হাদীস শরীফ – ২য় খন্ড

আযান

***********************************

হযরত আবূ মাখ্দুরা (রা) হইতে বর্ণিত হইয়াছে, তিনি বলিয়াছেন, হযরত নবী করীম (স) তাঁহাকে আযান দেওয়ার এই পদ্ধতি শিক্ষা দিয়াছেনঃ আল্লাহু আকবার (আল্লাহ বড়) দুইবার, আশহাদু আল-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ (আমি সাক্ষ্য দিতেছি যে, আল্লাহ ছাড়া আর কেহ মা’বুদ নাই) দুইবার, আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ (আমি সাক্ষ্য দিতেছি যে, মুহাম্মদ (স) আল্লাহর রাসূল) দুইবার বলিতে হইবে।  অতঃপর এই সাক্ষ্যদ্বয় পুনরায় দুইবার করিয়া উচ্চারণ করিবে।  তাহার পর হাই- ‘আলাসসালাহ (নামাযের জন্য আস) দুইবার ও হাই-আলাল ফালাহ (কল্যাণের দিকে-কল্যাণময় কাজের জন্য আস) দুইবার বলিবে।  ইসহাক বাড়াইয়া বলিয়াছেন যে, আল্লাহু আকবার দুইবার ও লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ একবার বলিবে।  – মুসলিম

ব্যাখ্যা এই হাদীসে আযানের বিস্তারিত বিবরণ উদ্ধৃত হইয়াছে।  ‘আযান’ শব্দের অর্থ ‘জানাইয়া দেওয়া’ ‘শোনাইয়া দেওয়া’। আল্লাহ তাআলা কুরআন মজীদে এই শব্দের উল্লেখ করিয়াছেনঃ

******************

আল্লাহ ও তাঁহার রাসূলের পক্ষ হইতে শোনাইয়া দেওয়া- জানাইয়া দেওয়া বলিয়াছেনঃ

********************* মুয়াযযিন আযান দিয়াছে।

ইহা ‘আযান’ শব্দের কুরআনী ব্যবহার।  নামাযের সময় হইলে লোকদিগকে নামাযের জন্য প্রস্তুত হওয়ার ও জামা’আতে হাযির হওয়ার জন্য আহ্বান জানানোকেই পরিভাষায় ‘আযান’ বলা হয়।  আযান নামাযের উদ্দেশ্যে ডাকার জন্য ইসলামের স্থায়ী নিয়ম।

একটি হাদীসে উদ্ধৃত হইয়াছে নবী করীম (স) হযরত বিলাল (রা) কে বলিলেনঃ

**************************

হে বিলাল, উঠ এবং নামাযের জন্য ঘোষণা দাও।  রাসূলের এই আদেশ হইতে প্রমাণিত হয় যে, আযান দাড়াইয়া দেওয়া ওয়াজিব, বসিয়া দেওয়া জায়েয নহে।  এই সম্পর্কে সকল ইমামই একমত।  অবশ্য ইমাম শাফেয়ীর মতে ইহা সুন্নত।

এই হাদীসে শাহাদতের বাক্যদ্বয় দুইবার করিয়া বলিবার পর উহা আবার দুইবার করিয়া বলিবার যে ব্যবস্থার উল্লেখ হইয়াছে, পরিভাষায় উহাকে তারজী ********** বলা হয়।  ইহার অর্থঃ যে কথা একবার নিম্নস্বরে বলা হইয়াছে তাহা আবার সমধিক উচ্চস্বরে বলা।  এইরূপ ‘তারজী’ সহকারে আযান দেওয়ার রীতি মক্কা শরীফে রহিয়াছে।  কোন সাহাবী ইহার যথার্থতা অস্বীকার করেন নাই।  ইমাম মালিক, শাফেয়ী ও আহমদ ইবনে হাম্বল প্রমুখ হানীফা ও অন্যান্য ইমামগণ তারজী করার রীতি সমর্থন করেন নাই।  তাঁহাদের দলীল হইতেছে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে যায়দের বর্ণিত হাদীস।  কেননা তাহাতে এই তারজী’র উল্লেখ নাই।  ইমাম তাহাভী হযরত আবূ মাখদূরা বর্ণিত উপরিউক্ত হাদীসে তারজী’র উল্লেখ হওয়ার কারণ দর্শাইয়া বলিয়াছেনঃ আবূ মাখদুরা শাহাদতের বাক্যদ্বয় প্রথমে রাসূলের ইচ্ছা মুতাবিক উচ্চস্বরে বলেন নাই।  ফলে নবী করীম (স) তাঁহাকে উহা অধিক উচ্চস্বরে উচ্চারণ করিতে বলেন।  তিনি তাহাই করিয়াছেন।  কিন্তু ইহার ফলে শাহাদতের বাক্যদ্বয় দুইবার নিম্নস্বরে বলিবার পর আবার উচ্চস্বরে বলাই আযানের স্থায়ী নিয়ম হইয়া যায় নাই।  ইমাম শাফেয়ী এই হাদীসের ভিত্তিতে উহাকে সুন্নত বলিয়াছেন।  আর মুহাদ্দিসদের এক বিরাট জামা’আতের মতে ইহা করিলেও দোষ নাই, আর না করিলেও গুনাহ নাই। – নববী শরহে মুসলিম

 

আযানের ইতিহাস

*******************************

আবদুল্লাহ ইবনে যায়দ ইবনে আবদে রাব্বিহি হইতে বর্ণিত হইয়াছে, তিনি বলিয়াছেনঃ নবী করীম (স) যখন নামাযের জন্য লোকদিগকে একত্রিত করার উদ্দেশ্যে শিংগা ফুঁকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিলেন- যদিও তিনি খৃষ্টানদের সহিত সাদৃশ্যপূর্ণ হওয়ার কারণে উহাকে অপছন্দ করিতেন- রাত্রিবেলা নিদ্রিতাবস্থায় স্বপ্নযোগে আমি এক ব্যক্তিকে দেখিতে পাইলাম, তাহার পরিধানে দুই খানি সবুজ বর্ণের কাপড় এবং তাহার হাতের একটি শিংগা রহিয়াছে, যাহা সে বহন করিতেচে।  আমি তাহাকে বলিলামঃ হে আল্লাহর বান্দা।  তুমি কি শিংগা বিক্রয় করিবে? লোকটি বলিলঃ তুমি ইহা দ্বারা কি করিবে? আমি বলিলাম, আমরা উহার সাহায্যে লোকদিগকে নামায পড়ার জন্য আহ্বান জানাইব।  লোকটি বলিল, ইহাপেক্ষাও উত্তম ব্যবস্থা কি আমি তোমাকে বলিয়া দিব? বলিলাম, হ্যাঁ নিশ্চয়ই ।  বলিল, নামাযের উদ্দেশ্যে আহ্বান করার জন্য তুমি বলিবেঃ আল্লাহ আকবার, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, আশহাদু আন লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আশহাদু আন লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ, আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ, হাই-আলাস সালাহ, হাই-আলাল-ফালাহ, হাই-আলাল-ফালাহ, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ- এই পর্যন্ত বলার পর কিছুটা বিলম্ব করিয়া পরে বলিলঃ তুমি যখন নামায কায়েম করিতে যাইবে তখন বলিবেঃ আল্লাহু আকবর, আল্লাহ আকবার, আশহাদু আন-লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ, হাই-আলাসসালাহ, হাই-আলাল ফালাহ, কাদ-কামাতিসসালাহ, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ।

