ইসলামী অর্থনীতি নির্বাচিত প্রবন্ধ

সম্পুর্ণ সূচীপত্র

ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক

প্রতিষ্ঠা

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যে ইসলামী ব্যাংকটি বিগত ত্রিশ বছর ধরে নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে কাজ করে চলেছে, যার সক্রিয় সহযোগিতায় আজকের মুসলিম দেশগুলোর অর্থনীতি ও বৈদেশিক বাণিজ্যের গতি সাবলীল রয়েছে এবং যার প্রত্যক্ষ অংশ গ্রহণের ফলে বিভিন্ন দেশে ইসলামী ব্যাংকসমূহের প্রতিষ্ঠা সহজ হয়েছে সেই ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক (Islamic Development Bank বা আইডিবি) সম্পর্কে এদেশে আলোচনা হয়েছে অতি অল্পই। মূলতঃ তৃতীয় বিশ্বের দরিদ্র দেশগুলো, যার অধিকাংশই মুসলিম, তাদের অর্থনীতিকে সচল রাখতে যে কয়টি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের উপর আজ খুব বেশী নির্ভরশীল ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক তাদের অন্যতম। ১৯৭৩ সালের ডিসেম্বর (জিলক্বদ, ১৩৯৩) মাসে সউদ িআরবের জেদ্দায় মুসলিম দেশসমূহের অর্থমন্ত্রীদের এক সম্মেলনে ইসলামী মডেলের েএই আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানটি স্থাপনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এরপর ১৯৭৫ সালের জুলাই মাসে জেদ্দাতেই প্রস্তাবিত ব্যাংকের পরিচালকমন্ডলী বা বোর্ড অব গভর্নরসের উদ্বোধনী সভায় মুসলিম উম্মাহর আশা-আকাংখার প্রতীক এই ব্যাংকের উদ্বোধন করা হয়। অবশ্য আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যাংকটি কাজ শুরু করে ১৫ শাওয়াল, ১৩৯৫ (২০ অক্টোবর, ১৯৭৫)।

উদ্দেশ্য

ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংকের উদ্দেশ্যসমূহ হলো:

১. সুদবিহীন লেন-দেন, বিনিয়োগ ও বাণিজ্য পরিচালনা;

২. সদস্য দেশগুলোর অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও উৎপাদনমুখী প্রকল্পসমূহে আর্থিক সহায়তা প্রদান;

৩. সদস্য দেশসমূহের বৈদেশিক বাণিজ্যে অর্থায়ন;

৪. সদস্য দেশগুলোর সামাজিক উন্নয়নে অংশ গ্রহণ; এবং!

৫. দেশ নির্বিশেষে মুসলিম উম্মাহর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্যে যে কোন শরীয়তসম্মত প্রয়াসে সহযোগিতা প্রদান।

ব্যাংকের প্রধান অফিস সউদী আরবের জেদ্দায় অবস্থিত। যেকোন সদস্য দেশে আঞ্চলিক অফিস খুলবার জন্যে ব্যাংককে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। প্রধান অফিসের সাথেই সংযুক্ত রয়েছে ইসলামী গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (Islamic Research and Trainig Institute)। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাংকের তৎপরতা অব্যাহত রাখা ও পরিবর্তনশীল প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করার উদ্দেশ্যেই এই ইনস্টিটিউটটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়া ১৯৯৪ সালে মরক্কোর রাবাত ও ১৯৯৫ সালে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে ব্যাংকের দুটি আঞ্চলিক অফিস চালু হয়। মধ্য এশিয়ার রিপাবলিকসমূহের সাথে আইডিবির ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের জন্যে ১৯৯৭ সালে কাজাখাস্তানের আলামাতায় খোলা হয়েছে তৃতীয আঞ্চলিক অফিসটি। এছাড়া ইরান, ইন্দোনেশিয়া, কাজাখস্তান, গাম্বিয়া, গিনি বিসাউ, পাকিস্তান, মৌরতানিয়া, লিবিয়া, সেনেগাল, সুদান ও সিয়েরালিওনে মাঠ প্রতিনিধির অফিসও রয়েছে

হিজরী সালই এ ব্যাংকের আর্থিক বছর হিসাবে গণ্য হয়। আরবী ভাষা ব্যাংকেরসরকারী বা অফিসিয়াল ভাষা। এই ভাষাতেই ব্যাংকের সকল কাজ পরিচালিত হয়। তবে অধিকতর সুষঠু সেবা প্রদান এবং সদস্য দেশসমূহের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত রাখার জন্যে ইংরেজী ও ফরাসী ভাষাকেও ‘কাজের ভাষা’ হিসেবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

মূলধন

আইডিবির অনুমোদিত মূলধনের পরিমাণ শুরুতে ছিল দুই শত কোটি ইসলামী দিনার। প্রতিটি ১০,০০০ ইসলামী দীনার মূল্যেল সর্বমোট ২,০০,০০০ শেয়ার এই অর্থকে ভাগ করা হয়েছে। ১৪২২ হিজরীতে আলজেরিয়ায় বোর্ড অব গভর্নরসের সভায় অনুমোদিত মূলধনের পরিমাণ বৃদ্ধি করে পনেরো শত কোটি ইসলামী দিনারে উন্নীত করা হয়েছে। বিলিকৃত (Subscribed) হয়েছে ৭৯৬.০ কোটি ইসলামী দীনার। [সারণী-১ দ্রষ্টব্য]। ব্যাংকের মুদ্রামান ১ ইসলামী দীনার ১ এসডিআর-এর সমমানের। এসডিআর বা Special Drawing Right আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (International Monetary Fund) কর্তৃক ব্যবহৃত মুদ্রামান। বাংলাদেশী মুদ্রায় ১ ইসলামী দীনার বর্তমানে ৮০.০০ টাকার সমান।

সদস্য

বর্তমানে মুসলিম বিশ্বের ৫৫টি দেশ এই ব্যাংকের সদস্য। শুরুতে বাইশটি দেশ মিলে ব্যাংকটি প্রতিষ্ঠা করে। ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য দেশসমূহের মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। ব্যাংকের সদস্য হওয়ার জন্যে দুটি শর্ত রয়েছে। প্রথমতঃ দেশটিকে েইসলামী সম্মেলন সংস্থার (ও.আই.সি) সদস্য হতে হবে এবং দ্বিতীয়তঃ ব্যাংকের বোর্ড অব গভর্নরস সময়ে সময়ে যে সমস্ত শর্ত নিয়ম নির্ধারণ করে দেবেন তা মেনে নিতে দেশটিকে সম্মত থাকতে হবে। সারণী-১ হতে সদস্য দেশসমূহের নাম ছাড়াও সদস্য হিসাবে তাদের অন্তর্ভূক্তির বছর ও বিলিকৃত মূলধনে তাদের শেয়ারের পরিমাণ জানা যাবে।

সারণী-১ হতে দেখা যায় বাইশটি দেশ নিয়ে ব্যাংটি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ১৯৭৬ সালেই আফগানিস্তান, ইযৈমেন, ক্যামেরুন, ও সিরিয়া এই চারটি দেশ এর সদস্য হিসাবে অন্তর্ভুক্ত হয়। পরবর্তী বছরে আরও পাঁচটি দেশ- উগান্ডা, প্যালেস্টাইন, লেবানন, শাদ ও সেনেগাল এর সদস্য পদ লাভ করে। এরপর প্রায় প্রতি বছর একটি-দুটি করে দেশ ব্যাংকটির সদস্য হতে থাকে। সর্বশেষ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে রেয়েছে ভেঙ্গে পড়া সোভিয়েত রাশিয়ার মুসলিম দেশগুলো।

কাজের প্রকৃতি

আইডিবি গৃহীত কাজের তালিকা বেশ দীর্ঘ। তবে সেসবই সদস্য দেশসমূহের সার্বিক আর্থ-সামাজিক কল্যাণের জন্যেই এসব কর্মসূচী অনুসৃত হয়ে থাকে। শুধু তাই নয়, অ-সদস্য দেশের মুসলিম অধ্যুষিত জনপদের কল্যাণের জন্যৌ এর কর্মসূচী রয়েছে। ব্যাংকের প্রস্তাবিত ও গৃহীত কর্মসূচী নিম্নরূপ:-

ক. সদস্য দেশসমূহে অর্থনৈতিক ও সামাজিক বুনিয়াদ গড়ে তোলার জন্যে সুনির্দিষ্ট প্রকল্পে অর্থ বিনিযোগ;

খ. সদস্য দেশসমূহের সরকারী বিনিয়োগ উদ্যোগসমূহে ঋণ মঞ্জুরীর মাধ্যমে মূলধন সরবরাহ;

ঘ. সদস্য দেশসমূহকে মহার্ঘ ব্যবহারিক সামগ্রী (যথা- তেলবাহী, মালবাহী ও মাছ ধরার জাহাজ, যন্ত্রপাতি, কারখানা, রেলগাড়ী ইত্যাদি) ইজারা দেওয়া;

ঙ. সদস্য দেশসমূহের আমানত গ্রহণ ও তহবিল বৃদ্ধি করা;

চ. ট্রাষ্ট তহবিল পরিচালনা;

ছ. অ-সদস্য দেশের মুসলিম জনসাধারণের সাহায্যের জন্যে বিশেষ তহবিল গঠন ও পরিচালনা;

জ. সবচেয়ে কম উন্নত সদস্য দেশসমূহের জন্যে বিশেষ প্রকল্প ও আর্থিক সাহায্যের ব্যবস্থা গ্রহণ;

ঝ. সদস্য দেশসমূহের বৈদেশিক বাণিজ্যের, বিশেষ করে মূলধনী পণ্য সংগ্রহে সহায়দা প্রদান;

ঞ. সদস্য দেশসমূহে কারিগরী সহায়দা প্রদান;

ট. সদস্য দেশগুলোতে উন্নয়নমুখী কাজে লিপ্ত ব্যক্তিদের প্রশিক্ষণ প্রদান;

ঠ. মুসরিম দেশসমূহের অর্থনৈতিক ও ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্ব স্ব দেশে শরীয়াহ মুতাবিক বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ গ্রহণের জন্যে মূলধন সরবরাহ এবং গবেষণাকর্মে সহায়তা করা;

ড. ব্যাংকের পরিচালনা ও কার্য নির্বাহের জন্যে যে অর্থের প্রয়োজন হবেনা সেই উদ্বৃত্ত অর্থ উপযুক্ত খাতে বিনিয়োগ; এবং

ঢ. এমন সব কাজে অংশগ্রহণ করা যা ব্যাংকের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অর্জনের জন্যে সহায়ক হবে।

পরিচালনা ব্যবস্থাপনা

ব্যাংকটি যথাযথ পরিচালনার জন্যে বোর্ড অব গভর্ণরসকে সহায়তা করে থাকে বোর্ড অব একজিকিউটিভ ডিরেক্টরস। সদস্য দেশসমূহের অর্থমন্ত্রী বা পরিকল্পনা মন্ত্রী অথবা কেন্দ্রী ব্যাংকের গভর্ণল পদাধিকার বলে ব্যাংকের বোর্ড অব গভর্নরসের সদস্য হয়ে থাকেন। এরাই চৌদ্দ সদস্যবিশিষ্ট বোর্ড অব একজিকিউটিভ ডিরেক্টরস (বা নির্বাহী পরিচালক পরিষদ)-িএর জন্যে প্রতিনিধি মনোনীত করে থাকেন। এদের কার্যকালের মেয়াদ তিন বছর। প্রতি তিন বছর পর পর বোর্ড অব একজিকিউটিভ ডিরেক্টরবৃন্দের সদস্য নির্বাচিত/মনোনীত হয়ে থাকেন।

সদস্য দেশসমূহ হতেই বোর্ড অব গভর্ণরস পাঁচ বছরের জন্যে বোর্ড অব একজিকিউটিভ ডিরেক্টরসের জন্যে একজন সভাপতি নিয়োগ করে থাকেন। তিনি ব্যাংকের প্রেসিডেন্ড হিসেবে গণ্য হন। এছাড়া রয়েছেন তিনজন ভাইস প্রেসিডেন্ট। তারা বাণিজ্য, অপরেশন এবং কর্পোরেট কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব পালন করে থাকেন। একজিকিউটিভ ডিরেক্টরবৃন্দের সমন্বয়ে গটিত তিনটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি রয়েছে। সেগুলো হচ্ছে: ক) পরিচালনা কমিটি; খ) ফাইন্যান্স ও প্রশাসনিক কমিটি এবং গ) দীর্ঘমেয়াদী বাণিজ্য অর্থায়ন কমিটি। উপরন্তু কতকগুলো বিশেষ কমিটিও রয়েছে যেগুলো সল্পোন্নত সদস্য দেশ, ইসলামী ব্যাংক পোর্টফোলিও , ইউনিট ইনভেস্টমেন্ট ফাণ্ড, অমুসলিম দেশের মুসলিম ছাত্র-ছাত্রীদের বৃত্তি এবং পেনশন ব্যবস্থাপনা বিষয়ক দায়িত্ব পালন করে থাকে।

