আমরা কি চাই কেন চাই কেন চাই কিভাবে চাই?

সমস্যা একটাই

আসলে অফুরন্ত প্রাকৃতিক সম্পর্কে ভরপুর আমাদের দেশটির কেবল মাত্র বিপুল জনসংখ্যা অশিক্ষা কিংবা দারিদ্র্র মূল সমস্যা নয়। আমাদের সমস্যা অন্যত্র। অন্য একটি মৌলিক প্রশ্নের উপর নিহিত। আমাদের সম্পদের অভাব নেই। কিন্তু অভাব রয়েছে সৎ, যোগ্য ও খোদাভীরু মানুষের। যারা জাতীয় জীবন ও সম্পদকে আমানত জ্ঞান করে যথার্থ উন্নয়নে কাজ করবেন।

সত্য বলতে, রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় যত পরিবর্তন সাধন করা হোক না কেন সৎ, আদর্শবাদী ও খোদাভীরু নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত না হলে কোন পরিবর্তনই কাক্সিক্ষত ফল দেবেনা। কিন্তু এই কাক্সিক্ষত মানুষ তৈরী করতে পারে দেশের শিক্ষাঙ্গনগুলো। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা এবং শিক্ষাঙ্গণগুলো জাতীয় নেতৃত্ব তৈরীর সেই কাক্সিক্ষত মান অর্জনে কি সহায়ক? এ প্রশ্নের জবাব পেতে হলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর বর্তমান অবস্থার প্রতি নজর দেয়া যাক।

শিক্ষাঙ্গনে নৈরাজ্য

আমাদের শিক্ষাঙ্গনে চলছে নৈরাজ্য। স্বাধীনতার পর থেকে এদেশের শিক্ষাঙ্গনগুলোতে সন্ত্রাসের যে কালো থাবার বিস্তার হয়েছিল তা থেকে আজও মুক্ত হতে পারেনি আমাদের শিক্ষাঙ্গন। সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ছাড়া, আদর্শবর্জিত আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা আদর্শ মানুষ উপহার দিতে ব্যর্থ হয়েছে।

নিজস্ব সামাজিক মুল্যবোধের চর্চা, ধর্মীয় বিশ্বাস ও ঐতিহ্য দেশের শিক্ষানীতি এবং শিক্ষাকারিকুলামে প্রতিফলিত না হওয়ায় আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা স্বাধীন চিন্তার অধিকারী প্রকৃত দেশপ্রেমিক নাগরিক তৈরী করতে পারছে না। তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষতার নামে এমন এক শিক্ষাপদ্ধতি আমাদের ছাত্রদের উপর চাপিয়ে দেয়া হয়েছে যার কারণে একজন ছাত্র বাহ্যিকরূপে এদেশের মানুষ থাকলেও চিন্তাচেতনায় হচ্ছে পাশ্চাত্যের ধ্যান-ধারণার অধিকারী। এভাবে কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের ঠেলে দেয়া হচ্ছে পাশ্চাত্যের জড়বাদী সভ্যতার কোলে। অথচ আদর্শিক দেওলিয়াত্বের শিকার পাশ্চাত্য সমাজ আজ নানা সামাজিক জটিলতার বিকাশ। যার রেখা যাচ্ছে আমাদের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে। বাড়ছে সামাজিক অস্থিরতা, সেই সাথে এক সবংগ্রাসী হতাশা। শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস, মাদকদ্রব্যের মরণনেশা যার অবশ্যাম্ভাবী ফল।

আমাদের শিক্ষার সংকট

আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা নানাবিধ সমস্যায় পরিপূর্ণ। পরিকল্পনাহীন শিক্ষাপদ্ধতি আজ উৎপাদনশীল নাগরিক তৈরী করতে সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়েছে। কর্মমুখী শিক্ষা না থাকায় বেকারত্বের হার দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। উচ্চ শিক্ষাকে দিন দিন করছে মূল্যহীন। শিক্ষা উপকরণের স্রমবর্ধমান মূল্য শিক্ষাকে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে নিয়ে যাচ্ছে। মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা নাগালের বাইরে নিয়ে যাচ্ছে। মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা নামে ধর্মীয় শিক্ষার এমন একটি রূপ চালু রাখা হয়েছে যা না ধর্মীয় ঐতিহ্যের সঠিক রূপায়নের সক্ষম শিক্ষার্থী তৈরী করছে, না আধুনিক পরিস্থিতির সাথে সামঞ্জস্যশীল মানুষ তৈরী করতে পারছে।

সন্ত্রাসে জর্জরিত আমাদের শিক্ষাঙ্গনে আজ শিক্ষার পরিবেশ নেই। মানুষ গড়ার আঙ্গিনায় মানুষ হবার পরিবেশ আজ মেধাহীন সন্ত্রাস-নির্ভর ছাত্র নেতৃত্বের কাছে জিম্মি হয়ে আছে। লেজুর বৃত্তির ছাত্র রাজনীতি জাতির সবচেয়ে মেধাবী অংশটিকে নিয়ে যাচ্ছে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থায় ভ্রাতৃত্ব, ভালবাসা, দেশপ্রেম, নৈতিক মূল্যবোধে একজন শিক্ষার্থীর মন-মগজ, চিন্তা-চেতনাকে উজ্জীবিত করতে পারছে না।

সাংস্কৃতিক দেওলিয়াত্ব

আমাদের সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও চলছে চরম দেওলিয়াত্ব। চলছে সংস্কৃতির নামে অপসংস্কৃতির চর্চা। স্যাটেলাইটের মাধ্যমে সংস্কৃতির নামে পাশ্চাত্যের বিকৃত সংস্কৃতির ব্যাপক প্রসারের মাধ্যমে আমাদের যুব চরিত্র ধ্বংসের সকল আয়োজন সম্পন্ন করা হয়েছে। শিক্ষা চিরন্তনের নামে অগ্নিপুজার নব্য সংস্কৃরণ চালুর মাধ্যমে এদেশের তৌহিদী সংস্কৃতির ভিতকে উপড়ে ফেলার ষড়যন্ত্রকে চূড়ান্ত রূপ দেয়া হয়েছে। ব্যক্তিপুজা আর অত্যাচারের মাধ্যমে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নিক্ষেপ করা হচ্ছে অন্ধকারের গোলক ধাঁধায়। ক্ষমতাসীনরা মুখে ইসলামের কথা বলছেন আর অপরদিকে তথাকথিত চিত্তবিনোদন আর মুক্তবুদ্ধির চর্চার নামে ইসলামের সর্বনাশ করছেন। এই অবস্থা চলতে থাকলে আমাদের নিজস্ব পরিচিতি, জাতীয় সাহিত্য-সংস্কৃতি তথা আমাদের স্বতন্ত্র অস্তিত্ব মুছে যাওয়াই স্বাভাবিক। তাই সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানের দেশ হিসেবে আমাদের স্বীয় সভ্যতা ও সংস্কৃতির চর্চা, প্রচার, প্রসারের এবং বিকাশের উদ্যোগ গ্রহণ ছাড়া একটি আত্মনির্ভরশীল জাতি হিসেবে বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর আর কোন বিকল্প পথ নেই।

About শিবির অনলাইন লাইব্রেরী