সীরাতে সরওয়ারে আলম – ১ম খণ্ড

সম্পুর্ণ সূচীপত্র

হযরত মসীহ (আ)-এর আগমন সম্পর্কে নবীর ভবিষ্যদ্বাণী

এতদসম্পর্কিত হাদীসসমূহ

 

(আরবী****************************************পিডিএফ ৪৪১ পৃষ্ঠায়)

“হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত আছে যে, নবী (সা) বলেন, যে সত্তার হাতে আমার জীবন তাঁর কসম, ইবনে মরিয়াম ন্যায়পরায়ণ শাসক হিসেবে তোমাদের নিকটে অবতীর্ণ হবেন। অতপর তিনি ক্রুশ ভেঙ্গে ফেলবেন, শূকর ধ্বংস করবেন–[ক্রুশ ভেঙ্গে ফেলা এবং শূকর ধ্বংস করার অর্থ এই যে, খৃষ্টবাদ একটা স্বতন্ত্র ধর্ম হিসেবে শেষ হয়ে যাবে। খৃষ্টান্ত ধর্মের গোটা এমারত এ বিশ্বাসের ওপর প্রতিষ্ঠিত যে, খোদা তাঁর একমাত্র পুত্রকে (হযরত ঈসা) ক্রুশবিদ্ধ করে অভিশাপের মৃত্যুদান করেন –যার ফলে মানব জাতির পাপের কাফফারা (প্রায়শ্চিত্ত) হয়ে যায়। নবীগণের উম্মতের মধ্যে খৃষ্টানদের বৈশিষ্ট্য এই যে, তারা শুধু আকীদা-বিশ্বাস নিয়েই সন্তুষ্ট রইল এবং গোটা শরীয়াত প্রত্যাখ্যান করল। এমনকি তারা শূকরকে পর্যন্ত হালাল করে ফেলল যা সকল নবীগণের শরীয়তেই হারাম ছিল। হযরত ঈসা (আ) পুনরায় আগমন করে যখন স্বয়ং ঘোষনা করবেন, “আমি খোদার পুত্রও নই এবং কারও গুনাহর কাফফারাও হইনি, তখন খৃষ্টীয় ধর্ম বিশ্বাসের আর কোনো বুনিয়াদই অবশিষ্ট থাকবে না। এরূপ যখন তিনি বলবেন যে, না তিনি তাঁর অনুসারীদের জন্যে শূকর হালাল করেছেন, আর না তাদেরকে শরীয়াতের বাধানিষেধ থেকে মুক্ত করেছেন, তখন খৃষ্টীয় ধর্মের দ্বিতীয় বৈশিষ্ট্যও শেষ হয়ে যাবে।] এবং যুদ্ধের সমাপ্তি ঘোষণা করবেন। অন্য একটি বর্ণনায় ‘যুদ্ধের’ স্থলে ‘জিযিয়া’ শব্দ রয়েছে। অর্থাৎ জিযিয়া রহিত করবেন।–[অন্য নথায় তার অর্থ এই যে, সে সময়ে সব মিল্লাত ও গোষ্ঠীর মতানৈক্য শেষ করে সকলে একই মিল্লাতের শামিল হয়ে যাবে। তার ফলে না যুদ্ধ হবে, আর না কারও ওপর জিযিয়া আরোপ করার প্রয়োজন হবে। পরবর্তী ৫নং এবং ১৫ নং হাদীসেও এ কথা আছে।] তাপর ধন-সম্পদের এতো আধিক্য হবে যে, তা গ্রহণ করার কেউ থাকবে না। তখন খোদার জন্যে একটা সেজদা করা সমগ্র দুনিয়া থেকে উৎকৃষ্টতর হবে”।–(বুখারী, মুসলিম তিরমিযি, মুসনাদে আহমদ)

অ্য একটি বর্ণনায় হযরত আবু হুরায়রা (রা)-এর এ শব্দগুলো পাওয়া যায়ঃ

(আরবী****************************************পিডিএফ ৪৪২ পৃষ্ঠায়)