কার্যক্রম

আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ ফাইন্যান্সিয়াল ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ইতিমধ্যেই আইডিবি সকল মহলে পরিচিত লাভ করেছে িএবং মর্যাদপূরণ আসনে সমাসীন হতে পেরেছে। নানা বিষয়ে এর সহযোগিতা সদস্য দেশগুলোর অর্থনীতিকে যেন চাঙ্গা রেখেছে তেমনি ব্যাংক নিজেও প্রভূত মুনাফা অর্জন করেছে। ব্রাংকের যাবৎ গৃহীত কর্মতৎপরতার একটি সংক্ষিপ্ত খতিয়ান নিলেই এ সত্য ধরা পড়বে।

. তহবিল সংগ্রহ

ব্যাংক যেহেতু একটি ফাইন্যান্সিয়াল প্রতিষ্ঠান সেহেতু তাকে বিনিয়োগ ও ব্যবসা-বাণিজ্যমূলক কর্মকাণ্ডে অংশ গ্রহণ করতে হবে, পরিচালনা ব্যয় নির্বাহের জন্যে উপার্জন করতে হবে। মুনাফা অর্জনও তার অন্যতম লক্ষ্য থাকবে। এজন্যে চাই বিনিয়োগযোগ্য পর্যাপ্ত তহবিল। শেয়ারহোল্ডারদের পরিশোধিত মূলধন এই তহবিলের একটি বড় অংশ হলেও অন্যানৗ উৎস হতে ব্যাঙককে তহবিলসংগ্রহ করতে হয়। সাধারণ বাণিজ্যিক ব্যাংকের ক্ষেত্রে আমানতকারীদের জমাকৃত অর্থ এই তহবিলের যোগান দেয়। কিন্তু আইডিবি যেহেতু একটি বিশেষ ধরনের ব্যাংক সেহেতু প্রচলিত উৎস হতে তার তহবিল সংগ্রহের উপায় নেই। তাই একে বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণত করতে হয়েছে। ব্যাংকের ফাইন্যান্সের উৎসসমূহের মধ্যে রয়েছে সদস্য দেশসমূহের পরিশোধিত মূলধন, বিনিয়োগ আমানত স্কীমের প্রাপ্ত জমা এবং বিশেষ সাহায্য তহবিলে সদস্য দেশসমূহের প্রদত্ত চাঁদা। এভাবে ধীরে ধীরে তহবিলের পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং ব্যাংক তা থেকে ফাইন্যান্সিং কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে। এছাড়া তহবিল বৃদ্ধির জন্যে তিনটি বিশেষ উদ্রোগ গৃহীত হয়েছে: (১) ইউনিট ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড, (২) ইসলামী ব্যাংকস পোর্টফোলিও ফর ইনভেস্টমেন্ট এন্ড ডেভেলপমেন্ট এবং (৩) আইডিবি ইনফ্রাস্ট্রাকচারাল ফান্ড।

. ইউনিট ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড (UIF): নিজস্ব তহবিল বৃদ্ধি ও সদস্য দেশগুলোতে মূল্যবান সামগ্রী সংগ্রহে সহযোগিতা প্রদানের উদ্দেশ্যে জানুয়ারী ১,১৯৯০ (১৪১০ হিজরী) হতে ব্যাংক ‘ইউনিট ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড’ নামে একটি নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করে। এটি ভিন্ন ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হবে তবে আইডিবির প্রেসিডেন্ট এর প্রেসিডেন্ট হিসেবে দাযিত্বশীল থাকবেন। দশ কোটি মার্কিন ডলারের প্রারম্ভিক অনুমোদন ও পরিশোধিত মূলধন নিয়ে এর তহবিল গঠিত হয়। তহবিলের অর্থকে ইউনিট এ ভাগ করা হয় এবং প্রতি ইউনিটের মূল্য ধার্য করা হয় ১.০ মার্কিন ডলার। বিনিয়োগে অংশ গ্রহণে ইচ্ছুক প্রতিষ্টানকে ন্যূনতম এক লক্ষ মার্কিন ডলার বা তার গুণিতক হারে ইউনিট কিনতে হয়। প্রথম পর্যায়ে পনেরোটি ইসলামী ফাইন্যান্সিং প্রতিষ্ঠান তহবিলের সমুদয় ইউনিট কিনে নেয়। এর মধ্যে কুয়েতের পাঁচটি, সউদী আরবের চারটি, মালয়েশিয়ার তিনটি এবং বাহরাইন, কাতার ও ডেনমার্কের একটি করে প্রতিষ্ঠান রয়েছে। চার বছরের মধ্যে উদ্যোগটি বিপুল সফলতা লাভ করে। ফলে জানুয়ারী, ১,১৯৯৪ (শাওয়াল ১৯,১৪১৪ হিজরী) অনুমোদিত মূলধনের পরিমাণ আও দশ কোটি মার্কিন ডলার বৃদ্ধি করা হয়ং এবং এবারেও সঙ্গে সঙ্গেই তা পরিশোধিত হয়ে যায়। এই প্রেক্ষিতে ১৯৯৫ সালে আরও ত্রিশ কোটি মার্কিন ডলার তহবিল বৃদ্ধির অনুমোদন দেওয়া হয়। ইতিমধ্যেই এই বর্ধিত তহবিলের সাড়ে সাত কোটি মার্কিন ডলার মূল্যের িইউনিট বিক্রি হয়ে গেছে। বর্তমানে মোট পরিশোধিত মূলধনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩২.৫০ কোটি মার্কিন ডলার।

প্রধানতঃ ইজারা ও কিস্তিতে বিক্রয়যোগ্য সামগ্রী বা উপকরণ সংগ্রহের জন্যে এই তহবিলের অর্থ ব্যবহৃত হচ্ছে। এই নতুন উদ্যোগ গ্রহণের ফলে ব্যাংকের বিনিযোগযোগ্য তহবিল যেমন বৃদ্ধি পেয়েছে তেমনি যেসব প্রতিষ্ঠানের হাতে উদ্বৃত্ত অর্থ রয়েছে শরীয়াহর সাথে সংগতি রেখে বিনিয়োগের মাধ্যমে তাদেরও উপার্জনের নতুন পথ উন্মুক্ত হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী নীট মুনাফার ৮৫% বন্টন করাহয় ইউনিট ক্রেতাদের মধ্যে; ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক ১০% মুদারিব হিসাবে এবং ৫% রিজার্ভ রাখা হয় মূলধনের মূল্যমান স্থির রাখার জন্যে। বিগত পাঁচ বছরে এই তহবিল হতে বিনিয়োগকৃত অর্থের পরিমাণ ছিল ৩২.৪৯ কোটি মার্কিন ডলার। ইতিমধ্যেই পূর্বের বিনিয়োগকৃত অর্থ হতে যে অংশ ফেরত পাওয়া গেছে তা পুনরায় বিনিয়োগ করার ফলেই পরিশোধিত মূলধনের চেয়ে বিনিয়োজিত মূলধনের পরিমাণ বেশী হয়েছে। প্রসঙ্গতঃ উল্লেখ্য, এই ফাণ্ড হতে বিনিয়োগ মুনাফার পরিমাণ খুবই সন্তোষজনক। হওয়ায় প্রাথমিক ইউনিট ক্রেতাদের বোনাজ শেয়ার ইস্যু করা হয়েছে।

. ইসলামী ব্যাংক পোর্টফোলিও (IBP): আইডিবি তহবিল বৃদ্ধির পাশাপাশি সদস্য দেশসমূহের ইসলামীব্যাংকের উদ্বৃত্ত তহবিল ব্যবহারের সুযোগ দিয়ে মুনাফা অর্জনে সহযোগিতা করার উদ্দেশ্যে ফেব্রুয়ারী, ১৯৮৭ সালে (জমাদিউস সানী, ১৪০৭) এই কর্মসূচী গ্রহণ করে। এর পুরা নামস Islamic Bank’s Portfolio for Investment and Development। এই স্কীমের আওতায় ইসরামী ব্যাংকগুলোকে প্রতিটি ১০০ মার্কিন ডলার মূল্যের সমপরিমাণ অর্থের ২৫ বছর মেয়াদী সার্টিফিকেট ইস্যু করা হয়। ব্যাংকগুলো প্রয়োজনে বাজার দরে এই সার্টিফিকেট নিজেদের মধ্যে কেনা-বেচাও করতে পারে। আইডিবির নিজের জন্যেও এ সুযোগ উন্মুক্ত রয়েছে। এই তহবিলের অর্থ ইজারা, ইকুইটি বিনিয়োগ ও সদস্য দেশসমূহের মধ্যে বৈদেশিক বাণিজ্যের জন্যে ব্যবহৃত হবে। বিনিয়োগকৃত অর্থ হতে যে মুনাফা অর্জিত হবে তার ৯০% শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে বন্টিত হবে। মুদারিব হিসাবে আইডিবি পাবে ৫%, বাকী ৫% রিজার্ভ হিসাবে গচ্ছিত থাকবে মূলধনের মূল্যমান স্থির রাখার জ ন্যে। আইডিবিসহ এ যাবৎ ২১টি ইসলামী ব্যাংক ও ফাইন্যান্সিং প্রতিস্ঠান এতে অংশ গ্রহণ করেছে।

েএই স্কীমের অনুমোদিত মূলধনের পরিমাণ ৩৮.০ কোটি মার্কিন ডলার, এবং পরিশোধিত মূলধনের পরিমাণ ৯.০ কোটি মার্কিন ডলার। এ ছাড়া আইডিবি ইজারার জন্যে ১৫.০ কোটি মার্কিন ডলার ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমের জন্যে অতিরিক্ত আরও ৭.০ কোটি মার্কিন ডলার বরাদ্দ করেছে। শুরুর বছর হবে ১৪২৪ হিজরী পর্যন্ত এই কর্মসূচীর আওতায় ১৯টি সদস্য দেশে ২১৪টি প্রকল্পে ৩৩৯ কোটি মার্কিন ডলার মঞ্জুরী পেয়েছে। েএই উদ্যোগ হতে ইসলামী ব্যাংকসমূহ তিনটি উপকার পাচ্ছে:

১. ন্যূনতম ঝুঁকি নিয়ে পরোক্ষভাবে তারা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে অর্থায়নের সুবিধা ও অভিজ্ঞতা লাভ করছে;

২. উদ্বৃত্ত অর্থ কার্যকরভাবে ব্যবহার করে মুনাফা উপার্জনের সুযোগ পাচ্ছে, এবং

৩. ব্যাংকগুলো তাদের বড় গ্রাহকদের পণ্য নির্বাচনের ক্ষেত্র প্রশস্ত করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় তহবিলের অভাব পূরণের জন্যে নতুন পদ্থরি সাথেও পরিচিত করিয়ে দেওয়ার সুবিধা লাভ করেছে।

. আইডিবি ইনফ্রাস্ট্রাকচারাল ফান্ড (IIF): সদস্য দেশসমূহের অর্থনৈতিক অবকাঠামোসমূহ বিনির্মাণের জন্যে বেসরকারী বিনিয়োগ স্বাগত জানাবার জন্যে আইডিবির পক্ষ হতে আইডিবি ইনফ্রাস্ট্রাকচারাল ফান্ড গঠন ছিল একটি ব্যতিক্রমী প্রয়াস। একশত কোটি মার্কিন ডলার ইকুইটি মূলধনের লক্ষ্যমাত্র নিয়ে ফান্ডটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৯৮ সালে। প্রধান উদ্যোক্তা হিসেবে মূলদনের ৫১ শতাংশের মালিকানা আইডিবির। তহবিলটির কার্যক্রম পরিচালিত হবে বাহরাইন হতে। ফান্ডের ন্যূনতম ইকুইটি বিনিয়োগের পরিমাণ হবে এক কোটি মার্কিন ডলার। কোন প্রকল্পে সর্বোচ্চ ইকুইটি হবে দশষ কোটি মার্কিন ডলার। এই ফান্ড বিভিন্ন দেশের িইসলামী ব্যাংক ও অন্যান্য ইসলামী ফাইন্যান্সিয়াল প্রতিষ্ঠানের সাথে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা সূত্রে বৃহৎ সিন্ডিকেট গড়ে তুলতে চেষ্টা করবে। টেলিকম্যুনিকেশন, পেট্রোকেমিক্যাল শিল্প, পরিবহন, প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণ, বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রভৃতি খাতে বিনিয়োগে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে গুরুত্ব প্রদান করা হবে। এই তহবিল হতে ১৪২৪ হিজরীতে চারটি সদস্য দেশের পাঁচটি প্রকল্পে ২০.৮০ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগ হয়েছে।

. প্রকল্প অর্থায়ন পদ্ধতি

আইডিবি তার তহবিল ব্যবহারের জন্যে শরীয়াহর অনুমোদিত পদ্ধতিসমুহের মধ্য থেকেই বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করে আসছে। তহবিল ব্যবহারের ক্ষেত্রে অনুসৃত নীতিমালাকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়: (১) প্রকল্প অর্থায়ন, (২) বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডে অর্থায়ন এবং (৩) বিশেষ সহায়তামূলক কর্মকাণ্ড। প্রকল্প অর্থায়নের ক্ষেত্রে শুরুতে শুধুমাত্র ঋণ ও েইকুইটির ব্যবহার হতো। পরবর্তীকালে ক্রমে ক্রমে ইজারা (১৯৭৭), মুনাফার অংশীদারীত্ব (১৯৭৮), কিস্তিতে বিক্রয় (১৯৮৫), ইসতিসনা (১৯৯৬) প্রভৃতি পদ্ধতি গৃহীত হয়। এছাড়া প্রকল্প অর্থায়ন কর্মসূচীর আওতায় সদস্য দেশগুলোতে কারিগরি সহায়তা প্রদান কর্মসূচীও রয়েছে।

