ইসলামের সহজ পরিচয়

সম্পুর্ণ সূচীপত্র

আন্তর্জাতিক জীবন

কোনো দেশ বা রাষ্ট্র দুনিয়ার অন্য কোনো দেশের সাথে সম্পর্ক কায়েম না করে আলাদা অবস্থা বেঁচে থাকতে পারে না। অর্থনীতির আলোচনায় আমরা জানতে পেরেছি, মানুষের দরকারি সব জিনিস এক দেশেই পাওয়া যায় না। এ কারণে একটি দেশকে টিকে থাকার প্রয়োজনেই আরও অনেক দেশের সাথে বিভিন্ন জিনিসের আদান-প্রদান করতে হয়। কোনো এক দেশ অন্য দেশের সম্পদ দখল করার উদ্দেশ্যে সে দেশে হামলা করে বসে। ফলে যুদ্ধ লেগে যায়। যুদ্ধে এক দেশের কতক সৈনিক অপর দেশের হাতে বন্দি হতে পারে। যুদ্ধ বন্ধ হয়ে গেলে দুদেশের মধ্যে বন্দি-বিনিময় হয়ে থাকে। কোনো বড় দেশের আক্রমণ থেকে বাঁচার জন্য আশপাশের ছোট কয়েকটি দেশের মধ্যে ঐক্যের চুক্তি হয়ে থাকে। আরো অনেক উদ্দেশ্যেই এক দেশের সাথে আরেক দেশের চুক্তি হতে পারে। এভাবে এক দেশকে অনেক দেশের সাথে সম্পর্ক রাখতেই হয়। এ সম্পর্ককেই আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বলা হয়। জাতিতে জাতিতে যে সম্পর্ক, এরই নাম আন্তর্জাতিক সম্পর্ক। রাষ্ট্রে রাষ্ট্রে সম্পর্ককে এ নাম দেওয়া হয়। কারণ, রা্ষ্ট্রকে ভিত্তি করেই রাজনৈতিক জাতীয়তা গড়ে ওঠে। বাংলাদেশের ভিত্তিতে বাংলাদেশি জাতি, জাপানের ভিত্তিতে জাপানি জাতি, চীনের ভিত্তিতে চীনা জাতি ইত্যাদি। এসব জাতির মধ্যে যে সম্পর্ক একেই আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বলা হয়।

একটি ইসলামী রাষ্ট্র শুধু অন্যান্য ইসলামী ও মুসলিম রাষ্ট্রের সাথেই নয়, অমুসলিম রাষ্ট্রের সাথেও বিভিন্ন কারণে সম্পর্ক রাখতে পারে। এ সম্পর্কের ভিত্তিতেই এক রাষ্ট্র অপর রাষ্ট্রে রাষ্ট্রদূত নিয়োগ করে। বাংলাদেশে অনেক দেশের রাষ্ট্রদূত আছে। ঐসব দেশে বাংলাদেশেরও রাষ্ট্রদূত আছে। রাষ্ট্রে রাষ্ট্রে যেসব আদান-প্রদান হয় তা রাষ্ট্রদূতদের মাধ্যমেই ব্যবস্থা করা হয়।

আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ধরণ

সাধারণত আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভিন্ন ধরণের হয়ে থাকে। যেমন-

১. পণ্য-বিনিময়। এক দেশের উৎপন্ন পণ্য অন্য দেশে রফতানি করা হয়। এর বদলে ঐ দেশের পণ্য এ দেশে আমদানি করা হয়।

২. এক দেশের নাগরিক অন্য দেশে চাকরি করতে যায়। রাষ্ট্রদূত এর ব্যবস্থা করে দেন। যেমন- বাংলাদেশের বহু লোক বিদেশে চাকরি করে।

৩. এক দেশের কোনো কোম্পানি অন্য দেশে কোনো কাজের দায়িত্ব নেয়। যেমন- বিদেশি কোনো কোম্পানি বাংলাদেশে কোনো সেতু তৈরি করে, কারখানা কায়েম করে বা কোনো হাসপাতাল নির্মাণ করে দেয়। এর জন্য বাংলাদেশ ঐ কোম্পানিকে টাকা দেয়।

৪. এক দেশের কোনো কোম্পানি অন্য দেশে ব্যবসায় করার জন্য তাদের পুঁজি লগ্নি করে। যেমন- বাংলাদেশে গ্যাস উত্তোলনের জন্য বিদেশি কোম্পানি কাজ করে।

৫. দু’দেশের নির্দিষ্ট কোনো স্বার্থে চুক্তি হয়ে থাকে।

৬. দু’দেশের মধ্যে যুদ্ধ হওয়ার পর সন্ধি হলেও চুক্তি হয়ে থাকে।

এসব বিষয়ে ইসলামের বিধান হলো- ইসলামী সরকার সকল দেশের সাথে ভালো সম্পর্ক রাখবে। চুক্তির সব শর্ত মেনে চলবে। অন্যপক্ষ শর্ত ভঙ্গ না করা পর্যন্ত শর্ত পালন করবে। যদি কোনো কারণে চুক্তি বাতিল করতে হয়, তাহলে অপরপক্ষকে তা জানিয়েই তা করবে। গোপনে বিশ্বাস ভঙ্গ করবে না।