রাত্রি ভোর হইলে আমি রাসূলে করীম (স)-এর নিকট উপস্থিত হইলাম এবং তাঁহাকে স্বপ্নের পূর্ণ বিবরণ বলিলাম।  সব শুনিয়া তিনি বলিলেনঃ ইহা আল্লাহ চাহিলে নিশ্চয়ই একটি অতীব সত্য স্বপ্ন।  পরে তিনি আযান দেওয়ার নির্দেশ দিলেন।  হযরত আবূ বকরের মুক্ত দাস হযরত বিলাল এই সব কথা সহকারে আযান দিতে লাগিলেন এবং ইহার সাহায্যে তিনি রাসূলে করীম (স)-কে নামাযের জন্য আহবান জানাইতেন।  পরে একদিন হযরত বিলাল (রা) ফযরের আযান দিতে আসিলেন।  তখন তাঁহাকে বলা হইল যে, রাসূলে করীম (স) নিদ্রিত রহিয়াছে।  কিন্তু বিলাল (রা) তাঁহার উচ্চ কণ্ঠস্বরে ঘোষণা করিলেনঃ আসসালাতু খায়রুম মিনান-নাওম, ‘নিদ্রা হইতে নামায উত্তম’।  সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব বলিয়াছেনঃ পরে ফজরের নামাযের আযানে এই বাক্যটি শামিল করিয়া দেওয়া হয়।- মুসনাদে আহমদ

ব্যাখ্যা এই হাদীস হইতে আযান ও ইকামতের ইতিহাস জানা গেল।  ইহাতে এক দিকে যেমন আযান ও ইকামতের উৎপত্তির ইতিহাস বলা হইয়াছে,  তেমনি আযান ইকামতে কথ্য বাক্যসমূহও স্পষ্ট ও নিঃসন্দেহভাবে আমাদের নিকট প্রমাণিত হইল।

হাদীসটির বর্ণনাভংগী হইতে মনে হয় যে, কোন সাহাবী আযান ও ইকমতের বাক্যসমূহ স্বপ্ন যোগে জানিতে পারিয়াছিলেন এবং নবী করীম (স) উহাকে চালু করিয়া দিলেন।  অন্য কথায় আযান হইল তদানীন্তন সমাজের সাহাবীদের স্বপ্নযোগে প্রাপ্ত জিনিস, ওহীযোগে প্রাপ্ত নয়।  কিন্তু প্রকৃত ব্যাপার তাহা নয়।  বরং আসল ব্যাপার হইল, আযান ও উহার বাক্যসমূহ নবী করীম (স) আল্লাহর নিকট হইতে ওহীর মাধ্যমে জানিতে পারিয়াছিলেন।

হযরত দেওয়ার রীতি নামায ফরয হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহর নিকট হইতে অবতীর্ণ হইয়াছে।

কুরআন মজীদের আয়াত হইতে এই কথার অকাট্য প্রমাণ পাওয়া যায়। সূরা আল-মায়দার ৫৮ নং আয়াতে উদ্ধৃত হইয়াছেঃ

**************************

তোমরা (মুসলমান) যখন নামাযের জন্য ঘোষণা দাও, তখন কাফিরেরা উহাকে ঠাট্টা বিদ্রুপ ও খেল-তামাসার বস্তুরূপে গ্রহণ করে।  আর ইহার কারণ এই যে, উহারা বিবেক বুদ্ধিহীন লেকা।

‘নামাযের জন্য ঘোষণা দাও’ অর্থাৎ ******** মুয়াযযিন যখন নামাযের জন্য আযান দেয়।

সূরা আল-জুময়ার ৯ নং আয়াত বলা হইয়াছেঃ

***************************

জুম’আর দিন যখন নামাযের জন্য আযান দেওয়া হয়-

এই দুইটি আয়াত মদীনার অবতীর্ণ এবং আযান দেওয়ার রেওয়াজ যে মদীনা শরীফেই চালু হইয়াছে তাহা হাদীস হইতে স্পষ্টভাবে প্রমাণিত।  কাজেই ‘আযান’ নিছক স্বপ্নযোগে প্রাপ্ত ব্যাপার নয়।  ইহা নিঃসন্দেহে আল্লাহর নিকট হইতে ওহীযোগেও অবতীর্ণ।

কেহ কেহ বলিয়াছেন, আযান দেওয়ার বর্তমান রেওয়াজ হযরত ইবরাহীম (আ)- এর আযান হইতে গৃহীত।  হযরত ইবরাহীমের আযান সম্পর্কে কুরআন মজীদে বলা হইয়াছেঃ

*************************

এবং লোকদের মধ্যে হজ্জ সম্পর্কে ‘আযান’ দাও। তাহারা তোমার নিকট পায়ে হাঁটিয়া ও দুর্বল উটের পিঠে সওয়ার হইয়া (দূর দূর অঞ্চল হইতে) আসিবে।

এই আয়াতে আল্লাহ তা’আলা হযরত ইবরাহীম (আ)-কে হজ্জের ‘আযান’ ঘোষণা দিবার জন্য নির্দেশ দিয়াছেন।  হযরত রাসূলে করীম (স) এই নির্দেশের ভিত্তিতে নামাযের জহন্য ‘আযান’ দেওয়ার রীতি চালু করিলেন। সেই সঙ্গে এই মতও অনেকে প্রকাশ করিয়াছেন যে, ‘আযান’ লইয়া হযরত জিবরাঈল (আ) রাসূলে করীম (স)-এর নিকট অবতীর্ণ হইয়াছিলেন।  ****************

এই প্রেক্ষিতে স্বপ্নযোগে আযান প্রাপ্তি সংক্রান্ত হাদীসমূহ সামনে রাখিয়া একথা বলা অযৌক্তিক নয় যে, ওহী অনুযায়ী আযানের বর্তমান বাস্তব রেওয়াজ চালু হওয়ার পূর্ব মুহুর্তে এক সঙ্গে বহু সংখ্যক সাহাবী স্বপ্নযোগে আযানের শব্দ ও বাক্যসমূহের সহিত পরিচিত হইয়াছিলেন।  আল্লাহর ওহী ও সাহাবীদের স্বপ্ন একই সময় বাস্তবায়িত হইয়াছিল কিংবা আল্লাহর তরফ হইতে আসা প্রথম এবং স্বপ্নে জানা পরে কিংবা ইহাও হইতে পারে যে, আল্লাহ-ই কোন কোন সাহাবীকে এই আযান স্বপ্নযোগে জানাইয়া দিয়াছেন এবং রাসূলে করীম (স)-কেও উহা মঞ্জুর করা ও তদনুযায়ী আযান দেওয়ার ব্যবস্থা চালু করার নির্দেশ দিয়াছিলেন।  বস্তুত নামায যে ধরনের কাজ সেজন্য লোকদিগকে আহবান জানাইবার জন্য এই ধরনের ব্যবস্থা শোভনীয় হইতে পারে।  উপরন্ত উহাতে যে বাক্য গুলি ঘোষিত হয় তাহা যেমন ইসলামের মর্মবাণী, তেমনি নামাযের সঙ্গে খুবই সঙ্গতিপূর্ণ।  অন্য কিছু হইলে তাহা কিছুতেই সামঞ্জস্যপূর্ণ হইতে না তাহা নিঃসন্দেহ।