প্রকল্প অর্থায়নের আওতায় বিভিন্ন বিনিযোগ পদ্ধতি অনুযায ি২০০৪ (১৪২৪ হিজরী) পর্যন্ত মোট বরাদ্দ করা হয়েছে ৭৬১২.৭৯ কোটি ইসলামী দীনার। এর মধ্যে ঋণ খাতে রয়েছে ২৫১.১৩ কোটি ইসলামী দীনার (৩২.৯৬%), ইজারা খাতে ১৬৭.৫০ কোটি ইসলামী দীনার (২১.৯৯%), ইকুইটি খাতে ২৮.৪২ ইসলামী দীনার (৩.৭৩%) জাতীয় উন্নয়ন অর্থায়ন প্রতিষ্ঠানগুলোকে সহযোগিতা প্রদান ১৮.৭৮ কোটি ইসলামী দীনার (২.৪৬%), মুনাফার অংশীদারী কর্মকাণ্ডে ৬.২৪ কোটি ইসলামী দীনার (০.৮২%), ইসতিসনার জন্যে ১২০.৫২ কোটি ইসলামী দীনার (১৫.৮২%) এবং কারিগরি সহায়তার জন্যে ১৩.২৩ কোটি ইসলামী দীনার (১.৭৪%)। সারণী- হতে এই অর্থায়নের একটি চিত্র পাওয়া যাবে।

ঋণ: সদস্য দেশসমূহের আর্থিক বুনিয়াদ সৃদঢ় করার উদ্দেশ্যে সেসব দেশের অর্থনৈতিক অবকাটামোর বিকাশ ও উন্নয়নের জন্যে আই.ডি.বি তহবিল মঞ্জুরীর মাধ্যমে মূলবান বৈদেশিক মুদ্রা সরবরাহ করে আসছে। প্রতিষ্ঠার বছর হতে িএ পর্যন্ত এই খাতে ৪৩টি সদস্য দেশে সর্বমোট ২৫১.১৩ কোটি ইসলামী দীনার মঞ্জুর করা হয়েছে। সড়ক ও পোতাশ্রয় নির্মাণ ও উন্নয়ন, বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ ও বিতরণ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ, সেচ সুবিধার সম্প্রসারণ, পয়ঃপ্রণালী নির্মাণ, গ্রামাঞ্জলে পানীয় জল সরবরাহ, সারকারখানা নির্মাণ, হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা, শিক্ষার সম্প্রসারণ প্রভৃতি প্রকল্পে উপরোক্ত পরিমাণ অর্থ ব্যবহার করা হয়েছে [সারণী-২ দ্রষ্টব্য]। এর ৬০% ব্যয়িত হয়েছে সল্পোন্নত দেশসমূহে সহযোগিতার ক্ষেত্রে।

এই স্কীমের আওতায় প্রকল্প মঞ্জুরীর অর্থ পরিশোধিত মেয়াদকাল বেশ দীর্ঘ-১৫ হতে ২৫ বছর। উপরন্তু শুরুতেই ৩-৭ বছরে রেয়াত দেওয়া হয়। ব্যাংক প্রকৃত ব্যয় নির্বাহের জন্যে বার্ষিক সর্বোচ্চ ২.৫% হারে সার্ভিস চার্জ গ্রহণ করে থাকে।  অবশ্য স্বল্পোন্নত সদস্য দেশসমূহের ক্ষেত্রে এই হার মাত্র ০.৭৫%। ব্যাংকের নির্বাহী পরিষদ ১৯৯২ সালে একক প্রকল্প অর্থায়নের পরিমাণও বৃদ্ধি করেছে। ফলে এখন এর পরিমাণ-১৯৯১ সালের ৩০.০ লক্ষ ইসলামী দীনার হতে ৪৯.০ লক্ষ ইসলামী দীনারে উন্নীত হয়েছে।

ইজারা: প্রতিষ্ঠার বছর হতেই আইডিবি সদস্য দেশসমূহকে নানা ধরনের মহর্ঘ ব্যবহারিক সামগ্রী ইজারা দেওয়ার ব্যবস্থা নিয়েছে। এসব সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে তৈলবাহী, মালবাহী ও মাছ ধরার জাহাজ, যন্ত্রপাতি, রেল ওয়াগন, ফ্রিজার, গবাদি পশু পরিবহন যান, গৃহ ও সড়ক নির্মাণ সরঞ্জাম প্রভৃতি। প্রতিষ্ঠার বছর হতে আজ পর্যন্ত েএই খাতে ব্যাংক ১৬৪.৫০ কোটি ইসলামী দীনার মঞ্জুর করেছে। [সারণী-২ দ্রষ্টব্য] এই অর্থ দিয়ে ১২৭টি প্রকল্প সমাপ্ত হয়েছে। এর মধ্যে শুধুমাত্র ১৪২৪ হিজরীতেই ৮টি সদস্য দেশে ৮টি ইজারা বন্দোবস্ত দেওয়া হয়েছে। সাধারণতঃ ৭ হতে সর্বোচ্চ ১২ বছর মেয়াদের জন্যে ইজারা দেওয়া হয়। অবশ্য শুরুতে ২-৩ বছরের জন্যে রেয়াতী সময় দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে যে মার্ক আপ ধার্য হয় তা নির্ধারিত সময় সীমার মধ্যে পরিশোধ করলে সংশ্লিষ্ট দেশ মোট দেয় মার্ক-আপের উপর ১৫% হারে রেয়াত পেয়ে থাকে। মার্ক-আপের হার বার্ষিক ৮%-৯% হতে হ্রাস করে ১৯৯২ সালে ৭.৫%-৮.৫% এ নামিয়ে আনা হয়েছে।

কিস্তিতে বিক্রয়: এই কার্যক্রমের অধীনে গ্রহীতা সদস্য দেশকে মহার্ঘ সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতি [যেমন বিদ্যুৎ উৎপাদন, পানি সরবরাহ, তেলের পাই বসানো] কিস্তিতে মূল্য পরিশোধ সাপেক্ষে বিক্রী করা হয়। সাধারণতঃ ১০-১২ বছরের মধ্যেই নির্ধারিত মার্ক-আপসহ মূল্য পরিশোধ করতে হয়। সাধারণতঃ ১০-১২ বছরের মধ্যেই নির্ধারিত মার্ক-আপসহ মূল্য পরিশোধ করতে হয়। ইজারার মতো মার্ক-আপের হারও সম্প্রতি ৮%০৯% হতে হ্রাস করে ৭.৫%-৮.৫% এ নামিয়ে আনা হয়েছে। এই স্কীমের গ্রাহকের কাছে কোন সামগ্রী হস্তান্তরের সময়ে তার মালিকানাও দিয়ে দেওয়া হয়। এই পদ্ধতিতে বিনিয়োগ কার্যক্রম শুরু হয় ১৪০৫ হিজরীতে এবং আজ অবধি ১৬৪টি প্রকল্পে ১৫৫.৯১ কোটি ইসলামী দীনার বিনিয়োজিত হয়েছে।

সারণী

ইসলাম উন্নয়ন ব্যাংকের পদ্ধতিভিত্তিক বিনিয়োগের চিত্র ১৪২১১৪২৪ হি. (কোটি ইসলামী দীনার)

  পদ্ধতি ১৪২১ ১৪২২ ১৪২৩ ১৩৯৬-১২২৪
  সংখ্যা পরিমাণ সংখ্যা পরিমাণ সংখ্যা পরিমাণ সংখ্যা পরিমাণ সংখ্যা পরিমাণ
ঋণ ৫২ ২০.২৭ (৩৪.০৩%) ৪৯ ২০.৬৯ (২৯.১৪% ৪৮ ২২.০৯ (৩১.৩৯% ৫৩ ২৩.৬৫ (২৮.৬৩%) ৫৭৯ ২৫১,১৩ (৩২,৯৭%)
ইকুইটি ০.৫২ (০.৮৭%) (০.৩১) (০.৪৪%) ০.৪৪ (০.৬২%) ০.১৯ (০.২৩%) ১০৮ ২৮.৪২ (৩.৭৩%)
ইজারা ৩.৫৫ (৫.৯৬%) ১১.৮০ (১২.৩০%) ১০.৯১ (১৫.৫০%) ১৩.৭৮ (১৬.৬৮%) ১২৭ ১৬৭.৫৫ (২১.৯৯%)
কিস্তিতে বিক্রয় ৯.৪১ (১৫.৮০%) ১০ ৮.৭৩ (১২.৩০%) ১৪ ২০.৪৬ (২৯.০৯%) ১১ ৭.৯০ (৯.৫৬%) ১৬৪ ১৫৫.৯১ (২০.৪৭%)
মুনাফার অংশীদারিত্ব ৬.২৫ (০.৮২%)
ইসতিসনা ১৬ ২৩.৫৮ (৩৯.৬০%) ১৩ ২৫.৮৫ (৩৬.৪১%) ১৪.৭০ (২০.৮৮%) ১৯ ৩৬.৩০ (৪৩.৯৩%) ৭০ ১২০ (১৫.৮২%)
লাইন্স অব ফাইন্যান্সিং‘ ১.১০ (১.৮৪%) ২.৭৪ (৩.৮৬%) ১.০০ (১.৪২%) ১৯ ১৮.৭৮ (২.৪৬%)
করিগরি সহযোগিতা ৩৩ ১.১৩ (১.৯০%) ৩৯ ০.৮৭ (১.২২%) ২৯ ০.৭৮ (১.১০%) ২৪ ০.০৮ (০.৯৭%) ৪৩২ ১৩.২৩ (১.৭৪%)
মোট ১১৬ ৫৯.৫৬ (১০০%) ১২৯ ৭০.৯৯ (১০০%) ১০৪ ৭০.৩৮ (১০০%) ১১৭ ৮২.৬২ (১০০%) ১৫০৬ ৭৬১.৭৯ (১০০%)

উৎস: ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংকের বার্ষিক প্রতিবেদন, ১৪২৪ হিঃ।

ইকুইটি ফাইন্যান্স: প্রতিষ্ঠার বছর হতে ব্যাংক এ পর্যন্ত এই খাতে ২৮.৪২ কোটি ইসলামী দীনার বিনিয়োগ করেছে। [সারণী-২ দ্রষ্টব্য]। সদস্য দেশসমূহের ননাবিধ প্রকল্পে এই অর্থ বিনিয়োজিত হয়েছে। প্রকল্পগুলোর অনেকগুলোই ইতিমধ্যে উৎপাদন শুরু করেছে। যেসব প্রকল্পে এই অর্থ বিনিয়োগ করা হয়েছে সেসবের মধ্যে রয়েছে সিমেন্ট কারখানা, সূতা ও কাপড়ের কল, বোর্ড ও কাগজের কল, পাইপ শিল্প, কাঠের আসবাব তৈরীর কারখানা, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা প্রভৃতি। ইকুইটি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ব্যাংক ডিভিডেনটড পেয়ে থাকে।

ইসতিসনা: ইসতিসনার অর্থ কেব্রতার সুনির্দিষ্ট স্পেসিফিকেশন বা ফরমায়েশ অনুযায়ী বিক্রেতা নির্ধারিত একটা সময়ের মধ্যে নির্দিষ্ট মূল্যে দ্রব্যসামগ্রী সরবরাহ করবে। পদ্ধতিটি চালু হয় ১৯৯৬ সালে। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল সদস্য দেশসমূহের মধ্যে মূলধনী পণ্যের বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি। বেসরকারী খাতে অবকাঠামো তৈরীর জন্যেও এটি ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। এ পর্যন্ত এখাতে ১২০.৫২ কোটি ইসলামী দীনার বরাদ্দ করা হয়েছে।

জাতীয় উন্নয়ন অর্থায়ন প্রতিষ্ঠানের সাথে সহযোগিতা: আইডিবি তহবিল বিনিয়োগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খাত হলো সদস্যসমূহের জাতীয় উন্নয়ন অর্থায়ন প্রতিষ্ঠানের সাথে যৌথভাবে অর্থ যোগান। শুরু হতেই এই পদ্ধতিতে সদস্য দেশসমসূহের নানা ধরনর প্রকল্পে ব্যাংক অংশ গ্রহণ করে আসছে। বিভিন্ন আরব দেশীয় তহবিল, আফ্রিকান উন্নয়ন ব্যাংক ও সদস্য দেশগুলোর সরকারেরসাথে যৌথভাবে অংশ গ্রহণ করে সামাজিক প্রয়োজনীয় গণউপযোগধর্মী প্রকল্পে ব্যাংক অর্থ বিনিয়োগ করছে। পরবর্তীকালে ১৯৯৩ সালে আইএমএফ ও বিশ্ব ব্যাংকের গ্রুপ বার্ষিক সভায় আইডিবি অংশ গ্রহণ করে এই পদ্ধতিতে বিনিয়োগ কর্মসূচী পুনর্বিন্যস্ত করে। এই কর্মসূচীর আতওতায় আইডিবি এ পর্যন্ত ২৫টি সদস্য দেশে মোট ১৮.৭৮ কোটি ইসলামী দীনার বিনিয়োগ অনুমোদন করেছে।

