সীরাতে সরওয়ারে আলম – ২য় খন্ড

সম্পুর্ণ সূচীপত্র

তাওরাত ও ইঞ্জিলে শেষ নবী সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী

(তাওরাতে বর্ণিত ভবিষ্যদ্বাণী সমূহ ইহুদী অধ্যায়ে এবং ইঞ্জিলের বাণীগুলো পৃথক বর্ণনা করা উচিত ছিল। কিন্তু বিজ্ঞ গ্রন্থকার উভয় ভবিষ্যদ্বাণীগুলোকে এমনভাবে একত্রে বর্ণনা করেছেন যে, তা পৃথক করলে আলোচনার গুরুত্ব কমে যায়। তাই একত্রেই বর্ণনা করেছেন।)

(আরবী———-)

আর স্মরণ কর মারইয়াম পুত্র ঈসার সে কথা যা সে বলেছিলঃ হে বনী ইসরাঈল! আমি তোমাদের কাছে আল্লাহর প্রেরিত রাসূল। আমি সত্যতা স্বীকারকারী সেই তাওরাতের যা আমার পূর্বে এসেছে এবং বিদ্যমান আছে এবং আমি সুসংবাদ দাতা এমন একজন রাসূলের যে আমার পরে আসবে এবং যার নাম হবে আহমদ।–(সূরা আস সাফঃ ৬) (এ বিতর্কিত আয়াতটির উপর গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করা হয়েছে, আলোচনা সামনে আসবে।)

হযরত ঈসা (আ ) এর এ কথা ঐ সুসংবাদের প্রতি ইংগিত করে যা যা রাসুলুল্লাহ (সা) সম্পর্কে হযরত মূসা (আ ) তাঁর জাতিকে সম্বোধন করে বলেন।(হযরত মূসা (আ ) এর শিক্ষা দীক্ষা ও তাওরাতের উপর খৃস্টানগণও বিশ্বাস পোষণ করেন)। তাতে তিনি বলেনঃ

এক নবীর আবির্ভাব ঘটবো

তোমার ঈশ্বর সদাপ্রভু তোমার তোমার মধ্য হইতে, তোমার ভ্রাতৃগণের মধ্য হইতে, তোমার জন্য আমার সদৃশ এক ভাববাদী উৎপন্ন করিবেন, তাঁহারই কথায় তোমরা  কর্ণপাত করিবে। কেননা হোরেবে সমাজের দিবসে তুমি আপন ঈশ্বর সদাপ্রভুর কাছে এই প্রার্থনাই ত করিয়াছিলেন, যথা আমি যেন আপন ঈশ্বর সদাপ্রভুর রব পুনর্বার শুনিতে ও এই মহাগ্নি আর দেখিতে না পাই, পাছে আমি মারা পড়ি। তখন সদাপ্রভু আমাকে কহিলেন, উহারা ভালই বলিয়াছে। আমি উহাদের জন্য উহাদের ভ্রাতৃগণের মধ্য হইতে তোমার সদৃশ এক ভাববাদী উৎপন্ন করিব, ও তাঁহার মুখে আমার বাক্য দিব, আর আমি তাঁহাকে যাহা যাহা আজ্ঞা করিব, তাহা তিনি উহাদিগকে বলিবেন।– দ্বিতীয় বিবরণ ১৮ঃ ১৫-১৯

তাওরাতের সুস্পষ্ট ভবিষ্যদ্বাণী

এ হচ্ছে তাওরাতের সুস্পষ্ট ভবিষ্যদ্বাণী যা নবী মুহাম্মাদ (সা ) ছাড়া অন্য কারো প্রতি আরোপিত হতে পারে না। এত হযরত মূসা (আ ) তাঁর জাতিকে আল্লাহ তালার এ নির্দেশ পৌঁছেয়ে দিচ্ছেনঃ আমি তোমার জন্যে তোমার ভাইদের মধ্য থেকে একজন নবীর আবির্ভাব করবো। প্রকাশ থাকে যে, একটি জাতির ভাইয়ের অর্থ স্বয়ং সে জাতির কোন গোত্র বা বংশ হতে পারে না। বরঞ্চ এমন এক জাতি হতে পারে যার সাথে বংশগত নিকট সম্পর্ক রয়েছে। এর অর্থ যদি স্বয়ং বনী ইসরাঈলের মধ্য থেকেই কোন নবীর আগমন হতো তাহলে এভাবে বলা হতো আমি তোমাদের জন্যে স্বয়ংয় তোমাদের মধ্য থেকেই এক নবীর আবির্ভাব করবো। অতএব  বনী ইসরাঈলের ভাইয়ের অর্থ অনিবার্যরূপে বনী ইসরাঈলই হতে পারে যারা হযরত ইবরাহীম (আ ) এর বংশধর হওয়ার কারণে তাদের বংশীয় আত্নীয়। উপরন্তু এ ভবিষ্যদ্বাণী বনী ইসরাঈলের কোন নবী সম্পর্কে এজন্যে হতে পারে না যে, হযরত মূসা (আ ) এর পরে বনী ইসরাঈলের মধ্যে কোন একজন নবী নয়, বহু নবী এসেছেন যাদের উল্লেখ বাইবেলের সর্বত্র পাওয়া যায়।

এ সুসংবাদে দ্বিতীয় কথা যা বলা হয়েছে তা এই যে, যে নবী পাঠানো হবে তিনি হবেন হযরত মূসার সদৃশ। মুখের রূপ ও আকার আকৃতি এবং জীবনের অবস্থার দিক দিয়ে এ সাদৃশ্য যে নয় তা অতি সুস্পষ্ট। কারণ এ দিক দিয়ে কোন ব্যক্তিই অন্যের মতো হয় না। এর অর্থ নিছক নবুওয়াতের গুণাবলীর সাদৃশ্যও নয়। কারণ এ গুণ ঐসকল নবীর মধ্যে একই রকম পাওয়া যায় যাঁরা মূসা (আ ) এর পরে এসেছেন। অতএব কোনো একজন নবীর এ বৈশিষ্ট্য হতে পারে না যে, তিনি এ গুনের দিক দিয়ে মূসা (আ ) এর সদৃশ। অতএব  এ দু দিক দিয়ে সাদৃশ্য বিতর্ক বহির্ভূত হওয়ার পর সাদৃশ্যের অন্য কোন কারণ, যার ভিত্তিতে আগমনকারী নবীর বৈশিষ্ট্য অনুধাবন করা যায়, এ ছাড়া হতে পারে না যে, সে নবী (ভবিষ্যতে আগমনকারী নবী) একটা স্থায়ী স্বয়ংসম্পূর্ণ শরীয়াত নিয়ে আসার ব্যাপারে হযরত মূসা (আ )এর অনুরূপ। এ বৈশিষ্ট্য হযরত মুহাম্মাদ (সা ) ছাড়া আর কারো মধ্যে পাওয়া যায় না। কারণ তাঁর পূর্বে বনী ইসরাঈলের মধ্যে যে নবীই এসেছেন, তিনি মূসার শরীয়তেরই অনুসারী ছিলেন। তাঁদের মধ্যে কোন একজনও স্থায়ী স্বয়ংসম্পূর্ণ শরীয়ত নিয়ে আগমন করেননি।