যুদ্ধ সম্পর্কে ইসলামী বিধান

ইসলাম সবসময় শান্তির পক্ষে। কোনো দেশের উপর ইসলামী রাষ্ট্র সামান্য যুলুমও যেন না করে। ইসলামী রাষ্ট্র গায়েপড়ে যুদ্ধ বাঁধাবে না। কিন্তু যদি ইসলামী রাষ্ট্রের উপর কোনো শক্তি যুদ্ধ চাপিয়ে দেয়, তাহলে ইসলাম যুদ্ধের ব্যাপারে ইসলামী সৈন্য বাহিনীকে কিছু বিধান মেনে চলতে বাধ্য করে। যেমন-

১. শত্রুপক্ষের সৈন্যদেরকে ছাড়া সাধারণ মানুষকে মারা নিষেধ।

২. যদি ব্যাপক মারামারি লেগে যায় তবুও মেয়ে, বুড়ো, শিশু, পঙ্গু, সাধু-সন্ন্যাসীদের হত্যা করা নিষেধ।

৩. শত্রুদেশের ফলের গাছ, খেতের ফসল ও মানুষের উপকারী কোনো সম্পদ ধ্বংস করা চলবে না, যেমন- রাস্তা, সেতু ইত্যাদি।

৪. যুদ্ধের কারণে শত্রুপক্ষের যেসব সৈন্য বা মানুষ মুসলিম বাহিনীর হাতে বন্দি হয়ে আসে, তাদের সাথে মানুষ হিসেবে ভালো ব্যবহার করতে হবে। এরা এখন নিরুপায় বলে তাদের সাথে অন্যায় ব্যবহার করা যুলুম।

৫. যুদ্ধবন্দিদের ব্যাপারে ইসলামের বিধান হচ্ছে-

ক. শত্রুপক্ষের হাতে মুসলিম সৈন্য বন্দি হয়ে থাকলে ঐ বন্দিদেরকে ফেরত আনার জন্য মুসলিমদের হাতে থাকা বন্দিদেরকে ফেরত দিয়ে বন্দি-বিনিময় করবে।

খ. শত্রুপক্ষ তাদের বন্দিদেরকে টাকার বিনিময়ে ফেরত নিতে পারবে।

এ সম্পর্কে সূরা মুহাম্মাদের নং আয়াতে বলা হয়েছে, ‘‘যুদ্ধ সম্পূর্ণ বন্ধ হওয়ার পর তোমরা ইচ্ছা করলে বন্দিদের প্রতি দয়া করবে অথবা ফিদ্‌ইয়া নিয়ে ছেড়ে দেবে।’’

ইসলামের প্রতি মুসলিমদের কর্তব্য

আমরা জানতে পারলাম, ইসলাম অন্যান্য ধর্মের মতো শুধু ধর্ম নয়। মানবজীবনের সব বিষয়েই ইসলাম বিধান দিয়েছে। তাই কোনো মুসলমান যদি ব্যক্তিজীবন, পারিবারিক জীবন ও ধর্মীয় জীবনে ইসলামকে মেনে চলাই যথেষ্ট বলে ধারণা করে, তাহলে তা মারাত্মক ভুল হবে। আল্লাহর কুরআন, রাসূল সা.- এর হাদীস ও সাহাবায়ে কেরামের বাস্তব জীবন থেকে ঐ ধরণের ভুল ধারণা করার কোনো সুযোগ নেই।

রাসূল সা. ও সাহাবাযে কেরামের জীবনের সবটুকুই ইসলাম। রাসূল সা. যা বলেছেন ও যা করেছেন তাই আসল ইসলাম। মদীনায় তিনি ইসলামী রাষ্ট্র কায়েম করেছেন; ঐ রাষ্ট্রের তিনিই ছিলেন সরকারপ্রধান। ঐ রাষ্ট্রে সব ব্যাপারেই তিনি আল্লাহর আইন জারি করেন। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক যেসব বিধান কুরআনে আছে, তা কি শুধু তিলাওয়াত করার জন্য? ঐসব বিধান কি নামায-রোযার মতো ফরয নয়? ইসলামের কোনো অংশ বাদ দেওয়ার কোনো অধিকার আল্লাহ কাউকে দেননি। ইসলামের সবটুকু মেনে চলার জন্য তিনি নির্দেশ দিয়েছেন।