মুনাফার অংশীদারীত্ব: মুনাফার অংশীদারীত্বের ভিত্তিতে বিনিয়োগ আইডিবির অন্যতম কর্মসূচী। মাঝে কয়েক বছর ব্যাংক এই পদ্ধতিতে বিনিয়োগ স্থগিত রেখে ১৪২৪ হিজরী হতে পুনরায় বিনিায়োগ শুরু করেছে। ব্যাংক এ পর্যন্ত সাতটি প্রকল্পের মোট ৬.২৪ কোটি ইসলামী দীনার বিনিয়োগ করেছে। এর মধ্যে ১৪২৪ হিজরীতেই সংযুক্ত আরব আমীরাতের শারজাহতে আমীরাতে বাণিজ্যিক কমপ্লেক্স নির্মাণের জন্যে ব্যাংক ১.১৫ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করেছে।

কারিগরী সহায়তা: এই কর্মসূচীর অধীনে সদস্য দেশসমূহে কোন প্রকল্প গ্রহণের পূর্বে তার সম্ভাব্যতা নিরীক্ষা, জরীপ, গবেষণা, পরামর্শ বা উপদেশ গ্রহণ প্রভৃতি কাজের জন্যে অনুদান বা ঋণ অথবা আংশিক ঋণ বা আংশিক অনুদান উভয় আকারেই অর্থ সাহায্য করা হয়ে থাকে। প্রকল্প বাস্তবায়ন পর্যায়ের বিস্তারিত নকসা প্রস্তুত, উপদেষ্টা নিয়োগ প্রভৃতি কাজের জন্যেও করিগরী সহাযতা প্রদান করা হয়। প্রতিষ্ঠার বছর হতে ১৪২৪ হিজরী পর্যন্ত ব্যাংক ৩৯টি সদস্য দেশে এই ধরনের ৪৩২টি কার্যক্রমে সর্বমোট ১৩.২৩ কোটি ইসলামী দীনার প্রদান করেছে। শুধুমাত্র ১৪২৪ হিজরীতেই ২৪টি প্রকল্পে ৭২.০ লক্ষ ইসলামী দীনার অনুমোদন করা হয়েছে। এছাড়া বিশেষ বিবেচনায় ইউরোপে আলবেনিয়া ও মধ্য এশিয়ার পাঁচটি সদস্য দেশ আজারবাইজান, কিরঘিজিস্তান, তাজিকিস্তান কাজাখস্তান ও তুকর্কমেনিস্তানের ৮টি প্রকল্পে মোট ১৩.৬ লক্ষ ইসলামী দীনার (বা ১৮.৯ লক্ষ মার্কিন ডলার) মঞ্জুর করা হয়েছে।

এখানে উল্লেখ করা মোটেই অপ্রাসঙ্গিক হবে না যে, আইডিবি তার অনুসৃত নীতি, পদ্ধতি ও কর্মকৌশলের দ্বারা সদস্য দেশসমূহের তো বটেই, অসদস্য দেশের মুসলিম জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্যে অব্যাহত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সদস্য দেশসমূহের মধ্যে অগ্রাধিকার পেয়েছে স্বল্পোন্নত একুশটি দেশ। এসব দেশের মধ্যে রয়েছে আফগানিস্তান, ইয়েমেন, উগান্ডা, কমারো, গাম্বিয়া, গিনি, গিনি বিসাউ, জিবুতি, নাইজার, বারকিনা ফাসো, বাংলাদশ, বেনিন, মালদ্বীপ, মালি, মোজাম্বিক, মৌরিতানিয়া, শাদ, সেনেগাল, সিয়েরালিওন, সুদান ও সোমালিয়া। এসব দেশের কৃষির সম্প্রসারণ, শিল্পের বিকাশ, খনিজ সম্পদ আহরণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ, পরিবহন ও যাতায়াত, শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়ন, এবং গণ উযোগসমূহের স্থাপনা ও বিকাশের (বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিতরণ, পানি সরবরাহ, হাসপাতাল স্থাপন প্রভৃতি) ক্ষেত্রে ব্যাংক যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়েছে।

. খাতভিত্তিক অর্থায়ন

প্রকল্প অর্থায়নের ক্ষেত্রে ব্যাংক পূর্বে সামাজিক প্রয়োজনীয়তার উপর তেমন গুরুত্ব না দিয়ে প্রকল্পের মুনাফা যোগ্যতাকেই অধিক গুরুত্ব দিয়েছে। এর পরিবর্তন ঘটে ১৯৯৫ হতে। এই সালে Strategic Agenda for the Medium Term Financing গৃহীত হওয়ার পর হতে আইডিবি যেসব খাতকে গুরুত্ব অনুসারে অগ্রাধিকার প্রদান করেছে সেগুলো হলো: কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি আয়তনের শিল্প, সামাজিক খাত এবং পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন। আইডিবির অর্থায়নে সমাপ্ত ও চালু প্রকল্পগুলোকে পাঁচটি বড় ভাগে ভাগ করাযায়। যথা: (ক) কৃষি ও কৃষিভিত্তিক শিল্প (খ) শিল্প ও খনি, (গ) সামাজিক উন্নয়ন, (ঘ) পরিবহন ও যোগাযোগ এবং (ঙ) গণউপযোগ। সারণী-৩ হতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এসব খাতে বরাদ্দের বিবরণী জানা যাবে। নীচে এগুলোর সংক্ষিপ্ত বিশ্লেষণ দেওয়া হলো।


সারণী       

ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংকের সাধারণ কার্যক্রমে বিনিয়োগের চিত্র (১৪২৪১৪২৪ হি) (কোটি ইসলামী দীনার)

খাত/বছর ১৪২১ ১৪২২ ১৪২৩ ১৪২৪ ১৩৯৬-১৪২৪
  সংখ্যা পরিমাণ সংখ্যা পরিমাণ সংখ্যা পরিমাণ সংখ্যা পরিমাণ সংখ্যা পরিমাণ
কৃষি ও কৃষি শিল্প ১৬ ৩.৫০ (৫.৮৮%) ১৫ ৩.৯৫ (৫.৫৭%) ১৫ ১১.১২ ২৩ ১৩.৩৭ (১৬.১৯%) ৩১০ ১১৪.১৬ (১৪.৯৯%)
শিল্প ও খনি ৪.২০ (৫.৯৩%) ৩.৪০ (৪.৮৩%) ২.৭৮ (০.০৩%) ১০৪ ৬০.৬৩ (৭.৯৬%)
পরিবহন ও যোগাযোগ ১৪ ১২.১২ (২০.৪৬%) ২৩ ১৭৪.৪১ (২৪.৫৭%) ১৮ ১৫.৬২ (২২.২০%) ১৭ ১৭.৬৫ (২১.৩৬%) ২৬১ ১৪৩.২০ (১৮.৮০%)
সামাজিক উন্নয়ন ৫৩ ১৯.১৩ (৩২.১২%) ৪৮ ২১.৬০ (৩০.৪৩%) ৩৯ ২০.৭৭ (২৯.৫২%) ৩৮ ২১.৬০ (২৬.১৪%) ৪০৮ ১৭৭.৮২ (২৩.৩৪%)
গণউপযোগ ২১ ২২.১৪ (৩৭.১৭%) ১৮ ২০.৫৭ (২৮.৯৮%) ১৪ ১৫.০২ (২১,৩৫%) ২২ ২৮.১৯ (৩৪.১৩%) ২৬১ ২১৮.১৩ (২৮.৬৩%)
অন্যান্য ১২ ২.৬০ (৪.৩৬%) ১৪ ৩.২০ (৪.৫২%) ১৭ ৪.৪৩ (৬.৩০) ১৬ ১.৫২ (১.৮৪%) ১৬২ ৪৭.৮৪ (৬.২৮%)
মোট ১১৬ ৫৯.৫৬ (১০০%) ১২১ ৭০.৯৯ (১০০%) ১০৪ ৭০.৩৮ (১০০%) ১১৭ ৮২.৬২ (১০০%) ১৫০৬ ৭৬.৭৯ (১০০%)

উৎস: ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংকের বার্ষিক রিপোর্ট, ১৪২০ হিঃ

গণ উপযোগ: ব্যাংকের গৃহীত কর্মসূচী ও প্রকল্প অর্থায়নের পরিমাণের দিক হতে বর্তমানে এটি প্রথম স্থানে রয়েছে। এ খাতে গৃহীত কর্মসূচীর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো নিরাপদ সুপেয় পানি সরবরাহের ব্যবস্থা, নবায়নযোগ্য শক্তির বিকাশ, স্যানিটেশন সুবিধা সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন। পূর্বের তুলনায় ১৯৯৫ সাল হতে এ খাতে বরাদ্দ ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ পর্যন্ত মোট ২১৮.১৩ কোটি ইসলামী দীনার বরাদ্দ হয়েছে যা মোট বরাদ্দের ২৮.৬৩%।

সামাজি উন্নয়ন: শিক্ষা ও স্বাস্থ্য উন্নয়ন এ খাতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপখাত। কারিকুলাম উন্নয়ন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, পুস্তুক প্রকাশনা, স্কুলের পাঠ সহাযক উপকরণ সংগ্রহ, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার সুবিধা প্রদান প্রভৃতি খাতে ব্যাংক আর্থিক সহযোগিতা দিয়ে চলেছে। এ জন্যে এ যাবৎ মোট ১৭৭.৮২ কোটি ইসলামী দীনার বরাদ্দ হয়েছে যা মোট বরাদ্দের ২৩.৩৪%। বিগত চার বছরে এর অবস্থান দ্বিতীয় হলেও এর গড় অবস্থান হ্রাস পেয়েছে পূর্ববর্তী বছরগুলোতে এই ধরনের গুরুত্ব প্রদান না করার কারণে।

কৃষি কৃষিভিত্তিক শিল্প: এ খাতে ব্যাংকের অর্থায়নের মুল লক্ষ্য হলো সদস্র দেশসমূহের কৃষি ব্যবস্থার উন্নয়নের সাথে সাথে খাদ্য সংকট মুকাবিলা করা এবং খাদ্যে স্বনির্ভর হতে সাহায্য করা। কৃষি খাতে অধিকতর কর্মসংস্থানের পাশাপাশি দারিদ্র্য বিমোচন ও কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তুলতে সাহায্য প্রদানের উদ্দেশ্য এযাবৎ ১১৪.১৬% কোটি ইসলামী দীনার বরাদ্দ করা হয়েছে। মোট প্রকল্প বরাদ্দের মধ্যে এই পরিমাণ ১৪.৯৯%। গুরুত্বের দিক দিয়ে গত ৩/৪ বছর ধরে খাতটি তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে।

শিল্প খনি: এক্ষেত্রে আইডিবির কৌশল হলো ক্ষুদ্র ও মাঝারি আকারে উদ্যোক্তাদের সহায়তার মাধ্যমে সদস্য দেশসমূহের শিল্পের ভিত মজবুত ও সম্প্রসারণ করা। সদস্য দেশের সরকারী ফাইন্যান্সিং প্রতিষ্ঠানসমূহের মাধ্যমেই ক্ষুদ্র ও মাঝারী উদ্যোক্তাদের সহায়তা করার পাশাপাশি ইজারার মাধ্যমেও প্রকল্প বাস্তবায়নে সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে। খনিজ সম্পদ উত্তোলন এবং খনিভিত্তিক শিল্প (যেমন পেট্রোলিয়াম পরিশোধন প্লান্ট, খনিজ সার) স্থানও এই ফাইন্যান্সিংয়ের অন্যতম উদ্দেশ্য। ব্যাংকের পুঞ্জীভূত মোট বরাদেরদর মধ্যে এ খাতের অংশ ৬০.৬৩ কোটি ইসলামী দীনার বা ৭.৯৬%। সারণী-৩ হতে দেখা যাবে বিভিন্ন বছরে এই খাতের গুরুত্বের অবস্থান পরিবর্তিত হয়েছে।

পরিবহন যোগাযোগ: পরিবহনই সভ্যতা। উপরন্তু বিশ্বায়ন ও বাণিজ্যিক উদারীকরণের ধাক্কা লেগেছে আইডিবির সদস্য দেশগুলোতেও। বাণিজ্য সম্প্রসারণেল জন্যে তাদের চাই প্রশস্ত ও দীর্ঘ আধুনিক সড়ক, উন্‌নত পোশ্রয়, মালবাহী জাহাজ, রেলগাড়ী এবং বিমান। চাই ছোট শহর হতে রাজধানী এবং শিল্প এলাকা ও বন্দরের সাথে দ্রুত ও নিরাপদ পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা। তাই আইডিবি এ খাতের উন্নয়নের জন্যে বড় ধরনের অর্থ বরাদ্দ করবে এতে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই। প্রশস্ত দীর্ঘ রাস্তা তৈরীর পাশাপাশি বন্দর উন্নয়ন, বিশেষতঃ মালামাল উঠানামা, নিরাপদ নৌপরিবহনের আধুনিক উপায়-উপকরণ সংগ্রহ প্রভৃতি এ ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব লাভ করেছে। এসব কাজে এযাবৎ মোট ১৪৩.২০ কোটি ইসলামী দীনার ব্যবহৃত হয়েছে মোট বরাদ্দে যার অংশ ১৮.৮০%।

