কর্মপদ্ধতিঃ বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির

সম্পুর্ণ সূচীপত্র

দ্বিতীয় দফা কর্মসূচিঃ সংগঠন

‘যেসব ছাত্র ইসলামী জীবনবিধান প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে অংশ নিতে প্রস্তুত তাদেরকে সংগঠনের অধীনে সংঘবদ্ধ করা।’

সংক্ষেপে এ দফাকে আমরা ‘সংগঠন’ বলে থাকি। যে কোন আন্দোলনেই সংগঠনের প্রয়োজন। সংগঠন বা সংঘবদ্ধ প্রচেষ্টা ছাড়া কোন আন্দোলনই সফল হতে পারে না। বিশেষ করে সংঘবদ্ধ জীবন ছাড়া বিচ্ছিন্ন হয়ে সত্যিকারের মুসলমান থাকাটাই সম্ভব নয়। আল্লাহতায়ালা নির্দেশ দিয়েছেন “তোমরা সংঘবদ্ধভাবে আল্লাহর রজ্জুকে ধারণ করো এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না।” (আলে-ইমরান-১০২) রাসূলে করীম (সাঃ) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি জামায়াত থেকে বের হলো সে ইসলাম থেকে দূরে সরে গেলো।’ ইসলামী আন্দোলনের গোড়া থেকেই আমরা সংগঠনের অস্তিত্ব দেখতে পাই। আজকের এ পঙ্কিল পরিবেশে বাতিলের সর্বগ্রাসী ও চতুর্মূখী হামলার মোকাবেলায় এর প্রয়োজনীয়তা আরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। বস্তুতঃ সংগঠন ছাড়া ইসলাম হতে পারে না। হযরত ওমর ফারুক (রাঃ)-এর উদ্ধৃতি এখানে প্রণিধানযোগ্য। তিনি বলেছেন ‘লা ইসলামা ইল্লা বিল জামায়াত।’ অর্থাৎ সংগঠন ছাড়া ইসলাম নেই। ইসলামের দাওয়াত পেশ করার পর যেসব ছাত্র আমাদের সাথে এর প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে অংশ নিতে প্রস্তুত হয়, তাদেরকে আমাদের সংগঠনের অন্তর্ভুক্ত করে নিতে হবে। অন্তর্ভুক্তির পূর্বে ইসলামী আন্দোলনের সংগঠন হিসেবে শিবিরকে অবশ্যই বুঝতে হবে। অর্থাৎ সংগঠনের উদ্দেশ্য, কর্মসূচি কর্মপদ্ধতি ও সংবিধান সম্পর্কে তার প্রাথমিক জ্ঞান থাকতে হবে।

আমাদের সংগঠনের সদস্যপদ পার্থিব কোন সম্পদের বিনিময়ে লাভ করা যায় না। এজন্য প্রয়োজন সংগঠনকে জানা, বুঝা এবং ঐকান্তিকতার সাথে অংশগ্রহণ করা।

তাই আমাদের সংগঠনের কাঠামো সম্পর্কে যে কোন ছাত্রেরই ধারণা থাকা দরকার। শিবিরের সংবিধান অনুযায়ী এতে ‘সদস্য’ ও ‘সাথী’ এই দুই স্তরের কর্মী রয়েছে। তবে সাথী হওয়ার পূর্বে একজন ছাত্রকে আরও দু’টি পর্যায় অতিক্রম করে আসতে হয় তা হলো সমর্থক এবং কর্মী।

কর্মীঃ

যে সমর্থক সক্রিয়ভাবে দাওয়াতী কাজ করেন, কর্মী সভায় নিয়মিতভাবে যোগদান করেন, বায়তুলমালে এয়ানত দেন এবং ব্যক্তিগত রিপোর্ট রাখেন তাকে আমরা কর্মী বলে থাকি। একজন কর্মী সাধারণতঃ নিম্নলিখিত কাজগুলি করবেন :