ইমাম আবূ দাউদও এই হাদীসটি বর্ণনা করিয়াছেন।  তাহাতে বর্ণনা সূত্রের নিম্নের দিকে যেমন পার্থক্য আছে তেমনি মূল কথায়ও কিছুটা পার্থক্য এবং কিছু অতিরিক্ত কথা আছে।  আবূ দাউদ বর্ণিত হাদীসের শেষের দিকে রহিয়াছেঃ

*******************************

সকাল হইলে আমি রাসূলে করীমের নিকট উপস্থিত হইয়া তাঁহাকে আমার স্বপ্নের বিবরণ শোনাইলাম। তখন নবী করীম (স) বলিলেনঃ আল্লাহ চাহিলে ইহা নিশ্চয়ই বড় সত্য স্বপ্ন।  অতএব তুমি বিলালকে লইয়া দাঁড়াইয়া যাও এবং তোমার স্বপ্নে জানা বাক্যসমূহ তাহাকে শোনাও।  কেননা তোমার অপেক্ষা তাহার কণ্ঠস্বর অনেক উচ্চ।  স্বপ্নদ্রষ্টা সাহাবী বলেনঃ অতঃপর আমি বিলালকে সঙ্গে দাঁড়াইয়া গেলাম এবং তাহাকে আযানের বাক্যসমূহ বলিয়া দিতে লাগিলাম।  তিনি উহার দ্বারা আযান দিতে লাগিলেন।  হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব ঘরে বসিয়া আযানের ধ্বনি ও বাক্যসমূহ শুনিতে পান।  তিনি তখনই গায়ের চাদর টানিতে টানিতে দ্রুততা সহকারে বাহির হইলেন এবং রাসূলে করীম (স)-কে লক্ষ্য করিয়া বলিলেনঃ যে আল্লাহ আপনাকে সত্যতা সহকারে পাঠাইয়াছেন তাঁহার শপথ।  ঠিক এইরূপ বাক্যই আমি স্বপ্নে জানিতে পারিয়াছি।  নবী করীম (স) ইহা শুনিয়া বলিলেনঃ (তাহা হইলে ত খুবই ভালো)।  সব প্রশংসাই আল্লাহর জন্য।

 

আযানের উপর উদ্ধৃত বাক্যসমূহ লক্ষ্য করা যায়, উহাতে ‘আল্লাহ আকবার’ বাক্যটি বারবার বলার কথা বলা হইয়াছে।  ইমাম আবূ হানীফা, ইমাম শাফেয়ী ও ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (র) এই মতই সমর্থন করিয়াছেন।  ইমাম নববী লিখিয়াছেনঃ ইহাই সব ইসলামবিদের অভিমত।  কোন সাহাবীই এই মতের বিপরীত কথা বলেন নাই।  উপরিউক্ত হাদীসটিই এই মতের বড় দলীল।  আযানের বাক্যসমূহ হযরত (রা)-কে শিখাইতে ও তাঁহাকে আযান দিতে বলার কারণস্বরূপ নবী করীম (স) বলিয়াছেনঃ ‘তাহার কণ্ঠস্বর অন্যদের তুলনায় উচ্চ’।  ইহা হইতে বুঝা গেল, উচ্চ কণ্ঠস্বর ব্যক্তিরই আযান দেওয়া উচিত।  যেন বহু দূরের লোকেরাও আযান ধ্বনি শুনিতে পায়।

 

উপরিউক্ত বাক্যসমূহ মাত্র চার ওয়াক্তের নামাযের আযানে উচ্চারিত হয়।  ফযরের আযানে একটি বাক্য অতিরিক্ত বলা হয়।  তাহা হইল আসসালতু খাইরুম নাওম’- ‘নিদ্রা অপেক্ষা নামায অতীব উত্তম’।  ইহা দুইবার বলা হয়।

কিন্তু ফযরে আযানে এইরূপ বলা কখন হইতে শুরু হইল? ইহা কি পরে প্রচরিত হইয়াছে, না নবী করীম (স)-এর সময় হইতেই ইহা বিধিবদ্ধ? উহার জওয়াব এই পর্যায়ের প্রথমোক্ত হাদীস হইতেই জানা গিয়াছে।  তাহাতে বলা হইয়াছে, ফযরের আযানের এই অতিরিক্ত বাক্যদ্বয় রাসূলের জীবদ্দশায়ই বিধিবদ্ধ হইয়াছে।  ইহার সমর্থনে আর একটি হাদীস উদ্ধৃত করা যাইতেছেঃ হযরত আবূ মাহযূরাতা (রা) বলেনঃ

******************************

আমাকে রাসূলে করীম (স) আযান শিক্ষা দিয়াছেন।  তিনি বলিয়াছেনঃ ফযরের আযানে ‘হাই-আল্লা-ফালাহ’ বলার পর ‘আসসালাতু খায়রুম মিনান নাওম বলিবে।- আবূ দাউদ, বিনে হাব্বান।

ব্যাখ্যা ফযরের নামাযের আযানে অতিরিক্ত বাক্যদ্বয় রাসূলে করীম (স)-এর জীবদ্দশায়ই বিধিবদ্ধ হইয়াছে।  কেবল তাহাই নয়, ইহা নবী করীম (স)-এর নিজের শিক্ষা দেওয়া বাক্য।  কাজেই এই বাক্যদ্বয় উত্তরকালে কখনো সংযোজিত হইয়াছে- অতএব ইহা বিদ্আত।  এইরূপ ধারণা শুধু ভিত্তিহীনই নয়, চরম অজ্ঞতারও পরিচায়ক।

 

আযান ও ইকামতে তাকীদ

**********************

হযরত আবূদ-দারদা (রা) হইতে বর্ণিত হইয়াছে, তিনি বলিয়াছেন, আমি নবী করীম (স)-কে বলিতে শুনিয়াছি যে, যে কোন তিনজন লোক একত্রে থাকিয়া আযান দিবে না ও একত্রে নামায কায়েম করিবে না, শয়তান তাহাদিগকে পরাস্ত করিয়া লইবে।  – মুসনাদে আহমদ, আবূ দাউদ, নাসায়ী।

ব্যাখ্যা এই হাদীস হইতে জানা যায় যে প্রত্যেক ওয়াক্তের নামাযের জন্য আযান দেওয়া এবং অতঃপর জামা’আতের সহিত নামায পড়া ও ইকমত দেওয়া ওয়াজিব।  কেননা ইহা করা না হইলে সেখানে শয়তানের প্রতিপত্তি স্থাপিত হইবে অথচ শয়তানের প্রতিপত্তি খতম করা মুসলমানের জন্য অবশ্য কর্তব্য।