অন্যান্য: পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে নতুন প্রতিষ্ঠিত ইসলামী ব্যাংকসমূহকে তাদের প্রকল্প অর্থায়নে সংকট মোচনের ও বিভিন্ন দেশে যেসব ফাইন্যান্সিং প্রতিষ্ঠান শরীয়াহভিত্তিক বিনিয়োগ আগ্রহী তাদের বিশেষ প্রয়োজন পূরণের জন্যে ব্যাংক এ পর্যন্ত ৪৭.৮৪ কোটি ইসলামী দীনার (৬.২৮%) বরাদ্দ করেছে।

. বাণিজ্যিক কার্যক্রম

আমদানী বাণিজ্যে অর্থায়ন: সদস্য দেশসমূহের আমদানী বাণিজ্যে সহায়তার জন্যে এই কর্মসূচীটি শুরু হয় ১৯৭৭ সাল (১৩৯৭ হিজরী) হতে। পূর্বে এর নাম ছিল Foreign Trade Financing Operations। এর নতুন নামকরণ হয়েছে Import Trade Financing Operations (ITFO)। ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক এ পর্যন্ত এ প্রকল্পে ১,৬৮১.০ কোটি মার্কিন ডলার সহায়তা করেছে। যেসব পণ্যসামগ্রী আমদানীতে এই আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে সেগুলো হচ্ছে: অপরশোধিত তেল, পরিশোধিত পেট্রোলিয়ামজাত দ্রব্য, ইউরিয়া সার, সিমেন্ট, গন্ধক, পাথুরে ফসফেট , ভোজ্য তেল, কাগজ ও মণ্ড, চিনি, জিপসাম, পাটজাত দ্রব্য, তুলা, সূর্যমুখীর বীজ, আকরিক সীসা, বিভিন্ন মধ্যবর্তী শিল্পজাত সামগ্রী, আকরিক লোহা, এ্যামোনিয়া, তামা, বাইসাইকেল, প্লাইউড, রবার, পেট্রোকেমিক্যাল, এ্যালুমিনিয়াম, কেওলিন প্রভৃতি। তেলসমৃদ্ধ ধনী সদস্য দেশ ছাড়া অন্যান্য সকলেই এই স্কীমের আওতায় বৈদেশিক মুদ্রার আকারে আর্থিক সহযোগিতা গ্রহণ করেছে।

রপ্তানী অর্থায়ন কার্যক্রম: এই বিশেষ কর্মসূচীটি শুরু হয় ১৯৮৭ সাল (১৪০৭ হিজরী) হতে। পূর্বে এর নাম ছিল Longer Term Trade Financing Scheme। এর নতুন নামকরণ হয়েছে Export Financing Scheme (EFS)। অপ্রচলিত পণ্য ও মূলধনী পণ্যের ক্রয়-বিক্রয়ে সহযোগিতা করাই এর মুখ্য উদ্দেশ্য। এক্ষেত্রে আমদানী ও রফতানীকারী উভয় দেশকে অবশ্যই ইসরামী উন্নয়ন ব্যাংক ও ইসলামী সম্মেলন সংস্থার সদস্য হতে হবে। এ পর্যন্ত ২৩টি সদস্য দেশ এই স্কীমে যোগ দিয়েছে। এসব দেশের মধ্যে রয়েছে সউদী আরব, মালয়েশিয়া, তিউনিসিয়া, কুয়েত, তুরস্ক প্রভৃতি। যেসব পণ্য ও মূলধনী সামগ্রী দীর্ঘ মেয়াদে মুল্য পরিশোধের ভিত্তিতে ক্রয়-বিক্রয় হয়েছে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে টেলিফোন কেবল, প্লাইউড, টায়ার, ক্যালসিয়া কার্বনেট, পাম তেল, এ্যালুমিনিয়াম কন্ডাকটর, রোলিং মিল মেশিনারী ও সরঞ্জাম ইত্যাদি। এই কর্মসূচীতে এ পর্যন্ত সর্বমোট ১২৩.৩১ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

. মুনাফা

এই আন্তর্জাতিক ব্যাংকটির যাবতীয় কার্যক্রম সুদবিহীন। সেহেতু যে প্রধান ছয়টি উপায়ে ব্যাংক তার পরিচালনা ও অন্যান্য ব্যয় নির্বাহের জন্যে অর্থ উপার্জন করে থাকে সেগুলো উল্লেখের দাবী রাখে। এগুলো যথাক্রমে:-

১. বৈদেশিক বাণিজ্যিক কার্যক্রম অংশগ্রহণ হতে আয়;

২. প্রকল্প ফাইন্যান্সের জন্যে সার্ভিস চার্জ;

৩. সদস্য দেশসমূহে ইকুইটি ফাইন্যান্সিং হতে আয়;

৪. ইজারা হতে আয়;

৫. যৌথ অর্থায়ন হতে আয়; এবং

৬. কারিগরী সহায়তার জন্যে সার্ভিস চার্জ।

এসব উপায় বা পদ্ধতি ব্যবহার করে গৃহীত কার্যক্রমের মাধ্যমে ১৪১৫ হি. হতে ১৪২৪ হিজরী পর্যন্ত ব্যাংক যে মুনাফা অর্জন করেছে তার একটা তুলনামূলক চিত্র সারণী-৪ হতে পাওয়া যাবে। মুনাফঅ নির্ধারণের ক্ষেত্রে ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক নিয়ম অনুযায়ী মোট আয় হতে প্রশাসনিক ও পরিচালা ব্যয় এবং স্থির সম্পদে অপচয় বাদ দেওয়া ছাড়াও ইকুইটি বিনিয়োগের মূলধন মান স্থির রাখার জন্যে ১৪০৩ হিজরী হতে ১৪১১ হিজরী পর্যন্ত বিভিন্ন বছরে ন্যূনতম ২০ লক্ষ হতে সর্বোচ্চ ১ কোটি ৫০ লক্ষ ইসলামী দীনার আলাদা করে রেখেছে। অবশ্য ১৪১২ হতে ১৪১৫ হিজরী সালে এই ধরনের আলাদা অর্থ রাখা হয়নি। এ যাবৎ এই অর্থের মোট পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯.৫৫ কোটি ইসলামী দীনার। সদস্য দেশসমূহের প্রতিকূল অর্থনৈতিক অবস্থা, মুদ্রার অবমূল্যায়ন, অর্থনৈতিক মন্দা ইত্যাদি কারণে ইকুইটি অর্থের যে মান হ্রাস পায় তা পূরণ ও সম্ভাব্য লোকসান পুষিয়ে নেওয়অর জন্যে এই ব্যবস্থা। এই অর্থ হতে আদৌ আদায় হওয়ার সম্ভাবনা নেই এমন মোট ২.৩৯ কোটি ইসলামী দীনারের ইকুইটি অবলোপন করা হয়েছে।

এই সারণী হতে দেখা যাবে গত দশ বছরে ব্যাংকটির মুনাফার পরিমাণে হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটেছে। তবে খুব বড় ধরনের পরিবর্তন নেই। অবচয় ও প্রভিশন খাতে যে অর্থ রাখা হয়েছে তা সন্তোষজনক। তবে হঠাৎ করে ১৪২৪ হিজরীতে রাখা অবচয় ও প্রভিশনের অংক চোখে পড়ার মতো। এর কারণ হলো বিশ্বব্যাপী মুদ্রার অবমূল্যায়ন ও বিনিময় হারের অস্থিরতার জন্যে এ বছরে আইডিবির বিনিময়জনিত ক্ষতি (Exchange Loss) হয়েছে ২৯০ লক্ষ ইসলামী দীনার। প্রভিশনের সঙ্গে এই অর্থ যুক্ত করে দেখানো হয়েছে।

সারণী

ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংকের মুনাফার বিবরণ: ১৪১৫ হি১৪২৪ হি. (লক্ষ ইসলামী দীনার)

বছর আয় ব্যয় অবচয় ও প্রভিশন মুনাফা
১৪১৫ ১০২০ ২৫০ ১১০ ৬৬০
১৪১৬ ৯৬০ ২৬০ ১১০ ৫৯০
১৪১‘৭ ১০৯০ ৩১০ ১০০ ৬৮০
১৪১৮ ১১২০ ৩৫০ ১৮০ ৫৯০
১৪১৯ ১৩৬০ ৩৭০ ২৩০ ৭৬০
১৪২০ ১৪০০ ৪০০ ২৮০ ৭২০
১৪২১ ১৫১০ ৪৪০ ২৯০ ৭৮০
১৪২২ ১৭১০ ৫৩০ ৪৫০ ৭৩০
১৪২৩ ১৬১০ ৪৯০ ৩৯০ ৭৩০
১৪২৪ ২২২০ ৫৩০ ১১০০ ৫৯০

উৎস: ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংকের বার্ষিক প্রতিবেদনসমূহ

. ওয়াকফ তহবিল কার্যক্রম

আইডিবির সদস্যভুক্ত দেশসমূহের মধ্যে বেশ কয়েকটি দেশ রয়েছে যাদের জনসাধারণ দারিদ্র্য সীমার নীচে বাস করে। তাদের মাথাপিছু আয়ও বিশেষ সর্বনিম্ন সেসব দেশের জনসাধারণের ভাগ্য উন্নয়নের জন্যে সরকারের গৃহীত নানা উন্নয়নমুখী কর্মসূচীতে এই ব্যাংক বিশেষ সাহায্যের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। ব্যাংকের বোর্ড অব গভর্নরস কর্তৃক ১৩৯৯ হিজরীতে গৃহীত েএক সিদ্ধান্ত অনুসারে তলবী ও আমানতের হিসাব খাত থেকে প্রাপ্ত আয় দিয়ে বি্যেশ্যষ সহায়তা তহবিল (Special Assistance Account) নামে একটি পৃথক তহবিল গঠিত হয়। পরবর্তীতে ১৪১৭ হিজরীতে এর নাম পরিবর্তন করে ওয়াকফ ফান্ড রাখা হয়। এই তহবিল গঠনের উদ্দেশ্য হলো:

১. সদস্য দেশসমূহের অর্থনীতি, ফাইন্যান্স ও ব্যাংকিং কার্যক্রমকে শরীয়াহর সাথে সঙ্গতিপূরণ করার উদ্দেশ্যে প্রশিক্ষণ ও গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা;

২. সদস্য দেশসমূহকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বিপর্যয়ে সহায়তা প্রদান;

৩. ইসলামী জীবনাদর্শ বাস্তবায়ন ও বিকাশে সহযোগিতা করা; এবং

৪. স্বল্পোন্নত সদস্য দেশসমূহকে বিশেষ টেকনিক্যাল সহযোগিতা প্রদান।

এই তহবিলের অর্থ হতে ব্যাংকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ইসলামী গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউট (IRTI) পরিচালিত হচ্ছে। আনন্দের কথা, প্রতি বছরই তহবিলের পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। বৃদ্ধি পাচ্ছে কর্মকাণ্ডও। উদাহরণস্বরূপ, ১৪০৯ হিজরীতে এই তহবিলের পরিমাণ ছিল ৬৭.৭৪ কোটি ইসলামী দীনার। পরবর্তী বছরে তা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় ৭২.৮১ কোটিতে। ১৪১৯ হিজরীতে এই তহবিলের পরিমাণ ছিল ৮৯.৪০ কোটি ইসলামী দীনার।

সদস্য দেশসমূহের যেসব ক্ষেত্রে বিশেষ সহায়তা প্রয়োজন কিন্তু বিধিবদ্ধ খাত হতে অর্থ মঞ্জুরী দেওয়া সম্ভব নয় সেসব ক্ষেত্রে এই তহবিল হতে অর্থ সাহায্য করার বিধান রয়েছে। উপরন্তু অ-মুসলিম দেশের মুসলিম জনসাধারণের শিক্ষা ও উন্নয়নের জন্যেও এই তহবিলহতে সাহায্য করা হয়। ১৩৯৯ হিজরীতে (১৯৭৯) প্রতিষ্ঠার পর হতে এ পর্যন্ত ১০১৭টি প্রকল্পে ৫৬.৫৫ কোটি মার্কিন ডলার সাহায্য অনুমোদন করা হয়েছে। এর মধ্যে সদস্য দেশসমূহের মুসলমানদের জন্যে ৬৪৩ কোটি মার্কিন ডলার মঞ্জুর করা হয়েছে। অমুসলিম দেশসমূহের মুসলমানদের জন্যে ৬৪৩টি প্রকল্প বরাদ্দ করা হয়েছে ১৯.৫৩ কোটি মার্কিন ডলার।