(১) কুরআন ও হাদীস নিয়মিত বুঝে পড়ার চেষ্টা করবেন।

(২) নিয়মিত ইসলামী সাহিত্য পড়বেন।

(৩) ইসলামের প্রাথমিক দাবিসমূহ মেনে চলার চেষ্টা করবেন।

(৪) বায়তুলমালে নিয়মিত এয়ানত দেবেন।

(৫) নিয়মিত ব্যক্তিগত রিপোর্ট রাখবেন ও দেখাবেন।

(৬) কর্মীসভা, সাধারণ সভা প্রভৃতি অনুষ্ঠানসমূহে যোগদান করবেন।

(৭) সংগঠন কর্তৃক অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করবেন।

(৮) অপরের কাছে সংগঠনের দাওয়াত পৌঁছে দেয়ার চেষ্টা করবেন।

সাথীঃ

একজন কর্মীকে সংবিধানের ৯ নং ধারায় বর্ণিত শর্তাবলী পূরণ করে ‘সাথী’ হতে হয়। শর্তাবলী হচ্ছে : (১) সংগঠনের লক্ষ্য-উদ্দেশ্যের সাথে ঐক্যমত পোষণ করা।

(২) সংগঠনের কর্মসূচি ও কর্মপদ্ধতির সাথে সচেতনভাবে একমত হওয়া।

(৩) ইসলামের প্রাথমিক দায়িত্বসমুহ পালন করা।

(৪) সংগঠনের সামগ্রিক তৎপরতায় পূর্ণভাবে সহায়তা করার প্রতিশ্রুতি দেয়া।

‘সাথী’রা হচ্ছেন সংগঠনের একটি পরিপূরক শক্তি। উপরে বর্ণিত দায়িত্বসমূহ নিষ্ঠার সাথে সুচারুরূপে পালন করে সংগঠনের প্রথম সারিতে (সদস্য পর্যায়ে) পৌঁছা একজন সাথীর নৈতিক দায়িত্ব। সাথী হতে হলে ‘সাথী’ হওয়ার জন্য আবেদন করতে হয় এবং তা কেন্দ্রীয় সভাপতি অথবা তার নিযুক্ত প্রতিনিধির নিকট পাঠাতে হয়। কেন্দ্রীয় সভাপতি বা তার প্রতিনিধি উক্ত কর্মী ‘সাথী হওয়ার উপযুক্ত বিবেচনা’ করলে তখন তাকে সাথী করে নেবেন।

সদস্যঃ

যখন কোন শিক্ষার্থী আমাদের এ সংগঠনের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে সম্পূর্ণরূপে আত্মসমর্পণ করেন, যখন তিনি তার গোটা সত্বাকে সংগঠনের সাথে মিশিয়ে দেন অর্থাৎ সংবিধানের ৪নং ধারায় বর্ণিত শর্তসমূহ যথাযথভাবে পূরণ করেন তখন তাকে ‘সদস্য’ বলা হয়। সংবিধান অনুযায়ী শর্তসমূহ হচ্ছে নিম্নরূপ :

(১) সংগঠনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যকে জীবনের লক্ষ্য উদ্দেশ্য হিসেবে গ্রহণ করা।

(২) সংগঠনের কর্মসূচি ও কর্মপদ্ধতির সাথে পূর্ণ ঐক্যমত পোষণ করা এবং তা বাস্তবায়নের প্রচেষ্টায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করা।