 

জামা’আতে নামাযের জন্য আযান দেওয়া ওয়াজিব- এ সম্পর্কে মুসলমানদের মধ্যে কোন মতবিরোধ নাই।  ইমাম আল-মাওয়াদী লিখিয়াছেন, আযান ও ইকামত – দুইটি একই সঙ্গে ওয়াজিব।  ইহার একটি অপরটির অভাব পূরণল করিতে পারে না।  ইহার একটি পরিত্যক্ত হইলে কিংবা উভয়টিই পরিত্যাক্ত হইলে জামা’আতের নামায ক্ষুণ্ন হইবে।  ইমাম আতা বলিয়াছেন, ইকামত ওয়াজিব, আযান নয়।  ইমাম আওযায়ীও এই মত প্রকাশ করিয়াছেন।  কিন্তু ইমাম শাফেয়ী ও ইমাম আবূ হানীফার মতে আযান ইকামত- দুইটি-ইসমানভাবে সুন্নাত।

******************************

মালিক ইবনুল হুয়াইরিস হইতে বর্ণিত, নবী করীম (স) বলিয়াছেনঃ নামাযের সময় উপস্থিত হইলে তোমাদের একজন যেন অন্য সকলের পক্ষ হইতে আযান দেয় এবং তোমাদের মধ্যে বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তি যেন জামা’আতে ইমামতি করে।  – বুখারী, মুসলিম।

 

ব্যাখ্যা ‘তোমাদের একজন’ কথাটি হইতে জানা যায় যে, আযান যে কোন বয়সের যে কোন লোকই দিতে পারে এবং তাহা দিলে তাহা সকলের জন্য যথেষ্ট হইবে।  অবশ্য নামাযের ইমামতি করার জন্য এই হাদীসে বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তিকেই নির্দিষ্ট করা হইয়াছে।  ইহা হইতে স্পষ্ট হইল যে, আযানের তুলনায় নামাযের ইমামতি অধিক গুরুত্বপূর্ণ ও মর্যাদাসম্পন্ন কাজ।

 

মুয়াযযিনের সওয়াব

************************************

হযরত মু’আবিয়া (রা) হইতে বর্ণিত হইয়াছে, নবী করীম (স) বলিয়াছেনঃ মুয়াযযিনগণ কিয়ামতের দিন সব লোকের তুলনায় দীর্ঘ ঘাড়সম্পন্ন হইবে। – মুসনাদে আহমদ, মুসলিম, ইবনে মাজাহ

 

ব্যাখ্যা ‘কিয়ামতের দিন মুয়াযযিনগণ দীর্ঘ ঘাড়সম্পন্ন হইবে’ অর্থ দুনিয়ায় নামাযের আযান দেওয়ার কাজ যাহারা একটি দ্বীনী কর্তব্য হিসাবে করিবে কিয়ামতের দিন সব লোকের তুলনায় তাহাদের ঘাড় অধিক লম্বা হইবে।

ঘাড় লম্ব হওয়ার প্রকৃত তাৎপর্য কি, হাদীস বিশারদ ইহার বিভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়াছেন।  কেহ বলিয়াছেন, ইহার অর্থ এই যে, কিয়ামতের দিন এই মুয়াযযিনরা আল্লাহর রহমত লাভের অধিক অধিকারী ও উহাতে অধিক মর্যাদাসম্পন্ন এবং তদ্দরুন অধিক উন্নত মস্তক হইবে।  আর ইহারও সোজা অর্থ হইল, তাহারা সকলের তুলনায় অধিক সওয়াব লাভে ধন্য হইবে।  কেহ বলিয়াছেন, তাহারাই সেদিন সকলের সরদার ও নেতৃস্থানীয় হইবে।  চারিদিক হইতে লোকেরা তাহাদের দিকে তাকাইয়া থাকিবে এবং এই ‘দীর্ঘ ঘাড়’ হওয়ার কারণে হাশরের ময়দানের জনসমূদ্রে তাহারা সহজেই সকলের দৃষ্টিগোচর হইত পারিবে।  হযরত আবূ হুরায়রা বর্ণিত হাদীস হইতে ইহার স্পষ্ট সমর্থন পাওয়া যায় । বলা হইয়াছেঃ

**************************

কিয়ামতের দিন মুয়াযযিনরা তাহাদের ঘাড় দীর্ঘ হওয়ার কারণে লোকদের নিকট সহজেই পরিচিত হইবে।

কাহারো মতে ইহাদের অনুসারীর সংখ্যা অন্যান্য সকলের তুলনায় অনেক বেশি।  একথার বাস্তব ব্যাখ্যা এই হইতে পারে যে, দুনিয়ায় যেহেতু লাখ লাখ মুসলমান পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের জামা’আতে হাযির হইয়াছে এই মুয়াযনিদের আযান শুনিয়া, তাই কিয়ামতের দিনও লাখ লাখ লোক তাহাদের নেতৃত্ব মানিয়া লইবে।  ইবনুল আরাবী বলিয়াছেনঃ

***********************

আমলের দিক দিয়া ইহারা অধিক আমলকারি প্রমাণিত হইবে।

কাযী ইয়ায প্রমুখ মনীষী বলিয়াছেনঃ

************************************* জান্নাতের দিকে দ্রুত গমন।  আবূ দাউদ পুত্র বলিয়াছেনঃ আমি আমার পিতা আবূ দাউদের নিকট শুনিয়াছি এই বাক্যটির অর্থঃ

**************************************

কিয়ামতের দিন লোকেরা পিপাসার্ত হইয়া পরিবে।  আর মানুষ যখন পিপাসাকাতর হয় তখন তাহার ঘাড় ভাঁজ ও খাটো হইয়া যায়।  কিন্তু মুয়াযযিনরা যেহেতু কিয়ামতের দিন পিপাসাকাতর হইবে না, এইজন্য তাহাদের ঘাড় উর্ধ্বে উন্নত অর্থাৎ দীর্ঘ হইয়া থাকিবে।

ইহার অপর একটি তাৎপর্যও হইতে পারে।  তাহা হইল ‘ঘাড় দীর্ঘ হওয়া’ কথাটি রূপক অর্থে ব্যবহৃত হইয়াছে।  আর সেই রূপক অর্থ ‘দুঃসাহসী- অসীম সাহসী হওয়া’।  কেননা দুনিয়ায় আল্লাহ- অবিশ্বাসী ও আল্লাহ- অমান্যকারী লোকদের সম্মুখেঃ

*************************

আমি সাক্ষ্য দিতেছি যে, এক আল্লাহ ছাড়া আর কেহই ইলাহ নাই’ ‘আমি সাক্ষ্য দিতেছি, হযরত মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল।

 

