সীরাতে সরওয়ারে আলম – ২য় খন্ড

সম্পুর্ণ সূচীপত্র

হযরত ঈসা (আ ) এর প্রকৃত শিক্ষা

হযরত ঈসা (আ ) এর শিক্ষা দীক্ষায় সর্বোৎকৃষ্ট প্রমানলিপি

খৃস্টীয় গির্জা যে চারটি ইঞ্জিলকে নির্ভরযোগ্য ও সর্বসীকৃত ধর্মগ্রন্থ (Lanocical Gospcls)বলে অভিহিত করে, হযরত ঈসা (আ ) এর জীবন চরিত ও শিক্ষা দীক্ষা অবগত হওয়ার নির্ভরযোগ্য মাধ্যম তা নয়। বরঞ্চ অধিকতর নির্ভরযোগ্য মাধ্যম করে। খৃস্টানগণ এটাকে গোপন রাখার বিশেষ চেষ্টা করে। কয়েক শতাব্দী যাবত এটা দুনিয়ায় কোথাও পাওয়া যেতো না।(ষষ্ঠদশ শতাব্দীতে এ গ্রন্থের ইতালি অনুবাদের এক খন্ড পোপ সিক্রটাসের (Sixtas)লাইব্রেরিতে পাওয়া যেতো এবং তা পাঠ করার অনুমতি কারো ছিল না। অষ্টাদশ শতাব্দীর প্রারম্ভে জনটুকল্যান্ড নামক এক ব্যক্তির হস্তগত হয়। তারপর বিভিন্ন হাত বদল হয়ে ১৭৩৮ খৃস্টাব্দে তা ভিয়েনার ইম্পেরিয়াল লাইব্রেরিতে পৌঁছে। ১৯০৭ খৃষ্টাব্দে ঐ বইয়ের ইংরেজি তরজমা অক্সফোর্ডের ক্লারিগুন প্রেস থেকে প্রকাশিত হয়। সম্ভবত তা প্রকাশিত হওয়ার সাথে সাথেই খৃস্টীয় জগত অনুভব করে যে, এ বইখানা তো ঐ ধর্মেরই গোড়া কেটে দিচ্ছে যা হযরত ঈসার প্রতি আরোপ করা হয়। এজন্যে তার চাপানো খন্ডগুলো বিশেষ কৌশল করে উধাও করে দেয়া হয়। তারপর তার পুনর্মুদ্রণের কোন সুযোগই হয়নি। আর একটি খন্ড অষ্টাদশ শতাব্দীতে পাওয়া যেতো যা ইতালি ভাষা থেকে স্পেনীয় ভাষায় অনুবাদ করা হয়। জর্জ সেল তাঁর ইংরেজি ভাষায় কুরআনের অনুবাদ করা গ্রন্থের ভূমিকায় এর উল্লেখ করেন। তাও গুম করে দেয়া হয়েছে। এখন তার কোন নাম নিশানা পাওয়া যায় না। -(গ্রন্থকার) পাশ্চাত্য জগতের বুদ্ধিবৃত্তিক উদারতার এ এক নিদর্শন যে, নিছক গবেষণার জন্যে অথবা ঐতিহাসিক প্রমানলিপি(রেকর্ড) হিসেবে কোন গ্রন্থকে টিকে থাকতে দেয়া হয়নি।– সংকলকদ্বয়

সম্প্রতি ভিয়েনার ইম্পেরিয়াল লাইব্রেরিতে রক্ষিত বার্নাবাস ইঞ্জিলের ইতালি ভাষায় পাণ্ডুলিপি অনুবাদ করেছেন – Lonsdale এবং Laura Ragg। এ গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়েছে করাচীর বেগম আয়েশা বাওয়ানী ওয়াকফ কর্তৃক।–অনুবাদক)

