ইসলামী নেতৃত্ব

কর্মীদের প্রতি নেতৃত্বের আচরণ

নেতৃত্ব এবং কর্মীদের মিলিত প্রয়াসের ওপর ভিত্তি করেই আন্দোলনের কাজ সামনে এগুতে থাকে। নেতৃত্ব এবং কর্মীদের মাঝে সুসম্পর্ক থাকলে কাজ স্বতঃস্ফূর্ত গতিতে অগ্রসর হয়। এই সম্পর্ক কাঙ্ক্ষিত মানে না থাকলে কাজের গতি স্বচ্ছন্দ থাকে না বরং মাঝে মধ্যেই এর গতি ব্যাহত হয়। এইভাবে হোঁচট খেতে খেতে এক পর্যায়ে এসে কাজের গতি একেবারে মণ্থর হয়ে পড়ে।

কাজের সুন্দর ও স্বাভাবিক অগ্রগতির জন্য নেতৃত্ব এবং কর্মীদের পারস্পরিক সুসম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। আর এই সুসম্পর্ক নির্ভর করে একের প্রতি অপরের বাঞ্ছিত আচরণের ওপর। এই নিবন্ধে আমরা কর্মীদের প্রতি নেতৃত্বের কাঙ্ক্ষিত আচরণ সম্পর্কে আলোচনা করবো।

. নেতৃত্ব হবেন কর্মীদের জন্য প্রেরণোর উৎস

একটি আদর্শিক আন্দোলনের কর্মীদেরকে নানামুখী কাজ-কর্ম করতে হয়। এইসব কাজ যেমনি দাবি করে সময়, তেমনি পরিশ্রম।

আবার আদর্শিক আন্দোলনের পথ মোটেই ফুলবিছানো নয়। এই পথে আছে নানা বাধা-বিপত্তি। তদুপরি কর্মীদের অনেকেরই বড়ো বড়ো ব্যক্তিগত সমস্যা থাকে যা তাদেরকে হতোদ্যম করে ফেলতে পারে।

যাবতীয় কাঠিন্য বরদাশত এবং সমস্যা ও বাধা উপেক্ষা করে আদর্শের প্রচার ও প্রতিষ্ঠার প্রয়াস চালাবার মন-মানসিকতা সজীব রাখার জন্য নেতৃত্বকে ভূমিকা পালন করতে হয়। আদর্শিক জ্ঞান বিতরণ, সদালাপ, অমায়িক ব্যবহার এবং উন্নত চরিত্রের প্রভাব দ্বারাই কেবল নেতৃত্ব এই ভূমিকা সঠিকভাবে পালন করতে পারেন।

. নেতৃত্ব বিনম্র ভাষায় নির্দেশ দেবেন

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন নিজেই ইসলামী সংগঠনের কর্মীদের ওপর নেতৃত্বের নির্দেশ পালনকে বাধ্যতামূলক করে দিয়েছেন। আল্লাহর এই বিধান সম্পর্কে অবহিত প্রত্যেক কর্মী স্বতঃস্ফূর্তভাবেই নেতৃত্বের নির্দেশ পালন করবেন, এটাই স্বাভাবিক।

নেতৃত্ব কর্মীদেরকে বিভিন্ন কাজের নির্দেশ অবশ্যই দেবেন। তবে নির্দেশ প্রদানের ভাব-ভঙ্গি ও ভাষা মোটেই রুক্ষ হওয়া উচিত নয়। কোন অবস্থাতেই ভদ্রতার সীমারেখা লঙ্ঘন করা উচিত নয়। নেতৃত্ব কোন একটি কাজ সম্পন্ন হওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরবেন। প্রয়োজনে নেতৃত্ব বার বার কাজ বা বিষয়টির দিকে কর্মীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করবেন। তিনি বা তাঁরা বলিষ্ঠভাবে তাঁর বা তাঁদের বক্তব্য তুলে ধরবেন। কিন্তু নেতৃত্বকে সজাগ থাকতে হবে যাতে কোন অবস্থাতেই মেজাজ উগ্র না হয়ে পড়ে।

. নেতৃত্ব কর্মীদের সমস্যা সম্পর্কে ওাকিফহাল থাকবেন

একটি সংগঠনের কর্মীগণ মেশিন নয়, মানুষ। তাদের রয়েছে নানাবিধ সমস্যা। পরিবার, প্রতিবেশ ও সমাজ পরিমণ্ডলে তাদের সমস্যা থাকতে পারে। কেউ কেউ মারাত্মক ব্যাধিগ্রস্থ থাকতে পারে। কেউ কেউ চরম দারিদ্র্যের শিকার হতে পারে।