এ ব্যাখ্যা অধিকতর জোরালো হয় ভবিষ্যদ্বাণীর এ কথাগুলো থেকে, যা এটা তোমার (অর্থাৎ বনী ইসরাঈলের) সেই প্রার্থনা অনুসারে হবে যা তুমি আপন ঈশ্বর সদাপ্রভুর কাছে সমাবেশের দিন হোরেবে করেছিলে, যেন আমি আপন ঈশ্বর সদাপ্রভুর রব পুনর্বার শুনিতে এবং এই মহাগ্নি আর দেখতে না পাই, পাছে আমি মারা পড়ি। তখন সদাপ্রভু আমাকে বললেন, তারা ভালই বলছে। আমি তাদের জন্য তাদের ভ্রাতৃগণের মধ্য থেকে তোমার সদৃশ এক ভাববাদী উৎপন্ন করবো ও তার মুখে আমার বাক্য দিব।

এখানে হোরেব বলতে সে পাহাড় বুঝানো হয়েছে, যেখানে হযরত মূসা (আ ) কে প্রথমবার শরীয়তের নির্দেশাবলী দেয়া হয়। বনী ইসরাঈলের যে প্রার্থনার উল্লেখ এখানে করা হয়েছে তার অর্থ এই যে, ভবিষ্যতে কোন শরীয়ত যদি দেয়া হয় তাহলে যেন সেই ভয়াবহ অবস্থার মধ্যে দেয়া না হয়, যা হোরাব পর্বত প্রান্তে শরীয়ত প্রদানকালে সৃষ্টি করা হয়েছিল। এ অবস্থার উল্লেখ কুরআনেও আছে এবং বাইয়াত প্রদানকালে সৃষ্টি করা হয়েছিল। এ অবস্থার উল্লেখ কুরআনেও আছে এবং বাইবেলেও আছে। (সূরা আল বাকারা আয়াত ৫৫-৫৬, সূরা আল আরাফ, আয়াত ১৫৫, ১৭১, বাইবেল, যাত্রা পুস্তক ১৯ঃ ১৭-১৮)। এর জবাবে মূসা (আ ) বনী ইসরাঈলকে বলেছেন, আল্লাহ তাআলা তোমাদের এ দোয়া কবুল করেছেন। তাঁর এরশাদ হচ্ছে, আমি তাদের জন্যে এমন নবী পাঠাবো যার মুখে আমার বাণী নিক্ষেপ করবো। অর্থাৎ ভবিষ্যৎ শরীয়ত দেবার সময় সে ভয়াবহ অবস্থা সৃষ্টি করা হবে না যা করা হয়েছিল হোরেব পর্বত প্রান্তে। বরঞ্চ যখনই তাঁকে এ নবীর মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করা হবে, তাঁর মুখে আল্লাহর বাণী নিক্ষেপ করা হবে। তা তিনি জনসাধারণকে শনিয়ে দেবেন। এ সুস্পষ্ট কথাগুলো বিবেচনা করার পর আর কোন সন্দেহের অবকাশ থাকতে পারে না যে, যাঁর সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছে তিনি নবী মুহাম্মাদ (সা ) ছাড়া আর কেউ হতে পারেন না। হযরত মূসা (আ ) এর পর স্থায়ী স্বয়ং সম্পূর্ণ শরীয়ত নবী মুহাম্মাদ (সা ) কেই দেয়া হয়েছে। এ শরীয়ত দেবার সময় কোন জনসমাবেশও হয়নি, যেমন হোরেব পর্বত প্রান্তে বনী ইসরাঈলের  হয়েছিল। শরীয়তের বিধান দেয়ার সময়েই ঐরূপ অবস্থার সৃষ্টি করা হয়নি যা সেখানে করা হয়েছিল।(সূরা আত তাগাবূন,টীকা-৫)

সূরা আস সাফ এর উপরে উল্লিখিত  আয়াতের বিশদ আলোচনা

সূরা আস সাফ এর যে আয়াতটির অনুবাদ এ অধ্যায়ের শুরুতেই করা হয়েছে তা কুরআন পাকের এক অতি গুরুত্বপূর্ণ আয়াত। ইসলাম বিরোধীগণ এ আয়াতটির উপর সাংঘাতিক আপত্তি উত্থাপন করেছে এবং নিকৃষ্ট ধরনের বিশ্বাস ভঙ্গের অপরাধ করেছে। কারণ এ আয়াতে বলা হয়েছে যে, হযরত ঈসা (আ ) এর নাম সুস্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করে তাঁর আগমনের সুসংবাদ দিয়েছেন। এজন্যে এ বিষয়ে বিশদ আলোচনা প্রয়োজন।

একঃ এতে নবী (সা ) এর নাম আহমাদ বলা হয়েছে। আহমাদের দুটি অর্থ। এক হচ্ছে, এমন ব্যক্তি যিনি আল্লাহ তাআলার সবচেয়ে বেশী প্রশংসাকারী। দ্বিতীয়, ঐ ব্যক্তি যার সর্বাধিক প্রশংসা করা হয়েছে। অথবা বান্দাদের মধ্যে যিনি সর্বাধিক প্রশংসনীয়। সহীহ হাদিসগুলো থেকে প্রমাণিত যে, এটাও ছিল নবী (সা) এর একটা নাম। মুসলিম এবং আবু দাউদে হযরত আবু মূসা আশয়ারী (রা ) এর বর্ণনামতে নবী (সা ) বলেন, (আরবী——) আমি মুহাম্মাদ, আমি আহমাদ এবং আমি হাশির। এ বিষয়বস্তুর বর্ণনা হযরত জুবায়ের বিন মুতয়িম (রা ) থেকে উদ্ধৃত করেছেন ইমাম মালেক, বুখারী, মুসলিম, দারেমী, তিরমিযি এবং নাসায়ী। নবী (সা ) এর এ নাম সাহাবায়ে কিরামদের মধ্যে প্রসিদ্ধ ছিল। হযরত হাসসান বিন সাবেত (রা) তাঁর কবিতায় বলেনঃ (আরবী*******)

আল্লাহ, তাঁর আরশের চার পাশে ভিড় করা ফেরেশতারা এবং সকল পবিত্র সত্তাগণ বরকত বিশিষ্ট আহমাদের উপর দরুদ পাঠ করেন।

ইতিহাস থেকেও এ কথা প্রমাণিত যে, হুযুর (সা ) এর নাম শুধু মুহাম্মদই ছিল না বরঞ্চ আহমাদও ছিল। গোটা আরব সাহিত্যে এমন কোন দৃষ্টান্ত পাওয়া যায় না যে নবী (সা ) এর পূর্বে কারো নাম আহমাদ ছিল। তাঁর পরে অসংখ্য অগণিত লোকের নাম আহমাদ, গোলাম আহমাদ রাখা হয়েছে। এর চেয়ে বড়ো প্রমাণ আর কি হতে পারে যে, তাঁর নবুওয়াতের জামানা থেকে আজ পর্যন্ত গোটা উম্মাতে মুসলিমার মধ্যে তাঁর এ নাম এতো সুপ্রসিদ্ধ ও সুপরিচিত। তাঁর যদি এ নাম না হত, তাহলে যারা আপন সন্তানদের নাম গোলাম আহমাদ রেখেছে, তারা কোন আহমাদের গোলাম তাদেরকে মনে করেছে?