অক্সফোর্ড থেকে প্রকাশিত ইংরেজি অনুবাদের একটা ফটোস্ট্যাট কপি পড়ে দেখার সুযোগ আমার হয়েছিল এবং তা আমি আগাগোড়া পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে পড়েছি। আমি অনুভব করেছি এটি এমন এক বিরাট সম্পদ যার থেকে খৃষ্টানগণ তাদের চরম গোড়ামির জন্যে জিদ করে নিজেদেরকে বঞ্চিত রেখেছে।(খৃষ্টান সাহিত্যে যেখানেই উপরোক্ত ইঞ্জিলের উল্লেখ করা হয়েছে সেখানে এ বলে তা রদ করা হয়েছে যে, এ এক জাল ইঞ্জিল যা সম্ভবত কোন মুসলমান রচনা করে বার্নাবাসের নামে চালিয়ে দিয়েছে। কিন্তু এ এক ভয়ানক মিথ্যা কথা। এ মিথ্যার কারণ এই যে, তার মধ্যে মাঝে মাঝে সুস্পষ্টভাবে নবী মুহাম্মাদ (সা ) সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছে। প্রথমতঃ সে বই পড়লে পরিষ্কার বুঝা যায় যে, এ কোন মুসলমানের রচনা নয়। দ্বিতীয়তঃ যদি তা মুসলমানের লেখা হতো, তাহলে মুসলমানদের কাছে তা প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যেতো এবং মুসলমান আলেমগণের লিখিত বই পুস্তকে তার উল্লেখ পাওয়া যেতো। কিন্তু অবস্থা এই যে, জর্জ সেলের ইংরেজি অনুবাদ কুরআনের ভূমিকায় পূর্বে এর অস্তিত্ব সম্পর্কে কোন মুসলমানেরই জানা ছিল না। তাবারী, ইয়াকুবী, মাসউদী, আল বিরুনী, ইবনে হাযম এবং অন্যান্য গ্রন্থকারগণ,যাঁরা মুসলমানদের মধ্যে খৃস্টানদের সাহিত্য সম্পর্কে অবহিত ছিলেন তাঁদের মধ্যে কেউই খৃস্টধর্ম সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে বার্নাবাস ইঞ্জিলের প্রতি ইংগিত মাত্রও করেননি। ইসলামি জগতের লাইব্রেরিগুলোতে যেসব বই পুস্তক পাওয়া যায়, তার সর্বোত্তম তালিকা ইবনে নাদীমের আল ফিকরিস্ত এবং হাজী খলিফার কাশফুয যুন্ধন উল্লেখযোগ্য। এর মধ্যেও এর কোন উল্লেখ নেই।উনবিংশ শতাব্দীর পূর্বে কোন মুসলমান আলেম বার্নাবাস ইঞ্জিলের নাম পর্যন্ত উচ্চারণ করেননি। তৃতীয় এবং সবচেয়ে বড়ো প্রমাণ এই যে, নবী (সা ) এর জন্মের ৭৫বছর পূর্বে প্রথম Gelasius এর যুগে যেসব বই নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয় তার মধ্যে বার্নাবাস ইঞ্জিলই(Evngelium Barnabe)শামিল ছিল। প্রশ্ন এই যে, সে সময় কোন মুসলমান এ জাল গ্রন্থ রচনা করে ? গ্রন্থকার )

