নির্যাতন নিপীড়নের শিকার যারা

০১. দেলোয়ার হোসেন
২৫ জুলাই ২০০৯, আওয়ামী সন্ত্রাসী ছাত্রলীগের নির্মম আঘাতে বাম হাতের তিনটি আঙ্গুল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় আলিয়া মাদ্রাসার মেধাবী ছাত্র শিবিরের সদস্য মৌলভীবাজার জেলা সভাপতি দেলোয়ার হোসেনের। পিতা ইমাম উদ্দিন ও মাতা আনোয়ারা বেগম এর তিন সন্তানের মধ্যে তিনি দ্বিতীয় সন্তান। বর্তমানে মৌলভীবাজারের কুসুমবাগে থাকেন। তিনি মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখার মুহাম্মদপুর এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা।

০২. হাফেজ মোহাম্মদ আব্দুল মোমিন
১৯ সেপ্টেম্বর ২০১১, কাকরাইল মোড়ে পুলিশের রাবার বুলেট ডান চোখে লাগলে সরকারি তোলারাম কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের মাস্টার্সের মেধাবী ছাত্র নারায়ণগঞ্জ মহানগরী শিবিরের বায়তুল মাল সম্পাদক হাফেজ আব্দুল মোমিন চির জীবনের জন্য ডান চোখ হারান। পিতা হাফেজ মোহাম্মদ ইলিয়াছের গর্বিত সন্তান হাফেজ মোহাম্মদ আব্দুল মোমিনের বাড়ি নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার মুসলিমনগর গ্রামে।

০৩. নাজমুল হোসেন
১৮ নভেম্বর ২০১২, কেন্দ্র ঘোষিত বিক্ষোভ মিছিল কর্মসূচী পালনের পর বাড়ী ফিরে আসার সময় নছিমনে এ্যাকসিডেন্ট করে মেরুদন্ডে আঘাত পান। পরে খুলনা মেডিকেল কলেজে ভর্তি করা হয়। কিছু দিন পরে মেরুদন্ড অপারেশানের জন্য ঢাকায় আনা হয়। খুলনা বি.এল কলেজের ইতিহাস বিভাগের মেধাবী ছাত্র ও শিবিরের সাথী নাজমুল হোসেন। পিতা শাহাবুদ্দিন সানা ও মাতা হাজেরা এর পাঁচ সন্তানের মধ্যে তিনি চতুর্থ সন্তান। খুলনা জেলার কয়রা উপজেলার নাকশা গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা।

০৪. মো.শাহীন হোসেন
৫ নভেম্বর ২০১২, কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচি পালনের জন্য রাজধানীর দৈনিক বাংলা মোড়ে মিছিলে আওয়ামী পুলিশের গুলিতে ডান চোখে গুলিবিদ্ধ হয়ে একটি চোখ হারান ঢাকা সেন্ট্রাল পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের শিবিরের সাথী শাহীন হোসেন। তিনি আফতাব হাং ও জাহানারা বেগম এর তৃতীয় সন্তান শাহীন গাজিপুর জেলার এয়ারপোর্ট উপজেলায় জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি বরিশাল বাবুগঞ্জ থানার চাঁদপাশা ইউনিয়নের ভরানীপুর গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা।

০৫. সেলিনুর রহমান
৫ নভেম্বর ২০১২, কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচি পালনের জন্য রাজধানী দৈনিক বাংলা মোড়ে মিছিল শুরু করলে পুলিশ মিছিলের উপর হামলা শুরু করে। এতে পুলিশের টিয়ারসেলের আঘাতে চোখ হারান এগ্রিকালচার ট্রেনিং ইন্সটিটিউটের ছাত্র ও শিবিরের সদস্য সেলিনুর রহমান। তার পিতা জহুরুল ইসলাম ও মাতা সুজনা খাতুন। খুলনা বিভাগের কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর উপজেলার বেশীনগর গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন ।

