মানবতার বন্ধু মুহাম্মদ রসূলুল্লাহ্ সা.

সম্পুর্ণ সূচীপত্র

পরিশিষ্ট-১

নবী জীবনের ঘটনাবলীঃ কালগত ধারা বিন্যাস

পুস্তকের আলোচ্য বিষয়গুলোতে মোটামুটিভাবে কালগত ধারাবিন্যাস করা হয়েছে। তবে খুঁটিনাটি বিষয়গুলোতে এই ধারাবিন্যাসের দিকে দৃষ্টি না দিয়ে বিষয়ভিত্তিক বিভিন্ন সময়কার ঘটনাবলীকে একত্রিত করা হয়েছে। কিন্তু ইতিহাস ও জীবনী শাস্ত্রে ঘটনাবলীর কালগত ধারাবাহিকতা খুবই গুরুত্ববহ। এই প্রয়োজন পূরণের নিমিত্তে নিম্নের নকশাটি পরিশিষ্ট হিসেবে পুস্তকের অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে, যাতে করে এক নজরে নবী জীবনের সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলী চোখের সামনে ভেসে ওঠে।

যে যে কারণে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার দিন ও তারিখ সম্পর্কে মতভেদ ঘটে তা নিম্নরূপঃ

রসূল সা. এর নবুয়ত লাভের পূর্বেকার ঘটনাবলীকে “আমুল ফীল” তথা “হস্তিবাহিনীর কা’বা আক্রমণের সন” বা রসূল সা. এর জন্মের সনের হিসেব অনুযায়ী উল্লেখ করা হয়ে থাকে এবং এই সব সনকে খৃষ্টীয় সনের সাথে সমন্বিত করা হয়। হস্তিবাহিনীর সন-১ এবং রসূল সা. এর জন্মের সন-১ যদিও মোটামুটিভাবে একই সন, কিন্তু হস্তিবাহিনীর সনের প্রথম দিন ছিল হস্তিবাহিনীর আক্রমণের দিন। (অর্থাৎ ১৭ই মুহাররম বৃহস্পতিবার)। পক্ষান্তরে রসূল সা. এর জন্মের সন হস্তী সন শুরুর ৫০ বা ৫৫ দিন অর্থাৎ প্রায় দু’মাস পর শুরু হয়। উভয় সনের এই পার্থক্যকে ঐতিহাসিকগণ ও বর্ণনাকারীগণ হয় পুরোপুরিভাবে উপেক্ষা করেছেন, নয়তো তারা উল্লেখ করেননি যে, কোন সন বুঝাচ্ছেন। এরফলে একটি বছর শুরু হচ্ছে রবিউল আউয়াল থেকে, অপরদিকে প্রচলিত চন্দ্র বছর শুরু হয় মুহাররম থেকে। এভাবে হিসাবের গোলমাল বেড়ে যায়। উদাহরণ স্বরূপ যদি জন্মের বছরের শুরু মুহাররম মাস থেকে ধরা হয়, তাহলে হিজরত সংঘঠিত হয় চতুর্দশ জন্ম বছরে। কিন্তু যদি বছরের শুরু রবিউল আউয়াল থেকে ধরা হয়, তাহলে হিজরত সংঘঠিত হয় জন্ম সনের ত্রয়োদশ বছরে। ঐতিহাসিকগণ উভয় সনই লিখেছেন।

হযরত ওমর রা. নিজ খেলাফত যুগে নিয়মতান্ত্রিকভাবে ইসলামী হিজরী সন চালু করেন ১৭ হিজরীর ২০শে জমাদিউসসানী তারিখ বৃহস্পতিবার। এর আগে হিজরী সন নিয়মিতভাবে চালু ছিলনা এবং ঐ সন অনুসারে ঘটনাবলীর সময় নির্ধারণ রেওয়াজও ছিলনা। এ জন্য সহীহ হাদীস গ্রন্থ সমূহে কোন্ ঘটনা কোন্ হিজরী সনে ঘটেছিল, তার উল্লেখ দেখতে পাওয়া যায়না। হিজরী সনকে গ্রহণ করার পর সাবেক ঘটনাবলীর কালগত ধারাবিন্যাস হিজরী সন অনুসারে করা হতে থাকে।

এরপর হিজরত থেকে যে চন্দ্রবর্ষ গণনা শুরু হয়, তাও দু’ভাগে গণনা করা যায়। একটা হলো, হিজরতের মাস, রবিউল আউয়াল থেকে বর্ষের গণনা শুরু করা। অপরটি হিজরতের বর্ষ গণনা করে চন্দ্র বর্ষের প্রচলিত প্রথম মাস মুহাররাম থেকেই গণনা শুরু করা। এর অর্থ দাঁড়ায়, প্রথম হিজরী বর্ষ রবিউল আউয়াল থেকে যিলহজ্জ পর্যন্ত দশ মাসের গণনা করা হবে। হাদীস বিশারদগণ, সীরাত লেখকগণ ও ঐতিহাসিকগণ হিজরী বর্ষকে এই দু’ভাগেই গণনা করেছেন। কিন্তু বর্ষকে কিভাবে গণনা করা হয়েছে, সেটা সুস্পষ্টভাবে খুব কমই উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া বিভিন্ন রেওয়ায়েতে তারিখের সাথে যে দিনের উল্লেখ পাওয়া যায়, সেটা দুটোর মধ্যে মিল খুঁজে পাওয়া যায়না। দুটোর মধ্যে যেটির নির্ভরযোগ্যতা পাওয়া যায় অথবা রেওয়ায়েতের মতৈক্য পরিলক্ষিত হয়, সেটিকে ভিত্তি করে অপর দিকটা হিসাব করে স্থির করা হয়।

সবচেয়ে জটিল সমস্যার সৃষ্টি হয় ক্যালেন্ডার ও বিভিন্ন বর্ষধারার সমন্বয় করতে গিয়ে। কেননা ইতিহাস গ্রন্থাবলীতে কোন নির্দিষ্ট ক্যালেন্ডার বা বর্ষধারার উল্লেখ নেই। ক্যালেন্ডারের এই হেরফের এ কারণেও বেড়ে যায় যে, বিভিন্ন সৌরবর্ষ ছাড়াও খোদ্ খৃষ্টীয় ক্যালেন্ডারও কখনো কখনো এক সাথে একাধিক চালু থাকতো; একটা সৌর ক্যালেন্ডার, অপরটা চন্দ্র ক্যালেন্ডার। তাছাড়া খৃ্ষ্টীয় ও অন্যান্য ক্যালেন্ডার নিয়মে রদবদল হতে থাকতো। এখন কয়েক শতাব্দি পর দিন ও তারিখের সমন্বয়ে হিসাব করতে গেলেই বিভিন্ন দিক দিয়ে মতভেদের অবকাশ সৃষ্টি হয়ে যায়।