যে চারটি গ্রন্থকে আইনানুগ ও নির্ভরযোগ্য গণ্য করে বাইবেলে সন্নিবেশিত করা হয়েছে তার রচয়িতাগণের কেউই হযরত ঈসা (আ ) এর সাহাবী ছিলেন না। তাঁদের মধ্যে কেউ এ দাবীও করেননি যে, তিনি হযরত ঈসার সাহাবীদের নিকট থেকে কিছু জেনে নিয়ে তা নিজের রচিত ইঞ্জিলে সংযোজিত করেছেন। যেসব সূত্রে তাঁরা ওসব জ্ঞান লাভ করেছেন তার  কোন উল্লেখ তাঁরা করেননি। যার থেকে এ কথা বলা যেতো যে বর্ণনাকারী স্বয়ং যেসব ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছেন এবং যা কিছু শুনেছেন তাই বর্ণনা করেছেন, অথবা এক বা একাধিক সূত্রে এসব তাদের কাছে পৌঁছেছে। পক্ষান্তরে বার্নাবাস ইঞ্জিলের গ্রন্থকার বলেন, মসীহের প্রাথমিক বারোজন হাওয়ারীর মধ্যে আমি একজন। প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত আমি মসীহের সাথে ছিলাম এবং চোখে দেখা ঘটনা এবং কানে শুনা কথা এ গ্রন্থে লিপিবদ্ধ করছি।শুধু তাই নয় গ্রন্থের শেষে তিনি বলেন, দুনিয়া থেকে বিদায় হবার সময় মসীহ আমাকে বলেন, আমার সম্পর্কে যে ভুল ধারণা মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে তা দূর করা এবং প্রকৃত অবস্থা মানুষের সামনে তুলে ধরা তোমার দায়িত্ব।(এ বার্নাবাস কে ছিলেন? বাইবেলের আসল পুস্তকে বার বার এ ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়েছে যিনি কুবরুসের এক ইহুদী পরিবারের লোক ছিলেন। খৃস্টবাদের প্রচার এবং মসীহের সাহায্য সহযোগিতার ব্যাপারে তাঁর অবদানের প্রশংসা করা হয়েছে। কিন্তু কোথাও এ কথা বলা হয়নি যে তিনি কখন খৃষ্টধর্ম গ্রহণ করেন। তিনি ইঞ্জিলের মধ্যে প্রাথমিক বারোজন হাওয়ারির যে তালিকা দেয়া হয়েছে তার মধ্যে তাঁর নাম নেই। এজন্যে বলা যায় না যে, এ ইঞ্জিলের প্রণেতা কি ঐ বার্নাবাস, না আর কেউ। মথি ও মার্ক হাওয়ারীদের (Apostles)যে তালিকা দিয়েছেন, বার্নাবাস প্রদত্ত তালিকার মধ্যে দুটি নাম নিয়ে মতভেদ আছে। এক হচ্ছে লূক যার স্থলে বার্নাবাস স্বয়ং নিজের নাম লিপিবদ্ধ করেন। দ্বিতীয় শামউন কেনানী যার স্থলে তিনি ইয়াহুদা বিন ইয়াকুবের নাম বলেন। লূকের ইঞ্জিলে এ দ্বিতীয় নামটিও আছে। এজন্যে এ ধারণা করা সঠিক হবে যে, পরে কোন এক সময়ে বার্নাবাসকে হাওয়ারীদের বহির্ভূত করার জন্যে লূকের নাম বসানো হয়েছে যাতে করে তাঁর ইঞ্জিলের হাত থেকে বাঁচা যায়। ধর্মীয় পুস্তকে এ ধরনের পরিবর্তন সাধন করা খৃষ্টান পণ্ডিতদের কাছে কোন অবৈধ কাজ নয়।– গ্রন্থকার)

বার্নাবাস ইঞ্জিলের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য

সকল প্রকার অন্ধ বিদ্বেষ থেকে মুক্ত হয়ে যদি কেউ স্বচ্ছ মন দিয়ে এ ইঞ্জিল অধ্যয়ন করে এবং নিউ টেস্টামেন্টের চার ইঞ্জিলের সাথে তুলনামূলক আলোচনা করে তাহলে তার এ কথা মনে করা ছাড়া উপায় থাকবে না যে, এ চারটি ইঞ্জিল থেকে বার্নাবাস ইঞ্জিল বহু গুণে শ্রেষ্ঠ। এর মধ্যে হযরত ঈসা (আ ) এর অবস্থার বিস্তারিত বর্ণনা দেয়া হয়েছে এবং এমনভাবে বর্ণনা লিপিবদ্ধ করা হয়েছে যে, মনে হবে কোন ব্যক্তি বাস্তবে যেন সবকিছু দেখছে এবং ওসব ঘটনার সাথে জড়িত চার ইঞ্জিলের সামঞ্জস্যহীন কাহিনীর তুলনায় বার্নাবাসের এ সব ঐতিহাসিক বর্ণনা অধিকতর সুসংবদ্ধ এবং তার দ্বারা ঘটনা পরম্পরা ভালোভাবে বুঝতে পারা যায়।