০৬. মোঃ মিজানুর রহমান
০৫ নভেম্বর ২০১২, কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ্রের মুক্তির দাবীতে দেশব্যাপী বিক্ষোভ মিছিলের অংশ হিসেবে জয়পুরহাটে মিছিল বের হলে পুলিশ তাতে বাধা দেয় এবং গুলিবর্ষন করে। পুলিশের গুলিতে ডান চোখ হারান মোহাব্বতপুর ফাযিল মাদরাসার ফাজিল দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ও শিবিরের সাথী মো: মিজানুর রহমান। পিতা মোখলেছুর রহমান মাতা মনোয়ারা বেগমের ৪ সন্তানের মধ্যে তিনি চতুর্থ। তিনি জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি উপজেলার কুসুম্বা গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা।

০৭. মোঃ সোয়াইব মৃধা (ফিরোজ)
৯ ডিসেম্বর ২০১২, ১৮ দলের বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশের গুলিতে দুই পায়ে গুলি বিদ্ধ হলে ডান পা পঙ্গু হয়ে যায় এস,ডি, মদিনাতুল উলুম দাখিল মাদ্রাসার দশম শ্রেণীর মেধাবী ছাত্র ও সংগঠনের কর্মী মোঃ সোয়াইব মৃধা (ফিরোজ)। পিতা মোঃ আনোয়ার হোসেন মৃধা মাতা মমতাজ বেগম এর ছয় সন্তানের মধ্যে দ্বিতীয়। পিরোজপুর জেলার জিয়ানগর উপজেলার দনি ইন্দুরকানী গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা।

০৮. ইসমাইল হারুণ বান্না
৩ জানুয়ারি ২০১৩, রাজশাহীর সোনাদীঘি মোড়ে শিবিরের শান্তিপূর্ণ মিছিলে পুলিশের ছোড়া গুলি বাম চোখে বিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং চিরতরে বাম চোখ হারান রাজশাহী ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজের মেধাবী ছাত্র ইসমাইল হারুন বান্না। পিতা ডা. মো: হারুনুর রশিদ ও মাতা মারহুমা খাতুন এর সাত সন্তানের মধ্যে দ্বিতীয়। তিনি নোয়াখালী জেলার চাটখিল উপজেলার বারশা গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা।

০৯. আব্দুল মোক্তাদির
২২ জানুয়ারি ২০১৩, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ সিলেটে হেফাজতের মিছিলে পুলিশের গুলিতে ডান হাতের একটি আঙ্গুল চেতনাহীন হয়ে যায় এম সি কলেজের মেধাবী ছাত্র আব্দুল মোক্তাদিরের। পিতা জাফর আলী ও মাতা আফিয়া বেগম এর ছয় সন্তানের মধ্যে তিনি তৃতীয়। তিনি সিলেট জেলার দক্ষিণ সুরমার আহমদপুর এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা

১০. মোঃ শাহ্ কামাল
২৮ জানুয়ারি ২০১৩, পুলিশ অন্যায় ভাবে গ্রেফতার করে দুইহাত ভেঙ্গে দেয় স্টাম্ফোর্ড ইউনিভার্সিটির দ্বিতীয় বষের ছাত্র ও শিবিরের সদস্য প্রাথী শাহ্ কামালের। পিতা শাহ্ জালালের দশ সন্তানের মধ্যে ৭ম। তার বাড়ি নারায়ণগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পাইনাদি গ্রাম।

১১. রাজু আহম্মদ
৪ ফেব্র“য়ারি ২০১৩, আব্দুল কাদের মোল্লার রায়ের প্রতিবাদে ঘোষিত হরতালের সমর্থনে বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশ কর্তৃক বাম চোখে গুলিবিদ্ধ হয়ে চোখ হারান রাজবাড়ি সরকারি কলেজের ডিগ্রি ১ম বর্ষের মেধাবী ছাত্র ও শিবিরের সদস্য রাজু আহম্মদ। পিতা জিলাল বেপারির ছয় সন্তানের মধ্যে তিনি ছোট ছেলে। তিনি রাজবাড়ী জেলার পৌরসভার বিনোদপুরের স্থানীয় বাসিন্দা।