“হযরত ঈসা (আ) নাযিল না হওয়া পর্যন্ত কেয়ামত হবে না। তারপর ওপরে বর্ণিত কথাগুলো আছে”।–(বুখারী, ইবনে মাজাহ)

(আরবী****************************************পিডিএফ ৪৪২ পৃষ্ঠায়)

“হযরত আবু হুরায়রা (রা) বলেন যে, নবী (সা) বলেছেন, তোমরা তখন কেমন হবে যখন তোমাদের মধ্যে ইবনে মরিয়াম অবতীর্ণ হবেন এবং তোমাদের নেতা তখন তোমাদের মধ্য থেকেই হবেন?”-(বুখারী, মুসনাদে আহমদ)-[অর্থাৎ নামাযে হযরত ঈসা (আ) ইমামনি করবেন না। বরং পূর্ব থেকে যিনি মুসলমানদের ইমাম থাকবেন তাঁর পেছনেই তিনি নামায পড়বেন।]

(আরবী****************************************পিডিএফ ৪৪২ পৃষ্ঠায়)

“হযরত আবু হুরায়রা (রা) বলেন, নবী (সা) বলেছেন, ঈসা ইবনে মরিয়াম নাযিল হবেন। অতপর তিনি শূকর নিহত করে ফেলবেন এবং ক্রুশ নির্মূল করবেন। তাঁর জন্যে নামায জমা করা হবে এবং তিনি এত অর্থ বিতরণ করবেন যে, গ্রহণ করার লোক থাকবে না। তিনি খেরাজ বন্ধ করে দেবেন এবং রাওহা-[‘রাওহা’ মদীনা থেকে ৩৫ মাইল দূরে অবস্থিত একটি স্থান] নামক স্থানে অবস্থান করে হজ্ব অথবা ওমরা করবেন অথবা উভয়টি করবেন”।–[প্রকাশ থাকে যে, এ যুগে যে ব্যক্তিকে হযরত ঈসা (আ)-এর সাদৃশ বলা হয়েছে, তিনি জীবনে না হজ্ব করেছেন, না ওমরাহ।] [রাবীর স্মরণ নেই যে, নবী (সা) কোন কথা বলেছিলেন]।–(মুসনাদে আহমদ, মুসলিম)

(আরবী****************************************পিডিএফ ৪৪২ পৃষ্ঠায়)

“হযরত আবু হুরায়রা (রা) বলেন, দাজ্জাল আবির্ভাবের উল্লেখ করার পর নবী (সা) বলেছেন, মুসলমানগণ দাজ্জালের সাথে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে থাকবে এবং নামাযের জন্যে কাতারবন্দী হওয়ার পর তকবীর দেয়া হতে থাকবে, এমন সময় ঈসা ইবনে মরিয়অম নাযিল হবেন এবং নামাযে মুসলমানদের ইমামতি করবেন। আল্লাহর দুশমত (অর্থাৎ দাজ্জাল) তাঁকে দেখামাত্র গলেযেতে থাকবে যেমন পানিতে লবণ গলে যায়। যদি হযরত ঈসা (আ) তাকে ঐ অবস্থায় থাকতে দেন তো সে গলিত গয়ে মৃত্যুবরণ করবে কিন্তু আল্লাহ তায়ালা তাঁর হাতে দাজ্জালকে নিহত করাবেন এবং তিনি তাঁর অস্ত্রে তার খুন মুসলমানদেরকে দেখাবেন”।–(মিশকাত, মুসলিমের বরাতসহ)

(আরবী****************************************পিডিএফ ৪৪৩ পৃষ্ঠায়)

“হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত আছে, নবী (সা) বলেছেন, আমি এবং তাঁর (অর্থাৎ হযরত ঈসা) মাঝখানে কোনো নবী নেই। আর তিনি নাযিল হবেন।অতএব যখন তোমরা তাঁকে দেখবে তখন তাঁকে চিনে নিও। তিনি হবেন মধ্যম আকৃতির লোক। লাল ও সাদা মিশ্রিত রং হবে তাঁর। দু’টি হলুদ রঙের কাপড় পরিধান করে থাকবেন। তাঁর মাথার চুল এমন হবে যেন পানি টপকিয়ে পড়ছে। অথচ তাঁর শরীর ভেজা হবে না। তিনি ইসলামের জন্যে লোকের সাথে যুদ্ধ করবেন। ক্রুশ ছিন্নভিন্ন করবেন। শূকর ধ্বংস করবেন। জিযিয়া রহিত করবেন। আল্লাহ তায়ালা ইসলাম ছাড়া অন্য সব মতবাদপন্থী মিল্লাত নির্মূল করবেন। তিনি দাজ্জালকে নিহত করবেন। তিনি চল্লিশ বছর দুনিয়ায় অবস্থান করবেন। অতপর তাঁর ইন্তেকাল হবে এবং মুসলমানগণ তাঁর জানাযার নামায পড়বে”।–(আবু দাউদ, মুসনাদে আহমদ)

(আরবী****************************************পিডিএফ ৪৪৩ পৃষ্ঠায়)

“হযরত যাবের বিন আবদুল্লাহ (রা) থেকে বর্ণিত আছে, নবী (সা) বলেছেন, তাপর ঈসা ইবনে মরিয়াম নাযিল হবেন। মুসলমানদের আমীর তাঁকে বলবেন, আসুন নামায পড়িয়ে দিন। তিনি বলবেন, না। তোমরা স্বয়ং একে অপরের আমীর।–[অর্থাৎ তোমাদের আমীর তোমাদের মধ্য থেকেই হওয়া উচিত।] আল্লাহ তায়ালা এ উম্মতকে যে, সম্মান দান করেছেন তা লক্ষ্য করেই তিনি ঐরূপ জবাব দেবেন”।–(মুসলিম, মুসনাদে আহমদ)

(আরবী****************************************পিডিএফ ৪৪৪ পৃষ্ঠায়)

“হযরত যাবের বিন আবদুল্লাহ (রা) ইবনে সাইয়াদের ফেৎনা প্রসঙ্গে বলেন যে, হযরত ওমর (রা) তখন আরজ করে বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমাকে অনুমতি দিন আমি তাকে কতল করি। তার জবাবে নবী (সা) বললেন, এ যদি সে ব্যক্তিই হয় (অর্থাৎ দাজ্জাল) তাহলে তার হত্যাকারী তুমি নও। বরং ঈসা ইবনে মরিয়াম তাকে হত্যা করবেন। আর যদি সে সেই ব্যক্তি না হয়, তাহলে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ (অর্থাৎ যিম্মী লোকদের কাউকে হত্যা করার অধিকার তোমার নেই”।–(মিশকাত, শরহুস সুন্নাহ-বাগাবী এর বরাতসহ)।

(আরবী****************************************পিডিএফ ৪৪৪ পৃষ্ঠায়)

“দাজ্জালের কাহিনী বর্ণনা করতে গিয়ে হযরত যাবের বিন আবদুল্লাহ বলেন, নবী (সা) বলেছেন, সে সময়ে হযরত ঈসা (আ) হঠাৎ মুসলমানদের মধ্যে এসে পড়বেন। নামাযের জন্যে লোক দাঁড়াবে এবং তাঁকে বলা হবে, হে রুহুল্লাহ! সামনে যান। কিন্তু তিনি বলবেন, না। বরং তোমাদের ইমামেরই সামনে যাওয়া উচিত এবং তিনিই নামায পড়িয়ে দিন। অতপর সকালের নামায শেষ করে লোক দাজ্জালের মুকাবিলার জন্যে বেরিয়ে পড়বে। নবী বলেন, সেই মিথ্যাবাদী যখন হযরত ঈসা (আ)-কে দেখতে পাবে তখন গলতে থাকবে যেমন লবণ পানিতে গরে যায়। হযরত ঈসা তার দিতে অগ্রসর হয়ে তাকে কতল করবেন। তখন অবস্থা এমন হবে যে, গাছপালা এবং পাহাড়-পর্বত চিৎকার করবে, হে রুহুল্লাহ! এ ইহুদী আমার পেছনে লুকিয়ে আছে। দাজ্জালের অনুসারীদের মধ্যে এমন কেউ থাকবে না যাকে হযরত ঈসা (আ) কতল করবে না”।–(মুসনাদে আহমদ)