মক্কার কুরাইশ নেতারা মদীনার ইসলামী রাষ্ট্রটি ধ্বংস করার জন্য বদরের ময়দানে যুদ্ধ করে মুসলিম বাহিনীর নিকট পরাজিত হয়। পরের বছর আরও বড় বাহিনী নিয়ে মদীনা আক্রমণ করার উদ্দেশ্যে তারা উহুদের ময়দানে হাজির হলো। মদীনার মসজিদে রাসূল সা. এর ইমামতিতে এক হাজার লোক ফজরের নামায আদায় করলেন। রসূল সা. সবাইকে নিয়ে যুদ্ধের উদ্দেশ্যে উহুদ ময়দানের দিকে রওয়ানা হলেন। কিছু দূর যাওয়ার পর মুনাফিক নেতা আবদুল্লাহ বিন উবাই ৩০০ জনকে ভাগিয়ে নিয়ে মদীনায় ফিরে গেল। কুরআনে তাদেরকে ঈমানদার নয় বলে ঘোষনা করা হলো।

এ ঘটনা দ্বারা প্রমাণ হলো, নামাযে রাসূলের সাথী হওয়া সত্ত্বেও যুদ্ধের ময়দানে সাথী হতে রাজি না হওয়ায় তারা ঈমানের পরীক্ষায় ফেল করল। রাসূল সা. কে দুনিয়ায় পাঠানোর আসল উদ্দেশ্যই হলো ইসলামকে বিজয়ী করা। এ আসল কাজে যারা শরীক হয়নি, তারা নামাযে শরীক হওয়া সত্ত্বেও বেঈমান বলে সাব্যস্ত হলো।

রাসূল সা. কে মুলত কী দায়িত্ব দিয়ে দুনিয়ায় পাঠানো হয়েছে, সে ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা কুরআনের তিনটি সূরায় তিন বার ঘোষণা করেছেন। সূরা তাওবার ৩৩ নং আয়াত, সূরা ফাত্হের ২৮ নংসূরা সাফ্‌-এর নং আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘‘তিনি সেই সত্তা, যিনি তাঁর রাসূলকে হেদায়াত ও দীনে হক দিয়ে পাঠিয়েছেন; যাতে তিনি (এ দীনকে) অন্য সব দীনের উপর বিজয়ী করতে পারেন।’’ এ কথাটি যে সবচেয়ে জরুরি, তা বুঝানোর জন্যই একই কথা তিন-তিন বার ঘোষণা করা হয়েছে। আল্লাহর দীন বিজয়ী না হলে আল্লাহর কোনো ফরযই ঠিকমতো জারি হতে পারে না। তাই দীনকে বিজয়ী করার কাজটি সব ফরযের বড় ফরয। এ ফরয জারি হলে আল্লাহর দেওয়া সব ফরয সহজেই জারি হতে পারে। রাসূলকে শুধু নামায কায়েমের জন্য পাঠানো হয়নি; সবটুকু ইসলামকে বিজয়ী দীন হিসেবে কায়েম করতে পাঠানো হয়েছে।

তাহলে এ কথা স্বীকার করতেই হবে যে, ব্যক্তিগতভাবে ধার্মিক হলেই মুসলিমদের দায়িত্ব কর্তব্য শেষ হয়ে যায় না। যারাই ঈমানদার বলে দাবি করে, তাদের ঈমানের দাবি পূরণ করতে হলে দেশে মানুষের মনগড়া আইনের বদলে আল্লাহর আইন চালু করার চেষ্টা করতেই হবে। এ চেষ্টা করাটাই ঈমানদারদের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। এ কাজটিকে কুরআনে ‘জিহাদ ফী সাবীলিল্লাহ’ বলা হয়েছে।

যদি আমরা এ আসল দায়িত্বটি পালন না করি, তাহলে দেশে মানুষের মনগড়া আইনই চালু থাকবে। যতদিন তা চালু থাকবে ততদিন জনগণ রাজনৈতিক যুলুম ও অর্থনৈতিক শোষন থেকে মুক্তি পাবে না। ইসলামী শিক্ষাব্যবস্থা চালু না হলে আমাদের কলিজার টুকরা সন্তানরা খাঁটি মুসলিম হয়ে গড়ে উঠবে না। ইসলামী পারিবারিক বিধানও ঠিকমতো চালু করা যাবে না। সুদ, ঘুষ, চুরি, ডাকাতি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, যৌতুক, যিনা, ধর্ষণ ইত্যাদি থেকে মানুষ নিস্তার পাবে না। তাই যারাই আল্লাহকে একমাত্র প্রভু ও রাসূল সা. কে একমাত্র নেতা বলে মেনে চলতে চায়, তাদেরকে আল্লাহর হক দীনকে বিজয়ী করার জন্য জান ও মাল দিয়ে চেষ্টা করতে হবে।

জিহাদ

আরবী শব্দ ‘জিহাদ’ নির্গত হয়েছে ‘জুহ্‌দ’ থেকে, জুহ্‌দ মানে চেষ্টা। ‘জিহাদ’ শব্দের অর্থ হলো বিরোধীশক্তির বাধা সত্ত্বেও চেষ্টা করতে থাকা।