দুইঃ ইঞ্জিল যোহন (John)এ কথার সাক্ষী যে, মসীহের আগমনের সময় বনী ইসরাঈল তিন ব্যক্তির প্রতীক্ষা করছিল। এক, মসীহ, দ্বিতীয়, ইলিয়া অর্থাৎ হযরত ইলিয়াসের পুনরাগমন এবং তৃতীয় সেই নবী।

ইঞ্জিলের ভাষা নিম্নরুপঃ

আর যোহনের সাক্ষ্য এই, যখন যিহূদিগণ কয়েক জন যাজক ও লেবীয়কে দিয়া যিরুশালেম হইতে তাঁহার কাছে এই কথা জিজ্ঞাসা করিয়া পাঠাইল, আপনি কে? তখন তিনি স্বীকার করিলেন, অস্বীকার করিলেন না, তিনি স্বীকার করিলেন যে, আমি সেই খ্রিষ্ট নই। তাহারা তাঁহাকে জিজ্ঞাসা করিল, তবে কি? আপনি কি এলিয়? তিনি বলিলেন, আমি নিই। আপনি কি সেই ভাববাদী? তিনি উত্তর করিলেন, না। তখন তাহারা তাঁহাকে কহিল, আপনি কে? যাঁহারা আমাদিগকে পাঠাইয়াছেন, তাঁহাদিগকে যেন উত্তর দিতে  পারি।আপনার বিষয়ে আপনি কি বলেন? তিনি কহিলেন, আমি প্রান্তরে এক জনের রব, যে ঘোষণা করিতেছে, তোমরা প্রভুর পথ সরল কর, যেমন যিশাইয় ভাববাদী বলিয়াছেন। তাহারা ফরীশীগরে নিকট হইতে প্রেরিত হইয়াছিল। আর তাহারা তাঁহাকে জিজ্ঞাসা করিল, আপনি যদি সেই খ্রিষ্ট নহেন, এলিয়ও নহেন, সেই ভাববাদীও নহেন, তবে ব্যাপ্টাইজ করিতেছেন কেন?-যোহন ১ঃ১৯-২৫

এ কথাগুলো থেকে প্রমাণিত হয় যে, বনী ইসরাঈল হযরত মসীহ এবং হযরত ইলিয়াস ছাড়াও আর এক নবীর প্রতীক্ষা করছিল। আর তিনি হযরত ইয়াহইয়াও ছিলেন না। সেই নবীর আগমনের বিশ্বাস বনী ইসরাঈলের মধ্যে এতো প্রসিদ্ধ সর্বজন বিদিত ছিল যে, সেই ভাববাদী বলাই তাঁর প্রতি ইংগিত করার জন্যে যথেষ্ট ছিল। যার সুসংবাদ তাওরাতে দেয়া হয়েছে একথা বলার প্রয়োজন ছিল না। উপরন্তু এটাও জানা গেল যে, যে নবীর প্রতি তারা ইংগিত করছিল তাঁর  আগমন সুনিশ্চিত ছিল। কারণ যখন হযরত ইয়াহইয়াকে এসব প্রশ্ন করা হয় তখন তিনি একথা বলেননি যে, আর কোন নবী আসবেন না, তোমরা কার কথা বলছো?

যোহন লিখিত ইঞ্জিলের সুসংবাদ

তিনঃ এখন ঐসব ভবিষ্যদ্বাণী দেখুন যা যোহন ইঞ্জিলের ক্রমাগত অধ্যায় ১৪ থেকে অধ্যায় ১৬ পর্যন্ত বর্ণিত হয়েছেঃ আর আমি পিতার নিকটে নিবেদন করিব, এবং তিনি আর এক সহায় তোমাদিগকে দিবেন, যেন তিনি চিরকাল তোমাদের সঙ্গে থাকেন, তিনি সত্যের আত্মা, জগত তাঁহাকে দেখে না, তাঁহাকে জানেও না,তোমরা তাঁহাকে জান, কারণ তিনি তোমাদের নিকটে অবস্থিতি করেন ও তোমাদের অন্তরে থাকিবেন। -যোহন ১৪ঃ ২৫-২৬

আমি তোমাদের সহিত আর অধিক কথা বলিব না, কারণ জগতের অধিপতি আসিতেছে, আর  আমাতে তাহার কিছুই নাই,- ১৪ঃ৩০

যাহাকে আমি পিতার নিকট  হইতে তোমাদের কাছে পাঠাইয়া দিব, সত্যের সেই আত্মা, যিনি পিতার নিকট হইতে বাহির হইয়া আইসেন যখন সেই সহায় আসিবেন তিনিই আমার বিষয়ে সাক্ষ্য দিবেন। – ১৫ঃ২৬

তথাপি আমি তোমাদিগকে সত্য বলিতেছি, আমার যাওয়া তোমাদের পক্ষে ভাল, কারণ আমি না গেলে, সেই সহায় তোমাদের নিকটে আসিবেন না, কিন্তু আমি যদি যাই, তবে তোমাদের নিকটে তাঁহাকে পাঠাইয়া দিব। – ১৬ঃ৭

তোমাদিগকে বলিবার আমার আরও অনেক কথা আছে, কিন্তু তোমরা এখন সে সকল সহ্য করিতে পার না। পরন্তু তিনি, সত্যের আত্মা, যখন আসিবেন, তখন পথ দেখাইয়া তোমাদিগকে সমস্ত সত্যে লাইয়া যাইবেন, কারণ তিনি আপনা হইতে কিছু বলিবেন না, কিন্তু যাহা যাহা শুনেন, তাহাই বলিবেন, এবং আগামী ঘটনাও তোমাদিগকে জানাইবেন। তিনি আমাকে মহিমান্বিত করিবেন, কেননা যাহা আমার, তাহাই লইয়া তোমাদিগকে জানাইবেন। পিতার যাহা যাহা আছে, সকলই আমার, এই জন্য বলিলাম, যাহা আমার, তিনি তাহাই লইয়া থাকেন, ও তোমাদিগকে জানাইবেন।১৬ঃ১২ -১৫