(আরবী****************************************পিডিএফ ৪৪৪ পৃষ্ঠায়)

“হযরত নাওয়াস বিন সাময়ান কেলাবী দাজ্জালের কাহিনী বর্ণনা প্রসঙ্গে বলেন, দাজ্জাল যখন এসব করতে থাকবে আল্লাহ তায়ালা মাসিহ-বিন-মরিয়ামকে পাঠাবেন। তিনি দামেশকের পূর্বাঞ্চলে সাদা মিনারের ধারে হলুদ রঙের দু’টি কাপড় পরিধান করে দু’ফেরেশতার বাহুতে হাত রেখে নামবেন। যখন তিনি মাথা নাড়বেন, তখন মনে হবে যেন টপটপ করে পানি পড়ছে। যখন মাথা তুলবেন তখন পানির ফোঁটা-গুলোকে মুক্তার মত ঝকমক করতে দেখা যাবে। তাঁর নিঃশ্বাস তাঁর দৃষ্টির শেষসীমা পর্যন্ত প্রবাহিত হবে এবং যে কাফেরের ওপর তা পড়বে সে আর বেঁচে থাকবে না। তারপর মরিয়াম পুত্র দাজ্জালকে ধাওয়া করে লুদ-[প্রকাশ থাকে যে, ফিলিস্তিনে ইসরাঈল রাষ্ট্রের রাজধানী তেলআবিবে কয়েক মাইল দূরে ‘লূদ’ অবস্থিত। ইহুদীরা সেখানে বিরাট বিমান ঘাটি তৈরী করেছে।] ফটকের ওপর ধরে ফেলবেন এবং হত্যা করবেন?”-(মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযি, ইবনে মাজাহ)

(আরবী****************************************পিডিএফ ৪৪৫ পৃষ্ঠায়)

“আবদুল্লাহ বিন আমর বিন আস (রা) বলেন, রসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন, দাজ্জাল আমার উম্মতের মধ্য থেকে বের হবে এবং চল্লিশ, (আমি জানি না চল্লিশ দিন, না চল্লিশ মাস, না চল্লিশ বছর)-[এ হযরত আবদুল্লহা বিন আমর বিন আ’সের নিজের কথা।] থাকবে। তাপর আল্লাহ তায়ালা ঈসা বিন মরিয়ামকে পাঠাবেন। তাঁকে ওরওয়া বিন মাসউদের (এক সাহাবীর) মতো দেখাবে। তিনি দাজ্জালের পেছনে ধাওয়া করে তাকে হত্যা করবেন। তারপর সাত বছর এমনভাবে অতিবাহিত হবে যে, দু’জন লোকের মধ্যেও কোনো শত্রুতা হবে না”।–(মুসলিম)

(আরবী****************************************পিডিএফ ৪৪৫ পৃষ্ঠায়)

