আসহাবে রাসূলের জীবনকথা – ষষ্ঠ খণ্ড

সম্পুর্ণ সূচীপত্র

উম্মু ওয়ারাক ইবন নাওফাল (রা)


এ পৃথিবীতে এমন অনেক মহিলা আছেন কালচক্র যাদেরকে লুকিয়ে রেখেছে এবং ইতিহাসও তাদের ব্যাপারে নীরবতা পালন করেছে। তা সত্বেও আল্লাহ তায়ালা তাদের জীবন এমন কোন ঘটনার সৃষ্টি করেছেন যাতে তাদের জীবনী প্রকাশ হয়ে পড়েছে। আর যখন তাদের স্মরণ ও স্মৃতির উপর থেকে পুঞ্জিভূত ধুলি ও আবর্জনা পরিষ্কার হয়ে গেছে তখন তাদের ছবিগুলো উজ্জ্বল ও দীপ্তিমান হয়ে উঠেছে। তাদের একজন হলেন উম্মু ওয়ারাকা আল-আনসারিয়্যা (রা)। উম্মু ওয়ারাকা এই উপনামেই তিনি ইতিহাসে প্রসিদ্ধ। সাহাবীদের চরিত অভিধানের একটিতেও তার আসল নামটি উল্লেখ করা হয়নি। রাসূলুল্লাহ (সা) তাকে “আশ-শাহীদা“ (মহিলা শহীদ) উপাদি দান করেন। [আল-ইসাবা-৪/৪৮১] তার বংশ পরিচয় এ রকম : উম্মু ওয়ারাকা বিনত আবুদিল্লাহ ইবন আল-হারিছ ইবন উওয়াইমির ইবন নাওফাল। তবে ‘উসুদুল গাবা‘ গ্রন্থে ‘উওয়াইমির‘ এর স্থলে উমাইর এসেছে। তিনি তার বংশের এক উর্দ্ধতন পুরুষ “নাওফাল“ এস প্রতি আরোপিত হয়ে উম্মু ওয়ারাকা বিনত নাওফাল বলে পরিচিত লাভ করেছেন। [উসুদুল গাবা-৫/৬২৬; তাহযীবুত তাহযীব-১২/৪৮২] তার জন্ম ও মৃত্যুর সন সুনির্দিষ্টভাবে জানা যায় না। তবে এ কথা মোটামুটি সর্বজন স্বীকৃত যে, খলীফা উমার ইবন খাত্তাবের (রা) খিলাফতকালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। এতে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যায় যে, তিনি যেমন রাসূলুল্লাহর (সা) জীবনকাল পেয়েছেন, তেমনি ভাবে পেয়েছেন খলীফা আবূ বকরের (রা) খিলাফতকালের পুরোটা এবং উমারের (রা) খিলাফতকালের কিছুটা। তিনি সম্ভবত হিজরী বাইশ সনে শাহাদাত বরণ করেন। [তাবাকাত-৯/১৬৫; নিসা রায়িদাত, পৃ.-১০৮]

