আমরা কি চাই কেন চাই কেন চাই কিভাবে চাই?

কোন্ পথে মুক্তি

সুখী সমৃদ্ধশালী দেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হয়েছিল। কিন্তু সৎ, দক্ষ ও দেশপ্রেমিক মানুষের অভাবে তা আজও সম্ভব হয়ে উঠেনি। বরং বিগত ৩৮ বছরের ইতিহাস কেবল পিছিয়ে পড়ার ইতিহাস। কারণ এদেশে যখন সবাই ক্ষমতাসীন হন, তারাই জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তনের চাইতে নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত থাকেন বেশী। ফলে একুশ শতকে এসে বিশ্বের সকল জাতি যখন একবিংশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে তখন আমাদের অর্থনৈতিক অনগ্রসরতা, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়, অপসংস্কৃতির সয়লাব, শিক্ষাঙ্গনে সীমাহীন সন্ত্রাসী ও নৈরাজ্য, শাসকদের দুর্নীতি, দলীয়করণ ও অগণতান্ত্রিক স্বৈরাচারী মনোভাবের কারণে সর্বত্রই সমস্যার পাহাড় সৃষ্টি হয়েছে। এই সমস্যার সবাই সমাধান চায়। কিন্তু তার পরেও সমাধান হচ্ছে না। তার কারণ উপলব্ধি করতে হবে। মুক্তি পাগল জনতা মুক্তির সন্ধানে আর মরিচীকার পেছনে ছুটতে রাজি নয়। তাই সমস্যা চিহ্নিত করে নির্ণয় করতে হবে অধিকার বঞ্চিত এদেশের মুক্তি কোন্ পথে?

মুক্তির পথ ইসলাম

মুক্তির স্বাদ পেতে অনেক শ্লোগান আর মতবাদের কথা শুনেছি, শুনেছি আরো চমকপ্রদ বুলি। মা দিয়ে মানব রচিত মতবাদের ধারক ও বাহকগণ বিভিন্ন সময়ে আমাদের বিভ্রান্ত করেছে। আমরা আর বিভ্রান্ত হতে চাই না। পেতে চাই শান্তি ও সুখের সন্ধান। পুঁজিবাদের শোষণের কবল থেকে মানবতাকে মুক্ত করে সাম্য প্রতিষ্ঠার মুখরোচক আওয়াজ দিয়ে যে সমাজতন্ত্র বিশ্ববাসীকে মার্কস, লেলিনের তত্ত্বের দিকে ধাবিত করার চেষ্টা করল, স্বল্প সময়ের ব্যবধানে সমাজতন্ত্রের অপমৃত্যু ও সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হল মানুষ কোন দিনই মানুষের জন্য শান্তি ও মুক্তির পথ নির্ণয় করতে পারে না। মানুষের প্রকৃত কল্যাণ ও মুক্তি কোন কোন পথে তা তিনিই জানেন যিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন, তিনি হচ্চেন বিশ্বদ্রষ্টা মহান আল্লাহ। আল্লাহ মানুষকে সৃষ্টির পর বাতলে দিয়েছেন কিসে শান্তি, কোন পথে মুক্তি। মহান আল্লাহ প্রদত্ত শাশ্বত জীবনাদর্শ আল-ইসলামের পরিপূর্ণ অনুসরণ ও সমাজ জীবনে বাস্তবায়নের মাধ্যমেই আমাদের সমাজ ব্যবস্থার সত্যিকার উন্নতি সম্ভব। একমাত্র ইসলামী ভ্রাতৃত্ববোধ ও মানব প্রেমই জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করতে পারে। তিন দিকে ভিন্ন মতাদর্শে বিশ্বাসী আগ্রাসী শক্তির আগ্রাসন থেকে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে ইসলামেই একমাত্র রক্ষাকবচ। সমাজ জীবন থেকে দুর্নীতি, অনিয়ম, নৈরাজ্য দূরীকরণে সৎ, যোগ্য, খোদাভীরু নেতৃত্বের বিকল্প নেই; যারা হবেন ইসলামী আদর্শের উজ্জ্বল প্রতীক, খোলাফায়ে রাশেদীনের অনুকরণে দেশের জনগণের সেবক হিসেবে শাসনকার্য পরিচালনা করবেন। আদর্শহীন নেতৃত্ব থেকে মুক্তির জন্য প্রয়োজন সৎ, যোগ্য নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা ও অসৎ নেতৃত্বের উৎখাত। বিশ্বব্যাপী মানব রচিত মতবাদের ব্যর্থতার প্রেক্ষিতে প্রাচ্য-পাশ্চাত্যে সর্বত্রই আওয়াজ উঠেছে “ডঊ ডঅঘঞ ওঝখঅগ ডঊ ডঅঘঞ ছটঅজঘ” একথা আজ পরীক্ষিত ও সত্য যে, মানবতার মুক্তির জন্য ইসলামের বিজয় অনিবার্য।

শোষণহীন সমাজের জন্য প্রয়োজন আপোষহীন সংগ্রাম

আমাদের দেশে প্রাকৃতিক সম্পদের অভাব নেই। তবুও দেশে শতকরা ৪৫ ভাগ মানুষের দারিদ্র্য সীমার নিচে জীবনযুদ্ধে ব্যাপৃত। কৃষিপ্রধান এদেশের শতকরা ৬৩ ভাগ মানুষ ভূমিহীন, প্রায় দেড় কোটি কর্মক্ষম পুরুষ বেকার। ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও বেকারত্ব আমাদের নিত্যসঙ্গী। এখনও না খেয়ে মানুষ মরার ঘটনা এদেশে ঘটে, লক্ষ লক্ষ মানুষ বাসস্থানের অভাবে মাথা গুজাবার ঠাঁই পায় না। ফুটপাতে, ষ্টেশনে, রাস্তার অলিতে-গলিতে মানবেতর জীবন-যাপন করছে অসংখ্য বনি-আদম। চিকিৎসার অভাবে প্রতিদিন মৃত্যুমুখে পতিত হচ্চে অসংখ্য লোক, শত শত অসহায় রুগ্ন, পঙ্গু, বিকলাঙ্গ মানুষের আত্ম-চিৎকারে আকাশ-বাতাস প্রকম্পিত হচ্ছে। খাদ্য নিয়ে ডাষ্টবিনে মানুষের বাড়াবাড়রি দৃশ্য এদেশে এখনও চোখে পড়ে। অথচ দেশের সমুদয় সম্পদের সিংহভাগ ভোগ করেছে শতকরা ৮ জন ধনাঢ্য ব্যক্তিবর্গ। রাজধানীর অভিজাত এলাকায় গগণচুম্বি প্রাসাদগুলোতে তাদের বাস। পল্লীর কোটি কোটি বঞ্চিত মানুষের করুণ আহাজারি এদের কর্ণকুহরে পৌঁছায় না। তাই আল্লাহ আল-কুরআনে ঘোষণা করছেন, “তোমাদের কি হয়েছে যে, তোমরা আল্লাহর পথে সংগ্রাম করছ না, অথচ নির্যাতিত নারী, পুরুষ ও শিশুরা আর্তনাদ করছে, হে প্রভু, জালিম অত্যাচারীদের জনপদ থেকে আমাদের মুক্ত কর এবং তোমার কাছ থেকে আমাদের জন্য সাহায্যকারী বন্ধু পাঠাও।” (সূরা আন-নিসা-৭৫)

পবিত্র আল-কুরআনের এ বিপ্লবী আহ্বান থেকে সুস্পষ্ট যে, নির্যাতিত নিপীড়িত অধিকার বঞ্চিত গণমানুষের জন্য মুক্তির জন্য সংগ্রাম চালানো মুসলমানের অপরিহার্য কর্তব্য।

আল্লাহর প্রতি অবিচল বিশ্বাস ও পরকালীন ভয় না থাকলে দুনিয়ার মানবীয় কোন বিধি বিধান মানুষকে অসৎপ্রবণতা থেকে ফিরিয়ে রাখতে পারে না। তাই আল্লাহভীরু নেতৃত্ব ও নাগরিক তৈরী করা প্রয়োজন। সমাজ জীবনের জন্য কোন মানবিক মতবাদই নির্ভুল ও উত্তম প্রমাণিত হয়নি। একমাত্র ইসলামই পারে আমাদের সংকটের পূর্ণ সমাধান দিতে।

জাতির ভাগ্য পরিবর্তনের প্রয়োজন ছাত্র সমাজের সংঘবদ্ধ প্রচেষ্টা

আমরা মনে করি বাংলাদেশে একটি কাক্সিক্ষত পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজন সংঘবদ্ধ প্রচেষ্টা। ইসলামকে একটি বৈপ্লবিক মতাদর্শ হিসেবে যারা এদেশে তথা সারা বিশ্বে প্রতিষ্ঠিত দেখতে চায় তাদেরকে সংগঠনের মাধ্যমে ব্যাপক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। এক্ষেত্রে তরুণ ছাত্র সমাজের রয়েছে বহু গুরু দায়িত্ব। কারণ তরুণ ছাত্র সমাজ হচ্চে সমাজের সবচেয়ে গতিশীল অংশ। এক অপ্রতিরোধ্য শক্তি। দুনিয়ার কোন বিপ্লবই তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া সম্ভবপর হয়নি। আমাদের মত উন্নয়নশীল দেশে ছাত্র সমাজের দায়িত্ব আরো বেশী। তাই ইসলামী আদর্শের ভিত্তিতে ছাত্রদের সংঘবদ্ধ করে জাতীয় জীবনের সংকট মোকাবেলায় ভূমিকা পালন করা একান্ত প্রয়োজন।

About শিবির অনলাইন লাইব্রেরী