অমুসলিম দেশসমূহের মধ্যে সবচেয়ে বেশী মুসলমান বাস করে ভারতে, প্রায় বারো কোটি। তাদের সহায়তার জন্যে, বিশেষতঃ বেকার ও মেধাবী তরুণ-তরুণীদের জন্যে বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ ও সাধারণ শিক্ষা লাভের সুবিধার্থে আইডিবি ১৪০৫ হিজরীতে ৩.০ কোটি মার্কিন ডলারের একটি বিশেষ বরাদ্দ মঞ্জুর করে। এই বরাদ্দ হতে প্রতি বছর সুনির্দিষ্ট ও বাছাইকৃত প্রকল্পে সাহায্য করছে ব্যাংক। এযাবৎ ভারতীয় মুসলিমদের শিক্ষা ও বৃত্তিমূলক কর্মকাণ্ডে সাহায্যের জন্যে এ তহবিল হতে সর্বমোট ১৭০টি প্রকল্পে ২.৯৯ লক্ষ মার্কিন ডলার বরাদ্দ করা হয়েছে। উপরন্তু এগারোটি অমুসলিম দেশের সংখ্যালঘু মুসলমানদের ইসলামী শিক্ষা ও আরবী ভাষার চর্চার সুবিধার জন্যে ২৩টি বিশেষ প্রকল্পে ৫৫.৯০ লক্ষ মার্কিন ডলার সহায়তা মঞ্জুর করা হয়েছে। এসব দেশের মধ্যে রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ আফ্রিকা, গণচীন, বুরুন্ডি, ইথিওপিয়া প্রভৃতি। পাকিস্তানে আগত আফগান মুহাজিরদের জন্যে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পুনর্বাসন কর্মসূচীতে ব্যাংকের সহযোগিতা সবিশেষ উল্লেখের দাবী রাখে।

স্কলারশীপ স্কীম: আইডিবি অমুসলিম দেশসমূহে বিশেষ করে পূর্ব ইউরোপীয় দেশ, বিলুপ্ত সোভিয়েত রাশিয়ার মুসলিম দেশ এবং আফ্রিকার মুসলিম অধ্যুষিত অসদস্য দেশসমূহের মেধাবী মুসলম ছাত্র-ছাত্রীদের বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে উচ্চ শিক্ষা ও পেশাদারী প্রশিক্ষণ লাভের সুবিধার্থে ১৯৮৩ সাল (১৪০৪ হিজরী) হতে স্কলারশীপ স্কীম চালু করেছে। মুসলিম ছাত্র-ছাত্রীরা তাদরে দেশেরেই খ্যাতিসম্পন্ন নির্বাচিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অথবা আইডিবির সদস্য দেশসমূহের নির্বাচিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উচ্চ শিক্ষার জন্যে এই স্কলারশীপ ভোগ করতে পারবে। এই অর্থ করযে হাসানা আকারে প্রদত্ত হয়। শিক্ষা জীবন শেষে ছাত্র-ছাত্রীরা কর্মজীবনে প্রবেশ করে ক্রমে ক্রমে এই অর্থ পরিশোধ করবে। শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ দেশে আইডিবি সৃষ্ট ওয়াকফ তহবিলে এ অর্থ জমা দেবে এবং তা থেকে পুনরায় মেধাবী ছাত্র/ছাত্রীদের বৃত্তি মঞ্জুর করা হবে। স্বল্পোন্নত সদস্য দেশসমূহেও এ ব্যবস্থা চালু হয়েছে। বাংলাদেশ ইতিমধ্যেই এই সুবিধা ভোগ করছে। চিকিৎসা, প্রকৌশল, কৃষি, পশুপালন, ফার্মেসী, হিসাববিজ্ঞান, ফাইন্যান্স, অর্থনীতি প্রভৃতি ক্ষেত্রে উচ্চ শিক্ষা ও পেশাদারী প্রশিক্ষণ লাভের জন্যে এই সুযোগ রয়েছে। এ পর্যন্ত ৫১টি দেশের ৬,৮২৭ জন মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীকে এই কর্মসূচীর আওতায় স্কলারশীপ প্রদান করা হয়েছে যার পরিমাণ ৫.০৫ কোটি মার্কিন ডলারেও বেশী।

সদস্য দেশসমূহে উচ্চতর প্রযুক্তি ও বৈজ্ঞানিক প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণের জন্যে ১৪০৯ হিজরী হতে আইডিবি হাই টেকনোলজিতে তিন বছর মেয়াদী পি-এইচ.ডি. ডিগ্রী ও একবছর মেয়াদী পোষ্ট ডক্টরাল গবেষণার জন্যে স্কলারশীপ প্রবর্তনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। ১৯৯৩ সালে (১৪১৩ হিজরী) হতে স্কীমটি চালু হয়। প্রথম পর্যায়ে ৫ বছরের জন্যে প্রকল্পটি গৃহীত হলেও মেয়াদ শেষে এটি ‍পুনরায় ৭ বছরের জন্যে সম্প্রসারিত করা হয়েছে। স্বল্পোন্নত সদস্য দেশসমূহের মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের জন্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে এম.এস-সি. ডিগ্রী অর্জনের সুবিধার্থে ১৯৯৮ খ্রিস্টাব্দ (১৪১৯ হিজরী) হতে আলাদা বৃত্তি কর্মসূচী চালু করেছে আইডিবি।

এনজিও মহিলা উন্নয়ন: ওয়াকফ তহবিলের আওতায় নতুন এই দুটি কর্মসূচীর কাজ শুরু হয় যথাক্রমে ১৪১৮ ও ১৪১৯ হিজরী হতে। সদস্য দেশসমূহের ইসলামী এনজিওসমূহ ও মহিলাদের উন্নয়নের জন্যে দারিদ্র্য বিমোচন কর্মসূচী বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে তৃণমূল পর্যায়ে প্রশিক্ষণ ও সামর্থ্য সৃষ্টির উদ্দেশ্যে এই কর্মসূচীর আওতায় এযাবৎ ২৪টি প্রকল্পে ছয় লক্ষ ডলার ব্যয়িত হয়েছে।

কল্যাণধর্মী কর্মসূচী: এই কর্মসূচীর আওতায় সউদী আরবে প্রতি বছর হজ্জ মৌসুমে যে লক্ষ লক্ষ পশু কুরবানী হয় সেসব বিশেষ প্রক্রিয়ায় হিমাগারে সংরক্ষণ করে স্বল্পোন্নত ও দুর্ভিক্ষপীড়িত সদস্য দেশসমূহে বিতরণের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পূর্বে কুরবানীকৃত লক্ষ লক্ষ পশু বুলডোজার দিয়ে বালির নীচে পুঁতে ফেলা হত। কিন্তু মুসলিম উম্মাহর প্রয়োজন, বিশেষ করে স্বল্পোন্নত সদস্য দেশগুলোর জনগণের পুষ্টির কথা বিবেচনা করে ১৯৮৩ সাল (১৪০৩ হি) হতে এই কর্মসূচূ গৃহীত হয়। এ পর্যন্ত ব্যাংক এই কর্মসূচীর আওতায় এক কোটি চল্লিশ লক্ষেরও বেশি ভেড়া ও উটের গোশত স্বল্পোন্নত সদস্য দেশ ও অমুসলিম দেমের দরিদ্র মুসলিম জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছে দিয়েছে।

. বিনিয়োগ রপ্তানী ঋণের বীমা

আইডিবির অপর অন্যতম অঙ্গসংস্থা বিনিয়োগ ও রপ্তানী ঋণের ইসলামী বীমা কর্পোরেশন (Islamic Corporation for the Insurance of Investment and Export Credit (ICIEC))। সদস্য দেশসমূহের রপ্তানী বৃদ্ধি ও রপ্তানীতে বিনিয়োজিত অর্থের বীমা করার উদ্দেশ্যেই ১৯৯৪ সালে (১৪১৫ হিজরী) প্রতিষ্ঠানটি স্থাপিত হয়। আইডিবির প্রেসিডেন্ট পদাধিকার বলে এই কর্পোরেশনেরও প্রেসিডেন্ট। এর অনুমোদিত মূলধনের পরিমাণ দশ কোটি ইসলামী দীনার। আইডিবি এর ৫০% পরিশোধ করেছে, বাকী ৫০% পরিশোধ করেছে তেইশটি দেশ। প্রতিষ্ঠানটি ১৯৯৫ সালের জুলাই হতে শরীয়াহ নীতিমালার আলোকে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বৈদেশিক মুদ্রা বিনিয়োগ ঝুঁকি, যুদ্ধ, চুক্তি সম্পাদনকারী সরকারের সম্ভাব্য ওয়াদা খেলাপ, রাজনৈতিক গোলযোগ ইত্যাদির বিপরীতেও বিনিয়োগ বীমা স্কীম চালু করেছে।

. বেসরকারী খাত উন্নয়নের বিশেষ পদক্ষেপ

. আইসিডি (ICD) : আইডিবির বোর্ড অব গভর্ণরসের ২৫তম বার্ষিক সভায় (১৪২০ হিজরী) সদস্যদেশগুলোর বেসরকারী খাতের উন্নয়নের জন্যে ‘ইসলামী কর্পোরেশন ফর দি ডেভেলপমেন্ট অব প্রাইভেট সেক্টর’ নামে আরেকটি অঙ্গসংস্থা তৈরী হয়েছে। স্বতন্ত্র ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এটি পরিচালিত হবে তবে আইডিবির প্রেসিডেন্টই এই কর্পোরেশনের প্রেসিডেন্ট হবেন। এর অনুমোদিত মূলধনের পরিমাণ ’ ১০০ কোটি ডলার। আইডিবি মূলধনের ৫০% পরিশোধ করবে। সদস্য দেশগুলো মূলধনের ২০% শেয়ার ক্রয় করবে। বাকী ২০% ক্রয় করবে সদস্য দেশগুলোর সরকারী সংস্থাসমূহ। এই উদ্যোগের ফলে সদস্য দেশগুলোর বহুমুখী উন্নয়নে সরকারী খাতের পাশাপাশি বেসরকারী খাতেওএখন আইডিবির অংশগ্রহণ নিশ্চিত হলো।

. ওয়ার্লড ওয়াকফ ফাউন্ডেশন (WWF): বিশ্বব্যাপী ওয়াকফ কার্যক্রম পরিচালনা ও দানশীল ব্যক্তিদের দান গ্রহণের উদ্দেশ্যে এই তহবিল গঠিত হয়েছে ১৪২২ হিজরীতে (সেপ্টেম্বর ২০০১)। যে কেউ এই তহবিলে দশ লক্ষ মার্কিন ডলার দান করে এর সদস্য হতে পারেন। আইডিবি নিজেও এই তহবিলে প্রারম্ভিক মূলধন হিসেবে ২.৫০ কোটি মার্কিন ডলার দান করেছে। আইডিবির প্রেসিডেন্ট পদাধিকার বলে এই ফাউন্ডেশনেরও প্রেসিডেন্ট। সদস্য দেশসমূহের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে অর্থবহ উন্নয়নের জন্যে এই ফাউন্ডেশন কাজ করে যাবে।

. আওফাফ প্রোপার্টি ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড (APIF): ইসলামের বিশেষ ঐতিহ্য হিসাবে ওয়াকফের পুনর্জীবন ও আওকাফের ভূমিকা উন্নয়ন এবং সদস্য ও অসদস্য দেশসমূহের ওয়াকফঠকৃত স্থাপর সম্পত্তির ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি মুসলিম উম্মাহর সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নের উদ্দেশ্যে ১৪১৮ হিজরীতে এই তহবিল গঠিত হয়। আইডিবি ইতিমধ্যেই এই তহবিলে ৫.০ কোটি মার্কিন ডলার প্রদান করেছে এবং সদস্যরা ৫.৫ কোটি মার্কিন ডলারের মূলধন পরিশোধের অঙ্গীকার করেছে।

. ইসলামী ব্যাংক প্রত্ঠিা

বিশ্বের বিভিন্ন মুসলিম দেশে ইসলামী ব্যাংক প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক ও প্রত্যক্ষ বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখেছে। যে সমস্ত ইসলামী ব্যাংকের মূলধনের অংশ বিশেষ সরবরাহসহ বিভিন্ন পরামর্শ ও করিগরী জ্ঞান দিয়ে এই আন্তর্জাতিক ব্যাংকটি সহায়তা করেছে সেগুলো হচ্ছে:

১. দুবাই ইসলামী ব্যাংকের গৃহায়ণ প্রকল্পের জন্যে ৪২.৭০ লক্ষ ইসলামী দীনার মঞ্জুর করেছে; ২. বাহরাইন ইসলামী ব্যাংকের মোট শেয়ারের ১৫% আই.ডি.বি. কিনে নিয়েছে যার অর্থ মূল্য ৩০.৫ লক্ষ ইসলামী দীনার; ৩. ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের মোট পরিশোধিত মূলধনের ৭.৫% প্রদান করেছে; ৪. গাম্বিয়ার ইসলামী ব্যাংকের মোট পরিশোধিত মূলধনের ৭.৫% প্রদান করেছে।

এছাড়া মিশরের ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ব্যাংক ফর ইনভেস্টমেন্ট এ্যাণ্ড ডেভেলপমেন্ট, জর্দান ইসলামিক ব্যাংক ফর ফাইন্যান্স এ্যাণ্ড ইনভেস্টমেন্ট, কুয়েত ফাইন্যান্স হাউস, ফয়সাল ইসলামী ব্যাংক (সুদান এবং মিশর), ব্যাংক ইসলামিক দ্য নাইজার, ব্যাংক ইসলমিক দ্য সুদান এবং ব্যাংক ইসলামিক দ্য গিনি প্রভৃতিতির প্রতিষ্ঠালগ্নে কারিগরী পরামর্শ ও নানাবিধ সহায়তা প্রদান করেছে ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক। এই ব্যাংকের সাফল্য ও কার্যকারিতা অন্যান্য দেশেও ইসলামী ব্যাংক প্রতিষ্ঠার জন্যে অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবেও কাজ করেছে।

