আমরা কি চাই কেন চাই কেন চাই কিভাবে চাই?

মানুষের জীবন বিধান ইসলাম

এখন প্রশ্ন হচ্ছে খোদায়ী বিধান মানুষ কিভাবে মেনে চলবে? কিভাবে পালন করবে প্রতিনিধিত্বের দায়িত্ব? দুনিয়ার বিলালে পরিমণ্ডলে তার ভূমিকাই বা কি হবে?

এ সকল প্রশ্নের জবাব দিয়ে আল্লাহ মানুষের জন্য পাঠিয়েছেন একটি পূর্ণাঙ্গ ও নির্ভুল জীবন বিধান। সেই বিধান বা গাইড বুকের নামÑ আল কুরআন। আল্লাহ শুধু গাইডবুক দিয়েই ক্ষান্ত হননি, কিভাবে সেই গাইডবুক অনুসরণ করে জীবনের কঠিন ও বিপদ সংকুল পথ অতিক্রম করতে হবে তার বাস্তব নমুনা পেশ করার জন্য প্রেরণ করেছেন পথ প্রদর্শক রাসূল (সা)-কে। যার সম্পর্কে আল্লাহর ঘোষনা, “তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের চরিত্রের মধ্যেই রয়েছে সর্বোত্তম আদর্শ”। (সূরা আল আহযাব-২১)

আল্লাহ প্রদত্ত এবং রাসূল (সা) প্রদর্শিত জীবন বিধানের নামই ইসলাম। মানব জাতির একমাত্র নির্ভুল এবং পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা। মানবতার একমাত্র মুক্তির সনদ। ইসলাম প্রচলিত অর্থে নিছক কোন ধর্মের নাম নয়; বরং মানুষের জন্মের পর দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত অর্থাৎ ব্যক্তি, সমাজ, রাষ্ট্রীয় পরিমণ্ডল, আন্তর্জাতিক পরিসরসহ জাগতিক সকল সমস্যার সমাধান, জীবন জিজ্ঞাসার জবাব এবং আখেরাতে মুক্তির একমাত্র নির্ভরযোগ্য ব্যবস্থা হল ইসলাম।

সমগ্র সৃষ্টি জগতই মহান আল্লাহর সৃষ্টি। তিনি নিরঙ্কুশ ও সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক। তিনি জীবন মৃত্যুর অধিকর্তা, রিজিকদাতা, বিধানদাতা এবং মহাবিচারক। সৃষ্টির ইবাদত কেবল মাত্র তাঁরই প্রাপ্ত। কীট-পতঙ্গ থেকে শুরু করে বিশ্ব জগতের প্রতিটি সৃষ্টি তাঁর নির্দেশ মেনে চলে। তার অসীম ক্ষমতা ও নিয়ন্ত্রণের কারণে গোটা মহাবিশ্বের পরিচালনায় কোন বিশৃঙ্খলা নেই। “মহান প্রভুর অপরূপ সৃষ্টিতে তুমি কোন অসঙ্গতি খুঁজে পাবে না। তোমার দৃষ্টি প্রসারিত করে দেখ। কোন অসঙ্গতি আছে কি? তোমার চোখ ক্লান্ত হযে ফিরে আসবে (আল কুরআন)।

সৃষ্টির এই অপরূপ ব্যবস্থাপনা চিন্তাশীল মানুষকে আলোরিত না করে পারে কি? কাজেই মানুষের জীবন অনিবার্য ভাবেই দাবি করে তার গোটা জীবনকে সে মহান প্রভুর নির্দেশিত বিধান আল ইসলামের আলোকে পরিচালনা করবে। আর যিনি এ পথে জীবন পরিচালনা করে আল্লাহর প্রতিনিধিত্বের দায়িত্ব পালন করেন তিনি মুসলমান।

মুসলমানের দায়িত্ব

শুধুমাত্র আল্লাহকে প্রভু, মুহাম্মদ (সা)-কে রাসূল এবং আল কুরআনকে ধর্মগ্রন্থ বলে স্বীকার করার নামই মুসলমান নয়। মূলত মুসলমান হচ্ছেন তিনিই যিনি আল্লাহর রঙে নিজেকে রাঙিয়েছেন, দুনিয়ার অন্য যে কোন কিছুর চাইতে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনকে প্রাধান্য দিয়েছেন আখেরাতের জীবনের প্রকৃত মঞ্জিল নির্ধারণ করেছেন, অহরহ মানুষকে ডাকছেন সত্য ও সুন্দরের দিকে। “আর তোমরা হচ্ছো সর্বোত্তম জাতি, তোমরা মানুষকে ন্যায়ের দিকে ডাকবে এবং অন্যায় থেকে বিরত রাখবে, আর কেবল মাত্র আল্লাহর উপরই ঈমান রেখে চলবে। (সূরা আলে ইমরান-১১০)।

আল্লাহর নিয়ম লঙ্ঘন করাই দুনিয়ার জীবনে মানুষের বিপর্যয়ের মূল কারণ। আর এই পথভোলা, আত্মবিস্মৃত মানবতাকে সঠিক পথের দিশা দেখানোর দায়িত্ব প্রত্যেক মুসলমানের উপরই বর্তায়। আল্লাহর বিধান মেনে চলার দিকে মানব সমাজকে আহ্বান জানানো এবং জীবনের সকল ক্ষেত্রে তাঁর পূর্ণ অনুশীলনের মাধ্যমে মানবতার কল্যাণ নিশ্চিত করার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানোই মুসলমানদের মৌলিক দায়িত্ব। মুসলিম জাতি এ দায়িত্ব যতদিন পালন করছে ততদিন মানুষ হিসেবে তারা ছিল মর্যাদার আসনে সমাসীন। জাতি হিসেবে ছিল বিশ্বের বুকে শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী।

যখনই তারা এ দায়িত্ব থেকে গাফেল হয়েছে তখনই তাদের উপর নেমে এসেছে বিপর্যয়, পরাধীনতার গ্লানি, নির্যাতন, অপমান আর লাঞ্ছনা। আজকের ফিলিস্তিন, ইরাক, আফগান, কাশ্মীর, ফিলিপাইন, আলজেরিয়া, বসনিয়া, চেচনিয়াসহ বিশ্বের যে প্রান্তেই নজর দেয়া যাক না কেন, মুসলমানদের করুণ চিত্রই কেবল ফুটে ওঠে। এ যেন আল কুরআনের সেই বাণীরই বাস্তব চিত্র : “আর তোমরা যদি তা মেনে না চলো তবে তোমাদের জন্য রয়েছে দুনিয়ার জীবনে অপমান, লাঞ্ছনা, আর আখেরাতের কঠিন শাস্তি এবং তোমাদেরকে অন্য জাতির পদানত করে দেয়া হবে” (সূরা আত তওবা-৩৯)।

যে মুসলমানরা গোটা মধ্য যুগে জ্ঞান বিজ্ঞানের আলোকবর্তিকা ছড়িয়েছিল বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তে, শান্তি ও সুসমামণ্ডিত এক নতুন সভ্যতার জন্ম দিয়েছিল, প্রতিষ্ঠা করেছিল ইতিহাসের সবচেয়ে উজ্জ্বলতম এক কল্যাণময় রাষ্ট্রব্যবস্থা কিন্তু আজ তারা অনেক পেছনে পড়ে আছে। বিশ্ব নেতৃত্বতো দূরের কথা আজ আমরা জাতিগত স্বকীয়তা, রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব আর পার্থিব উন্নতির দিক থেকে অনেক পিছিয়ে আছি। শত শাত বছরের গোলামীর ফলে নিজস্ব, মূল্যবোধ, সংস্কৃতি, বিশ্বাস আর আদর্শ হারিয়ে আজ মুসলমানরা ইসলামের মত মহা মূল্যবান ঐশ্বর্য নিজেদের কাছে থাকা সত্ত্বেও নিজস্ব সমস্যা সমাধানে মানবিয় মতবাদের দ্বারস্থ হচ্ছে।

About শিবির অনলাইন লাইব্রেরী