১২. কাজী ইমতিয়াজ উদ্দিন
১২ ফেব্র“য়ারি ২০১৩, আওয়ামী পুলিশের গুলিতে বাম চোখ হারান সরকারী শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের অনার্স ৪র্থ বর্ষের মেধাবী ছাত্র ও সংগঠনের সদস্য কাজী ইমতিয়াজ উদ্দিন। পিতা মৃত কাজী আব্দুল মান্নান ও মাতা মনোয়ারা বেগমের সাত ছেলের মধ্যে ছোট ছেলে ইমতিয়াজ। বর্তমানে ঢাকার যাত্রাবাড়ী ধলপুরে থাকেন। তিনি কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার করপাটি গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা।

১৩. সালাউদ্দিন কাদের
১২ ফেব্র“য়ারি ২০১৩, ঢাকার কাওরান বাজারে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচী শুরু হয়। পুলিশের গুলি চোখে লাগার সাথে সাথে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং চোখ হারান শহীদ পুলিশ স্মৃতি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণীর মেধাবী ছাত্র সংগঠনের সাথী সালাউদ্দিন কাদের। তিনি মোঃ ইমরান হোসেন এর দ্বিতীয় সন্তান এবং চাঁদপুর জেলায় জন্ম গ্রহণ করেন।

১৪. হুমায়ুন কবীর
১২ ফেব্র“য়ারি ২০১৩, কাওরান বাজার প্রান্থপথে বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশের গুলিতে কোমরে গুলি বিদ্ধ হলে কিডনী এবং বাম পা স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয় ধামরাই সরকারী কলেজের মেধাবী ছাত্র ও শিবিরের কর্মী হুমায়ুন কবির। পিতা মো: বাদশা মিয়া ও মাতা ফিরোজা বেগম এর দুই সন্তানের মধ্যে তিনি একমাত্র ছেলে। তিনি ঢাকা জেলার ধামরাই উপজেলার খাত্রা গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা।

১৫. নুরউদ্দিন
১২ ফেব্র“য়ারি ২০১৩, কেন্দ্রীয় কর্মসূচী পালনকালে কারওয়ানবাজার এলাকায় পুলিশ রাবার বুলেট, টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে। এতে চোখে রাবার বুলেট লেগে আহত হন প্রাইম ইউনিভাসিটির ইলেক্ট্রনিক এবং টেলিকমিনিকেশনের ৪র্থ বর্ষের মেধাবী ছাত্র ও শিবিরের সাথী নুরউদ্দিন। তিনি পাবনা জেলার সাথিয়া উপজেলায় জন্ম গ্রহন করেন।

১৬. মো: মাহবুবুর রহমান ইমন 
২২ ফেব্র“য়ারি ২০১৩, বাদ জুমা। ঢাকা মৎস্য ভবনের নিকট ব্লগারদের শাস্তির দাবিতে ওলামা-মাশায়েখদের সাথে মিছিলরত অবস্থায় বাম হাত ও বাম পায়ে গুলিবিদ্ধ হন শিবিরের কর্মী ও এনাম মেডিক্যাল কলেজ বিডিএস ইর্ন্টানশিপের মেধাবী ছাত্র মাহবুবুর রহমান ইমন। তিনি নোয়াখালী জেলার চাটখিল উপজেলায় জন্ম গ্রহন করেন।

১৭. মোহাম্মদ ইব্রাহীম
২২ ফেব্র“য়ারি ২০১৩, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ এর ঘোষিত বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশের গুলি পায়ে বিদ্ধ হলে পা হারান হযরত শাহজালাল বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্স্টাসের মেধাবী ছাত্র ও শিবিরের সাথী মো.ইব্রাহীম। পিতা মো.ইসহাক ও মাতা সাফিয়া বেগম এর নয় সন্তানের মধ্যে তিনি তৃতীয় সন্তান। বর্তমানে সিলেট জেলার জালালাবাদের শেখপাড়ায় থাকেন। তিনি কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব উপজেলার পলতাকান্দার স্থানীয় বাসিন্দা।