কুরআনে বারবার হুকুম করা হয়েছে, ‘আল্লাহর পথে জান ও মাল দিয়ে জিহাদ কর।’ এর সহজ অর্থ হলো আল্লাহর দীনকে বিজয়ী করার জন্য জান ও মাল কুরবানী দিয়ে চেষ্টা করতে থাকা। এ চেষ্টার পয়লা কাজ হলো মানুষকে আল্লাহর দাসত্ব কবুল করার দাওয়াত দেওয়া। যারা দাওয়াত কবুল করে তাদেরকে খাঁটি মুমিন হিসেবে গড়ে তোলার কাজটিও জিহাদ। এ কাজের যারা বিরোধী তাদের বাধা সহ্য করাও জিহাদ। ইসলামী রাষ্ট্র ও সরকার গঠন করাও জিহাদ। এ রাষ্ট্রকে ধ্বংস করার জন্য যদি কোনো শক্তি আক্রমণ করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করাও জিহাদ। নিজের জীবনে নাফসকে দমনের চেষ্টা করাও জিহাদ। অর্থাৎ আল্লাহ যা পছন্দ করেন তা চালু করা ও যা অপছন্দ করেন তা উৎখাত করার জন্য যা কিছু করা হয় সবই জিহাদ।

সাধারনত মানুষ জিহাদ বললে যুদ্ধকেই বুঝে। কিন্তু কুরআনে যুদ্ধের জন্য আলাদা শব্দ ‘কিতাল’ ব্যবহার করা হয়েছে। কিতাল অর্থ একে অপরকে হত্যা করা। জিহাদ মানে কিতাল নয়। অবশ্য জিহাদের বিভিন্ন স্তর ও অবস্থার একপর্যায়ে যুদ্ধের স্তরও আসতে পারে। অর্থাৎ যুদ্ধও এক রকমের জিহাদ। কিন্তু জিহাদ বলতে শুধু যুদ্ধকে বোঝায় না। জিহাদের অর্থ অনেক ব্যাপক।

‘জিহাদ ফী সাবীলিল্লাহ’- এর বাংলা সহজ অনুবাদ হলো আল্লাহর পথে জিহাদ বা ইসলামী আন্দোলন করা। রাসূল সা. ইসলামকে কায়েম করার জন্য যা কিছু করেছেন সবই জিহাদের মধ্যে গণ্য। আল্লাহ তাআলার মর্জিমতো চেষ্টা করতে থাকাই জিহাদ।

ভালো কাজের আদেশ খারাপ কাজের নিষেধ

আল্লাহ তাআলা কুরআনে এবং রাসূলুল্লাহ সা. হাদীসে জোর দিয়ে বলেছেন, যে নিজেকে মুসলিম বলে দাবি করবে তার একটা বড় কর্তব্য হলো অন্য মানুষকে ভালো কাজ করতে আদেশ করা এবং মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করা। কুরআন-হাদীসে এ কর্তব্যের নাম দেওয়া হয়েছে, ‘আম্‌র বিল মা’রূফ ও নাহী আনিল মুনকার’।

রাসূল সা. বলেছেন, ‘‘যে ব্যক্তি কোনো মন্দ কাজ হতে দেখবে তার কর্তব্য হলো জোর করে তা বন্ধ করা। যার এ ক্ষমতা নেই, সে যেন কথা বলে তা বন্ধ করে। যার এ সাহসও নেই, সে যেন মনে মনে এ কাজের বিরোধী হয়। এটুকু সবচেয়ে দুর্বল ঈমানের পরিচায়ক।’’

সমাজে যদি ব্যাপকহারে মন্দ কাজ চলতে থাকে, তাহলে এর কুফল সবাইকে ভোগ করতে হয়। যেমন- কেউ যদি দুর্গন্ধের জিনিস বাড়িতে জমা করে তাহলে আশপাশের সবাই এর গন্ধে কষ্ট পাবে। তাই দুর্গন্ধ থেকে বাঁচতে হলে এলাকাকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। এ জন্যই রাসূল সা. হুকুম দিয়েছেন, যদি কেউ কোনো খারাপ কাজ হতে দেখে, সে যেন শক্তি প্রয়োগ করে তা বন্ধ করে দেয়। এ শক্তি না থাকলে যে মন্দ কাজ করছে তাকে বুঝিয়ে-শুনিয়ে ঐ কাজ থেকে ফিরিয়ে রাখার চেষ্টা করতে হবে। এ শক্তিও যদি না থাকে তাহলে ঐ কাজকে খারাপ মনে করতে হবে এবং ঐ কাজ বন্ধ করার জন্য মনে মনে উপায় তালাশ করতে হবে। এটুকুও যদি সে না পারে তাহলে বোঝা গেল তার ঈমানই নেই।

