আমরা কি চাই কেন চাই কেন চাই কিভাবে চাই?

প্রশিক্ষণ

আল কুরআনে ইরশাদ হয়েছে: “তিনি সেই সত্তা যিনি নিরক্ষরদের মধ্যে একজন রাসূল প্রেরণ করেছেন। যিনি তাদেরকে তাঁর আয়াতসমূহ পড়ে শুনান; তাদেরকে পরিশুদ্ধ করেন এবং তাদেরকে কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেন অথচ এর পূর্বে তারা সুস্পষ্ট গোমরাহীতে নিমজ্জিত ছিল”। (সূরা জুমার-২)

যে কোন আদর্শ বা আন্দোলন সফলতা ও স্থায়িত্বের জন্য প্রয়োজন সেই আদর্শের ছাঁচে তৈরী একদল কর্মীর যারা স্বীয় কর্ম ও তৎপরতার দ্বারা উত্তম দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। ইসলামী আন্দোলনের ক্ষেত্রে একথা অধিকতর সত্য। ইসলামী আন্দোলন পরিচালনা এবং তা প্রতিষ্ঠার জন্যে এর কর্মীবাহিনীর এমন চারিত্রিক মাধুর্যের অধিকারী হওয়া প্রয়োজন যাতে সাধারণ মানুষ তাদের প্রতি আকৃষ্ট হয়। বাতিল ও জাহেলিয়াতের যাবতীয় চ্যালেঞ্জের সামনে তাদেরকে তুলনামূলক জ্ঞান ও যোগ্যতার দিক থেকে শ্রেষ্ঠ বলে প্রতীয়মান হতে হবে। এ লক্ষ্যকে সামনে রেখেই বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির এ সংগঠনের সংঘবদ্ধ ছাত্রদেরকে প্রতিক্ষণের ব্যবস্থা করে। একদল ছাত্রকে শুধু সংঘবদ্ধ করা এবং চটকদার শ্লোগানে তাদেরকে আবেগপ্রবণ করে তোলা আমাদের কাজ নয়। প্রকৃতপক্ষে প্রতিশ্র“তি দিলেন যারা তাদেরকে ইসলামী জীবন ব্যবস্থা ও জাহেলিয়াতের তুলনামুলক জ্ঞান অর্জনে সাহায্য করা আমাদের ঈমানী দায়িত্ব। তাদেরকে এমনভাবে গড়ে তোলা যাতে খোদাদ্রোহী শক্তিকে যুক্তি প্রয়োগ ও সাহসিককতার সাথে মুকাবেলা করতে পারে। এমন প্রশিক্ষণ দেয়া যাতে তারা ইসলামকে একমাত্র বাস্তব আদর্শ হিসেবে বুঝতে পারে এবং পেশ করতে পারে। প্রত্যেকে যেন আল কুরআনের আলোকে নিজেদের জীবনকে গড়ে তুলতে এবং জাতিকে সঠিক নেতৃত্ব দেয়ার মতো যোগ্যতা অর্জন করতে পারে। জীবনের শত বাদা-বিপত্তির ভেতর দিয়েও যেন তারা আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করে থাকতে পারে এবং ভবিষ্যতে ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থা পরিচালনার ক্ষেত্র যোগ্য ভূমিকা পালন করতে পারে।

হাদীসে এসেছে: নবী করীম (সা) ইরশাদ করেছেন “আমি মানুষের নৈতিক গুণ মাহাত্ম্যকে পূর্ণতার স্তরে পৌঁছিয়ে দেয়ার জন্যেই প্রেরিত হয়েছি”। (মুয়াত্তা ইমাম মালেক) এ দফার বাস্তবায়নের জন্য আমাদের সমস্ত সাংগঠনিক শাখা ও ইউনিটের রয়েছে লাইব্রেরী। লাইব্রেরী থেকে এবং আমাদের কর্মীদের ব্যক্তি উদ্যোগে সাহিত্য বিতরণ করা হয়ে থাকে। কোন পুস্তক বা নির্দিষ্ট বিষয়কে হৃদয়ঙ্গম করার জন্য পাঠচক্র ও সামষ্টিক অধ্যয়নের ব্যবস্থা করা হয়। কর্মীদের চরিত্র ও স্বভাব সংশোধন, ভ্রাতৃত্ববোধ সৃষ্টি ও ইসলামী জ্ঞান দানের জন্যে শিক্ষা শিবির ও শিক্ষা বৈঠকের আয়োজন করা হয়। বক্তা ও লেখক তৈরীর জন্য স্পীকারস ফোরাম ও লেখক শিবির সংগঠিত করা হয়। তাকওয়া বৃদ্ধির জন্য নৈশকালীন ইবাদতের জন্য উদ্বুদ্ধ করা হয়। ব্যক্তিগত রিপোর্ট সংরক্ষণ প্রতিটি কর্মীর জন্য বাধ্যতামূলক। যার মাধ্যমে একজন কর্মী নিজের দোষ-ত্র“টিগুলো সংশোধন করে উত্তরোত্তর নিজের আত্মার ও প্রতিভার বিকাশ সাধন করতে পারে।