১৮. আরিফুল ইসলাম মারুফ
২৮ ফেব্র“য়ারি ২০১৩, আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর রায়ের প্রতিবাদে আওয়ামী সন্ত্রাসী ছাত্রলীগের নির্মম আঘাতে বাম পা সম্পূর্ণ ভেঙ্গে যায় আরিফুল ইসলাম মারুফের। চট্টগ্রাম জেলার লোহাগাড়া উপজেলার আমিরাবাদের আবু তাহের এর ছেলে আরিফুল ইসলাম মারুফ ।

১৯. বাহার উদ্দীন
২৮ ফেব্র“য়ারি ২০১৩, আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর রায়ের প্রতিবাদে জামায়াত-শিবির সহ সাধারণ জনতার বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশ, বিজিবি ও আওয়ামী ছাত্রলীগ পায়ে অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করলে বাম পায়ে বুলেট দ্বারা আঘাত প্রাপ্ত হন শিবিরের সাথী প্রার্থী বাহার উদ্দিন। পা পঙ্গু হয়ে যায় মৌলভী নুর আহমদ এর ছেলে বাহার উদ্দীনের। তিনি লোহাগাড়ার বড়হাতিয়া গ্রামে বাস করেন।

২০. মোঃ আরিফুল ইসলাম
২৮ ফেব্র“য়ারি ২০১৩, আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায়ের প্রতিবাদে জামায়াত শিবির সহ সাধারণ জনতার বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশ, বিজিবি ও আওয়ামী ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা গুলি চালালে চোখ হারান ঝাউডাঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর মেধাবী ছাত্র মো: আরিফুল ইসলাম। পিতা মো. আবুল কালাম ও মাতা মোছা: সালমা বেগম এর চার ছেলের মধ্যে তিনি তৃতীয়। আরিফুল ইসলাম সাতক্ষীরা জেলার সদর উপজেলার গোবিন্দকাটি গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা।

২১. মোঃ আব্দুল্লাহ আল ফাহাদ
২৮ ফেব্র“য়ারি ২০১৩, আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায়ের প্রতিবাদে র্ফামগেট কতুববাগ দরবার শরীফের সামনে মিছিল থেকে গ্রেফতার ও থানায় সাব-ইন্সপেক্টর কামাল কর্তৃক পাযে রিভালবার ঠেকিয়ে একাধিকবার গুলি বর্ষন করলে পায়ে পচন ধরায় দীঘদিন পঙ্গু হাসপাতালে অবস্থান ও পা কর্তন করা হয় আইআইইউসি ঢাকা ক্যাম্পাসের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ও সাংগঠনিক কর্মী আব্দুল্লাহ আল ফাহাদের। পিতা মোজাম্মেল হোসেন মাতা মহসেনা বেগমের ৬ সন্তানের মধ্যে দ্বিতীয়। লক্ষীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের পূর্ব জিগা গ্রামে জন্ম গ্রহন করেন।

২২. নাঈম উদ্দিন মুরাদ
২৮ ফেব্র“য়ারি ২০১৩, পুলিশের নির্মম নির্যাতনে সমস্ত শরীর অবশ হয়ে এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কুলিয়ারা উচ্চ বিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র ও সংগঠনের কর্মী নাঈম উদ্দিন মুরাদ। তিনি পিতা মকবুল আহম্মদ ও মাতা: সালেহা বেগম এর ছয় সন্তানের মধ্যে সবার ছোট। তার গ্রামের বাড়ি কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রামে।

২৩. মো.হাসিনুর রহমান
আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাইদীর ফাঁসির রায়ের পরপরই দিনাজপুরের রামডুবি এলাকায় বিপুল সংখ্যক জনসাধারন বিক্ষোভ মিছিল বের করলে পুলিশ অতর্কিত গুলি চালায়। এ সময় তিনি গুলি বাম কানে বিদ্ধ হন। হাসিনুর রহমান ফুলবন ফাযিল মাদ্রাসার আলিম দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ও সংগঠনের কর্মী। দিনাজপুর জেলার চিরিরবন্দর থানার বৈকণ্ঠপুর গ্রামের বাসিন্দা। আশংকাজনক অবস্থায় তাকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে দীর্ঘ দিন চিকিৎসা করার পর সুস্থ হলেও এখনও তার বাম কানে শুনতে পায়না।