অন্য মানুষকে ভালো কাজের আদেশ ও পরামর্শ দেওয়া বড়ই লাভজনক কাজ। রাসূল সা. বলেছেন, ‘‘কেউ কোনো লোককে ভালো কাজের পথ দেখালে ঐ লোক কাজ করে যে সওয়াব পাবে এর সমান সওয়াব সেও পাবে।’’ অন্যকে ভালো কাজের জন্য তাগিদ দিলে নিজের মধ্যে সে কাজ করার আগ্রহ ও জযবা বাড়ে। ভালো কাজের মধ্যে সেরা কাজ হলো মানুষকে আল্লাহর পথে ডাকা।

সূরা হামীম আস সাজদাহ ৩৩ নং আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘‘ঐ লোকের কথার চেয়ে আর কার কথা বেশি ভালো হতে পারে, যে আল্লাহর দিকে ডাকল, নেক আমল করল এবং বলল ‘অবশ্যই আমি মুসলিম’।’’

সূরা নিসার ৮৫ নং আয়াতে বলা হয়েছে, ‘‘যে ব্যক্তি ভালো কাজের সুপারিশ করবে, সে তা থেকে অংশ পাবে। আর যে ব্যক্তি মন্দ কাজের সুপারিশ করবে, সেও তা থেকে অংশ পাবে।’’

সূরা মায়িদার নং আয়াতে আরো বলা হয়েছে, ‘‘তোমরা নেকী ও তাকওয়ার কাজে পরস্পর সহযোগিতা কর, কিন্তু গু্নাহ ও সীমালঙ্ঘনমূলক কাজে পরস্পর সহযোগিতা করো না।’’

রাসূল সা. কীভাবে কাজ শুরু করেছিলেন?

রাসূল সা. যেমন নামায আদায়ের পদ্ধতি এবং আল্লাহর সব হুকুমই পালন করার তরীকা বা নিয়ম শিখিয়েছেন, তেমনি ইসলামকে তিনি যে নিয়মে বিজয়ী করেছেন সেভাবেই এ বড় কাজটি করতে হবে।

প্রথমে তিনি জনগণকে একমাত্র আল্লাহর হুকুম মেনে চলার দাওয়াত দিয়েছেন। সকল নবী ও রাসূল ঐ একই কথার দিকে ডাক দিয়েছিলেন।

সূরা রাফের নং রুকু থেকে ১১ নং রুকু পর্যন্ত প্রতিটি রুকুর প্রথম আয়াতে হযরত নূহ আ., হযরত হূদ আ., হযরত সালেহ আ. ও হযরত শোয়াইব আ.- এর নাম নিয়ে দেখানো হয়েছে যে, সব নবী একই কথা বলে মানুষকে ডাক দিয়েছেন। সে কথাটি হলো, ‘‘হে আমার কাওম (দেশবাসী)! একমাত্র আল্লাহর দাসত্ব কর। তিনি ছাড়া তোমাদে রআর কোনো ইলাহ নেই।’’

সহজেই মানুষ এ কথার মর্ম বুঝতে পারল। এ কথাটির মর্ম হলো, ‘‘তোমাদের উপর আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো হুকুম করার অধিকার নেই। তোমরা যেমন মানুষ, যারা তোমাদের উপর হুকুম জারি করছে তারাও তেমন মানুষ। তোমাদের উপর তারা কেন মনগড়া হুকুম চালাবে? তোমরা ও তারা সবাই একমাত্র আল্লাহর হুকুমের গোলাম। তোমরা শুধু আল্লাহর দাসত্ব কর।’’

রাসূল সা.-কে মক্কাবাসী সকলেই সবচেয়ে সত্যবাদী ও ভালো মানুষ হিসেবে জানত। তিনি ‘আল-আমীন’ (বিশ্বস্ত) উপাধিতে পরিচিত ছিলেন। তিনি যে দাওয়াত দিলেন তা খুবই চমৎকার, যুক্তিপূর্ণ ও আকর্ষণীয় বলে লোকেরা বুঝতে পেরেছিল। তাই তাঁর এ ডাকে মানুষের সাড়া দেওয়ারই কথা।

আবু জাহ্‌ল, আবু লাহাব, আবু সুফিয়ানের মতো নেতাদের হুকুমই তখন সমাজে চলছিল। তাদের শাসনই মক্কাবাসীরা মানত। রাসূল সা. এর ঐ ডাকে মানুষ সাড়া দিলে তাদের নেতাগিরি খতম হয়ে যাবে। মানুষের উপর তাদের মনগড়া শাসন আর চলবে না। তাই এ দাওয়াত তারা কিছুতেই মেনে নিতে পারেনি। রাসূল সা. এ কথা জানতেন ও বুঝতেন বলেই তিনি প্রথমে গোপনে ঘনিষ্ট লোকদেরকাছে দাওয়াত দিয়েছিলেন। প্রায় তিন বছর এভাবে দাওয়াত দিতে থাকেন এবং বেশ কিছু লোক রাসূল সা. এর প্রতি ঈমান আনে। আস্তে আস্তে ঈমানদারদের সংখ্যা বাড়তেই থাকে।

