আমরা কি চাই কেন চাই কেন চাই কিভাবে চাই?

জাতির ক্রান্তিকালে শিবিরের আবির্ভাব

বাংলাদেশের ছাত্র সমাজ অত্যন্ত সচেতন। ভাষা আন্দোলন, স্বাধীনতা আন্দোলন, স্বৈরচার বিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনসহ অতীতের বিভিন্ন আন্দোলনে এরা পালন করেছে ঐতিহাসিক ভূমিকা। অমাাদের দেশে সামাজিক, রাজনৈতিক, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটে বহু আগেই ছাত্র সমাজের মধ্যে গঠনমুখী আন্দোলনের প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হয়। অবশেষে ১৯৭৭ সালে ৬ই ফেব্র“য়ারী রাজধানী ঢাকায় “বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির” এক ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালনের জন্য আত্ম প্রকাশ করে।

লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য

“বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির” প্রচলিত ধারার অন্যান্য ছাত্র সংগঠনের ন্যায় চমকপ্রদ শ্লোগান সর্বস্ব কিংবা ইস্যুভিত্তিক কোন সাময়িক উদ্দেশ্য হাসিলের লক্ষ্যে গঠিত হয়নি বরং আম্বিয়াযে কিরাম ও নবী রাসূলগণ পৃথিবীর মানুষকে যে মহান সত্যের পথে আহ্বান জানিয়েছিলেন সেই একই দাওয়াত নিয়ে ছাত্র সমাজের মধ্যে কাজ করতে চায়।

এটি একটি দ্বীনি প্রতিষ্ঠান। আখিরাতের নাযাতকে আমরা চূড়ান্ত টার্গেট হিসেবে ঠিক করেছি। জাগতিক সফলতা কিংবা পার্থিব মোহ আমাদের কাম্য নয়। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনই আমাদের মূল লক্ষ্য। আমাদের সংগঠনের লক্ষ ও উদ্দেশ্য হচ্ছে “আল্লাহ প্রদত্ত ও রাসূল (সা) প্রদর্শিত বিধান অনুযায়ী মানুষের সার্বিক জীবনের পুনবিন্যাস সাধন করে আল্লাহর সন্তোষ অর্জন।

বস্তুত কোন ব্যক্তির মুসলমান হবার অর্থই হল ইসলামের প্রতি ঈমান আনার অর্থই হচ্ছে আল্লাহ যে বিষয়গুলো পছন্দ করেন সেগুলো নিজ জীবনে প্রতিষ্ঠা করা এবং সমাজে প্রতিষ্ঠার জন্য সর্বাত্মক সংগ্রাম করা। এভাবে সে সমাজে সাম্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ প্রতিষ্ঠা করতে এবং সত্য বিরোধী প্রতিটি জিনিসকেই নিশ্চিহ্ন করতে উদ্যত হবে।

আল্লাহ বলেন, “হে রাসূল তোমার খোদার তরফ হতে তোমার প্রতি যা কিছু নাযিল করা হয়েছে তা লোকদের পর্যন্ত পৌঁছে দাও, তুমি যদি না কর তবে সেটা পৌঁছে দেয়ার হক তুমি আদায় করলে না।” (সূরা আল মায়েদা-৬৭)

কোন জীবন্ত প্রাণীর হৃদয়ে স্পন্দন না থাকাটা যেমন অকল্পনীয় তেমনি কোন মুসলমান সত্য প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে অবতীর্ণ হবেনা তা কল্পনাও করা যায় না। সর্বাবস্থায় সত্য প্রতিষ্ঠা আত্মনিয়োগ প্রয়োজন। আল কুরআনে তাই আল্লাহ ঘোষণা দেন, “তোমরা বের হয়ে পড় হালকাভাবে কিংবা ভারী অবস্থায়। আর জেহাদ কর আল্লাহর পথে নিজেদের মাল-সম্পদ এবং জান প্রাণ দিয়ে। এটা তোমাদের জন্য কল্যাণময় যদি তোমরা জান। (সূরা আত তওবা-৪১)

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির মানব জীবনের সামগ্রীক দিকে ইসলামী আদর্শে পরিস্ফুটিত করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে। আর এ প্রচেষ্টা মূলত, ঈমানী দায়িত্ব। ঈমান আনার সাথে সাথে প্রতিটি মুমিনের উপর এ গুরু দায়িত্ব অর্পিত হয়। আল্লাহ বলেন, “আর তোমাদের মধ্যে এমন একটি দল থাকা উচিত, যারা আহ্বান জানাবে সৎকর্মের প্রতি, নির্দেশ দেবে ভাল কাজের এবং বারণ করবে অন্যায় কাজ থেকে। এরাই হবে সফলকাম”। (সূরা আলে ইমরান-১০০৪)

এই আয়াত থেকে সুস্পষ্ট যে সৎ কাজে আদেশ দান ও অসৎ কাজের নিষেধ করার কর্তব্য পালনের জন্য মুসলমানদের সৃষ্টি করা হয়েছে। আজকের মুসলিম সম্প্রদায় যদি কল্যাণের পথে আহ্বান করাকে জীবনের লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করে তাহলে বিজাতীয়দের অনুকরণের ফলে আমাদের মধ্যে যেসব ব্যাধি সংক্রমিত হয়েছে তা সম্পূর্ণরূপে তিরোহিত হয়ে যাবে।

অন্যত্র আল্লাহর ঘোষণা হচ্ছে “প্রকৃত কথা এই যে মহান আল্লাহ তায়ালা মুমনিদের জান মাল জান্নাতের বিনিময়ে খরিদ করে নিয়েছেন। এখন তাদের কাজেই হবে তারা আল্লাহর পথে সংগ্রাম করবে, সে সংগ্রামে তারা যেমন মারবে তেমনি মরবেও।” (সূরা আত তওবা-১১১)।

সূতরাং লক্ষ্য বিস্মৃত মানবতার সত্যিকার কল্যাণ ও মুক্তির পথ নির্দেশের জন্যে যে দায়িত্ব মুসলিম জাতির উপর অর্পিত হয়েছে বর্তমান অবস্থার দাবী অনুযায়ী ইসলামী ছাত্রশিবির সে কর্তব্য পালন করার জন্য এগিয়ে এসেছে। আমাদের জানমাল বেহেশতের বিনিময়ে আল্লাহ কিনে নিয়েছেন। সুতরাং একজন মুমিনের জান মাল শুধুমাত্র আল্লাহর পথেই নিয়োজিত হবে।

আজ বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী মানুষ যেভাবে মতবাদের গোলক ধাঁধায় জীবনের প্রকৃত উদ্দেশ্য ও লক্ষপথ থেকে বিচ্যুত হয়ে অভিশাপে ও ধ্বংসের জ্বালামুখে এগিয়ে যাচ্ছে তা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। মানবতার এ দুর্যোগ তথা করুন পরিণতি দেখে কোন তরুণ যুবক বসে থাকতে পারেনা। আল্লাহ তো বলেছেন, “তোমাদের মধ্যে এমন একটি দল থাকা উচিত, যারা লোকদের সুকৃতির দিকে ডাকবে এবং দুষ্কৃতি থেকে বিরত রাখবে এই ধরনের লোকেরাই কল্যাণ প্রাপ্ত।” (সূরা আলে ইমরান-১০৪)

সামগ্রিকভাবে মুসলমান জাতিটাই যখন বিভ্রান্তির শিকারে পরিণত হয়েছে তখন একটা দলকে অবশ্যই সত্যের নিশানা হাতে নিয়ে এগিয়ে আগাতে হবে। বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির এদেশের ছাত্র সমাজের মধ্যে এ দ্বীনি দায়িত্ব পালনের জন্যই গঠিত হয়েছে।

About শিবির অনলাইন লাইব্রেরী