আগমনকারী বিশ্ব নেতা হবেন

যোহন লিখিত ইঞ্জিলের উপরোক্ত বক্তব্যগুলোতে হযরত ঈসা (আ ) তাঁর পরে একজন আগমনকারীর সুসংবাদ দিচ্ছেন। তাঁর সম্পর্কে তিনি বলছেন যে, তিনি দুনিয়ার সরদার বা বিশ্বনেতা (সরওয়ারে আলম ) হবেন, চিরদিন থাকবেন।সত্যের সকল পথ দেখাবেন এবং স্বয়ং তাঁর (হযরত ঈসার) সাক্ষ্য দান করেন। যোহনের এ সকল বক্তব্যে রুহুল কুদুস এবং সত্যের আত্মা প্রভৃতি শব্দ প্রয়োগ করে বিষয়বস্তুকে ঘোলাটে করার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু তথাপি সব কথাগুলো মনোযোগ সহকারে পড়লে পরিষ্কার জানা যায় যে, যে আগমনকারীর সুসংবাদ দেয়া হয়েছে, তিনি  কোন আত্মা নন, বরঞ্চ কোন মানুষ এবং বিশেষ মানুষ যাঁর শিক্ষা হবে ব্যাপক ও সার্বিক এবং তা কিয়ামত পর্যন্ত অক্ষুণ্ণ থাকবে। ঐ বিশেষ ব্যক্তির জন্যে উর্দু অনুবাদে সাহায্যকারী বলা হয়েছে এবং যোহন লিখিত মূল ইঞ্জিলে গ্রীক ভাষায় যে শব্দটি ব্যবহার করা হয় সে সম্পর্কে খৃস্টানগণ জোর দিয়ে বলে যে, তা Paracletus ছিল।

প্যারাক্লিটাস শব্দ নিয়ে খৃস্টানদের মধ্যে জটিলতা সৃষ্টি

শব্দের অর্থ নির্ধারণ করতে স্বয়ং খৃস্টান পন্ডিতগন চরম জটিলতার সম্মুখীন হন। মূল গ্রীক ভাষায় Paraclete শব্দের কয়েকটি অর্থ হয়। যথা কোনো স্থানের দিকে ডাকা, সাহায্যের জন্যে চিৎকার করা, সতর্কীকরণ, প্রেরণা দান, উত্তেজিত করা, দোয়া করা প্রভৃতি। আবার এ শব্দের গ্রীসীয় অর্থ এভাবেও করা হয়, যেমন –সান্ত্বনা দেয়া, শান্ত করা, উৎসাহিত করা। বাইবেলে এ শব্দটি যেখানে যেখানে ব্যবহার করা হয়েছে, তার কোথাও তার অর্থ যথোপযুক্ত হয় না। Origen কোথাও তার অনুবাদে Consolator (সান্ত্বনা দানকারী) শব্দ ব্যবহার করেছেন এবং কোথাও Deperecator।কিন্তু অন্যান্য ভাষ্যকারগণ এ দুটি বাতিল করেছেন। প্রথমতঃ গ্রীক ব্যাকরণ অনুযায়ী এটি শুদ্ধ নয়। দ্বিতীয়তঃ যেখানেই এ শব্দ পাওয়া যায়, তার এ অর্থ চলে না। অন্য কতিপয় ভাষ্যকার এ শব্দের অনুবাদে Teacher শব্দ ব্যবহার করেছেন কিন্তু, গ্রীক ভাষায় ব্যবহার বিধি অনুযায়ী এ অর্থ গ্রহণ করা যায় না। তার্তুলিয়ান এবং অগাস্টাইন Advocate শব্দকে প্রাধান্য দিয়েছেন। আবার কেউ কেউ Assistant, Confortur এবং Consolerপ্রভৃতি শব্দ ব্যবহার করেছেন।–(Encyclopaedia of Biblical Literature-Word Paracleture-দ্রষ্টব্য)।

একটা শাব্দিক হেরফেরের সম্ভাবনা

এখন মজার ব্যাপার এই যে, গ্রীক ভাষায় আর একটি শব্দ –Periclytos আছে। তার অর্থ প্রশংসিত। এ শব্দ একবারে মুহাম্মাদ শব্দের সমার্থবোধক এবং উচ্চারণে Periclytos এবং Paracletus এর মধ্যে বিরাট সাদৃশ্য রয়েছে। এটা অসম্ভব কিছু নয় যে, যেসব খৃস্টান পণ্ডিত পাদ্রী তাঁদের ধর্মগ্রন্থে আপন মর্জিমতো অনায়াসে রদবদল করতে অভ্যস্ত ছিলেন, তাঁরা যোহন কর্তৃক উদ্ধৃত ভবিষ্যদ্বাণীর এ শব্দটিকে তাঁদের আকীদাহ বিশ্বাসের পরিপন্থী মনে করে তার মধ্যে কিছুটা পরিবর্তন সাধন করেছেন। যোহন লিখিত প্রাথমিক গ্রীক ভাষায় ইঞ্জিল এখন কোথাও বিদ্যমান নেই বলে প্রমাণ করা কঠিন যে, সেখানে এ দুটি শব্দের মধ্যে কোনটি ব্যবহার করা হয়েছিল।

মুল সুরিয়ানী শব্দ

যোহন গ্রীক ভাষায় আসলে কোন শব্দটি ব্যবহার করছিলেন, তার উপরেই সিদ্ধান্ত করা যায় না। কারণ তা ছিল মূল ভাষার অনুবাদ। আর মসীহের ভাষা ছিল ফিলিস্তিনের সুরিয়ানী ভাষা। অতএব তিনি তাঁর সুসংবাদে যে শব্দ ব্যবহার করেছিলেন তা অনিবার্যরূপে কোন সুরিয়ানী শব্দই হবে। সৌভাগ্যের বিষয় এই যে, সেই মূল সুরিয়ানী শব্দ আমরা ইবনে হিমাম লিখিত জীবন চরিতে (সীরাতে ইবনে হিশাম) দেখতে পাই। সেই সাথে ঐ কিতাব থেকে এটাও জানা যায় যে, তার সমার্থবোধক গ্রীক শব্দ কি। মুহাম্মাদ বিন ইসহাকের বরাত দিয়ে ইবনে হিশাম যোহন লিখিত ইঞ্জিলের অধ্যায় ১৫, স্তোত্র ২৩ -২৭ এবং অধ্যায় ১৬ স্তোত্র ১ এর গোটা অনুবাদ উদ্ধৃত করেছেন। তার মধ্যে তিনি গ্রীক শব্দ ফারক্লিত (Paracletus/Periclytos)ব্যবহার করার পরিবর্তে মুনহামান্না শব্দ ব্যবহার করেছেন। তারপর ইবনে ইসহাক অথবা ইবনে হিশাম ব্যাখ্যায় বলেন যে, মুনহামান্নার অর্থ সুরিয়ানী ভাষায় মুহাম্মাদ এবংয় গ্রীক ভাষায় Periclytos-(ইবনে হিশাম,১ম খন্ড, পৃঃ ২৪৮)।