(৩) সংবিধানকে মেনে চলা।

(৪) ফরজ ও ওয়াজিবসমূহ যথাযথভাবে পালন করা।

(৫) কবিরা গুণাহ থেকে বিরত থাকা।

(৬) শিবিরের লক্ষ্য ও কর্মসূচির বিপরীত কোন সংস্থার সাথে সম্পর্ক না রাখা।

এছাড়াও একজন ‘সদস্য’কে অলিখিত বা ঐতিহ্যগত নিয়ম- শৃঙ্খলাসমূহ মেনে চলতে হয়। সদস্যরাই সংগঠনের মূল শক্তি। একটা ইমারত যেরূপ তার ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে থাকে, ভিত্তির মজবুতির উপর নির্ভর করে তদ্রুপ গোটা সংগঠন সদস্যদের সম্মিলিত শক্তির উপর দাঁড়িয়ে থাকে। তাদের মধ্যে শিথিলতা আসলে গোটা সংগঠনের উপর স্বাভাভিকভাবেই তার প্রতিক্রিয়া তড়িৎবেগে ছড়িয়ে পড়ে। সদস্যগণই হচ্ছে সংগঠনের আসল প্রতিনিধি। তাদের পরিচয়ই সংগঠনের পরিচয়। ঈমানের অত্যুজ্বল আলোকে তাদেরকে উদ্ভাসিত হতে হয় খোদাভীতির শক্তিতে তাদের বলীয়ান হতে হয়। আখেরাতে সীমাহীন ও অমূলক্ষ্য পুরস্কারের আকর্ষণে তাদের জীবনটাই হয় গতিশীল ও দুর্নিবার। তাদের চারিত্রিক মাধুর্যের মহৎ প্রভাবে সমাজে সৃষ্টি হয় আলোড়ন। সংগঠনের স্বার্থে তাদেরকে ব্যক্তিগত স্বার্থ অকুণ্ঠচিত্তে কোরবাণী করতে হয়। সংগঠনের নির্দেশ যে কোন সময় যে কোন পরিস্থিতিতে আস্তরিকতা ও নিষ্ঠার সাথে পালন করতে হয়, ত্যাগ-তিতিক্ষা অগ্রগামী থেকে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হয়, জীবনকে প্রতিষ্ঠিত করতে হয় আল-কুরআনের বাস্তব প্রতিচ্ছবি হিসেবে।

‘সদস্য’ হওয়ার পদ্ধতি সংবিধানের ৫নং ধারায় উল্লেখ রয়েছে। ‘সদস্য’ হওয়ার জন্য নির্ধারিত আবেদনপত্র কেন্দ্রীয় সভাপতি থেকে সংগ্রহ করতে হয়। কোন কর্মী ‘সদস্য’ হওয়ার আবেদনপত্র পূরণ করলে স্থানীয় সভাপতি বা এলাকার দায়িত্বশীল তার মন্তব্যসহ কেন্দ্রীয় সভাপতির নিকট পাঠিয়ে দেন। আবেদনপত্র পূরণ করে পাঠানোর কিছুদিন পর কেন্দ্রীয় সভাপতি নির্দিষ্ট একটি ‘প্রশ্নমালা’ আবেদনকারীর নিকট পাঠান। আবেদনকারী তা পূরণ করে স্থানীয় সভাপতি বা এলাকার দায়িত্বশীলের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সভাপতির নিকট পাঠিয়ে দেন। কেন্দ্রীয় সভাপতি আবেদনকারীর আবেদন মঞ্জুর করে তাকে সংগঠনের সদস্যভূক্ত করেন। এখানে উল্লেখযোগ্য যে, সাংগঠনিক সুবিধার জন্যই জনশক্তিকে এরূপ বিভিন্ন পর্যায়ে বিভক্ত করা হয়েছে। এটি কোন শ্রেণী বিভাগ নয় বরং আদর্শ কর্মী তৈরির বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি মাত্র।

দ্বিতীয় দফা কর্মসূচিকে বাস্তবায়িত করার জন্য যে সমস্ত কাজ করতে হয় তা নিম্নে বর্ণনা করা হলো –

কর্মী বৈঠকঃ

মাসে প্রতিটি উপশাখায় একটি কর্মী বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। কর্মীদের ব্যক্তিগত মান উন্নয়ন এবং সংগঠনের উন্নতি ও গতিশীলতা অক্ষুন্ন রাখার জন্য নির্দিষ্ট কর্মসূচির ভিত্তিতে কর্মী বৈঠক করতে হয়। কর্মী বৈঠকের সর্বোচ্চ সময় ১ ঘণ্টা। কর্মী বৈঠকের কার্যসূচী নিম্নরূপঃ

কার্যসূচীঃ

অর্থসহ কুরআন তেলাওয়াত ১০ মি.

ব্যক্তিগত রিপোর্ট পেশ, মন্তব্য ও পরামর্শ    ২৫ মি.

পরিকল্পনা গ্রহণ ২০ মি.