কিছু কিছু ঘটনা ও কর্মকান্ডকে তার সুনির্দিষ্ট দিন তারিখ সহকারে গুরুত্বপূর্ণ হাদীসেও বর্ণনা করা হয়নি। কোরআন ও হাদীসের আলোকে শুধু এতটুকুই নির্দিষ্টভাবে জানা যায় যে, কোন ঘটনা অমুক ঘটনার আগে বা পরে ঘটেছে। কিন্তু কিছু কিছু ঘটনা (যেমন তায়াম্মুমের অনুমতি, নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য বিয়ে তথা মুতয়া বিয়ে নিষিদ্ধ ঘোষণা, পর্দার বিধান বাস্তবায়ন এবং বিভিন্ন চুক্তি, যুদ্ধ ও সেনাদল প্রেরণ) সম্পর্কে তারিখ নির্ণয় ছাড়া নিছক ভাসাভাসা কালগত ধারাবাহিকতা স্থির করার ব্যাপারেও হাদীসের বর্ণনা পরস্পর বিরোধী।

মোটামুটিভাবে ধরে নেয়া যেতে পারে যে, রসূল সা.এর জীবনের সবকটা গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাকে বিশদভাবে সুনিশ্চিত দিন তারিখ নির্ণয়সহ পেশ করা কঠিন। বড় বড় সীরাত লেখক, মুফাসসির, হাদীসবিশারদ, ফেকাবিদ- যারা সুখ্যাতি সম্পন্ন তথ্য অনুসন্ধান করতে অভ্যস্ত, তাদের মধ্যেও দিন তারিখ নিয়ে বিস্তর মত পার্থক্য দেখতে পাওয়া যায় এবং প্রত্যেকের দৃষ্টিভঙ্গীর পক্ষে ও বিপক্ষে দীর্ঘ যুক্তিতর্ক রয়েছে।

বর্তমান সীরাত গ্রন্থটি লিখতে গিয়ে আমি এই সব মতভেদ ও ক্যালেন্ডারের হিসাব নিয়ে যথাসাধ্য অধ্যয়ন, তথ্যানুসন্ধান ও চিন্তাগবেষণার পর একটা নির্দিষ্ট মত ‘আলোচ্য ঘটনাসূচী’তে স্থির করে দিয়েছি এবং গুরুত্বপূর্ণ মতবেধগুলো সংক্ষেপে উল্লেখ করেছি। সব ক’টা ভিন্নমতকে সবিস্তারে উল্লেখ করে পাঠককে বিব্রত করা যেমন সমীচীন ছিলনা, তেমনি তার অবকাশও এখানে ছিল না। এ কাজ যদি করাও হয়, তবে সম্পূর্ণ পৃথকভাবে করা দরকার। আমাদের এই ‘ঘটনাসূচী’তে হিজরতের পূর্ববর্তী ঘটনাবলীকে হয় ‘আমুল ফীল’ (হস্তি বাহিনীর আগ্রাসন বর্ষ) অথবা রসূল সা. এর জন্ম বর্ষের হিসাব অনুযায়ী উল্লেখ করা হয়েছে, নচেত নবুয়ত বর্ষ হিসাবে কোথাও কোথাও রাসূল সা. এর বয়সকেই সময় নির্ণয়ের মাপকাঠি ধরা হয়েছে।

(১) রসূল সা. এর জন্মদিন-

(বসন্তকালের সোমবার (এই দিন সম্পর্কে মতৈক্য রয়েছে) তারিখ ৯ই রবিউল আউয়াল, হস্তি বর্ষ-১, (হস্তিবাহিনীর আক্রমণের ৫০ দিন পর)মোতাবেক ২২শে এপ্রিল, ৫৭১ খৃষ্টাব্দ, ১লা জৈষ্ঠ, ৬২৮ বিক্রমাব্দ সুবহে সাদেক (সূর্যোদয়ের পর)। সর্বাধিক প্রসিদ্ধ মতানুসারে ১২ ই রবিউল আউয়াল।)

(তাবারী ও ইবনে খালদুন ১২ রবিউল এবং আবুল মিকদাদ ১০ই রবিউল আউয়াল বলে উল্লেখ করেছেন। কিন্তু যেহেতু সোমবার সম্পর্কে মতৈক্য রয়েছে। অথচ সোমবার ৯ই রবিউল আউয়ালেই পড়ে। তাই মুহাম্মদ তালাত বেগ (আরব ঐতিহাসিক) এবং কাযী সুলায়মান মানসুর পুরী পঞ্জিকার হিসাব নিয়ে চুলচেরা গবেষণা করার পর ৯ই রবিউল আউয়ালের পক্ষেই রায় দিয়েছেন। মিশরের প্রখ্যাত জ্যোতির্বিদ মাহমুদ পাশা বৈজ্ঞানিক যুক্তিপ্রমাণ দিয়ে বলেছেন, রসূল সা. এর জন্ম তারিখ ৯ই রবিউল আউয়াল মোতাবেক ২০শে এপ্রিল, ৫৭১ খৃষ্টাব্দে। আল্লামা শিবলী নোমানীও এই মতকে সমর্থন দিয়েছেন। তবে গ্রেগরিয়ান নিয়মে দিনটা হয়ে ২২শে এপ্রিল। এই নিয়মের অধীন ১৭৫২ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে নতুন খৃষ্টীয় ক্যালেন্ডার চালু হয়েছে। প্রাচীন ক্যালেন্ডারের নিয়মানুসারে ঐ দিনটি নির্দ্ধারিত হয়েছে ১৯শে এপ্রিল সন জুলিয়ান ৫২৮৪ অব্দ। রসূল সা. এর জন্ম হস্তিবাহিনীর আক্রমণের ৫৫দিন পর না ৫০ দিন পর হয়েছিল, তা নিয়েও মতভেদ রয়েছে, তা দৃশ্যত ৫০ দিন পরের মতটাই সঠিক বলে মনে হয়।

আসাহাহুস্ সিয়ার গ্রন্থকার মাওলানা আব্দুর রউফ দানাপুরি ৮ বা ১২ই রবিউল আউয়াল উল্লেখ করেছেন, তবে যু্ক্তিতর্কের উল্লেখ করেননি। কেউ কেউ ১লা মুহাররম এবং খৃষ্টীয় তারিখ হিসাবে ১২ বা ১৫ই ফেব্রুয়ারী উল্লেখ করেছেন। ইবনে ইসহাকের মতে ১২ই রবিউল আউয়াল রাত অতিবাহিত হওয়ার পর রসূল সা. এর জন্ম হয়। আমার দৃষ্টিতে ৯ই রবিউল আউয়ালের মতটাই অগ্রগণ্য মনে হয়।)