এখন লক্ষ্য করার বিষয় যে, ঐতিহাসিক দিক দিয়ে ফিলিস্তিনের সাধারণ অধিবাসীদের ভাষা নবম শতাব্দী পর্যন্ত সুরিয়ানী ছিল। এ অঞ্চলে সপ্তম শতাব্দীর মাঝামাঝি থেকে ইসলামের অধিকৃত অঞ্চলভুক্ত হয়। ইবনে ইসহাক ৭৬৮ খৃস্টাব্দে এবং ইবনে হিশাম ৮২৮ খৃস্টাব্দে ইন্তেকাল করেন। তার অর্থ এই যে, তাঁদের উভয়ের যুগে ফিলিস্তিনের খৃস্টান সুরিয়ানী ভাষায় কথা বলতো। এ দুই ঐতিহাসিকের জন্যে আপন দেশের খৃস্টান প্রজাদের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করা কিছু কঠিন ব্যাপার ছিল না। উপরন্তু যে সময়ে গ্রীক ভাষাভাষী লক্ষ লক্ষ খৃস্টান ইসলামী অধিকৃত অঞ্চলে বসবাস করতো। এ জন্যে তাদের এটা জানা মোটেই কঠিন ছিল না যে, সুরিয়ানী ভাষার কোন শব্দের সমার্থবোধক গ্রীক শব্দ কি ছিল। এখন যদি ইবনে ইসহাকের অনুবাদে সুরিয়ানী শব্দ মুনহামান্না ব্যবহৃত হয়ে থাকে এবং ইবনে ইসহাক তার ব্যাখ্যায় আরবীতে তার সমার্থবোধক শব্দ মুহাম্মাদ এবং গ্রীক ভাষায় Periclytos ব্যবহার করে থাকেন, তাহলে  এতে সন্দেহের কোনো অবকাশ থাকে না যে, হযরত ঈসা (আ ) নবী মুহাম্মাদ (সা ) এর নাম নিয়ে তাঁরই আগমনের সুসংবাদ দিয়েছিলেন। সাথে সাথে এ কথাও জানা যায় যে, গ্রীক ভাষায় যোহন লিখিত ইঞ্জিলে মূল শব্দ Periclytos ব্যবহৃত হয়েছিল যা পরবর্তীকালে খৃস্টান পন্ডিতগন পরিবর্তন করে Paracletus করে ফেলেছেন।

নাজ্জাশী বাদশাহ কর্তৃক সত্যতা স্বীকার

এর চেয়ে প্রাচীন ঐতিহাসিক সাক্ষ্য হযরত আবদুল্লাহ বিন মাসউদ (রা ) এর বর্ণনায় পাওয়া যায়। তিনি বলেন, আবিসিনিয়ায় হিজরতকারীগণকে যখন নাজ্জাশী তাঁর দরবারে ডেকে পাঠান এবং হযরত জাফর বিন আবু তালিবের নিকটে নবী মুহাম্মাদ (সা ) এর শিক্ষাদীক্ষার কথা শুনতে পান, তখন তিনি বলেনঃ

মুবারকবাদ তোমাদের জন্যে এবং সেই সত্তার জন্যে যাঁর কাছ থেকে তোমরা এসেছ। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তিনি আল্লাহর রসূল এবং তিনিই সেই ব্যক্তি যাঁর সুসংবাদ হযরত ঈসা বিন মারইয়াম দিয়েছেন।

এ কাহিনী বিভিন্ন হাদীসে স্বয়ং হযরত জাফর এবং হযরত উম্মে সালমা থেকে বর্ণিত আছে। এর থেকে শুধু এতোটুকুই প্রমাণিত হয় না যে, সপ্তম শতাব্দীর প্রারম্ভে নাজ্জাশীর এটা জানা ছিল যে, হযরত ঈসা (আ ) একজন নবীর ভবিষ্যদ্বাণী করে গেছেন, বরঞ্চ এটাও প্রমাণিত হয় যে, সে নবীর সুস্পষ্ট ইংগিত  ইঞ্জিলে রয়েছে যার কারণে নাজ্জাশীর এ সিদ্ধান্তে পৌছতে কষ্ট হয়নি যে, নবী মুহাম্মাদ (সা ) ই সেই নবী। অবশ্যি এ বর্ণনা থেকে জানতে পারা যায় না যে, হযরত ঈসা (আ ) এর সুসংবাদ নাজ্জাশী যোহন লিখিত ইঞ্জিলের মাধ্যমে জানতে পেরেছেন, না জানার অন্য মাধ্যম ছিল।

বার্নাবাস ইঞ্জিলের সুসংবাদ

বার্নাবাস তাঁর ইঞ্জিলে রাসুলুল্লাহ (সা ) সম্পর্কে যেসব ভবিষ্যদ্বাণী উদ্ধৃত করেছেন তাতে কোথাও হযরত ঈসা (আ ) নবী মুহাম্মাদ (সা ) নাম নিয়েছেন, কোথাও রসুলুল্লাহ বলেছেন, কোথাও তাঁর জন্যে মসীহ শব্দ ব্যবহার করেছেন, কোথাও প্রশংসা (Admirable)কোথাও এমন সুস্পষ্ট বাক্য ব্যবহার করেছেন যা একবারে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রসুলুল্লাহ (সা ) এর সমার্থবোধক। তাঁর এসব সুসংবাদ পুরোপুরি উদ্ধৃত করা সম্ভব নয়। কারণ, তা এতো অধিক এবং স্থানে স্থানে বিভিন্ন পূর্বাপর প্রসঙ্গ বর্ণনার ভঙ্গীতে বলা হয়েছে যে, তার থেকে একখানা গ্রন্থ রচনা করা যেতে পারে। নিম্নে দৃষ্টান্ত স্বরূপ কিছু উদ্ধৃত করা হলোঃ(বার্নাবাসের ইঞ্জিল (The Gospel of Barnabas)ইংরেজিতে অনুবাদ করেছেন LONSDALE এবং LAUR RAAG এবং তা ১৯০৭ খৃস্টাব্দে ক্লারেগুন প্রেস অক্সফোর্ড থেকে প্রকাশিত হয়েছে। ইংরেজি শিক্ষিত পাঠকদের জন্যে উক্ত গ্রন্থের উদ্ধৃতি ইংরেজি ভাষায় দেয়া হলো- (অনুবাদক)।