কর্ম বন্টন ১০ মি.

সভাপতির বক্তব্য ও মুনাজাত ৫ মি.

সাথী বৈঠকঃ

সাথী শাখাসমূহে প্রতি মাসে একবার সাথী বৈঠক করতে হবে। মাসের শুরুর দিকে বৈঠক করলে ভাল হয়। সাথী বৈঠকের সর্বোচ্চ সময় ২ ঘণ্টা ৩০ মি.। সাথী বৈঠকের কার্যসূচী নিম্নরূপ হবে :

দারসে কুরআন/দারসে হাদীস- ২০ মি.

ব্যক্তিগত রিপোর্ট পেশ, পর্যালোচনা, মন্তব্য ও পরামর্শ- ১ ঘণ্টা ৫৫মি

শাখার মাসিক রিপোর্ট পেশ ও পর্যালোচনা- ২০ মি.

শাখার পরিকল্পনা গ্রহণ ও কর্ম বন্টন- ২০ মি.

বিবিধ আলোচনা- ২০ মি.

এহতেছাব, সমাপনী/মুনাজাত- ১০ মি.

সদস্য বৈঠকঃ

সদস্য শাখাগুলোতে নিয়মিত ভাবে মাসে একবার সদস্য বৈঠক করতে হবে। মাসের প্রথম দিকে বৈঠক হওয়া প্রয়োজন। বৈঠক নিরিবিলি জায়গায় ও প্রয়োজনীয় সময় নিয়ে করতে হবে। এক্ষেত্রে অযথা সময়কে দীর্ঘায়িত করা অথবা সময়ের কার্পণ্য প্রদর্শন ক্ষতির কারণ হতে পারে। যেহেতু সদস্যরাই হচ্ছেন সংগঠনের প্রাণ সেহেতু ‘সদস্য বৈঠক’ সুচারুরূপে যথার্থ মেজাজে প্রয়োজনীয় গুরুত্ব দিয়ে করার উপর কাজের গতিশীলতা নির্ভরশীল। সদস্য বৈঠকের কার্যসূচী নিম্নরুপ :

 কার্যসূচীঃ

দারসে কুরআন বা দারসে হাদীস

বিগত মাসের রিপোর্ট পেশ, পর্যালোচনা, মন্তব্য ও পরামর্শ

বিশেষ সমস্যা থাকলে আলোচনা

মাসিক পরিকল্পনা প্রণয়ন

ব্যক্তিগত রিপোর্ট পেশ ও পর্যালোচনা

এহতেছাব

সভাপতির বক্তব্য

দায়িত্বশীল বৈঠকঃ

থানা শাখা, সাথী শাখা, সদস্য শাখা ও জেলা শাখা সমূহ প্রতি মাসে একটি দায়িত্বশীল বৈঠক করবে। দায়িত্বশীল বৈঠকের সর্বোচ্চ সময় ৩ ঘণ্টা হওয়া বাঞ্ছনীয়। এ বৈঠকের কার্যসূচী নিম্নরূপ হবে :

কার্যসূচী

অর্থসহ কুরআন তেলাওয়াত – ১০ মি.

বিগত মাসের রিপোর্ট পেশ, পর্যালোচনা ও পরামর্শ দান – ১ ঘন্টা ৩০ মি.

মাসিক পরিকল্পনা গ্রহণ – ৪০ মি.

বিবিধ আলোচনা – ৩০ মি.

সমাপনী ও মুনাজাত – ১০ মি.

কর্মী যোগাযোগঃ

কর্মীদের মধ্যকার সম্পর্ক গভীর করা, একে অন্যকে জানা, নিস্ক্রিয় কর্মীকে সক্রিয় করা, সক্রিয় কর্মীকে আরও অগ্রসর করা, ভুল বুঝাবুঝি দূর করা প্রভৃতি উদ্দেশ্যে কর্মী যোগাযোগ করতে হয়। কর্মী যোগাযোগ শিবিরের কার্যালীর মধ্যে বিশেষ গুরুত্বের দাবিদার। এজন্যে সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি অনুসরণ করা প্রয়োজন নিম্নে তা উল্লেখ করা হলো :