এর মত বিপ্লবী বাণী উদার কণ্ঠে নির্ভীক ভংগীতে ঘোষণা করা খুবই দুঃসাহসিকতার কাজ।  ইহার তাৎপর্য এই যে, ঘোষণা করা হইতেছে, আমি ইলাহ-প্রভু ও সার্বভৌম এক আল্লাহ ছাড়া আর কাহাকেও মনি না।  দুনিয়ার বিভিন্ন ক্ষেত্রে সার্বভৌমত্ব ও নিরংকুশ প্রভুত্বের দাবিদার যত, তাহাদের সকলকে ও প্রত্যেকেই আমি অস্বীকার করি।  আমি ঘোষণা করি যে, ইহাদের কাহারো এইরূপ দাবি করার ও নিজেকে এই মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করিতে চেষ্টা করার কোন অধিকারই নাই।  কি বৈষয়িক- কি ধর্মীয়- সর্বক্ষেত্রে একমাত্র আল্লাহর প্রভুত্ব ও সার্বভৌমত্ব এবং হযরত মুহাম্মদের রিসালাত ও নেতৃত্ব আমি মানি ।  অন্যসব সার্বভৌমত্ব ও নেতৃত্ব উৎখাত করিয়া আমি তাহাই প্রতিষ্ঠিত করিবার আকুল আহবান জানাইতেছি।  বস্তুত ইহার মত বিপ্লবী ঘোষণা আজ পর্যন্ত দুনিয়ার আকাশে, বাতাসে ও জনসমাজে ঘোষিথ হয় নাই।  অনুরূপ ঘোষণা আকাশের তলে ও যমীনের বুকে আর একটিও নাই।  এই কাজ যাহারা দুনিয়ার করে কিয়ামতের দিন তাহাদের এই বিপ্লবী ও দুঃসাহসিকতাপূর্ণ কাজের পুরস্কার স্বরূপ তাহাদিগকে নানা বিশিষ্টতা দান করা হইবে।  আর ঘাড় দীর্ঘ হওয়া উহাদের মধ্যে একটি বৈশিষ্ট্য মাত্র।

সে যাহাই হোক, বক্ষ্যমান হাদীসটি হইতে আযান ও মুয়াযযিন উভয়ের উচ্চ মর্যাদার কথাই সুস্পষ্ট হইয়া উঠে।  কিয়ামতের দিন অন্যান্য সাধারণ মুসলমানদের হইতে তাহার বিশেষ বিশেষত্ব ও বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হইবে।  ইমাম শাওকানী লিখিয়াছেন, মুয়াযযিনরা কিয়ামতের দিন এই উচ্চ মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্যর অধিকারী হইবে।  তবে সেইজন্য একটি জরুরী শর্ত রহিয়াছে তাহা হইলঃ

********************************

যদি তাহারা আযান দেওয়ার বিনিময়ে কোন মজুরী গ্রহণ না করিয়া থাকে।  কিন্তু যদি মজুরী গ্রহণ করিয়া থাকে, তাহা হইলে এই কাজ দুনিয়া তালাশ ও জীবিকা সংগ্রহের চেষ্টা পর্যায়ের কাজ বলিয়া গণ্য হইবে, পরকালের জন্য করা হইয়াছে বলিয়া বিবেচিত হইবে না।

***************************

হযরত আবূ হুরায়রা (রা) হইতে বর্ণিত, তিনি বলিয়াছেন, নবী করীম (স) ইরশাদ করিয়াছেনঃ ইমাম দায়িত্বশীল, আর মুয়াযযিন আমানতদার।  হে আল্লাহ! তুমি ইমামগণকে নির্ভুল পথ প্রদর্শন কর এবং মুয়াযযিনদের গুনাহ খাতা মাফ করিয়া দাও।  – মুসনাদে আহমদ, আবূ দাউদ, তিরমিযী।

 

ব্যাখ্যা ‘ইমাম দায়িত্বশীল’ ইহার অর্থ, নামাযের ইমাম নামাযে পঠনীয় কিরাত ও দোয়া -দরূদ ইত্যাদির জন্য যামিন।  তাহাকে যথাযথ ও নির্ভুলভাবে কুরআন ও অন্যান্য দোয়া-দরূদ পাঠ করিতে হইবে ও সঠিক নিয়মে নামায পড়াইয়া শেষ করিতে হইবে।  নামাযের দোয়ায় ইমামের দায়িত্ব হইল, উহাতে সাধারণ জনগণকে শামিল করিবে, কেবল নিজের কথাই বলিবে না।  অপরদিকে ‘ইমাম মুক্তাদিদের নামাযের রক্ষণাবেক্ষণকারী আর মুয়াযযিন আমানতদার’- ইহার অর্থ, নামাযের জন্য নির্দিষ্ট সময়সূচী অনুযায়ী ঠিক ঠিকভাবে আযান দেওয়ার কর্তব্য মুয়াযযিনের উপর অর্পিত।  কেননা অনেক মানুষ নামাযে শরীক হওয়ার ব্যাপারে মুয়াযযিনের আযানের উপর নির্ভরশীল, উহার জন্য অপেক্ষমান ও সেজন্য উৎকণ্ঠিত হইয়া বসিয়া থাকে।  তাহারা যদি আযান ধ্বনি সময় মতো শুনিতে না পায় তাহা হইলে নামাযের জামা’আতে শরীক হওয়া অনেকের পক্ষেরই সম্ভব হইবে না।  অতএব এই দায়িত্বশীলতার কথা তাঁহাদের সব সময় মনে রাখা আবশ্যক।  হাদীসটি হইতে আযানের বৈশিষ্ট্য ও শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণিত হয়।

*************************

হযরত আবূ সাঈদুল খুদরী (রা) হইতে বর্ণিত, তিনি বলিয়াছে, নবী করীম (স) ইরশাদ করিয়াছেনঃ মুয়াযযিনের আওয়াজ যতদূর পৌছায়, সে পর্যন্ত যে জিন, যে মানুষ ও যে জিনিসই উহার আওয়াজ শুনিতে পায়, সে কিয়ামতের দিন তাহার পক্ষে অবশ্যই সাক্ষ্য দিবে।  – বুখারী

 

ব্যাখ্যা আল্লাহ তা’আলা সৃষ্টিলোকের প্রত্যেকটি জিনিসের প্রকৃতিতে তাঁহার পরিচিতি লাভ করার যোগ্যতা স্বাভাবিক ও জন্মগতভাবেই দান করিয়াছেন।  কুরআন মজীদের নিম্নদ্ধৃত আয়াত হইতে একথার অকাট্য প্রমাণ পাওয়া যায় ।  বলা হইয়াছেঃ

*******************

দুনিয়ার প্রত্যেকটি জিনিসই আল্লাহর প্রশংসা সহকারে তাহার তসবীহ- পবিত্রতা বর্ণনা করে।