যেসব নবীকে খোদা দুনিয়ায় পাঠিয়েছেন, যাঁদের সংখ্যা এক লক্ষ চুয়াল্লিশ হাজার, তাঁরা দ্ব্যর্থবোধক কথা বলেছেন। কিন্তু আমার পরে সকল নবী ও পূর্ণাত্মাগণের জ্যোতি প্রকাশ লাভ করবে এবং নবীগণের কথার অন্ধকারকে আলোকিত করবে। কারণ সে খোদার রসূল।(For all the Porphets, that are one hundred and forty four thousand, whom God hath sent into the world, have spoken darkly. But after me shall come the Splendour of all the Prophets and holy ones, and shall shed light upon the darkness of all that the prophets have said because he is the Messenger of God (Chapter17, Gospal of barnabas).(অধ্যায় ১৭)

ফরিসী এবং লাভীগণ (Levites)বললো, আপনি যদি মসীহ নন, ইলিয়াস অথবা অন্য কোন নবীও নন, তাহলে কেন আপনি নতুন শিক্ষা দান করছেন এবং নিজেকে মসীহ থেকেও বেশী করে পেশ করছেন? যিশু জবাবে বললেন, খোদা আমার হাত দিয়ে যেসব মোজেজা দেখাচ্ছেন তা এ কথাই প্রকাশ করে যে, খোদা যা চান আমি তাই করি। নতুবা  প্রকৃতপক্ষে আমি নিজেকে তাঁর (মসীহ) থেকে বড়ো হবার যোগ্য মনে করি না, যার কথা তোমরা বলছো। আমি তো খোদার সেই রসূলের মোজার বন্ধন অথবা জুতার ফিতা খোলার যোগ্য নই, যাকে তোমরা মসীহ বল, যাকে আমার পূর্বে তৈরী করা হয়েছে এবংয় যে আমার পরে আসবে এবং সত্য কথা নিয়ে আসবে যাতে করে তার দ্বীনের কোন সমাপ্তি না হয়। – আয়াত: ৪২(They said: If thou be not the Messiah nor Elihah, or any Prophet, wherefore, dost thou preach new doctrine, and make thyself of more account than the Messiah?

Jesus answered: The miracles which God worketh by my hands show that5 speak that5 which God willeth, nor indeed do I make myself to be accounted as him of whom ye speak, for I am not worthy to unloose the ties of the hosen or the latchets of the shoes of the Messenger of God whom ye call Messiah, who was made before me, and shall come after me, and shall brintg the words of truth, so that his faith shal have no end-(Chapter 42). The Gospal of Barnabas).

আমি নিশ্চয় তার সাথে তোমাদেরকে বলছি যে, আগত প্রত্যেক নবী শুধু একটি মাত্র জাতির জন্যে খোদার রহমতের নিদর্শন হিসেবে জন্মগ্রহণ করেছেন। এজন্যে নবীদের কথা, যাদের জন্যে তাদেরকে পাঠানো হয়েছে, তাদের ছাড়া অন্য কারো কাছে পৌঁছৈ না। কিন্তু খোদার পয়গম্বর যখন আগমন করবেন, খোদা যেন তাঁকে তাঁর আপন হাতের মোহর দান করবেন। তিনি খোদাহীন লোকের উপর শাসন ক্ষমতা নিয়ে আসবেন এবং প্রতিমা পূজার এমনভাবে উচ্ছেদ করবেন যে, শয়তান বিব্রত হয়ে পড়বে। (শিষ্যদের সাথে দীর্ঘ কথোপকথনের পর) হযরত ঈসা আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুস্পষ্ট ভাষায় বলেন যে, সেই নবী বনী ইসমাইলের মধ্যে জন্মগ্রহণ করবেন, বনী ইসহাকের মধ্যে নয়।–অধ্যায়ঃ৪৩।(Verly I say unto you that every prophet when he is come hath borme to one nation onlythe mark of the mercy of God. And so their words were not extended save to that people to which they were sent. But the messenger of God, when he shall come, God shall give to him as it were the seal of his hand, insomuch that he shall carry salvation and mercy to all the nations of the world that shall receive his doctrine. He shall come with power upon the ungodly, and shall destroy idolatry, insomuch that5 he shall make Satan confounded—- Believe me, for vwerily I say to you, that the promise was made in Ishmael, not in Isaac- (Chapter 43- Gospel of Barnabas)

এজন্যে আমি তোমাদেরকে বলি যে, খোদার রাসূল এমন এক দীপ্তি যার দ্বারা খোদার সৃষ্টি প্রায় প্রতিটি বস্তুই সন্তোষ লাভ করবে। কারণ, তিনি বোধশক্তি ও উপদেশ, বিজ্ঞতা ও শক্তি, ভয় ও ভালোবাসা, সতর্কতা ও সংযমের প্রাণশক্তিতে ভূষিত। তিনি দানশীলতা ও দয়া, ইনসাফ ও খোদাভীতি, শালীনতা ও সহনশীলতার প্রাণশক্তিতে মণ্ডিত। খোদা তাঁর যেসব সৃষ্টিকে এ গুণাবলী দান করেছেন, তাদের তুলনায় তিনি তিনগুণ লাভ করেছেন। সে সময়টা কত মুবারক হবে যখন তিনি দুনিয়ায় আগমন করবেন। বিশ্বাস কর যে, আমি তাঁকে দেখেছি এবং তাঁর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেছি। এভাবে সকল নবী তাঁকে দেখেছেন। তাঁর রুহ দেখামাত্রই খোদা তাঁকে নবুওয়াত দান করেছেন এবং যখন আমি তাঁকে দেখি তখন আমার আত্মা প্রশান্তি লাভ করে। তখন আমি একথা বলি, হে মুহাম্মাদ! খোদা তোমার সাথে থাকুন এবং তোমার জুতার ফিতা বাঁধার যোগ্য তিনি আমাকে করুন। কারণ, এ মর্যাদা যদি আমি লাভ করি তাহলে আমি একজন বড়ো নবী এবং খোদার এক পবিত্র সত্তা হয়ে যাব।– অধ্যায় ৪৪(I therefore say unto you that the Messenger of God is a splendor that shall give gladness to nearly all that God hath made, for he is adorned with the spirit of understanding and of coundel, the spirit of wisdom and might, the spirit of fear and love, the spirit of prudence and temperance, he is adorned with the spirit of charity and mercy, the spirit of justice  and piety, the spirit of gentleness and patience, which he haht received from God three times more then he hath given to all his creatures O blessed time, when he shall come to the world! Believe me that I have seen him and have done him reverence, enen as every prophet hath seen him: Seeing that of his spirit God giveth to them prophency. And when I saw him my soul was filled with consolation, saying: O Mohammed, god be with thee and may He make me worthy to unite thy shoelatchet, for obtaining this I shall be a great prophet and holy one of God_(Chapter-44).