উম্মু ওয়ারাকা ছিলেন একজন আনসারী মহিলা। রাসূলুল্লাহর (সা) মদীনায় হিজরাতের অব্যবহিতপরে যে সকল মহিলা তাঁর রিসালাতে বিশ্বাস করে তাঁর নিকট বাই‘আত করেন তিনি তাঁদের একজন।[আ‘লা আন-নিসা‘-৫/২৮৪; তাবাকাত-৮/৪৫৭] তিনি ইসলামকে অতি চমত্কার রূপে ধারণ করেন এবং আল্লাহর দীনের গভীর জ্ঞান অর্জন করেন। আল-কুরআন অধ্যয়ন করেন এবং তার বেশীর ভাগ মুখস্ত করে ফেলেন। একটি বর্ণনায় এসেছে, তিনি সমগ্র কুরআন সংগ্রহ করেন।[আল-ইসাবা-৪/৫০৫] একথা বর্ণিত হয়েছে যে, হযরত আবু বকর (রা) যখন কুরআন সংগ্রহ ও সংকলন করেন, তখন এই উম্মু ওয়ারাকার সংগ্রহেরও সাহায্য নেন। তিনি কুরআনের কিছু কিছু সূরা লেখা ছিল এমন কিছু সহীফা (পুস্তিকা) সংরক্ষণ করতেন।[নিসা‘ রায়িদাত-১০৮] তাঁর কাছে সমগ্র কুরআন না হলেও অধিকাংশ লিখিত আকারে সংরক্ষিত ছিল। তিনি ছিলেন একজন তীক্ষ্ণ স্মৃতিশক্তির অধিকারী ঈমানদার মহিলা। দীনের বিধি-বিধান সম্পর্কে দক্ষ। রাসূল (সা) মাঝে মাঝে তাঁর গৃহে যেতেন। তিনি ছিলেন সেই সব মুষ্টিমেয় মহিলার একজন যাঁদের সাথে সাক্ষাৎ করতে রাসূল (সা) তাঁদের বাড়ীতে যেতেন। রাসূল (সা) তাঁর অর্থ-সম্পদ ও সমাজে উঁচু স্থানের জন্য তাঁকে এভাবে মূল্যায়ন করতেন না, বরং তাঁর আল্লাহর উপর ঈমান, দৃঢ় আকীদা-বিশ্বাস এবং দীনের বিধি-বিধানের দক্ষতা ও ‘ইবাদাত-বন্দেগীর কারণে তাঁর সাথে সাক্ষাতের জন্য যেতেন। হিজরী ২য় সনে রাসূল (সা) বদরে মক্কার পৌত্তলিকদের সাথে যুদ্ধের সিদ্ধান্ত নিলেন। এ খবর উম্মু ওয়ারাকার নিকট পৌঁছলো। তিনি যুদ্ধে যোগদানের জন্য জিদ ধরে বসলেন। ঘর-গৃহস্থলীর নানা রকম দায়িত্ব, সন্তান প্রতিপালনের কর্তব্যসমূহ তাঁকে “জিহাদ ফী সাবীলিল্লাহ“ (আল্লাহর পথে জিহাদ)-এর কর্তব্য থেকে বিরত রাখতে পারলো না। তিনি রাসূলুল্লাহর (সা) নিকট ছুটে গেলেন এবং যুদ্ধে অংশগ্রহণ করার অনুমতি চাইলেন। তিনি তাঁর উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে বললেন, যুদ্ধে আহতদের ব্যাণ্ডেজ বাঁধবেন, রোগীদের সেবা করবেন, তাঁদের পানাহারের নিশ্চয়তা বিধান করবেন এবং যুদ্ধ চলাকালে যোদ্ধাদের প্রয়োজনে সাড়া দিবেন। তিনি সেখানে এমন সব ভূমিকা পালন করবেন যার গুরুত্ব যোদ্ধাদের ভূমিকার চেয়ে কোন অংশ কম নয়। হতে পারে আল্লাহ তায়ালা তদের সাথে এই বের হাওয়াতে শাহাদাতও দান করতে পারেন। আল-ইসাবার বর্ণনায় তার বক্তব্য এভাবে এসেছে : [আল-ইসাবা-৪/৫০৫]

ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাকে অনুমতি দিলে আমি আপনাদের সাথে ‍যুদ্ধে যেতাম। আপনাদের অসুস্থদের সেবা করতাম, আহতদের ঔষধ পান করাতাম। এতে আল্লাহ তা‘য়ালা আমাকে শাহাদাতও দান করতে পারেন। জবাবে রাসূল (সা) বলেন : ওহে উম্মু ওয়ারাকা! তুমি ঘরেই অবস্থান কর। নিশ্চয় আল্লাহ ঘরেই তোমার শাহাদাতের ব্যবস্থা করবেন।‘ অন্য একটি বর্ণনায় “আল্লাহ তোমাকে শাহাদাত দান করবেন“ কথাটি এসেছে।[তাবাকাত-৮/৪৫৭; আল-ইসতী‘আব-৪/৪৮১; সুনানু আবী দাউদ-১/৯৭; আস-সীরাহ আল-হালাবিয়্যাহ-২/৩৫৭] মূলত এ দিন থেকেই রাসূল (সা) তাঁকে শহীদ হিসাবে আখ্যায়িত করেন। তিনি মাঝে মাঝে তাঁকে দেখার জন্য তাঁর বাড়ীতে সাহাবীদের সঙ্গে করে নিয়ে যেতেন। বলতেন : (আরবী**********) [আবূ-নু‘আয়ম, হিলয়িতুল আওলিয়া-২/৬৩; উসুদুল গাবা-৫/৬২৬ (৭৭১৮)]

“তোমরা আমার সাথে চলো, আমরা এই মহিলা শহীদকে একটু দেখে আসি।“ রাসূলের (সা) এ জাতীয় কথা দ্বারা এই মহিলা যে শহীদ হবেন সেদিকেই ইঙ্গিত করতেন।

ইসলামের ইতিহাসে অনেকগুলো বিষয় উম্মু ওয়ারাকার অগ্রগামিতার কথা জানা যায়। যেমন :

১. তিনি প্রথম মহিলা যাঁর গৃহে আযান দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

২. মদীনায় সর্বপ্রথম তিনি মহিলাদের নামাযের জামা‘আত প্রতিষ্ঠা করেন এবং সেই জামা‘আতের ইমামতি করেন।

৩. তিনি ইসলামের প্রথম মহিলা রাসূল (সা) যাঁকে “শাহীদা“ উপাধি দান করেন।

৪. ইসলামের ইতিহাসে তিনি প্রথম মহিলা যাঁকে হত্যার অভিযোগে একজন দাস ও একজন দাসীকে শূলে চড়িয়ে হত্যা করা হয়।[নিসা‘রাদিয়াত-১১০]

উম্মু ওয়ারাকা তাঁর নিজ বাড়ীতে একটি নামায-ঘর প্রতিষ্ঠা এবং প্রত্যেক নামাযের ওয়াকতে আযান দেওয়ার জন্য একজন মুআযযিন নিয়োগের জন্য রাসূলুল্লাহর (সা) অনুমতি চাইলেন। রাসূল (সা) তাঁর বাড়ীতে আযান দেওয়ার জন্য একজন মুআযযিন ঠিক করে দেন। তিনি প্রত্যেক নামাযের সময় আযান দিতেন। উম্মু ওয়ারাকার মৃত্যু পর্যন্ত এ ব্যবস্থা বিদ্যমান থাকে।[আবূ দাঊদ-১/৯৭; নিসা‘মিন আসর আন-নুবুওয়াহ-২৯৭] তিনি প্রথম মহিলা যিনি এ সৌভাগ্য ও গৌরবের অধিকারী হন। একজন প্রত্যক্ষদর্শী বর্ণনা করেছেন, আমি উম্মু ওয়ারাকার মু‘আযযিনকে দেখেছি। তিনি ছিলেন একজন অতি বৃদ্ধ ব্যক্তি। সেই ব্যক্তির নাম আবদুর রহমান।[নিসা‘ মুবাশশারাত বিল জিন্নাহ-২৯৩]

রাসূল (সা) তাঁর তীক্ষ্ণ মেধা, প্রখর স্মৃতিশক্তি ও দীনের বিধি-বিধান সম্পর্কে গভীর জ্ঞানের কথা জানতেন। তাই তিনি মআযযিনের আযান দেওয়ার পর উম্মু ওয়ারাকাকে তাঁর নিজের বাড়ীতে ও প্রতিবেশী মেয়েদের নিয়ে তাঁর বাড়ীতে জামা‘আত কায়েম করার ও তাতে ইমামতি করার অনুমতি দান করেন। এ ব্যবস্থা উমার ইবনুল খাত্তাবের (রা) খিলাফতকালে অর্থাৎ উম্মু ওয়ারাকার মৃত্যুর দিন পর্যন্ত বিদ্যমান ছিল। ইসলামের ইতিহাসে তিনি প্রথম মহিলা যাঁর বাড়ীতে মেয়েদের জন্য মসজিদ প্রতিষ্ঠিত হয়। [প্রাগুক্ত; সাহাবিয়াত-২১৬]