তখন আল্লাহ তাআলার হুকুমে রাসূল সা. একদিন কাবা শরীফের পাশে সাফা পাহাড়ে উঠে মক্কাবাসীদেরকে ডাক দিলেন। তাঁর মতো সম্মানিত লোকের ডাক শুনে ঐ নেতারাসহ অনেক মানুষ একত্রিত হয়। তখন তিনি বললেন, ‘‘আমি যদি বলি, পাহাড়ের অপর পাশে একদল দুশমন তোমাদের উপর হামলা করতে এসেছে, তাহলে কি তোমরা বিশ্বাস করবে?’’ সবাই একসাথে আওয়াজ দিল, ‘‘তুমি বলেলে বিশ্বাস করব। কারণ, কোনো সময় তোমাকে কোনো মিথ্যা কথা বলতে আমরা শুনিনি।’’ তাঁর সত্যবাদী হওয়ার কথা সবাই স্বীকার করার পর তিনি তাঁর আসল দাওয়াত পেশ করলেন।

সঙ্গে সঙ্গে ঐ তিন নেতাসহ মক্কার সব বড় লোকেরা রাসূল সা. কে গালি দিতে দিতে চলে গেল। জনগণ যাতে রাসূল সা. এর ডাকে সাড়া না দেয়, সেজন্য তারা তাঁকে পাগল, জাদুকর, ক্ষমতালোভী বলে অপপ্রচার চালাল। যারাই ঈমান আনে তাদের উপর যুলুম-নির্যাতন শুরু করল। অনেকেই ভয়ে ঈমান আনতে সাহস পেল না। দুবছর পর ৮৩ জন লোক অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে রাসূল সা. এর অনুমতি নিয়ে বিদেশে পালিয়ে গেলেন। শাসকরা এ ধরণের ব্যবহার সকল নবীদের সময়ই করেছে।

এ ঘটনা থেকে স্পষ্ট বোঝা গেল, আল্লাহর আইন কায়েমের জন্য যে দেশেই চেষ্টা করা হয়, সে দেশে যে শাসকদের মনগড়া আইন চালু আছে, সে শাসকরা বাধা দেবেই। কারণ, আল্লাহর আইন কায়েম হলে তাদের নেতৃত্ব-কর্তৃত্ব খতম হয়ে যাবে।

আমরা যদি নিজেদেরকে ঈমানদার বলে দাবি করি, তাহলে আমাদেরকেও জনগণের নিকট ঐ দাওয়াত পৌঁছাতে হবে। বর্তমান সমাজব্যবস্থায় যাবতীয় সুবিধা যারা ভোগ করছে, তারা এ দাওয়াতের বিরোধিতাই করবে। এর কোনো পরওয়া না করে আমাদেরকে অবশ্যই দাওয়াত দিতে থাকতে হবে।

রাসূল সা. মযবুত সংগঠন গড়ে তুললেন

রাসূল সা. এর ডাকে যাঁরা সাড়া দিয়ে ‘আশহাদু আল্‌ লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলে রাসূলের প্রতি ঈমান আনার হিম্মত করলেন, তিনি তাদেরকে নিজের নেতৃত্বে জামাআতবদ্ধ করলেন। তাঁদের মন-মগজ-চরিত্র গঠন করতে থাকলেন, যাতে তাঁদেরকে সাথে নিয়ে মানুষের মনগড়া আইন ও শাসনকে উৎখাত করে আল্লাহর আইন ও সৎ লোকের শাসন কায়েম করতে পারেন।

এ বিরাট কাজটি নবীর পক্ষেও একা করা সম্ভব নয়। আল্লাহ কোনো অযোগ্য লোককে নবী-রাসূল হিসেবে পাঠাননি। কিন্তু তিনি যত যোগ্যই হন, একটা দেশের আইন ও শাসন বদলিয়ে দেওয়ার মতো বিরাট কাজ করতে হলে একদল এমন লোক দরকার, যারা নবীর নেতৃত্বে ঐ উদ্দেশ্যে জান দিতে প্রস্তুত। ১৩ বছরে রাসূল সা. এমন একদল লোকই তৈরী করলেন।

ইসলামের বিজয়ের জন্য আল্লাহ তাআলা দুটো শর্ত দিয়েছেন। প্রথম শর্ত হলো, এমন একদল লোক তৈরী করা। আরো একটা শর্ত রয়েছে- তা হলো, যে এলাকায় আল্লাহর দীনকে বিজয়ী করার চেষ্টা চলে সেখানকার জনগণও এর পক্ষে থাকা। আর কোনো এলাকার জনগণ যদি এর সক্রিয় বিরোধী হয় তাহলে আল্লাহ তাদের উপর জোর করে দীনের নিয়ামত চাপিয়ে দেন না।