ইসলামী শিক্ষা ও ছাত্র আন্দোলন

মহান আল্লাহ ঘোষণা করেছেন “তোমাদের মধ্য থেকে যারা ঈমান এনেছে এবং যাদেরকে জ্ঞান দান করা হয়েছে তাদেরকে আল্লাহ উচ্চ মর্যাদা দেবেন। আর যা কিছু তোমরা কর, আল্লাহ সে বিষয়ে পূর্ণ অবহিত”। (সূরা আল-মুযাদালা-১১)

দেশের প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার গলদ ও ব্যর্থতা আগেই উল্লেখ করা হয়েছে ইসলামী ছাত্রশিবির দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, ইসলামী শিক্ষাব্যবস্থা প্রবর্তন ছাড়া জাতির জন্য কাক্সিক্ষত সুনাগরিক তৈরী সম্ভব নয়। তাই ইসলামী শিক্ষাব্যবস্থা প্রবর্তনের জন্য আমরা প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবী জানিয়ে আসছি এবং এর প্রয়োজনীয়তাও জনসমক্ষে তুলে ধরার চেষ্টা করছি। এর সপক্ষে জনমত সংগ্রহের জন্যও আমাদের সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে। অতীতের কয়েকটি ঘটনাই প্রমাণ করছে এদেশের ইসলামপ্রিয় জনতা ইসলামী শিক্ষা ব্যবস্থা চায়। কিন্তু সরকারী গড়িমসিই এর প্রধান অন্তরায়। তাই আমরা ইসলামী শিক্ষার সপক্ষে আপোষহীন সংগ্রাম চালাতে বদ্ধপরিকর।

ছাত্র বলেই সমস্যা সম্পর্কে আমরা অমনোযোগী থাকতে পারি না। ছাত্রদের যাবতীয় ন্যায়সঙ্গত দাবী আদায়ের সংগ্রামে আমরা অগ্রণী ভূমিকা পালনে প্রতিশ্র“তিবদ্ধ। সমস্যা সমাধানের ব্যাপারে আমাদের একটা মৌলিক দৃষ্টিভঙ্গী রয়েছে। আমরা যে কোন সমস্যার স্থায়ী সমাধান চাই। একটি সমস্যার সমাধান করতে যেয়ে আরো দশটি সমস্যা বাড়িয়ে তোলা আমাদের কাজ নয়। কোন রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বা কোটারী স্বার্থ হাসিলের জন্যে কোন ইস্যুকে আমরা ব্যবহার করতে নারাজ। ধ্বংসাত্মক পন্থ অবলম্বনের পরিবর্তে আমরা গঠনমূলক কর্মসূচীতে বিশ্বাসী।

এ হলো সামষ্টিক সমস্যার ক্ষেত্রে আমাদের করণীয়। ছাত্রদের ব্যক্তিগত সমস্যার যেগুলো বেশির ভাগই অর্থনৈতিক, সেগুলো সমাধানের জন্যে আমরা নিজেরাই সাংগঠনিকভাবে চেষ্টা করি। আমাদের সমস্ত শাখায় রয়েছে একটি ছাত্রকল্যাণ বিভাগ। গরীব ছাত্রদের লজিং ও টিউশনীর ব্যবস্থা করে দেয়া, বেতন ও পরীক্ষার ফিস দিতে অক্ষম ও বই কেনার ব্যাপারে অসমর্থ ছাত্রদের সাহায্যার্থে স্টাইপেন্ড চালু করা, লেখাপড়ার সহযোগিতার নিমিত্তে লেন্ডিং লাইব্রেরী প্রতিষ্ঠা, বিনা পারিশ্রমিকে কোচিং ক্লাস চালু করা এবং বিনামূল্যে প্রশ্নপত্র ও নোট সরবরাহ করার ব্যবস্থা করা হয়।

About শিবির অনলাইন লাইব্রেরী