এ কারণে মুয়াযযিন যখন আযান দেয় এবং উহাতে আল্লাহ তা’আলার শ্রেষ্ঠত্ব, মহানত্ব ও তাঁহার একত্ব এবং তাঁহার রাসূলের রিসালাত ও তাঁহার দ্বীনী দাওয়াতের ঘোষণা দেয়, তখন জিন, মানুষ ও বস্তু- সকলেই তাহা শুনিতে পায় এবং উহার অর্থ ও তাৎপর্য অনুধাবন করিতে পারে।  কিয়ামতের দিন ইহারা সকলেই সেই মুয়াযযিনের স্বপক্ষে সাক্ষ্য দিবে।  বস্তুত ইহা মুয়াযযিনের ও তাহার আযানের ফযীলতের কথা সন্দেহ নাই।

 

আযান ও ইকামতের জওয়াব

***********************

হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব (রা) হইতে বর্ণিত হইয়াছে, তিনি বলিয়াছেন, নবী করীম (স) ইরশাদ করিয়াছেনঃ মুয়াযযিন যখন বলে ‘আল্লাহ আকবার’ আল্লাহু আকবার’ – (‘আল্লাহ অনেক বড় অনেক মহান’ – ‘আল্লাহ শ্রেষ্ঠ ও মহান’) তখন তোমাদের কেহ যদি বলেঃ আল্লাহ আকবর, আল্লাহু আকবর, (মুয়াযযিন) যখন বলে আশহাদু আন লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ (আমি সাক্ষ্য দিতেছি যে, এক আল্লাহ ছাড়া আর কেহই মা’বুদ নাই) তখন যদি বলেঃ আশহাদু আন লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ, যখন বলে ‘আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ (আমি সাক্ষ্য দিতেছি যে, হযরত মুহাম্মদ (স) আল্লাহর রাসূল), তখন যদি সেও বলেঃ আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ, যখন বলেঃ হাই আলাসসালাহ (নামাযের জন্য আস), তখন যদি বলেঃ লা-হাওলা ওয়ালা কুয়্যাতা ইল্লাহ বিল্লাহ (আল্লাহ ছাড়া আর কাহারো কোন শক্তি বা দাপট নাই,) যখন বলেঃ হাই-আলাল ফালাহ (কল্যাণের জন্য আস) তখন যদি বলেঃ লা-হাওলা ওয়ালা কুয়্যাতা ইল্রাহ বিল্লাহ, যখন বলেঃ আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, তখন যদিবলে আল্লাহ আকবার, আল্লাহু আকবার, যখন বলেঃ লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ, তখন যদি বলেঃ লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ- এবং বলে পূর্ণ আন্তরিকতা সহকারে, তবে সে জান্নাতে দাখিল হইবে।  – মুসলিম

 

ব্যাখ্যা এই হাদীসে মুয়াযযিনের আযানের প্রতিটি বাক্যের জওয়াব দেওয়ার নিয়ম শিক্ষা দেওয়া হইয়াছে।  এই জওয়াব দেওয়া আযান শ্রোতা প্রত্যেক মুসলমানের পক্ষেই বাঞ্চনীয়।  এই জওয়াব যদি কেহ পূর্ণ আন্তরিকতা ও নিষ্ঠা সহকারে দেয়, তবে সে জান্নাতে প্রবেশ করিবে বলিয়া নবী করীম (স) খোশ-খবর শোনাইয়াছেন।

মুয়াযযিনের আযানের কোন বাক্যের জওয়াবে কি বলিতে হইবে, তাহা এই হাদীসে জানাইয়া দেওয়া হইয়াছে। এখানে আযানের জওয়াব দেওয়ার পরকালীন সওয়াবের দিকটাকেই অধিক স্পষ্ট করিয়া তোলা হইয়াছে।  ইহা পাঠে মনে হইতেছে যে, আযানের জওয়াব দিলে পরকালীন সওয়াব জান্নাত পাওয়া যাইবে।  আর না দিলে বুঝি কোন দোষ নাই।  কিন্তু এই পর্যায়ের অন্যান্য হাদীসে আযানের জওয়াব দেওয়ার তাকীদ দেখা যায়।  হযরত আবূ সায়ীদ বর্ণিত তিরমিযী শরীফের হাদীসে স্পষ্ট ভাষায় বলা হইয়াছেঃ

************************

তোমরা যখন শুনিবে মুয়াযযিন আযানের ধ্বনি উচ্চারণ করিতেছে, তখন তোমরা সে যেসব কথা যেভাবে বলে তোমরাও তাহাই বলিবে।

উপরের হাদীসটি দেখিলেই বুঝিতে পারা যায় যে, মাত্র দুইটি বাক্য ছাড়া আর সব বাক্যের জওয়াবে শ্রোতাকে তাহাই বলিতে হয়, যাহা মুয়াযযিন বলে। যে বাক্য দুইটির জওয়াবে অনুরূপ কথা না বলিতে অন্য কথা বলিতে হয় তাহা রাসূলে করীম (স)- এর নির্দেশ অনুসারে, কাহারো ইচ্ছামত নয়।

 

আযানের জওয়াব দিলে ও শেখানো বাক্যগুলি জওয়াব সরূপ বলিলে জান্নাতে যাওয়ার সওয়াব পাওয়া যাইবে এই কারণে যে, আযানের বাক্যগুলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং গভীর তাৎপর্যপূর্ণ।  প্রথমত ইহাতে তাওহীদ- তথা আল্লাহর একত্বের ঘোষণা রহিয়াছে, আছে আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্বের অকুণ্ঠ স্বীকৃতি এবং তাঁহার নিকট পরিপূর্ণ আনুগত্য ও অধীনতা স্বীকারের উদাত্ত ঘোষণা।  এই বাক্যসমূহের মাধ্যমে মুয়াযযিন এবং আযান শ্রোতা উভয়ই ঐকান্তিকভাবে আল্লাহর নিকট আত্মসমর্পন ঘোষণা করে।  আর বস্তুতই যে লোক এই গুণ অর্জন করিতে পারে বুঝিতে হইবে, সে প্রকৃত ঈমানদার।  ঈমানের গভীর তাৎপর্য ও ভাবধারা পুরোপুরি লাভ করিতে পারিয়াছে।  যাহার এইরূপ ঈমান হইবে সে ইসলামের পূর্ণাঙ্গ আদর্শ মানিয়া চলিতে সক্ষম হইবে।  আর জান্নাতে যাওয়ার অধিকারীও যে কেবল এই ধরনের লোকই হইতে পারে তাহা স্পষ্ট।

 

বস্তুত আযানের বাক্যসমূহ ইসলামী ঈমান ও আকীদার অত্যন্ত মৌলিক ঘোষণা।  প্রথমতঃ ইহাতে ঘোষণা করা হয় যে, আল্লাহ আছেন, তিনি স্বয়ংসম্পূর্ণ ও সর্বপ্রকার শিরক হইতে পবিত্র।  আল্রাহ যে সর্বদিক দিয়াই এক, একক, অনন্য, তাহার শরীক কেহই নাই, এই ঘোষণাই ইহাতে বড় ও বলিষ্ঠ হইয়া দেখা দিয়াছে।  আর ইহাই হইতেছে দ্বীন-ইসলামের মূল কথা, দ্বীন-ইসলামের সব কথার প্রথম ও প্রধান কথাই এই।

