সীরাতে সরওয়ারে আলম – ১ম খণ্ড

সম্পুর্ণ সূচীপত্র

সরওয়ারে আলমের প্রকৃত অবদান

-[এটা দেশ বিভাগের পর ১৯৪৮ সালে রেডিও পাকিস্তান থেকে প্রচারিত একটা বেতার ভাষণ।]

এ কথা সারা দুনিয়ার মানুষ জানে যে, আল্লাহর মনোনিত যে দলটি আদিম যুগ থেকে মানুষকে আল্লাহর ইবাদাত, আনুগত্য এবং সৎ চরিত্রের শিক্ষা দেয়ার জন্যে যুগে যুগে আবির্ভূত হয়ে এসেছে বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা) সে দলেরই একজন।। এক আল্লাহর আনুগত্য ও দাসত্ব এবং পরিচ্ছন্ন নৈতকি জীবন যাপনের যে শিক্ষা চিরদিন দুনিয়ার নবীগণ ও মুনি-ঋষিগণ দিয়ে এসেছেন, হযরত (সা)ও সেই শিক্ষাই দিয়েছেন। তিনি খোদা সম্পর্কে কোনো অভিনব তত্ত্ব পেশ করেননি এবং পূর্ববর্তী নবীরা নৈতিকতার যে শিক্ষা দিয়েছেন তা থেকে আলাদা অভিনব কোনো চরিত্রের শিক্ষাও তিনি দেননি। তা যখন দেননি তখন স্বভাবতই প্রশ্ন জাগে যে, তাঁর সেই আসল অবদানটা কি –যার জন্যে আমরা তাঁকে ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ মানব বলে অভিহিত করে থাকি? এ প্রশ্নের উত্তর এই যে, নবী মুহাম্মদের পূর্বে মানুষ খোদার অস্তিত্ব ও একত্ব সম্পর্কে অবশ্যই অবগত ছিল। তবে এ দার্শনিক তত্ত্বের সাথে মানুষের চরিত্রের সম্পর্ক কি তা তাদের জানা চিল না। তবে সে সময় চরিত্রের উত্তম মূলনীতিগুলো সম্পর্কে কি তা তাদের জানা ছিল না। তবে সে সময় চরিত্রের উত্তম মূলনীতিগুলো সম্পর্কে মানুষ ওয়াকিফহাল ছিল কিন্তু জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে এসব চারিত্রিক মূলনীতির প্রয়োগ ও বাস্তবায়ন কিবাবে হওয়া উচিত তা কারও ভাল করে জানা ছিল না। আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস, চারিত্রিক মূলনীতি ও মানুষের বাস্তব জীবন এ তিনটি জিনিস ছিল সম্পূর্ণ আলাদা। এর একটার সাথে অন্যটার কোনো বৈজ্ঞানিক যোগসূত্র, কোনো নিবিড় সম্পর্ক এবং কোনো কার্যকর বন্ধন ছিল না। হযরত মুহাম্মদ (সা) এ তিনটি জিনিসকে একটা একক ব্যবস্থার আওতায় নিয়ে আসেন। এ তিনটির সমন্বয়ে তিনি একটা পূর্ণাঙ্গ সভ্যতা ও তামাদ্দুন গড়ে তোলেন। সে সভ্যতা ও তামাদ্দুনের রূপরেখা তিনি শুধু কল্পনার জগতেই সীমাবদ্ধ রাখেননি বরং তিনি বাস্তব জগতেও তা কায়েম করে রেখেছেন।