তোমাদের দুঃখ-ভারাক্রান্ত করোনা এবং ভীত হয়ো না। কারণ আমি তোমাদেরকে পয়দা করিনি। বরঞ্চ খোদাই আমাদের স্রষ্টা এবং তিনিই তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন। তিনিই তোমাদের রক্ষণাবেক্ষণ করবেন। তারপর আমার কথা, তো আমি এখন সেই খোদার রাসূলের জন্যে পথ সুগম করার জন্যে দুনিয়ায় এসেছি – তিনি দুনিয়ার মুক্তি নিয়ে আসবেন। কিন্তু সাবধান, যেন প্রতারিত না হও। কারণ অনেক মিথ্যা নবী আসবে এবং আমার নাম করে আমার বাইবেল বিকৃত করবে।

তখন Andrew বললো, ওস্তাদ, তাঁর কিছু নিদর্শন বলুন, যাতে করে তাঁকে আমরা চিনতে পারি।

যিশু বললেন, তিনি তোমাদের যুগে আসবেন না। তোমাদের কয়েক বছর পর তিনি আসবেন, যখন আমার ইঞ্জিল (বাইবেল) এমন বিকৃত হয়ে পড়বে যে, বড়ো জোর ত্রিশজন মুমেন টিকে থাকবে। সে সময়ে খোদা দুনিয়ার উপর দয়া করবেন এবং তাঁর রসূল পাঠাবেন যাঁর উপরে মেঘ ছায়া করবে। যার থেকে তাঁকে খোদার মনোনীত মনে করা হবে এবং তাঁর মাধ্যমে দুনিয়ায় খোদার পরিচিতি হবে। তিনি খোদাহীন লোকের বিরুদ্ধে বিরাট ক্ষমতার অধিকারী হবেন এবং দুনিয়ায় প্রতিমা পূজার মূলোৎপাটন করবেন। আমার বড়ো আনন্দ লাগে কারণ তাঁর মাধ্যমে আমাদের খোদাকে চিনতে পারা যাবে এবং তাঁর পবিত্রতা বর্ণনা করা হবে। আমার সত্যতা দুনিয়ায় জানতে পারবে। যারা আমাকে মানুষের চেয়ে বড়ো কিছু মনে করবে, তিনি তাদের প্রতিশোধ গ্রহণ করবেন—— তিনি এমন সত্যতা নিয়ে আসবেন যা সকল নবীর সত্যতা থেকে অধিকতর সুস্পষ্ট হবে।–অধ্যায় ৭২)(Let not your heart be troubled, nether be ye fearful:for I have not created you, but God our creator who hath created you will protect you. As for me, I an now come to the world to prepare the way for the messenger of God, who shall bring salvation to the world. But beware that ye be not deceived for many false prophets shall come who shall take my woprds and contaminate my gospel.Then said Andrew Master tell us some sign, that we may know him, jesus answered:He will not come in your time, but will come some years after you, when my gospel shall be annulled, insomuch that there shall be scarcely thirty faithful.At that time God will have mercy on the world, and so he will send his messenger, over shoes head will rest a white cloud, whereby he shall be known of noe elect of God, and shall be by him Manifesto to the world. He shall come with great power against the ungodly, and shall destroy idolatory upon the earth. And it rejoiceth me, because that through him our God shall be Known of noe elect of God, and shall be known and glorifed and I shall he Known to be true, and he will execute vengeance against those who shall say that I am more than man —- He shall come with truth more clear then that of all the prophets- (Chapter 72) The Gospel of Barnabas)

খোদার শপথ জেরুশালেমে সুলায়মানের মসজিদে নেয়া হয়েছিল, অন্য কোথাও নয়। কিন্তু বিশ্বাস কর, এমন এক সময় আসবে যখন খোদা তাঁর রহমত অন্য এক শহরে নাযিল করবেন। তারপর প্রত্যেক স্থানে তাঁর সত্যিকার এবাদত সম্ভব হবে এবং খোদা প্রত্যেক স্থানে তাঁর রহমতে সঠিক নামায কবুল করবেন।

যিশু বললেন, আমি প্রকৃতপক্ষে ইসরাঈল বংশের মুক্তির নবী হিসেবে প্রেরিত হয়েছি। কিন্তু আমার পরে মসীহ আসবেন তিনি খোদা প্রেরিত সারা দুনিয়ার জন্যে, যাঁর জন্যে খোদা এ সারা দুনিয়া সৃষ্টি করেছেন। তখন সরা দুনিয়ায় আল্লাহর এবাদত করা হবে এবং তাঁর রহমত নাযিল হবে। -অধ্যায় ৮২)(For the promise of God was made in Jerusalem, in the temple of Solomon, and not elsewhere. But believe me, a time will come that God will give his mercy in another city, and in every place it will be possible to worship Him in truth. And God in every place will have accepted true prayer with mercy— I am indeed sent to the house of Isreal as prophet of salvation but after me shall come the Messiah, sent of God to all the worsk, for whom God hath made the world. And then through all the world will God be worshepped, and mercy received-Chapter 82-The Gospel of Barnabas).

যিশু বললেন, চিরঞ্জীব খোদার কসম, যাঁর মুষ্টিতে আমার জীবন, আমি সে মসীহ নই যাঁর আগমন প্রতীক্ষা করছে দুনিয়ার সকল জাতি, খোদা যাঁর সম্পর্কে আমাদের পিতা ইবরাহীমের কাছে এ বলে ওয়াদা করেছিলেন, তোমার বংশের মাধ্যমে দুনিয়ার সকল জাতি বরকত লাভ করবে।

কিন্তু খোদা যখন আমাকে দুনিয়া থেকে উঠিয়ে নেবেন, যখন শয়তান এভাবে বিদ্রোহ করবে যে, ধর্মহীন লোকেরা আমাকে খোদা এবং খোদার পুত্র বলে মানবে। এ কারণে আমার বাণী ও শিক্ষা তারা বিকৃত করবে। এমন কি বহু কষ্টে তখন ত্রিশজন ঈমানদার থাকবে। যে সময়ে খোদা দুনিয়ার  দয়া প্রদর্শন করবেন এবং স্বীয় রসূল পাঠাবেন যাঁর জন্যে দুনিয়ার এ যাবতীয় বস্তু তিনি পয়দা করেছেন, যিনি দক্ষিণ দিক তেকে শক্তি সহকারে আগমন করে প্রতিমাসহ প্রতিমা পূজারীদের ধ্বংস করবেন। তিনি শয়তানের নিকট থেকে শাসন ক্ষমতা কেড়ে নেবেন যা সে মানুষের উপর লাভ করেছে। যারা তাঁর উপরে ঈমান আনবে তাদের জন্যে খোদার রহমত নিয়ে আসবেন। যারা তাঁর কথা মেনে নেবে তাদের জন্যে মুবারকবাদ।– (অধ্যায় ৯৬)(Jesus answrered, As God liveth in whose presence my soul standeth I am not the Messiah whom all the tribws of the earth except, enen as God promised to our father Abraham,. Saying, In thy seed will bless all the tribes of the earth But when God shall take me away from the world, satan will raise again this accursed sedition, by making the impious believe that I am Gid and son of God, whence my words and my doctrine shall be contaminated, insomuch that scarcely shall their remain thirty taighful noes, whereupon God, will have mercy upon the world, and will send his Messenger for whom he hath made all things, who shall come from the wouth with power, and shall destroy the idols with the idolators who shall take away the dominion from Satan which he hath over men. He shall bring witgh him the mercy of God for salvation of them that shall believe in him, and blessed is he who shall belive his words- (Chapter 96- The Gospel of Barnabas).

