আমরা কি চাই কেন চাই কেন চাই কিভাবে চাই?

সংসদ নির্বাচন

অসৎ নেতৃত্বের অপসারণ ও সৎ নেতৃত্বের প্রতিষ্ঠা ছাড়া ইসলামী বিপ্লব সাধন যেমন সম্ভব নয়, তেমনি সমাজের কোন স্তরে শান্তি ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠাও অসম্ভব। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চত্বরেও ইসলামী চরিত্র সম্পন্ন নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার জন্যে আমরা আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছি। তাই আমরা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে থাকি।

মানবতার মুক্তির জন্য সংগ্রাম

আল কুরআনে এসেছে, “আল তোমাদের কি হল যে তোমরা আল্লাহর রাহে লড়াই করছো না দুর্বল সেই সব পুরুষ, নারী ও শিশুদের পক্ষে, যারা নির্যাতিত হওয়ার কারণে ফরিয়াদ করে: হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদিগকে এই জনপদ থেকে নিস্কৃতি দান কর, এখানকার অধিবাসীরা যে অত্যাচারী! আর তোমার পক্ষ থেকে আমাদের জন্য সাহায্যকারী পাঠাও”। (সূরা আন-নিসা-৭৫)

বিশ্বব্যাপী চলছে অন্যায়, জুলুম ও নির্যাতনের তান্ডবলীলা। মজলুম মানুষের আর্তচিৎকারে বিশ্ব বিবেক কম্পমান। সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন, রাজনৈতিক নির্যাতন, অর্থনৈতিক শোষণ, সামাজিক সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য এবং সাংস্কৃতিক গোলামীর জিঞ্জিরে মানবতা আজ বিপন্ন। আমাদের মাতৃভূমিও আজ অনুরূপ সমস্যার শিকার। নির্যাতিত, নিরন্ন ও ক্ষুধার্ত মানুষের হাহাকার, বস্ত্রহীনের করুণ আকুতি, সাংস্কৃতিক নোংরামী এখন আমাদের সমাজে নিত্যদিনের সাথী। একটা ব্যাপক সামাজিক বিপ্লব ছাড়া এর অবসান সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে নেতৃত্বের তথা রাজনৈতিক কর্তৃত্বের পরিবর্তন অপরিহার্য। কিন্তু তাই বলে একটা ছাত্র সংগঠন হিসেবে আমরা রাজনৈতিক পরিবর্তনের জন্যে ঝাঁপিয়ে পড়তে পারি না। একটা দায়িত্বশীল ছাত্র প্রতিষ্ঠান হিসেবে সমসাময়িক রাজনৈতিক তৎপরতার সাথে আমরা একাকার হয়ে যেতে পারি না। এর অর্থ অবশ্য এই নয় যে, সাধারণ অবস্থায় আমরা জাতীয় সমস্যা থেকে দূরে থাকি। আত্মসচেতনতার সাথে জাতীয় সমস্যা অবলোকন করি এবং প্রয়োজন মুহূর্তে তা দূর করতে বলিষ্ঠ ও গণমুখী ভূমিকা পালন করি। জাতীয় সংকটকালে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে আমরা প্রস্তুত রয়েছি।

জাতীয় ও আন্তর্জাতিক রাজনীতি, অর্থনীতি, শাসনতন্ত্র ইত্যাদি ক্ষেত্রে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করার পরিবর্তে এতদসংক্রান্ত জ্ঞান অর্জন এবং পর্যবেক্ষণকেই আমরা প্রাধান্য দিয়ে থাকি। জাতীয় চরিত্রের বর্তমান বিপর্যস্ত অবস্থার অন্তর্নিহিত কারণ উদ্ঘাটন করে তা সমাধানের সঠিক পথ জানতে হবে। দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রয়োজনীয় ধারণা রাখতে হবে। ইতিহাস ঘটনা প্রবাহ ইত্যাদি বিশ্লেষণ করে বর্তমান রাজনৈতিক গতিধারার উৎস খুঁজে বের করতে হবে এবং রাজনৈতিক ক্ষেত্রে যে সমস্ত দল সক্রিয় রয়েছে তাদের পরিচয় ও বৈশিষ্ট্য জানতে হবে। বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় মৌলিক জ্ঞান থাকা দরকার যাতে তাদের কোনটা কল্যাণকর, কোনটা ক্ষতিকর তা বুঝা যায়। রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান কি, এ সমাধান কোন্ পথে আসতে পারে তার প্রয়োজনীয় জ্ঞান অর্জন করতে হবে। অর্থনৈতিক সমস্যা সমাধানে সার্বিক পথ ও পন্থা ইত্যাদি সম্পর্কে স্পষ্ট জ্ঞান থাকা চাই।

সাংস্কৃতিক গোলামীর ভয়াবহতা সম্পর্কে আমাদের বাস্তবমুখী জ্ঞান থাকা চাই। সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে কি কি ধ্বংসাত্মক তৎপরতা চালু আছে, তার উৎস, রূপ ও ব্যাপকতা সম্পর্কে জানতে হবে। কোথায়, কোন্ পদ্ধতি কোন্ নীতিমালার উপর আঘাত হানলে সাংস্কৃতিক গোলামী থেকে আমরা মুক্তি পাবো তা বুঝতে হবে।

মোট কথা, বাতাসের উপর ভিত্তি করে আমরা চলতে চাই না। বিপ্লবের নামে মরীচিকার পিছনে ছুটতে আমরা নারাজ। আমাদের যাবতীয় তৎপরতা হবে যুক্তি ও বুদ্ধিভিত্তিক। ইসলামী বিপ্লব একটা সামাজিক পরিবর্তন-প্রক্রিয়ার নাম। এ ক্ষেত্রে সমাজের সর্বস্তরে নেতৃত্বের পরিবর্তন এবং জনগণের মানসিকতার পরিবর্তন অন্যতম প্রয়োজন। সঠিক নেতৃত্বের অভাবেই জাতি বিভিন্ন সময়ে দুর্যোগের সম্মুখীন হয়। সঠিক নেতত্ব ব্যতিরেকে ইসলামী বিপ্লব সাধন তো দূরের কথা, সাধারণ একটা জাতি পরিচালনা করাও সম্ভব নয়। এজন্য নেতৃত্বের গুণাবলী সম্পন্ন কর্মীদেরকে সংগঠনের বাস্তবমুখী পরিকল্পনার আলোকে তৈরী করে আমরা জাতীয় নেতৃত্বের অভাব পূরণ করতে চাই। এ প্রসঙ্গে আমাদের কর্মীদের ক্যারিয়ার গঠনের প্রতিও আমরা যথাযথ গুরুত্ব আরোপ করে থাকি।

ইসলামী আন্দোলনের যে কোন বৃহত্তম প্রচেষ্টাকে সহায়তা ও সমর্থন করা আমরা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব বলে মনে করি। তবে তা করে থাকি আমরা সংগঠনের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে।

চারিত্রিক মাধুর্য দিয়ে জাতীয় জীবনের একটা পবিত্র পরিবেশ সৃষ্টির তৎপরতা চালাচ্ছি আমরা। এ তৎপরতা যখন উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ছাত্রদেরকে আকৃষ্ট করবে আমাদের বিশ্বাস, তখন সমাজ ও জাতীয় জীবনে, তা একটা শক্তিরূপে আত্মপ্রকাশ করবে। আর এহেন সংঘবদ্ধ চারিত্রিক শক্তিই ইসলামী বিপ্লবের মূল শক্তি হিসেবে কাজ করতে পারবে।

About শিবির অনলাইন লাইব্রেরী