এইসব সমস্যা কর্মীদেরকে অহর্নিশ যাতনা দিয়ে থাকে। পীড়ন করতে থাকে তাদেরকে নিদারুণভাবে ফলে তাদের মানসিক সুস্থিরতা বিনষ্ট হয়। ব্যাহত হয় মনোযোগ। নষ্ট হয় কর্মস্পৃহা। কর্মীদের অবস্থা সম্পর্কে নেতৃবৃন্দের অবগতি থাকা চাই। এক স্তরের নেতৃত্ব সকল স্তরের কর্মীদের সমস্যা সমানভাবে অবহিত থাকবেন, এটা স্বাভাবিক নয়। তবে সামগ্রিকভাবে সংগঠনের সকল কর্মীই যাতে সংগঠনের কোন না কোন পর্যায়ের নেতৃত্বের কাছে তাদের সমস্যাদি ব্যক্ত করতে পারে এবং সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে পরামর্শ লাভ করতে পারে তার ব্যবস্থা থাকা চাই।

কর্মীদের সমস্যা সম্পর্কে ওয়াকিফহাল না থাকলে নেতৃত্ব কর্ম বণ্টনের সময় ভুল করে ফেলতে পারেন। তিনি কঠিন সমস্যাপীড়িত কোন ব্যক্তির ওপর তার সাধ্যাতীত কোন দায়িত্ব চাপিয়ে দিতে পারেন। যা কিছুতেই হওয়া উচিত নয়।

. নেতৃত্ব বয়স, সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা, স্বাস্থ্য, শিক্ষার মান ইত্যাদি বিচার করে কর্মীদের ওপর দায়িত্ব অর্পণ করবেন

একটি সংগঠনে থাকে নানা কাজ। কোন কাজ উচ্চ শিক্ষা দাবি করে, কোনটি তা করে না। কোন কাজ খুব দৈহিক শ্রম দাবি করে, কোনটি তা করে না। কোন কাজ দীর্ঘ সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা দাবি করে, কোনটি তা করে না।

তাই কর্ম বণ্টনের সময় কর্মীদের বয়স, সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা, স্বাস্থ্য, শিক্ষার মান ইত্যাদি বিচার করে যেই ব্যক্তি যেই কাজের উপযুক্ত তার ওপর সেই কাজ অর্পণ করতে হবে। এইভাবে বিচার বিশ্লেষণ করে কর্ম বণ্টন করতে দেখা যাবে সঠিক ব্যক্তির ওপর সঠিক দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে।

. নেতৃত্ব কর্মীদের কার্য সম্পাদনে সহযোগিতা করবেন

কোন কর্মীর ওপর একটি দায়িত্ব অর্পণ করেই নেতৃত্ব নির্লিপ্ত থাকবেন না। নেতৃত্ব কর্মীকে কর্তব্য পালনের ক্ষেত্রে যথসম্ভব সহযোগিতা প্রদান করবেন।

প্রথমেই কর্মীর ওপর অর্পিত দায়িত্বের দাবিটা কি তা তাকে বুঝিয়ে দেয়া দরকার। সেই দায়িত্ব পালনের জন্য কি কি পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে সেই সম্পর্কে তাকে পরামর্শ দেয়া যায়। আপন দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কোন কর্মী কোন জটিলতার সম্মুখীন হলে তা অতিক্রম করার উপায় বলে দিয়েও তাকে সাহায্য করা যেতে পারে। ক্ষেত্র বিশেষে সাময়িকভাবে কোন কর্মীকে প্রথমোক্ত কোন কর্মীর সহযোগিতার জন্য নিয়োজিত করা যেতে পারে।

. নেতৃত্ব কর্মীদের অনানুষ্ঠানিক আলাপ করবেন

একটি সংগঠনের থাকে নানা ধরণের ফর্মাল মিটিং। এই মিটিংগুলোকে কর্মীদের সাথে নেতৃত্বের সাক্ষাত হয় বটে, কিন্তু অন্তরঙ্গ আলাপের কোন সুযোগ থাকে না। এই মিটিংগুলোর সুনির্দিষ্ট কর্মসূচী থাকে। এর ভিত্তিতেই মিটিং শুরু হয়, কার্যক্রম সামনে অগ্রসর হয় এবং এক পর্যায়ে এসে মিটিং সমাপ্ত হয়। এমতাবস্থায় মিটিংয়ে কর্মীদের সাথে নেতৃত্বের সাক্ষাত ঘটলেও তাদের সাথে বিস্তারিত আলাপ-আলোচনার সুযোগ মেলে না। অথচ কর্মীদের মান সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা লাভ, তাদের সমস্যা সম্পর্কে অবহিত হওয়া এবং তাদের মানোন্নয়নের জন্য তাদের সাথে নেতৃত্বের ব্যক্তিগত আলাপ-আলোচনা খুবই জরুরী। তাই নেতৃত্বকে অনানুষ্ঠানিক সাক্ষাতকারের মাধ্যমে এই উদ্দেশ্য হাসিলের চেষ্টা করতে হবে।