উম্মু ওয়ারাকার (রা) বয়স বেড়ে গেল। ছেলে-মেয়েরা বড় হলো। মেয়েদের বিয়ে হলো এবং এক এক করে তারা স্বামীর ঘরে চলে গেল। ছেলেরাও নিজ নিজ দায়িত্বের খাতিরে মায়ের নিকট থেকে দূরে যেতে বাধ্য হলো। ‍উম্মু ওয়ারাকর বাড়ীটি এখন একেবারে শূন্য প্রায়।

তিনি নিজের সেবা ও বাড়ী-ঘর দেখাশুনা করার জন্য একজন দাস ও একজন দাসী রাখলেন। তিনি তাদের সাথে অতি ভালো ব্যবহার করতেন। তিনি তাঁদেরকে কথা দেন যে, তাঁর মৃত্যুর পর তারা স্বাভাবিক ভাবে আযাদ হয়ে যাবে। অর্থাৎ দাসত্ব থেকে মুক্ত হয়ে যাবে। এই দাস-দাসী খুব শীঘ্র উম্মু ওয়ারাকার মৃত্যুর কোন লক্ষণ দেখতে পেল না। তাদের আর তর সইলো না। তারা তাঁর পরিবারের লোকদের অনুপস্থিতিতে খালি বাড়ীতে তাঁকে হত্যার ষড়যন্ত্র করলো। সুযোগ মতো এক রাতে তারা একটি কাপড় পেঁচিয়ে শ্বাসরুদ্ধ করে তাঁকে হত্যা করলো এবং নিজেদেরকে দাসত্ব থেকে মুক্ত মনে করে পালিয়ে গেল।

উমার ইবনুল খাত্তাব (রা) উম্মু ওয়ারাকার (রা) বাড়ীর আযান ও মেয়েদের জামা‘আতের তোড়জোড়ের সাড়া-শব্দ প্রতিদিন শুনতে পেতেন। একদিন তিনি বললেন, আচ্ছা গতকাল থেকে তো উম্মু ওয়ারাকা খালার কুরআন পাঠের শব্দ শুনতে পাচ্ছিনে। তাঁর কি হলো? তাঁর খবর জানার জন্য তিনি লোক পাঠালেন। লোকটি ফিরে এসে বললো বাড়ীটি বাইরে থেকে তালা মারা এবং দরজায় টোকা দিয়ে ভিতর থেকে কোন সাড়া পাওয়া গেল না। উমারের (রা) সন্দেহ হলো। এবার তিনি নিজে গেলেন। বাড়ীতে কাওকে না দেখে ভিতরে ঢুকলেন। ঢুকেই দেখলেন, একটি চাদরে জড়ানো অবস্থায় তাঁর লাশ মেঝেতে পড়ে আছে। তিনি জোরে “আল্লহু আকবার“ বলে উঠলেন। তারপর মন্তব্য করেন : রাসূল (সা) যখন তাঁকে “শাহীদা“ উপাধি দেন তখন সত্যই বলেছিলেন।[আল-ইসাবা-৪/৫০৫]