উপরন্তু বিশ্বব্যাপী ইসলামী ব্যাংক ও ইসলামী ফাইন্যান্সিয়াল প্রতিষ্ঠানসমূহের বিকাশ, শরীয়াহ পরিপালন, হিসাব নিরীক্ষণ ও রেটিং নির্ধারণ ইত্যাদি উদ্দেশ্যে ইতিমধ্যেই আইডিবি যেসব প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছে সেগুলোর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হলো: Auditing and Accounting Organization for Islamic Financial Institutions (AAOIFI). Islamic Financial Services Board (IFSB). International Islamic Financial Market (IIFM), Liquidity Management Centre (LMC), International Islamic Rating Agency (IIRA), General Council for Islamic Banks and Financial Institutions (GCIBFI).।

. আই আর টি আই

আইডিবির নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনাধীন ইসলামী গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (Islamic Research and Training Instituion বা আই. আর. টি. আই.) সম্বন্ধে আলোকপাত না করলে এই আলোচনা অসম্পূর্ন রয়ে যাবে। প্রতিষ্ঠার পর হতেই আইডিবি সদস্য দেশগুলোর উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সহযোগিতার পাশাপাশি তাদের দেশে দক্ষ ইসলামী জনশক্তি গড়ে তোলা এবং ইসলামী অর্থনীতির চ র্চা-চিন্তার সম্প্রসারণ ঘটানোও জরুরী বলে বিবেচনা করে। এই দায়িত্ব পালনের জন্যেই ১৪০১ হিজরীতে আই.আর.টি.আই.-এর প্রতিষ্ঠা। ইন্সটিটিউটটি পাঁচটি ক্ষেত্রে অব্যাহত তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। এসব তৎ]পরতা ও উদ্যোগ আইডিবির তহবিল বিনিয়োগ ও ব্যবহারের জন্যে নতুন কর্মকৌশল উদ্ভাবন ও মুসলিম উম্মাহর মধ্যে সহযোগিতার কাজে প্রভূত সহায়তা করছে। অন্যদিকে ইসলামী অর্থনীতি, ফাইন্যান্স ও ব্যাংকিং সম্বন্ধে উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা ও পরিচালকদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দানের পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী ইসলামের কালজয়ী জীবনাদর্শ সম্প্রসারণেও সহায়তা করছে।

. ওয়ার্কশপ: আইআরটিআই এযাবৎ পঞ্চাশটিরও বেশী সফল ওয়ার্কশপ পরিচালনা করেছে। জেদ্দার সদস দপ্তরে ছাড়াও সদস্য দেশসমূহের রাজধানীতে ইসলামী ব্যাংক ও বীমা ব্যবস্থা পরিচালনা, ইসলামী ফাইন্যান্স বিষয়ক কৌশল উদ্ভাবন, ওয়াকফ সম্পত্তি পরিচালনা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে সফলভাবে অংশ গ্রহণ প্রভৃতি বিষয়ে এসব ওয়ার্কশপ বা কর্মশালা সংঘটিত হয়েছে।

. সেমিনার: ইনস্টিটিউটটি সদস্য দেশগুলোর অর্থ ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, কেন্দ্রীয় ব্যাংক, আগ্রহী বিশ্ববিদ্যালয় ও অর্থনৈতিক গবেষণা ইনস্টিটিউটসমূহের সাথে যৌথ উদ্যোগে ‍নিয়মিতভাবে ইসলামী অর্থনীতির গঠন-পাঠন, যাকাতরে ব্যবস্থাপনা, ওয়াকফ প্রশাসন ও ভূমি সংস্কার, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, সরকারী অর্থব্যবস্থা, মানব সম্পদ উন্নয়ন, ইসলামী ফাইন্যান্সিয়াল ইন্সট্রুমেন্টস তৈরী, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, ইসলামী কমন মার্কেট প্রভৃতি বিষয়ে তথ্যবহুল ও দিক-নির্দেশনামূলক সেমিনার ও কনফারেন্সের আয়োজন করছে।

. গবেষণা পুরষ্কার: আইআরটিআই নিজস্ব তত্ত্বাবধানে অর্থনীতিতে আধুনিক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত উচ্চতর যোগ্যতাসম্পন্ন মুসলিম গবেষককদের দ্বারা ইসলামী অর্থনীতি, ফাইন্যান্স ও ব্যাংকিং-এর নির্বাচিত সমস্যা সম্বন্ধে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে। মুসলিম-অমুসলিম নির্বিশেষে যোগ্য গবেষকদেরও এ ব্যাপারে গবেষণা চালিয়ে যাবার জন্যে উৎসাহিত করে আসছে এবং প্রয়োজনীয় আর্থিক সহযোগিতা দিচ্ছে। ইন্সটিটিউট সম্প্রতি অর্থনীতি ও ব্যাংকিং ক্ষেত্রে মুসলিম বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্ব ও প্রখ্যাত গবেষকদরে আমন্ত্রণমূলক বক্তৃতামালার কর্মসূচীও চালু করেছে।

আইডিবি আইআরটিআই-এর সহযোগিতায় ১৪০৮ হিজরী (১৯৮৮) হতে ‘ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক পুরষ্কার’ নামে ইসলামী অর্থনীতি ও ব্যাংকিং এর উপর আন্তর্জাতিক পুরষ্কার প্রদানের প্রথা চালু করেছে। ইসলামী অর্থনীতির চর্চা, প্রচার ও প্রসার, গবেণা ও প্রশিক্ষণ এবং ইসলামী ব্যাংক ‍ও বিনিয়োগ সংস্থা প্রতিষ্ঠয় যাঁদের মেধা, শ্রম ও সাংগঠনিক অবদান অসাধারণ তাঁদের কাজের স্বীকৃতি ও সম্মাননা জানাবার জন্যে এই পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। একক ও যুগ্ম উভয়ভাবেই পুরষ্কার দেওয়া হয়। পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে স্ব স্ব ক্ষেত্রে তাদের অবদানের উল্লেখসহ সনদপত্র ও নগদ ত্রিশ হাজার ইসলামী দীনার (প্রায় চল্লিশ হাজার মার্কিন ডলার সমান) প্রদান করা হয়। এ পর্যন্ত যাঁরা এই আন্তর্জাতিক মর্যাদাসম্পন্ন পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন সারণী-৫ হতে তাঁদের নাম জানা যাবে।

. প্রকাশনা: বিভিন্ন ওয়ার্কশপ, সেমিনার ও কনফারেন্সে পঠিত প্রবন্ধসমূহের মধ্যে যেগুলো উন্নতমানের ও প্রাসঙ্গিক গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয় সেগুলো সম্পাদনা করে বই বা সংকলন আকারে প্রকাশের ব্যবস্থা করছে ইন্সটিটিউট। এছাড়া মানসম্মত গবেষণাপত্রসমূহের সম্পাদিত সংস্করণ বই আকারে প্রকাশ করে যাচ্ছে। এযাবৎ এরকম ছোট বড় ২৩২টি বেশী সংকলন ও গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে। প্রসঙ্গতঃ উল্লেখযোগ্য, আইডিবির সরকারী ভাষা যেহেতু আরবী এবং কাজের ভাষা ইংরেজী ও ফরাসী সেহেতু এসব বাই ও গবেষণাপত্র এই তিন ভাষাতেই প্রকাশিত হচ্ছে। অনেক সময় একই বই বা গবেষণাপত্র তিনটি ভাষাতেই প্রকাশিত হয়। সংখ্যার দিক দিয়ে ইংরেজী ভাষার প্রকাশনাই বেশী। উপরন্তু অত্যাধুনিক কম্পিউটার ডাটা প্রসেসিং সুবিধাসহ একটি সমৃদ্ধ লাইব্রেরীও গড়ে তোলা হচ্ছে। ইতিমধ্যে ২৮,৬৮০টি বই সদস্য দেশসমূহের ১৫,৪৪৮টি অর্থনৈতিক ও ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্ট এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার ১৯,২৭২টি মূল্যবান প্রকাশনা/মূল্যায়ন রিপোর্ট সংগৃহীত হয়েছে। এছাড়া ৫৩২টি সাময়িকীও নিয়মিত ক্রয় করছে।

. তথ্য সংগ্রহ: ইসলামী উম্মাহর স্বার্থে মুসলিম ও অমুসলিম দেশসমূহের মুসলমানদের সম্পর্কে নানাবিধ তথ্য সংগ্রহ এবং বিন্যাস ও বিশ্লেষণ করার দায়িত্বও পালন করে চলেছে আই.আর.টি.আিই। জনসংখ্যার বন্টন, শিক্ষা, পেশাগত অবস্থা, বিজ্ঞান ও কারিগরী গবেষণা ও উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সূচক এবং বিবিধ সামাজিক প্রসঙ্গের উপাত্ত সংগ্রহ এই দায়িত্বের অংশ। মূলতঃ সদস্য দেশসমূহের মধ্যে আর্থ-সামাজিক, বাণিজ্যিক এবং বৈজ্ঞানিক ও কারিগরী তথ্য বিনিময়ের সুবিধার জন্যে নির্ভরযোগ্য নেটওয়ার্ক হিসাবে আইডিবি যেন কাজ করতে পারে সেই উদ্দেশ্যেই OIC Information Systems Network ও বিস্তারিত Muslim World Information Database তৈরীতে সাফল্য অর্জন করেছে।

প্রসঙ্গতঃ উল্লেখ না করলেই নয় যে বিশ্বব্যাংকের আদলে মুসলিম উম্মাহর বহুমুখী প্রয়োজন পূরণ ও উন্নয়ন নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে আইডিবি নিজস্ব উদ্যোগে ইন্টরন্যাশনাল সেন্টার ফর বায়োস্যালাইন এগ্রিকালচার (ICBA) নামে একটি সম্পূর্ণ অলাভজনক ফলিত কৃষি গবেষণা ও উন্নয়ন কেন্দ্র গড়ে তুলেছে সংযুক্ত আরব আমীরাতের দুবাইয়ে। কেন্দ্রটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ১৪২০ হিজরীতে (১৯৯৯ খৃঃ)। জেনেটিক বিষয়ক গবেষণা, লবণাক্ত জমি পুনুরুদ্ধার, প্রশিক্ষণ ও ওয়ার্কশপ পরিচালনা ইত্যাদি কর্মকাণ্ডের মধ্যে কেন্দ্রটি এগিয়ে চলেছে।

. আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সহযোগিতা

প্রতিষ্ঠার পর হতেই আইডিবি যেমন সদ্য দেশসমূহের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে আসছে তেমনি বিশ্বমানবাতর কল্যাণের স্বার্থে অংশগ্রহণ করে আসছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠন ও ফেরামের সাথে। শুরু থেকেই আইডিবি বিশ্বব্যাংক, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF) এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (ADB), আফ্রিকান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (AFDB) এবং ইউরোপীয়ান ব্যাংক ফর রিকনস্ট্রাকশন এন্ড ডেভেলপমেন্ট (EBRD) এর সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। এছাড়াও ওআইসি এবং তার বিভিন্ন অংগসংগঠন যেমন Comstech, COMIAC, ICCI, ISESCO, IDDT, SESRTCIC, বিশেষ করে COMCEC এর সাথে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রেখে চলেছে। আন্তঃআঞ্চলিক পর্যায়ে সহযোগিতা সম্প্রসারণ ও দৃঢ় করার উদ্দেশ্যে আইডিবি যেসব সংস্থার সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে সেসবের মধ্যে বিশেষ উল্লেখযোগ্য হলো আরব-মাগরেব ইউনিয়ন (AMU), গালফ কো-অপরেশন কাউন্সিল (GCC), পশ্চিম আফ্রিকার দেশসমূহের অর্থনৈতিক ইউনিয়ন (ECOWAS), কাস্টমস ইউনিয়ন অব সেন্ট্রাল আফ্রিকান স্টেটস (CU CAS), দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশসমূহের সংস্থা (ASEAN), সাউথ এশিয়ান এ্যাসোসিয়েশন ফর রিজওন্যাল কোঅপারেশন (SAARC), এবং আটটি মুসলিম দেশ নিয়ে গটিত ডি-৮। এছাড়া জাতিসংঘ এবং এর যেসব অংগ সংগঠনের সাথে আইডবি বিশেষ সম্পর্ক বজায় রেখে চলেছে সেসবের মধ্যে রয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO), বিশ্ব খাদ্য সংস্থা (FAQ), ইউএনডিপি, ইউনিসেফ, ইউনেস্কো, ইউনাইটেড নেশন্স কনফারেন্স অন ট্রেড এ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (UNCTAD) প্রভৃতি। উপরন্তু কমন মার্কেট ফর ইস্টার্ন এ্যান্ড সাউদার্ন আফ্রিকা (COMESA), এসোসিয়েশন ফর ন্যশনাল ডেভেলপমেন্ট ফাইন্যান্স ইন্সটিটিউশন (ADFIMI), বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (WTO), ইন্টারন্যাশনাল ফান্ড ফর এগ্রিকালচারাল ডেভেলপমেন্ট (IFAD), ওয়ার্ল্ড ইনটেলেকচুয়াল প্রোপার্টি অর্গানাইজেশন (WIPO) প্রভৃতির সাথেও সংযোগ রেখে চলেছৈ। ফলে অভিজ্ঞতা বিনিময়, উন্নয়নমূলক কর্মসূচীতে অংশগ্রহণ ও বিশেষঞ্জদের পরামর্শের মাধ্যমে উভয় পক্ষই উপকৃত হওয়ার সুবর্ণ সুযোগ লাভ করছে।