. নেতৃত্ব কর্মীদের প্রতি কোমলতাউদারতাক্ষমাশীলতা অবলম্বন করবেন

কর্মীগণ সংগঠনের লক্ষ্য হাসিলের জন্য আন্তরিকভাবে প্রচেষ্টা চালিয়ে থাকেন। অবশ্য কারো মনে যদি কোন কারণে বক্রতা সৃষ্টি হয়ে থাকে ভিন্ন কথা। কর্তব্য পালনের মান সকলের একই রকম হয় না। যোগ্যতা অনুসারে এর তারতম্য হবেই। তাছাড়া কার্য সম্পাদনকালে কারো কারো ভুল-ভ্রান্তি হয়ে যাবেই। নেতৃত্বের কর্তব্য হচ্ছে কর্মীদের সেইসব ভুল-ভ্রান্তি সম্পর্কে সচেতন করে তোলা। ভুল মুক্ত হয়ে কাজ করার জন্য তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা। কাজের মান উন্নত করার জন্য তাদেরকে উদ্বুদ্ধ করা।

আচরণের ক্ষেত্রেও সকল কর্মী একই মানের হবার কথা নয়। কারো আচরণ খুবই সুন্দর। আবার কারো আচরণে অনাকাংখিত কিছু প্রকাশ পেতে পারে। অনাকাংখিত কিছু ঘটলে তা শুধরাবার প্রয়াস চালাতে হবে। বার বার সেইদিকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির দৃষ্টি আকর্ষণ করতে হবে।

কোন কোন কর্মী কোন এক সময় শৃংখলা বিরোধী আচরণও করে ফেলতে পারে। সেই ক্ষেত্রে তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে। তাদের বিবেককে জাগিয়ে তোলার প্রয়াস চালাতে হবে। তারা যদি ভুল স্বীকার করে এবং ভবিষ্যতে আর কখনো এমন অবাঞ্ছিত আচরণ করবে না বলে অঙ্গীকার করে তাদেরকে ক্ষমা করে দিতে হবে। অবশ্য ভুল স্বীকারের পরিবর্তে তারা যদি ঔদ্ধত্য প্রকাশ করতে থাকে তাহলে নেতৃত্বকে শৃংখলার স্বার্থে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। সংগঠনের সুস্থতার জন্য এই ধরণের পদক্ষেপ প্রয়োজন হয়ে পড়ে। এই পদক্ষেপকে অবশ্যই ব্যতিক্রম গণ্য করতে হবে। সামগ্রিকভাবে নেতৃত্ব কর্মীদের প্রতি কোমল আচরণ করবে, তাদের প্রতি উদার হবেন এবং যত বেশি সম্ভব তাদেরকে ক্ষমাশীলতার দৃষ্টিতে দেখবেন, এটাই ইসলামের দাবি।

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন নিজেই ইসলামী আন্দোলনের মূল নেতা মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহকে সা. নির্দেশ নিয়ে বলেন,

وَاخْفِضْ جَنَاحَكَ لِمَنِ اتَّبَعَكَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ

‘‘তোমার অনুসারী মুমিনদের প্রতি নম্র ব্যবহার কর।’’ (সূরা আশ্শূয়ারাঃ ২১৫)

মহান আল্লাহ বলেন,

خُذِ الْعَفْوَ وَأْمُرْ بِالْعُرْفِ وَأَعْرِضْ عَنِ الْجَاهِلِينَ

‘‘নম্রতা ক্ষমাশীলতার নীতি অবলম্বন কর, মা’রুফ কাজের উপদেশ দিতে থাক এবং মূর্খ লোকদের সাথে জড়িয়ে পড়ো না।’’ (সূরা আল রাফঃ ১৯৯)

وَلَمَن صَبَرَ وَغَفَرَ إِنَّ ذَٰلِكَ لَمِنْ عَزْمِ الْأُمُورِ

‘‘যেই ব্যক্তি ধৈর্যধারণ করলো এবং ক্ষমা করলো- নিশ্চয়ই তা উচ্চ মানের সাহসী কাজের অন্যতম। (সূরা আশ শূরাঃ ৪৩)

আল্লাহর রাসূল সা. বলেন, ‘‘নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার ওপর ওহী পাঠিয়েছেন। তোমরা পরস্পর বিনয়-নম্রতার আচরণ কর যেই পর্যন্ত না কেউ কারো ওপর গৌরব করে ও অপরের ওপর বাড়াবাড়ি করে।’’ (সহীহ মুসলিম)