(২) দুধ খাওয়ার মেয়াদ শুরু- ৪ মাস বয়সে (জন্মের ২ বা তিন দিন পর আবু লাহাবের ক্রীতদাসী ছাওবিয়ার দুধ কয়েকদিন পান করেন। নিয়মিত দুধ খাওয়ার মেয়াদ তিনি ধাত্রী হালিমার বাড়িতেই কাটান। এই বাড়ী মরুভূমির ভেতরে অবস্থিত।

(৩) রসূল সা. এর মায়ের ইন্তিকাল -৬ বছর বয়সে

(৪) রসূল সা. এর দাদার ইন্তিকাল -৮ বছর ২ মাস ১০ দিন বয়সে

(৫) প্রথম সিরিয়া সফর (চাচা আবু তালেবের সাথে) -১২ বছর ২ মাস বয়সে (খৃষ্টান সন্নাসী বুহায়রার সাথে সাক্ষাত হয় এই সফর কালেই)

(৬) ফুজ্জার যুদ্ধে প্রথম অংশগ্রহণ -১৫ বছর বা কিছু বেশী বয়সে

(৭) ফুজ্জার যুদ্ধে দ্বিতীয়বার অংশগ্রহণ -প্রথমবারের কিছুকাল পরে। সময় অজ্ঞাত

(৮) সংস্কারমূলক সংগঠন হিলফুল ফুযুলে যোগদান -১৬ বছর বয়সে

(৯) সিরিয়ায় দ্বিতীয় সফর ব্যবসায়ী হিসেবে -২২ বা২৫ বছর বয়সে

(১০) হযরত খাদিজার সাথে বিয়ে -২৫ বছর ২ মাস ১০ দিন বয়সে

(১১) রহস্যময় ঘটনাবলীর সুচনা –নবুয়তের ৭ বছর আগে

(১২) সালিশ নির্বাচিত হওয়া -৩৫ বছর বয়সে

(১৩) নবূয়ত লাভ -৪০ বছর ১১ দিন বয়সে। ৯ই রবিউল আউয়াল জন্ম সন ৪১, মোতাবেক ১২ই ফেব্রুয়ারী, ৬১০ খৃষ্টাব্দ, সোমবার।

কা’বা শরীফের সংস্কারের সময় হজরে আসওয়াদ পুনস্থাপন নিয়ে বিরোধ বাধে। সবাই তাকে বিশ্বস্ত আখ্যয়িত করে সালিশ মানে। তিনি বিরোধের চমৎকার নিষ্পত্তি করেন। এই তারিখটা নিয়েও বিস্তর মতভেদ রয়েছে। একটি মতানুসারে চন্দ্র বর্ষের ক্যালেন্ডারের হিসেবে ৪০ বছর ৬ মাস ১৬ দিন এবং সৌর ক্যালেন্ডারের হিসেবে ৩৯ বছর ৩ মাস ১৬ দিন বয়সে। নবুয়তের খোদায়ী ঘোষণা হেরা পর্বত গুহায় নাযিল হয়। তারিখটা ছিল কারো মতে ২৫শে রমযান, কারো মতে ১৩ই রবিউল আউয়াল। খৃষ্টীয় ক্যালেন্ডারের হিসেবে ১২ই ফেব্রুয়ারী ও ৬ই আগষ্ট ৬১০ খৃষ্টাব্দও বলা হয়েছে। তবে এই সমস্ত মতভেদ পঞ্জিকার হিসেবের জটিলতা থেকে উদ্ভুত। অস্পষ্টতার আরো একটা কারণ এই যে, নবুয়তের ঘোষণা এবং কোরআন নাযিল হওয়ার সময়টা হাদীসের বর্ণনাতেই দু’রকমের। যাদুল মায়াদে ৮ তারিখ লেখা হয়েছে। কিন্তু পঞ্জিকার হিসেব অনুসারে সোমবার পড়ে ৯ তারিখে। নবূয়াতের ঘোষণা দেয়া হয় এভাবে যে, হযরত জিবরীল গুহার ভেতরে তাঁর সামনে এসে বললেন, “সুসংবাদ নিন। আপনি আল্লাহর রসূল। আর আমি জিবরীল।” হযরত জিবরীলকে এভাবে প্রকাশ্যে দেখে তিনি কিছুটা ভড়কে যান এবং হযরত খাদীজা তাঁকে সান্ত্বনা দেন।

(১৪) নামায ফরয হওয়া (ফরয ও আছরের দুই দুই রাকায়াত) – ৯ই রবিউল আউয়াল নবূয়ত লাভের দিন।

(১৫) কোরআন নাযিল হওয়ার সূচনা -১৮ই রমজান, নবূয়ত বর্ষ-১ শুক্রবার (রাত্রে)

মোতাবেক ১৭ই আগষ্ট, ৬১০ খৃষ্টাব্দ।

(১৬) গোপন দাওয়াতের কাজ শুরু – নবূয়ত বর্ষ-১ থেকে ৩ পর্যন্ত।

এ পর্যায়ে সূরা আলাক নাযিল হয়। তাবারী ১৭ ও ১৮ এই দুটো তারিখই লিখেছেন। কিন্তু পঞ্জিকার হিসাব অনুসারে ১৮ই রমযান শুক্রবার হয়।আকরাম মাখযুমীর সাফা পাহাড়ে অবস্থিত বাড়ীটি ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রে পরিণত হয়। এই সময় প্রায় ৪০ ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ করেন। শহরের বাইরে গিয়ে গোপনে নামায পড়া হতো।

(১৭) নবূয়তের ঘোষণা (প্রথম ভাষণ) -নবূয়ত বর্ষ-৩ (শেষের দিকে)

(১৮) বিরোধিতার প্রথম যুগ (ঠাট্টা বিদ্রুপ, অপপ্রচার ও অল্প স্বল্প নির্যাতন) -নবূয়ত বর্ষ-১ থেকে ৫ পর্যন্ত বিস্তৃত।

(আবু তালেবের ওপর চাপ প্রয়োগের জন্য কোরায়েশ প্রতিনিধি দলের আলোচনা অব্যাহত। বিরোধিতার জন্য নানা রকম কৌশল উদ্ভাবন।)