তারপর উমার (রা) মসজিদের মিম্বরে উঠে ঘোষণা দেন যে, উম্মু ওয়ারাকা শহীদ হয়েছেন। তাঁর দুই দাস-দাসী তাঁকে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করে পালিয়েছে। তিনি তাদেরকে খুঁজে বের করে ধরে নিয়ে আসার জন্য নির্দেশ দেন। মুহূর্তে জনতা তাদের খোঁজে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। তারা পালিয়ে যাওয়া অবস্থায় ধরা পড়ে এবং তাদেরকে মদীনায় খলীফা উমারের (রা) সামনে হাজির করা হয়। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। প্রথমে তারা হত্যার সাথে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করতে চাইলেও পরে স্বীকার করে যে, দু‘জনে একজোগে তাঁকে হত্যা করেছে। তখন উমার (রা) তাঁর আগের কথার পুনরাবৃত্তি করে বলেন : আল্লাহর রাসূল (সা) সত্য বলেছেন যখন তিনি বলতেন : (আরবি*****************) “তোমরা আমার সাথে চলো, এই শহীদকে দেখে আসি।“ এভাবে উম্মু ওয়ারাকা (রা) হন ইসলামের প্রথম মহিলা যাঁকে “আশ-শাহীদা“ অভিধায় ভূষিত করা হয়।

দাস-দাসীর দু‘জনের শাস্তি ছিল অবধারিত। উমার ইবনুল খাত্তাব (রা) তাদেরকে শূলীতে চড়িয়ে হত্যার নির্দেশ দেন। তাদেরকে শূলীতে চড়িয়ে হত্যা করা হয়। এ দু‘জন দাস-দাসী ছিল মদীনার প্রথম শূলীতে চড়ানো দু‘ব্যক্তি, আর উম্মু ওয়ারাকা হলেন ইসলামের প্রথম মহিলা যাঁকে হত্যার কারণে একজন দাস একজন দাসী কে শূলীতে চড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।[আবূ-দাঊদ-১/৯৭; তাবাকাত-৮/৪৫৭; আল-ইসতী‘আব-৪/৪৮২]

দীনের তাত্পর্য গভীরভাবে হ্রদয়ঙ্গম করা, পাড়া-প্রতিবেশী ও তাঁর নিকট আগত মহিলাদের শিক্ষা দানের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেওয়ার কারণে উম্মু ওয়ারাকা (রা) মুসলিম নারীদের একজন নেত্রীতে পরিণত হন। শাহাদাত লাভের বাসনায় জিহাদে যোগদানের যে ইচ্ছার কথা রাসূলুল্লাহর (সা) নিকট প্রকাশ করেন তাতে তাঁর মহত্ব ও মর্যাদা শতগুণ বেড়ে যায়।

উম্মু ওয়ারাকার (রা) নিহত হওয়ার মধ্যে এমন প্রত্যেক মানুষের জন্য শিক্ষা রয়েছে, যারা দাস-দাসী ও চাকর-চাকরানীর উপর সম্পুর্ণ নির্ভর করে, বিশেষত সেই দাস-দাসী ও চাকর-চাকরানী যদি হয় অমুসলিম। জগতে এমন বহু দাস-দাসী ও চাকর-চাকরানীর কথা জানা যায় যারা তাদের মনিবদের জীবনে বহু অকল্যাণ বয়ে নিয়ে এসেছে। পৃথিবীর প্রায় সকল জাতি-গোষ্ঠির লোকদের মধ্যে একথাটি শোনা যায় যে, তুমি যার উপকার করেছো তার অনিষ্ট থেকে সতর্ক থাক। উম্মু ওয়ারাকা তারঁ দাস-দাসীর প্রতি সুন্দর আচরণ করেছিলেন, তাদেরকে মুক্তির অঙ্গীকার করেছিলেন, আর তারই পরিণতিতে তাদেরই হাতে তাঁকে প্রাণ দিতে হয়। আধুনিক যুগের মুসলিম মহিলাদের জন্য এই ঘটনার মধ্যে বিরাট শিক্ষা ও উপদেশ করেছে।

উম্মু ওয়ারাকা (রা) রাসূলুল্লাহ (সা) হাদীস বর্ণনা করেছেন। আর তাঁরা থেকে পৌত্ররা বর্ণনা করেছেন।[নিসা‘রায়িদাত-১১৩]

About ড. মুহাম্মদ আবদুল মাবুদ