হযরত ঈসা (আ ) এর সঠিক শিক্ষা ও চিত্তাকর্ষক বর্ণনাভঙ্গি

চার ইঞ্জিলের তুলনায় বার্নাবাস ইঞ্জিলে হযরত ঈসা (আ ) এর শিক্ষা বিস্তারিতভাবে এবং হৃদয়গ্রাহী ভাষায় বর্ণনা করা হয়েছে। তাওহীদের শিক্ষা, শিরকের খণ্ডন, আল্লাহর গুণাবলী, ইবাদাতের প্রাণশক্তি এবং মহান চরিত্র শীর্ষক বিষয়গুলো খুবই  যুক্তিপূর্ণ এবং বিশদভাবে বর্ণিত। যেসব শিক্ষামূলক দৃষ্টান্তের বর্ণনাভঙ্গিতে হযরত মসীহ এসব বিষয় বর্ণনা করেছেন, তার দশ ভাগের এক ভাগও এ চার ইঞ্জিলে পাওয়া যায় না। এর থেকে পরিষ্কার এ কথাও জানা যায়ে যে, হযরত মসীহ তাঁর  শিষ্যদের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ কত বিজ্ঞতার সাথে প্রদান করতেন। তাঁর ভাষা, বর্ণনাভঙ্গি, স্বভাব প্রকৃতি ও রুচিবোধের সাথে যদি কারো সামান্য পরিচয় থাকে, তাহলে এ ইঞ্জিল পাঠ করার পর সে মানতে বাধ্য হবে এ কোনা জাল কাহিনী নয় যা পরে কেউ রচনা করে থাকতে পারে। বরঞ্চ ইঞ্জিল চতুষ্টয়ে তাঁর বিভিন্ন বানীতে যে গরমিল দেখা যায়, তার কো চিহ্ন এ গ্রন্থে পাওয়া যায় না।

সকল নবীর শিক্ষার সাথে ঐক্য

আলোচ্য ইঞ্জিলে হযরত ঈসা (আ ) এর জীবন ও তাঁর শিক্ষা ঠিক একজন নবীর জীবন ও শিক্ষায় অনুরূপ দেখতে পাওয়া যায়। তিনি নিজেকে একজন নবী হিসেবে পেশ করেন, পূর্ববর্তী সকল নবী ও কিতাবের সত্যতা ঘোষণা করেন। তিনি পরিষ্কার বলেন যে, নবীগণের শিক্ষা ছাড়া সত্য উপলব্ধি করার অন্য কোন উপায় নেই। যে নবীগণকে ত্যাগ করে সে প্রকৃতপক্ষে আল্লাহকে ত্যাগ করে। তাওহীদ, রিসালাত ও আখিরাতের ঠিক ঐ ধারণাই পেশ করেন, যার শিক্ষা সকল নবী দিয়েছেন। নামায, রোযা ও যাকাতের প্রেরণা দান করেন ।তাঁর নামাযের যে বর্ণনা বর্নাবাস বহু স্থানে দিয়েছেন তার থেকে জানা যায় যে, এ ছিল ফজর, যোহর, আসর, মাগরিব, এশা ও তাহাজ্জুদের সময় যখন তিনি নামায পড়তেন। তিনি সর্বদা নামাযের পূর্বে অযুও করতেন। হযরত দাউদ (আ ) এবং হযরত সুলায়মান (আ ) কে নবী বলে স্বীকার করতেন, অথচ ইহুদী খৃস্টান তাঁদের নবীর তালিকা থেকে বাদ দিয়ে রেখেছে। হযরত ইসমাইল (আ ) কে তিনি যবীহ বলে গণ্য করেন এবং একজন আলেমের দ্বারা এ স্বীকারোক্তি করান যে, প্রকৃতপক্ষে হযরত ইসমাঈলই যবহী ছিলেন। ইসরাঈলীরা টানা-খেঁচা করে হযরত ইসহাক (আ ) কে যবহী বানিয়ে রেখেছে। আখিরাত, কেয়ামত, জাহান্নাম ও জান্নাত সম্পর্কে তাঁর শিক্ষা প্রায় কুরআনেইরই অনুরূপ।