আল্লাহর রাসূল সা. অন্যত্র বলেন, ‘‘দান দ্বারা সম্পদ কমে না। ক্ষমার দ্বারা আল্লাহ সম্মান বৃদ্ধি করা ছাড়া আর কিছুই করেন না। আর যেই ব্যক্তি একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে বিনয় ও নম্রতার নীতি অবলম্বন করে আল্লাহ তার মর্যাদা বাড়িয়ে দেন।’’ (সহীহ মুসলিম)

এক হাদীসে আল্লাহর রাসূল সা. বলেছেন, ‘‘আল্লাহ কোমল। তিনি কোমলতা ভালোবাসে। তিনি কোমলতা দ্বারা ঐ জিনিস দান করেন যা কঠোরতা দ্বারা দেন না। কোমলতা ছাড়া অন্য কিছু দ্বারাই তিনি তা দেন না।’’ (সহীহ মুসলিম)

আল্লাহর রাসূল সা. বলেন, ‘‘যেই জিনিসে কোমলতা থাকে কোমলতা সেটিকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করে। আর যেই জিনিস থেকে কোমলতা ছিনিয়ে নেয়া হয় সেটা ত্রুটিযুক্ত হয়ে যায়।’’ (সহীহ মুসলিম)

আল্লাহর রাসুল সা. অন্যত্র বলেছেন, ‘‘যাকে কোমলতা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে তাকে সব রকমের কল্যাণ থেকেই বঞ্চিত করা হয়েছে।’’ (সহীহ মুসলিম)

আল্লাহর রাসূল সা. আরো বলেন, ‘‘জাহান্নামের আগুন এমন প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য হারাম যে লোকদের সাথে থাকে, যে কোমল মন, নরম মিজাজ ও বিনম্র স্বভাব বিশিষ্ট।’’ (জামিউত তিরমিযী)

ক্ষমাশীলতার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে মহান আল্লাহ বলেন,

الَّذِينَ يُنفِقُونَ فِي السَّرَّاءِ وَالضَّرَّاءِ وَالْكَاظِمِينَ الْغَيْظَ وَالْعَافِينَ عَنِ النَّاسِ ۗ وَاللَّهُ يُحِبُّ الْمُحْسِنِينَ

‘‘তাদের বৈশিষ্ট্যঃ তারা রাগ হজমকারী এবং লোকদের প্রতি ক্ষমাশীলতার নীতি অবলম্বনকারী। নিশ্চয়ই আল্লাহ মুহসিনদেরকে ভালোবাসেন।’’ (সূরা আলে ইমরানঃ ১৩৪)

আল্লাহর রাসূল সা. বলেন, ‘‘নিকৃষ্ট দায়িত্বশীল ঐ ব্যক্তি যে অধীন লোকদের প্রতি কঠোর। সতর্ক থেকো যাতে তুমি তাদের অন্তর্ভুক্ত না হয়ে পড়।’’ (সহীহ মুসলিম, সহীহুল বুখারী)

ইসলামী আন্দোলনের মূল নেতা মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সা. ছিলেন কোমলতা, উদারতা ও ক্ষমাশলতার মূর্ত প্রতীক। তাঁর এই গুণ বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে মহান আল্লাহ ঘোষণা করেন তিনি, ‘‘…মুমিনদের প্রতি ক্ষমাশীল ও দয়ালু।’’ (সূরা আত্তাওবা)

فَبِمَا رَحْمَةٍ مِّنَ اللَّهِ لِنتَ لَهُمْ ۖ وَلَوْ كُنتَ فَظًّا غَلِيظَ الْقَلْبِ لَانفَضُّوا مِنْ حَوْلِكَ

‘‘এটা আল্লাহর বড়োই অনুগ্রহ যে তুমি তাদের জন্য নম্র স্বভাবের লোক হয়েছো। তুমি যদি উগ্র-স্বভাব (কটুভাষী) ও কঠোর চিত্ত হতে তাহলে এসব লোক তোমার চারদিক থেকে দূরে সরে যেতো।’’ (সূরা আলো ইমরানঃ ১৫৯)

আল-কুরআনের এইসব আয়াত এবং আল্লাহর রাসূলের সা. এইসব উক্তি থেকে অতি সহজেই উপলব্ধি করা যায় আল ইসলাম কোমলতা-উদারতা-ক্ষমাশীলতার ওপর কতোখানি গুরুত্ব আরোপ করেছে।

আল-কুরআন এবং আল-হাদীসের শিক্ষাকে সামনে রেখেই নেতৃত্বকে কর্মীদের সাথে বিনম্র আচরণ করতে হবে।

 

About এ. কে. এম. নাজির আহমদ