মক্কায় প্রথমে কাফির নেতাদের পক্ষে এবং ইসলামের বিপক্ষে জনগণের সমর্থন থাকায় দ্বিতীয় শর্তটি সেখানে ছিল না। তাই প্রথম শর্তটি থাকা সত্ত্বেও মক্কায় তখন ইসলামকে বিজয়ী করা গেল না। তিন বছর আগে থেকে হজ্জের মৌসুমে মদীনার অনেক লোক ‘মিনা’য় (মক্কার তিন মাইল দূরে) গোপনে রাসূল সা. এর সাথে সাক্ষাৎ করে ঈমান আনে। তাই আল্লাহ হুকুমে তিনি ইসলামী সরকার কায়েম করার উদ্দেশ্যে মদীনায় হিজরত করেন। মক্কার নেতারা রাসূল সা. কে মেরে ফেলার জন্য যে রাতে তৈরী ছিল, সে রাতেই তিনি হযরত আবু বকর রা. কে নিয়ে গোপনে মক্কা থেকে বের হয়ে যান। মদীনার জনগণ তাঁকে সাদরে গ্রহণ করে নেয়।

মদীনায় ইসলামী সরকার গঠন

রাসূল সা. ১৩ বছরে মক্কা, মদীনা ও আরবের অন্যান্য জায়গায় যাদেরকে গড়ে তুলেছিলেন, তাদেরকে নিয়েই মদীনায় ইসলামী সরকার কায়েম করেন। তিনি ঐ সরকারের প্রধান হন। এরপর থেকেই আল্লাহর আইন ওহীর মাধ্যমে নাযিল হতে থাকে। আর নাযিলের সাথে সাথে প্রতি আইন চালু হতে থাকল। এভাবে ১০ বছরে সব আইন জারি হয়ে গেল।

মদীনায় ইসলামী সরকার কায়েমের ৮ বছর পর বিনা যুদ্ধে মক্কা বিজয় হয়। রাসূল সা.- এর জন্মভূমি মক্কা থেকে তিনি গোপনে মদীনায় চলে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন। আট বছার পরই রাসূল সা. এক বাহিনী নিয়ে বিনা বাধায় মক্কা জয় করেন। ২১ বছর পর্যন্ত যারা রাসূল সা. এর বিরুদ্ধে চরম দুশমনি করেছে, এমনকি দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার পরও বারবার মদীনায় হামলা করেছে, সে দুশমনদেরকে হাতে মুঠোয় পেয়ে তিনি মাফ করে দিলেন। দুশমন পরাজিত হলে প্রতিশোধ না নেওয়াই ইসলামের শিক্ষা। তিনি তাদেরকে হত্যা করতে পারতেন। তাদেরকে ক্ষমা করে দেওয়ায় তারা রাসূল সা. এর উদারতায় মুগ্ধ হয়ে সবাই তাঁর প্রতি ঈমান এনে ইসলামের পতাকাতলে দীক্ষিত হলেন। তিনি তাঁদের অন্তরকে জয় করলেন। শাস্তি দিলে এমন মহান বিজয় হতো না। শত্রুকে বন্ধু ‍বানানোই নবীর শিক্ষা।

বাংলাদেশে কি ইসলামের বিজয় সম্ভব?

আমাদের প্রিয় জন্মভূমি বাংলাদেশের শতকরা প্রায় ৯০ জন মানুষ মুসলমান। তারা আল্লাহকে বিশ্বাস করে, রাসূল সা. কে মহব্বত করে এবং কুরআনকে ভক্তি-শ্রদ্ধা করে। ইসলামী সরকার নেই বলে তারা খাঁটি মুসলিম হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে না; কিন্তু তারা ইসলামের বিরোধী নয়। রাসূল সা.-এর জন্মভূমির জনগণ ইসলামের বিরোধী ছিল বলে তাঁকে মদীনায় হিজরত করতে হয়। আমাদেরকে হিজরত করতে হবে না।

ইসলামের বিজয়ের জন্য যে দুটো শর্ত রয়েছে, এর দ্বিতীয়টি বাংলাদেশে আছে। জনগণ ইসলামের সমর্থক বলেই ইসলামবিরোধী দলও জনগণের ভোট পাওয়ার জন্য নির্বাচনের সময় আল্লাহ-রাসূলের দোহাই দেয়। তাই বাংলাদেশে ইসলামের বিজয়ের পূর্ণ সম্ভবনা রয়েছে।

ইসলামের বিজয়ের জন্য প্রথম শর্তটি পূরণ হলেই এ দেশ ইসলামী সরকার কায়েম হওয়া সম্ভব। আল্লাহ তাআলা সূরা আন্নূরের ৫৫ নং আয়াতে ঘোষণা করেছেন- ঈমানদার, সৎ ও যোগ্য একদল লোক তৈরী হলেই তিনি তাদের হাতে খিলাফতের দায়িত্ব তুলে দেবেন।