গ্রন্থ রচনার উদ্দেশ্য

উপরে বলা হয়েছে যে, এ গ্রন্থের লেখক সূচনাতে তাঁর গ্রন্থ রচনার উদ্দেশ্য বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, যারা শয়তানের প্ররোচনায় ইয়াসুকে আল্লাহর পুত্র বলে গণ্য করে, খাৎনা করা অপ্রয়োজনীয় মনে করে, হারাম খাদ্যকে হালাল করে যাদের মধ্যে প্রতারিত পল ও একজন, তাদের চিন্তাধারার সংশোধন করাই এ গ্রন্থ রচনার উদ্দেশ্য।

তিনি আরও বলেন, হযরত ঈসা (আ ) যখন দুনিয়ায় বিদ্যমান ছিলেন, তখন তাঁর সময়ে তাঁর মোজেজা দেখে প্রথমে সর্বাগ্রে রোমীয় সৈনিকগণ তাঁকে খোদা এবং কেউ কেউ খোদার পুত্র বলা শুরু করে। তারপর এর ছোঁয়াচ ইসরাঈলী জনসাধারণের উপর লাগে। তার ফলে হযরত ঈসা (আ ) অত্যন্ত বিব্রত হয়ে পড়েন। তিনি বার বার অত্যন্ত কঠোরভাবে তাঁর সম্পর্কে এ ভ্রান্ত ধারণা খণ্ডন করেন এবং যারা তাঁর সম্পর্কে এরূপ কথা বলে তাদের উপর লানৎ করেন। তারপর তিনি তাঁর শিষ্যগণকে গোটা ইয়াহুদীয়ায় এ ধারণা বিশ্বাস খণ্ডনের জন্যে পাঠিয়ে দেন এবং তাঁর দোয়ায় শিষ্যগণ দ্বারাও ঐ মোজেজার প্রকাশ ঘটান যাতে করে লোক এ ধারণা পরিত্যাগ করে যে, যার দ্বারা এ মোজেজার প্রকাশ ঘটে সেই খোদা অথবা খোদার পুত্র। হযরত ঈসা (আ ) এ ভ্রান্ত আকীদার যেভাবে কঠোরতার সাথে খণ্ডন করেন, তার বিশদ বিবরণ তিনি এ গ্রন্থে লিপিবদ্ধ করেন। তিনি স্থানে স্থানে এ কথাও বলেন যে এ গোমরাহি প্রসার লাভ করার কারণে হযরত ঈসা (আ )কতখানি বিব্রত হয়ে পড়েন।

উপরন্তু তিনি সেন্ট পলের এ ধারণা বিশ্বাসেরও খণ্ডন করেন যে, মসীহ শূলবিদ্ধ হয়ে জীবন ত্যাগ করেন। তিনি তাঁর চাক্ষুষ ঘটনা বর্ণনা করে বলেন যে, যখন ইয়াহুদা স্ক্রিউতি ইহুদীদের প্রধান পাদ্রীর নিকট থেকে ঘুষ গ্রহণ করে হযরত ঈসা (আ ) কে গ্রেফতার করার জন্যে সিপাহীদেরকে সাথে করে নিয়ে আসে, তখন আল্লাহ তাআলার হুকুমে চারজন ফেরেশতা হযরত ঈসা (আ )কে উঠিয়ে নিয়ে যান  এবং স্বয়ং ইয়াহুদা স্ক্রিউতির আকার আকৃতি এবং গলার স্বর অবিকল হযরত ঈসা (আ ) এর মতো হয়ে যায়। শূলে তাকেই চড়ানো হলো, হযরত ঈসাকে নয়। এভাবে এ ইঞ্জিল সেন্ট পল প্রবর্তিত খৃস্টবাদের মূল কর্তন করে দেয় এবং কুরআনে প্রদত্ত বিবরণের  ভিত্তিতেই খৃস্টান পাদ্রী তা রদ করে দিয়েছিল।(খৃস্টানদের এটি অতি দুর্ভাগ্য যে, বার্নাবাস ইঞ্জিলের মাধ্যমে ধারণা বিশ্বাসের সংশোধন এবং হযরত ঈসা (আ )এর প্রকৃত শিক্ষালাভের যে সুযোগ তারা পেয়েছিল, শুধু জিদের বশবর্তী হয়ে তারা তা হারিয়ে ফেলে।)-গ্রন্থকার(সূরা আল হাদীদ,টীকা-৫৪)

 

About সাইয়েদ আবুল আ’লা মওদূদী রহ.