(ক) পরিকল্পনা: দিনে, সপ্তাহে বা মাসে কোন্ কোন্ কর্মীর সাথে যোগাযোগ করা হবে তার পরিকল্পনা থাকতে হবে।

(খ) স্থান ও সময় নির্বাচন: যার সাথে যোগাযোগ করা হবে তিনি কখন সময় দিতে পারেন, আলোচনার জন্য কোন ধরনের স্থান পছন্দ করেন তা জেনে সময় ও স্থান নির্ধারণ করতে হবে। মনে রাখতে হবে যে, কাউকে কোন কথা বলতে হলে বা কোন কথা শুনতে হলে তিনি যে ধরণের পরিবেশ পছন্দ করেন তা সৃষ্টি করতে হবে।

(গ) ঐকান্তিকতা: যার সাথে যোগাযোগ করা হবে তার ব্যাপারে আন্তরিকতার পরিচয় দিতে হবে। তিনি যখন বুঝতে পারবেন যে, যোগাযোগকারী তার শুভাকাংঙ্খী তখন তিনি প্রতিটি কথার গুরুত্ব দেবেন। নির্ভেজাল ঐকান্তিকতাই এ ধরণের মানসিকতা সৃষ্টির সহায়ক।

(ঘ) ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সমস্যা আলোচনা: প্রথম তার ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সমস্যার প্রতি নজর দিতে হবে। সম্ভব হলে তা সমাধান করতে হবে। কমপক্ষে সঠিক পরামর্শ দিতে হবে এবং সহানুভূতিশীল মনোভাব প্রকাশ করতে হবে।

(ঙ) সাংগঠনিক আলোচনা: এরপর তার সাথে সাংগঠনিক বিষয়ে আলোচনা করতে হবে। ত্রুটি পরিলক্ষিত হলে সংশোধনের চেষ্টা করতে হবে।

(চ) সার্বিক আন্দোলনের আলোচনা: কর্মীর চিন্তার ব্যাপকতা ও দায়িত্বানুভূতি বৃদ্ধির জন্যে আন্দোলনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে।

(ছ) সালাম ও দোয়া বিনিময়: পরিশেষে পারস্পরিক সালাম ও দোয়া বিনিময় করে বিদায় নিতে হবে।

বায়তুলমালঃ

সংগঠনের কাজ পরিচালনার জন্যে প্রতিটি শাখায় বায়তুলমাল থাকতে হবে। কারণ, বায়তুলমাল সংগঠনের মেরুদণ্ড। আপনা-আপনি বায়তুলমাল গড়ে উঠবেনা। কর্মীদের ত্যাগ ও সক্রিয় প্রচেষ্টার বিনিময়েই তা গড়ে উঠে।

বায়তুলমালের আয়ের উৎস প্রধানত : দুটি। প্রথমত : সংগঠনের কর্মীদের এয়ানত। প্রত্যেক কর্মীকে নির্ধারিত হারে প্রতিমাসে বায়তুলমালে নিয়মিত এয়ানত দিতে হয়। এয়ানতের হার কর্মী নিজেই নির্ধারণ করবেন। আর্থিক কুরবানীর জন্যে ইনফাক ফি সাবিলিল্লাহর আহবানকে সামনে রেখেই এ হার নির্ধারণ করতে হবে।

শুভাকাংখীদের কাছ থেকে প্রাপ্ত আর্থিক সহযোগিতা আয়ের দ্বিতীয় উৎস। একদিকে দিন দিন শুভাকাংখীদের সংখ্যাবৃদ্ধির প্রতি নজর দিতে হবে, অপরদিকে কেউ যেন অর্থের বিনিময়ে কোন স্বার্থ হাসিল করতে না পারে সেদিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে।