(১৯) প্রচন্ড বিরোধিতার দ্বিতীয় যুগ (সর্বব্যাপী যুলুম নির্যাতন) -৫ থেকে ৭ম নবুয়ত বর্ষ

(২০) আবিসিনিয়ায় হিজরত –জন্ম বর্ষ ৪৫ এর রজব মাস, নবুয়ত বর্ষ-৫, নবুয়ত বর্ষ-৬

(২১) হযরত হামযা ও হযরত ওমরের ইসলাম গ্রহণ –নবুয়ত বর্ষ-৬

(হযরত ওমর রা. হামযার তিন দিন পর ইসলাম গ্রহণ করেন। কারো কারো মতে, নবূয়তের দ্বিতীয় বছর হযরত হামযা ইসলাম গ্রহণ করেন।)

(২২) রসূল সা. এর গোত্র বনু হাশেমের নজরবন্দী ও অবরোধ “শিয়াবে আবু তালেব” নামক পার্বত্য উপত্যকায় -১লা মুহররম, ৭ম নবূয়ত বর্ষ, ৪৭তম জন্মবর্ষ, মঙ্গলবার।

(২৩) নজরবন্দী ও অবরোধের অবসান -নবূয়ত বর্ষ-৯ এর শেষভাগ বা নবূয়ত বর্ষ-১০ এর প্রথমভাগ।

(২৪) “শোকাবহ বছর” আবু তালেব ও হযরত খাদীজার ইন্তিকাল -নবূয়ত বর্ষ-১০

(২৫) তায়েফ সফর -জমাদিউস সানী, জন্মবর্ষ-৫০ নবূয়তবর্ষ-১০

(আবু তালেবের মৃত্যুর ৩ বা ৫ দিন পর হযরত খাদীজা রমজান মাসে ইন্তিকাল করেন।

মতান্তরে ২৬-২৭ শওয়াল, নবূয়তবর্ষ-১০।)

(২৬) মেরাজ -২৭শে রজব, জন্মবর্ষ-৫০ নবূয়ত বর্ষ-১০, সোমবার (রাত্রে)

(২৭) পাঁচ ওয়াক্ত নামায ফরজ -২৭শে রজব, জন্মবর্ষ-৫০ নবূয়ত বর্ষ-১০, সোমবার (রাত্রে)

(২৮) মদিনায় ইসলামের সূচনা -জিলহজ্জ, জন্মবর্ষ-৫০ নবূয়তবর্ষ-১০

(আয়াস বিন মুয়ায সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণ করেন।)

(২৯) ৬ জন মদীনাবাসীর ইসলাম গ্রহণ -জিলহজ্জ, জন্মবর্ষ-৫১ নবূয়তবর্ষ-১১

(৩০) প্রথম আকাবার বায়য়াত (১২ ব্যক্তি) –জিলহজ্জ, জন্মবর্ষ ৫২,নবুয়ত বর্ষ ১২

(৩১) দ্বিতীয় আকাবার বায়য়াত (৭৫ ব্যক্তি) -–জিলহজ্জ, জন্মবর্ষ-৫৩,নবুয়ত বর্ষ-১৩

(৩২) হিজরত -২৬ শে সফর রাত

(এই ঘটনার সময় রসূল সা. এর বয়স ৫৩ পার হয়ে ৫৪-তে এবং নবূয়তের ১৩ বছর পার হয়ে ১৪ বছরে পদার্পণ করে।)

ক. মক্কা থেকে সূর পর্বতগুহা -জন্মবর্ষ-৫৩,নবুয়ত বর্ষ-১৩

খ. সুর পর্বতগুহা থেকে যাত্রা শুরু -১লা রবিউল আউয়াল সোমবার, মোতাবেক ১৫ই সেপ্টেম্বর, ৬২১ খৃ:

গ. কোবায় উপস্থিতি -৮ই রবিউল আউয়াল জন্মবর্ষ-৫৩, নবূয়তবর্ষ-১৩ মোতাবেক, ২৩ সেপ্টেম্বর ৬২২ খৃষ্টাব্দ সোমবার

ঘ. কোবা থেকে মদিনায় যাত্রা ও মদিনায় প্রবেশ -১২ই রবিউল আউয়াল হিজরীবর্ষ-১ নবূয়তবর্ষ-১৪ শুক্রবার

(বনুসালেম গোত্রের এলাকায় জুময়ার নাময আদায় করেন। কারো কারো মতে তিনি ১৪ দিন কোবায় অবস্থান করেন।)

(৩৩) মসজিদে নববীর ভিত্তি স্থাপন -রবিউল আউয়াল হিজরীবর্ষ-১

(৩৪) ফরয নামাযের রাকাত বৃদ্ধি -রবিউল আউয়াল হিজরীবর্ষ-১

(জোহর, আসর ও এশার চার রাকাত নাময ফরয করা হয়।

হযরত আনাসের বাড়ীতে ভ্রাতৃত্ব সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে রসূল সা. এর সামনে ৯০ জন আনসার ও মোহাজেরের উপস্থিতি।)

(৩৫) মোহাজের ও আনসারদের মধ্যে আনুষ্ঠানিক ভ্রাতৃত্ব -হিজরীবর্ষ-১ এর প্রথম তিনমাস।

(৩৬) ইসলামী রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা, মদিনার জনগণের পারস্পরিক সাংবিধানিক চুক্তি সম্পাদন – হিজরীবর্ষ-১ এর মধ্যভাগ

(৩৭) প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বাস্তবায়ন শুরু –হিজরতের ৭ম মাসের শুরুতে।

(সামরিক মহড়াও টহলদানের জন্য একের পর এক তিনটে সেনাদল প্রেরণ-(১) সপ্তম মাসে হযরত হামযার নেতৃত্বে ৩০ ব্যক্তির সেনাদল সাইফুল বাহর পর্যন্ত চলে যায়। (২) ৮ম মাস শওয়ালে ৬০ বা ৮০ জনের বাহিনী উবাইদা ইবনুল হারেসের নেতৃত্বে রাবেগ পর্যন্ত গমন করে। (৩) নবম মাস জিলকদে সা’দ ইবনে ওয়াক্কাসের নেতৃত্বে ২০ জনের সেনাদল খায়বার পর্যন্ত যায়। এর পর রসূল সা. স্বয়ং একটি দল নিয়ে ওয়াদ্দান পর্যন্ত যান। এই বাস্তব পরিস্থিতির কারণে জেহাদের অনুমতি সম্বলিত বিখ্যাত আয়াত হিজরী ২ সালে নযিল হয়েছে- এই বক্তব্যের সাথে আমি একমতহতে পারিনি। হিজরী ২ সালে আসলে সশস্ত্র জেহাদের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এর আগে সংঘর্ষে যাওয়া থেকে বিরত থাকা হতো। কিন্তু প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বাস্তবায়নের জন্য অবশ্যই কোন না কোন আয়াত নাযিল হওয়া দরকার ছিল। এ জন্যই জেহাদের অনুমতি সম্বলিত আয়াত হিজরতের আগে নাযিল হয়েছে বলে আমার বিশ্বাস। এর উদ্দেশ্য ছিল এই যে, মুসলিম জামায়াতের মন দাওয়াতের ধৈর্যের যুগ থেকে অনাগত জেহাদের যুগের দিকে স্থানান্তরিত হোক এবং তারা যেন মদিনায় পৌছা মাত্রই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সংগঠিত ও বাস্তবায়িত করার কাজ শুরু করে।)