অতঃপর উহাতে হযরত মুহাম্মাদের আল্লাহর রাসূল- সর্বশেষ নবী হওয়ার ঘোষণা সোচ্চার হইয়া আছে।  আর আল্লাহর একত্ব বা তাওহীদ স্বীকার করিয়া লওয়ার পর ইহাই হইল ইসলামের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ কথা, যাহা মুসলিম মাত্রেরই ঈমানের অঙ্গ ও অবিচ্ছেদ্য অংশ।

ইসলামের এই মৌলিক দুইটি ঘোষণার ফলে ইসলামের জ্ঞানগত সাক্ষ্য সম্পূর্ণতা লাভ করে।  ইহার পরই শুরু হয় ইবাদত পালনের আহবান।  বলা হয়ঃ নামাযের জন্য আস।  বস্তুত যাবতীয় ইবাদতের মধ্যে নামাযই হইল সর্বপ্রথম ও সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত।  রাসূলের প্রতি বিশ্বাসের কথা ঘোষণা করার পরপরই নামাযের আহবান উচ্চারিত হয় এই কারণে যে, মুসলমানের প্রতি নামায যে ফরয তাহা নবীর নিকট হইতেই জানা গিয়াছে, মানুষ ইহা নিজস্ব বুদ্ধি ও বিবেক দ্বারা উদ্ভাবন করে নাই।  ইহার পর বলা হয়ঃ আস মহা কল্যাণের দিকে। বস্তুত প্রথমোক্ত ঈমান ও ঈমানের পর নামায ও অন্যান্য ইবাদত পালনই হইল প্রকৃত কল্যাণের উৎস সর্বাত্মক কল্যাণ লাভের একমাত্র উপায়।  ‘ফালাহ’ অর্থাৎ চুড়ান্ত সাফল্য, কল্যাণ ও স্থায়ী নিয়ামতসমূহের স্থিতি।  আর তাহা লাভ করার প্রকৃত ক্ষেত্র হইল পরকাল।  তাই বলিতে হইবে, এখানে পরকালের প্রতি ঈমানেরও ঘোষণা রহিয়াছে এবং ইহার দ্বারাই ইসলামী ঈমান সম্পূর্ণতা লাভ করে।

 

আবূ দাউদ বর্ণিত হাদীসে বলা হইয়াছেঃ

*****************

মুয়াযযিন যখন আযান দেয়, তখন তুমি উহার জওয়াব দাও।

এই জওয়াব দেওয়ার নির্দেশ পালনের প্রথম কাজ হইল, মুয়াযযিনের বলা কথাগুলির মৌখিক জওয়াব দান- জওয়াবে রাসূলের শেখানো বাক্যসমূহ বলা এবং দ্বিতীয় কাজ হইল নামাযে হাজির হওয়ার প্রস্তুতি গ্রহণ।  আর এই উভয়ই জওয়াবই হাদীস অনুযায়ী ওয়াজিব।

আযানের জওয়াব দেওয়া যেরূপ নির্দেশ দেওয়া হইয়াছে, নামাযের পূর্বক্ষণে যে ইকামত বলা হয়, উহার বাক্যগুলির’ও জওয়াব দেওয়া সুন্নাত।  আবূ ইমামা ও অন্যান্য সাহাবী হইতে বর্ণিত হইয়াছেঃ

*****************************

হযরত বিলাল (রা) যখন নামাযের প্রক্কালে ‘ইকামত’ বলিতে গিয়া  ************* ‘নামায এখনই কায়েম ও শুরু হইয়া গেল’ বলিলেন তখন নবী করীম (স) বলিলেনঃ ‘আল্লাহ উহাকে চিরদিন কায়েম রাখুন, উহাকে স্থায়ীভাবে চালু রাখুন। ‘

ইহা হইতে ইকামতের জওয়াব দেওয়ার রীতি স্পষ্টভাবে প্রমাণিতহয় এবং উহার অন্যান্যবাক্যের জওয়াবে আযানের বাক্যগুলির মতই জওয়াব দিতে হইলেও ইকামতদাতা যখন বলিবে, ‘কাদ-কামাতিসসালাত’ (নামায কায়েম হইল) তখন নামাযে উপস্থিত লোকদিগকে সেই কথা কয়টিই বলিতে হইবে যাহা নবী করীম (স) বলিয়াছেন বলিয়া এই হাদীসে উদ্ধৃত হইয়াছে।

পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের চার ওয়াক্তের আযান উপরোদ্ধৃত বাক্যসমূহই বলিতে হয়, ফজরের আযানে ‘হাই- আলাল ফালাহ’ বলা পর বলিতে হয়ঃ ********************** ‘নিদ্রা অপেক্ষা নামায ভালো’।  বিশেষ করিয়া ফজরের আযানে এই কথাটি অতিরিক্ত বলিতে হয় এইজন্য যে, এই আযান যখন দেওয়া হয় তখন সাধারণত সব মানুষই রাত্রি শেষের মধুর নিদ্রায় অচেতন হইয়া থাকে।  তাই নামাযের সময় উপস্থিত হইলে যে আর কাহারো ঘুমাইয়া থাকা উচিত নয় এবং ঘুমের চাইতেও অধিক গুরুত্বপূর্ণ কাজ নামায- যাহা তাঁহার সম্মুখে উপস্থিত, একথা ওজস্বিনী ভাষায় ঘোষণা করার প্রয়োজন দেখা দেয়।

 

ফজরের আযানের এই অতিরিক্ত বাক্যটির জওয়াবে শ্রোতাকে বলিতে হয়ঃ ***************** ‘তুমি সত্য বলিয়াছ এবং এই কথা বলিয়া তুমি বড় পূন্যের কাজ করিয়াছ, ইহার তাৎপর্য স্পষ্ট।  মুয়াযযিন যখন বলিয়াছে ‘নিদ্রা অপেক্ষা নামায অনেক ভালো’ তখন শ্রোতার উহার সত্যতার সাক্ষ্য দেওয়া উচিত, স্বীকার করিয়া লওয়া উচিত যে, হ্যাঁ ঠিকই, নিদ্রা অপেক্ষা নামাযই অনেক উত্তম সে কথা আমিও স্বীকার করি, তোমার ঘোষণার সাথে আমি  সম্পূর্ণ একমত।  অতঃপর অনতিবিলম্বে নামাযের জন্য যে প্রস্তুতি গ্রহণ করিতে হয়, তাহা বলাই বাহুল্য।

 

আযানের দোয়া

*****************************

হযরত সা’দ ইবনে আবূ ওয়াক্কাস (রা) নবী করীম (স) হইতে বর্ণনা করিয়াছেন, তিনি বলিয়াছেন, মুয়াযযিনের আযান শুনিয়া যে বলিতেঃ আমিও সাক্ষ্য দিতেছি যে, আল্লাহ ছাড়া ইলাহ নাই, তিনি এক ও একক।  তাঁহার কেহ শরীক নাই এবং মুহাম্মাদকে রাসূল ও ইসলামকে আমার দ্বীন- পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থারূপে মানিয়া লইয়াছি ও গ্রহণ করিয়াছি, তাহার গুনাহ খাতা মাফ করিয়া দেওয়া হইবে। – তিরমিযী