“হুযায়ফা বিন আসিদ আল গিফারী (রা) বলেন, একবার নবী পাক (সা) আমাদের মধ্যে তশরিফ আনলেন। আমরা তখন নিজেদের মধ্যে কথাবার্তা বলছিলাম। তিনি বললেন, কি কথা হচ্ছে? বললাম, আমরা কেয়ামতের বিষয় আলোচনা করছি। নবী (সা) বললেন, কেয়ামত কিছুতেই হবে না যতক্ষণ না দশটি আলামত জাহির হয়। তারপর তিনি বলেন, দশটি আলামত এই –(১) ধূঁয়া, (২) দাজ্জাল, (৩) দাব্বাতুল আরদ, (৪) পশ্চিমাকাশ থেকে সুর্যোদয়, (৫) ঈসা বিন মরিয়ামের অবতরণ, (৬) ইয়াজুজ-মাজুজ, (৭) তিনটি বড় বড় ভূমিধস-একটি পূর্বে, (৮) একটি পশ্চিমে, (৯) একটি আরবে, সবশেষে (১০) একটি বিরাট আগুন যা ইয়েমেন তেকে উঠবে এবং লোকদেরকে তাড়িয়ে হাশরের মাঠের দিকে নিয়ে যাবে”।–(মুসলিম, আবু দাউদ)

(আরবী****************************************পিডিএফ ৪৪৬ পৃষ্ঠায়)

“নবী পাক (সা)-এর মুক্ত করা গোলাম সাওবান বলেনঃ নবী বলেছেন, আমার উম্মতের মধ্যে দু’টি সৈন্যদল এমন যাদেরকে আল্লাহ দোযখের আগুণ থেকে রক্ষা করেছেন। একদল হিন্দুস্তানের ওপর হামলা চালাবে এবং অন্য দল ঈসা বিন মরিয়ামের সাথে থাকবে”।

(আরবী****************************************পিডিএফ ৪৪৬ পৃষ্ঠায়)

“মুজাম্মে বিন জারিয়া আনসারী বলেন, আমি নবী করীম (সা)-কে বলতে শুনেছি। তিনি বলেন, মরিয়াম পুত্র দাজ্জালকে লুদ ফটকে হত্যা করবে”।–(মুসনাদে আহমদ, তিরমিযি)

(আরবী****************************************পিডিএফ ৪৪৬ পৃষ্ঠায়)

“আবু উমামা বাহেলী এক দীর্ঘ হাদীসে দাজ্জালের উল্লেখ করতে গিয়ে বলেন, ঠিক যখন মুসলমানদের ইমাম সকালের নামায পড়াবার জন্যে সামনে অগ্রসর হবেন, ঈসা বিন মরিয়াম এমন সময়ে সেখানে নেমে আসবেন। ইমাম পেছনে হটে যাবেন যাতে করে ঈসা সামনে অগ্রসর হতে পারেন কিন্তু ঈসা (আ) তাঁর দু’বাহুর মাঝখানে হাত রেখে বলবেন, না আপনি পড়ান। কারণ আপনার জন্যেই এ নামায দাঁড়িয়ে গেছে। অতএব তিনিই (পূর্বের ইমাম) নামায পড়াবেন। তারপর ঈসা (আ) বলবেন, দরজা খুলুন। দরজা খোলা হবে এবং দেখতে পাওয়া যাবে সত্তর হাজার সশস্ত্র ইহুদীদের সাথে দাজ্জাল দাঁড়িয়ে রয়েছে। যে মাত্রই হযরত ঈসার ওপর তার নজর পড়বে সে গলতে শুরু করবে লবণ যেমন পানিতে গলে। সে তখন পালাতে থাকবে। ঈসা (আ) বলবেন, আমার হাত তোর এমন মার রয়েছে যে বাঁচতে পারবিন না। অতপর তিনি তাকে লুদের পূর্ব দরজার ওপর ধরে ফেলবেন। তারপর আল্লাহ তায়ালা ইহুদীদেরকে পরাজিত করিয়ে দেবে…. এবং দুনিয়া মুসলমানদের দ্বারা এমনভাবে পরিপূর্ণ হবে যেমন পাত্র পানিতে পূর্ণ হয়ে যায়। তখন গোটা দুনিয়ার কালেমা এক হবে এবং আল্লাহ ছাড়া আর কারও দাসত্ব-আনুগত্য করা হবে না”।–(ইবনে মাজাহ)