ঈমান একটা কর্মোদ্দীপক শক্তি

নবী মুহাম্মদ (সা) বলেন, আল্লাহর প্রতি ঈমান শুধু একটা দার্শনিক তত্ত্ব মেনে নেয়ার নাম নয়, বরং সে ঈমান আপন উৎপত্তিগত দিক দিযে স্বভাবতই এক বিশেষ ধরনের চরিত্র দাবী করে। মানুষের বাস্তব জীবনের আচরণে এ চরিত্রের প্রতিফলন ঘটা উচিত। ঈমান একটা বীজস্বরূপ। মানুষের মনে যখনই সে বীজ অংকুরিত হয় তখনই আপন স্বভাবের তাগিতে সে একটা বিশেষ ধরনের কর্মজীবনের গাছ জন্মাতে শুরু করে দেয়। সে গাছের কাণ্ড থেকে আরম্ভ করে প্রতিটা শাখা-প্রশাখা ও পত্র-পল্লবে ঐ বীজ থেকে নির্গত জীবনরস সঞ্চারিত হয়। মাটিতে আমের আঁটি রোপন করলে তা থেকে লেবু গাছ হওয়া যেমন সম্ভব নয়, তেমনি মানুষের মনে আল্লাহর দাসত্বের বীজ রোপন করা হবে এবং তা থেকে চরিত্রহীনতায় কলুষিত বস্তুবাদী জীবন গড়ে উঠবে এটাও সম্ভব নয়। আল্লাহর আনুগত্য ও দাসত্ব থেকে যে চরিত্রের উৎপত্তি হয় তা এবং শিরক, নাস্তিকতা বা বৈরাগ্যবাদ থেকে যে চরিত্র গড়ে উঠে তা সমান হতে পারে না। মানব জীবন সংক্রান্ত এসব মতবাদের মেজাজ ও স্বভাব প্রকৃতি সম্পূর্ণ আলাদা। প্রত্যেকটার প্রকৃতি অন্যটা থেকে আলাদা ধরনের চরিত্র দাব করে।

সারা জীবনের জন্যে খোদাপুরস্তির চরিত্র

খোদার আনুগত্য থেকে যে চরিত্র সৃষ্টি হয় তা শুধু বিশেষ অলী-দরবেশ শ্রেণীর জন্যেই নির্দিষ্ট নয় যে, শুধুমাত্র খানকা ও ধ্যান-তপস্যার নির্জন কক্ষেই সে চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ হতে পারবে, বরং ব্যাপকভাবে সমগ্র মানব জীবনে ও তার প্রতিটি দিকে সে চরিত্রের প্রয়োগ বাঞ্ছনীয়। একজন ব্যবসায়ী যদি খোদাভক্ত হয় তাহলে তার ব্যবসায়ে খোদাভীতিমূলক চরিত্রের প্রকাশ না ঘটার কোনো কারণ নেই। একজন বিচারক যদি খোদাভক্ত হয় তাহলে আদালতের বিচারকক্ষে এবং একজন পুলিশ কনস্টেবল যদি খোদাভক্ত হয় তাহলে থানায় বা ফাঁড়িতে তার কাছ থেকে খোদাবিমুখ চরিত্র জাহির হবে –এমনটা আশা করা যেতে পারে না। এমনিভাবে কোনো জাতি যদি খোদাভীরু ও খোদা প্রেমিক হয় তাহলে তাদের নগর বা পৌর জীবনে, রাষ্ট্রীয় কার্যকলাপে, আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এবং যুদ্ধে ও সন্ধিতে খোদানুগত্যমূলক চরিত্রের প্রকাশ ঘটা স্বাভাবিক। নতুবা সে জাতির আল্লাহর প্রতি ঈমান থাকার কোনো অর্থ হতে পারে না।

নবী মুহাম্মদের (সা)-এর শিক্ষা

এখন কথা হচ্ছে এই যে, খোদাপুরস্তি কোন ধরনের চরিত্র দাবী করে এবং মানুষের বাস্তব জীবনে এবং ব্যক্তিগত ও সামাজিক ধ্যান-ধারণায় সে নৈতিকতার বহিঃপ্রকাশ কিভাবে হতে পারে, তা এমন এক ব্যাপক আলোচ্য বিষয় যা সংক্ষিপ্ত আলোচনায় ব্যক্ত করা সম্ভব নয়। তবে আমি নমুনা হিসেবে হযরত (সা)-এর কয়েকটা বাণী উদ্ধৃত করছি। এ বাণীগুলো থেকে বুঝা যাবে হযরত (সা) যে জীবনব্যবস্থা দিয়ে গেছেন তাতে ঈমান আমল ও আখলাকের মধ্যে কত সুন্দর সমন্বয় ঘটেছে। হযরত (সা) বলেনঃ

(আরবী******************************************পিডিএফ ১৪৬ পৃষ্ঠায়)

“ঈমানের অনেক শাখা রয়েছে। আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে ইলাহ না মানা হল এর মূল। আর শেষ শাখা হল পথ থেকে কষ্টদায়ক জিনিস সরিয়ে দেয়া। আর লজ্জাও ঈমানের একটা বিভাগ”।

(আরবী******) “শরীর ও পোশাকের পবিত্রতা ঈমানের অর্ধেক”।

 

(আরবী******************************************পিডিএফ ১৪৬ পৃষ্ঠায়)

“মুমিন হল সেই ব্যক্তি যার থেকে লোকের জান-মালের কোনো আশংকা থাকে না”।

 

(আরবী******************************************পিডিএফ ১৪৬ পৃষ্ঠায়)

“যার মধ্যে আমানতদারী ও বিশ্বস্ততা নেই তার ঈমান নেই এবং যে ব্যক্তি ওয়াদা ঠিক রাখে না তার ধর্ম নেই”।

 

(আরবী******************************************পিডিএফ ১৪৬ পৃষ্ঠায়)

“যখন ভাল কাজে তোমার আনন্দ হবে এবং মন্দ কাজে অনুশোচনা হবে তখন (বুঝবে যে) তুমি ঈমানদার”।

 

(আরবী*********) ধৈর্য ও উদারতাকেই ঈমান বলা হয়”।

(আরবী******************************************পিডিএফ ১৪৭ পৃষ্ঠায়)

“সর্বোত্তম ঈমানদারী হল এই যে, তোমার শত্রুতা ও মিত্রতা হবে আল্লাহর ওয়াস্তে, তোমার মুখে আল্লাহর নাম উচ্চারিত হতে থাকবে এবং তুমি নিজের জন্যে যা পছন্দ কর অন্যের জন্যেও তাই পছন্দ করবে। আর নিজের জন্যে যা অপছন্দ কর অন্যের জন্যেও অপছন্দ করবে”।

(আরবী******************************************পিডিএফ ১৪৭ পৃষ্ঠায়)

“মুমিনদের মধ্যে সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ ঈমান হল সেই ব্যক্তির যার স্বভাব-চরিত্র সবচেয়ে ভাল এবং যে আপন পরিবার-পরিজনের সাথে সবচেয়ে বেশী সদাচরণ করে”।

(আরবী******************************************পিডিএফ ১৪৭ পৃষ্ঠায়)

“যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখেরাতের ওপর ঈমান রাখে তার উচিত অতিথির যত্ন করা, প্রতিবেশীকে কষ্ট না দেয়া। আর যদি তার কিছু বলতেই হয় তবে যেন ভাল কথা বলে অথবা যেন চুপ থাকে”।

(আরবী******************************************পিডিএফ ১৪৭ পৃষ্ঠায়)

“মুমিন কখনও অপবাদ ও অভিসম্পাতকারী, অশ্লীল ও কটুভাষী হয় না”।

(আরবী******************************************পিডিএফ ১৪৭ পৃষ্ঠায়)

“মু’মিন আর সবকিছুই হতে পারে কিন্তু আত্মসাৎকারী ও মিথ্যাবাদী হতে পারে না”।

(আরবী******************************************পিডিএফ ১৪৭ পৃষ্ঠায়)

“আল্লাহর কছম সে মু’মিন নয়! আল্লাহর কসম সে মু’মিন নয়!! যার অনিষ্ট থেকে প্রতিবেশী নিরাপদ নয়”।

(আরবী******************************************পিডিএফ ১৪৭ পৃষ্ঠায়)

“প্রতিবেশী অভুক্ত থাকতে যে নিজে পেট ভরে খায় সে মুমিন নয়”।

(আরবী******************************************পিডিএফ ১৪৭ পৃষ্ঠায়)

“ক্রোধ চরিতার্থ করার ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও যে ব্যক্তি তা সংযত করে আল্লাহ তার মনকে ঈমান ও নিশ্চিন্ততায় পরিপূর্ণ করে দেন”।