 

ব্যাখ্যা ‘আযান’ ইসলামী আকীদা বিশ্বাসের জ্বলন্ত ঘোষণা।  মুয়াযযিন যখন এই ঘোষণা আকাশে বাতাসে প্রচার করিয়া দেয়, তখন সমাজের শ্রোতাদের উহা মনোযোগ সহকারে শোনা, উহার বাক্যগুলির নির্দিষ্ট জওয়াব দেওয়া এবং আযান শেষে এই সম্পর্কে একটা প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করা বিশেষ কর্তব্য।  এই কর্তব্য পালনের পথ দেখানো হইয়াছে এই দোয়া শিক্ষা দিয়া।  এই দোয়ার মূল চারিটি কথার আন্তরিক ও অকৃত্রিম স্বীকৃতি শামিল করা হইয়াছে।  বস্তুত আযানের প্রচন্ড ঘোষণা শ্রবণের পর এই কথাগুলির স্বীকৃতি স্বতঃস্ফুর্তভাবেই হইয়া থাকে- হওয়া বাঞ্চনীয়।  ইহাতে আল্লাহর একত্ব ও হযরত মুহাম্মাদের নব্যুয়্যত ও রিসালাতের সাক্ষ্যদানের সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহকে রব, মুহাম্মদ (স)-কে রাসূল এবং ইসলামকে পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থারূপে মানিয়া লওয়ার অঙ্গীকার উল্লেখিত হইয়াছে।  আর ইসলামের ঈমান ও আকীদার দিক দিয়া এই অঙ্গীকার এবং বারে বারে – দিন রাত্রের মধ্যে পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের পূর্বে দেওয়া এই অঙ্গীকার- খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং সুদূর প্রভাব বিস্তারকারী, তাহাতে সন্দেহ নাই।

 

কিন্তু আযানের পর যে দোয়া পড়া সাধারণভাবে প্রচলিত, তাহাতে পূর্বোক্ত হাদীসে উদ্বৃত্ত দোয়ার পূর্বে আরো কিছু কথা রহিয়াছে।  হযরত জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ্ কর্তৃক তাহা বর্ণিত হইয়াছে।  ইহাই দোয়ার প্রথম অংশ।  তাহা এইঃ

**********************************************

নবী করিম (স) বলিয়াছেনঃ যে লোক আযানের ধ্বনি শুনিয়া বলিবে, হে আমাদের আল্লাহ্ ! তুমিই এই পূর্ণাঙ্গ তৌহীদী আহবান ও স্থায়ী চিরন্তন নামাযের রর, তুমি মুহাম্মদ (স) কে জান্নাতের ‍‌‌”অসীলা” নামক মর্যাদা, সর্বোচ্চ সম্মান এবং তোমার ওয়াদা মুতাবিক ‘মাকামে মাহমুদ’ দান কর, তাহার জন্য কিয়ামতের দিন শাফা’আত অবশ্য প্রাপ্য (ওয়াজিব) হইয়া যাইবে।

এই হাদীসে আযানকে মোটামুটি ‘দাওয়াতিত তাম্মাহ’-‘পূর্ণাঙ্গ আহবান’ নামে অভিহিত করা হইয়াছে।  কেননা আযানে ঘোষিত বাক্যসমূহ আল্লাহর বান্দাদের প্রতি তাঁহার বন্দেগীর জন্য আকুল আহবান।  ইহাই তাওহীদের দাওয়াত। এই ‘দাওয়াত’ পূর্ণাঙ্গ ও পূর্ণ পরিণত।  কেননা ইহাই সব শিরক খতম করে।  সব ত্রুটি-বিচ্যুতি হইতে ইহা পবিত্র।  এই দাওয়াত কোনরূপ পরিবর্তন সূচিত হইতে পারে না, ইহা কিয়ামত পর্যন্তই স্থায়ী ও অপিরবর্তিত থাকিবে।  ইহার বিপরীত কথা দুনিয়ায় ও জীবনে চরম বিপর্যয় সৃষ্টি করিবে অনিবার্যভাবে।  এই ‘আযান’ দিয়া যে নামাযের দিকে মুসলমানকে আহবান করা হয়, তাহা চিরদিন কায়েম থাকিবে, কোন জাতি তাহা পরিবর্তন করিতে এবং কোন শরীয়তই ইহাকে বাতিল করিতে পারিবে না। যতদিন এই বিশ্বলোক- এই পৃথিবী কায়েম আছে, ততদিনই ইহা কায়েম ও স্থায়ী থাকিবে।

এই হাদীসে যে ‘মাকামে মাহমুদ’- এর কথা বলা হইয়াছে, ইহা কোন বিশেষ একটি স্থান নয় এবং যেখানেই আল্লাহর হামদ্ করা হয় এবং যাহাই অতীব সম্মানজনক স্থান, তাহাই এই নামে অভিহিত হইতে পারে।  ইহা রাসূলে করীম (স)-কে দেওয়া হইবে বলিয়া কুরআন মজীদে ওয়াদা করা হইয়াছে।  বলা হইয়াছেঃ

**************************************************************

তোমার আল্লাহ্ তোমাকে প্রশংসনীয় স্থানে অবশ্য পাঠাইবেন।

আল্লামা ইবনে জাওযীর মতে ‘মাকামে মাহমুদ’ বলিয়া মাফা’আত করার অধিকার বুঝাইয়াছে এবং কিয়ামতের দিন তিনি এক অতীব প্রশংসনীয় স্থানে উপবেশন করিয়া তাঁহার উম্মতের জনৌ শাফা’আত করিবেন। সেই স্থানেরই হয়ত অপর নাম ‘আল-আসীল’ কিংবা ‘আল-ফাযীলা’।

বস্তুত  ইহা এক ব্যাপক অর্থ ও গভীর ভাবধারাপূর্ণ দোয়া। আযান শোনার পর প্রত্যেকেরই এই দোয়া খুবই আন্তরিকতা সহকারে পাঠ করা উচিত।

মুসলমানেরা আযানের পর সাধারণতঃ যে দোয়া পড়েন, তাহাতে উপরোদ্ধৃত হাদীসে উল্লেখিত দোয়া হইতে দুইটি বাক্য অতিরিক্ত। একটি হইল, ********************** এর পর ***************** আর দ্বিতীয়টি হইল দোয়ার শেষেঃ

******************************** নিশ্চয় তুমি-হে আল্লাহ ওয়াদা খিলাপ কর না। উহার মুল উৎস যে কি তাহা কারো জানা নাই। ইমাম বুখারী বলিয়াছেনঃ

******************************

হাদীসের কোন একটি বর্ণনায়ও আমি উহা দেখিতে পাই নাই।

আর দ্বিতীয় বাক্যটি বায়হাকী’র বর্ণনায় উদ্ধৃত হইয়াছে। কাজেই উহাতে কোনরূপ সন্দেহ নাই।

 

About মাওলানা মুহাম্মাদ আবদুর রহীম