের কাছে পৌঁছানো যায়। তবে এ ধরণের কিছু প্রকাশ করতে হলে কেন্দ্রীয় সংগঠনের অনুমোদনের প্রয়োজন। এ ছাড়া দাওয়াতী কাজ সম্প্রসারনের লে তথ্য প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা দরকার।

ক্যাসেট, সিডি, ভিসিডি প্রভৃতি বিতরণ

সংগঠন কতৃক প্রকাশিত ও অনুমোদিত ক্যাসেট ও সিডি, ভিসিডি প্রভৃতি বিতরণ করা প্রয়োজন।

এছাড়াও দাওয়াতী কর্মসূচি সমূহ

 গ্রুপ দাওয়াতী কাজঃ

উপশাখাসমূহে গ্রুপ দাওয়াতী কাজ পরিচালিত হবে। এসব দাওয়াতী গ্রুপে কমপক্ষে এমন একজন থাকবেন যিনি কুরআন হাদিসের আলোকে ছাত্রদের নিকট গ্রহণযোগ্য উপায়ে সংগঠনের আহবান পৌঁছাতে সক্ষম হবেন।

দাওয়াতী গ্রুপ প্রেরণ।

কাজ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে অপেক্ষাকৃত দুর্বল এলাকায় বিভিন্ন শাখা থেকে সুবিধাজনক সময়ে এক বা একাধিক দাওয়াতী গ্রুপ প্রেরিত হবে। যে এলাকায় গ্রুপ প্রেরণ করা হবে পূর্বেই তাদের সাথে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় প্রোগ্রামের আয়োজন করা হবে।

দাওয়াতী সপ্তাহ ও পক্ষঃ

বছরের সুবিধাজনক সময়ে কেন্দ্র থেকে এই সপ্তাহ বা পক্ষ ঘোষিত হয়। সাধারণ ও স্কুল দাওয়াতী সপ্তাহ হিসেবে পৃথক পৃথক সপ্তাহ বা পক্ষ ঘোষণা হয়ে থাকে। একযোগে সকল শাখা পূর্ব পরিকল্পিত উপায়ে এই সপ্তাহ বা পক্ষ পালন করবে। কোন শাখা নির্দিষ্ট সময়ে সপ্তাহ পালনে অপারগ হলে কেন্দ্র থেকে অনুমতি নিয়ে নিজেদের সুবিধাজনক সময়ে এ কর্মসূচি পালন করতে হবে। এ সপ্তাহে এলাকার সকল ছাত্রের কাছে দাওয়াত পৌঁছানোর পরিকল্পনা নিতে হবে। দাওয়াতী সপ্তাহ উপলক্ষে শাখাসমূহ প্রয়োজনীয় দাওয়াতী উপকরণ কেন্দ্র থেকে সংগ্রহ করবে।

মোহররমাদের মাঝে কাজঃ

ইসলামী আন্দোলনের কাজকে মজবুত করার লক্ষ্যে কর্মী ভাইয়েরা তাদের মা-বোন এবং অন্যান্য মোহররমা আত্মীয়দের মাঝে পরিকল্পিত উপায়ে দাওয়াতী কাজ করবেন। মোহররমাদের মাঝে কাজের রিপোর্ট আলাদা ভাবে প্রদান করতে হবে।

মসজিদ ভিত্তিক দাওয়াতী কাজঃ

এলাকার মসজিদকে কেন্দ্র করে শাখা বা উপশাখাসমূহ দাওয়াতী কাজ করবে। পাঠাগার তৈরি, হাদীস পাঠ, বিভিন্ন দিবস পালন ইত্যাদি কর্মসূচির মাধ্যমে মসজিদভিত্তিক দাওয়াতী কাজকে ফলপ্রসু করা যেতে পারে।

অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের মাঝে কাজঃ

ইসলাম সাম্য ও ন্যায়ের সৌধের উপর প্রতিষ্ঠিত। মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়ে ইসলাম প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। তাই ইসলামের এ সুমহান সৌন্দর্যকে অমুসলিম ছাত্রদের মাঝে তুলে ধরার জন্য যথাযথ পদপে গ্রহন করা প্রয়োজন।

এছাড়া সামার ক্যাম্প, স্প্রীং ক্যাম্পসহ মৌসুম উপযোগী আকর্ষণীয় প্রোগ্রাম হাতে নেয়া যেতে পারে। যে কোন পরিস্থিতিতেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক আয়োজিত বিভিন্ন শিক্ষামূলক অনুষ্ঠানে কর্মীদের যোগ দেয়া অত্যন্ত প্রয়োজন। এতে করে উক্ত কর্মীর পরিচিতি বৃদ্ধি পাবে এবং সংগঠন সম্পর্কে সাধারণ ছাত্রদের উৎসুক্য বৃদ্ধি পাবে। স্মরণ রাখতে হবে যে, জ্ঞান ও বুদ্ধির জগতে আমাদেরকে শীর্ষ স্থানীয় হতে হবে। এজন্য বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক আয়োজিত রচনা প্রতিযোগিতা ও আলোচনা সভাসহ অন্যান্য প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে হবে।

 

About বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির