আসহাবে রাসূলের জীবনকথা – ষষ্ঠ খণ্ড

সম্পুর্ণ সূচীপত্র

উম্মু রূমান বিন্‌ত ‘আমির (রা)


হযরত উম্মু রূমানের (রা) পরিচয় এই রকম : উম্মু রূমান বিন্‌ত আমির ইবন ‘উয়াইমির ইবন ‘আবদু শাম্‌স ইবন ‘ইত্তাব ইবন উযাইনা আল-নিনানিয়া।[উসুদুল গাবা-৫/৫৮৩; আনসাব আল-আশরাফ-১/৪০৯; সিয়ারু আ‘লাম আন-নুবালা’ -২/১৩৫] ইতিহাসে নামটির দুই রকম উচ্চারণ দেখা যায়- উম্মূ রূমান ও উম্মু রাওমান। ইবন ইসহাক তাঁর আসল নাম “যায়নাব” বলেছেন, তবে অন্যরা বলেছেন ‘দা‘আদ’।[আল-ইসাবা-৪/৪৩৩; আর-রাওদ আল-আন্‌ফ-৪/১২] তিনি উম্মু রূমান ডাকনামে ইতিহাসে প্রসিদ্ধ।

আরব উপ-দ্বীপের ‘আস-সারাত’ (আরবী****)[ মা‘জাম আল-বুলদান-৩/২০৪-২০৫; ।] অঞ্চলে উম্মূ রূমানের জন্ম হয় এবং সেখানে বেড়ে ওঠেন। বিয়ের বয়স হলে ‘আবদুল্লাহ নামে তাদের এক ছেলে হয়। সে ছিল ইসলামপূর্ব আল-ইয়্যাম আল-জাহিলিয়্যার যুগ। গোটা আরবে তখন অনাচার ও অশান্তি বিরাজমান। আরব উপ-দ্বীপে যতটুকু শান্তি ও নিরাপত্তা বিদ্যমান ছিল, বলা চলে তা কেবল উম্মুল কুরা মক্কা নগরীতেই ছিল।[সূরা ইবচরাহীম -৩৫] (আরবী*********)

‘ইবরাহীম যখন বলেছিল হে প্রভু! আপনি এ শহরকে শান্তি ও নিরাপত্তার শহর বানিয়ে দিন….।’ এ সম্মানিত ও গৌরবময় শহরের কেন্দ্রস্থলেই ছিল আল্লাহ রাব্বুল ‘আলামীনের ঘর কা‘বা। যুগে যুগে মানুষ এই শান্তি ও নিরাপত্তার শহরে এসে কা‘বার পাশে বসবাস করতে চেয়েছে। উম্মু রূমানের স্বামী ‘আবদুল্লাহ ইবন আল-হারিছেরও স্বপ্ন ছিল এই পবিত্র কা‘বার প্রতিবেশী হয়ে বসবাস করার। সেই স্বপ্ন পূরণের উদ্দেশ্যে তিনি একদিন স্ত্রী উম্ম রূমান ও ছেলে আত-তুফাইলকে সংগে নিয়ে জন্মভূমি আস-সারাত থেকে মক্কার দিকে যাত্র করেন। মক্কায় পৌঁছে তিনি তৎকালীন আরবের নিয়ম-অনুযায়ী সেখানকার অধিবাসী আবূ বকরের সাথে চুক্তবদ্ধ হন। এভাবে তিনি আবূ বকরের আশ্রয়ে পরিবারসহ মক্কায় বসবাস শুরু করেন। অল্প কিছু দিনের মধ্যে তিনি মারা যান। বিধবা উম্মু রূমান তাঁর ছেলেসহ বিদেশ-বিভূঁয়ে দারুণ অসহায় অবস্থায় পড়েন।

এই বিপদের মধ্যে উম্মু রূমান একটা আশার আলো দেখতে পান। তাঁদের আশ্রয়দাত আবূ বকর ছিলেন একজন দৃঢ় ব্যক্তিত্ব, উদারতা ও দানশীলতার অধিকারী। মানুষের বিপদে তাদের পাশে দাঁড়ানো ছিল তাঁর স্বভাব। ইসলাম গ্রহণের পর মক্কার পৌত্তলিক শক্তি আবূ বকরের (রা) উপর বাড়াবাড়ি শুরু করলে তিনি দেশ ত্যাগের ইচ্ছা করেন। তখন ইবন আদ-দিগান্না কুরাইশদের তিরস্কার করে যে কয়েকটি বক্য উচ্চারণ করেন তাতে আবূ বকরের (রা) সদগুণাবলী চমৎকরভাবে বিধৃত হয়েছে। তিতিন বলেন :[ নিসা’ আসর আন-নুবুওয়াহ্‌-২৬৯-২৭০] (আরবী********)

‘এমন একটি লোককে তোমরা দেশ থেকে তাড়িয়ে দিচ্ছো যে কিনা হত-দরিদ্রদের সাহায্য করে, আত্মীয়তার সম্পর্ক অটুট রাখে, অন্যের বোঝা বহন করে, অতিথিকে আহার করায় এবং বিপদ-আপদে মানুষকে সাহায্য করে?’ এমন ব্যক্তি তাঁর আশ্রয়ে থাকা সন্তানসহ এক অসহায় বিধবাকে দূরে ঠেলে দিতে পারেন কিভাবে? তিনি উম্মু রূমানের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। তাঁকে বিয়ে করে তাঁর ছেলেসহ নিরেজ পরিবারের সাথে যুক্ত করেন। এবাবে উম্মু রূমান (রা) একটি চমৎকার ঘর ও সংসার লাভ করেন। আবূ বকরের (রা) সাথে বৈবাহিক জীবনে তিনি তাঁকে এক ছেলে ও এক মেয়ে- ‘আবদুল রহমান ও ‘আয়িশাকে (রা) উপহার দেন।[প্রাগুক্ত; নিসা’ হাওলাদার রাসূল -২৬৪] এই আয়িশা (রা) পরবর্তীকালে ‘উম্মুল মু‘মিনীন’ হওয়ার গৌরব অর্জন করেন।

এখানে এ বিষয়টি উল্লেখ করা অপ্রাসঙ্গিক হবে না যে, জাহিলী যুগে আবূ বকর (রা) কুতাইলা বিন্‌ত ‘আবদিল ‘উযযা আল-‘আমিরিয়াকে বিয়ে করেন। তার গর্ভে জন্মগ্রহণ করে ছেলে ‘আবদুল্লাহ ও মেয়ে আসমা’ (রা)। ইসলাম গ্রহণ না করায় কুতাইলার সাথে আবূ বকরের (রা) ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। ইসলামী জীবনে আবূ বকজর বিয়ে করেন ‘আসমা’ বিন্‌ত ‘উমাইসকে (রা)। তাঁর গর্ভে জন্ম হয় ছেলে মুহাম্মাদ ইবন আবূ বকরের (রা)। তিনি হাবীবা বিন্‌ত খাদীজাকেও বিয়ে করেন এবং মেয়ে উম্মু কুলছূম মায়ের গর্ভে থাকা অবস্থায় আবূ বকর ইনতিকাল করেন।[নিসা‘ মাবাশ্‌শারাত বিল-জান্নাহ্‌-৮৪]

ইসলাম গ্রহণ

সকল নির্ভরযোগ্য বর্ণনা দ্বারা একথা সমর্থিত যে, স্বাধীন পুরুষদের মধ্যে সর্বপ্রথম আবূ বকর সিদ্দীক (রা) ইসলাম গ্রহণ করেন। ইসলামের প্রচার-প্রসারে যিনি সবকিছু উজার করে বিলেয়ে দেন, স্বভাবতঃই তিনি ইসলাম গ্রহণের পর ‍মুহূর্তে নিরেজ আপনজনদের নিকট ইসলামের দা‘ওয়াত পেশ করে থাকবেন। একথা জানা যায় যে, তিনি তাঁর মা উম্মুল খায়র সালমা বিন্‌ত সাখর (রা) এর হাত ধরে রাসূলুল্লাহর (সা) সামনে নিয়ে হাজির করেন। রাসূল (সা) তাঁকে ইসলামে দীক্ষিত করেন। তিনি স্ত্রী উম্মু রূমানকেও ইসলামের দাওয়াত দেন এবং তিনি ইসলাম গ্রহণকারী দলটির সদস্য হওয়ার অনন্য গৌরবের অধিকারী হন। হযরত ‘আয়িশা (রা) বলেন : [তাহযীব আল-আসমা’ ওয়াল-লুগাত-২/১৮৩]

(আরবী**********)

‘আমার পিতাকে চেনার পরই দেখেছি তাঁরা দুইজন এ দীন ধারণ করেছেন।’

ইবন সা‘দ বলেন : (আরবী*********)

‘উম্মু রূমান মক্কায় বহু আগে ইসলাম গ্রহণ করে বাই‘আত করেন এবং হিজরাতও করেন।’[তাবাকাত-৮/২৭৬]

ইসলাম গ্রহণের পর মনে-প্রাণে ইসলামের শিক্ষায় নিজেকে ও নিজের পরিবারকে গড়ে তোলাম সাধ্যমত চেষ্টা করেন। ইসলামের মহত্ব ও বাস্তব চিত্র রাসূলুল্লাহর (সা) সত্তার মধ্যে প্রত্যক্ষ করেন। ইসলামী দা‘ওয়াতের প্রয়োজনে রাসূল (সা) সময়-অসময়ে আবূ বকরের (রা) গৃহে যেতেন। আল্লাহর রাসূলের (সা) এমন শুভাগমনে উম্মু রূমানসাহ বাড়ীর সকলে দারুণ খশী হতেন। নিজের সাধ্যমত এই মহান অতিথির সেবা করতেন। উম্মু রূমানের (রা) ছিল একটা স্বচ্ছ মন, একটা মমতায় ভরা অন্তর যা শক্ত ঈমানে পরিপূর্ণ ছিল। বিপদে ধৈর্য ধরার অসীম শক্তিও তাঁর মধ্যে ছিল। মক্কার দুর্বল মুসলমানদের উপর পৌত্তলিকদের নির্মম অত্যাচার দেখে তিনি ভীষণ কষ্ট পেতেন। তিনি দেখতেন রাসূল (সা) তাঁর সাহাবীদেরকে ধৈর্যের শিক্ষা দিচ্ছেন। স্বামী আবূ বকরকে (রা) দুর্বল শ্রেণীর মুসলমানদের পাশে দাঁড়াতে এবং নিজের অর্থে দাসদের ক্রয় করে মুক্ত করে দিতে দেখে তিনি আনন্দিত হতেন। তাঁর মহৎ কাজে তিনি উৎসাহ দিতেন।

তিনি ঘর গৃহস্থালীর কাজের পাশাপাশি ছেলে ‘আবদুল রহমান ও মেয়ে ‘আয়িশার (রা) তত্ত্বাবধানে অত্যধিক যত্নবান ছিলেন। আল্লাহ-ভীত এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ভালোবাসার উপর ছেলে-মেয়েকে গড়ে তোলাম চেষ্টা করেন। তাঁর পচ্ছিন্ন অন্তকরণ প্রথম থেকেই তাঁকে বলছিল, মেয়ে ‘আয়িশা ভবিষ্যতে ইসলামের জন্য এক বিশেষ ভূমিকা রাখবে। রাসূল (সা) সকাল-দুপুর-সন্ধা যখন তখন বাড়ীতে আসা-যাওয়অ করতেন। মাঝে মাঝে তিনি উম্মু রূমানকে ঘর-গৃহস্থালীর কর্ম সম্পাদন ও সন্তানদের লালন-পালনের ব্যাপারে দিক নির্দেশনাও দিতেন।

ছোট বেলায় ‘আয়িশা (রা) মাঝে মাঝে মাকে ক্ষেপিয়ে তুলতেন। মা মেয়েকে শাস্তিও দিতেন। রাসূল (সা) এতে কষ্ট অনভব করতেন। একবা তিনি উম্মু রূমানকে বলেন : [প্রাগুক্ত] (আরবী*****)

‘উম্মু রূমান! আপনি আয়শার সাথে ভালো আচরণ করুন এবং তার ব্যাপারে আমর কথা স্মরণে রাখুন।’

একদিন রাসূল (সা) আবূ বকরের (রা) গৃহে এসে দেখেন, দরজার চৌকাঠে হেলান দিয়ে ‘আয়িশা (রা) কাঁদছেন। তিনি উম্মু রূমানকে বলেন : আপনি আমার কথায় গুরুত্ব দেননি। উম্মু রূমান বলেন : ইয়া রাসূলাল্লাহ! এ মেয়ে আমার বিরুদ্ধে তার বাপের কাছে লাগায়। রাসূল (সা) বললেন : যা কিচু করুক না কেন তাকে কষ্ট দিবেন না।[আসহাবে রাসূলের জীবন কথা-৫/৫৭]

সন্তানদের প্রতি মায়া-মমতা, স্বামীর প্রতি গভীল ভালোবাসা ও আনুগত্য, সর্বোপরি তীক্ষ্ণ বুদ্ধিমত্তা উম্মু রূমান ও তাঁর পরিবারটিকে একটি আদর্শ স্থানে পরিণত করে। স্বামীর সাথে পরামর্শ ছাড়া তিনি কোন সিদ্ধান্তমূলক কাজ করতেন না। রাসূলুল্লাহর (সা) সাথে কন্যা ‘আয়িশার (রা) বিয়ের পয়গামের সময় উম্মু রূমানের ভূমিকা এর উত্তম দৃষ্টান্ত।

হিজরাতের তিন বছর পূর্বে উম্মুল মা‘মিনীন হযরত খাদীজা (রা) ইনতিকাল করেন। রাসূল (সা) শোকে কাতর হয়ে পড়েন। একদিন তাঁকে বিষণ্ণ দেখে ‘উছমান ইবন মাজ‘ঊনের স্ত্রী খাওলা বিন্‌ত হাকীম (রা) বলেন : ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি আবার বিয়ে করুন। রাসূল (সা) জানতে চাইলেন : কাকে? খাওলা বললেন : বিধবা ওি কুরামী দুই রকম পাত্রীই আছে, যাকে আপনার পসন্দ হয় তাঁর বিষয়ে কথা বলা যেতে পারে। রাসূল (সা) আবার জানতে চাইলেন ; তারা কারা? খাওলা বললেন ; বিধবা পাত্রীটি সাওদা বিন্‌ত যাম‘আ, আর কুমারী পাত্রীটি আবূ বকরের মেয়ে ‘আয়িশা। রাসূল (সা) বললেন : ভালো। তুমি তার সম্পর্কে কথা বলো।

হযরত খাওলা (রা) রাসূলুল্লাহর (সা) সম্মতি পেয়ে আবূ বকরের বাড়ীতে যান এবং উম্মু রূমানকে (রা) অত্যন্ত আবেগের সুরে বলেন : উম্মু রূমান! আল্লাহ তা‘আলা আপনার বাড়ীতে এত খায়র ও বরকত (কল্যাণ ও সমৃদ্ধি) দান করেছেন কিসের জন্য? উম্মু রূমান বললেন : কেন, কি হয়েছে খাওলা?

খুশীতে ঝলমল চেহারায় খাওলা (রা) বললেন : রাসূলুল্লাহ (সা) ‘আয়িশার কথা বলেছেন (বিয়ের পয়গাম পাঠিয়েছেন)।

উম্মু রূমান (রা) ক্ষণিকের জন্য কি যেন ভাবলেন। আস্তে আস্তে তাঁর চহারাটি দীপ্তিমান হয়ে উঠলো। বললেন : খাওলঅ! আপনি একটু বসুন, আবূ বকর এখনই এসে পড়বেন।

আবূ বকর (রা) আসলেন। উম্মু রূমান (রা) তাঁকে বিষয়টি জানালে তিনি বললেন মুত‘ইম ইবন ‘আদী তার ছেলে জুবাইরের সাথে ‘আয়িশার বিয়ের প্রস্তাব করেছিল এবং আমি তাঁকে কথাও দিয়েছিলাম। আমি আমার অঙ্গীকার তো ভঙ্গ করতে পারবো না। আবূ বকর (রা) মুত‘ইম ইবন ‘আদীর কাছে যেয়ে বললেন : তোমার ছেলের সাথে ‘আয়িশার  বিয়ের প্রস্তাব করেছিলেন। এখন তোমাদের সিদ্ধান্ত কি, বল। মুত‘ইম তাঁর স্ত্রীকে জিজ্ঞেস করলেন। মুত‘ইমের পরিবার তখনও ইসলাম গ্রহণ করেনি। এ কারণে স্ত্রী বললেন, এ মেয়ে আমাদের ঘরে এলে ছেলে ধর্মত্যাগী হয়ে যাবে। এ প্রস্তাবে আমার মত নেই। আবূ বকর (রা) মুত‘ইমের দিকে ফিরে বলেন : তোমার মত কি? মুত‘ইম বললেন : সে যা বলেছে, আমার মতও তাই। আবূ বকর (রা) বাড়ী ফিরে এসে খাওলাকে বলেন : আপনি রাসূলুল্লাহকে (সা) নিয়ে আসুন। রাসূল (সা) এলেন এবং বিয়ে পড়িয়ে দেওয়া হলো।[মুসনাদে আহমাদ-৬/২১০-২১১; তাবাকাত-৮/৫৮; আয-যাহাবী : তারীখ-১/২৮০-২৮১; সিয়ারু আলাম আন-নুবালা’ -২/১৪৯] ‘আতিয়্যা (রা) এই বিয়েল বর্ণনা দিয়েছেন এভাবে- ‘আয়িশা (রা) অন্য মেয়েদের সাথে খেলছিলেন। তাঁর সেবিকা এসে তাঁকে নিয়ে যায় এবং আবূ বকর (রা) এসে বিয়ে পড়িয়ে দেন। এ বিয়ে যে কত অনাড়ম্বর ছিল তা অনুমান করা যায় ‘আয়িশার (রা) একটি বর্ণনা দ্বারা। তিনি বলছেন : যখন আমার বিয়ে হয়, আমি কিছুই বুঝতাম না। আমার বিয়ে হয়ে গেল। যখন মা আমাকে বাইরে যেতে বারণ করতে লাগলেন তখন বুঝলাম আমার বিয়ে হয়ে গেছে। তারপর মা আকাকে সবকিছু বুঝিয়ে দেন।[তাবাকাত-৮/৫৯-৬০] মোটকথা উম্মু রূমান (রা) মেয়ে আয়িশাকে (রা) ভবিষ্যতের উম্মুল মু‘মিনীন হিসেবে, নবীগৃহের কর্ত্রী হিসেবে এরং তার ঘরে যাতে ওহী নাযিল হতে পারে সে রকম যোগ্য করে গড়ে তোলেন।

হিজরাত

রাসূলুল্লাহর (সা) সাথে আবূ বকর (রা) রাতের অন্ধকারে মদীনার উদ্দেশ্যে বের হলেন। ছূর পর্বতের গুহায় তিন দিন আত্মগোপন করে থাকলেন। উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় উম্মু রূমানের ঘুম দূর হয়ে গেল। একদিকে আবূ বকর (রা) ছেলে-মেয়েদের জন্য ঘরে কোন অর্থ রেখে যাননি সে দুশ্চিন্তা, অন্যদিকে প্রিয় নবী (রা) ও স্বামীর নিরাপত্তার দুর্ভাবনা। কিন্তু তিনি অন্ত্যন্ত স্থির ও অটল থেকে সকল ‍দুশ্চিন্তা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে দিয়ে রাসূলুল্লাহর (সা) নিরাপদে মদীনায় পৌঁছার জন্য আল্লাহর দরবারে দু‘আ করতে থাকেন।

মদীনায় একটু স্থির হওয়ার পর রাসূলুল্লাহ (সা) মক্কা থেকে পরিবা-পরিজনকে মদীনায় নেওয়ার জন্য যায়িদ ইবন হারিছা (রা) ও রাফিৎকে (রা) মক্কায় পাঠা। আবূ বকরও (রা) তাঁদের সাথে ‘আবদুল্লাহকে বলে পাঠান যে, সে যেন আসমা’, ‘আয়িশা ও তাঁদের মা উম্মু রূমানকে নিয়ে মদীনায় চলে আসে। এই সকল লোক যখন মক্কা থেকে যাত্রা করেন তখন তালহা ইবন ‘আবদিল্লাহ (রা) হিজরাতের উদ্দেশ্যে তাঁদের সহযাত্রী হন। আবূ রাফি’ ও যায়িদ ইবন হারিছার (রা) সংগে উম্মু কুলছূম , ফাতিমা, উম্মুল মু’মিনীন সাওদা বিন্‌ত যাম‘আ, উম্মু আয়মান ও উসামা ইবন যায়িদ (রা) এবং ‘আবদুল্লাহ ইবন আবী বকরের (রা) সংগে উম্মু রূমান, আসমা’ ও ‘আয়িশা (লা) ছিলেন।[আনসাব আল-আশরাফ-১/২৬৯-২৭০]

এই কাফেলা মক্কা থেকে যাত্রা করে যখন হিজাযের বানূ কিনানার আবাসস্থল ‘আল-বায়দ’ পৌঁছে তখন ‘আয়িশা (রা) ও তাঁর মা উম্মু রূমান (রা) যে উটের উপর ছিলেন সেটি বেয়াড়া হয়ে দ্রুতগতিতে ছুটতে থাকে। প্রতি মুহূর্তে তাঁরা আশংকা করতে থাকেন, এই বুঝি হাওদাসহ ছিটকে পড়ছেন। মেয়েদের যেমন স্বভাব, মার নিজের জানের প্রতি কোন ভ্রূক্ষেপ নেই, কলিজার টুরো মেয়ে ‘আয়িশার (রা) জন্য অস্থির হয়ে কান্নাকাটি শুরু করে দেন। তিনি চেঁচিয়ে বলতে থাকেন: (আরবী******)

‘নতনি বউকে বাঁচাও, আমার মেয়েকে বাঁচাও!’

হযরত ‘আয়িশা (রা) বলেন, এ সময় আমি কাউকে বলতে শুনলাম : (আরব****)

উটের লাগাম ঢিলা করে দাও।’ আমি লাগাম ঢিলা করে দিলাম। আল্লাহর ইচ্ছায় উটটি শান্ত হয়ে দাঁড়িয়ে যায়।[আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া-৩/২১১; আল-ইসতী‘আব-৪/৪৩৪৩]

তাঁরা নিরাপদে ছিলেন এবং নিরাপদেই মদীনায় পৌঁছেন।

হযরত উম্মু রূমান (রা) ছেলে-মেয়েদের নিয়ে মদীনার বানূ আল-হারিছ ইবন খাযরাজের মহল্লায় অবতারণ করেন এবং সাত-আট মাস সেখানে বসবাস করেন। উল্লেখ্য যে, ‘আয়িশা (রা) মায়ের সাথে থাকেন। মক্কা থেকে আগত অধিকাংশ মুহাজিরের জন্য মদীনার আবহাওয়া অনুকূল ছিল না। বহু নারী-পুরুষ অসুস্থ হয়ে পড়েন। আবূ বকর (রা) অসুস্থ হয়ে পড়েন।  আবূ বকর (রা) অসুস্থ হয়ে পড়েন। মা-মেয়ের অক্লান্ত সেবায় তিনি সুস্থ হয়ে ওঠে। স্বামী সুস্থ্ হওয়ার পর মেয়ে ‘আয়িশা (রা) শয্যা নিলেন। তাঁর অসুস্থতা হতে মারাত্মক ছিল যে, প্রায় সব টুল পরেড় যায়।[সহীহ আল-বুখারী : বাবুল হিজরাহ্‌; তাবাকাত-৮/৬৩] মায়ের সেবায় তিনি সুস্থ হয়ে ওঠেন। এ সকল বিপদ-আপদ থেকে মুক্ত হওয়ার পর মা উম্মু রূমান (রা) একদিন রাসূলুল্লাহকে (সা) বললেণ : ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনার স্ত্রীকে ঘরে তুলে নিচ্ছেন না কেন? মাহর পরিশোধ করার মত অর্থ এখন আমার হতে নেই। আবূ বকর (রা) বললেন : আমার অর্থ গ্রহণ করুন। আমি ধার দিচ্ছি। অতঃপর রাসূল (সা) মাহরের সমপরিমাণ অর্থ আবূ বকরের (রা) নিকট থেকে ধার নিয়ে ‘আয়িশার (রা) নিকট পাঠিয়ে দেন।

হিজরী ৬ষ্ঠ সনে মুরাইসী’ যুদ্ধ থেকে ফেরার পথে নবী-পরিবারকে কেন্দ্র করে মুনাফিকরা এক মারাত্মক ষড়যন্ত্রে মেতে ওঠে। এই সফরে হযরত ‘আয়িশা (রা) রাসূলুল্লাহর (সা) সংগে ছিলেন। এই সফর থেকে ফেরার পথে একটি ঘটনাকে উপলক্ষ্য করে একটা দুষ্টচক্র হযরত ‘আয়িশার (রা) চরিত্রে কলঙ্কজ লেপনের উদ্দেশ্যে দুর্নাম রটিয়ে দেয়। প্রায় এক মাস যাবত এই মিথ্যা দোষারোপের কথা মদীনার সমাজে উড়ে বেড়াতে থাকে। স্বয়ং নবী (সা) ও আবূ বকরের (রা) পরিবার এক দারুণ বিব্রতকর অবস্থায় পড়েন। উম্মু রূমানের (রা) কানে মেয়ের এ অপবাদের কথা পৌঁছানের পর জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে পড়ে যান।[আ‘লাম আন-নিসা’-১/৪৭২] কিন্তু পরক্ষণেই চেতনা ফিরে পেয়ে নিজেকে শক্ত করেন এবং সবকিছু আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উপর ছেড়ে দেন। প্রথম দিকে লোকেরা যা বলাবলি করতো তা ‘আয়িমার (রা) নিকট গোপন রাখা হয়। পরে যখন তিনি জানলেন তখন এই গোপন করার জন্য মাকে বেশ বকাবকি করেন।[নিসা হাওলার রাসূল -২৬৭] আয়িশা (রা) সফর থেকে মদীনায় ফিরে একটু অসুস্থ হয়ে পড়েন, তাই মায়ের কাছে চলে যান। তারপর এই মারাত্মক সঙ্কটকালের পুরো এক মাস মায়ের কাছেই থাকেন। এ সময় উম্মু রূমানকে (রা) একজন আদর্শা মা হিসেবে মেয়ের পাশে থাকতে দেখা যায়। তিনি সব সময় মেয়েকে ধৈর্য ধরার পরামর্শ দিতেন, আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের উপর ভরসা করার কথা বলতেন। এ সময় একদিন রাসূল (সা) ‘আয়িশার (রা) পিতৃ-গৃহে আসলেন। আবূ বকর ও উম্মু রূমান (রা) মনে করলেন আজ হয়তো কোন সিদ্ধান্তমূলক কথা হয়ে যাবে। এ কারণে তাঁরা উভয়ে কাছে এসে বসলেন। রাসূল (সা) ‘আয়িশাকে (রা) বললেন : ‘আয়িশা, তোমার সম্পর্কে এসব কথা আমার কানে পৌঁছেছে। তুমি যদি নির্দোষ হয়ে থাক তাহলে আশা করি আল্লাহ তা প্রকাশ ও প্রমাণ করে দেবেন। আর বাস্তবিকই যদি কোন গুনাহে লিপ্ত হয়ে থাক, তাহলে আল্লাহর নিকট তাওবা কর, ক্ষমা চাও। বান্দাহ যখন গুনাহ স্বীকার করে তাওবা করে, তখন আল্লাহ মাফ করে দেন।

আয়িশা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহর (সা) আমার চোখের পানি শুকিয়ে গেল। পিতাকে বললাম : আপনি রাসূলে কারীমের (সা) কথার জবাব দিন। তিনি বললেন : মেয়ে! আমি জানিনা রাসূলুল্লাহকে (সা) আমি কি বলবো। আমি মাকে বললাম : আপনি রাসূলুল্লাহকে (সা) জবাব দিন। বললেন : আল্লাহর রাসূলকে (সা) কি বলবো তা আমার জনা নেই।[তাফসীর ইবন কাছীর, তাফসীর আল-কুরতুবী : সূরা আন-নূর, আল-আয়াত : ১১-২১; বুখারী-৬/১২৭; তাফসীর সূরা আন-নূর।]

এরই মধ্যে রাসূলের (সা) উপর ওহী নাযিল হওয়াকালীন অবস্থা সৃষ্টি হলো। এমনকি তীব্র শীতের মধ্যে তাঁর চেহারা মুবারক হতে ঘামের ফোঁটা টপটপ করে পড়তে লাগলো। এমন অবস্থা  দেখে আমরা সবাই চুপ হয়ে গেলাম। আমি তো পূর্ণমাত্রায় নির্ভয় ছিলাম। কিন্তু আমার পিতা আবূ বকর ও মাতা উম্মু রূমানের অবস্থা ছিল বড়ই করুণ। আল্লাহ কোন মহসত্য প্রকাশ করেন, সেই চিন্তায় তাঁরা ছিলেন অস্থির, উদ্বিগ্ন। ওহীকালীণ অবস্থা শেষ হলে রাসূলে কারীমকে (সা) খবই উৎফুল্ল দেখা গেল। তিনি হাসি মুখে প্রথম যে কথাটি বলেন তা এই : ‘আয়িশা, তোমার জন্য সুসংবাদ। আল্লাহ তোমার নির্দোষিতা ঘোষনা করে ওহী নাযিল করেছেন। অততঃপর তিনি সূরা আন-নূর এর ১১-১২ আয়াত পর্যন্ত পাঠ করে শোনান। আমার মা আমাকে বললেন : ওঠো, রাসূলুল্লাহর (সা) শুকরিয়া আদায় কর।

আদরের মেয়ে ‘আয়িশার (রা) প্রতি কলঙ্ক আরোপের ঘটনায় উম্মু রূমানের (রা) পরিববারে যে উৎকণ্ঠা ও অশান্তি ভর করে তা ওহী নাযিলের পর দূর হয়ে যায়। পূর্ব থেকেই মানুষের নিকট এই পরিবারটির যে মর্যাদা ও গুরুত্ব ছিল তা আরো শতগুণে বেড়ে যায়। মা হিসেবে উম্মু রূমানের (রা) খশীর কোন সীমা পরিসীমা ছিল না।

উম্মুল মু‘মিনীন হযরত ‘আয়িশার ঘটনায় মা উম্মু রূমানের (রা) দেহ ও মনের ‍উপর দিয়ে এক বিরাট ধকল যায়। এটি সামাল দেওয়ার পর তিনি নিজে অসুস্থা হয়ে শয্যা নেন। মেয়ে ‘আয়িশা (রা) সুস্থ করে তোলাম জন্য সাধ্যমত চেষ্টা করেন। সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়। হিজরী ৬ষ্ঠ সনের যিল হাজ্জ মাসে তিনি মদীনায় ইনতিকাল করেন।[আ‘লাম আন-নিসা’-১/৪৭২]

উম্মু রূমান একজন ধর্মপরায়ণ মহিলা ছিলেন। আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের (সা) সন্তুষ্টিই উম্মু রূমান একজন ধর্মপরায়ণ মহিলা ছিলেন। আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের (সা) সন্তুষ্টিই ছিল একমাত্র কাম্য। স্বামীর সংসারের যাবতীয় দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়ে তাঁকে ইসলামের সেবায় আরো বেশী সময় দানের সুযোগ করে দিতেন। একদিন স্বামী আবূ বকর (রা) রাসূলুল্লাহর (সা) কয়েকজন মেহমান নিয়ে গৃহে আসলেন। তাঁদেরকে রাতে আহার করাতে হবে। কিনউত রাসূলুল্লাহর (সা) দরবার থেকে জরুরী তলব এলো। তিনি উম্মু রূমানকে (রা) বলে গেলেন, আমার ফিরতে দেরী হবে,দ তোমরা মেহমানদেরকে খেতে দিবে। কথা মত উম্মু রূমান (রা) যথাসময়ে ছেলে ‘আবদুর রহমানের দ্বারা মেহমানদের সামনে কাবার হাজির করলেন; কিন্তু তাঁরা মেজবানের অনুপস্থিতিতে খেতে অস্বীকার করলেন। গভীর রাতে আবূ বকর (রা) ফিরে এসে যখন জানলেন মেহমানগণ অভুক্ত রয়েছেন। তখন তিনি উম্মু রূমান ও ছেলে ‘আবদুর রহমানের উপর ভীষণ ক্রুদ্ধ হলেন। এমনকি ছেলেকে মারতে উদ্যত হলেন। শেষ পর্যন্ত মেহমানদের মধ্যস্থতায় তিনি শান্ত হন। মেহমানদের সামনে খাবার হাজির করা হয়। সকলে পেট ভর খাওয়ার পর উম্মু রূমান বলেন, যে খাবার তৈরী হয়েছিল তার তিন গুণ খাবার এখনও রয়ে গেছে। আবূ বকর (রা) সে খাবার রাসূলুল্লাহর (সা) গৃহে পাঠিয়ে দেন। (বুখারী১/৮৪, ৮৫)

তিনি একজন ‘আবিদা (ইবাদাত-বন্দেগীকারিণী) মহিলা ছিলেন। ইবাদাতের নিয়ম-পদ্ধতি স্বামী তাঁকে শিখিয়ে দিতেন। একদিন তিনি নামাযে দাঁড়িয়ে চোখ বাঁকা করে এদিক ওদিক দেখছেন। আবূ বকর (রা) লক্ষ্য করে ইমন বকুনি দেন যে, তাঁর নামায ছেড়ে দেওয়ার উপক্রম হয়। তারপর তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহকে (সা) বলতে শুনেছি :[ হায়াত আস-সাহাবা-৩/১৩৭] (আরবী*********)

‘তোমাদের কেউ যখন নামাযে দাঁড়াবে, তার দৃষ্টি স্থির রাখবে। ইহুদীদের মত এদিক ওদিক ঝোকাবে না। দৃষ্টির স্থিরতা নামাযের পূর্ণতার অংশ।

হযরত রাসূলে কারীম (সা)  একদিকে শাশুড়ী হওয়া, অন্যদিকে ইসলামের সেবায় অবদানের কারণে উম্মু রূমানের (রা) প্রতি দারুণ শ্রদ্ধা। তাই মেয়ে-জামাই যখন তাঁর উপস্থিতিতে কোন কথাবার্তা বলতেন তিনি নীরবে শুনতেন। মাঝে মধ্যে মেয়ে-জামাইয়ের মিষ্টি-মধুর কলহে মধ্যস্থতাও করতেন। হযরত রাসূলে কারীম (সা) প্রায়ই প্রথমা স্ত্রী উম্মুল মু‘মিনীন হযরত খাদীজাতুল কুবরার (রা) আলোচনা করতেন, তাঁর নানা গুণের কথা বলতেন। এতে ‘আয়িশার (রা) নারী-প্রকৃতি ক্ষুব্ধ হয়। একদিন তিনি বলে ফেলেন, মনে হয় খাদীজা (রা) ছাড়া দুনিয়াতে আর কোন নারী নেই। আয়িশার (রা) এমন প্রতিক্রিয়ায় রাসূল (সা) বেশ মনঃক্ষুণ্ণ হন। মা হিসেবে উম্মু রূমান (র) এবার সামনে আসেন। তিনি জামাইকে লক্ষ্য করে বলেন, ‘আয়িশা ও আপনার কী হলো? তার বয়স অল্প, আপনার মত ব্যক্তির থেকে সে ক্ষমাই পেতে পারে।[আস-সীরাহ্‌ আল-হালাবিয়্যা-৩/৪০১]

উম্মু রূমানের (রা) পরিবার সবসময় রাসূলুল্লাহর (সা) নিকট দু‘আ চাইতেন। একদিন আবূ বকর (রা) ও উম্মু রূমান (রা) রাসূলুল্লাহর (সা) নিকট গেলেন। তিনি বললেন : আপনারা কি জন্য এসেছেন? তারা বললেন : ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমাদের সামনে আপনি ‘আয়িশার মাগফিরাত কামনা করে দু‘আ করুন। রাসূল (সা) বললেন : (আরবী****)

‘হে আল্লাহ! তুমি ‘আয়িশা বিন্‌ত আবী বকরের জাহিরী ও বাতিনী সকল গুনাহ ক্ষমা করে দাও, যাতে তার আর কোন গুনাহ্‌ না থাকে।’

এই দু‘আর পর রাসূল (সা) শ্বশুর-শাশুড়ীকে বেশ উৎফুল্ল দেখে বলেন : ‘যেনি থেকে আল্লাহ আমাকে নবী করে পাঠিয়েছেন সেদিন থেকে আজকের দিন পর্যন্ত আমার উম্মাতের সকল মুসলামানের জন্য এই দ‘আ।’[তুহফাতুস সিদ্দীক ফী ফাদয়িলি আবী বকর আস-সিদ্দীক-৯৭; সিয়ারু আ‘লাম আন-নুবালা-২/১৫৮]

হযরত উম্মু রূমানের (রা) মৃত্যুতে মেয়ে ‘আয়িশা (রা) ও পরিবারের অন্যরা যেমন শোকাভিভূত হন, তেমনি জামাই রাসূলে কারীমও (সা) দুঃখ পান। তাঁর জীবদ্দশায় যেমন রাসূল (সা) তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা পোষণ করতেন, মৃত্যুর পরও তাঁর মরদেহের প্রতি সমান শ্রদ্ধা প্রদর্শন করেন।

বর্ণিত হয়েছে, রাসূল (সা) মাত্র পাঁচ ব্যক্তির কবরে নেমে তাঁদের লাল করবে শায়িত করেছেন। তাঁদের মধ্যে তিনজন নারী ও দুইজন পুরুষ। মক্কায় উম্মুল মু‘নিনীন খাদীজার কররে নেমেছেন। আর মদীনায় অপর চারজনের মধ্যে উম্মু রূমান (রা) অন্যতম। বাকী‘ গোরস্তানে রাসূলে কারীম (সা) কবরে উম্মু রূমানের (রা) লাশ শায়িত করে এই দু‘আ করেন :[ আল-ইসতী‘আব-৪/৪৩১; আল-ইসাবা-৪/৪৩৩; ওয়াফা আল-ওয়াফা-৩/৮৯৭] (আরবী*****)

‘হে আল্লাহ! উম্মু রূমান তোমার এবং তোমার রাসূলের সন্তুষ্টির পথে যা কিছু সহ্য করেছে তা তোমার কাছে গোপন নেই।’

তিনি উপস্থিত লোকদের লক্ষ্য করে আরো বলেন :[তাবাকাত-৮/২৭৭; কান্‌য আল-উম্মাল-১২/১৪৬; আনসাব আল-আশরাফ-১/৪২০; আর-রাওদ আল-আন্‌ফ-৪/২১]

‘তোমাদের কেউ যদি (জান্নাতের) আয়তলোচনা হূর দেখে খুশী হতে চায় সে উম্ম রূমানকে দেখেতে পারে।’

যেহেতু (আরবী*****০) জান্নাতেই হবে, তাই রাসূলুল্লাহর (সা) এ বাণীতে বুঝা যায় উম্মু রূমান (রা) নিশ্চিত জান্নাতী হবেন। এ বাণীতে সেই সুসংবাদই দেওয়া হয়েছে।

হযরত উম্মু রূমানের (রা) সূত্রে রাসূলুল্লাহর (সা) একটি হাদীছ বর্ণিত হয়েছে। ইমাম বুখারী (রা) হাদীছটি সংকলন করেছেন।

About ড. মুহাম্মদ আবদুল মাবুদ