(৩৮) হযরত আয়েশার রসূলের সাথে হেরেমে আগমন -শওয়াল, ১ম হিজরী।

(৩৯) দু’জন শীর্ষ ব্যক্তিত্বের ইসলাম গ্রহণ সাবেক ইহুদী আলেম আবদুল্লাহ বিন সালাম এবং খৃস্টান সন্যাসী আবু কায়েস সারহা -হিজরীবর্ষ-১।

(৪০) জেহাদের অনুমতি (সক্রিয় সামরিক ব্যাবস্থা গ্রহণের অনুমতি) -১২ই সফর, হিজরীবর্ষ-২ বা হিজরতের ১ বছর ২মাস ১দিন পর।

(৪১) রসূল সা. এর প্রথম সশরীরে সামরিক ও রাজনৈতিক সফর ওয়াদ্দান অভিযান -হিজরতের ১২শ মাসে।

(৪২) বহিরাগত গোত্রগুলোর সাথে চুক্তিভিত্তিক মৈত্রী- বনু যামরা, বুয়াতবাসী – বনু মুদলিজ -সফর থেকে জমাদিউস সানী হিজরীবর্ষ-২।

(ঐতিহাসিকদের বিবরণ থেকে এটাও জানা যায় যে, জুহাইনা গোত্রের নেতা মাজদী জুহাইনী বনু যামরা গোত্রের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার আগে থেকেই মদিনার সাথে মৈত্রী সম্পর্ক রাখতো।)

(৪৩) কারয বিন জাবের ফেহরীর ডাকাতি (শত্রুর প্রথম আগ্রাসী তৎপরতা) -রবিউল আউয়াল হিজরীবর্ষ-২।

(৪৪) নাখলার ঘটনা (মুসলিম সেনাদলের সাথে প্রথম সীমান্ত সংঘর্ষ) -রজবের শেষভাগ হিজরীবর্ষ-২।

(আমর বিন হাযরামী নামক একজন কাফের নিহত। উট ও মালপত্র সমেত ২ জন বন্দীকে মদিনায় আনায়ন। রসূল সা. কর্তৃক এই সংঘর্ষে অসন্তোষ প্রকাশ।)

(৪৫) সালমান ফারসীর ইসলাম গ্রহণ -হিজরী-২।

(৪৬) আযানের প্রচলন -হিজরী-২।

(৪৭) যাকাত ফরয হয় -হিজরী-২।

(৪৮) কেবলা পরিবর্তন -১৫ই শাবান, হিজরী-২ সোমবার।

(৪৯) রমযান মাসের রোযা ফরয হয় -১লা রমযান, হিজরী-২ বুধবার।

(যেহেতু অধিকাংশ বর্ণনা মোতাবেক বদর যুদ্ধের দিন অর্থাৎ ১৭ই রমযান শুক্রবার ছিল, তাই হিসাব অনুযায়ী ১লা রমযান বুধবার হওয়ারই কথা।

এজন্য যে বর্ণনায় ১লা রমযান রবিবার বলা হয়েছে, সেটি আমরা বাদ দিয়েছি।)

(৫০) ঈদুল ফেতরের নামায জামায়াতে পড়া ও ফেতরা দেয়ার বিধান চালু -১লা শাওয়াল, হিজরী-২

(৫১) বদর যুদ্ধ (সর্বপ্রথম নিয়মিত যুদ্ধ) -৮ই রমযান, হিজরী-২ বুধবার অথবা ১২ই রমযান

-মদিনা যাত্রা

-যুদ্ধ

(জটিল সমস্য এই যে, যুদ্ধের দিন ও তারিখ সম্পর্কে অনেকাংশে মতৈক্য থাকলেও মদিনা থেকে যাত্রার তারিখ কারো মতে ১২ই এবং কারো মতে ৮ই রমযান। যারা ৮ তারিখ লেখেন তারা ঐ দিন সোমবার বলে উল্লেখ করেন। অথচ ১৭ তারিখ শুক্রবার হলে ৮ তারিখ কিছুতেই সোমবার হতে পারেনা। তাই আমরা ৮ই রমযানের বর্ণনায় বুধবার এবং ১২ই রমযানের বর্ণনায় শনিবার উল্লেখ করেছি। তবে যে বর্ণনায় ১৭ই রমযানকে মঙ্গলবার বলা হয়েছে, সেটিকে সঠিক মেনে নিলে ১লা ও ৮ই রমযান রবিবার হওয়ারই কথা।)

-মদিনায় বিজয়ী বেশে প্রত্যাবর্তন

(৫২) হযরত আলী ও ফাতেমার বিয়ে -বদরযুদ্ধের পর হিজরী-২।

(৫৩) বনু কাইনুকা অবরোধ -শওয়ালের মাঝামাঝি থেকে যিলকদের প্রথম ভাগ পর্যন্ত হিজরী-২।

(৫৪) হযরত ওমরের মেয়ে হাফসার সাথে রাসূলের সা. বিয়ে – হিজরী-৩।

(৫৫) হযরত উসমান ও উম্মে কুলসুমের বিয়ে (রসূল সা.এর মেয়ে) -হিজরী-৩।

(৫৬) মদের প্রথম নিষেধাজ্ঞা -হিজরী-৩।

(৫৭) কা’ব বিন আশরাফকে হত্যা -হিজরী-৩ সাল।

(৫৮) ইমাম হাসানের জন্ম –হিজরী-৩ সাল।

(৫৯) ওহুদ যুদ্ধঃ মদিনা থেকে যাত্রা -৫ শওয়াল, হিজরী-৩ জুমার নামাযের পর। ৬ই শওয়াল- শনিবার।