(আরবী****************************************পিডিএফ ৪৪৭ পৃষ্ঠায়)

“ওসমান বিন আবিল আস বলেন, আমি রসূলুল্লহা (সা) কে এ কথা বলতে শুনেছি, ….. এবং ঈসা বিন মরিয়াম (আ) ফজরের সময় নেমে আসবেন। মুসলমানদের আমীর তাঁকে বলবেন, হে রুহুল্লাহ! আপনি নামায পড়ান। তিনি বলবেন, এ উম্মতের লোক স্বয়ং একে অপরের আমীর। তখন মুসলমানদের আমীর সামনে গিয়ে নামায পড়াবেন। নামায শেষে ঈসা (আ) তাঁর অস্ত্র নিয়ে দাজ্জালের দিকে ধাবিত হবেন। সে তাকে হত্যা করবেন। তার সাথী পরাজিত হয়ে পালিয়ে যাবে। কিন্তু কোথাও তার আশ্রয় মিলবে না। গাছপালা চিৎকার করে বলবে, হে মুমিন! কাফের এখানে”।–(মুসনাদে আহমদ, তাবরানারী, হাকেম)

(আরবী****************************************পিডিএফ ৪৪৭ পৃষ্ঠায়)

“সামুরাহ বিন জুদ্দুর (রা) বলেন, নবী (সা) বলেছেন, অতপর সকাল বেলা ঈসা বিন মরিয়াম মুসলমানদের মধ্যে এসে পড়বেন। আল্লাহ দাজ্জাল এবং তার সৈন্য-সামন্তকে পরাজিত করবেন। এমনকি দেয়াল এবং গাছের মূল চিৎকার করে বলবে, হে মুমিন কাফের আমার পেছনে লুকিয়ে আছে, আসুন তাকে মেরে ফেলুন”।–(মুসনাদে আহমদ, হাকেম)

(আরবী****************************************পিডিএফ ৪৪৮ পৃষ্ঠায়)

“ইমরান বিন হাসীর (রা) বলেন, নবী (সা) বলেছেন, আমার উম্মতের মধ্যে সর্বদা এমন একদল থাকবে যারা হকেরওপর অবিচল থাকবে এবং বিরোধীদের জন্যে অসহনীয় হবে। অতপর মহান আল্লাহ তায়ালার সিদ্ধান্ত এসে যাবে এবং ঈসা বিন মরিয়াম নাযিল হবেন”।–(মুসনাদে আহমদ)

(আরবী****************************************পিডিএফ ৪৪৮ পৃষ্ঠায়)

“হযরত আয়েশা (রা) দাজ্জালের কাহিনী প্রসঙ্গে বলেন, ঈসা (আ) নাযিল হবেন এবং তাকে হত্যা করবেন। অতপর তিনি দুনিয়ায় চল্লিশ বছর ন্যায়পরায়ণ ইমাম এবং ন্যায়নিষ্ঠ শাসক হিসেবে অবস্থান করবেন”।–(মুসনাদে আহমদ)

(আরবী****************************************পিডিএফ ৪৪৮ পৃষ্ঠায়)

“নবী পাক (সা) –এর মুক্ত করা গোলাম শাফিনাহ (দাজ্জালের কাহিী প্রসঙ্গে) বর্ণনা করেন, তারপর ঈসা (আ) নাযিল হবেন এবং আল্লাহ তায়ালা দাজ্জালকে আফিকের-[আফিক –যার বর্তমান নাম ‘কায়েক’ –সিরিয়া ও ইসরাঈলী সীমান্তে অবস্থিত সিরিয়ার শেষ শহর। তার সামনে পশ্চিম দিকে কয়েক মাইল দূরে তাবারিয়া নামে একটি ঝিল আছে যার থেকে জর্দান নদী বেরিয়েছে। তার দক্ষিণ পশ্চিম দিকে পাহাড়ের মধ্য দিয়ে একটা ঢালু পথ দেড়-দু’হাজার ফুট গভীরে এমন এক স্থান পৌঁছেছে যেখান থেকে তারাবিয়ার মধ্য হতে জর্দান নদী বেরুচ্ছে। এ পাহাড়ী আকাবায়ে আফিক বা আফিক ঘাঁটি বলে।] ঘাঁটির সন্নিকটে ধ্বংস করবেন”।–(মুসনাদে আহমদ)