২৪. মোঃ আলমগীর হোসাইন ভুইয়া
২৮ ফেব্র“য়ারি ২০১৩ মাওলানা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর রায়ের প্রতিবাদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী হরতাল আহ্বান করে। হরতালের সমর্থনে সকাল ৬.৪৫ টায় সংসদ ভবনের পূর্ব দিকে মিছিল ছিল। মিছিল শুরু হলে পুলিশ মিছিলে বাধা প্রদান করে। এবং সেখান থেকে আলমগীর হোসাইন ভুইয়াকে পুলিশ গ্রেফতার করে শের এ বাংলা নগর থানায় নিয়ে যায়। সারাদিন চলে তার উপর নির্যাতন। দিন শেষে মাগরিবের পরে পুলিশ আলমগীর হোসাইন ভুইয়াকে জামায়াত কর্মী নিশ্চিত হয়ে বাম-পায়ে রাইফেল ঠেকিয়ে হাটুর পিছনে গুলি করে থানায় ফেলে রাখে।

২৫. দ্বীন ইসলাম
৫ মার্চ ২০১৩, হরতালে পিকেটিং কালে চলমান গাড়ীর ধাক্কা খেয়ে জ্ঞানহীন অবস্থায় ২ মাস কোমায় থাকেন এবং এখন ও স্মৃতি শক্তি পুরোপরি ফিরে আসেননি সরকারী তিতুমীর কলেজ বাংলা বিভাগের ৪র্থ বর্ষ মেধাবী ছাত্র ও শিবিরের সাথী দ্বীন ইসলামের। পিতা আনিছুল হক ও মাতা মৃত রহিমা খাতুন তারা সাত ভাই বোন। বর্তমানে খিলবাড়ী টেক শাহজাদপুর বাটারা। গ্রামঃ চাঁচড়া, ইউনিয়নঃ চাচারা, থানাঃ তজুমদ্দিন, জেলাঃ ভোলা।

২৬. তারিক হাসান
কুষ্টিয়া জেলার হরিনারায়ণপুর উপজেলার মঞ্জুরুল হকের ছেলে শিবিরের সদস্য তারিক হাসান কেন্দ্রীয় সভাপতির মুক্তির দাবিতে মিছিল করা কালে পুলিশের গুলিতে ডান হাতের মধ্যমা আঙ্গুলে গুলি লাগলে অপারেশনের পর কেটে ফেলতে হয়। তিনি সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের ২০০৭-০৮ শিক্ষাবর্ষের ইতিহাস বিভাগের ছাত্র। তিনি ৬ ভাইবোনের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ।

২৭. দেলোয়ার হোসেন
০৫ মে ২০১৩, ঢাকায় রাসুল (স:) এর অবমাননার প্রতিবাদ সমাবেশে আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুলিতে চোখ হারান মদিনাতুল উলুম কামিল মাদ্রাসার আলিম দ্বিতীয় বর্ষের মেধাবী ছাত্র দেলোয়ার হোসেন। পিতা রফিকুল ইসলাম ও মাতা তাহমিনা বেগম এর পাঁচ সন্তানের মধ্যে চতুর্থ। বর্তমানে রাজশাহী জেলার বোয়ালিয়ার দেবিশিং পাড়ায় থাকেন। তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার মোবারকপুর গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা।

২৮. মো: শাকিল আহমেদ
৫ মে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশে গুলিতে মারাত্বাক আহাত হয়ে চোখ হারান পলাশবাড়ী ফাজিল মাদ্রাসার ফাজিল ১ম বর্ষ মেধাবী ছাত্র ও শিবিরের সাথী মো: শাকিল আহমেদ। পিতা খায়রুল ইসলাম মাতা শেফালী বেগম তিন সন্তানের দ্বিতীয় সন্তান। গাইবান্ধা জেলার পলাশ বাড়ীর স্থানীয় বাসিন্দা।