-যুদ্ধ

-হামরাউল আসাদ পর্যন্ত আবু সুফিয়ান বাহিনীকে ধাওয়া -৭শওয়াল-রবিবার।

(৬০) সুদ ত্যাগের প্রাথমিক নির্দেশ -ওহুদ যুদ্ধের অব্যবহিত পর।

(সূরা আল-ইমরাম আয়াত-১৩০ দেখুন।)

(৬১) এতিমদের সম্পত্তি সংক্রান্ত নির্দেশাবলী -ওহুদ যুদ্ধের অব্যবহিত পর।

(৬২) উত্তরাধিকার সংক্রান্ত আইন -হিজরী-৩, ওহুদ যুদ্ধের পর।

(৬৩) বিয়ের আইন, স্বামী স্ত্রীর অধিকার মোশরেক মহিলা বিয়ে করার নিষেধাজ্ঞা -হিজরী-৩।

(৬৪) হযরত যয়নব বিনতে খুয়ায়মার রা. সাথে রসূল সা. এর বিয়ে -হিজরী-৩ এর শেষভাগ।

(ওহুদ যুদ্ধে বিধবা হন।)

(৬৫) রজী’র দুর্ঘটনা(দশ সদস্য বিশিষ্ট দাওয়াতী দলের শাহাদাত) -সফর, হিজরী-৪।

(৬৬) বনু নযীরের যুদ্ধ -রবিউল আউয়াল হিজরী-৪।

(৬৭) উম্মুল মুমিনীন যয়নব বিনতে খুযায়মার ইন্তিকাল -৪র্থ হিজরীর প্রথম ভাগ।

(বিয়ের মাত্র দু তিন মাস পর ইন্তিকাল করেন।)

(৬৮) পর্দার বিধান কার্যকর -১লা যিলকদ, হিজরী-৪, শুক্রবার।

(৬৯) মদের চূড়ান্ত নিষেধাজ্ঞা বলবৎ -হিজরী-৪।

(৭০) দ্বিতীয় বদর অভিযান -যিলকদ, হিজরী-৪।

(আবু সুফিয়ান তার চ্যালেঞ্জ অনুযায়ী যুদ্ধ করতে আসেনি, যুদ্ধ হয়নি।)

(৭১) দুমাতুল জান্দাল অভিযান -রবিউল আউয়াল হিজরী-৫।

(৭২) বনুল মুস্তালিক অভিযান -৩রা শাবান, হিজরী-৫।

(৭৩) তায়াম্মুমের বিধান -বনু মুস্তালিক সফরে।

(৭৪) হযরত জুয়াইরিয়ার সাথে রসূল সা. এর বিয়ে -শাবান,হিজরী-৫।

(৭৫) হযরত আয়েশার বিরুদ্ধে অপবাদ আরোপের ঘটনা -শাবান,হিজরী-৫।

(৭৬) ব্যভিচার, ব্যভিচারের অপবাদ ও দম্পতির পরস্পরের বিরুদ্ধে ব্যভিচারের অপবাদ সংক্রান্ত বিধান ও পর্দার বিস্তারিত বিধান প্রবর্তন -হিজরী-৫, (হযরত আয়েশার বিরুদ্ধে অপবাদের ঘটনার পর)

(৭৭) আহযাব বা খন্দক যুদ্ধ -শওয়াল বা যিলকদ, হিজরী-৫।

(৭০/৮০টি মুসলিম পরিবারের এক বিশাল দল মদিনায় এসেছিল।)

(৭৮) মদিনায় দাওস গোত্রের প্রতিনিধি দলের আগমন -হিজরী-৫।

(৭৯) বনু কুরায়যার উচ্ছেদ -যিলহজ্জ, হিজরী-৫।

(৮০) হযরত যয়নব বিনতে জাহশের সাথে রসূল সা. এর বিয়ে -হিজরী-৫।

(৮১) নাজদের সরদার ছামামা বিন আছাল হানাফীর ইসলাম গ্রহণ -হিজরী-৬।

(৮২) হোদায়বিয়ার সন্ধি -জিলকদ, হিজরী-৬।

(৮৩) হোদায়বিয়া থেকে মদিনায় প্রত্যাবর্তন -জিলহজ্জ, হিজরী-৬।

(৮৪) খালিদ বিন ওলীদ ও আমর ইবনুল আসের ইসলাম গ্রহণ -জিলহজ্জ, হিজরী-৬।

(৮৫) আন্তর্জাতিক দাওয়াতের সূচনা (রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের নামে চিঠি প্রেরণ) -১লা মুহাররম, হিজরী-৭ বুধবার।

(৮৬) খয়বরের যুদ্ধ -মুহাররম, হিজরী-৭।

(৮৭) হযরত সফিয়ার সাথে রসূল সা. এর বিয়ে -মুহাররম, হিজরী-৭

(৮৮) আবিসিনিয়ার মোহাজেরদের প্রত্যাবর্তন -খয়বর বিজয়ের সময় হিজরী-৭।

(৮৯) সাইফুল বাহার নামক স্থানে স্বাধীন মুসলিম শিবির স্থাপন -হিজরী-৭ এর শুরু।

(হোদায়বিয়ার সন্ধির শর্ত অনুযায়ী রসূল সা. মক্কার নির্যাতিত মুসলমানদেরকে মদিনায় আশ্রয় দিতে অসমর্থ ছিলেন। তাই আবু জানদাল ও আবু বসীর সহ বেশ কিছু নির্যাতিত মুসলমান মক্কা থেকে পালিয়ে সাইফুল বাহারে সমবেত হন।)

(৯০) সাইফুল বাহারের জওয়ানদের পথ থেকে কোরায়েশ কাফেলার ওপর গেরিলা আক্রমণ -সফর, হিজরী-৭।

(৯১) ওমরাতুল কাযা -যিলকদ, হিজরী-৭।

(৯২) বিয়ে ও তালাকের বিধান প্রবর্তিত -হিজরী-৭।

(৯৩) হযরত মায়মূনার সাথে রসূল সা. এর বিয়ে (মক্কায়) -হিজরী-৭।

(৯৪) জাবালা গাসসানীর ইসলাম গ্রহণ -হিজরী-৭।

(৯৫) মূতার যুদ্ধ -জমাদিউল উলা হিজরী-৭।

(৯৬) মক্কার মোশরেকদের পক্ষ থেকে হোদায়বিয়ার সন্ধি ভঙ্গ -রজব,হিজরী-৮।

(৯৭) মক্কা অভিযান:

-মদিনা থেকে যাত্রা- ১০ রমযান, বুধবার, ৮ম হিজরী।

-মক্কায় বিজয়ী বেশে প্রবেশ -২০শে রমযান

(বিশ্বস্ত সূত্রে এও জানা যায় যে, রসূল সা. ১৮ই রমযান পর্যন্ত মদিনায় ছিলেন। এ হিসাবে মক্কা প্রবেশের তারিখ ২৯ বা ৩০শে রমযান হওয়ার কথা।)

-নাখলায় অবস্থিত উযযার মন্দির ধ্বংস করার জন্য খালেদের নেতৃত্বে সেনাদল প্রেরণ -২৫শে রমযান হিজরী-৮।

-সুয়া’ মন্দির ধ্বংস করার জন্য আমর ইবনুল আসের নেতৃত্বে সেনাদল প্রেরণ -রমযান, হিজরী-৮।

-মানাত মন্দির ধ্বংসের জন্য সা’দ আশহালীর নেতৃত্বে সেনাদল প্রেরণ -রমযান, হিজরী-৮

-মক্কায় অবস্থান -৯ই শওয়াল পর্যন্ত।

(অন্য বর্ণনা অনুসারে ১৮ই শওয়াল পর্যন্ত।)

-হোনায়েন যুদ্ধ -শওয়াল, হিজরী-৮।

-তায়েফ অবরোধ -শওয়াল যিলকদ ১৮থেকে২০দিন।

(মাকলুলের বর্ণনা অনুযায়ী ৪০দিন ব্যাপী অবরোধ।)

-জারানায় গনীমত বন্টনের পর জারানার ওমরা -জিলকদ, হিজরী-৮।

(৯৮) সূদের চূড়ান্ত বিলুপ্তির আইন -মক্কা বিজয়ের সময় হিজরী-৮।

(সূদের সমস্ত দাবী বাতিল -বাকারাঃ২৭৮)

(৯৯) মদিনায় সাদার প্রতিনিধি দলের আগমন -হিজরী-৮।

(১০০) রসূল সা. এর কন্যা হযরত যয়নবের ইন্তেকাল -হিজরী-৮।

-রসূল সা. এর ছেলে হযরত ইব্রাহীমের ইন্তেকাল -হিজরী-৮।

(১০১) যাকাত ব্যবস্থা। যাকাত আদায় কারীদের প্রথম নিয়োগ -মুহাররম, হিজরী-৯।

(১০২) তবুক যুদ্ধ -রজব, হিজরী-৯ মোতাবেক নভেম্বর ৬৩৫ খৃ।

-মদিনা থেকে যাত্রা শুরু -বৃহস্পতিবার।

(১০৩) জিযিয়ার বিধান -তবুক অভিযান কালে।

(এক বর্ণনা অনুযায়ী তবুকের পূর্বে অষ্টম হিজরীতে চালু হয়।)

(১০৪) মসজিদে যিরার ভস্মীভূত -তবুক যুদ্ধ থেকে ফেরার পর।

(১০৫) দুমাতুল জানদালের শাসক উকাইদিরের ইসলাম গ্রহণ -হিজরী-৯।

(১০৬) কা’ব বিন যুহাইরের ক্ষমা প্রার্থনা ও ইসলাম গ্রহণ -হিজরী-৯।

(‘বানাত, সুয়াদ’ শীর্ষক কবিতা উপস্থাপন)

(১০৭) এ বছর মদীনায় আগত কয়েকটি প্রতিনিধি দলঃ

-আযরার প্রতিনিধি দল -সফর, হিজরী-৯।

-বাল্লীর প্রতিনিধি দল -রবিউল আউয়াল হিজরী-৯।

-খাওলানের প্রতিনিধি দল -শাবান, হিজরী-৯।

-সাকীফের প্রতিনিধি দল -হিজরী-৯।

(১০৮) হজ্জ ফরয হয় -৯ই জিলহজ্জ, হিজরী-৯।

হযরত আবু বকর সিদ্দীকের নেতৃত্বে প্রথম হজ্জ।

(বিভিন্ন হাদীসে ৬,৭,৮,৯ ও ১০ম হিজরীতে হজ্জ ফরয হয় বলে উল্লেখ আছে। তবে ৯ম হিজরীর বর্ণনাই আমার দৃষ্টিতে অগ্রগণ্য। কেউ কেউ বলেন, কাফেরদের ক্যালেন্ডার ব্যবহারের দরুন যিলকদ মাসে এই হজ্জ অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু এ মতটি দুর্বল।)

(১০৯) হযরত আলীর মাধ্যমে মোশরেকদের সাথে সম্পর্কচ্ছেদ ও সমস্ত অমেয়াদী চুক্তি বাতিল ঘোষণা -১০ রবিউস সানী. জিলহজ্জ হিজরী-১০।(সম্পর্কচ্ছেদের ঘোষণা নিয়েও মতভেদ আছে যে, এটি আরাফার দিন না কুরবাণীর দিন(৯ই জিলহজ্জ না ১০ই জিলহজ্জ) হয়েছিল। কোরআন ও হাদীসের আলোকে আমার মতে ১০ই জিলহজ্জের মতই অগ্রগণ্য।)

(১১০) মোহারেবের প্রতিনিধি দল -হিজরী-১০।

(অন্যান্য প্রতিনিধি দলেরও বেশীর ভাগ ৯ ও ১০ম হিজরীতে মদিনায় আসে। তবে তাদের আগমনের সঠিক সময় চিহ্নিত করা দুরূহ।)

মোহামেদের প্রতিনিধি দল -শাবান, হিজরী-১০।

খা্ওলানের প্রতিনিধি দল -শাবান, হিজরী-১০।

নাইসানের প্রতিনিধি দল -রমযান, হিজরী-১০।

বনু হারেস বিন কা’বের প্রতিনিধি দল -শওয়াল, হিজরী-১০।

সালামের প্রতিনিধি দল -শওয়াল, হিজরী-১০।

(১১১) শেষ রমযানে রসূল সা. কর্তৃক বিশ দিন এ’তেকাফ -রমযান, হিজরী-১০।

(১১২) রসূল সা. এর সাথে মুসায়লামা কাযযাবের প্রত্রালাপ -হিজরী-১০।

(১১৩) বিদায় হজ্জঃ

-মদিনা থেকে যাত্রা -২৬ যিলকদ, হি:-১০ শনিবার জোহর ও আছরের মধ্যবর্তী সময়।

(এ ব্যাপারেও তারিখ নিয়ে মতভেদ আছে। তবে আমি যেটা গ্রহণ করেছি, ওটাই অধিকতর নির্ভরযোগ্য)