এছাড়াও যাকাত এবং ওশর বায়তুল মালের আয়ের উৎস হতে পারে। তবে এসব আদায় করার পূর্বে কেন্দ্রীয় সভাপতির অনুমতি নিতে হবে। এ খাতের আয় ব্যয়ের হিসাব স্বতন্ত্রভাবে রাখতে হবে। প্রত্যেক অধঃস্তন শাখাকে নিয়মিতভাবে নির্ধারিত হারে উর্ধ্বতন সংগঠনের মাসিক এয়ানত দিতে হবে, তারপর অন্য কাজ। উর্ধ্বতন সংগঠনকে দুর্বল করে যত কাজই করা হোক না কেন তাতে ফল পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।

মাসিক কর্মী সভায় নিয়মিতভাবে বায়তুলমালের রিপোর্ট পেশ করতে হবে। প্রয়োজনের প্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় সভাপতি যে কোন সময় বায়তুলমালের যাবতীয় রেকর্ড পরিদর্শন করবেন বা করাবেন।

সাংগঠনিক সফরঃ

সংগঠনের কাজকে ভালোভাবে বুঝিয়ে দেয়ার জন্যে কোন সাংগঠনিক সমস্যা বা জটিলতা দূর করার প্রয়োজনে এবং স্থানীয় কোন প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করার জন্যে উর্ধ্বতন সংগঠন থেকে অধঃস্তন শাখাগুলোতে সফর করা হয়। প্রোগ্রাম রাখতে হলে পূর্বেই উর্ধ্বতন সংগঠনের সাথে যোগাযোগ করে অনুমোদন নিতে হয়। সফরের ব্যয়ভার সফরকৃত শাখাগুলোকেই বহন করতে হয়।

পরিচালক নির্বাচনঃ

সদস্য শাখা ও সাথী শাখায় প্রতি সেশনের শুরুতে নতুন করে সভাপতি নির্বাচিত হন। নির্বাচনের সময় সংবিধানের ৩৪ নং ধারায় বর্ণিত পরিচালকের গুণাবলীর প্রতি নজর রাখতে হবে। সভাপতি নির্বাচিত হবার পর কাজের সুবিধার জন্য কর্মীদের পরামর্শক্রমে বিভিন্ন দায়িত্বশীল ব্যক্তি নিযুক্ত করবেন। যেমন :

(১) সাধারণ সম্পাদক

(২) বায়তুলমাল সম্পাদক

(৩) অফিস সম্পাদক।

(৪) পাঠাগার সম্পাদক।

(৫) প্রচার সম্পাদক।

(৬) প্রকাশনা সম্পাদক। শাখার অধীনে উপশাখার পরিচালক কর্মীদের পরামর্শক্রমে সভাপতি কর্তৃক নিযুক্ত হবেন।

পরিকল্পনাঃ

পরিকল্পনার ভিত্তিতে কাজ করা মজবুত সংগঠনের পরিচয়। পরিকল্পনা প্রণয়নের সময় নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর প্রতি সতর্ক নজর রাখতে হবে।

(১) জনশক্তি (শ্রেণী বিন্যাসসহ)

(২) কর্মীদের মান।

(৩) কাজের পরিধি ও পরিসংখ্যানমূলক তথ্য।

(৪) অর্থনৈতিক অবস্থা।

(৫) পারিপার্শ্বিক অবস্থা।

(৬) বিরোধী শক্তির তৎপরতা কর্মী, সাথী বা সদস্যদের বৈঠকে তাদের পরামর্শক্রমে পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে। মোট কথা পরিকল্পনা প্রণয়নে পরামর্শকে প্রাধান্য দিতে হবে আর উর্ধ্বতন সংগঠনের অনুমোদনের পরই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য চূড়ান্ত হবে। অধঃস্তন শাখাগুলো মাসিক, দ্বিমাসিক পরিকল্পনা প্রণয়ন করবে।

রিপোর্টিং:

পরিকল্পনা অনুমোদন হওয়ার পর কাজের সুষ্ঠু পর্যালোচনার জন্যে নিয়মিত রিপোর্ট প্রণয়ন অপরিহার্য। রিপোর্টের উপর সামষ্টিক পর্যালোচনা বাঞ্ছনীয়। অধঃস্তন সংগঠনগুলো নিয়মিতভাবে উর্ধ্বতন সংগঠনে রিপোর্ট প্রেরণ করবে।

About বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির