আমরা কি চাই কেন চাই কেন চাই কিভাবে চাই?

দাওয়াত

বাংলাদেশ তৃতীয় বৃহত্তম মুসলিম দেশ। কিন্তু এদেশের শতকরা ৮৯.৭ জন লোক মুসলমান হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশের মানুষের ব্যক্তিজীবন থেকে শুরু করে পারিবারিক, সামাজিক, রাষ্ট্রীয়, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অঙ্গন কোন ক্ষেত্রেই আল্লাহর দেয়া বিধান আল ইসলামের আদর্শ প্রতিষ্ঠিত নেই। বিশেষ করে শিক্ষা ব্যবস্থার ক্ষেত্রে এ কথাটি আরও বেশী করে প্রযোজ্য। অথচ একটি পূর্ণাঙ্গ ইসলামী শিক্ষা ব্যবস্থা ছাড়া এ জাতির ভবিষ্যৎ অন্ধকার।

তাই দেশে ইসলামী শিক্ষা ব্যবস্থার অনুপস্থিতির প্রেক্ষিতে ইসলামী ছাত্রশিবির একটি বিকল্প ইসলামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে। আমরা ছাত্রদের কাছে ব্যক্তিগত যোগাযোগ, সাধারণ সভা, চা-চক্র, বনভোজন, নবাগত সম্বর্ধনা, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, বিতর্কসভা, রচনা ও বতৃতা প্রতিযোগিতা, সাধারণ জ্ঞানের আসর, পোস্টারিং, পরিচিতি, পুস্তিকা ও সাময়িকী বিতরণ ইত্যাদির মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ পরিচয় তুলে ধরার প্রয়াস চালাচ্ছি। সাথে সাথে ছাত্র সমাজকে স্ব-উদ্যোগে জ্ঞান অর্জনের আহ্বান জানাচ্ছি। কেননা ইসলামে জ্ঞান অর্জনকে ফরজ বা অবশ্য কর্তব্য বলে ঘোষণা করেছে এবং ইসলামের নবী মুহাম্মদ (সা) জ্ঞানার্জনের জন্য উৎসাহ দিতে গিয়ে বলেছেন প্রয়োজনে সুদূর চীন দেশ পর্যন্ত ভ্রমণের।

মুসলমানরা মূলত: একটি মিশনারী জাতি, বিশ্বের সমস্ত মানুষকে আল্লাহর সার্বভৌমত্ব ও আল্লাহর গোলামির দিকে আহ্বান করাই মুসলমানদের প্রকৃত মিশন। এজন্য আল কুরআনের ঘোষণা হচ্ছে:

“তোমারাই সর্বশ্রেষ্ঠ জাতি, তোমাদেরকে প্রেরণ করা হয়েছে মানুষের কল্যাণের জন্য, সৎ ও ন্যায় কাজের আদেশ দানের জন্য ও অসৎ কাজ থেকে মানব জাতিকে বিরত রাখার জন্য”। (সূরা আলে ইমরান-১১০)

অন্যত্র বলা হয়েছে:

“তার কথার চেয়ে উত্তম আর কার হতে পারে যে মানুষকে কল্যাণের দিকে আহ্বান করে, নিজে নেক আমল করে এবং বলে আমি মুসলিম মিল্লাতের অন্তর্ভুক্ত”। (সূরা হামীম আস্ সেজদা-৩৩)

আল্লাহ আরও বলেছেন, “হে নবী! তোমার রবের দিকে ডাক উত্তম কথা বার্তার মাধ্যমে এবং তাদের সাথে যদি বিতর্ক করতে হয় তাহলে উত্তম তর্ক করো”। (সূরা আন নাহল-১২৫)

সংগঠন

আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের ঘোষণা হচ্ছে “তোমরা আল্লাহর রজ্জুকে শক্ত করে আঁকড়ে ধরো এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না”। (সূরা আলে ইমরান-১০৩)

অন্যত্র বলেছেন: “অবশ্যই মানুষের মধ্যে একটি সুসংগঠিত দল থাকা দরকার যারা মানব জাতিকে কল্যাণের দিকে আহ্বান করবে, সত্য ও ন্যায় কাজ করবে এবং অন্যায় ও অসত্য থেকে মানব জাতিকে বিরত রাখবে”। (সূরা আলে ইমরান-১০৪)

যে কোন আন্দোলনের জন্য সংগঠন প্রয়োজন। সংগঠন বা সংঘবদ্ধ প্রচেষ্টা ছাড়া কোন আন্দোলনেই সফল হতে পারে না। বিশেষ করে সংঘবদ্ধ জীবন ছাড়া বিচ্ছিন্ন হয়ে সত্যিকারের মুসলমান থাকাটাই অসম্ভব। এজন্যই মহানবী (সা) বলেছেন, “যে ব্যক্তি জামায়াত (সংগঠন) থেকে বের হলো সে ইসলাম থেকে দূরে সরে গেল”। (আবু দাউদ)

আসলে ইসলামী আন্দোলনের গোড়া থেকেই আমরা সংগঠনের অস্তিত্ব দেখতে পাই। আজকের পঙ্কিলময় পরিবেশে তাগুতি শক্তির সর্বগ্রাসী ও চতুর্মুখী হামলার মুকাবেলায় এর প্রয়োজনীয়তা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। বস্তুত: সংগঠন ছাড়া ইসলাম হতে পারে না। তাই হযরত ওমর (রা) বলেছেন, “লা ইসলামা ইল্লা বিল জামায়াত” অর্থাৎ সংগঠন ছাড়া ইসলাম নেই।

About শিবির অনলাইন লাইব্রেরী