(আরবী****************************************পিডিএফ ৪৪৮ পৃষ্ঠায়)

“হযরত হোযায়ফা (রা) দাজ্জাল প্রসঙ্গে বলেন, তারপর মুসলমানরা যখন নামাযের জন্যে দাঁড়াবেন তখন তাঁদের চোখের সামনে ঈসা বিন মরিয়াম নেমে আসবেন। তিনি মুসলমানদেরকে নামায পড়াবেন। সালাম ফেরার পর লোকদেরকে বলবেন, আমার এবং খোদার ঐ দুশমনের মাঝখান থেকে সরে যান। আল্লাহ দাজ্জাল এবং তার সাথীদের ও পরে মুসলমানদেরকে বিজয়ী করবেন। মুসলমানগণ তাদেরকে নিপাত করতে থাকবে। এমনকি গাছ এবং পাথর চিৎকার করে বলবে, হে আবদুল্লাহ, হে আবদুর রহমান, হে মুসলমান, এই যে, এক ইহুদী –একে মেরে ফেলুন। এভাবে আল্লাহ তাদেরকে নির্মূল করবেন। মুসলমানরা জয়ী হবে, ক্রুশ বিধ্বস্ত হবে, শূকর ধ্বংস হবে এবং জিযিয়া রহিত করা হবে”।

[মুস্তাদকের হাকেম, মুসলিমেও সংক্ষিপ্ত বর্ণনা রয়েছে। হাফেজ ইবনে হাজার ফতহুল বারিতে, (৬ষ্ঠ খণ্ড, ৪৫০ পৃঃ) এ হাদীসকে সহীহ বলে উল্লেখ করেছেন।]

এ মোট একুশটি হাদীস চৌদ্দজন সাহাবী থেকে অতি নির্ভরযোগ্য হাদীস গ্রন্থে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। এসব ছাড়া যদিও আরও বহু হাদীসে এ প্রসঙ্গ এসেছে, গ্রন্থের কলেবর বৃদ্ধির ভয়ে সেগুলো উদ্ধৃত করা হয়নি। সনদের দিক দিয়ে যেগুলো অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য, শুধু সেগুলো এখানে উদ্ধৃত করা হয়েছে।

মসীহ (আ)-এর প্রতিরূপ হওয়ার ধারণা ভ্রান্ত

যাঁরাই এ হাদীসগুলো অধ্যয়ন করবেন, তাঁরা স্বয়ং দেখতে পাবেন যে, এসবের মধ্যে কোনো ‘প্রতিশ্রুত মসীহ৯’ অথবা ‘মসীহের প্রতিরূপ’ অথবা ‘মসীহের আত্মপ্রকাশ’ প্রভৃতি আদতেই কোনো উল্লেখ নেই। না এ বিষয়ের কোনো অবকাশ আছে যে, এ যুগে কোনো বাপের ঔরসে জন্মগ্রহণ করে কোনো ব্যক্তি এ দাবী করতে পারে, “আমিই সেই মসীহ যার ভবিষ্যদ্বাণী শেষ নবী (সা) করেছিলেন”। এ হাদীসগুলো সুস্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীনভাবে সেই ঈসা (আ)-এর অবতীর্ণ হওয়ার সুসংবাদ দিচ্ছে যিনি আজ থেকে দু’হাজার বছর আগে বিনা বাপে হযরত মরিয়ামের গর্ভে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।

 

About সাইয়েদ আবুল আ’লা মওদূদী রহ.