২৯. আ.হান্নান
৫ মে হেফাজতে ইসলামের মহা-সমাবেশে যাওয়ার পথে পুরানা পল্টনে পুলিশের অতর্কিত গুলিতে তার বাম চোখ গুলিবিদ্ধ হয়। উথরাইল সিদ্দীকিয়া কামিল মাদ্রাসা কামিল হাদীস বিভাগের মেধাবী ছাত্র ও শিবিরের সাথী আ.হান্নান। তার পিতা নজরুল ইসলাম। তিনি দিনাজপুর জেলার সদর থানার ছালাপুকুর গ্রামে স্থানীয় বাসিন্দা। হাসপাতালে ভর্তি করে দীর্ঘ দিন চিকিৎসা করার পর ও তিনি বাম চোখে পরোপুরি দেখতে পাননা।

৩০. আবু হাসান
১৭ জুলাই ২০১৩, জামায়াত নেতা আব্দুল কাদের মোল্লার ফাঁসির রায়ের প্রতিবাদে হরতালের সমর্থনে মিছিলে পুলিশ গুলি চালালে তাতে পায়ে গুলি বিদ্ধ হয়ে পঙ্গু হয়ে যান যশোর সরকারী এম.এম. কলেজের ১১-১২ শিক্ষা বর্ষের প্রথম বর্ষের মেধাবী ছাত্র আবু হাসান। পিতা সৈয়দ আবু জাফর, মাতা মোছা.হাসনা খাতুন এর চার সন্তানের মধ্যে তৃতীয় সন্তান। বর্তমানে ঝিনাইদহ জেলার আরাপপুরে বসবাস করে। তিনি ঝিনাইদহ জেলার হরিনাকুন্ড উপজেলার ভায়েনা গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা।

৩১. মাঈন উদ্দিন চিশতি
আওয়ামী পুলিশ ও সন্ত্রাসী ছাত্রলীগের নির্মম আঘাতে পা অসাড় হয়ে যায় দেলোয়ার হোসাইনের ছেলে ও সংগঠনের কর্মী মাঈন উদ্দিন চিশতি। নিজামপুর ডিগ্রী কলেজের তৃতীয় বর্ষের মেধাবী ছাত্র। চট্রগ্রাম জেলার মিসররাইর থানার মনিরহাটের উত্তর হ্ইাতকান্দি গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা।

৩২. রেজাউল করিম
আওয়ামী পুলিশ ও সন্ত্রাসী ছাত্রলীগের নির্মম আঘাতে পা হারিয়ে ফেলে শিতাকুন্ড আলিয়া মাদ্রাসার কামিল প্রথম বর্ষের মেধাবী ছাত্র ও শিবিরের সাথী রেজাউল কারিম। তিনি চট্রগ্রাম জেলার মিসররাইর থানার আয়ুব নগর গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে রেজাউল করিম।

৩৩. দিদারুল ইসলাম
বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশের ছোড়া বুলেট শরীরের বিভিন্ন জায়গায় বিদ্ধ হয়ে সমস্ত শরীর জীর্ণ হয়ে যায় আবু মিয়ার ছেলে দিদারুল ইসলামের। তিনি চট্টগ্রাম জেলার বাসিন্দা।

৩৪. মইনুর হোসেন মাসুম
বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশের গুলিতে পায়ে গুলি বিদ্ধ হলে পায়ের আঙ্গুলসহ পায়ের কিছু অংশ কেটে ফেলতে হয় সরকারী মুজিব কলেজের দ্বাদশ শ্রেণীর মেধাবী ছাত্র ও শিবিরের সাথী মইনুর হোসেন মাসুমের। পিতা আব্দুর রব মাতা ফাতেমা বেগম। তিনি নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জ পৌরসভার বসুরহাট ৮নং ওয়ার্ডের স্থানীয় বাসিন্দা।

৩৫. আমজাদ হোসেন রিয়াদ
২৫ অক্টোবর ২০১৩, তারিখে নোয়াখালীর মাইজদীর অর্ন্তগত টাউন হল মোড়ে ১৮ দলীয় জোটের বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশ ও ছাত্রলীগের হামলায় পুলিশের গুলিতে চোখে গুলি বিদ্ধ হলে ডান চোখ হারান সরকারী কলেজের মাস্টার্সের ছাত্র আমজাদ হোসেন রিয়াদ। পিতা আব্দুর রব মাতা কহিণূর বেগমের আট সন্তানের মধ্যে তিনি সপ্তম। বর্তমানে থাকে সৈয়দ রহমান পন্ডিত বাড়ী, ভ্রম্যপুর, ১ নং চরমটুয়া, সদর,নোয়াখালী ।