পুরোহিত জিজ্ঞেস করলো, সেই মসীহকে কি নামে ডাকা হবে এবং কোন সব নিদর্শন তাঁর আগমনী ঘোষণা করবে।

যিশু জবাবে বলেন, সে মসীহের নাম প্রশংসনীয়। কারণ খোদা যখন তাঁর রুহ পয়দা করেন, তখন তিনি স্বয়ং এ নাম রেখেছিলেন এবং সেখানে এক স্বর্গীয় মর্যাদায় রেখেছিলেন। খোদা বলেন, হে মুহাম্মাদ ! অপেক্ষা কর। কারণ তোমারই জন্যে আমি জান্নাত, দুনিয়া এবং অন্যান্য বহু কিছু পয়দা করবো এবং এসব তোমাকে পুরস্কারস্বরুপ দান করবো। তোমার প্রতি অনুগ্রহ যারা করবে তাদেরকে অনুগৃহীত করা হবে। তোমাকে যারা অভিসম্পাৎ করবে, তারা অভিশপ্ত হবে। তোমাকে যখন দুনিয়ার পাঠাবো, তখন ত্রাণের নবী হিসেবে পাঠাবো। তোমার কথা সত্য হবে। এমন কি যমীন ও আসমান টিকে থাকবে না কিন্তু তোমার দ্বীন টিকে থাকবে। অতএব তাঁর মুবারক নাম হচ্ছে মুহাম্মাদ। – অধ্যায় -৯৭)(Then said the priest: How shall the Messiah be called, and what sign shall peveal his coming?

Jesus Answered: The name of the Messiah is Admirable. For God Himeself gave hi8m the name when he had created his soul, and placed it in a celestial splendor. God said Wait Mohammed, for thy sake I will to create paradise, the world, and a great multitude of creatures, whereof I make thee a present, insomuch that whoso shall bless thee shall be blessed, and whoso shall curse thee shall be accursed. When I shall send thee into the world I shall send thee as my messenger of salvation, and thy word shall be true insomuch that heaven and earth shall fail, but thy faith shall never fail. Mohammed is his blessed name, (Chapter 97- The Gospel of Barnabas).

পুরোহিত জিজ্ঞেস করলো, খোদার ঐ রসূলের পর অন্য নবীও কি আসবেন? যিশু জবাবে বলেন, তাঁর পরে খোদার প্রেরিত কোন সত্য নবী আসবেন না। কিন্তু অনেক মিথ্যা নবী আসবে, যার জন্যে আমার বেড়া দুঃখ হয়। কারণ শয়তান খোদার সঠিক সিদ্ধান্তের কারণে তাদেরকে আবির্ভূত করবে এবং তারা আমার  বাইবেলের পর্দার অন্তরালে আত্মগোপন করবে।–(অধ্যায়-৯৭)(The priest answered, After the coming of the messenger of God shall other prophets come? Jesus answered, There shall not come after his true prophets sent by God, but there shall come a great mumber of false prophets, whereat  I sorrow, for satan shall raise them up by the just judgment of God, and they shall hide themselves under the pretext of my gospel-(Chapter 97-The Gospel of Barnabas) যিশু বলেন, জেনে রাখো বার্নাবাস, আমার শিষ্যদের মধ্যেই একজন মাত্র ত্রিশটি মুদ্রার বিনিময়ে আমাকে দুশমনের কাছে বিক্রি করবে। আমি নিশ্চিত যে, যে আমাকে বিক্রি করবে, সেই আমার নামে নিহত হবে। কারণ খোদা আমাকে পৃথিবী থেকে উপরে উঠিয়ে নেবেন এবং সে বিশ্বাসঘাতকের চেহারা এমনভাবে বদলিয়ে দেবেন যে, প্রত্যেকেই মনে করবে যে সেই আমি। তথাপি যখন সে এ লাঞ্ছনার মৃত্যুবরণ করবে, তখন দীর্ঘকাল পর্যন্ত আমারই লাঞ্ছনা বর্ণনা করা হবে। কিন্তু যখন খোদার পবিত্র রাসূল মুহাম্মদ আসবেন, তখন আমার বদনাম দূর হবে। খোদা এটা এজন্যে করবেন যে, আমি তাঁর (মুহাম্মদের) সত্যতার স্বীকৃতি দিয়েছি। তিনি আমাকে এভাবে পুরস্কৃত করবেন যে, মানুষ জানতে পারবে যে, আমি জীবিত আছি এবং এ লাঞ্ছনাময় মৃত্যুর সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই।–(অধ্যায় ১১২)(Know O Barnabas—— and I shallbe sold by one of my disciples for thirty pieces of money, whereupon I am sure that he who shall sell me shallbe slain in my name, for rthat God shall take me up form the earth, and shall change the appearance of the traitor so that every one shall believe him to be me, nevertheless when he dieth an evil death. I shall abide in that dishonor for a long time in the world. But when Mohammed shall come, the sacred Messenger of God, that infamy shall be taken away. And this shall God do because I have confessed the truth of the Messiah, who shall give me this reward, that I shall he known to be alive and to be a stavtger to that death of infamy( Chapter 112- The Gospel of Barnabas).

বস্তুত আমি তোমাদেরকে বলি যে, যদি মূসার কিতাব থেকে সত্যকে বিকৃত করা না হতো, তাহলে খোদা  আমাদের পিতা দাউদকে দ্বিতীয় কেতাব দিতে না। আর  যদি দাউদের কেতাবে বিকৃতি সাধন করা না হতো, তাহলে খোদা আমাকে ইঞ্জিল দিতেন না। কারণ আমাদের খোদা পরিবর্তনশীল নন এবং তিনি সকল মানুষের জন্যে একই পয়গাম দিয়েছেন। অতএব যখন আল্লাহর রসূল আসবেন, খোদাহীন লোকরা আমার কিতাবের যে বিকৃতি করেছে, তা তিনি পরিষ্কার করে দেবেন। – (অধ্যায় ১২৪) (Verily I say unto you that if the truth had not been erased from the book of Moses, God would not have given to David our father the second And if the book of David had not been contaminated God would not have committed the Gospel to me, seeing that the Lord our God is unchangeable, and hath spoken but one message to all men. Wherefore, when the Messenger of god shall come, he shalol come to cleanse away all wherewith the ungodly have contaminated my book (Chapter 124— The Gospel of Barnabas).

About সাইয়েদ আবুল আ’লা মওদূদী রহ.