(আরবী******************************************পিডিএফ ১৪৭ পৃষ্ঠায়)

“যে ব্যক্তি লোক দেখান নামায পড়ে সে শিরক করে, যে ব্যক্তি লোক দেখান রোযা রাখে সে শিরক করে এবং যে ব্যক্তি লোক দেখান দান-খয়রাত করে সেও শিরক করে”।

(আরবী******************************************পিডিএফ ১৪৮ পৃষ্ঠায়)

“চারটি দোষ যার ভেতরে থাকে সে পুরোপুরি মোনাফেক। আমানত খেয়ানত করে, কথা বললে মিথ্যা বলে, ওয়াদা করলে তা ভঙ্গ করে এবং ঝগড়া করতে গিয়ে সীমা ছাড়িয়ে যায়”।

(আরবী******************************************পিডিএফ ১৪৮ পৃষ্ঠায়)

“মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়া এত বড় গুনাহ যে, তা শিরকের কাছাকাছি পৌঁছে যায়”।

(আরবী******************************************পিডিএফ ১৪৮ পৃষ্ঠায়)

“যে ব্যক্তি আল্লাহর আনুগত্য বজায় রাখতে গিয়ে নিজের প্রবৃত্তির সাথে লড়াই করে সে-ই হল আসল মুজাহিদ। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর নিষিদ্ধ কাজগুলো ত্যাগ করে সে-ই হল আসল মুহাজির”।

(আরবী******************************************পিডিএফ ১৪৮ পৃষ্ঠায়)

“তোমরা কি জান কারা কেয়ামতের দিন সর্বপ্রথম আল্লাহর ছায়ায় স্থান পাবে? শ্রোতারা বলল, আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূলই ভাল জানেন। তখন হযরত (সা) বললেন, যাদের সামনে সত্য পেশ করা হলে তা গ্রহণ করে, অধিকার দাবী করলে মুক্ত মনে তা দিয়ে দেয়, আর নিজেদের ব্যাপারে যেমন ফায়সারা তারা কামতা করত, অন্যদের বেলায়ও তেমনি ফায়সালা করে”।

(আরবী******************************************পিডিএফ ১৪৮ পৃষ্ঠায়)

“তোমরা আমাকে ছয়টা জিনিসের নিশ্চয়তা দিলে আমি তোমাদেরকে বেহেশতের নিশ্চয়তা দেব। কথা বললে সত্য বলবে, ওয়াদা করলে তা পূর্ণ করবে, তোমাদের কারও কাছে আমানত রাখা হলে তা পালন করবে ব্যভিচার থেকে দূরে থাকবে, কুদৃষ্টি থেকে নিজেকে রক্ষা করবে এবং যুলুম থেকে নিবৃত্ত থাকবে”।

(আরবী******************************************পিডিএফ ১৪৮ পৃষ্ঠায়)

“ধোঁকাবাজ, কৃপন ও দান করে যে বলে বেড়ায় এ ধরনের রোক বেহেশতে প্রবেশ করতে পারবে না”।

(আরবী******************************************পিডিএফ ১৪৮ পৃষ্ঠায়)

“হারাম খাদ্য তৈরী গোশত বেহেশতে যাবে না। যে গোশত হারাম খাদ্যের দ্বারা প্রতিপালিত তার জন্যে আগুন বা জাহান্নামই উপযোগী”।

(আরবী******************************************পিডিএফ ১৪৯ পৃষ্ঠায়)

“যে ব্যক্তি দোষমুক্ত জিনিস বিক্রি করে এবং খরিদ্দারকে তার দোষের কথা জানিয়ে দেয় না, তার ওপর আল্লাহ ক্রুদ্ধ থাকেন এবং ফেরশতারা তাকে অভিসম্পাত দিতে থাকে”।

(আরবী******************************************পিডিএফ ১৪৯ পৃষ্ঠায়)

“কোনো ব্যক্তি যদি বারবার জীবনধারণ করে ও বারবার আল্লাহর পথে শহীদ হয় তথাপি সে বেহেশতে যেতে পারবে না যদি সে তার ঋন পরিশোধ না করে”।