মন্তব্য সুপরিশ

১. আইডিবির বার্ষিক প্রতিবেদনগুলো হতে দেখা যায় যে, ১৩৯৬-১৪২৩৪ সময়কাল মোট মঞ্জুরীর ৩৩% ছিল প্রকল্প ঋণ। নিঃসন্দেহে এইউদ্যোগ প্রশংসনীয়। ব্যাংকটির সদস্য দেশগুলোর মধ্যে প্রায় অর্ধেকই স্বল্পোন্নত। এদের আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়নের জন্যে এই কর্মসূচী আরও দশ বছর অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।

২. মুনাফার অংশীদারীত্বের পদ্ধতি আইডিবির ফাইন্যান্সিং কার্যক্রমের মধ্যে একেবারে সর্বনিম্ন অবস্থান করছে। এমন হওয়া উচিৎ ছিল না। ইসলামী বিনিয়োগ পদ্ধতির ব্যাপক ব্যবহারের মাধ্যমে এর ত্রুটি-বিচ্যুতি দূর করার দায়িত্ব নেওয়া উচিত ছিল আইডিবির। কারণ শুধা মাত্র মুনাফা অর্জন কোনক্রমেই আইডিবির চূড়ান্ত লক্ষ্য হতে পারে না। আন্তর্জাতিক পর্যায়ের শীর্ষস্থানীয় এই ব্যাংক যেহেতু চূড়ান্ত লক্ষ্য হতে পারে না। আন্তর্জাতিক পর্যায়ের শীর্ষস্থানীয় এই ব্যাংক যেহেতু পদ্ধতিটি ব্যবহারের যথোচিত ‍গুরুত্ব দিচ্ছে না সেহেতু অন্যান্য ইসলামী ব্যাংক এ ব্যাপারে কার্যকর উদ্রোগ নেওয়া হতে বিরত রয়েছে।

৩. সদস্য দেশসমূহে আইডিবির মাইক্রো ক্রেডিট বা ক্ষুদ্র ঋণ কর্মসূচী চালু করার উদ্যোগ গ্রহণ এখন সময়ের দাবী। সংস্কৃতির সাথে ঋণের সম্পৃক্ততা না থাকলে সামাজিক সমস্যা আরও বিস্তৃত ও ঘনীভূত হয়; বিরোধ বাধে, সমাজে ভাঙন ধরে। বাংলাদেশসহ তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলো এর জ্বলন্ত উদাহরণ। এসব দেশে বিদেশী অর্থে পুষ্ট ও পরিচালিত এনজিওগুলো ইসলামী সংস্কৃতি তথা জীবনধারাবিরোধী কার্যক্রমকে উস্কে দিচ্ছে তাদের গৃহীত কর্মসূচীর মাধ্যমে। এর প্রতিরোধ ও প্রতিবিধানের জন্যে আইডিবির উদ্যোগ গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবী। তৃণমূল পর্যায়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র আর্থিক সহযোগিতা পৌঁছে দিয়ে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের মাধ্যমে তাদের আর্থিক ভিত মজবুত করতে না পারলে পরিণামে যে অনিবার্য বিপর্যয় ঘটবে তা রুখবার কোন উপায় থাকবে না।

উপসংহার

আইডিবির বিভিন্ন কর্মকাণ্ড সম্পর্কে উপরে যে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা হলো তার আলোকে নিঃসন্দেহে বলা যায় বিগত ত্রিশ বছর ধরে ব্যাংকটি যে সাফল্য অর্জন করেছে তা বাস্তবিকই প্রশংসার দাবীদার। প্রসঙ্গতঃ উল্লেখ্য, আইডিবি বিশ্বব্যাংকের মতোই একটি উন্নয়নমুখী প্রতিষ্ঠান। বিশ্বব্যাংক সত্যিকার অর্থে কোন বাণিজ্যিক ব্যাংক নয়। সদস্য দেশসমূহের অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে এই ব্যাংক সুদ ও সার্ভিস চার্জের বিনিময়ে সহিযোগিতা করে থাকে। এরই বিকল্প ইসলামী মডেল আইডিবি। আই আর টি আই-র কর্মকাণ্ডসহ এই ব্যাংক যেসব কাজ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন করেছে তা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। মুসলিম উম্মাহর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে এই ব্যাংকের অবদান তাই গুরুত্বের সঙ্গেই স্মরণ করতে হয়।

সারণী

ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংকের বিলিকৃত মূলধনে সদস্য দেশসমূহের শেয়ার সদস্য হিসাবে অন্তর্ভুক্তির বছর

[২৯.১২.১৪২৪ হিজরী (২০.০২.২০০৪)]

দেশের নাম অন্তর্ভুক্তির বছর শেয়ার মূলধন (লক্ষ ইসলামী দীনার মোট শেয়ারের শতকরা অংশ
আজারবাইজান **১ ১৯৯২ ৯৭.৬ ০.১২
আফগানিস্তান ১৯৭৬ ৫০.০ ০.০৬
আলজিরিয়া ১৯৭৫ ২,৪৬৬.৭ ৩.১০
আলবেনিয়া ১৯৯৩ ২৫.০ ০.০৩
ইরাক ১৯৭৯ ১৩০.৫ ০.১৬
ইরান ১৯৮৯ ৬,৯৪৫.১ ৮.৭২
ইন্দোনেশিয়া ১৯৭৫ ১,৮৫৪.৭ ২.৩৩
ইয়েমেন ১৯৭৬ ৪৯৬.২ ০.৬২
উগান্ডা ১৯৭৭ ২৪৬.৩ ০.৩১
উজবেকিস্তান ২০০৩ ২৫.০ ০.০৩
ওমান ১৯৭৫ ২৭৩.৫ ০.৩৪
কমোরো ১৯৮০ ২৫.০ ০.০৩
কাজাখাস্তান ১৯৯৬ ৪৯.৬ ০.০৬
কাতার ১৯৭৫ ৯৭৭.০ ১.২৩
কিরঘিজিস্তান ১৯৯৪ ৪৯.৬ ০.০৬
কুয়েত ১৯৭৫ ৯,৮৬৮.৮ ১২.৩৮
কোৎ দ্য আইভরি ২০০২ ২৫.০ ০.০৩
ক্যামেরুন ১৯৭৬ ২৪৬.৩ ০.৩১
গাম্বিয়া ১৯৮০ ৪৯.৬ ০.০৬
গিনি বিসাউ ১৯৭৯ ৪৯.০৬ ০.০৬
গ্যাবন ১৯৮১ ২৯৩.২ ০.৩৭
জর্দান ১৯৭৫ ৩৯৪.৭ ০.৫ি০
জিবুতি ১৯৮০ ২৫,০ ০.০৩
টোগো ১৯৯৮ ৪৯.৬ ০.০৬
তাজিকিস্তান ১৯৯৫ ৪৯.৬ ০.০৬
তিউনিসিয়া ১৯৭৫ ১৯৫.৫ ০.২৫
তুরস্ক ১৯৭৫ ৬,২৬০.৫ ৭.৮৬
তুর্কমেনিস্তান ১৯৯৪ ২৫.০ ০.০৩
নাইজার ১৯৭৫ ২৪৬.৩ ০.৩১
পাকিস্তান ১৯৭৫ ২,৪৬৫.৯ ৩.১০
প্যালেষ্টাইন ১৯৭৭ ৯৮.৫ ০.১২
বারকিনা ফাসো ১৯৭৮ ২৪৬.৩ ০.৩১
বাহরাইন ১৯৭৫ ১৩৮.৯ ০.১৭
বাংলাদেশ ১৯৭৫ ৯৭৮.২ ১.২৩
বেনিন ১৯৮৪ ৯৭.৬ ০.১২
ব্রুনাই ১৯৮৬ ২৪৬.৩ ০.৩১
মরক্কো ১৯৭৫ ৪৯২.৪ ০.৬২
মালয়েশিয়া ১৯৭৫ ১,৫৭৮.৯ ১.৯৮
মালদ্বীপ ১৯৯৮ ২৫.০ ০.০৩
মালি ১৯৭৮ ৯৭.৬ ০.১২
মিশর ১৯৭৫ ৬,৮৬৮.৪ ৮.৬৩
মোজাম্বিক ১৯৯৬ ৪৯.৬ ০.০৫
মৌরতানিয়া ১৯৭৫ ৯৭.৬ ০.১২
লিবিয়া ১৯৭৫ ৭,৯৩৭.৯ ৯.৯৭
লেবানন ১৯৭৭ ৯৭.৬ ০.১২
শাদ ১৯৭৭ ৯৭.৬ ০.১২
সউদী আরব ১৯৭৫ ১৯,৭৮৮..৭ ২৪.৮৬
সেনেগাল ১৯৭৭ ২৪৬.৫ ০.৩১
সিরিয়া ১৯৭৬ ৯৯.২ ০.১২
সিয়েরালিওন ১৯৮২ ৪৯.৬ ০.০৬
সুদান ১৯৭৫ ৩৯০.৭ ০.৪৯
সুরিনাম ১৯৯৭ ৪৯.৬ ০.০৬
সোমালিয়া ১৯৭৭ ২৫.০ ০.০৩
সংযুক্ত আরব আমীরাত ১৯৭৬=৫ ৫,৬১৬.১ ৭.০৬
৫৫টি দেশ মোট ৭৯,৬০৭.১ ১০০.০০

উৎস: ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংকের বার্ষিক প্রতিবেদনসমূহ, ১৪২৪ হি.

১. সদস্য দেশগুলোর নাম বাংলা বর্ণনাক্রম অনুসারে সাজানো

২. পূর্বর আপার ভোল্টা

সারণী

ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক পুরষ্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তি প্রতিষ্ঠান: ১৪০৮১৪২৪ হিজরী

# ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠানের নাম পুরস্কারের ক্ষেত্র হিজরী খ্রীষ্টাব্দ
১. প্রফেসর খুরশীদ আহমদ অর্থনীতি ১৪০৮ ১৯৮৮
২. ড. এম. উমারা চাপরা অর্থনীতি ১৪০৯ ১৯৮৯
৩. ড. সামী হাসান হামুদ ব্যাংকিং ১৪০৯ ১৯৮৯
৪. ড. এম. আনাস জারকা অর্থনীতি ১৪১০ ১৯৯০
৫. লেমবাগা উরুসান দান তাবুং হাজী, মালয়েশিয়া ব্যাংকিং ১৪১০ ১৯৯০
৬. ড. ইউসুফ আল-কারযাবী অর্থনীতি ১৪১১ ১৯৯১
৭. ড. জিয়াউদ্দীন আহমেদ ব্যাংকিং ১৪১১ ১৯৯১
৮. প্রফেসর সাবাহ আল-দীন যাইম অর্থনীতি ১৪১১ ১৯৯১
৯. সেন্টার ফর রিসার্চ ইন ইসলামিক ইকনমিকস, কিং আব্দুল আযীয ইউনিভার্সিটি, সউদী আরব অর্থনীতি ১৪১৩ ১৯৯৩
১০. ড. আহমদ মোহাম্মদ আলী ব্যাংকিং ১৪১৪ ১৯৯৪
১১. ড. মুহাম্মদ উমার যুবায়ের অর্থনীতি ১৪১৫ ১৯৯৫
১২. জনাব সালেহ আব্দুল কামেল ব্যাংকিং ১৪১৬ ১৯৯৬
১৩. ড. রফিক ইউনুস আল-মিসরী

ড. আবদুল রহমান ইউসরী

অর্থনীতি ১৪১৭ ১৯৯৭
১৪. ড. তানজিলুর রহমান ব্যাংকিং ১৪১৮ ১৯৯৮৭
১৫. ড. মুহাম্মদ আল-হাবীব ইবন আল-খোজা অর্থনীতি ১৪১৯ ১৯৯
১৬. ইন্টারন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব ইসলামিক ইকনমিকস, পাকিস্তান ব্যাংকিং ১৪২০ ২০০
১৭. ড. মনযের কা’ফ

ড. এস. এম. হাসানুজ্জামান

অর্থনীতি ১৪২১ ২০০১
১৮. প্রফেসর জন প্রেসলে

শেখ সাঈদ আহমদ লুতাহ

ব্যাংকিং ১৪১২ ২০০২
১৯. ড. আব্বাস মিরাখর

ড. মোহসীন এস. খান

অর্থনীতি ১৪২৩ ২০০৩
২০. ড. মোহাম্মদ আলী আল-কারী ব্যাংকিং ১৪২৪ ২০০৪

তথ্যসূত্র: ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক পুরস্কার সার্কুলারসমূহ।

About শাহ মুহাম্মদ হাবীবুর রহমান