৩৬. মোঃ জহির
৫ নভেম্বর ২০১৩, আওয়ামী সন্ত্রাসীরা চোখে অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করে চোখ উপড়ে ফেললে চোখ হারায় গুনবতি ফাজিল মাসরাসার ছাত্র শিবির কর্মী মোঃ জহির। পিতা মৃত শফিকুর রহমান ও মাতা খায়রুন্নেছা। কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম থানার গুণবতী ইউনিয়নের রাজভল্লবপুর গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা

৩৭. হোসাইন মোহাম্মদ মানিক
২০ ডিসেম্বর ২০০৯, আজিজুল হক সরকারী কলেজে নবাগত শুভেচ্ছা মিছিলে ছাত্রলীগ হামলা করে পরবর্তীতে পুলিশে এসে ভঙ্গ করতে টিয়ারশেল মারলে বাম চোখে লাগলে বাম চোখ হারায় সরকারী আজিজুল হক কলেজের মেধাবী ছাত্র ও শিবিরের সদস্য বগুড়া শহর শাখার দপ্তর সম্পাদক হোসাইন মোহাম্মদ মানিক। পিতা মোঃ বয়েন উদ্দিন ও মাতা ফতেমা বেগমের এক ছেলে এক মেয়ে মধ্যে একমাত্র ছেলে মানিক। তিনি বগুড়া জেলার নন্দিগ্রামের ধুন্দারবাজারের স্থানীয় বাসিন্দা।

৩৮. শরিফুল ইসলাম শাকিল
৩রা মার্চ মাওলানা সাঈদী সাহেবের মুক্তির দাবীতে বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশের গুলি করলে ডান ও বামে পাজরে গুলি বিদ্ধ হলে কোমল থেকে পায়ের নিচ পর্যন্ত বোধহীন হয়ে পঙ্গু হয়ে পড়ে শরিফুল ইসলাম শাকিল। পিতা দিনমজুরী শহিদুল ইসলাম ও মাতা রোকসানা বেগমের তিন সন্তানের মধ্যে একমাত্র ছেলে শাকিল। তিনি বগুড়া জেলার সদর পৌরসভার ১৩নং ওয়ার্ড বনানীর গওগ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা।

৩৯. গিয়াস উদ্দিন শাহাদাত
২ ডিসেম্বর ২০১৩, ১৮ দলের অবরোধ চলাকালে বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশ এলোপাতালি গুলি চালালে চোখে গুলি বিদ্ধ হয়ে চোখ হারান ফেনী সরকারী কলেজের অনার্স ১ম বর্ষের মেধাবী ছাত্র ও সংগঠনের কর্মী গিয়াস উদ্দিন শাহাদাত। পিতা দলিলুর রহমান ও মাতা আমেনা খাতুনের চার সন্তানের মধ্যে সবার ছোট ছেলে শাহাদাত। তিনি ফেনাী জেলার দাগনভূইয়া উপজেলার সেলুনিয়ার আহম্মদপুর গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা।

৪০. আল- আমিন
আওয়ামী সন্ত্রাসী ছাত্রলীগের হাময়া হাত নষ্ট হয়ে গেলে হাত কেটে ফেলা হয় আশাশুনি আবু বকর সিদ্দিক ফাজিল মাদ্রাসার আলিম ১ম বর্ষের মেধাবী ছাত্র ও শিবিরের সাথী উপশাখার সভাপতি আল-আমিন। পিতা নজরুল ইসলাম ও মাতা আনোয়ারা খাতুনের চার সন্তানের মধ্যে সর্ব কনিষ্ঠ তিনি। তিনি সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি উপজেলার নয়কাটি গ্রামের জম্মগ্রহন করেন।

About শিবির অনলাইন লাইব্রেরী