লোক তৈরী করার দায়িত্ব তিনি নেননি। লোক তৈরী হলে ইসলামী সরকার কায়েম করার দায়িত্ব তিনি নিয়েছেন। রাসূল সা. এর যুগে লোক তৈরীর কাজ সমাধা হওয়ার পর আল্লাহ তাআলা ঐ তৈরীকৃত লোকদের হাতেই ক্ষমতা তুলে দেন।

আমাদের আসল দায়িত্ব হলো ঈমান, ইলম ও আমলের দিক দিয়ে পরিপূর্ণ এতো বেশি সংখ্যায় লোক তৈরী করা, যাতে আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে ইসলামী সরকার কায়েমের তাওফীক দান করেন। যাদের হাতে ক্ষমতা দিলে ইসলামকে বিজয়ী করতে পারবে, আমাদের এই বাংলাদেশে এমন একদল লোক তৈরী হলেই ইসলামী সরকার কায়েম হতে পারে।

ইসলামী সরকার মানে সৎ যোগ্য লোকের শাসন

ইসলামী সরকার মানে ঈমানদার, সৎ ও যোগ্য লোকের শাসন। সৎ লোক যদি যোগ্য না হয়, তাহলে তার সততা কোনো কাজেই আসে না। আর যোগ্য লোক যদি অসৎ হয়, তাহলে সে যোগ্যতার সাথেই অসৎ কাজ করে। তাই যদি সরকার এমন লোকদের হাতে থাকে, যারা সৎ ও যোগ্য, তবেই জনগণ সুখ-শান্তি ভোগে করতে পারে।

সরকার বললে শুধু প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রীপরিষদ ও এমপিগণই বোঝায় না, সকল সরকারী কর্মকর্তা ও কর্মচারি মিলেই সরকার। কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ করার সময় শুধু যোগ্যতাই যাচাই করা হয়, সততা যাচাই করার কোনো ব্যবস্থা নেই। রাজনৈতিক দলগুলো এমপি বানানোর জন্য যাদেরকে নমিনেশন দেয় তারাও যোগ্যতাকেই গুরুত্ব দেয়। তারাও সৎ লোক তালাশ করে না। নমিনেশন দেওয়ার সময় প্রার্থীর ধনবল ও জনবল দেখেই বাছাই করা হয়।

সৎ লোক বা ভালো মানুষ কাকে বলে? যে লোক গোপনেও খারাপ কাজ করে না, সে-ই সৎ লোক। সাধারণ মানুষ আইনের ভয়ে, পুলিশের ভয়ে ও লোকলজ্জার ভয়ে মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকে; কিন্তু ধরা পড়বে না বলে মনে করলে সুযোগ পেলেই মহাঅন্যায় করতেও পরওয়া করে না।

প্রত্যেক মানুষেরই বিবেক আছে। কোন্‌টা ভালো ও কোন্‌টা মন্দ, তা বিবেকের নিকট স্পষ্ট। যারা মন্দ কাজ করে তাদের বিবেক জানে যে, কাজটা মন্দ। তারা বিবেকের বিরুদ্ধেই চলে। নাফ্‌সের তাড়না ও দুনিয়ার লোভে তারা বিবেকের ধার ধারে না।

সৎ লোক তারাই, যারা বিবেকের বিরুদ্ধে চলে না; তারা দুনিয়ার লোভকে ত্যাগ করার ক্ষমতা রাখে। এ ক্ষমতা তাদেরই থাকে, ‍যারা আল্লাহকে ও আখিরাতের শাস্তিকে ভয় করে। এরই নাম ঈমান। ঈমান ছাড়া সততার গুণ সৃষ্টি হয় না। রাজনৈতিক দলগুলো যদি ঈমানদার ও সৎ লোক তৈরী করে এবং সৎ ও যোগ্য লোকদেরকে এমপি বানায়, আর সরকার যদি সৎ ও যোগ্য লোকদেরকে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারি নিয়োগ করে, তবেই ইসলামী সরকার কায়েম হতে পারে।

যেসব রাজনৈতিক দল ইসলামী সরকার কায়েম করতে চায়, তারা ঈমানদার ও সৎ লোকদেরকে দলভুক্ত করে তাদেরকে যোগ্য হিসেবে গড়ে তোলে এবং যোগ্য লোকদেরকে দলে শামিল করে তাদেরকে ঈমানদার ও সৎ বানানোর চেষ্টা করে। এভাবে চেষ্টা না করলে সৎ ও যোগ্য লোকের শাসন আপনা-আপনিই কায়েম হতে পারে না। সরকার যতবারই বদল হোক, সৎ ও যোগ্য লোকের শাসন ছাড়া জনগণের কপাল বদলাবে না।

— সমাপ্ত —

About শহীদ অধ্যাপক গোলাম আযম