(আরবী******************************************পিডিএফ ১৪৯ পৃষ্ঠায়)

“পুরুষ কিংবা স্ত্রী যে হোক না কেন জীবনের ষাট বছরও যদি আল্লাহর আনুগত্য করে কাটায় কিন্তু মৃত্যু ঘনিয়ে এলেও কারও হক নষ্ট করে ওছিয়ত করে, তাহলে উভয়ের দোযখে যাওয়া অবধারিত”।

(আরবী******************************************পিডিএফ ১৪৯ পৃষ্ঠায়)

“অধীনস্থদের সাথে খারাপ আচরণাকরীরা বেহেশতে যাবে না”।

(আরবী******************************************পিডিএফ ১৪৯ পৃষ্ঠায়)

“রোযা, নামায ও দান-খয়রাতের চেয়েও ভাল কাজ কি জান? সেটা হল পারস্পরিক বিরোধের নিষ্পত্তি করে দেয়া। আর পারস্পরিক সম্পর্ক নষ্ট করা এমন মারাত্মক কাজ যে, তার দ্বারা মানুষকে সমস্ত নেক কাজ নষ্ট হয়ে যায়”।

(আরবী******************************************পিডিএফ ১৪৯ পৃষ্ঠায়)

“প্রকৃতপক্ষে নিঃস্ব তাকে বরে যে কেয়ামতের দিন প্রচুর পরিমাণ নামায, রোযা ও যাকাত সাথে নিয়ে আসবে কিন্তু সেই সাথে কাউকে গালী দিয়ে এসেছে, কাউকে অপবাদ দিয়ে এসেছে, কারও মাল আত্মসাৎ করে এসেছে, কারও রক্তপাত করে এসেছে কিংবা কাউকে প্রহার করে এসেছে। অতপর খোদা তার এক একটি নেকী ঐসব মজলুমদের মধ্যে বন্টন করেন। তারপরও তার ঋণ পরিশোধ হল না বলে তাদের গোনাহ তার ওপর চাপান হল এবং তাকে দোযখে নিক্ষেপ করা হল”।

(আরবী******************************************পিডিএফ ১৪৯ পৃষ্ঠায়)

“নাযাত থেকে কেউ বঞ্চিত হবে না –যদি সে মন্দ কাজের যুক্তিসঙ্গত ব্যাখ্যা করে নিজের মনকে নিশ্চিত না করে”।

(আরবী******************************************পিডিএফ ১৫০ পৃষ্ঠায়)

“যে ব্যবসায়ী দাম বাড়ানোর জন্যে জিনিসপত্র আটকে রাখে সে অভিশপ্ত”।

(আরবী******************************************পিডিএফ ১৫০ পৃষ্ঠায়)

“মূল্য বৃদ্ধির আশায় যে ব্যক্তি ৪০ দিন খাদ্যদ্রব্য আটকে রাখে, তার সাথে আল্লাহর কোনো সম্পর্ক নেই”।

(আরবী******************************************পিডিএফ ১৫০ পৃষ্ঠায়)

“খাদ্যদ্রব্য চল্লিম দিন আটকে রাখার পর যদি কেউ তা দান করেও দেয়, তবুও আটকে রাখার গুনাহ মাফ হবে না।

নবী মুহাম্মদ (সা)-এর বহু উক্তির মধ্যে কয়েকটি পেশ করা হল। এ থেকে অনুমান করা যায় যে, হযরত (সা) ঈমানের সাথে চরিত্রের এবং চরিত্রের সাথে জীবনের সকল বিভাগের সম্পর্ক কিভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ইতিহাস পাঠক মাত্রেই জানেন যে, হযরত (সা)-এর এসব উক্তি কেবল কথার কথাই ছিল না, বরং বাস্তব জগতে একটি গোটা দেশের তামাদ্দুনিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে তিনি তারই ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত করে গেছেন। এই হচ্ছে তাঁর সেই বিরাট অবদান যার জন্যে তিনি মানবজাতির সর্বশ্রেষ্ঠ নেতা।

About সাইয়েদ আবুল আ’লা মওদূদী রহ.