-যুল হুলাইফায় অবস্থান -শনি ও রবিবারের মধ্যবর্তী রাত।

-এহরাম বাঁধা –রবিবার (জোহরের সময়)।

-যী তুয়াতে অবস্থান -রবিবার রাত, ৪জিলহজ্জ হি:১০।

-যীতুয়া থেকে মক্কায় রওয়ানা -৫ই জিলহজ্জ, ফজরের নামাযের পর।

(ছানিয়াতুল আলীলা দিক থেকে রসূল সা. এর মক্কায় প্রবেশ।)

-মসজিদুল হারামে প্রবেশ -৫ই জিলহজ্জ দুপুর।

(বনু আবদ মানাফ গেট দিয়ে রসূল সা. এর প্রবেশ।)

-মক্কার বাইরে ৮ই জিলহজ্জ পর্যন্ত অবস্থান

(সকল সাহাবীর রসূল সা. এর সাথে অবস্থান, মিনায় রাত্রি যাপন।)

-মিনায় যাত্রা -৮ই জিলহজ্জ বৃহস্পতিবার দুপুর।

-মিনা থেকে আরাফাত যাত্রা -৯ই জিলহজ্জ শুক্রবার সূর্যোদয়ের পর।

(আরাফাতের পূর্ব প্রান্তে নামিরার পথ দিয়ে প্রবেশ।)

-হজ্জের খুতবা বা ভাষণ দান -৯ই জিলহজ্জ শুক্রবার জোহরের পর।

(কুসওয়া নাম্নী উটনীর পিঠের ওপর থেকে ভাষণ দান।)

-আরাফায় অবস্থান -৯ই জিলহজ্জ শুক্রবার জোহর ও আছরের নামাজের পর।

(এখানে রসূল সা. মাগরিব পর্যন্ত আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি সহকারে দোয়া করেন।)

-আরাফা থেকে মুযদালিফা অভিমুখে যাত্রা -৯ই জিলহজ্জ, বাদ মাগরিব।

(মাযবীন রাস্তা ধরে প্রত্যাবর্তন।)

-মুযদালিফা থেকে

মাশায়ারে হারাম যাত্রা -১০ই জিলহজ্জ ফজরের নামায বাদ।

(এখানে রসূল সা. কাঁদাকাটি সহকারে যিকর ও দোয়া করেন।)

-মাশায়ারে হারাম থেকে মিনা অভিমুখে যাত্রা -১০জিলহজ্জ সূর্যোদয়ের পূর্বে।

-পাথর নিক্ষেপ -১০ই জিলহজ্জ সূর্যোদয়ের পর দুপুর পর্যন্ত।

(এই সময়ে রৌদ্র প্রখর হয়ে গিয়েছিল।)

-মিনায় ভাষণ (কুরবানীর দিন) -১০ই জিলহজ্জ দুপুরের পূর্বে।

-কুরবানী -ভাষণের পর।

(কুরবানীর একশো উটের মধ্য থেকে ৬১টি নিজ হস্তে জবাই করেন। বাকীগুলোকে হযরত আলীর হাতে সমর্পন করেন।এরপর মাথা কামালেন।)

-মিনা থেকে মক্কা যাত্রা -১০ই জিলহজ্জ মাথা কামানোর পর।

(মক্কা পৌঁছে যোহরের পূর্বে কা’বা তাওয়াফ করলেন।)

-মক্কা থেকে মিনায় প্রত্যাবর্তন -শেষ দিন।

(রাত কাটান মিনায়।)

-মিনার দ্বিতীয় ভাষণ -১১ই জিলহজ্জ।

(এ ভাষণের বিষয় আবু দা্উদে উল্লেখ আছে।)

-মিনা থেকে মুহাসসাব বা আবতাহ যাত্রা -১৩ই জিলহজ্জ মঙ্গলবার।

(রাতে মক্কা থেকে যেয়ে বিদায়ী তওয়াফ করেন।)

-মক্কা থেকে প্রত্যাবর্তন -১৩ ও ১৪ই জিলহজ্জের মধ্যবর্তী রাত।

(১১৪) নাখা’র প্রতিনিধি দলের আগমন -মুহাররমের মধ্যবর্তী সময়, ১১ হিজরী।

(রসূল সা. এর জীবদ্দশায় আগত সর্বশেষ প্রতিনিধি দল।)

(১১৫) উসামা বাহিনীকে যাত্রার নির্দেশ -২৬শে সফর, হিজরী ১১।

(রসূল সা. এর নির্দেশে সর্বশেষ সামরিক অভিযান।)

(১১৬) রসূল সা. এর মৃত্যুব্যাধি শুরু -সফরের শেষভাগ হি:১১।(সম্ভবত: ২৯ সফর)।

(নির্ভরযোগ্য মতে রোগাক্রান্ত থাকার মেয়াদ ১৩দিন।)

(১১৭) রোগের চরম আকার ধারণ (হযরত আয়েশার কক্ষে ইন্তিকাল পর্যন্ত সাত দিন অবস্থান)।

(১১৮) মসজিদে নববীতে জামায়াতে সর্বশেষ নামায ও সর্বশেষ ভাষণ -ইন্তিকালের ৫দিন আগে বৃহস্পতিবার জোহরের নামায।

(বিভিন্ন হাদীসে একাধিক ভাষণের উল্লেখ রয়েছে। তবে সম্ভবত এই একই ভাষণে ঐ সব কথা বলেছেন।)

(১১৯) ইন্তিকাল -১২ই রবিউল আউয়াল হি: সোমবার দুপুরের আগে।

(সোমবার সম্পর্কে সবাই একমত। কিন্তু তারিখ নিয়ে মতভেদ আছে। কেউ ১ তারিখ, কেউ ২ তারিখ, আবার কেউ ১৩ তারিখও বলেছেন।)

(১২০) দাফন (হযরত আয়েশার কক্ষে কবর তৈরী) -১৩ই রবিউল আউয়াল ও ১৪ই রবিউল আউয়ালের মধ্যবর্তী রাত।

(আসল সমস্যা হলো, ৯ই জিলহজ্জ যে শুক্রবার ছিল তা অকাট্যভাবে প্রমাণিত। এর ভিত্তিতে হিসাব করলে ১২ই রবিউল সোমবার ছাড়া অন্য কোন দিন হওয়ার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। কেবল একাধারে তিনটে চন্দ্রমাস যদি ত্রিশ দিনের হয়, তবেই তা সম্ভব। তবে কেউ কেউ বলেন, বিরল হলেও তা সম্ভব। তাছাড়া মক্কা ও মদিনায় আবহাওয়াগত কারণে চাঁদ দেখায় একদিনের ব্যবধান হওয়াও সম্ভব।)

 

About নঈম সিদ্দিকী